৫ই আগস্টকে ৩৬শে জুলাই বলা হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে বেগবান করতে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
বাঙালির ইতিহাস হলো সংগ্রামের ইতিহাস। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান আর ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্যে সাযুজ্য রয়েছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন নিয়ে রচিত জহির রায়হানের উপন্যাস 'আরেক ফাল্গুন' থেকে চরণটি নেওয়া হয়েছে। সেই সময় অনেক বেশি শিক্ষার্থী আটক করা হয়েছিল ফলে জেলখানায় জায়গা সংকুলান হচ্ছিল না। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে এসেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। তাই দেয়ালে দেয়ালে গ্রাফিতিতে এই চরণ লেখা হয়, যা আন্দোলনকারীদের মধ্যে প্রতিরোধস্পৃহা জাগিয়ে তোলে।
উদ্দীপকটি 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' রচনায় উল্লিখিত শিক্ষার্থীদের আন্দোলন গড়ে তোলার দিকটিকে তুলে ধরে।
শিক্ষার্থীরা জাতির ভবিষ্যতের কান্ডারি। সামনের দিনগুলোতে তারাই জার্তিকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে নেবে। তাই সমাজ ও রাষ্ট্র বিষয়ে তারা সচেতন হবে এটাই স্বাভাবিক। আর এ সচেতনতাই সমাজ ও রাষ্ট্রের অচলায়তনের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদী করে তোলে।
উদ্দীপকে শিক্ষার্থীদের সমাজের সচেতন ও প্রতিবাদী অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সংগত কারণেই তারা আত্মসচেতন ও চিন্তাশীল হয়ে থাকে। ফলে রাষ্ট্র ও সমাজ নিয়ে তারা প্রায়শই তাদের অভিমত ব্যক্ত করে, যা থেকে ছাত্র-আন্দোলনের জন্ম হয়। একইভাবে, 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' রচনায়ও ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার' অভ্যুত্থানের কথা তুলে ধরা হয়েছে, যার সৃষ্টি হয় শিক্ষার্থীদের হাত ধরে। পরবর্তী সময়ে তা আরও বড়ো হয়ে গণআন্দোলনে রূপ নেয়। উদ্দীপকটি 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' রচনার শিক্ষার্থীদের আন্দোলন গড়ে তোলার দিকটিকেই নির্দেশ করে।
উদ্দীপকের ভাবনা 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' রচনার বিষয়বস্তুকে সম্পূর্ণ প্রতিফলিত করে না বলেই আমি মনে করি।
বাংলাদেশ আজ স্বাধীন সার্বভৌম একটি দেশ। আত্মমর্যাদাসম্পন্ন এই জাতিসত্তা প্রতিষ্ঠার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য। যুগে যুগে অপশক্তির অন্যায়-আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রাম করে বাঙালি আজ স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।
উদ্দীপকে জাতীয় জীবনে শিক্ষার্থীদের গুরুত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে। এসময় শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে শিক্ষাগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। আর তা করতে গিয়ে তারা আত্মসচেতন হওয়ার পাশাপাশি রাজনীতি সচেতনও হয়ে ওঠে। ফলে সমাজ ও রাষ্ট্রে ঘটমান যেকোনো বিষয় নিয়ে ভাবার পাশাপাশি তা নিয়ে তারা প্রতিক্রিয়াও জানায়। আর কোনো ঘটনা বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাদের সম্মিলিত প্রতিক্রিয়া থেকেই সৃষ্টি হয় আন্দোলনের।
'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' রচনায় ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও এ আন্দোলনে বিজয়ের অনিবার্যতাকে উপস্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে ৫ই আগস্ট বিজয় উদ্যাপনের জন্য গণমানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং এ আন্দোলনকে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশার কথাও বলা হয়েছে। এসব বিষয় উদ্দীপকে ফুটে উঠেনি। সেখানে কেবল ছাত্র আন্দোলন গড়ে ওঠার পেছনে শিক্ষার্থীদের মনোজাগতিক অবস্থা ও প্রতিবাদী মানসিকতার কথা ফুটে উঠেছে, 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' রচনার অন্যান্য বিষয় নয়। সে বিচারে উদ্দীপকের ভাবনা এই রচনার বিষয়বস্তুকে সম্পূর্ণ প্রতিফলিত করে না।
Related Question
View Allকোটা সংস্কার আন্দোলনে বড়ো সাফল্য অর্জিত হয় ২০১৮ সালে।
