ভারতে প্রথম ভাইসরয় নিযুক্ত হন লর্ড ক্যানিং।
ঔপনিবেশিক শাসনের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে দখলদার শক্তি চিরস্থায়ীভাবে শাসন প্রতিষ্ঠা করতে আসে না। এক্ষেত্রে যতদিন শাসক হিসেবে থাকবে ততদিন সে সেই দেশের ধন-সম্পদ নিজ দেশে পাচার করবে। এক সময় তাদের শাসনের বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে বা শাসন করা সুবিধাজনক মনে না হলে তারা নিজ দেশে চলে যায়। এভাবে অন্য কোনো দেশের ওপর জুড়ে বসাকে দখলদারদের উপনিবেশ শাসন বলে। প্রথমে বাংলা এবং পরে ভারত উপমহাদেশে ইংরেজরা যে শাসন প্রতিষ্ঠা করে তার বৈশিষ্ট্য উপরের সংজ্ঞার সাথে মিলে যায়। এ কারণে বাংলা ও ভারতে ইংরেজ প্রতিষ্ঠিত শাসনকেই ঔপনিবেশিক শাসন বলা হয়।
উদ্দীপকের জনাব 'ক'-এর বর্ণিত গল্পের দুর্ভিক্ষটি ১৭৭০ (বাংলা ১১৭৬) সালের 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর'কে নির্দেশ করে।
এসময় বাংলায় ইংরেজদের প্রবর্তিত দ্বৈত শাসনব্যবস্থা কার্যকর ছিল। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলায় ব্রিটিশ শাসন শুরু হয়। ধূর্ত লর্ড ক্লাইভ দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। দ্বৈত শাসন ছিল একটি অদ্ভুত শাসনব্যবস্থা। এ শাসনব্যবস্থায় লর্ড ক্লাইভ বাংলার তৎকালীন নবাবের ওপর শাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পণ করেন এবং রাজস্ব আদায় ও প্রতিরক্ষার দায়িত্ব ন্যস্ত করেন কোম্পানির ওপর। এর ফলে নবাব পান ক্ষমতাহীন দায়িত্ব আর কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা। দ্বৈত শাসন ছিল এদেশের মানুষের জন্য এক চরম অভিশাপ। রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব পেয়ে ইংরেজরা প্রজাদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করে এবং তা আদায়ে প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করে। অতিরিক্ত করের চাপ এবং পর পর তিন বছর অনাবৃষ্টির কারণে খরায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বাংলায় নেমে আসে ভয়ংঙ্কর দুর্ভিক্ষ। এতে মারা যায় বাংলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ। ইতিহাসে এ দুর্ভিক্ষের নাম 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর'।
হ্যাঁ, উদ্দীপকে জনাব 'ক'-এর সর্বশেষ বক্তব্যের সাথে আমি একমত।
জনাব 'ক'-এর সর্বশেষ বক্তব্যটি হলো, "তার এলাকার মানুষের মধ্যে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও গণতান্ত্রিক অধিকারবোধেরও উন্মেষ ঘটে এবং সেটি সফল হয়।" ইংরেজরা তাদের শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করে। তাদের নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাড়গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, কলকাতায় প্রশাসনিক বিভিন্ন দপ্তর, শিক্ষা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি। এতে করে কলকাতা বাংলার রাজধানী হয়ে ওঠে। এ সময় ইংরেজ গভর্নর লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক ও লর্ড হার্ডিঞ্জ এদেশে শিক্ষা বিস্তারসহ আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চার সূচনা করেন। নানা উদ্যোগের, মাধ্যমে এদেশে একটি নতুন শিক্ষিত শ্রেণি ও নাগরিক সমাজ গড়ে ওঠে। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সবাই আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে শুরু করে। এতে ইংরেজদের উদ্দেশ্য সাধনের পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার সংস্পর্শে এসে স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন চেতনার স্ফুরণ ঘটতে থাকে। এর ফলে অনেক সমাজ সংস্কারক ও রাজনীতিবিদের জন্ম হয়। আস্তে আস্তে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম শুরু হয় যা পরবর্তীতে সমগ্র ভারতে ছড়িয়ে পড়ে। সর্বশেষ ১৯৪৭সালে ব্রিটিশরা ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে চলে যায়।
উপরিউক্ত যুক্তিসমূহ থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, উদ্দীপকের জনাব 'ক'-এর বক্তব্য যথার্থ।
Related Question
View Allউপনিবেশিকরণ হলো একটি প্রক্রিয়া, যেখানে একটি দেশ অন্য দেশকে অর্থনৈতিক শোষণ এবং লাভের উদ্দেশ্যে নিজের দখলে আনে। দখলকৃত দেশটি দখলকারী দেশের উপনিবেশে পরিণত হয়। বাংলাও প্রায় দুইশ বছর ইংরেজদের অধীনে উপনিবেশ ছিল।
বাংলায় মানব বসতি প্রাচীনকাল থেকেই শুরু হয়। এই অঞ্চল ধনসম্পদে ভরপুর থাকায় বাইরের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ এখানে এসে বসতি গড়ে তোলে। বাংলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিই ছিল বহিরাগতদের আকর্ষণের প্রধান কারণ।
শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় দীর্ঘ সময় ধরে কোনো শক্তিশালী শাসক না থাকায় অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এই সময়কে মাৎস্যন্যায় যুগ বলা হয়। এটি সংস্কৃত ভাষায় 'বড় মাছ ছোট মাছকে খেয়ে ফেলে' এমন অরাজকতার সময় নির্দেশ করে। এ সময়ে বাংলা বহু রাজ্য বিভক্ত হয়ে পড়েছিল।
বাংলার স্বাধীন সুলতানি শাসনের সূচনা হয় ১৩৩৮ সালে। সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ দিল্লির সুলতানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বাংলার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। পরে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ বাংলার প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন।
সুলতানি আমলে বাংলার প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন সুলতান - শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ। তিনি বাংলার বৃহদাংশ অধিকার করে 'শাহ-ই-বাঙ্গালিয়ান' উপাধি গ্রহণ করেন। তার শাসনকালে বাংলার ঐক্য, 'স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হয়
সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ বাংলার ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি বাংলার শিল্প-সাহিত্য এবং সংস্কৃতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর শাসনকালে বাংলার অর্থনীতি ও সংস্কৃতি সমৃদ্ধি লাভ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!