শিক্ষক বললেন, আরোহ কাকে বলে? তানজিয়া বলল, 'আরোহ বলতে আমরা বুঝি এমন একটি অনুমান যেখানে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতায় বিশ্বাস স্থাপন করে পর্যবেক্ষণের উপর নির্ভর করে আমরা সার্বিক সংশেষক যুক্তিবাক্যে পদার্পণ করি।' এবার শিক্ষক জিজ্ঞাসা করলেন, 'আরোহ যুক্তির আশ্রয়বাক্য এবং সিদ্ধান্তের প্রকৃতি কিরূপ হয়?' সানিন বলল, আরোহ অনুমানের আশ্রয়বাক্যগুলো বিশেষ এবং সিদ্ধান্ত সর্বদা সার্বিক যুক্তিবাক্য হয়।'

Updated: 10 months ago
উত্তরঃ

যে বিষয়গুলো আরোহ অনুমানের আশ্রয়বাক্যেগুলো সরবরাহ করে এবং সিদ্ধান্তের বস্তুগত সত্যতার নিশ্চয়তা প্রদান করে তাকে 'বস্তুগত ভিত্তি' বলে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

যার উপর নির্ভর করে কোনো বিষয় দাঁড়িয়ে থাকে তাকে ঐ বিষয়ের ভিত্তি বলা হয়। আরোহের ভিত্তি দুটি। আকারগত ও বস্তুগত। এদের নিজস্ব দিক রয়েছে। নিম্নে ছকের মাধ্যমে আরোহের ভিত্তি উল্লেখ করা হলো:


Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্ত থেকে সার্বিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার প্রক্রিয়াকে মূলত আরোহ বলে। অর্থাৎ আশ্রয়বাক্যগুলো হবে বিশেষ এবং এই বিশেষ দৃষ্টান্ত থেকে আমরা সার্বিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি। সার্বিক বলতে আমরা বুঝি কোনো বিষয়ের সমগ্রকে। উদ্দীপকে সানিন আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত সর্বদা সার্বিক যুক্তিবাক্য বলে দাবি করেন। আমরা জানি যে, প্রত্যেক যুক্তি বা অনুমানের দুটি অংশ থাকে। আশ্রয়বাক্য এবং সিদ্ধান্ত। আরোহ অনুমানে সিদ্ধান্ত হিসাবে যে যুক্তিবাক্যটি স্থাপন করা হয় তা হলো একটি সার্বিক যুক্তিবাক্য। কারণ বিশেষ যুক্তিবাক্য কোনো শ্রেণির অংশবিশেষ সম্পর্কে কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করে। কিন্তু একটি সার্বিক যুক্তিবাক্য কোনো শ্রেণির সম্পূর্ণ তথ্য স্বীকার বা অস্বীকার করা হয়। যেমন- কিছু সংখ্যক মানুষের মৃত্যু দেখে আমরা অনুমান করি যে, সকল মানুষ মরণশীল। অর্থাৎ আমরা বলতে পারি যে,

রাম হয় মরণশীল
 শ্যাম হয় মরণশীল
 রহিম হয় মরণশীল
 করিম হয় মরণশীল
সমস্ত মানুষ হয় মরণশীল।

এক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাই যে, নতুন জ্ঞান বা তথ্য সংযোজিত হয় এবং এটি একটি সার্বিক যুক্তিবাক্য। সুতরাং উদ্দীপকে সানিন যে বলেছে আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত সর্বদা সার্বিক যুক্তিবাক্য; তা সঠিক ও যথার্থ বলেছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

দুই ধরনের অনুমানের মধ্যে আরোহ অনুমান একটি। আরোহ অনুমান তাই যেখানে বিশেষ আশ্রয়বাক্য থেকে একটি সিদ্ধান্ত পাওয়া যায় যা সার্বিক। উদ্দীপকে তানজিয়ার বক্তব্য হলো- আরোহ অনুমানে সিদ্ধান্ত. সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য হয়। যে বাক্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিধেয় নতুন তথ্য দিয়ে থাকে তাকে 'সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য' বলে। যেমন- তাসবির হয় ভালো ছেলে। এখানে উদ্দেশ্য হলো তাসরিব এবং বিধেয় হলো ভালো ছেলে। বিধেয় পদ 'ভালো ছেলে' উদ্দেশ্য পদ তাসবির সম্পর্কে একটি নতুন তথ্য প্রদান করছে।

