পারিবারিক কর্তৃত্ব পিতা বা স্বামীর হাতে ন্যস্ত থাকলে তাকে পিতৃপ্রধান পরিবার বলে।
বিবাহের মাধ্যমে সে জ্ঞাতিসম্পর্ক গড়ে ওঠে তাকে বৈবাহিক জাতিসম্পর্ক বলে।
নারী পুরুষ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে তখন স্বামী বা স্ত্রীর সাথে তার শ্বশুর-শাশুড়ি, দেবর-ননদ, তাদের পক্ষের আত্ময়ী স্বজনদের সাথে যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে সে সম্পর্কই হচ্ছে বৈবাহিক জ্ঞাতিসম্পর্ক। বৈবাহিক জ্ঞাতি সম্পর্ক হচ্ছে রক্ত সম্পর্কীয় জ্ঞাতিসম্পর্কের পরে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য সম্পর্ক। আত্মীয়তার সম্পর্ক বৃদ্ধি ও ঘনিষ্ঠ করার জন্য উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক হচ্ছে বৈবাহিক জ্ঞাতিসম্পর্ক।
উদ্দীপকে শিলার চাকরির প্রশিক্ষণ গ্রহণ প্রক্রিয়াটি সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করছে।
সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একজন মানুষ পূর্ণাঙ্গ সামাজিক মানুষে পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়া ব্যক্তিকে তার সামাজিক জগতে অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে তাকে সমাজের নানা ধরনের কাজকর্মে অংশগ্রহণকারী সভ্য হিসেবে গড়ে তোলে। সমাজের আদর্শ, মূল্যবোধ গ্রহণে ব্যক্তিকে প্রবৃত্ত করে সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া। প্রক্রিয়ার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে সামাজিকীকরণের আনুষ্ঠানিক মাধ্যম যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং পেশাগত প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যক্তিকে সমাজের উপযোগী হয়ে ওঠার শিক্ষা দিয়ে থাকে। সমাজের প্রচলিত প্রথা, মূল্যবোধ, রীতিনীতি, আচরণ তথা সমগ্র সমাজের সাথে সঙ্গতি সাধনের উপায় ও ব্যবস্থা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন, প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে এবং এর মাধ্যমেই ব্যক্তি সমাজব্যবস্থায় সাথে সামঞ্জস্য সাধনে সক্ষম হয়।
উদ্দীপকে শিলা নতুন চাকরিতে যোগদান করায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। সেখানে সে দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক আচার, ব্যবহার ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মকানুন সম্পর্কে জানতে পারছে, যা সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শিলার প্রশিক্ষণ গ্রহণ সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ারই অংশ।
উদ্দীপকে সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিক বাহন পেশাগত সংস্থার কথা বলা হয়েছে। পেশাগত সংস্থা ছাড়াও সামাজিকীকরণের উল্লেখযোগ্য বাহনগুলো হচ্ছে পরিবার, সঙ্গীদল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, সংঘ, সমিতি জাতিগোষ্ঠী প্রভৃতি।
বর্তমানে ব্যক্তির সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে পেশাগত সংস্থা। শিক্ষাজীবন শেষে ব্যক্তি পেশাগত সংস্থার মাধ্যমেই বিভিন্ন কার্যকলাপের সাথে যুক্ত হয়ে তার কর্মদক্ষতা ও আদর্শবিষয়ক নানা অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে। যা বৃহত্তর সমাজের সাথে তার সামঞ্জস্য সাধনে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হয়। যদি প্রতিষ্ঠানের আদর্শ, নিয়ম-কানুন সঠিক থাকে, তবে ব্যক্তির মধ্যে তার প্রভাব পড়ে।
উদ্দীপকের শিলা নতুন চাকরিতে যোগদান করে নানা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। এর মাধ্যমে সে দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি সহকর্মী। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে তার আচার-ব্যবহার কেমন হবে সে সম্পর্কে প্রাতিষ্ঠানিক ধারণা লাভ করছে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে সামাজিকীকরণে পেশাগত সংস্থার ভূমিকা ফুটে উঠেছে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, সামাজিকীকরণের একটি অন্যতম মাধ্যম পেশাগত প্রতিষ্ঠান।
