শিল্প উপাদান
পোড়ামাটির শিল্পতালপাতার শিল্পনকশিকাঁথাকষ্টিপাথর
চর্যাগীতি, কীর্তনগানমঙ্গলকাব্যপুঁথিসাহিত্যগদ্যসাহিত্য

Updated: 7 months ago
উত্তরঃ

চর্যাপদের কাল নির্ণয় করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

উত্তরঃ

আত্তীকরণ এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং গোষ্ঠী অন্যের সংস্কৃতি আয়ত্ত করে। কোনো মানুষ যখন নতুন সংস্কৃতি বা সাংস্কৃতিক পরিবেশে বসবাস করতে আসে তখন সেখানকার মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, আচরণ, চিন্তাচেতনা, মূল্যবোধ এককথায় সমগ্র জীবনের সাথে সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ ঘটে।

উত্তরঃ

ধরন অনুযায়ী উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' শিল্পটি হচ্ছে দৃশ্যশিল্প।
প্রাচীনকালে বাংলা এলাকায় ছাঁচ অনুযায়ী মাটির তৈরি ইট দিয়ে মন্দির বানানো হতো। তবে এক্ষেত্রে শিল্পমূল্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মাটির ফলক বা পাত তৈরি করে তাতে ছবি উৎকীর্ণ করে পুড়িয়ে স্থায়ী রূপ দেওয়া। এগুলোকে টেরাকোটা বা পোড়ামাটির শিল্প বলা হয়। এছাড়া কালো রঙের কষ্টিপাথর আর নানা রকম মাটি দিয়ে হিন্দু ও বৌদ্ধ দেবদেবীর মূর্তি বানানোর ঐতিহ্যও বেশ পুরনো। তবে পাল যুগে তালপাতার পুঁথিতে দেশীয় রং দিয়ে যেসব ছবি আঁকা হয়েছে তার প্রশংসা আধুনিক বিশ্বের শিল্পরসিকদের কাছ থেকেও পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে বাংলার নকশি কাঁথার ঐতিহ্য অনেক পুরনো। গ্রামীণ মহিলারা ঘরে ঘরে কাঁথা সেলাই করে তাতে আশ্চর্য নিপুণতায় গল্পকাহিনী ও ছবি ফুটিয়ে তুলতেন। এখনও সমাজের দরিদ্র নারীরা এ শিল্পকর্মটি টিকিয়ে রেখেছেন। উদ্দীপকে 'ক' শিল্পের উপাদান হিসেবে পোড়ামাটির শিল্প, তালপাতার শিল্প, নকশি কাঁথা ও কষ্টিপাথরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। যেহেতু এগুলো দৃশ্যশিল্পের অন্তর্ভুক্ত, সেহেতু ধরন অনুযায়ী 'ক' শিল্পটিও দৃশ্যশিল্প।

উত্তরঃ

বাঙালির সংস্কৃতির বিকাশে 'খ' শিল্পের অর্থাৎ সাহিত্য শিল্পের গুরুত্ব অপরিসীম।

উদ্দীপকে 'খ' শিল্পের উপাদান হিসেবে চর্যাগীতি, কীর্তনগান, মঙ্গলকাব্য, পুঁথিসাহিত্য ও গদ্যসাহিত্যের কথা বলা হয়েছে। যেহেতু এগুলো সাহিত্য শিল্পের অন্তর্ভুক্ত, সেহেতু 'খ' শিল্পও সাহিত্য শিল্প। আর বাঙালির সংস্কৃতির বিকাশে সাহিত্য শিল্পের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। মানুষ যেভাবে জীবনযাপন করে, যেসব জিনিস ব্যবহার করে, যেসব আচার-অনুষ্ঠান পালন করে, যা কিছু সৃষ্টি করে, সব নিয়েই তার সংস্কৃতি। সাহিত্যও সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত। বাঙালির প্রথম সাহিত্যকর্ম হচ্ছে চর্যাপদ। প্রায় দেড় হাজার বছর আগে থেকে বৌদ্ধ সাধকরা এ চর্যাগীতিগুলো লিখেছেন। এগুলো আদি বাংলা সাহিত্যের নমুনা। অন্যদিকে সুলতানি আমলে শ্রীচৈতন্যের বৈষ্ণব ভাবধারার প্রভাবে বাংলায় কীর্তন গান রচনা শুরু হয় যা বৈষ্ণব পদাবলী নামে পরিচিত। অনেক মুসলমান কবিও এ পদাবলী রচনা করেন যা সেই সময়ের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নমুনা ফুটিয়ে তোলে। এক সময় বাংলায় দেশীয় দেবদেবীকে নিয়েও নানা কাব্যকাহিনি রচিত হয়েছে। এগুলো মঙ্গলকাব্য নামে পরিচিত। যাতে সেকালের বাংলার সমাজচিত্র পাওয়া যায়। এছাড়া মুসলমান সমাজে এক সময় পুঁথি সাহিত্যের ব্যাপক কদর ছিল। পারস্য থেকে পাওয়া নানা কল্পকাহিনি এবং রোমান্টিক আখ্যান নিয়ে এগুলো রচিত হতো। পরবর্তীকালে উনিশ শতকে আমাদের দেশে বাংলা গদ্যের সূচনা হয়। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ভিত রচনা করেন এবং পরবর্তীতে বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন সাহিত্যিকের লেখনির মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য বিকশিত হয়।