যে অনুসারে আশ্রয়বাক্যের সিদ্ধান্ত একটি সংশ্লেষক যুক্তিবাক্যের প্রতিষ্ঠা করে। যেমন- 'সকল মানুষ হয় মরণশীল'। সিদ্ধান্তের এই যুক্তিবাক্যটি একটি সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য। এ যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদ 'মরণশীল' উদ্দেশ্য পদ মানুষ সম্পর্কে নতুন তথ্য দিয়েছে। কারণ 'মানুষ' পদের জাত্যর্থ বুদ্ধিমান এবং জীববৃত্তি ছাড়া 'মরণশীলতা' নতুন বৈশিষ্ট্য বা তথ্য দিচ্ছে। সুতরাং কেবল জাত্যর্থ বিশ্লেষণ করে সত্যতা নির্ণয় করা যায় না, সত্যতা নির্ণয় করতে হয় অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে। তাই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আরোহ অনুমানে যে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয় তা হলো সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য।

রহিম হয় মরণশীল।
 করিম হয় মরণশীল।
 রাম হয় মরণশীল।
সকল মানুষ হয় মরণশীল।

এখানে, সিদ্ধান্ত 'সকল মানুষ হয় মরণশীল' এর মরণশীল বিধেয় উদ্দেশ্য সম্পর্কে নতুন তথ্য প্রদান করছে। নতুন তথ্য হলো মানুষের বুদ্ধিবৃত্তি ও জীববৃত্তি গুণ ছাড়া 'মরণশীল' একটি নতুন তথ্য দিচ্ছে। অতএব তানজিয়ার বক্তব্যের সমর্থনে বলা যায় যে, আরোহ অনুমানে সিদ্ধান্ত সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
154

Related Question

View All
উত্তরঃ

কোনো কার্যকে ঘটানোর জন্য যে সকল পূর্ববর্তী ঘটনার প্রয়োজন হয় তাদের সমষ্টিকে 'কারণ' বলে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
1.4k
উত্তরঃ

কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে কোনো ঘটনাকে, সুনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রত্যক্ষণ করাই হলো 'নিরীক্ষণ'। আর কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে গবেষণাগারে যন্ত্রপাতির সাহায্যে উৎপাদিত ঘটনাবলির সুনিয়ন্ত্রিত প্রত্যক্ষণ হলো পরীক্ষণ। পরীক্ষণ এক ধরনের নিরীক্ষণ। পৃথিবীতে অনেক ঘটনা রয়েছে, যেগুলো আমাদের নিয়ন্ত্রণে নয়, যেমন- ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি। এগুলো নিরীক্ষণ ব্যতীত পরীক্ষণ করা। যায় না। পরীক্ষণের ক্ষেত্র কেবল গবেষণাগারে কিন্তু নিরীক্ষণের ক্ষেত্র সর্বত্র। এজন্য নিরীক্ষণের ব্যাপকতা পরীক্ষণ থেকে বেশি।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
318
উত্তরঃ

উদ্দীপকে বাঁশঝাড় সম্পর্কে ইকবালের ভাবনা ব্যক্তিগত ভ্রান্ত নিরীক্ষণের দিকটি নির্দেশ করা হয়েছে। নিরীক্ষণের মাধ্যমে আমরা অভিজ্ঞতার জগতের নানা বিষয় সম্পর্কে ধারণা লাভ করি। অর্থাৎ বিশেষ উদ্দেশ্যে প্রাকৃতিক পরিবেশে কোনো ঘটনাকে সুনিয়ন্ত্রিত প্রত্যক্ষণ হলো নিরীক্ষণ। নিরীক্ষণ সব সময় অ-ভ্রান্ত হয় না, ভ্রান্ত নিরীক্ষণও হয়। ভ্রান্ত নিরীক্ষণ বা নিরীক্ষণ জাতীয় অনুপপত্তিকে দুভাগে ভাগ করা হয়। ১. সদর্থক জাতীয় অনুপপত্তি, ২. নঞর্থক জাতীয় অনুপপত্তি। সদর্থক জাতীয় অনুপপত্তি হলো ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। এটি দুই ধরনের- ১. ব্যক্তিগত, ২. সর্বজনীন ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। বাঁশঝাড় সম্পর্কে ইকবালের ভাবনা ব্যক্তিগত ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। কারণ ভ্রান্ত নিরীক্ষণ হলো তাই যা- যখন কোনো বস্তু যেরূপ তাকে সেভাবে না দেখে ভিন্নরূপে দেখা। ইকবাল বাঁশঝাড়কে বাঁশঝাড়রূপে না দেখে ভিন্নরূপ ভূত বলে মনে করে চিৎকার করে। এটি ব্যক্তিগত কারণ নিরীক্ষণে কেবল ব্যক্তিবিশেষের বেলায় প্রযোজ্য দেখা যাচ্ছে যে দুজন একসঙ্গে যাচ্ছেলো কিন্তু ইকবাল 'ভূত' বলে চিৎকার করলেও তামিম সে ভুল করেনি। অর্থাৎ ইকবালের সে ভ্রান্ত ধারণা।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
233
উত্তরঃ