Related Question
View Allফরাসি সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইমকে ক্রিয়াবাদের জনক বলা হয়।
শিক্ষা শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শিক্ষা শব্দটি এসেছে সংস্কৃত 'শাস' ধাতু থেকে। এর অর্থ হলো শাসন করা, শৃঙ্খলিত করা, নিয়ন্ত্রিত করা, শিক্ষা দেওয়া বা নির্দেশনা দেওয়া। অর্থাৎ বাংলা ভাষায় আমরা যে শিক্ষা কথাটা ব্যবহার করি, তা বিশেষভাবে শিক্ষা কৌশলকেই বোঝায়।
সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠান তথা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অপরিসীম।
সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুবই প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করে থাকে। পরিবার থেকে গঠিত মৌলিক ব্যক্তিত্ব সহযোগে শিশুরা শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানে আসে। সেখানে নতুন পরিবেশে নানা নিয়ম-কানুনের মধ্যে নতুন সহপাঠী ও অন্যান্যদের সাথে খাপ-খাইয়ে চলতে হয়। শিশুর মূল্যবোধ সৃষ্টিতে পরিবারের পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রম, শিক্ষকদের ব্যক্তিত্ব, নৈতিকতা ইত্যাদি শিশুর মূল্যবোধ বিকাশে সহায়ক হয়।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা নানা প্রকারের হলে শিশুর ব্যক্তিত্বও নানাভাবে গড়ে ওঠে। যেমন- আমাদের দেশেও প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা ভিন্ন ভিন্ন। তাই ব্যক্তির সামাজিকীকরণের ধরনও বিভিন্ন রকম পরিলক্ষিত হচ্ছে।
অতএব আমরা বলতে পারি যে, সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
উদ্দীপকে অন্যতম সামাজিক সমস্যা 'নিরক্ষরতা' সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। সমাজে নিরক্ষরতার মতো সমস্যা অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞানের যে গবেষণা পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে থাকে তা হলো সামাজিক জরিপ পদ্ধতি।
সামাজিক গবেষণার জন্য যে সমস্ত পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে থাকে তার মধ্যে সামাজিক জরিপ অন্যতম। জরিপ কথাটির অর্থ হচ্ছে কোনো কিছু সরেজমিনে পরিমাপ বা নিরূপণ করা। কোনো সমাজের অবস্থা সম্পর্কে বিভিন্ন কৌশলে তথ্যাবলি সংগ্রহ, তথ্যাবলির ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ, অনুসন্ধান ও সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার প্রক্রিয়া হচ্ছে জরিপ পদ্ধতি। সমাজের বিভিন্ন বিষয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ, তথ্য বাছাই, তথ্য যাচাই ইত্যাদি ক্ষেত্রে জরিপ একটি কার্যকরী পদ্ধতি। বস্তুত জরিপ পদ্ধতির সাহায্যে কোনো একটি বিষয়ের সামগ্রিক চিত্র লাভ করা সম্ভব। সামাজিক জরিপ সামাজিক অনুসন্ধানের একটি পদ্ধতি যা বর্ণনা, বিবরণ, উদ্ঘাটন ও ব্যাখ্যামূলক বিভিন্ন সামাজিক তথ্য সরবরাহ করে। এছাড়া উন্নয়নমূলক সামাজিক কর্মসূচির পূর্বশর্ত হিসেবে কাজ করে।
অতএব আমরা বলতে পারি যে, নিরক্ষরতার মতো সামাজিক সমস্যার অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে সামাজিক জরিপ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
ICT-এর পূর্ণরূপ- Information and Communication Technology |
বিশ্বায়ন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বকে একীভূত করা হয়।
বিশ্বায়নের মূল লক্ষ্য হচ্ছে পৃথিবীর সকল দেশকে একটি ছাতার নিচে। সমবেত করা। মূলত তিনটি লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বিশ্বায়নের পথচলা। (১) তথ্য প্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ (২) আন্তর্জাতিক শ্রম বাজার এবং (৩) উৎপাদিত পণ্যের অবাধ প্রবাহ। সাধারণত সারাবিশ্বে এই তিনটি বিষয়ের অবাধ প্রচলন উপস্থিতি থাকলেই সেই প্রক্রিয়াকে বিশ্বায়ন বলে আখ্যায়িত করা যেতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!