ক্ষমতা বণ্টন নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র দুই প্রকার। যথা- এককেন্দ্রিক ও যুক্তরাষ্ট্রীয়।
যে সরকারব্যবস্থায় শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং শাসন বিভাগের স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা আইন বিভাগের উপর নির্ভরশীল তাকে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার বলা হয়।
সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থায় মন্ত্রিসভার হাতে শাসনক্ষমতা থাকে। সাধারণ নির্বাচনে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী দল মন্ত্রিসভা গঠন করে। দলের আস্থাভাজন ব্যক্তি হন প্রধানমন্ত্রী। তিনিই মন্ত্রী নিয়োগ ও তাদের দপ্তর বণ্টন করে। মন্ত্রীরা সাধারণত আইন পরিষদ বা সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে মনোনীত হন। তাই এ সরকারকে বলা হয় সংসদীয় বা পার্লামেন্টারি পদ্ধতির সরকার।
উদ্দীপকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে।
রাষ্ট্রের সামাজিক ও রাজনৈতিক চাহিদার ভিন্নতার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে বিভিন্ন ধরনের সরকারব্যবস্থা বা রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে অন্যতম একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা হলো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা। যে শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা রাষ্ট্রের সকল সদস্য তথা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে তাকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলে। উদ্দীপকে এ ধরনের রাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। উদ্দীপকের শিক্ষক এমন এক রাষ্ট্রের কথা বলেন, যেখানে জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস। সেটি জনগণের কল্যাণার্থে পরিচালিত একটি শাসনব্যবস্থা এবং সেখানে একাধিক রাজনৈতিক দল রয়েছে। অনুরূপভাবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। এটি এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসনকার্যে জনগণ অংশগ্রহণ করতে পারে এবং সকলে মিলে সরকার গঠন করতে পারে। এটি জনগণের অংশগ্রহণে, জনগণের দ্বারা, জনগণের কল্যাণার্থে পরিচালিত একটি শাসনব্যবস্থা। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের মত প্রকাশ ও সরকারের সমালোচনা করার সুযোগ থাকে। এতে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় অর্থাৎ, নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তিত হয়। এ ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থায় একাধিক রাজনৈতিক দল থাকে, সকলের স্বার্থরক্ষার সুযোগ থাকে এবং নাগরিকের অধিকার ও আইনের শাসনের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থারই প্রতিফলন ঘটেছে।
উক্ত ব্যবস্থার অর্থাৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার সফলতার জন্য নাগরিকদের গণতান্ত্রিক আচরণ করতে হবে- প্রশ্নোক্ত এ বক্তব্যটি যথার্থ।
বর্তমান যুগে প্রচলিত শাসনব্যবস্থাগুলোর মধ্যে গণতন্ত্র সর্বোৎকৃষ্ট এবং সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য শাসনব্যবস্থা। কিন্তু এর চর্চা বা বাস্তবায়নের পথে অনেক প্রতিবন্ধকতা আছে। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করে গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য প্রয়োজন শিক্ষিত ও সচেতন জনগোষ্ঠী, অর্থনৈতিক সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা, দক্ষ প্রশাসন, উপযুক্ত নেতৃত্ব, পরমতসহিষ্ণুতা, আইনের শাসন প্রভৃতি।
উদ্দীপকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনার শেষে বলা হয়েছে যে, এটি সচল করার জন্য নাগরিকদের গণতান্ত্রিক আচরণ করতে হবে। এ কথাটি সম্পূর্ণরূপে সঠিক। আর গণতান্ত্রিক আচরণের জন্য নাগরিকদের পরমতসহিষ্ণু হতে হবে। সবাইকে মত প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে এবং অন্যের মতকে শ্রদ্ধা করতে হবে। ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থ পরিহার করে দেশের মঙ্গলকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করতে হবে। নিজের অধিকার ভোগ যেন অন্যের অধিকার ভঙ্গের কারণ না হয় সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। বিভিন্ন সম্প্রদায় এবং দলের মধ্যে সম্প্রীতি, সহযোগিতা ও সহনশীলতা বজায় রাখতে হবে। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যকে শ্রদ্ধা করতে হবে। সেই সাথে নাগরিকদের সুনাগরিকের গুণাবলি অর্জন করতে হবে। গণতন্ত্রের বাহন হচ্ছে নির্বাচন। তাই অযোগ্য লোক যেন নির্বাচিত হতে না পারে, সে জন্য নাগরিকদের সচেতনভাবে ভোট দিয়ে উপযুক্ত লোককে নির্বাচিত - করতে হবে। তাছাড়া আইনের শাসন হলো গণতন্ত্রের প্রাণ। এজন্য সবাইকে আইন মানতে হবে।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা সফল করতে সবচেয়ে বেশি যেটি প্রয়োজন তা হলো, রাষ্ট্রের নাগরিকদের গণতান্ত্রিক মনোভাবাপন্ন হওয়া। তাই উপযুক্ত গণতান্ত্রিক আচরণ শেখা ও তা প্রয়োগের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে সফল করার জন্য প্রতিটি নাগরিককে যত্নবান হতে হবে।