উদ্দীপকে তামিম এবং ইকবাল দুজনেই ভ্রান্ত ধারণা বা ভ্রান্ত নিরীক্ষণের শিকার। তামিমের ভ্রান্ত নিরীক্ষণ ছিল সর্বজনীন ভ্রান্ত নিরীক্ষণ এবং ইকবালের যে ভ্রান্ত নিরীক্ষণ ছিল তা হলো ব্যক্তিগত ভ্রান্ত নিরীক্ষণ।

নিরীক্ষণ হলো- যা কিছু আমরা প্রত্যক্ষ করি এবং যা কিছুকে আমরা মনের সম্মুখে রাখি। নিরীক্ষণজনিত ভুল হলো ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। কোনো বস্তু বা ঘটনাকে যেভাবে দেখার কথা সেভাবে না দেখে ভিন্নভাবে বা ভুলভাবে দেখা হলো ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। ইকবাল অন্ধকারে বাঁশঝাড় দেখে ভয়ে চিৎকার করে উঠে ভূত ভূত বলে। আসলে সেটি ভূত যে নয়, সেটি বাঁশঝাড় ছিল। তামিম, ইকবালকে সেটাই দেখালো এবং তাঁর ভুল ভাঙালো। ইকবালের এই ভ্রান্ত ধারণা ছিল ব্যক্তিগত। দুজন একসঙ্গে থেকেও ইকবাল বাঁশঝাড়কে ভূত মনে করলেও তামিম তা করেনি। সুতরাং ইকবালের বাঁশঝাড় সম্পর্কে যে ভুল ছিল তা হলো ব্যক্তিগত ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। তামিম, ইকবালের ব্যক্তিগত ভুল ভাঙালো কিন্তু সে যে ভুল করলো সেটা হলো সর্বজনীন ভুল। যে ভ্রান্ত নিরীক্ষণ কেবল ব্যক্তিবিশেষের বেলায় নয় বরং সকল ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সেটা মূলত সর্বজনীন ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। উদ্দীপকে তামিমের মতো প্রায় সবাই বলে যে সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ে যার ফলে সন্ধ্যা হয়। সূর্য কখনো পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ে না বরং পৃথিবী যেহেতু সূর্যের চারদিকে ঘুরে, সেহেতু একটা সময় আসে যখন পৃথিবীর একটা অংশ সূর্য থেকে আড়াল হয় এবং অন্ধকার ঘনিয়ে আসে। সুতরাং, তামিম ও ইকবালের ধারণা বা নিরীক্ষণ ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। ইকবালের ব্যক্তিগত ভ্রান্ত নিরীক্ষণ এবং তামিমের যে ভ্রান্ত নিরীক্ষণ তা হলো সর্বজনীন ভ্রান্ত নিরীক্ষণ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
313
উত্তরঃ

যা কিছুকে আমরা প্রত্যক্ষ করি এবং যা-কিছুকে আমরা মনের সম্মুখে রাখি তাই হলো নিরীক্ষণ। 

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
606
উত্তরঃ

পরীক্ষণের সকল ক্ষেত্রে নিরীক্ষণ সম্ভব। নিরীক্ষণ ব্যতীত পরীক্ষণ সম্ভব নয়। কোনো বিষয় বা ঘটনাকে পরীক্ষণ করতে গেলে নিরীক্ষণ করতে হয়। অর্থাৎ পরীক্ষণ নিরীক্ষণের উপর নির্ভরশীল। পরীক্ষক পরীক্ষা কার্য চালাতে গেলে আগে নিরীক্ষণ করতে হয়। নিরীক্ষণ সুষ্ঠু ও নিশ্চিত হলেই কেবল পরীক্ষণকার্য সত্য হয় এবং সঠিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা যায়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
343
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews