'প্রার্থী' শব্দের অর্থ প্রার্থনাকারী বা আবেদনকারী।
সুকান্ত ভট্টাচার্য ছিলেন নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। অল্প বয়সেই তিনি শোষিত-নিপীড়িত মানুষের মুক্তির আন্দোলনে নিজেকে নিয়োজিত করেন।
সুকান্তের কবিতায় ফুটে উঠেছে বঞ্চনাকাতর মানুষের জীবনযন্ত্রণার বাস্তব চিত্র। আবার সেই সাথে উচ্চারিত হয়েছে প্রতিবাদ আর বিদ্রোহের সুর। তাঁর কবিতায় বলিষ্ঠভাবে উচ্চারিত হয়েছে মানবমুক্তির গান। আর এ কারণেই তিনি বিপ্লবী কবি হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
উদ্দীপকের শিশুটির অবস্থা 'প্রার্থী' কবিতায় রাস্তার পাশের উলঙ্গ শিশুর মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
বাংলাদেশের ছয়টি ঋতুর মধ্যে শীত অন্যতম। শীত ঋতুর প্রভাব একেক শ্রেণির মানুষের কাছে একেক রকম। দরিদ্র মানুষের কাছে শীত একটা অভিশাপের মতো। কারণ গরম জামাকাপড়ের অভাবে মানুষ শীতে অনেক কষ্ট সহ্য করে।
উদ্দীপকে ফুটপাতের পাশে বসবাসকারী ছিন্নমূল পরিবারের শিশুর দুর্ভোগের চিত্র বর্ণিত হয়েছে। শীতের দিনে ৮-১০ বছরের একটি শিশু জামাকাপড়ের অভাবে কাতর হয়ে আছে। শীত নিবারণের জন্য সে মায়ের রান্নার চুলার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। 'প্রার্থী' কবিতাতেও এমনই এক উলঙ্গ ছেলে দেখতে পাওয়া যায়। শীত নিবারণের কোনো উপায় তার কাছে নেই। এক টুকরো কাপড় নেই তার কাছে যা দিয়ে সে শীত নিবারণ করতে পারবে। সূর্যের তাপই তার একমাত্র ভরসা। উদ্দীপকের শিশুটি ও 'প্রার্থী' কবিতার শিশু উভয়েই একই অবস্থার শিকার।
"প্রার্থী' কবিতায় সূর্যের বাস্তবতা প্রকাশ পেয়েছে রকির ভেতরে।"- মন্তব্যটি যথাযথ।
মানবতা মানুষের সবচেয়ে বড় ধর্ম। একের বিপদে অন্য মুখ ফিরিয়ে থাকতে পারে না। তার পাশে এসে দাঁড়ায়। তাদের মনের ভেতরে এক ধরনের সমবেদনাবোধ অনুভূত হয়। এ কারণেই বলা হয় মানুষ মানুষেরই জন্য।
উদ্দীপকের রকি একজন মানবিক বোধসম্পন্ন মানুষ। শীতে কাতর মানুষদের জন্য রকির মনে সহানুভূতির জন্ম হয়েছে। বিপন্ন মানুষের প্রতি মায়া বা ভালোবাসার কারণে সে রাস্তার পাশের দরিদ্র মানুষগুলোর জন্য শীতের পোশাক ও ব্যবহার্য অন্য পোশাক কিনে এনেছে। 'প্রার্থী' কবিতাটিতে আমরা দেখতে পাই সূর্যের তাপে শীত থেকে মুক্তি পায় শত শত মানুষ। সূর্য শুধু মানুষকে শীত থেকে মুক্তিই দেয় না, সেই সাথে মানুষকে অনুপ্রাণিতও করে মানবিক বোধে। সেই অনুপ্রেরণাতেই মানুষ আরও বেশি মানবিক হয়ে ওঠে।
'প্রার্থী' কবিতায় সূর্য তার তাপ দিয়ে, তেজ দিয়ে মানুষকে উপকৃত করেছে। শীতার্ত মানুষের সবচেয়ে বড় অবলম্বন হয়েছে। তেমনি উদ্দীপকের রকিও সূর্যের মতো ছিন্নমূল মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।
Related Question
View All'প্রার্থী' কবিতাটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।
জ্বলন্ত অগ্নিপিন্ডের তাপ অফুরন্ত, তাই কবি সূর্যকে জ্বলন্ত অগ্নিপিন্ড বলেছেন।
গরিব অসহায় মানুষের জন্য সূর্যই প্রধান অবলম্বন। কারণ তারা শীত নিবারণের উপযুক্ত কাপড় পায় না। সারারাত শীতে কষ্ট করে অপেক্ষা করতে থাকে কখন সূর্য উঠবে- তাদের শরীরকে উষ্ণ করবে। জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ডের অফুরন্ত তাপের পাশে দাঁড়ালে যেমন শীতার্ত মানুষ আরাম পায়, সূর্যের নিচে দাঁড়ালেও তারা তেমনি শীত থেকে রক্ষা পায়। কবি তাই সূর্যকে জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ড বলেছেন।
উদ্দীপকের নাদিম সাহেবের আচরণ 'প্রার্থী' কবিতার কবির অসহায় মানুষের প্রতি যে দরদ প্রকাশ পেয়েছে, সেই ভাবের সাথে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। শীতের সময় বস্ত্রের অভাবে তারা শীত নিবারণের জন্য সূর্যকে প্রধান অবলম্বন মনে করে।
উদ্দীপকের নাদিম সাহেব গরিব-দুঃখী মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল নন। তার গাড়ির জানালার পাশে এক ভিক্ষুক ভিক্ষার থালা বাড়িয়ে দিলে তিনি জানালার কালো গ্লাস তুলে দেন এবং বিরক্তি প্রকাশ করেন। নাদিম সাহেবের এ আচরণ কবির আচরণের বিপরীত। 'প্রার্থী' কবিতায় কবির অসহায় মানুষের প্রতি মমত্ববোধ প্রকাশ পেয়েছে। তাদেরকে তিনি সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসার কথা বলেছেন। তাদের জন্য সূর্যের কাছে প্রার্থনা করেছেন কিন্তু উদ্দীপকের নাদিম সাহেবের মধ্যে তা অনুপস্থিত। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের নাদিম সাহেবের আচরণ 'প্রার্থী' কবিতার কবির অসহায় মানুষের প্রতি যে দরদ প্রকাশ পেয়েছে সেই ভাবের সাথে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
ড্রাইভার মহসীনের অভিব্যক্তিতে 'প্রার্থী' কবিতার মূল চেতনা প্রকাশ পেলেও কবি সুকান্তের ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটেনি। – মন্তব্যটি যথার্থ।
সমাজে ধনী-গরিবের বৈষম্য প্রবল। যার জন্য গরিবেরা নানা রকম বঞ্চনার শিকার হয়। ধনী মানুষদের তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে এগিয়ে আসতে হবে, তাহলে গরিবের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে।
উদ্দীপকের ড্রাইভার মহসীন নাদিম সাহেবের আচরণে কষ্ট পেয়েছেন। প্রতিক্রিয়াস্বরূপ বলেছেন, 'গরিব মানুষ, কী করবে বলেন?' তার এ অভিব্যক্তিতে আলোচ্য কবিতার দরিদ্রের প্রতি সহানুভূতির দিকটি প্রকাশিত হলেও কবি সুকান্তের ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটেনি। কারণ কবি সমাজের নিচুতলার মানুষের প্রতি গভীর মমতা থেকে সূর্যের কাছে উত্তাপ প্রার্থনা করেছেন। তাদের নিয়ে বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে চেয়েছেন।
'প্রার্থী' কবিতায় কবি সমাজের অসহায় মানুষের অবস্থা, তাদের ন্যায্য অধিকার প্রদান করা এবং বিত্তশালীদের শোষণ থেকে তাদের মুক্তি চেয়েছেন। অসহায় মানুষের কষ্টে কবির দরদি মন কেঁদে উঠেছে, তাই তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে চান। সূর্যকে তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন সূর্য যেন উত্তাপ দেয় রাস্তার পাশের সেই উলঙ্গ ছেলেটাকে। কিন্তু উদ্দীপকের মহসীনের অভিব্যক্তিতে শুধু দরিদ্রের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ পেয়েছে মাত্র, কবির ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেনি। তাই মন্তব্যটিকে যথার্থ বলা যায়।
হিমশীতল অর্থ তুষারের মতো ঠান্ডা।
সকালের সূর্যের উত্তাপে আমাদের গরম কাপড়ের অভাব দূর হতে পারে।
সূর্য যে তাপ বিকিরণ করে তার সাহায্যেই ভূপৃষ্ঠে উদ্ভিদ, জীবজন্তু ও মানুষ জীবনধারণ করে। প্রচন্ড শীতে সূর্যের সেই উত্তাপের জন্য সারারাত অপেক্ষা করে বস্ত্রহীন, আশ্রয়হীন, শীতার্ত মানুষ। কবি মনে করেন সকালে সূর্য উঠলে তার উত্তাপে যেন শীতবস্ত্রহীন মানুষের গরম কাপড়ের অভাব দূর হয়ে যায়। এখানে শীতার্ত মানুষের প্রতি কবির গভীর মমত্ববোধ প্রকাশ পেয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!