আংরাখা শব্দের অর্থ লম্বা ও ঢিলা পোশাকবিশেষ।
'আমরা চাই মুগ্ধ চোখ' বলতে ঝরনার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয় এমন চোখকে বোঝানো হয়েছে।
'ঝরনার গান' কবিতায় কবি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার নিদর্শন ঝরনার রূপবৈচিত্র্য তুলে ধরেছেন। ঝরনা শুধু সৌন্দর্য ছড়িয়েই তৃপ্ত থাকে না, সে তার সৌন্দর্য উপভোগকারীদের মুগ্ধ-দৃষ্টিও প্রত্যাশা করে। সে চায় সৌন্দর্য বিস্তার করে তার অবিরাম ছুটে চলা অবলোকন করে মানুষ মুগ্ধ হোক এবং তার সৌন্দর্যের প্রশংসা করুক। কারণ সৌন্দর্যপিপাসুরা প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করে এবং মুগ্ধ হয়।
উদ্দীপকের সাথে 'ঝরনার গান' কবিতায় ঝরনার আপন ছন্দে বয়ে চলার আনন্দের সাদৃশ্য রয়েছে।
পাহাড়ি শিখরে ঝরনার সৃষ্টি। পাহাড়ের চূড়া থেকে প্রতিনিয়ত ঝরনার পানি নির্দিষ্ট ছন্দে পাহাড়ের পাদদেশে পাথরের উপরে আছড়ে পড়ে। নির্দিষ্ট গতিতে এগিয়ে চলে ঝরনা।
উদ্দীপকের কবিতাংশে শিখর থেকে শিখরে, ভূধর থেকে ভূধরে ছুটে চলার ইচ্ছা প্রকাশিত হয়েছে। এ ছুটে চলার মাঝে কবির প্রাণ, গান, সুখ, সাধ লুকায়িত রয়েছে। উদ্দীপকের সঙ্গে 'ঝরনার গান' কবিতার ঝরনার স্বভাব-বৈশিষ্ট্য সাদৃশ্যপূর্ণ। এ কবিতায় কবি ঝরনার গতিময়তা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিকটি তুলে ধরেছেন। নির্জন পাহাড়ের মৌনতা ভেঙে বয়ে চলে ঝরনা। সে আপন ছন্দে বয়ে চলে, সবার মনে আনন্দ জাগায়। যেমন উদ্দীপকে আপন ছন্দে বয়ে চলার কথা বলা হয়েছে।
উদ্দীপকের বর্ণনা 'ঝরনার গান' কবিতার সমধর্মী হলেও পুরোপুরি এক নয়- মন্তব্যটি যথার্থ।
বাংলার শ্যামল প্রকৃতি সৌন্দর্যের আধার। ফুল-ফল-গাছপালা, লতা-পাতা, নদী, পাহাড়, সাগর-ঝরনা সবকিছু মিলে অপরূপ রূপের দেশ আমাদের এ বাংলাদেশ। এখানকার ঝরনার বর্ণবৈভব ও ধ্বনিমাধুর্য মোহময় ও মনোহর।
'ঝরনার গান' কবিতায় কবি ঝরনার সৌন্দর্য তুলে ধরেছেন। স্তব্ধ পাথরের বুকে পদচিহ্ন এঁকে দিয়ে পর্বত থেকে নেমে আসে ঝরনা। নির্জন দুপুর, পাখির ডাকও শোনা যায় না, পাহাড় যেন ভয় দেখায়- এত কিছুর পরেও আনন্দময় পদধ্বনিতে পাহাড় থেকে নেমে আসে ঝরনা। ঝরনা যে সৌন্দর্য সৃষ্টি করে তা মনোমুগ্ধকর। উদ্দীপকে আপন মনে ছুটে চলার বাসনার কথা বলা হয়েছে। আপন মনে ছুটে চলার মাঝেই প্রাণের সুখ, সাধ, গান অন্তর্নিহিত। তাই ভূধর থেকে ভূধরে, শিখর থেকে শিখরে ছুটে চলার কথা বলা হয়েছে।
'ঝরনার গান' কবিতায় কবি ঝরনার গতিময়তা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিকটি তুলে ধরেছেন। ঝরনা পথ চলতে কারও বাধা মানে না, কোনো ভয় পায় না। পাহাড়ের মৌনতা ভেঙে সে ছুটে চলে আপন ছন্দে মনের আনন্দে। এর পাশাপাশি তিনি বলেছেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার ঝরনা চায় সবার মুগ্ধ চোখ। উদ্দীপকে ঝরনার গতিময়তার বৈশিষ্ট্য থাকলেও 'ঝরনার গান' কবিতায় প্রতিফলিত অন্যান্য বিষয় অনুপস্থিত। এ কবিতায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের যে রূপবৈচিত্র্য লক্ষ করা যায় তা উদ্দীপকের কবিতাংশে নেই। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allঝরনা চপল পায়ে ছুটে চলে।
'শিথিল সব শিলার পর' বলতে কবি স্তব্ধ পাথরের বুকে আনন্দচিহ্ন রেখে ঝরনার বয়ে চলাকে বোঝাতে চেয়েছেন।
'ঝরনার গান' কবিতায় কবি ঝরনার গতিময়তা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তুলে ধরেছেন। ঝরনা সমস্ত নীরবতা ভেঙে আপন ছন্দে বয়ে চলে। পাখির ডাকহীন নির্জন দুপুর, ভয়ংকর পাহাড়- সবকিছু উপেক্ষা করে সে শিথিল শিলা বেয়ে নিচে নেমে আসে। চলার পথে ঝরনা পাথরের উপর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আনন্দচিহ্ন রেখে চলে। এ প্রসঙ্গেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
