যেসব নদীর পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের স্বল্পতার কারণে বসবাসকারী মাছসহ সকল প্রাণী মারা যায় এবং এ অবস্থা দীর্ঘদিন চলতে থাকে সেসব নদীকে বলে মরা নদী।
এসিড বৃষ্টির জন্য প্রাকৃতিক ও মানুষের সৃষ্ট কিছু কারণ জড়িত। প্রাকৃতিক কারণসমূহের মধ্যে রয়েছে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, দাবানল, বজ্রপাত, গাছপালার পাতন ইত্যাদি। এই সকল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাইট্রোজেন অক্সাইড ও সালফার ডাইঅক্সাইড গ্যাস নিঃসৃত হয়, যা পরে বাতাসের অক্সিজেন ও বৃষ্টির পানির সাথে বিক্রিয়া করে যথাক্রমে নাইট্রিক এসিড ও সালফিউরিক এসিড তৈরি করে এবং পরবর্তীতে যখন বৃষ্টি হয় তখন বৃষ্টির সাথে মিশে এসিড বৃষ্টির সৃষ্টি করে।
উদ্দীপকের ১ম ও ২য় দূষণ যথাক্রমে পানি দূষণ ও বায়ু দূষণ। প্রাকৃতিক পরিবেশের অন্যতম প্রধান উপাদান পানি ও বায়ু। নিচে পানি ও বায়ু দূষণের কারণ উল্লেখ করা হলো-
পানি দূষণের কারণ: বিভিন্ন ভাবে পানি দূষিত হতে পারে। এ কারণগুলোর মধ্যে মানুষের কমকাণ্ডই অন্যতম প্রধান কারণ। নগরায়ন
শিল্পায়নের ফলে পয়ঃনিষ্কাশন ও শিল্প বর্জ্য অনেক বেড়ে গিয়েছে। ফলে পানি দূষিত হচ্ছে। এছাড়াও কৃষিজ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য জমিতে ও জলাশয়ে বিভিন্ন কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হচ্ছে। তাছাড়া পুকুরের পানিতে গরু, মহিষ, ছাগল, গোসল করানো এবং বিভিন্ন জলাশয়ের উপর কাচা পায়খানা তৈরী করে পানি দূষিত করা হচ্ছে।
বায়ু দূষণের কারণ: মানুষের দ্বারা এবং প্রাকৃতিকভাবে বায়ু দূষিত
হচ্ছে। পরিবেশে বিজ্ঞানীরা বায়ু দূষণের জন্য কতগুলো কারণ চিহ্নিত করেছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে যানবাহন ও শিল্প কারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া বায়ু দূষিত করছে। এছাড়া সিগারেটের ধোঁয়া, এসবেস্টস, নির্মাণ কাজের ধূলিকণা ও বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা বায়ু দূষণ ঘটায়।
উদ্দীপকে শিক্ষকের শেষোক্ত উক্তিটি হলো- "জনসচেতনতাই একটি মান সম্মত পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে।" নিচে উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করা হলো-
মানুষের কারণেই মূলত পরিবেশের পরিবর্তন ব্যাপক আকারে হয়। আমাদের জীবনধারণের জন্য যে আবশ্যকীয় উপাদান আছে তার মধ্যে অন্যতম হলো বাতাস। বাতাস বা অক্সিজেন ছাড়া আমরা বাঁচতে পারি
মাত্র ৪০-৫০ সেকেন্ড। এই বাতাস যদি দূষিত হয়, এতে যদি নানা রকম ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ (যেমন- CO, SO₂, SO, NO ইত্যাদি), ধুলাবালির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা থাকে, তবে তা অক্সিজেনের সাথে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে ও প্রাণঘাতী নানা রকম রোগ (যেমন ফুসফুসের ক্যান্সার) সৃষ্টি করে। একইভাবে রাসায়নিক পদার্থ গাছপালা, মাটি, অন্যান্য প্রাণী সবকিছুর জন্যই মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। বাতাসের মতো পানিও আমাদের জীবনধারণের জন্য অতি জরুরি একটি উপাদান। নদ-নদীর পানি দূষিত হলে সেখানে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে। বাতাস ও পানির মতো পরিবেশের প্রতিটি উপাদানই আমাদের জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য। এই পরিবেশ যদি মানসম্মত ও উন্নত না হয়, তবে তা সকল জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় রকমের হুমকি হয়ে দাঁড়াবে ও আমাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে পড়বে।
তাই এ ব্যাপারে আমাদের নিজেদের যেমন সচেতন হতে হবে পাশপাশি জনগনকেও সচেতন করতে হবে। সুতরাং জনসচেতনতাই মানসম্মত পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে উক্তিটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!