করভার বহনের ভিত্তিতে কর দুই প্রকার; যথা- প্রত্যক্ষ কর ও পরোক্ষ কর।
আবার কর হারের বিভিন্নতার ভিত্তিতে কর তিন প্রকার। যথা: সমানুপাতিক কর, প্রগতিশীল কর ও অধোগতিশীল কর।
জাতীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে যে আয় সংগ্রহ করে তাকে সরকারি আয় বলে। সরকারি আয়ের উৎসকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়; যথা- কর রাজস্ব, কর বহির্ভূত ও অ-রাজস্ব। কর রাজস্বের অন্তর্ভুক্ত খাতগুলো হলো-- আয়কর, আমদানি শুল্ক, আবগারি শুল্ক, VAT, ভূমিকর, সম্পূরক কর, কর্পোরেট কর, যানবাহন কর ইত্যাদি। কর বহির্ভূত রাজস্বের উৎসগুলো হলো- জরিমানা ও বাজেয়াপ্তকরণ, লাইসেন্স ফি, বিভিন্ন ধরনের আদায়, সরকারি এখতিয়ার, ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ খাত, ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে আয়, বাণিজ্য আয় ইত্যাদি। এছাড়া অ-রাজস্বের উৎসগুলো হলো- নতুন মুদ্রা সৃষ্টি, ঋণ গ্রহণ, দান ও অনুদান ইত্যাদি।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশটির সরকারি আয়ের খাতসমূহ হলো-
⇒ কর রাজস্ব : সরকার করের মাধ্যমে যে আয় বা রাজস্ব সংগ্রহ করে তাকে কর রাজস্ব বলে। সরকারি আয়ের প্রধান উৎস হলো কর রাজস্ববাবদ সংগৃহীত অর্থ। প্রধানত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ এ দুই ধরনের করের সমন্বয়ে কর রাজস্ব গঠিত। সরকার করখাত থেকেই সিংহভাগ রাজস্ব সংগ্রহ করে। প্রত্যক্ষ করের মধ্যে রয়েছে আয়কর, মুনাফা কর, সম্পদ কর, ব্যয় কর, কর্পোরেশন কর, মূলধনী লাভ কর, মৃত্যু কর, দান কর, স্ট্যাম্প কর ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। আবার পরোক্ষ করের মধ্যে রয়েছে আবগারি শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর, আমদানি শুল্ক, রপ্তানি শুল্ক, সম্পূরক শিল্প, মাদক শিল্প, যানবাহন, ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
⇒ অ-রাজস্ব সরকারি আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য উৎস হলো অরাজস্ব থেকে প্রাপ্ত আয়। অরাজস্বের উৎসসমূহ হলো নতুন মুদ্রা সৃষ্টি, ঋণগ্রহণ এবং দান ও অনুদান।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সরকার জনগণের কাছ থেকে উচ্চহারে কর আদায় করে যা কর রাজস্বের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু দেশটি যখন অনুদান ও ঋণ গ্রহণ করে তখন তা অরাজস্বে অন্তর্ভুক্ত হয়।
হ্যাঁ, উদ্দীপকের দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের আয়ের খাতের মিল রয়েছে। তবে বাংলাদেশের সরকারের আয়ের খাত আরও একটু প্রসারিত। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-বাংলাদেশের সরকার যেসব উৎস থেকে আয় সংগ্রহ করে থাকে তা তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত। যথা:
⇨ কর রাজস্ব: বাংলাদেশ সরকার প্রধানত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের মাধ্যমে কর রাজস্ব আয় করে। কারণ এ দুই ধরনের করের সমন্বয়ে কর রাজস্ব গঠিত। সরকারের সিংহভাগ রাজস্ব সংগৃহীত হয় কর রাজস্ব থেকে। উদ্দীপকের শিপলু যে দেশে বসবাস করে সেদেশের সরকার জনগণের কাছ থেকে উচ্চহারে কর আদায় করে, যা সেদেশের আয়ের প্রধান খাত। আবার দেশটি সামান্য পরিমাণ দ্রব্যসামগ্রী অন্য দেশে রপ্তানি করে। ফলে সেখান থেকে রপ্তানি শুল্কও পেয়ে থাকে সরকার, যা কর রাজস্বের অন্তর্ভুক্ত।