উদ্দীপকের সঙ্গে 'ঝরনার গান' কবিতার রূপসৌন্দর্যের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ। বাংলাদেশের প্রকৃতি অপূর্ব সুন্দর।
সবুজ-শ্যামল মাঠ, নদীতে নৌকা, তীরে কাশফুল, মাথার উপরে নীল আকাশ, বন-বনানী, নদী- সাগর, পাহাড়-পর্বত, পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঝরনা প্রভৃতি আমাদের মুগ্ধ করে।
উদ্দীপকে পলাশ সাহেবের গড়ে তোলা উদ্যানের সৌন্দর্য বর্ণনা করা হয়েছে। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যই মানুষের মনে সৌন্দর্যবোধ জন্ম দেয়। প্রকৃতির তুলিতে যে চিত্র ফুটে ওঠে তা-ই মানুষকে শিল্পসৃষ্টিতে অনুপ্রাণিত করে। তাই শিল্পীর নিজের খেয়ালে সাজানো প্রকৃতির সৌন্দর্য তার একার নয়, তা সব মানুষের আনন্দের উৎস। উদ্দীপকের এ সৌন্দর্য 'ঝরনার গান' কবিতার ঝরনার সৌন্দর্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। পাহাড়িকন্যা ঝরনা সমস্ত নীরবতা ভেঙে ছন্দময় শব্দে চঞ্চল ছুটে চলে পাখির ডাকহীন দুপুরে, স্তব্ধ পাথরের বুকে আনন্দচিহ্ন রেখে। চমৎকার তার ধ্বনিমাধুর্য। গিরি থেকে পতিত জলরাশি পাথরের বুকে আঘাত করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ঝরনার এ মনোহর সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করে। এভাবে উদ্দীপক ও 'ঝরনার গান' কবিতার রূপসৌন্দর্য পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
উদ্দীপকটি 'ঝরনার গান' কবিতার মূল বক্তব্যকে অনেকখানি ধারণ করে। বিশেষ করে সৌন্দর্যচেতনার দিকটি।
প্রকৃতির অপরূপ রূপ দেখে মানুষ মুগ্ধ হয়। সেই মুগ্ধতা থেকেই মানুষের মধ্যে শিল্পবোধ সৃষ্টি হয়। প্রকৃতির সৌন্দর্যই মানুষকে সৌন্দর্য সৃষ্টিতে আগ্রহী করে তোলে। নির্মল প্রকৃতিই তাকে এ কাজে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। আর সেই সৌন্দর্য চেতনা থেকেই ব্যক্তিমানুষ নতুন নতুন শিল্পকর্ম সৃষ্টিতে অনুপ্রাণিত হয়।
উদ্দীপকে প্রকৃতির বিচিত্র সৌন্দর্যের বর্ণনা ও তার জন্য সামাজিক বাধা-নিষেধ উপেক্ষা করে পলাশ সাহেবের চেষ্টা ও উদ্যোগটি তুলে ধরা হয়েছে। এই নিপুণতার শিল্পী স্রষ্টা নিজে। স্রষ্টার সেই কর্মকৌশলে তৈরি মানুষ তার অনুভব দিয়ে সৌন্দর্য সৃষ্টি করে। উদ্দীপকে বর্ণিত অনিন্দ্য সৌন্দর্যের সঙ্গে 'ঝরনার গান' কবিতার ঝরনার সৌন্দর্য সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপকে সামাজিক প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে ব্যক্তিমানুষের শিল্পসৃষ্টির যে চেতনা প্রকাশ পেয়েছে তা 'ঝরনার গান' কবিতার ভয়ংকর পাহাড়কে উপেক্ষা করে ঝরনার ছুটে চলার চেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এই দিক থেকে সৌন্দর্য সৃষ্টিতে তারা পরস্পর এক ও অভিন্ন।
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেমন আমাদের মানসিক শান্তি দেয়, 'ঝরনার গান' কবিতার ঝরনার সৌন্দর্যও তেমনই আমাদের বিমোহিত করে। ঝরনার প্রকৃতিতে সৌন্দর্য বিস্তার এবং উদ্দীপকে সৌন্দর্য বিস্তারের বর্ণনা অভিন্ন। এ কারণেই বলা যায় যে, 'ঝরনার গান' কবিতার মূল বক্তব্যকে উদ্দীপক অনেকখানি ধারণ করে আছে।
'চকোর চায় চন্দ্রমায়' বলতে চকোর পাখির স্নিগ্ধ জোছনালোক প্রত্যাশাকে বোঝানো হয়েছে।
'ঝরনার গান' কবিতায় কবি ঝরনার গতিময়তা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিকটি তুলে ধরেছেন। ঝরনা প্রকৃতির সমস্ত নীরবতা ভেঙে আপন ছন্দে ছুটে চলে। পাখির ডাকহীন নির্জন দুপুর, ভয়ংকর পাহাড় সবকিছু উপেক্ষা করে ঝরনা স্তব্ধ পাথরের বুকে আনন্দের পদচিহ্ন রেখে বয়ে চলে। কবি ঝরনার মনোহর দৃশ্যে মুগ্ধ, বিমোহিত। চকোর পাখি যেমন রাতের বেলা চাঁদের স্নিগ্ধ আলো চায়, কবিও তেমনই ঝরনার সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!