শিক্ষক শ্রেণিকক্ষের ব্লাকবোর্ডের একটি কোষের সূক্ষ্মগঠনের চিত্র আঁকলেন এবং কোষ অঙ্গাণু A ও B চিহ্নিত করলেন। W. Schimper ১৮৮৩ সালে কোষ অঙ্গাণু A সর্বপ্রথম লক্ষ্য করেন এবং এর নামকরণ করেন। Albert Von Kolliker ১৮৫০ সালে কোষ অঙ্গাণু B লক্ষ্য করেন এবং ১৮৯৮ সালে Carl Benda এর নামকরণ করেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত কোষ অঙ্গাণু দুটি হলো মাইটোকন্ড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্ট। W. Schimper ১৮৮৩ সালে সর্বপ্রথম ক্লোরোপ্লাস্ট (কোষ অঙ্গাণু A) লক্ষ্য করেন এবং এর নামকরণ করেন। অন্যদিকে, Albert Von Kolliker ১৮৫০ সালে মাইটোকন্ড্রিয়া (কোষ অঙ্গাণু B) লক্ষ্য করেন এবং Carl Benda ১৮৯৮ সালে এর নামকরণ করেন। উভয়ই দ্বিস্তরী ঝিল্লিযুক্ত কোষ অঙ্গাণু হলেও তাদের গঠনগত দিক থেকে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে যা তাদের ভিন্ন ভিন্ন জৈবিক কার্যাবলীর জন্য উপযোগী।
গঠনগতভাবে মাইটোকন্ড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্টের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
আকৃতি ও আকার: মাইটোকন্ড্রিয়া সাধারণত ডিম্বাকার বা দণ্ডাকার হয়ে থাকে এবং এদের আকার ক্লোরোপ্লাস্টের চেয়ে ছোট। অন্যদিকে, ক্লোরোপ্লাস্ট সাধারণত চাকতির মতো বা লেন্সের মতো হয়ে থাকে এবং মাইটোকন্ড্রিয়ার চেয়ে আকারে বড় হয়।
ঝিল্লি: উভয় অঙ্গাণুই দ্বিস্তরী ঝিল্লি দ্বারা আবৃত। মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরের ঝিল্লি অসংখ্য ভাঁজ হয়ে ক্রিস্টি (cristae) তৈরি করে, যা এর পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল বৃদ্ধি করে। এর বিপরীত, ক্লোরোপ্লাস্টের ভেতরের ঝিল্লিটি সাধারণত মসৃণ হয় এবং এটি স্ট্রোমা (stroma) নামক তরল পদার্থকে ঘিরে রাখে।
অভ্যন্তরীণ গঠন: মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরে ক্রিস্টি ছাড়াও ম্যাট্রিক্স (matrix) নামক জেলিসদৃশ পদার্থ থাকে, যেখানে ডিএনএ (DNA), রাইবোজোম (ribosome) এবং বিভিন্ন উৎসেচক বিদ্যমান। অন্যদিকে, ক্লোরোপ্লাস্টের স্ট্রোমাতে থাইলাকয়েড (thylakoid) নামক চাকতির মতো গঠন থাকে, যা স্তূপীকৃত হয়ে গ্রানা (grana) গঠন করে। থাইলাকয়েড ঝিল্লিতে ক্লোরোফিল (chlorophyll) থাকে।
কার্যকরী উপযোগিতা: মাইটোকন্ড্রিয়ার ক্রিস্টিতে শ্বসনের ইলেকট্রন পরিবহন তন্ত্রের উৎসেচকগুলো অবস্থান করে, যা শক্তি উৎপাদনে সহায়ক। অপরদিকে, ক্লোরোপ্লাস্টের গ্রানার থাইলাকয়েড ঝিল্লিতে সালোকসংশ্লেষণের আলোক-নির্ভর পর্যায় সম্পন্ন হয় এবং স্ট্রোমাতে আলোক-নিরপেক্ষ পর্যায় সম্পন্ন হয়।
সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত কোষ অঙ্গাণু A (ক্লোরোপ্লাস্ট) এবং B (মাইটোকন্ড্রিয়া) উভয়ই কোষের গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলীতে অংশ নিলেও তাদের স্বতন্ত্র গঠনগত বৈশিষ্ট্য তাদেরকে নির্দিষ্ট শারীরবৃত্তীয় কাজের জন্য উপযুক্ত করে তোলে। এই গঠনগত ভিন্নতাই তাদের পৃথক কাজ, যেমন সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসন প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি।