⇨ কর বহির্ভূত রাজস্ব কর ছাড়া অন্যান্য যে উৎস থেকে সরকার আয় সংগ্রহ করে তাকে কর বহির্ভূত রাজস্ব বলে। বাংলাদেশ সরকার এ উৎস থেকেও অনেক আয় করে থাকে। প্রশাসনিক রাজস্ব, বাণিজ্যিক রাজস্ব, সুদ, লভ্যাংশ ও মুনাফা, সাধারণ প্রশাসন, অর্থনৈতিক সেবা, ভাড়া ও ইজারা, টোল, রেলওয়ে, ডাকসেবা, তার ও টেলিফোন, বন ইত্যাদি উৎস থেকে সরকার এ আয় করে থাকে। তবে উদ্দীপকে এমন আয়ের কোনো উল্লেখ নেই।
⇨ অরাজস্ব : বাংলাদেশ সরকারের আয়ের আরেকটি উল্লেখযোগ্য উৎস হলো অরাজস্ব থেকে প্রাপ্ত আয়। নতুন মুদ্রা সৃষ্টি, ঋণ গ্রহণ, দান ও অনুদান ইত্যাদি হলো অরাজস্বের উৎস। উদ্দীপকে দেখা যায়, শিপলুর গমন করা দেশটি উন্নত না হওয়ায় প্রতিবছর অন্য দেশ থেকে অনুদান ও ঋণ গ্রহণ করে। এ অনুদান ও ঋণ অরাজস্বের অন্তর্ভুক্ত।
অতএব বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশটির সাথে বাংলাদেশ সরকারের আয়ের খাতের মিল রয়েছে। তবে বাংলাদেশ সরকারের আয়ের খাত আরও প্রসারিত।
Related Question
View Allজাতীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে যে আয় সংগ্রহ করে, তাকে সরকারি আয় বলা হয়।
সরকার দেশ পরিচালনার জন্য এবং জাতীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে আয় সংগ্রহ করে। যেমন- আয়কর, মুনাফা কর, শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর, আবগারি শুল্ক, প্রশাসনিক রাজস্ব, জরিমানা ও বাজেয়াপ্ত, লাইসেন্স ফি, ঋণ, দান/অনুদান ইত্যাদি থেকে সরকার আয় করে থাকে। সরকারের এসব খাত থেকে আয় করাকে বলা হয় সরকারি আয়। সরকারের এই আয়ের মুখ্য উদ্দেশ্য হলো সরকারি ব্যয়। তাই উল্লেখিত উৎস থেকে সরকার আয় করে থাকে।
রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রশাসনিক ও প্রতিরক্ষা ব্যয়সহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় মেটানোর জন্য সরকার বিভিন্ন উপায়ে দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে যে অর্থ আদায় করে, তাকে সরকারি আয় বা রাজস্ব বলে।
সরকারি আয় সরকারি কোষাগারে জমা থাকে এবং দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের পক্ষে এর হিসাব রাখে। সরকারের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলো কর। সরকার বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে কর হিসেবে যে অর্থ আদায় করে, তাকেই কর আয় বলে। এই কর আয় আবার দুই ধরনের; যথা- প্রত্যক্ষ কর ও পরোক্ষ কর। যে ব্যক্তির উপর কর ধার্য করা হয় তার বোঝা যদি তাকে বহন করতে হয়, তবে সেই করকে প্রত্যক্ষ কর বলে। যেমন-আয়কর, সম্পদ কর, ভূমি কর, মৃত্যু কর ইত্যাদি। আবার কোনো ব্যক্তির উপর যে কর ধার্য করা হয়, তার ভার বা বোঝা সে যদি অন্য কারও উপর চাপাতে পারে, তবে তাকে পরোক্ষ কর বলা হয়। যেমন- বিক্রয় কর, পণ্যকর, প্রমোদ কর ইত্যাদি। এছাড়া করবহির্ভূত আয় রয়েছে, যা থেকে রাষ্ট্র/সরকার আয় করে থাকে। সরকার কর ব্যতীত অন্যান্য উৎস থেকে যে রাজস্ব বা অর্থ পায়, তাকে করবহির্ভূত আয় বলে। এ ধরনের আয় সরকারের বাধ্যতামূলক পাওনা নয়। বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রদানের বিনিময়ে সরকার জনগণের কাছ থেকে পেয়ে থাকে। যেমন- ফি, বাণিজ্যিক আয়, সরকারি সম্পত্তির আয়, জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ, সরকারি ঋণ, সুদ, দান ও অনুদান ইত্যাদি। বিভিন্ন উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশে রাষ্ট্রীয় আয় এসব উৎস থেকে হয়ে থাকে।
বাংলাদেশ সরকার প্রশাসন পরিচালনা, আর্থসামাজিক উন্নয়ন, জনকল্যাণ সাধন প্রভৃতির জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করে।
এ ব্যয় নির্বাহের জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করতে হয়। বাংলাদেশ সরকারের আয়ের উৎসকে দুভাগে ভাগ করা যায়। যথা- (ক) কর রাজস্ব, (খ) করবহির্ভূত রাজস্ব। সরকারের আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস হলো কর রাজস্ব। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো আয়কর। বাংলাদেশ সরকারের আয়কর আইন অনুযায়ী যাদের আয় একটি নির্দিষ্ট সীমার ঊর্ধ্বে, তাদের কাছ থেকে আয়কর আদায় করা হয়। বাংলাদেশে কর ব্যবস্থায় মূল্য সংযোজন কর (VAT) ১৯৯২ সালে প্রচলন করা হয়। দেশের মধ্যে পণ্যসামগ্রী বিক্রয়ের উপর এ কর ধার্য করা হয়। দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত দ্রব্যাদির উপর যে কর ধার্য করা হয়, তাকে আবগারি শুল্ক বলা হয়। বাংলাদেশে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত চা, চিনি, তামাক, সিগারেট, দিয়াশলাই প্রভৃতি দ্রব্যের উপর আবগারি শুল্ক ধার্য করা হয়। এছাড়া সম্পূরক শুল্ক, ভূমি রাজস্ব, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, রেজিস্ট্রেশন, যানবাহন শুদ্ধ, অন্যান্য কর ও শুল্ক কর রাজস্বের অন্তর্ভুক্ত। সরকার বিভিন্ন আর্থিক ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়ে তার উপর সুদ বাবদ প্রচুর আয় করে থাকে। সরকারি সম্পত্তি ভাড়া ও ইজারা দেওয়ার মাধ্যমে, দেশের বিভিন্ন রাস্তা, ব্রিজ ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে টোল ও লেভি সংগ্রহ করে, বনভূমি থেকে, ডাক বিভাগ থেকে, রেলওয়ে থেকে প্রচুর পরিমাণ অর্থ আয় করে, যা করবহির্ভূত রাজস্ব বলে পরিচিত।
উল্লেখিত উৎসসমূহ থেকে বাংলাদেশ সরকার প্রচুর অর্থ আয় করে থাকে।
হ্যাঁ, সমাজে ভালোভাবে চলতে হলে অবশ্যই ব্যয় অপরিহার্য।
রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার বিভিন্ন খাতে যে ব্যয় নির্বাহ করে, তাকে সরকারি ব্যয় বলে। দেশের ভেতরে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো নির্মাণ, সামাজিক কল্যাণসাধন, দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রভৃতি কাজের জন্য সরকারকে ব্যয় করতে হয়। কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে জনগণের কল্যাণের কথা চিন্তা করে বর্তমানে প্রায় প্রতিটি দেশের সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক খাত বিবেচনায় রেখে বাজেটে ব্যয় বরাদ্দ রাখে; পরে আবার তা ব্যয়ও করে থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!