ড্রাফটিং দুই প্রকার।
ড্রাফটিং এর প্রয়োজনীয়তা অনেক।
ড্রাফটিং করলে প্রয়োজনে পোশাকের ডিজাইন সহজেই পরিবর্তন করা যায়। একই সাইজের অনেকগুলো পোশাক একসাথে ছাঁটা যায়। ড্রাফটিং এর মাধ্যমে কাপড়ের অপচয় রোধ করা যায়। এর সাহায্যে পোশাক ছাঁটতে কম সময় লাগে। এছাড়া মূল ড্রাফটিং এর ওপর ভিত্তি করে নানা ধরনের বৈচিত্র্যময় নকশার পোশাক সহজে তৈরি করা যায়।
শিমুলের তৈরি পোশাক সুন্দর হওয়ার কারণে তিনি দ্রুত সুনাম অর্জন করেছেন।
পোশাক তৈরির পূর্বে দেহের নির্দিষ্ট অংশের নির্ভুল মাপ নিতে হয়। মাপ সঠিক না হলে পোশাক তৈরি সুন্দর হয় না। বস্ত্র ক্রয়ের পর তা পরিধানকারীর দেহের মাপ অনুযায়ী কেটে সেলাই করা হয়। মাপ অনুযায়ী কাপড় কেটে তৈরি করা হলে তা পরিধানকারীর জন্য উপযুক্ত হয় এবং দেখতে সুন্দর দেখায়। শিমুল পোশাক তৈরির পূর্বে প্রয়োজনীয় মাপ নেন। তিনি কাপড় কাটার সময় জামার লম্বা মাপ, বুকের ঘেরের মাপ, কোমরের সম্পূর্ণ ঘের, কাঁধ বা পুটের মাপ, ফুল হাতা হলে পুট হতে হাতের কবজি পর্যান্ত মাপ, হিপ, গলা, মুহুরী, হাঁটু, সেকম, মৌরি ইত্যাদির মাপ নেন। তাই তার তৈরি পোশাক পরিধানকারীকে আকর্ষণীয় করে তোলে। এ কারণেই শিমুল টেইলারিং এর কাজে সুনাম অর্জন করতে পারছেন।
শিমুল পোশাক তৈরির ক্ষেত্রে বেশ সচেতনতা অবলম্বন করেন। এক্ষেত্রে তিনি কিছু পর্যায় মেনে কাজ করেন। এগুলো হলো-
১. শিমুল পরিকল্পিত জামার মাপ গ্রহণ করেন।
২. মাপ নেওয়ার পর কাগজে জামাটির মূল নকশা আঁকেন।
৩. মূল নকশার সাথে একটি প্যাটার্নের তুলনা করে সামান্য রদবদলের পর চূড়ান্ত প্যাটার্ন তৈরি করেন।
৪. প্যাটার্ন চূড়ান্তভাবে স্থির হওয়ার পর সেই প্যাটার্ন অনুযায়ী কাগজ কেটে সেই কাগজের মাপ অনুযায়ী কাপড় ছাঁটেন।
৫. কাপড় ছাঁটার পর অস্থায়ীভাবে টাক দিয়ে সেলাই করেন।
৬. ছাঁটা কাপড়ের বিভিন্ন অংশ আলতোভাবে সংযোগ করেন।
৭. প্রাথমিকভাবে তৈরি এমন জামা গায়ে বসিয়ে ফিটিং পরীক্ষা করে নেন।
৮. ফিটিং পরীক্ষা করে প্রয়োজন মতো সামান্য রদবদল করে জামাটি চূড়ান্তভাবে সেলাই করেন।
এসকল পর্যায় মেনে শিমূল পোশাক তৈরি করেন। তাই তিনি পোশাকগুলো সুন্দরভাবে তৈরি করতে পারেন।
Related Question
View Allজামদানি কার্পাস তুলা দিয়ে তৈরি এক ধরনের পরিধেয় বস্ত্র।
উপজাতীয় জনগণের পোশাক মূলত তারা নিজ হাতে তৈরি করে ৫. বিধায় তাদের পোশাক তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে।উপজাতিদের পোশাকের বৈচিত্র্যই এক গোষ্ঠী থেকে অন্য গোষ্ঠীকে আলাদা করে তোলে। প্রত্যেক গোষ্ঠীই তাদের নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রেখে ঐতিহ্যবাহী পোশাক তৈরি করে।
পোশাক তৈরির পূর্বে পরিধানকারীর দেহের মাপ নেওয়া প্রয়োজন। মাপ না নিয়ে পোশাক তৈরি করলে তা অনেক সময় পরিধানকারীর জন্য উপযুক্ত হয় না। পরিধানকারীকে দেখতেও ভালো লাগে না।
আনিকা তার ছোট বোনের সোলোয়ার কামিজ তৈরির জন্য কাপড় কিনে। সালোয়ার কামিজ তৈরির জন্য তাকে দেহের নিম্নলিখিত অংশের মাপ নিতে হবে।