পরিশেষে বলা যায়, সাহিত্য শিল্প বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ধীরে ধীরে তা বিকশিত হয়েছে। তাই বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশে সাহিত্য শিল্পের গুরুত্ব অনেক।

65

সংস্কৃতি বলতে আমরা সাধারণত সমাজের মানুষের জীবন-যাপনের ধারাকে বুঝে থাকি। অর্থাৎ সংস্কৃতি হলো আমাদের জীবন-প্রণালি। মানুষ তার অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে এবং তার মৌলিক প্রয়োজনগুলো পূরণের লক্ষ্যে যা কিছু সৃষ্টি করে তা-ই হলো তার সংস্কৃতি। মানুষের এসব সৃষ্টি বা কাজ মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে: বস্তুগত ও অবস্তুগত। সংস্কৃতিকেও তাই দুইভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে । বস্তুগত সংস্কৃতি ও অবস্তুগত সংস্কৃতি। ঘরবাড়ি, তৈজসপত্র, আসবাবপত্র, উৎপাদন হাতিয়ার এসব হচ্ছে বস্তুগত সংস্কৃতি। অবস্তুগত সংস্কৃতি হচ্ছে ব্যক্তির দক্ষতা, জ্ঞান, চিন্তা-ভাবনা, আচার-ব্যবহার, বিশ্বাস, ধ্যান-ধারণা, সংগীত, সাহিত্য ও শিল্পকলা ইত্যাদি। সংস্কৃতি পরিবর্তনশীল । আদিকাল হতে সমাজে বসবাসকারী মানুষ তার সৃষ্টিকে বিভিন্ন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আধুনিক সাংস্কৃতিক জীবনে উন্নীত করেছে। সংস্কৃতির এই পরিবর্তনে বিভিন্ন উপাদান যেমন প্রভাব বিস্তার করেছে তেমনি সংস্কৃতির উন্নয়নেও এসব উপাদান কমবেশি অবদান রেখেছে। হাতিয়ার আবিষ্কারের মধ্য দিয়েই জীবন ও জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রে প্রথম পরিবর্তন আসে। জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে মানুষের ব্যবহার্য ও ভোগের সামগ্রী এবং চিন্তা চেতনায় যখন পরিবর্তন লক্ষ করা যায় তখন তাকে বলা হয় মানুষের সাংস্কৃতিক উন্নয়ন। আমরা সপ্তম শ্রেণিতে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ধারণা পেয়েছি। এ অধ্যায়ে আমরা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিবর্তন, উন্নয়ন এবং বাঙালির সংস্কৃতি ও শিল্পকলা সম্পর্কে জানব ।

এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা - 

• সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন বলতে কী বোঝায় তা ব্যাখ্যা করতে পারব ; 

• সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের সাথে উন্নয়নের ধারণা কীভাবে যুক্ত তা ব্যাখ্যা করতে সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ও উন্নয়নের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করতে পারব ;  

• সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ও উন্নয়নের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে পারব ; 

• বাংলাদেশে কীভাবে সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ও উন্নয়ন ঘটেছে তা ব্যাখ্যা করতে পারব ; 

• বাঙালির সংস্কৃতি ও শিল্পকলা সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব ; 

• উন্নত সংস্কৃতিকে অনুশীলন করব এবং এর সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করব ; 

• নিজ সংস্কৃতির প্রতি সচেতন এবং শ্রদ্ধাশীল হব ।

Related Question

View All
উত্তরঃ

সাংস্কৃতিক পরিবর্তন পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে ঘটে। এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে হস্তান্তরের সময় সংস্কৃতিতে কিছু পরিবর্তন আসে। ভিন্ন সংস্কৃতির সংস্পর্শেও সংস্কৃতির রূপ বদলায়। এটি মানুষের জীবনধারার পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে।

184
উত্তরঃ

উন্নয়ন বলতে ক্রমান্বয়ে কোনো কিছু উন্নত বা পরিপূর্ণ রূপলাভকরাকে বোঝায়। এটি কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং সামাজিক উন্নয়নকেও নির্দেশ করে। মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নই প্রকৃত উন্নয়ন। উন্নয়ন সমাজের পরিবর্তনের একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।

140
উত্তরঃ

সংস্কৃতির পরিবর্তন ও উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক। উন্নয়ন যেমন সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করে, তেমনি সাংস্কৃতির পরিবর্তনও উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। উদাহরণস্বরূপ, প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষিতে উৎপাদন বাড়িয়ে উন্নয়ন ঘটায়।

144
উত্তরঃ

বাংলাদেশের কৃষিতে লাঙলের পরিবর্তে ট্রাক্টর ব্যবহার সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের উদাহরণ। এটি বস্তুগত সংস্কৃতির পরিবর্তন হিসেবে পরিচিত। এর ফলে কৃষি উৎপাদন বেড়েছে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে।

174
উত্তরঃ

সামাজিক উন্নয়ন মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের মাধ্যমে সম্ভব। এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সচেতনতার প্রসারের মাধ্যমে ঘটে। উন্নয়ন একটি ধারাবাহিক পরিবর্তনের ফল।

204
উত্তরঃ

সংস্কৃতির পরিবর্তনকে নেতিবাচকভাবে দেখা উচিত নয় কারণ এটি সমাজের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করে। নদীর প্রবাহের মতো সংস্কৃতি পরিবেশের সাথে খাপ খেয়ে পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তন মানুষকে নতুন ধারণা ও সুযোগ দেয়।

113
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews