ইমানের সর্বোত্তম শাখা হলো- "আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই” একথা বলা।
হাদিসে মুনকাতি বলতে হাদিসের বর্ণনাকারীর সূত্রের মধ্যে বর্ণনাকারীর নাম বাদ পড়া হাদিসসমূহকে বোঝায়। 'মুনকাতি' শব্দের অর্থ বিচ্ছিন্ন হওয়া, বাদ পড়া। পরিভাষায় যে হাদিসের বর্ণনাকারীদের সূত্রের মধ্যে এক বা একাধিক বর্ণনাকারীর নাম বাদ পড়েছে তাকে হাদিসে মুনকাতি বলে। আর হাদিসের সূত্রে কোনো এক স্তরে বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ না থাকাকে ইনকিতা বলে।
আজিজুল হকের কর্মকাণ্ডে একজন অত্যাচারী ব্যক্তির চরিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। জুলুমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দু'শ্রেণির লোক সমাজে দেখতে পাওয়া যায়। এক শ্রেণির লোক হচ্ছে জালিম আর অন্য শ্রেণির লোক হচ্ছে মজলুম নির্যাতিত-নিপীড়িত। অন্যের প্রতি জোর-জুলুম ও অত্যাচার করা মারাত্মক অপরাধ। একজন মুসলিম অন্য মুসলিম ভাইয়ের প্রতি জুলুম করবে না। হাদিসে 'জুলুম কর না' বলা হয়নি। বলা হয়েছে যে জুলুম করবে না। অর্থাৎ ইমান ও ইসলামের বদৌলতে তার মন-মানসিকতা এরূপ হয়ে যায় যে, সে কোনোভাবে তার মুসলিম ভাইয়ের প্রতি জুলুম করতে প্রস্তুত থাকে না।
অন্য কথা জোর-জুলুম করা একজন মুসলিমের স্বভাব বৈশিষ্ট্যের মধ্যে পড়ে না। আজিজুল হক কারখানার মালিক। সে শিশু জাহিদকে জোরপূর্বক কাজে বাধ্য করে। তাকে নির্যাতন করে। তার এ আচরণ মুমিনের আচরণের বা গুণাবলির অন্তরায়। সে তার অত্যাচারী মনোভাব আচরণ ত্যাগ না করা পর্যন্ত নিজেকে মুমিন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে না।
আলতাফ সাহেবের কর্মের পরিণতি হলো পার্থিব কল্যাণ ও পরকালে জান্নাত। একজন মুসলিম তার মুসলিম ভাইকে বিরোধী শত্রুর হাতে সমর্পণ করবে না। বরং শত্রুর হাত থেকে তাকে রক্ষা করবে। যথাসম্ভব তাকে সাহায্য-সহযোগিতা করবে। ঝগড়া-বিবাদ, মারামারি, কাটা- কাটি, হানা-হানি প্রভৃতিকে সে উসকে দিবে না। এর প্রতিদানে ঐ বান্দা আল্লাহর সাহায্য লাভ করেন। রাসুল (স) বলেছেন- আল্লাহ তাঁর বান্দার সাহায্যে ততক্ষণ নিয়োজিত থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে নিয়োজিত থাকে। অর্থাৎ মজলুমকে সহায়তাকারী আল্লাহর সাহায্য লাভ করবে, যার পরিণতি হলো জান্নাত লাভ।
আলতাফ সাহেব শিশু জাহিদকে নির্যাতিত হতে দেখে তাকে উদ্ধার করে এবং পড়াশোনার সুযোগের পাশাপাশি ভালো বেতনের চাকরি দিয়ে সাহায্য করেন। তিনি শিশু জাহিদকে সাহায্য করেছেন। এর ফলশ্রুতিতে তিনি আল্লাহর অনুগ্রহ ও সাহায্য লাভ করবেন।
Related Question
View All'সিহাহ সিত্তাহ' হলো- বিশুদ্ধ ছয়টি হাদিস গ্রন্থ।
আলোচ্য হাদিসের অর্থ হলো- 'লজ্জাশীলতা ইমানের একটি বিশেষ অঙ্গ'। উল্লেখিত হাদিসটি সহিহ বুখারি ও মুসলিম শরিফে সংকলিত হয়েছে। এ হাদিসে রাসুল (স) লজ্জাশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। একজন মুমিন তার আচার-আচরণ, কথাবার্তা, কাজকর্মে অবশ্যই লজ্জাশীল হবেন। কারণ লজ্জাশীলতা ইমানের অপরিহার্য একটি দিক। তাই মান-সম্মান রক্ষা করার জন্য ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রত্যেক মুমিনের লজ্জাশীল হওয়া প্রয়োজন। আলোচ্য হাদিসে ইমানের সাথে লজ্জার সম্পর্কের দিকটিই ফুটে উঠেছে।