১. ঝুল- জামীর লম্বা মাপ।
২ছাতি বা বুক- বুকের ঘেরের মাপ।
৩. কোমর- কোমরের সম্পূর্ণ ঘের।
৪. কাঁধ বা পুট- মেরুদণ্ডের সবচেয়ে উঁচু হাড় থেকে কাঁধের ওপরের উঁচু হাড় পর্যন্ত।
৫ফুল হাতা-পুটের মাপের সাথে হাতের কব্জি পর্যন্ত মাপ।
৬. গলা- গলার ঘেরের মাপ।
৭. হিপ- হিপের উঁচু মাংসল অংশের মাপ।
৮. সেন্ত- কাঁধের ওপরের মেরুদণ্ডের হাড় থেকে কোমর পর্যন্ত মাপ।
৯. মুহুরী বা বাহু-বাহু বা হাতের কব্জির ঘেরকে মুহুরী বা বায়ু বলে।
১০. সেকম- দুই পায়ের সংযোগস্থলের কেন্দ্র থেকে পায়ের গোড়ালির নিচ পর্যন্ত মাপ।
১১. হাঁটু- হাঁটুর ঘেরের মাপ।
১২. উবু- উত্তর ঘেরের মাপ।
১৩. মৌরি- পায়জামার পায়ের পাতার ওপরের ঘেরের মাপ।
যেহেতু আনিকা দেলোয়ার কামিজ তৈরি করবে তাই তাকে দেহের উপরিউক্ত অংশের মাপগুলো নিতে হবে।
আনিকা মনে করে সেলাইয়ের ক্ষেত্রে সেলাই মেশিনের যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ খুবই জরুরি।
তার ধারণাটি যৌক্তিক বলে আমি মনে করি। সেলাই মেশিনের মাধ্যমেই পোশাক সেলাই করা হয়। কারো কাছে প্রশিক্ষণজনিত দক্ষতা থাকলেও মেশিনের অভাবে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। তাই এর যত্ন নেওয়া জরুরি।
সেলাই মেশিনের রক্ষণাবেক্ষণ দুইভাবে করা হয়। প্রিভেনটিভ ও ব্রেকডাউন মেইনটেনেন্স। প্রিভেনটিভ মেইনটেনেন্স হলো প্রতিরোধমূলক রক্ষণাবেক্ষণ। কাজ করার পূর্বে মেশিনকে সচল ও ভালো অবস্থায় রাখার জন্য এ ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ করা জরুরি। মেশিনের সকল যন্ত্রাংশ সচল রাখার জন্য এ মেইনটেনেন্স করতে হয়। কাজ করার পর কোনো কারণে মেশিনের কোনো যন্ত্রাংশ ভেঙ্গে গেলে কিংবা কোনো কারণে মেশিন নষ্ট হলে ব্রেকডাউন মেইনটেনেন্স করা হয়। এ লক্ষ্যে প্রতিদিন মেশিন পরিষ্কার করা, কাজ শেষে মেশিন মুছে রাখা, কভার দিয়ে ঢেকে রাখা, নিয়মিত তেল দেওয়া, আলো-বাতাসপূর্ণ জায়গায় মেশিন রাখা উচিত। ভালো সেলাই পেতে হলে সেলাই মেশিনের যত্ন নিতে হবে। কারণ যেকোনো যন্ত্রাংশ রক্ষণাবেক্ষণ ও যত্নের ওপরই ভালো থাকে। মেশিনের যত্ন নিলে এর স্থায়িত্ব বাড়ে ও গুণগত মানসম্পন্ন সেলাই পাওয়া যায়। উৎপাদনও বৃদ্ধি হয়। সেলাই মেশিনও এর ব্যতিক্রম নয়। তাই বলা যায়, আনিকা ধারণাটি অত্যন্ত যৌক্তিক।
কাপড়ের টানা বা লম্বা সুতা এবং পড়েন বা আড়াআড়ি সুতাই গ্রেন লাইন l
ড্রাফটিং এর একটি পদ্ধতি হচ্ছে প্যাটার্ন ড্রাফটিং।
পোশাক তৈরি করার পূর্বে দেহের বিভিন্ন অংশের মাপ নিয়ে বাদামি রঙের অথবা যেকোনো শক্ত কাগজে যে নকশা অঙ্কন করা হয় তাকে ২২ প্যাটার্ন ড্রাফটিং বলা হয়। মূল নকশার সাথে পছন্দমতো ডিজাইন প্রয়োজনানুসারে রদবদল করে চূড়ান্ত নমুনা প্রস্তুত করাকে প্যাটার্ন ড্রাফটিং বলে। প্যাটার্ন ড্রাফটিং করার সময় সেলাই ও বোতাম ঘরের জন্য যে বাড়তি কাপড়ের প্রয়োজন হয় তা কাগজের উপর বাড়তি রেখেই কাটতে হয়। সুতরাং বলা যায়, মূল নকশার পরিবর্তিত রূপই হলো প্যাটার্ন ড্রাফটিং।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!