শিক্ষক তার আলোচনায় যে অধিকারকে সর্বজনীন হিসেবে উল্লেখ করেছেন তা হলো মানবাধিকার। জাতিসংঘ মানবাধিকারের কয়েকটি নীতি ঘোষণা করেছে। এসব নীতির কয়েকটি নিচে তুলে ধরা হলো-
১. পৃথিবীর সকল মানুষ জন্মগতভাবে স্বাধীন এবং সমঅধিকার ও সমমর্যাদাসম্পন্ন। সকল মানুষ পরস্পরের সাথে ভ্রাতৃত্বমূলক আচরণ করবে।
২. সব অধিকার ও স্বাধীনতা সমানভাবে স্কলেরই উপভোগের অধিকার রয়েছে। এক্ষেত্রে জাতি, বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-নির্ধন, দল-মতের দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো তারতম্য বা পার্থক্য থাকবে না।
৩. বাকস্বাধীনতা, ধর্মচর্চার স্বাধীনতা, সংস্কৃতি পালনের অধিকার প্রত্যেকের সমান। এসব ক্ষেত্রে কোনোরূপ বাধা আরোপ করা অন্যায়।
৪. পৃথিবীর সকল স্বাধীন, পরাধীন, স্বায়ত্তশাসিত যেকোনো রাষ্ট্রের EU নাগরিককে তার দেশের রাজনৈতিক বা আন্তর্জাতিক মর্যাদার ভিত্তিতে কোনো পার্থক্য বা তারতম্য করা হবে না।
৫. জীবনের সর্বনিম্ন প্রয়োজন মেটানোর ক্ষেত্রে; যেমন- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যরক্ষায় সবার চাহিদা একই। এসব প্রয়োজন পূরণ না হলে মানবিক জীবন অর্থহীন হয়ে পড়ে।
৬. মানবাধিকার সংরক্ষণের রাজনৈতিক ব্যবস্থা হিসেবে গণতন্ত্র অপরিহার্য। স্বাধীন বিচার বিভাগও তেমনি একান্ত প্রয়োজনীয় তাই মানবাধিকার ঘোষণার প্রধান লক্ষ্য হলো বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের বিজয় নিশ্চিত করা এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা। অন্যদিকে অর্থনীতিকে এমনভাবে উন্নত করা যেন প্রত্যেক মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটে। সুশাসন এবং আইনের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করাও ঘোষণার অন্যতম লক্ষ্য।
Related Question
View Allপ্রত্যেক রাষ্ট্রই এর প্রদত্ত অধিকারসমূহ দ্বারা পরিচিতি লাভকরে"- উক্তিটি করেছেন অধ্যাপক লাঙ্কি।
'মানুষ' হিসেবে প্রতিটি মানুষ যে অধিকার ভোগ করতে জন্মগতভাবে প্রত্যাশী তাই মানবাধিকার। মানুষের মূল্য ও মর্যাদার সাথে সংশ্লিষ্ট এ অধিকারগুলো মানুষ জন্মগতভাবে লাভ করে থাকে। অর্থাৎ আমরা মানুষ হিসেবে বাঁচতে প্রকৃতিগত ও সহজাত যে অধিকার প্রত্যাশা করি, তাই হলো মানবাধিকার। যেমন- জীবন ধারণের অধিকার, নিরাপত্তা লাভের অধিকার, নিষ্ঠুরতার শিকার না হওয়ার অধিকার, ন্যায়বিচার লাভের অধিকার ইত্যাদি।
উদ্দীপকে অধিকার ও কর্তব্যের মধ্যকার সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এগুলোর পারস্পরিক নির্ভরশীলতার কথা বলা হয়েছে।
