কাজের ক্ষেত্রে পৃথিবীর বিখ্যাত মানুষজন সৃজনশীল পথ অনুসরণ করেন।
আত্মবিশ্বাসী ও কম আত্মবিশ্বাসী মানুষের মধ্যে নিচে দুটি পার্থক্য দেখানো হলো-
আত্মবিশ্বাসী মানুষ | কম আত্মবিশ্বাসী মানুষ |
অন্যের কথা শোনেই প্রভাবিত হয় না। আগে তা বুঝে, ভেবে তারপর সিদ্ধান্ত নেয় বা কাজ করে। | অন্যরা যা বলে তা-ই বিশ্বাস করে। সত্য-মিথ্যা যাচাই করে না, ভেবে-চিন্তেও দেখে না। |
সবসময় নিত্যনতুন ভালো কাজে অংশ নিতে প্রস্তুত থাকে এবং সুযোগ পেলেই কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে | নতুন কিছু করতে ভয় পায়, কোনো কাজে অংশ নিতেও ভয় পায় |
জয়নুল আবেদিনের আঁকা ছবি মেধাশ্রমকে নির্দেশ করে।
মেধাকে ব্যয় করে যে কাজ করা হয় তাকে মেধাশ্রম বলে। ছবি আঁকা এক ধরনের মেধাশ্রম। ছবির মাধ্যমেই শিল্পী রংতুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলেন বিভিন্ন সময়ের, বিভিন্ন মুহূর্তের জনজীবন এবং জনজীবনে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা।
উদ্দীপকে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন 'ছিয়াত্তরের 'মন্বন্তর' নিয়ে অনেকগুলো ছবি এঁকেছেন। বাংলা ১১৭৬ সালে এদেশে অনেক বড় দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। ঐ দুর্ভিক্ষে এ ভূখণ্ডের মোট জনসংখ্যার তিন ভাগের এক ভাগ (প্রায় এক কোটি) মানুষ মারা গিয়েছিল। জয়নুল আবেদিন সেসব দিনগুলোর ছবি এঁকেছেন। সেসব ছবির মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, বুঝতে পারি কতটা কষ্ট হয়েছিল সেসময় মানুষের, কতটা করুণ ও হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে গিয়েছি আমরা। দুর্ভিক্ষের সেসব ছবি আঁকতে গিয়ে জয়নুল আবেদিনকে অনেক মেধাশ্রম দিতে হয়েছে।
ছবি আঁকা এক ধরনের মেধাশ্রম। ছবির মাধ্যমেই শিল্পী রংতুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলেন বিভিন্ন সময়ের, বিভিন্ন মুহূর্তের জনজীবন এবং জনজীবনে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা।
এসব মেধাশ্রম আমাদের ইতিহাস জানতে সাহায্য করে। অতীতে ঘটে যাওয়া নানা তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনাকে আমাদের চোখে জীবন্ত করে তোলে।
আমরা সেসব ঘটনা বা দিনের কথা জানতে আগ্রহী হই। অতীতের সে অভিজ্ঞতা থেকে আমরা অনেক কিছুই শিখতে পারি যা আমাদের ভবিষ্যৎকে আরও বেশি নিরাপদ ও কল্যাণমুখী করে। তাছাড়া আমরা নিত্য যেসব সমস্যার মুখোমুখি হই তা সমাধান বা দূর করার জন্যও প্রয়োজন হয় মেধাশ্রম।
জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মেধাশ্রম প্রয়োজন। মেধাশ্রম ছাড়া আমাদের বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে তাই মেধাশ্রমের গুরুত্ব অপরিসীম ও অনস্বীকার্য।
Related Question
View Allমেধা ব্যয় করে যে কাজ করা হয় সেটিই মেধাশ্রম।
একজন মানুষকে অবশ্যই আত্মমর্যাদাসম্পন্ন হতে হবে।
কেননা যাদের আত্মসম্মান বোধ নেই তাদের দ্বারা যেকোনো অন্যায় ও খারাপ কাজ অতি সহজেই করানো যায়। একাজ করে তারা আনন্দ পায় এবং এটি করতে তাদের মোটেই সঙ্কোচবোধ হয় না। যারা এসব করে বেড়ায় তাদের আত্মমর্যাদায় ঘাটতি রয়েছে। যাদের আত্মমর্যাদা আছে তারা দেশ, জাতি ও সমাজ নিয়ে ভাবে যে কারণে তারা কোনো অন্যায় কাজ করতে পারে না। একজন আত্মমর্যাদাবান ব্যক্তিকে সবাই ভালোবাসে। তাই আমাদের সকলকেই আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি হওয়ার জন্য সচেষ্ট হতে হবে।
