মানব জীবনে প্রভাব বিস্তারকারী প্রধান উপাদান হচ্ছে ভৌগোলিক বা প্রাকৃতিক উপাদান (Geographical or Natural Factor) |
পরিবার হলো সবচেয়ে প্রাচীন সামাজিক প্রতিষ্ঠান যার অস্তিত্ব আদিম সমাজ থেকে বর্তমান সকল সমাজেই বিদ্যমান।
সমাজ কাঠামোয় বিদ্যমান সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে পরিবার হলো সংঘবদ্ধ জীবনের সবচেয়ে সর্বজনীন ও বিশ্বজনীন প্রতিষ্ঠান। পরিবারেই মানুষ জন্মগ্রহণ করে, বেড়ে ওঠে এবং বৃহত্তর সমাজে প্রবেশের শিক্ষা লাভ করে। সময়ের পরিক্রমায় বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের বিলুপ্তি সাধিত হলেও পরিবার নামক ক্ষুদ্র সামাজিক প্রতিষ্ঠান কখনো বিলুপ্ত হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না। কারণ সমাজ বিকাশের প্রতিটি পর্যায়েই পরিবারের অস্তিত্ব পরিলক্ষিত। আর এ জন্যই পরিবারকে একটি সর্বজনীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে অভিহিত করা হয়।
মামুনের নেশাগ্রস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সামাজিকীকরণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ 'সঙ্গীদল' বাহনটি দায়ী।
পরিবারের পরে সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে সমবয়সী বা সঙ্গীদলের ভূমিকা অপরিসীম। শিশু যখন বড় হতে থাকে তখন তার সঙ্গী- সাথীরা নানাভাবে তাকে প্রভাবিত করে। পড়াশোনার সময় বাদ দিয়ে অবসর সময় সে খেলার মাঠে অথবা গল্পগুজব করে বন্ধুদের সাথে সময় কাটায়। বন্ধুদের আকর্ষণ তার কাছে অপ্রতিরোধ্য। সমবয়সী দলের প্রভাবে মাদকাসক্তির মতো বিষয়ে কিশোর বয়সীরা সহজেই জড়িয়ে পড়ে। পূর্বে গ্রামীণ সমাজে শিশু-কিশোররা সমবয়সীদের সাথে নানারকম খেলায় মেতে উঠত। ইদানিং খেলার মাঠের স্বল্পতা, আকাশ সংস্কৃতির প্রভাব ইত্যাদি কারণে কিশোর বয়সীরা অলস সময় কাটাতে কাটাতে নানা রকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। নগর জীবনেও কিশোররা সমবয়সী দলের সাথে মিশে মাদকাসক্তিসহ নানা রকম অপরাধমূলক কাজে জড়িত হচ্ছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মামুন দিনরাত বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে দিতে একসময় নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে। তার এ মাদকাসক্তির পেছনে উপরে আলোচিত সামাজিকীকরণের সমবয়সী বা সঙ্গীদল প্রত্যয়টি দায়ী। সুতরাং বলা যায় যে, মামুনের নেশাগ্রস্ত হওয়ার পেছনে সামাজিকীকরণের সঙ্গীদল বাহনটি দায়ী।
মামুনের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ক্ষেত্রে যে বাহনটি ভূমিকা রেখেছে তা হলো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে ধর্ম ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জন্মের পর থেকেই একজন মানুষ নিজ ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত হয়। শিশু পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেই প্রথম নিজ ধর্মীয় আচার- অনুষ্ঠানের সাথে পরিচিত হয়। শিশু পিতামাতা ও দাদা-দাদিকে মসজিদ, মন্দির কিংবা প্যাগোডায় যেতে ও ধর্মীয় আচার- অনুষ্ঠানগুলো পালন করতে দেখে। এতে শিশু ধীরে ধীরে নিজ ধর্মীয় রীতিনীতিগুলো শিখে নেয়। আর ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে সত্যবাদিতা, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, পরোপকারিতা, মাদকমুক্ত জীবনযাপন ইত্যাদি নৈতিক গুণাবলি অর্জিত হয়। আবার সমাজে ব্যক্তির নৈতিকতার মানদণ্ড কী হবে তা ধর্ম নির্দেশ করে। ধর্ম মানুষকে মন্দ পথ বা মন্দ অভ্যাস পরিহার করে সৎপথে চলার নির্দেশ দেয়। ধর্ম ব্যক্তিকে আচরণে সৎ ও ন্যায়পরায়ণ হতেও শিক্ষা দেয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মামুন নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়লে তার পিতা তাকে নিয়ে ইমাম সাহেবের শরণাপন্ন হন। ইমাম সাহেব মাদকাসক্তির পরিণাম, পরকালে এর শাস্তি এবং নৈতিকতার বিষয়ে শিক্ষা দেন এবং বেশকিছু দিন মামুনকে তার সাথে রাখেন। ফলশ্রুতিতে মামুন এখন মাদকাসক্ত থেকে মুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। মূলত ইমাম সাহেব কর্তৃক ধর্মীয় উপদেশ ও দিকনির্দেশনা প্রদানই মামুনকে নেশাগ্রস্ত জীবন থেকে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে এনেছে। সুতরাং বলা যায় যে, মামুনের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ক্ষেত্রে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বাহনটি ভূমিকা রেখেছে। আর সামাজিকীকরণে এর গুরুত্ব অপরিসীম।