হাবিবের বক্তব্যে ওহিয়ে মাতলু তথা পবিত্র কুরআনের পরিচয় ফুটে উঠেছে। কুরআন মাজিদ আল্লাহর বাণী। এটি সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব যা সর্বশ্রেষ্ঠ নবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল। উদ্দীপকের হাবিব ওহির বিভিন্ন প্রকার নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রথমোক্ত ওহির মাধ্যমে পবিত্র কুরআনকে বুঝিয়েছে। উদ্দীপকের তিন বন্ধু ইসলামি শরিয়ার উৎস সম্বন্ধে আলোচনা করছিল। হাবিব এ সময় বলে, কিছু ওহির ভাব ও ভাষা সরাসরি আল্লাহর, যা পাঠ করা ইবাদত এবং নামাজেও এর তিলাওয়াত আবশ্যক। এর মাধ্যমে হাবিব পবিত্র কুরআনকে বুঝিয়েছে। ওহি দুই প্রকার। যথা- ওহিয়ে মাতলু ও ওহিয়ে গায়রে মাতলু। ওহিয়ে মাতলু বা পঠিত ওহি হলো কুরআন মাজিদ। এটি লাওহে মাহফুজ থেকে জিবরাইল (আ)-এর মাধ্যমে নবুওয়তের দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে মহানবি (স)-এর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে।
কুরআন সন্দেহাতীতভাবে অদ্যাবধি অবিকল ও অবিকৃত অবস্থায় সুরক্ষিত হয়ে আসছে। এর শব্দ, অর্থ, মর্ম উপস্থাপনা, বিন্যাস সবই আল্লাহ তায়ালার নিজস্ব। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ছাড়া নামাজ আদায় হয় না। নামাজে কুরআন থেকে তিলাওয়াত করা ফরজ। সুতরাং উদ্দীপকের হাবিব প্রথমোক্ত ওহির মাধ্যমে কুরআন মাজিদের দিকেই ইঙ্গিত করেছে।
হাসানের উল্লেখিত বিষয়টি ওহিয়ে গায়রে মাতলু তথা হাদিস; যার সাথে হাদিসে কুদসির কতিপয় সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য রয়েছে। ওহি দুই প্রকার- যার মধ্যে একটি 'ওহি গায়রে মাতলু' অর্থাৎ অপঠিত ওহি বা হাদিস। মহানবি (স)-এর কথা, কাজ এবং মৌন সম্মতি তথা রাসুল (স)-এর বাস্তব জীবনের প্রতিটি কাজ ও সমর্থনই হাদিস। হাসানের বক্তব্যে হাদিসের কথাই প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকের হাসান ইসলামি শরিয়ার দ্বিতীয় উৎস হাদিসের প্রসঙ্গে কথা বলছিল। সে বলে, হাদিস নামাজে তিলাওয়াত করতে হয় না এবং অপবিত্র অবস্থায়ও এটি স্পর্শ করা যায়। হাসানের উল্লেখিত ওহি গায়রে মাতলু বা হাদিসের বিভিন্ন প্রকারের মধ্যে হাদিসে কুদসি অন্যতম। হাদিসে কুদসি অন্যান্য হাদিসের মতই, তবে এ প্রকার হাদিসের ভাব স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে এবং ভাষা রাসুল (স)-এর নিজের। অপরদিকে সাধারণ হাদিসের ভাব ও ভাষা উভয়টিই রাসুল (স)-এর নিজস্ব। তাছাড়া হাদিসে কুদসিও অপবিত্র অবস্থায় স্পর্শ করা যায়। 'রাসুল (স) বলেছেন', একথা অন্যান্য হাদিসের প্রারম্ভে থাকে। কিন্তু হাদিসে কুদসি শুরু হয় 'আল্লাহ বলেছেন' এ কথা দিয়ে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, হাসানের উল্লিখিত বিষয়টি হচ্ছে রাসুলের (স) বাণী বা কাজ তথা হাদিস। আর হাদিসে কুদসি এরই একটি ধরন।
সম্পূর্ণ কুরআন সর্বপ্রথম সংরক্ষিত হয় লাওহে মাহফুজে।
কুরআনকে বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করে কুরআন পাঠের অভিন্ন রীতি চালু করায় হযরত উসমান (রা) কে জামিউল কুরআন বলা হয়। হযরত উসমান (রা) এর সময় ভিন্ন ভিন্ন রীতিতে কুরআন পাঠের ফলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য কুরআনের প্রথম পাণ্ডুলিপিটি থেকে সাতটি কপি তৈরি করা হয়। এবং সেগুলো বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয় যাতে সবাই একই রীতিতে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!