শিক্ষক জনাব আব্দুর রহিম ক্লাসে হাদিস বিষয়ে আলোচনা করছিলেন। একজন ছাত্র প্রশ্ন করল- 'স্যার, পবিত্র কুরআনেই আল্লাহ সব বিষয়ে বর্ণনা করেছেন, তাহলে হাদিসের প্রয়োজন কী?' শিক্ষক বললেন, হাদিস মূলত কুরআনের ব্যাখ্যা। এটি ইসলামি শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস। হাদিস ব্যতীত পবিত্র কুরআনের মর্ম উদঘাটন এবং কুরআনের অনেক নির্দেশ পালন করা সম্ভব নয়। 

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

হাদিস শব্দের অর্থ কথা, বাণী বা ঘটনা।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

হাদিস বর্ণনাকারীর সূত্রই হলো সনদ। একটি হাদিসের দুটি অংশ থাকে। প্রথমাংশকে বলা হয় সনদ। এর অর্থ 'নির্ভর করা, বর্ণনাসূত্র ইত্যাদি। একটি হাদিস গ্রন্থে সংকলিত হওয়ার সময় সংকলনকারী থেকে রাসুলুল্লাহ (স) পর্যন্ত অন্তর্বর্তী বর্ণনাকারীদের ধারাকে সনদ বলে। মূলকথা, সনদ হলো রাবিদের নামের ধারাবাহিক তালিকা, যা রাসুলুল্লাহ (স) পর্যন্ত পৌঁছেছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

জনাব আব্দুর রহিমের বক্তব্যে হাদিস শাস্ত্রের পরিচয় ফুটে উঠেছে। হাদিস ইসলামি শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস। এটি কুরআনের মূলনীতিসমূহের বাস্তবরূপ ও ব্যাখ্যাগ্রন্থ। কুরআন মাজিদে আল্লাহ তায়ালা যে জীবনবিধান ও আদর্শ উপস্থাপন করেছেন, সাধারণ মানুষের পক্ষে সবসময় তা সহজবোধ্য নয়। তাই এ থেকে তাদের উপকৃত হওয়াও কষ্টকর। হাদিস কুরআনের বক্তব্যসমূহ সর্বসাধারণের উপযোগী করে পরিবেশন করেছে। তাই হাদিসকে আল-কুরআনের ব্যাখ্যাগ্রন্থ বলা হয়।

পবিত্র কুরআনের খুঁটিনাটি বিষয় একটি শাস্ত্রে সংকলিত হয়েছে, যার ওপর কুরআনের বিশ্লেষণ নির্ভরশীল। কুরআন ইসলামের মূল প্রদীপ, হাদিস তার বিচ্ছুরিত আলো। কুরআনকে যদি ইসলাম পরিকল্পিত জীবনপ্রাসাদের নকশা মনে করা যায়- তাহলে হাদিস হবে সে নকশা অনুযায়ী নির্মিত প্রাসাদ। এটি বাদ দিয়ে কুরআন অনুযায়ী আমল করা প্রায় অসম্ভব। সুতরাং বলা যায় যে, শিক্ষক জনাব আবদুর রহিম সাহেবের বক্তব্যে হাদিস শাস্ত্রের গুরুত্ব ফুটে উঠেছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

'হাদিসকে বাদ দিয়ে কুরআন অনুযায়ী আমল করা প্রায় অসম্ভব'। ইসলামি জীবনধারায় শিক্ষক আব্দুর রহিমের এ উক্তিটি যথার্থ।

ইসলামি জীবনব্যবস্থার মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো কুরআন। আর কুরআন বোঝার জন্য অপরিহার্য বিষয় হলো হাদিস। মহান আল্লাহ হাদিসের অপরিহার্যতা ঘোষণা করে বলেন- 'রাসুল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো আর তোমাদের যা নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাক।' (সুরা আল-হাশর, আয়াত: ৭) হেদায়েত লাভের অন্যতম মাধ্যম হলো হাদিস। যে ব্যক্তি হাদিসের নির্দেশ অনুযায়ী চলবে সে হেদায়েত লাভ করবে। ইসলামি জ্ঞান- বিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান উৎস হলো হাদিসের জ্ঞান। মানুষ জীবনে চলার পথে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতেই পারে। মানুষের ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে উদ্ভূত সব সমস্যার সমাধান দিতে হাদিস অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। মুসলমান জাতির জন্য জীবন চলার অন্যতম উপকরণ। ইসলামি জীবনধারার অন্যতম শর্ত হলো আল্লাহর বন্দেগি বা ইবাদত করা। এ ইবাদত কীভাবে করতে হবে তার পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রদান করেছে হাদিস। একজন মুসলমানের সামগ্রিক আচার-আচরণ কেমন হবে তা পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করেছে হাদিস। আর মহানবি (স) ছিলেন পরিচ্ছন্ন আচার-আচরণের বাস্তব প্রতিকৃতি।

পরিশেষে বলা যায়, ইসলামি জীবনধারায় প্রত্যেক মুসলমানের জীবনাচরণ নিয়ন্ত্রিত হবে হাদিসের আলোকে। আব্দুর রহিমের বক্তব্যে ইসলামিক জীবনব্যবস্থায় হাদিসের অপরিহার্যতা ফুটে উঠেছে। সুতরাং তার সর্বশেষ উক্তিটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
138
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
উত্তরঃ

 'সিহাহ সিত্তাহ' হলো- বিশুদ্ধ ছয়টি হাদিস গ্রন্থ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
825
উত্তরঃ