Related Question
View Allফরাসি সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইমকে ক্রিয়াবাদের জনক বলা হয়।
শিক্ষা শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শিক্ষা শব্দটি এসেছে সংস্কৃত 'শাস' ধাতু থেকে। এর অর্থ হলো শাসন করা, শৃঙ্খলিত করা, নিয়ন্ত্রিত করা, শিক্ষা দেওয়া বা নির্দেশনা দেওয়া। অর্থাৎ বাংলা ভাষায় আমরা যে শিক্ষা কথাটা ব্যবহার করি, তা বিশেষভাবে শিক্ষা কৌশলকেই বোঝায়।
সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠান তথা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অপরিসীম।
সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুবই প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করে থাকে। পরিবার থেকে গঠিত মৌলিক ব্যক্তিত্ব সহযোগে শিশুরা শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানে আসে। সেখানে নতুন পরিবেশে নানা নিয়ম-কানুনের মধ্যে নতুন সহপাঠী ও অন্যান্যদের সাথে খাপ-খাইয়ে চলতে হয়। শিশুর মূল্যবোধ সৃষ্টিতে পরিবারের পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রম, শিক্ষকদের ব্যক্তিত্ব, নৈতিকতা ইত্যাদি শিশুর মূল্যবোধ বিকাশে সহায়ক হয়।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা নানা প্রকারের হলে শিশুর ব্যক্তিত্বও নানাভাবে গড়ে ওঠে। যেমন- আমাদের দেশেও প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা ভিন্ন ভিন্ন। তাই ব্যক্তির সামাজিকীকরণের ধরনও বিভিন্ন রকম পরিলক্ষিত হচ্ছে।
অতএব আমরা বলতে পারি যে, সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
উদ্দীপকে অন্যতম সামাজিক সমস্যা 'নিরক্ষরতা' সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। সমাজে নিরক্ষরতার মতো সমস্যা অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞানের যে গবেষণা পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে থাকে তা হলো সামাজিক জরিপ পদ্ধতি।
সামাজিক গবেষণার জন্য যে সমস্ত পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে থাকে তার মধ্যে সামাজিক জরিপ অন্যতম। জরিপ কথাটির অর্থ হচ্ছে কোনো কিছু সরেজমিনে পরিমাপ বা নিরূপণ করা। কোনো সমাজের অবস্থা সম্পর্কে বিভিন্ন কৌশলে তথ্যাবলি সংগ্রহ, তথ্যাবলির ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ, অনুসন্ধান ও সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার প্রক্রিয়া হচ্ছে জরিপ পদ্ধতি। সমাজের বিভিন্ন বিষয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ, তথ্য বাছাই, তথ্য যাচাই ইত্যাদি ক্ষেত্রে জরিপ একটি কার্যকরী পদ্ধতি। বস্তুত জরিপ পদ্ধতির সাহায্যে কোনো একটি বিষয়ের সামগ্রিক চিত্র লাভ করা সম্ভব। সামাজিক জরিপ সামাজিক অনুসন্ধানের একটি পদ্ধতি যা বর্ণনা, বিবরণ, উদ্ঘাটন ও ব্যাখ্যামূলক বিভিন্ন সামাজিক তথ্য সরবরাহ করে। এছাড়া উন্নয়নমূলক সামাজিক কর্মসূচির পূর্বশর্ত হিসেবে কাজ করে।
অতএব আমরা বলতে পারি যে, নিরক্ষরতার মতো সামাজিক সমস্যার অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে সামাজিক জরিপ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
ICT-এর পূর্ণরূপ- Information and Communication Technology |
বিশ্বায়ন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বকে একীভূত করা হয়।
বিশ্বায়নের মূল লক্ষ্য হচ্ছে পৃথিবীর সকল দেশকে একটি ছাতার নিচে। সমবেত করা। মূলত তিনটি লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বিশ্বায়নের পথচলা। (১) তথ্য প্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ (২) আন্তর্জাতিক শ্রম বাজার এবং (৩) উৎপাদিত পণ্যের অবাধ প্রবাহ। সাধারণত সারাবিশ্বে এই তিনটি বিষয়ের অবাধ প্রচলন উপস্থিতি থাকলেই সেই প্রক্রিয়াকে বিশ্বায়ন বলে আখ্যায়িত করা যেতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!