সামনে এগিয়ে যেতে মোঃ খলিলুর রহমানের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি কাজ করেছে সেটা হলো তার আত্ববিশ্বাস।
যেকোনো কঠিন কাজ একজন আত্মবিশ্বাসী মানুষই পারে সফলতার সাথে সম্পাদন করতে। আত্মবিশ্বাস মানে হলো নিজের প্রতি বিশ্বাস। কাজে আত্মবিশ্বাস থাকলে যেকোনো কাজই সফলতার সাথে সম্পন্ন করা যায়। কোনো কাজ করতে গেলে অনেক সময়ই বিভিন্ন বাধা-বিপত্তি আসে এবং প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। কিন্তু একজন আত্মবিশ্বাসী মানুষ সেই বাধা-বিপত্তি সাহসিকতার সাথে মোকাবিলা করে সফলতা আনতে পারে।
উদ্দীপকে মোঃ খলিলুর রহমান এরকমই একজন মানুষ। যে কবিরাজের ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে এখন শারীরিক প্রতিবন্ধী। যে. কারণে সমাজের মানুষের কাছে সে একজন বোঝা। অনেকেই তাকে রাস্তার ফুটপাতে ফেলে রেখে ভিক্ষা করতে পরামর্শ 'দেয় তার মা-বাবাকে। সমাজের লোকেরা তাকে অনেক অবহেলা করে। তার জীবন চলার পথে তাকে নানা বাধা-বিপত্তির শিকার হতে হয়। কিন্তু তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি, প্রখর আত্মবিশ্বাস এবং কঠোর পরিশ্রম তাকে আলোর পথ দেখায়। শিক্ষাজীবনের শুরুতে এসব বাধা-বিপত্তি থাকা সত্ত্বেও সে তার আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে। সকল অক্ষমতাকে জয় করে শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে মো: খলিল এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র। আত্মবিশ্বাসী ও কঠোর পরিশ্রম একজন মানুষকে উন্নতির স্বর্ণ শিখরে পৌঁছায়। কাজেই বলা যায়, আত্মবিশ্বাস খলিলুর
রহমানকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।
আমাদের সমাজে নানা ধরনের মানুষের বাস।
পরিবারের বিভিন্ন কাজে অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিবেশীদের সাহায্যের প্রয়োজন হয়। প্রতিবেশীরা পরিবারের বিভিন্ন কাজ সম্পর্কে তাদের সচিন্তিত মতামত পোষণ করে থাকে। যদিও অনেক সময় তাদের মতামতের কোনো যৌক্তিকতা থাকে না। যেকোনো ছোট বিষয়কে তারা অনেক বড় করে ফেলে। খুব সহজ কাজকে অনেক সময় তারা তাদের কথার মাধ্যমে জটিল করে ফেলে। এতে বিভিন্ন পরিবার বা মানুষ বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়। সবসময় প্রতিবেশীদের মতামতকে প্রাধান্য দিতে হয় না। নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করতে - হয়। এতে সফলতা লাভ করা যায়।
উদ্দীপকে মোঃ খলিলুর রহমান একজন শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তি। সে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারে না। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাকে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামিয়ে দেওয়ার জন্য পরামর্শ দিত তার মা-বাবাকে। কিন্তু মোঃ খলিলুর রহমান তাদের কথায় কান না দিয়ে নিজের বুদ্ধি, বিবেক, আত্মবিশ্বাস এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে। সমাজের সকল বাধা-বিপত্তিকে প্রতিহত করে নিজেকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করছে। তাই বলা যায় মোঃ খলিলুর রহমানের মা-বাবার + ব মুত্তিযুক্ত হয়েছে।
শারীরিক পরিশ্রমকেই বলা হয় কায়িক শ্রম।
আমাদের আধুনিক সমাজব্যবস্থায় যা কিছু চোখে পড়ে সবই মানুষের কঠোর কায়িক শ্রমের ফসল। লক্ষ কোটি মানুষের প্রতিদিনকার পরিশ্রমের বিনিময়ে আমরা লাভ করেছি আজকের এই মানবসভ্যতা। কায়িক শ্রমের ফলে আজ আমরা বিলাসী জীবনযাপন করতে পারছি
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