প্রশ্নোক্ত বাক্যটির দ্বারা দেশ সংস্কারে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের একাত্মতা বোঝানো হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগদান করেন। সবাই নিজেদের অবস্থান ভুলে রাস্তায় একত্র লড়াই করেছিলেন একটা উদ্দেশ্য সামনে রেখে। এভাবে আন্দোলনের সময় এমন এক ভাষা তৈরি হয়েছিল যার মাধ্যমে সবাই সবাইকে বুঝতে পারছিলেন। মানুষের মধ্যে এমন বোধ স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পর তৈরি হয়েছিল বলে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
উদ্দীপকটি 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' প্রবন্ধের ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণই সকল ক্ষমতার উর্ধ্বে। জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করবে এটাই হওয়া উচিত। অথচ অনেক সময় দেখা যায়, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার জনগণের বিরুদ্ধাচরণ করে। তখন পরিণতি হয় মর্মান্তিক।
'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' প্রবন্ধে ছাত্রসমাজ কোটার যৌক্তিক সংস্কার চেয়ে আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলনের একপর্যায়ে সরকার সাধারণ শিক্ষার্থীর দাবি মেনে নেওয়ার পরিবর্তে চরম দমননীতি এবং হত্যাযজ্ঞ পরিচালনা করে। সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সরকারের প্রতিরোধে এগিয়ে আসে। এতে গণঅভ্যুত্থান ঘটে এবং সরকারপ্রধান দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। উদ্দীপকেও দেখা যায়, গোঁতাবায়া রাজাপাকসে বিক্ষোভকারীদের দমন করার জন্য নিপীড়ন চালায়। শেষ পর্যন্ত তার পতন হয়।
"সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' প্রবন্ধের সামগ্রিকতাকে স্পর্শ করে না।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
বাঙালি জাতি হলো বীরের জাতি। তারা যুগে যুগে বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রাণপথে লড়াই করেছে। সাম্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাঙালিরা জীবনদানেও কার্পণ্য করেনি।
'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' প্রবন্ধে কোটা সংস্কারকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলনের শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত তা সরকার পতনের আন্দোলনের রূপ নেয়। আন্দোলনকে দমিয়ে রাখার জন্য সরকার তার পোষ্য দলীয় বাহিনী ও জাতীয় বাহিনীর বিপথগামী সদস্যদের দ্বারা সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়ন চালায়। পুলিশের গুলিতে নিহত হয় শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে হাজার হাজার জনতা। ছাত্র-জনতার তোপের মুখে পড়ে সরকার পালাতে বাধ্য হয়। উদ্দীপকেও শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের পালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সরকার বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে। ফলে ডজনখানেক আহত হয়েছে। সেখানে কোনো মৃত্যুর ঘটনার কথা নেই। আবার জুলাই বিপ্লব পুরোপুরি শিক্ষার্থী দ্বারা পরিচালিত ছিল। কিন্তু উদ্দীপকে বর্ণিত বিক্ষোভে এমন কোনো আভাস নেই। উপর্যুক্ত এই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
'কারফিউ' শব্দের অর্থ সান্ধ্যআইন।
'সরকার নির্বাচন নিয়ে একের পর এক তামাশা করেছে' বলতে এখানে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রহসনের নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে।
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনে জয়ী হয় এবং সরকার গঠন করে। এর পর থেকে এই সরকারে তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত প্রতিটি নির্বাচনই ছিল বিতর্কিত। এসব নির্বাচনে সরকার লোক দেখানো ভোটের আয়োজন করে শেষ পর্যন্ত কারচুপি করে নির্বাচনে জয়ী হয়। এভাবে সরকার যে প্রহসনের নির্বাচন করে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে, প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মাধ্যমে সে কথাই বোঝানো হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!