আলোচ্য হাদিসের অর্থ হলো- 'লজ্জাশীলতা ইমানের একটি বিশেষ অঙ্গ'। উল্লেখিত হাদিসটি সহিহ বুখারি ও মুসলিম শরিফে সংকলিত হয়েছে। এ হাদিসে রাসুল (স) লজ্জাশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। একজন মুমিন তার আচার-আচরণ, কথাবার্তা, কাজকর্মে অবশ্যই লজ্জাশীল হবেন। কারণ লজ্জাশীলতা ইমানের অপরিহার্য একটি দিক। তাই মান-সম্মান রক্ষা করার জন্য ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রত্যেক মুমিনের লজ্জাশীল হওয়া প্রয়োজন। আলোচ্য হাদিসে ইমানের সাথে লজ্জার সম্পর্কের দিকটিই ফুটে উঠেছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
645
উত্তরঃ

হাবিবের বক্তব্যে ওহিয়ে মাতলু তথা পবিত্র কুরআনের পরিচয় ফুটে উঠেছে। কুরআন মাজিদ আল্লাহর বাণী। এটি সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব যা সর্বশ্রেষ্ঠ নবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল। উদ্দীপকের হাবিব ওহির বিভিন্ন প্রকার নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রথমোক্ত ওহির মাধ্যমে পবিত্র কুরআনকে বুঝিয়েছে। উদ্দীপকের তিন বন্ধু ইসলামি শরিয়ার উৎস সম্বন্ধে আলোচনা করছিল। হাবিব এ সময় বলে, কিছু ওহির ভাব ও ভাষা সরাসরি আল্লাহর, যা পাঠ করা ইবাদত এবং নামাজেও এর তিলাওয়াত আবশ্যক। এর মাধ্যমে হাবিব পবিত্র কুরআনকে বুঝিয়েছে। ওহি দুই প্রকার। যথা- ওহিয়ে মাতলু ও ওহিয়ে গায়রে মাতলু। ওহিয়ে মাতলু বা পঠিত ওহি হলো কুরআন মাজিদ। এটি লাওহে মাহফুজ থেকে জিবরাইল (আ)-এর মাধ্যমে নবুওয়তের দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে মহানবি (স)-এর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে। 

কুরআন সন্দেহাতীতভাবে অদ্যাবধি অবিকল ও অবিকৃত অবস্থায় সুরক্ষিত হয়ে আসছে। এর শব্দ, অর্থ, মর্ম উপস্থাপনা, বিন্যাস সবই আল্লাহ তায়ালার নিজস্ব। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ছাড়া নামাজ আদায় হয় না। নামাজে কুরআন থেকে তিলাওয়াত করা ফরজ। সুতরাং উদ্দীপকের হাবিব প্রথমোক্ত ওহির মাধ্যমে কুরআন মাজিদের দিকেই ইঙ্গিত করেছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
386
উত্তরঃ

হাসানের উল্লেখিত বিষয়টি ওহিয়ে গায়রে মাতলু তথা হাদিস; যার সাথে হাদিসে কুদসির কতিপয় সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য রয়েছে। ওহি দুই প্রকার- যার মধ্যে একটি 'ওহি গায়রে মাতলু' অর্থাৎ অপঠিত ওহি বা হাদিস। মহানবি (স)-এর কথা, কাজ এবং মৌন সম্মতি তথা রাসুল (স)-এর বাস্তব জীবনের প্রতিটি কাজ ও সমর্থনই হাদিস। হাসানের বক্তব্যে হাদিসের কথাই প্রকাশ পেয়েছে।

উদ্দীপকের হাসান ইসলামি শরিয়ার দ্বিতীয় উৎস হাদিসের প্রসঙ্গে কথা বলছিল। সে বলে, হাদিস নামাজে তিলাওয়াত করতে হয় না এবং অপবিত্র অবস্থায়ও এটি স্পর্শ করা যায়। হাসানের উল্লেখিত ওহি গায়রে মাতলু বা হাদিসের বিভিন্ন প্রকারের মধ্যে হাদিসে কুদসি অন্যতম। হাদিসে কুদসি অন্যান্য হাদিসের মতই, তবে এ প্রকার হাদিসের ভাব স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে এবং ভাষা রাসুল (স)-এর নিজের। অপরদিকে সাধারণ হাদিসের ভাব ও ভাষা উভয়টিই রাসুল (স)-এর নিজস্ব। তাছাড়া হাদিসে কুদসিও অপবিত্র অবস্থায় স্পর্শ করা যায়। 'রাসুল (স) বলেছেন', একথা অন্যান্য হাদিসের প্রারম্ভে থাকে। কিন্তু হাদিসে কুদসি শুরু হয় 'আল্লাহ বলেছেন' এ কথা দিয়ে।

উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, হাসানের উল্লিখিত বিষয়টি হচ্ছে রাসুলের (স) বাণী বা কাজ তথা হাদিস। আর হাদিসে কুদসি এরই একটি ধরন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
244
উত্তরঃ

সম্পূর্ণ কুরআন সর্বপ্রথম সংরক্ষিত হয় লাওহে মাহফুজে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
483
উত্তরঃ

কুরআনকে বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করে কুরআন পাঠের অভিন্ন রীতি চালু করায় হযরত উসমান (রা) কে জামিউল কুরআন বলা হয়। হযরত উসমান (রা) এর সময় ভিন্ন ভিন্ন রীতিতে কুরআন পাঠের ফলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য কুরআনের প্রথম পাণ্ডুলিপিটি থেকে সাতটি কপি তৈরি করা হয়। এবং সেগুলো বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয় যাতে সবাই একই রীতিতে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
1.8k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews