যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা নেই'-উক্তিটি করেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জন লক।
স্বাধীনতা বলতে বোঝায় নিজের ইচ্ছামতো কাজ করার ক্ষমতা।
কিন্তু প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতা বলতে এ ধরনের অবাধ স্বাধীনতাকে বোঝায় না। কারণ অবাধ স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারের নামান্তর। মূলতঅপরের অধিকার বা স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করে স্বীয় ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করার অধিকারই স্বাধীনতা। স্বাধীনতা এমন সব সুযোগ-সুবিধার সমাহার যা ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশে সহায়তা করে। স্বাচ্ছন্দ্যজনক জীবনের বাধাগুলোকে অপসারিত করে। তাই প্রকৃত স্বাধীনতা হলো নিয়ন্ত্রিত সীমিত স্বাধীনতা।
শিপন তার বন্ধুদের গ্রামে বেড়াতে গিয়ে সেখানে ধনী-গরিবের বিস্তর পার্থক্য লক্ষ করল।
সেখানে কিছু মানুষ উঁচু দালানে বাস করে আর কিছু মানুষের মাথা গোঁজার জায়গাটুকুই নেই। যে কারণে ঐ গ্রামের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়ে করুণ দশা সৃষ্টি হয়েছে। এর মূল কারণ হলো সামাজিক অসাম্য। সমাজের সৃষ্টি হয়েছে মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা করার জন্য। সমাজে মিলেমিশে বাস করে সামাজিক অর্থপূর্ণ করার তাগিদ থেকেই সমাজের সৃষ্টি। আর এ সমাজে মনুষের বিভিন্নমুখী বিকাশ সাধনের জন্য প্রয়োজন সামাজিক সাম্য। জাতি-ধর্ম, বর্ণ-লিঙ্গ, পেশা, নির্বিশেষে সমাজের সকল সদস্যের সমানভাবে সামাজিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার মাধ্যমে সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মানে হলো সমাজের চোখে সবাই সমান কেউ কারও থেকে বড় নয়। এ মানসিকতা সমাজে বিরাজ করলে সেখানে ধনী-গরিবের বেড়াজাল দূরীভূত হবে। এর ফলে সমাজের সমস্যা দূর হয়ে সাম্যের ভিত্তিতে উন্নত সমাজ গঠিত হবে।
উদ্দীপকের শিপন তার বন্ধুর সাথে গ্রামে বেড়াতে যায়। সেখানে গিয়ে শিপন গ্রামের মানুষের মাঝে চরম বৈষম্য লক্ষ করে তার বন্ধুকে বলে, এ অবস্থার কারণেই তোমাদের গ্রামের আজ এ করুণ দশা। মূলত মানুষের মাঝে সাম্যের মানসিকতা উন্নয়নের চাবিকাঠি। যার প্রতিকূল পরিবেশ ছিল শিপনের বন্ধুদের গ্রামের চিত্র। পাঠ্যপুস্তকের আলোচনায় সাম্য বলতে বোঝায় এমন একটি অবস্থা যেখানে মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না এবং সকলেই সমান মর্যাদা লাভ করবে। অর্থাৎ সাম্য বলতে সে সামাজিক পরিবেশকে বোঝায়, যেখানে কোনো ব্যক্তি বা শ্রেণির জন্য কোনো বিশেষ সুযোগ-সুবিধার বন্দোবস্ত নেই। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই সমান সুযোগ লাভ করে। সেখানে সকলেই সমান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে নিজ নিজ দক্ষতা বিকাশ করতে সক্ষম হবে। সমাজের প্রত্যেক মানুষের মাঝে সামাজিক সাম্যের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সাম্যও সামাজিক উন্নয়নের মূল হাতিয়ার। যোগ্যতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রে নারী-পুরুষ সকলকে অর্থনৈতিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করার অধিকারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সাম্য প্রকাশিত হয়। অর্থনৈতিক সাম্য বলতে অর্থ উপার্জন ও বণ্টন বিষয়ে বৈষম্য দূর করে সকলকে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সমান সুযোগ- সুবিধা প্রদান করা। সাম্যের এ রূপ যখন কোনো সমাজের মানুষের মাঝে প্রতিষ্ঠিত হয় তখন ঐ সমাজের উন্নয়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। সুতরাং একথা সত্য যে, রাষ্ট্র বা সমাজে সাম্যের মানসিকতা বা সাম্য প্রতিষ্ঠাই হলো উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।
Related Question
View Allআইন হলো- সার্বভৌম শাসকের আদেশ"- কথাটি বলেছেন জন অস্টিন।
সুশাসনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো আইনের শাসন।
আইনের শাসন বলতে মূলত বোঝানো হয় রাষ্ট্রীয় জীবনে নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মানবাধিকারের সংরক্ষণকে। সংখ্যালঘু ও রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এর শর্ত। স্বাধীন নিরপেক্ষ এবং দুর্নীতিমুক্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচার বিভাগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। এটি জনগণের অধিকার রক্ষার রক্ষাকবচ।
আইনের শাসন গণতন্ত্রের ভিত্তি। মমতাজ সাহেব গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় লেখনী ধারণ করেন।
তিনি আইনের শাসনকে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় মূল্যবোধের বিকাশের মূল হিসেবে দেখেছেন। যথাযথ আইনের শাসনের মাধ্যমে সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়। জনগণের জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তির নিশ্চয়তা লাভ করে। আইনের শাসনের মাধ্যমে 'সকল নাগরিক সমান' এ নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়। নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগে সমান সুযোগের ভিত্তিতে সবাই বিচার লাভ করবে। দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে সবাই নিরাপত্তা লাভ করবে। আইনের শাসনের এ বিষয়গুলো মূলত গণতন্ত্রের সাথে খুব ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রধানত সংখ্যাগুরুর মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত শাসনব্যবস্থা। এতে সংখ্যালঘুরাও সমান সুযোগ পাবে, মত প্রকাশের সমান অধিকার থাকবে। আইনের শাসন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে, গণতন্ত্র চর্চাকে পরিশীলিত করে এবং সুশাসন নিশ্চিত করে।
প্রচলিত সাধারণ অর্থানুসারে আইন হলো কতকগুলো বিবিবিধান যা মানুষ সামাজিক প্রাণী হিসেবে মানতে বাধ্য থাকে। অন্যদিকে, স্বাধীনতা বলতে যা খুশি তাই করার ক্ষমতাকে বোঝায়। আপাতদৃষ্টিতে আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী দুটি বিষয়। কিন্তু মমতাজ সাহেবের উত্থাপিত বিষয়টি আমাদেরকে বলতে চাচ্ছে যে, আইন স্বাধীনতার সহায়ক।
বস্তুত আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত। আইন স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক। আইন না থাকলে স্বাধীনতা থাকতে পারে না। আইন আছে বলেই স্বাধীনতার স্বাদ উপভোগ করা যায়। আইন স্বাধীনতাকে সম্প্রসারিত করে। উইলোবি এজন্যই বলেছেন যে, "আইন আছে বলেই স্বাধীনতা রক্ষা পায়।" অন্যদিকে, স্বাধীনতা না থাকলে আইন অর্থহীন হয়ে যায়। কেননা পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকলে আইনের প্রয়োগ সম্ভব হয় না। আইন আছে বলেই কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আইনের বলেই স্বাধীন বাংলার মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার ফিরে পেয়েছে। আইন না থাকলে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার অর্থহীন হয়ে যায়। আইনের মাধ্যমে প্রাপ্ত অধিকার দ্বারাই জনগণ সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে স্বাধীনতা লাভ করে। আইন না থাকলে দুর্বলের স্বাধীনতা রক্ষা করা কতটা সম্ভব হতো তা প্রশ্ন সাপেক্ষ ব্যাপার। এজন্যই বলা যায়, সাংবাদিক মমতাজ সাহেবের উত্থাপিত বিষয়টি যথার্থ।
আব্রাহাম লিংকন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট।
মূল্যবোধ বলতে তুলনামূলক অর্থমূল্য বা অন্তর্নিহিত গুণাবলিকে বোঝানো হয়। আর সমাজে প্রচলিত মূল্যবোধ বলতে বোঝানো হয় এমন রীতিনীতি, আদর্শ ও লক্ষ্য যা সামাজিকভাবে অনুমোদিত এবং সমর্থিত। সমাজের বৃহত্তর অংশ দ্বারা মূল্যবোধ সমর্থিত হতে হবে। এটি কোনো স্থির বিষয় নয়। সমাজ-স্থান-কাল-পাত্রভেদে মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!