Related Question
View Allউত্তরাধিকারসূত্রে গঠিত সরকারব্যবস্থার নাম হলো রাজতন্ত্র।
যে রাষ্ট্রব্যবস্থায় সম্পত্তির ওপর নাগরিকদের ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকার করা হয় তাই পুঁজিবাদী রাষ্ট্র।
পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে উৎপাদনের উপাদানসমূহ ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকে। এর ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এখানে অবাধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উৎপাদনব্যবস্থা পরিচালিত হয়। এ ধরনের রাষ্ট্রে নাগরিকগণ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সম্পদ ভোগ ও এর মালিকানা লাভ করে থাকে। বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রই পুঁজিবাদী। যেমন- যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ভারত প্রভৃতি।
'ক' রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান।
রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার বলতে সেই সরকারকে বোঝায় যেখানে শাসন বিভাগ আইন বিভাগের নিকট দায়ী থাকে না। রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রিসভার সদস্যগণ আইনসভার সদস্য নন। মন্ত্রীগণ তাদের কাজের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে দায়ী থাকেন। রাষ্ট্রপতির সন্তুষ্টির ওপর মন্ত্রীদের কার্যকাল নির্ভর করে। 'ক' রাষ্ট্রের সরকারব্যবস্থায়ও এমন বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' রাষ্ট্রের শাসক আইনসভার নিকট দায়ী নন। এ ধরনের সরকারব্যবস্থায় জাতীয় স্বার্থ বেশি গুরুত্ব পায়। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারেরও এ ধরনের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এ ধরনের সরকারে রাষ্ট্রপতি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তিনিই প্রকৃত শাসক ও সরকার প্রধান। তিনি কোনো কাজে মন্ত্রীদের পরামর্শ গ্রহণ করতেও পারেন আবার নাও পারেন। ছকের 'ক' রাষ্ট্রের সরকার ব্যবস্থাটিও পাঠ্যবইয়ের রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ছকে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী 'খ' রাষ্ট্রে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় জনমতের প্রাধান্য লক্ষ করা যায়।
সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় সাধারণ নির্বাচনে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী দল মন্ত্রিসভা গঠন করে। দলের আস্থাভাজন ব্যক্তি হন প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর দল আইনসভায় বিভিন্ন দল-মতের প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন আইন পাস করে।
সংসদীয় সরকারের আইনসভা সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভা তাদের কাজের জন্য আইন পরিষদের নিকট দায়ী থাকে। আইনসভার আস্থা হারালে মন্ত্রিসভার পতন ঘটে। সংসদীয় সরকারের সদস্যগণ বিশেষ করে বিরোধী দলের সদস্যগণ সংসদে বসে সরকারের কাজের সমালোচনা করার সুযোগ পায়। তাছাড়া সংসদীয় সরকার জনমতের দ্বারা পরিচালিত হওয়ায় জনমতকে অনুকূলে রাখার জন্য সরকারি ও বিরোধী দল সবসময় তৎপর থাকে।
উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায় যে, সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় জনমতের প্রাধান্য লক্ষ করা যায়- উক্তিটি যথার্থ।
এক দলের শাসন কায়েম হয় একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায়।
উত্তরাধিকারের ভিত্তিতে গঠিত রাষ্ট্রব্যবস্থায় শাসনক্ষমতা বংশ পরম্পরা অনুযায়ী হয়ে থাকে।
বিশ্বের কোনো কোনো রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানগণ উত্তরাধিকারসূত্রে শাসনক্ষমতা লাভ করেন। এ ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রাজতন্ত্র বলা হয়। এ ব্যবস্থায় রাজার ছেলে বা মেয়ে উত্তরাধিকার সূত্রে রাষ্ট্রের রাজা বা রানি হয়ে থাকেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!