শিক্ষাঃ শিক্ষা মানুষের আচরণিক পরিবর্তন আনয়নের প্রক্রিয়া। শিক্ষা দ্বারা মানুষের কাঙ্খিত পরিবর্তন আনয়নের চেষ্টা করা হয়। আমাদের দেশেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতই বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের মধ্যে কাঙ্খিত পরিবর্তন আনয়নের জন্য শিক্ষার বিভিন্ন স্তরের প্রবর্তন করা হয়েছে। যেমন- প্রাথমিক শিক্ষা, মাধ্যমিক শিক্ষা, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা, স্নাতক, ভোকেশনাল, ধর্মীয় ও বয়স্ক শিক্ষা। মানুষের মধ্যে কাঙ্খিত আচরণিক পরিবর্তন আনয়নের পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনাকে শিক্ষা বলা যেতে পারে ।
শিখনঃ শিখন হচ্ছে শিক্ষার্থীর মধ্যে তার আচরণিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়া। প্রকৃত পক্ষে শিখনের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াটি আমরা Se সরাসরি প্রত্যক্ষ করতে পারি না। ব্যক্তির আচার আচরণ থেকে শিখনের ব্যাপারটা অনুধাবন করা যায়। শিখনের জন্য দরকার ব্যক্তির শারীরিক ও স্নায়ুবিক পরিবর্তন। শিখনের সাথে ব্যক্তির দৈহিক ও সামাজিক বিকাশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে । একজন কৃষককে উপকারী পোকা চিহ্নিত করতে শেখালে, সে যদি নির্ভুলভাবে উপকারী পোকা শনাক্ত করতে পারে, তাহলে আমরা বলব সে কৃষককে যা শিখতে বলা হয়েছিল সে তা শিখেছে অর্থাৎ তার শিখন হয়েছে। শিখনের প্রধান ভূমিকা হলো মানুষের নতুন জ্ঞান লাভের সাথে সাথে পুরাতন জ্ঞানকে সংশোধন করে শক্তিশালী করা।
Related Question
View Allশিক্ষার উদ্দেশ্য ও চাহিদার ক্ষেত্রে বৈশ্বিক পরিবর্তন ও প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নয়নের ফলে শ্রেণিকক্ষের শিক্ষণ-শিখনেও পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে । যুগোপযোগী ও আদর্শ শিক্ষণ-শিখন কার্যক্রম নিশ্চিত করতে একজন শিক্ষা কর্মকর্তা যেসকল ভূমিকা রাখতে পারেন তা নিম্নরূপঃ
- শিক্ষকের পেশাগত উন্নয়ন এর মাধ্যমে ।
- শ্রেণীকক্ষে আনন্দঘন পরিবেশে শিক্ষাদান করতে তা শিক্ষার্থীদের মনে স্থান করে নেয়। তাই শিক্ষকের উচিত শ্রেণীকক্ষকে আনন্দঘন করে তোলা ।
- শিক্ষার্থীদের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তনে সহায়তা করা।
- যেসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে, সেগুলোর উল্লেখযোগ্য হলো ছাত্রছাত্রী উভয়কে সমানভাবে কর্মে সম্পৃক্ত করা, উপস্থাপনায় সমান সুযোগ দিয়ে ক্ষমতায়ন বিচার করা, সমানভাবে নেতৃত্বের সুযোগ সৃষ্টি করা, তথ্যপ্রযুক্তি শ্রেণীর ও উপকরণ ব্যবহারে সমান সুযোগ সৃষ্টি করা।
- শিক্ষা পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন হতে হবে পরিকল্পিত এবং সুচিন্তিত। শিক্ষা পরিকল্পনার মূলে রয়েছে শিক্ষানো।
- বয়স উপযোগী আকর্ষণীয় শিল্প উপকরণ শিক্ষায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।
- মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের এমন সুযোগ দেয়া দরকার, যাতে শিক্ষার্থীরা অর্থের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে এবং নতুন নতুন ও বাস্তবভিত্তিক সমস্যা সমাধানের চ্যালেঞ্জের সন্মুখীন হতে তা সমাধানের চেষ্টা করে।
- বর্তমান শতাব্দীর নতুন প্রজন্ম প্রবেশ করেছে দ্রুত, পরিবর্তনশীল এক নতুন পৃথিবীতে। বিজ্ঞান, টেকনোলজি, রাজনীতি, অর্থনীতি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন শিক্ষাক্ষেত্রে সৃষ্টি করেছে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ। আর এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রধান ভূমিকা পালন করে শিক্ষক সমাজ। কারণ যুগোপযোগী শিক্ষার মাধ্যমেই নতুন প্রজন্মকে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ কাঠামোর এ নতুন পৃথিবীর সঙ্গে খাপ খাওয়ানো সম্ভব।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!