উদ্ভিদের কান্ডের প্রকৃতি, বিস্তৃতি ও কাষ্ঠলতার উপর নির্ভর করে থ্রিয়োফ্রাস্টাস উদ্ভিদজগতকে চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত করেন। যথা-১। হার্ব (herb, বীরু), ২। আন্ডার শ্রাব (under-shrub, উপগুল্ম), ৩। শ্ৰাৰ (shrub, গুল্ম) ও ৪। ট্রি (tree, বৃক্ষ)।
১। হার্ব (Herb) বা বীরুৎ (নরম কান্ডবিশিষ্ট ছোট উদ্ভিদকে হার্ব বা বীরুৎ বলে। যেমন— সরিষা (Brassica napus), ধান (Oryza sativa), গম (Triticum aestivum) ইত্যাদি। (কাষ্ঠল কান্ডবিশিষ্ট হার্বকে উডি হার্ব (woody herb) বলা হয় ) যেমন—তোষাপাট (Corchorus olitorius)
আয়ুষ্কাল অনুসারে তিনি হার্বকে আবার তিনভাগে বিভক্ত করেন; যথা- সরিষা, ধান, গম,
এক অ্যানুয়াল (Annual) বা বর্ষজীবী বীরুৎ : এসব বীরুৎ মাত্র এক ঋতু অথবা এক বছরকাল জীবিত থাকে। যেমন-সরিষা (Brassica napus), গম (Triticum aestivum), ছোলা (Cicer arietinum) ইত্যাদি উদ্ভিদ।
বাইয়েনিয়্যাল (Biennial) বা দ্বিবর্ষজীবী বীরুৎ : এসব বীরুৎ সাধারণত দু'বছরকাল জীবিত থাকে। যেমন-বাঁধাকপি (Brassica oleracea var. capitata), মূলা (Raphanus sativus) প্রভৃতি উদ্ভিদ। শীতপ্রধান দেশে এসব উদ্ভিদের দ্বিবর্ষজীবীত্ব সুস্পষ্ট। প্রথম বছরে দৈহিকবৃদ্ধি ঘটে এবং দ্বিতীয় বছরে ফুল, ফল ধারণ করে স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করে।
পেরেনিয়্যাল (Perennial) বা বহুবর্ষজীবী বীরুৎ : এসব বীরুৎ দু'বছরের অধিক বেঁচে থাকে।যেমন- আদা (Zingiber officinale ), হলুদ (Curcuma domestica)। এদের ভূ-নিম্নস্থ কান্ড থেকে প্রতি বছর বায়বীয় কান্ড বের হয়। দুর্বাঘাস (Cynodon dactylon) একটি বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ।
২। আন্ডারশ্রাব (Undershrub) বা উপগুল্ম : শ্রাব বা গুলোর চেয়ে ছোট আকারের কাষ্ঠল উদ্ভিদকে আন্ডারশ্রাব বলে, যেমন কল্কাসুন্দা (Cassia sophera), আঁশ শেওড়া (Glycosmis arborea), বেলী (Jesminum sambac), গোলাপ (Rosa hybrida) ইত্যাদি।
৩। শ্রাব (Shrub) বা গুল্ম : যে সকল উদ্ভিদ কাষ্ঠল, বহুবর্ষজীবী, সাধারণত একক কান্ডবিহীন ও গোড়া থেকে বেশি শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে ঝোপে পরিণত হয় তাকে শ্রাব বা গুল্ম বলে। যেমন-কাগজীলেবু (Citrus aurantifolia), জবা (Hibiscus rosa-sinensis), গন্ধরাজ (Gardenia jasminoides) ইত্যাদি।
৪। ট্রি (Tree) বা বৃক্ষ : (সুস্পষ্ট একক কাণ্ডবিশিষ্ট উঁচু কাষ্ঠল উদ্ভিদকে ট্রি বা বৃক্ষ বলে। যেমন- আম (Mangifera indica), কাঁঠাল (Artocarpus heterophyllus), জাম (Syzygium cumini), সেগুন (Tectona grandis) ইত্যাদি।
কোষঃ কোষ হলো সকল জীবদেহের গঠন, বিপাকীয় ক্রিয়াকলাপ ও বংশগতিমূলক তথ্য বহনকারী একক।সবচেয়ে বড় কোষ হল উটপাখির ডিমের কোষ। দীর্ঘতম কোষ হল স্নায়ু কোষ।
