(১৯)
শীতের সকাল
(প্রবন্ধ রচনা লিখুন)
শীতের সকাল
(প্রবন্ধ রচনা লিখুন)শীতের সকাল
সূচনা: ষড়ঋতুর প্রত্যেক ঋতু তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য নিয়ে আবির্ভূত হয়। শীতের সকালের আবির্ভাব কুয়াশাচ্ছন্ন অনন্যসাধারণ রূপ নিয়ে। বাংলাদেশের ঋতুচক্রে পৌষ ও মাঘ এ দুই মাস শীতকাল। প্রকৃতির সর্বত্রই এসময় পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। শীতের সকালে জীবনের চাঞ্চল্য ম্লান হয়ে আসে। সকলেই রৌদ্রের প্রত্যাশায় থাকে। কিন্তু পূর্বদিকে তখনও আলোর সুষমা পুরোপুরি ফুটে ওঠে না। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর ধীরে ধীরে এসে দাঁড়ায় আলো ঝলমল একটি সুন্দর সকাল।
সূর্যোদয়ের পূর্বের শীতের সকাল: লেপের তলা থেকে উঠি উঠি করেও উঠতে ইচ্ছা হয় না। গরম বিছানার আরামদায়ক উত্তাপ ছেড়ে উঠতে গেলে সীমাহীন আলস্য সমস্ত চেতনাকে ঘিরে ধরে। কর্মের আহ্বান সত্ত্বেও মানুষ আরামের শয্যায় পড়ে থাকে।
শীতের সকালের রূপ: কুয়াশাচ্ছন্ন প্রকৃতি শিশিরসিক্ত রাস্তা-ঘাট, হিমেল বাতাসের মিষ্টিমধুর আমেজ ইত্যাদি সব মিলিয়ে শীতের সকালের এক ভিন্ন রূপ পরিলক্ষিত হয় যা অন্য কোনো ঋতুর সকালের মতো নয়। পত্র-পল্লবহীন গাছপালাকে অলংকার শূন্য বিধবা বলে মনে হয়। পূর্বদিকে ধীরে ধীরে আলো ফুটতে থাকে। উত্তরদিক থেকে হাড় কাঁপানো ঠান্ডা বাতাস বয়ে যায়। টুপ টুপ করে শিশির ঝরে। বনের পথ শিশির সিক্ত হয়ে ওঠে। টিনের চালে এবং ঘাসে ঘাসে শিশিরের বিন্দু জমে ভোরের আলোয় ঝলমল করতে থাকে। গ্রামে কোথাও খেজুর রস জ্বাল দেওয়া হয়। বাতাসে তার লোভনীয় মিষ্টি গন্ধ ভেসে আসে। গ্রামে কৃষকরা বলদ হাঁকিয়ে মাঠের দিকে যাত্রা করে। দূরে কোনো মাদ্রাসায় ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েরা সুর উঁচিয়ে কোরআন তেলাওয়াত করে।
শীতের সকালের বৈরাগ্য মূর্তি: ততক্ষণে বাইরের পৃথিবীর ঘুম ভেঙেছে। দিকে দিকে কর্মের মুখরতায় শীতের সকাল কর্মব্যস্ত হয়ে উঠেছে। পূর্ব দিগন্তে সূর্যের রথ আকাশ পরিক্রমায় বের হয়ে পড়েছে। একটি নীলকণ্ঠ পাখি রিক্তপত্র বাবলার ডালে বসে রোদ পোহাচ্ছে। শীতের সকাল যেন এক প্রৌঢ়া কুলবধূ। তার মুখখানি দিগন্তবিস্তৃত কুয়াশার অবগুষ্ঠনে ঢাকা।
ত্যাগের মূর্তি: শীতের সকালের হাতে যেন বৈরাগিনীর একতারা। সে তার একতারার নিঃসঙ্গ তারে আঘাত হানে নির্মমভাবে। তার সুরে বনের শুষ্ক বিবর্ণ পাতাগুলো একে একে ঝরে পড়ে।
রূপ-বদল: ধীরে ধীরে বেলা বাড়তে থাকে। শীতের সূর্য পূর্ব দিগন্তের কুয়াশার জাল ছিন্ন-ভিন্ন করে এক গভীর আলস্যে ওপরে উঠতে থাকে। সোনালি রোদে চারদিক ভেসে যায়। সেই রোদের স্পর্শ শীতের সকালে যেন এক বিন্দু শিশিরের মতো টলমল করে কাঁপতে থাকে।
শহরের শীতের সকাল: শহরে শীতের সকালগুলো ভিন্নরূপে আবির্ভূত হয়। ভোরে কাকের ডাকে শহরের শীতের সকালের ঘুম ভাঙে। সেখানেও শিশির পড়ে, কিন্তু তাতে সবুজ ঘাসের করুণ গভীর ঘ্রাণ মিশে থাকে না। সেখানেও উত্তরের শীতল হাওয়া বয়ে আসে, কিন্তু তাতে খেজুরের রস কিংবা পাকা ধানের ম-ম গন্ধ হৃদয়কে আন্দোলিত করে না। শহরের শীতের সকাল কেবল কাকের ডাক, কলের পানির শব্দ, কেরোসিন- কয়লার গন্ধ ও বাস-ট্রাকের ঝনঝনানি নিয়ে আসে।
উপসংহার: শহরের ইট-কাঠ-পাথরের নিদারুণ চাপে শীতের সকাল তার নিজস্ব মূর্তিতে প্রকাশিত হতে পারে না। এখানে কুয়াশার সেই স্নিগ্ধ জৌলুস নেই। তবে শহরের রাজপথে শীতের রূপ ম্লান হলেও গরম চা ও পরোটার গন্ধে তাকে সংগোপনে আত্মপ্রকাশ করতে দেখা যায়।
প্রবন্ধ হলো প্রকৃষ্টরূপে বন্ধনযুক্ত রচনা। অর্থাৎ অন্যান্য রচনা, যেমন- কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক ইত্যাদির সঙ্গে প্রবন্ধ লেখার রীতি ও কৌশলের পার্থক্য রয়েছে। কবির একান্ত অনুভূতিই কবিতায় প্রকাশ পায়। গল্প হলো মানবজীবনের নির্বাচিত ঘটনার আখ্যান বা কাহিনি। উপন্যাসের পরিসর বড়। সেখানে লেখক গল্পকারের তুলনায় বেশি স্বাধীন। উপন্যাসে সমগ্র জীবন ফুটে ওঠে। নাটকে কেবলই থাকে সংলাপ। বিবরণ বা বর্ণনার সেখানে তেমন স্থান নেই। কিন্তু প্রবন্ধকে হতে হয় যুক্তি ও তথ্যনির্ভর। কাদের জন্য প্রবন্ধ লেখা হচ্ছে সেটা মনে রাখতে হয়। কোন বিষয়ে প্রবন্ধ লেখা হচ্ছে তাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রবন্ধ-রচয়িতার মেধা, জ্ঞান, প্রকাশক্ষমতা প্রবন্ধের গুণগত মান বাড়িয়ে দেয়। প্রবন্ধের ভাষা স্থির করা হয় প্রবন্ধের বিষয় অনুসারে। বিজ্ঞানের কোনো বিষয়ে প্রবন্ধ লিখতে গেলে তাতে বিজ্ঞানের পরিভাষা ব্যবহার করতে হবে। সকল বয়সের পাঠকের জন্য একই ভাষায় প্রবন্ধ লেখা যায় না। শিশুরা যে-ভাষা বুঝবে, তাদের জন্য প্রবন্ধ সেভাবে লিখতে হবে। বিষয় অনুসারে প্রবন্ধের শ্রেণিবিভাগ করা হয়। বিজ্ঞানের বিষয়কে আশ্রয় করে রচিত প্রবন্ধকে আমরা বলি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ। সমাজের সমস্যা, সংকট, অবস্থা যেসব প্রবন্ধের মূল বিষয়, সেগুলোকে বলা হয় সামাজিক প্রবন্ধ। সাহিত্যকর্মের গুণাগুণ বিশ্লেষণ করে যেসব প্রবন্ধ রচিত হয়, সেগুলোকে বলে সমালোচনামূলক প্রবন্ধ। লেখকের অনুভূতিই যখন প্রবন্ধের আকারে তুলে ধরা হয়, তখন তাকে বলে অনুভূতিনির্ভর প্রবন্ধ। এ ছাড়াও প্রবন্ধের আরও শ্রেণি নির্দেশ করা যায়।
প্রবন্ধ-রচনার কৌশল
প্রবন্ধের প্রধানত তিনটি অংশ থাকে- (ক) ভূমিকা (খ) মূল অংশ (গ) উপসংহার।
ক) ভূমিকা: যে-বিষয়ে প্রবন্ধ লেখা হয় সে-বিষয়ে শুরুতেই সংক্ষেপে প্রথম অনুচ্ছেদে একটি ধারণা দেওয়া হয়। এটিই হলো ভূমিকা। এ-অংশ হতে হবে বিষয় অনুযায়ী, আকর্ষণীয় ও সংক্ষিপ্ত।