অধিকার ও কর্তব্য নাগরিকতার দুটি দিক। নাগরিকদের যেমন অধিকার আছে, তেমনি কর্তব্যও পালন করতে হয়। অধিকার ও কর্তব্য পরস্পর পরিপূরক। এ দুটি যেন একই মুদ্রার দুটি দিকের ন্যায়। সামাজিক সচেতনতা থেকে এদের সৃষ্টি এবং সমাজের মধ্যেই এরা অর্থপূর্ণ হয়ে ওঠে। নাগরিকগণ নিজ নিজ অধিকারের বিনিময়ে রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্য পালন করে থাকে। এজন্যই লাস্কি বলেন, "আমার নিরাপদে থাকার অধিকার থাকলে অন্যের কর্তব্য হলো আমাকে অন্যায়ভাবে আক্রমণ না করা।" অধিকার বলতে যেমন কতকগুলো শর্তকে বুঝানো হয়, তেমনি তা পালনও দায়িত্ব। যেমন-ভোটদানের অধিকার বলতে ভোটাধিকার প্রয়োগের দায়িত্বকেও বোঝায়। কারও অধিকার বলতে যেমন তার কর্তব্যকেও বোঝায়, তেননি একজনের অধিকার বলতে অন্যের কর্তব্যকেও বোঝানো হয়। আমার সম্পত্তির ভোগের অধিকার আছে, এর অর্থ অন্যের সম্পত্তিতে অন্যায় হস্তক্ষেপ না করাও আমার দায়িত্ব।
কারও অধিকার বলতে যেমন তার কর্তব্যকে বোঝায়, তেমনি একজনের অধিকার বলতে অন্যের কর্তব্যকে বোঝায়। একজনের অধিকার ভোগ করা অন্যের কর্তব্য পালনের ওপর নির্ভরশীল। এজন্যই বলা হয়, অধিকারের মধ্যেই কর্তব্য নিহিত। যেমন- আমার বেঁচে থাকার যদি অধিকার থেকে থাকে, তবে আমার কর্তব্য হলো
অন্যের বেঁচে থাকার পথে কোনো বাধার সৃষ্টি না করা। অনুরূপভাবে অন্যের কর্তব্যও হলো আমাকে হত্যা না করা। অধিকার ও কর্তব্য একটি ছাড়া অন্যটি কল্পনা করা যায় না। সমাজের একজনের অধিকারের পরিধি অন্য সকলের কর্তব্যবোধ দ্বারা সীমাবদ্ধ। কারণ অধিকার যদি অবাধ ও সীমাহীন হয় তবে এ থেকে স্বেচ্ছাচারিতার জন্ম হবে। এতে সবল ব্যক্তি অধিকার ভোগ করবে; কিন্তু দুর্বল তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।
রাষ্ট্র নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করবে। বিনিময়ে নাগরিকগণ রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালন করবে। নাগরিকের যা দায়িত্ব রাষ্ট্রের তা অধিকার আর রাষ্ট্রের যা দায়িত্ব নাগরিকের তা অধিকার। রাষ্ট্র নাগরিকের অধিকার উপভোগের নিশ্চয়তা দেয়। ফলে রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হয়। অর্থাৎ বলা যায়, অধিকার ও কর্তব্য নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত। কার্ল মার্কস বলেছেন, "কর্তব্য ছাড়া কোনো অধিকার নেই আর অধিকার ছাড়া কোনো কর্তব্য নেই।” সুতরাং বলা যায়, অধিকারের মধ্যেই কর্তব্য নিহিত থাকে
বাংলাদেশে ২০০৯ সালের ৫ এপ্রিল তথ্য অধিকার আইন প্রণীত হয়
সাধারণভাবে যেকোনো বস্তু বা বিষয় সম্পর্কে জানার জন বিবরণকে তথ্য বলা হয়। তথ্য অধিকার আইনে তথ্যকে সুনির্দিষ্টভাে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো কর্তৃপক্ষের গঠন কাঠামো ও দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত যে কোনো স্মারক, বই, নকশ মানচিত্র, চুক্তি, তথ্য- উপাত্ত, আদেশ, বিজ্ঞপ্তি, দলিল, আলোকচিত্র অডিও, ভিডিও, যান্ত্রিকভাবে পঠনযোগ্য দলিলাদি এবং বৈশিষ্ট নির্বিশেষে যেকোনো তথ্যবহ বস্তু ইত্যাদিকে তথ্য বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!