ক্রোমোপ্লাস্ট নামক এক ধরনের রঙিন বর্ণযুক্ত প্লাস্টিডের কারণে উদ্ভিদের ফুলের পাঁপড়ি তথা পুষ্প রঙিন হয়। সবুজ বর্ণ ব্যতীত অন্যান্য বর্ণের রঙিন প্লাস্টিডগুলোকে বলা হয় ক্রোমোপ্লাস্ট। ক্যারোটিন এবং জ্যান্থোফিল নামক দু'প্রকার রঞ্জক পদার্থ বিভিন্ন অনুপাতে থাকায় এরা হলুদ, কমলা বা লাল বর্ণের হয়। এরা ফুলের পাঁপড়িতে উপস্থিত থেকে ফুল তথা, পুষ্পে বর্ণ বৈচিত্র্যের সৃষ্টি করে। ফুলের বিভিন্ন অঙ্গে অবস্থান করে এরা কীটপতঙ্গসহ উচ্চ শ্রেণির প্রাণীদের আকৃষ্ট করে। ফলে, পরাগায়ন সহজতর হয়।
উদ্দীপকের উদ্ভিদ কোষের প্রথম আবরণ দ্বারা কোষ' প্রাচীরকে নির্দেশ করা হয়েছে। নিচে কোষ প্রাচীরের সূক্ষ্ম গঠন বর্ণনা করা হলো-
উদ্ভিদ কোষ প্রাচীরের প্রধান উপাদান হলো সেলুলোজ। সেলুলোজ হলো একটি পলিস্যাকারাইড যা ৬ কার্বন বিশিষ্ট B-D গ্লুকোজের অসংখ্য অণু নিয়ে গঠিত। ১ হাজার থেকে ৩ হাজার সেলুলোজ অণু নিয়ে একটি সেলুলোজ চেইন গঠিত হয়। প্রায় ১০০টি সেলুলোজ চেইন মিলিতভাবে একটি ক্রিস্টালাইন মাইসেলি গঠন করে। প্রতিটি মাইসেলির ব্যাস ১০০Å I মাইসেলিকে কোষ প্রাচীরের ক্ষুদ্রতম গাঠনিক একক ধরা হয়। প্রায় ২০টি মাইসেলি মিলে একটি মাইক্রোফাইব্রিল গঠন করে। এদের ব্যাস ২৫০৪। আবার, ২৫০টি মাইক্রোফাইব্রিল মিলিতভাবে একটি ম্যাক্রোফাইব্রিল গঠন করে। এগুলোর ব্যাস প্রায় 0.8jun। ম্যাক্রোফাইব্রিলের ফাঁকে ফাঁকে মাইক্রোক্যাপিলারিজ অবস্থান করে। অনেকগুলো ম্যাক্রোফাইব্রিল মিলিত হয়ে তন্তু গঠন করে কোষ প্রাচীরে জালের ন্যায় বুনন সৃষ্টি করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম আবরণটি হলো কোষ প্রাচীর এবং দ্বিতীয় আবরণটি হলো কোষঝিল্লি বা প্লাজমামেমব্রেন। নিচে কোষ প্রাচীর ও কোষঝিল্লির মধ্যে তুলনামূলক পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো-
কোষ প্রাচীর উদ্ভিদকোষ ও ব্যাকটেরিয়ার কোষঝিল্লির বাইরে 'অবস্থান করে, প্রাণিকোষে থাকে না। সকল জীবকোষের প্রোটোপ্লাজমের বাইরে কোষঝিল্লি থাকে l
কোষ প্রাচীর তিনটি স্তরে বিন্যস্ত; যথা- মধ্যপর্দা, প্রাথমিক প্রাচীর ও সেকেন্ডারি প্রাচীর। কোষঝিল্লি প্রোটিন (বাইরে ও ভিতরে দু'স্তর) ও লিপিড (মধ্যাংশে দু'স্তর) এর দুটি স্তর নিয়ে গঠিত।
কোষ প্রাচীর কখনও ভেদ্য কখনও অভেদ্য। কোষঝিল্লি সর্বদাই বৈষম্যভেদ্য।
কোষ প্রাচীরে মাইক্রোভিলাই না থাকলেও কোষঝিল্লিতে মাইক্রোভিলাই থাকে।.
কোষ প্রাচীর পুরু এবং দৃঢ়; প্রধানত সেলুলোজ নির্মিত; তবে পেকটিন, কাইটিন, লিগনিন, ইত্যাদিও থাকতে পারে। অপরদিকে কোষঝিল্লি খুব সূক্ষ্ম, স্থিতিস্থাপক; প্রধানত লিপোপ্রোটিন দিয়ে গঠিত, তবে গ্লাইকোপ্রোটিন, ফসফোলিপিড, গ্লাইকোলিপিড, স্টেরল ইত্যাদি সমন্বয়ে গঠিত হতে পারে।
কোনো কোনো কোষের কোষ প্রাচীরে নানারকম অলঙ্করণ- দেখা যায়। কোষঝিল্লিতে কোনোরূপ অলঙ্করণ দেখা যায় না। উপরের আলোচনা সাপেক্ষে বলা' যায়, কার্যিক ও 'গাঠনিক ভিন্নতার কারণেই দ্বিতীয় আবরণ বা কোষঝিল্লি প্রথমটি অর্থাৎ কোষপ্রাচীর থেকে পৃথক।
বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে জেনেটিক কোডের কিছু বৈশিষ্ট্য নির্ণয় করা হয়েছে। যেমন- জেনেটিক কোড সর্বদা তিন অক্ষরবিশিষ্ট হয় এবং একটি কোড সর্বদা একটি অ্যামিনো অ্যাসিডকে নির্দেশ করে। সকল জীবে নির্দিষ্ট একটি কোডন একই অর্থ বহন করে। একটি . কোডের অক্ষর অন্য কোডে অন্তর্ভুক্ত হয় না এবং শুরু ও সমাপ্তি কোড সুনির্দিষ্ট।