খ) মূল অংশ: প্রবন্ধের মধ্যভাগ হলো মূল অংশ। এখানে প্রবন্ধের মূল বক্তব্য পরিবেশিত হয়। বিষয় অনুসারে এ অংশ বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বিভক্ত হতে পারে। প্রতিটি অনুচ্ছেদ যেন মূল প্রবন্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। এ-অংশে কোনো উদ্ধৃতি ব্যবহার করা হলে তা যাতে কোনোভাবেই বিকৃত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে অর্থাৎ মূল রচনায়, যেভাবে আছে সেভাবেই তা ব্যবহার করতে হবে।
গ) উপসংহার: অল্প কথায় সমাপ্তিসূচক ভাব প্রকাশ করাই উপসংহার। ব্যক্তিগত মত, সমস্যা সমাধানের প্রত্যাশা এ-অংশে প্রকাশ করা যেতে পারে।
প্রবন্ধ-রচনায় দক্ষতা অর্জনের উপায়
প্রবন্ধ-রচনায় দক্ষতা অর্জন একদিনে হয় না। কিন্তু তা সাধ্যের অতীত কোনো বিষয় নয়। এজন্য করণীয় হলো-
১. প্রবন্ধের বিষয়বস্তু সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা লাভ করা।
২.দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রবন্ধ পড়া। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত প্রবন্ধ, সংবাদ, প্রতিবেদন, ভাষণ ইত্যাদি নিয়মিত পাঠ করলে নানা প্রসঙ্গে বিষয়গত ধারণা লাভ করা যায়।
৩. প্রবন্ধের বক্তব্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তুলে ধরতে হবে।
৪. প্রবন্ধ-রচনার ভাষা হবে সহজ ও সরল।
৫. প্রবন্ধে কোনো অপ্রয়োজনীয় বিষয় থাকবে না এবং একই কথার পুনরাবৃত্তি ঘটানো যাবে না।
৬. প্রবন্ধে উদ্ধৃতি, উক্তি বা প্রবাদ-প্রবচন ব্যবহার করা যাবে, কিন্তু এসবের ব্যবহার যেন অতিরিক্ত পর্যায়ে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
৭.প্রবন্ধ যাতে অতিরিক্ত দীর্ঘ না হয় তা লক্ষ করতে হবে।
Related Question
View Allসচরাচর দিনের বেলা খোলা আকাশের রং নীল দেখা যায়।
রাতের বেলা আকাশের কালো রঙের উপর রূপালি রং ভালো ফোটে; তাই রুপালি চাঁদ আর ঝকঝকে অসংখ্য তারা দেখা যায়।
দিন ও রাতে আকাশে রঙে কিছু পার্থক্য দেখা যায়। দিনের বেলা সাধারণত আকাশ নীল দেখায়। বর্ষাকালে আকাশ ধূসর মেঘে ছেয়ে থাকে। আবার শরৎকালে সাদা মেঘ ভেসে বেড়ায়। ভোরে ও সন্ধ্যায় সোনালি রঙের বন্যা। অন্যদিকে রাতের আকাশ কালো দেখা যায়। কালো আকাশে ওঠে রুপালি চাঁদ আর অসংখ্য রূপালি তারা।
আমার দেখা আকাশের সঙ্গে অনুচ্ছেদের আকাশের মিল বেশি, অনেক।
ঘুম থেকে উঠেই আমি দেখি সোনালি রোদ ছড়িয়ে আছে পুব আকাশে। আকাশ নীল। মাঝে মাঝে সাদা মেঘের ভেলা। বিকেলেই হঠাৎ দেখি আকাশজুড়ে পাংশু আর কালো মেঘ ছড়ানো। আবার সন্ধ্যার পর দেখি কালো আকাশজুড়ে রুপালি চাঁদ আর অসংখ্য জ্বলজ্বলে রুপোর মতো তারার মেলা।
হ্যাঁ, খালি চোখে দেখা আকাশ আর অনুচ্ছেদে বর্ণিত আকাশ একই। অনুচ্ছেদের দিনের বেলার এবং রাতের বেলার আকাশের রূপ বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। দিনের বেলার সূর্যের কিরণ ও আকাশের নীল রং খালি চোখে দেখা যায়। আবার রাতের কালো আকাশের রূপালি চাঁদ ও ঝকঝকে গ্রহ, তারা সবই খালি চোখে দেখা যায়।
মাদার তেরেসার গঠিত সংঘটির নাম 'মিশনারিজ অব চ্যারিটি'।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!