'শীল' হচ্ছে নৈতিক জীবন গঠনের দিক নির্দেশনা। গৃহে কিংবা বিহারে যেকোনো আচার-অনুষ্ঠানের আগে শীল গ্রহণ করা হয়। শীল পালন বৌদ্ধদের অপরিহার্য নিত্যকর্ম। কারণ, শীল সব কুশলকর্মের উৎস।
Related Question
View Allগৃহীরা পঞ্চশীল ও অষ্টশীল পালন করেন।
পুষ্পিতা খীসা অষ্টশীল বা উপোসথ শীল পালন করেন।
অষ্টশীল ও পঞ্চশীলের উচ্চতর স্তর। প্রতিনিয়ত অষ্টশীল পালন করা যায়। তবে গৃহী বৌদ্ধরা সাধারণত পূর্ণিমা, অমাবস্যা এবং অষ্টমী তিথিতে অষ্টশীল পালন করে থাকেন। আটটি শীল পালন করতে হয়। এ শীল পালনকারীকে ধর্মীয় বিষয় অধ্যয়ন করে, কুশল ভাবনায় নিমগ্ন থাকতে হয়। লোভ-দ্বেষ-মোহ ও তৃষ্ণামুক্ত হয়ে ব্রহ্মচর্য পালন করতে হয়। অষ্টশীল গ্রহণের পূর্বে মানসিক প্রস্তুতি নিতে হয়। ভোরে ঘুম থেকে উঠে প্রাতঃকৃত্য সম্পন্ন করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরতে হয়। পূজা ও দান সামগ্রী নিয়ে বিহারে যেতে হয়। বুদ্ধবেদিতে শ্রদ্ধাচিত্তে পূজা ও দান সামগ্রী সুন্দরভাবে সাজিয়ে বসতে হয়। বিহারে ভিক্ষুকে বর্ণনা করে ভিক্ষুর নিকট ত্রিশরণসহ অষ্টশীল প্রার্থনা করতে হয়। নিজ বাড়িতেও অষ্টশীল গ্রহণ করা যায়। সেক্ষেত্রে বুদ্ধাসনের সামনে বসে অষ্টশীল প্রার্থনাসহ অষ্টশীল গ্রহণ করতে হয়। অষ্টশীল পালনের সুফল অনেক। নিয়মিত অষ্টশীল পালনে চিত্ত সংযত হয়।
অষ্টশীল পালনের দ্বারা পুষ্পিতা খীসার সুখী পারিবারিক জীবন গঠন করতে সক্ষম হবে। বুদ্ধ দুঃখ মুক্তির উপায়স্বরূপ আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন। অষ্টশীল পালনের মধ্যমে দুঃখ নিরোধের উপায় আর্য অষ্টাঙ্গিক অনুসরণ করা যায়। অষ্টশীল গ্রহণকারী অন্তত এক বেলার জন্য হলেও সাংসারিক কর্মকান্ড থেকে মুক্ত হয়ে অনাগরিক জীবনের স্বাদ গ্রহণ করতে পারেন। এভাবে ক্রমান্বয়ে নির্বাণের পথে নিজেকে পরিচালিত করতে পারেন। নিয়মিত অষ্টশীল পালনের দ্বারা পুষ্পিতা খীসার চিত্ত সংযত হয়। এভাবে আত্মসংযমের মাধ্যমে সে অকুশল কর্ম থেকে বিরত থাকতে পারবে। ধর্মীয় ও নৈতিক জীবনযাপন করতে পারবে। এছাড়াও তার মন থেকে হিংসা-বিদ্বেষ ভাব দূর হয়। আচার-আচরণ সংযত হবে। সৎ কাজে তার উৎসাহ বৃদ্ধি পাবে। অর্থাৎ অষ্টশীল পালনের দ্বারা পুষ্পিতা খীসার পারিবারিক জীবনে নৈতিক আচরণের প্রতিফলন ঘটবে।
অদিন্নাদানা শব্দের অর্থ অদত্তবস্তু।
বিহারে ভিক্ষুকে বন্দনা করে ভিক্ষুর নিকট ত্রিশরণসহ অষ্টশীল প্রার্থনা করতে হয়। ভিক্ষু অষ্টশীল প্রার্থনা অনুমোদন করে ত্রিশরণসহ অষ্টশীল প্রদান করেন। ভিক্ষুর নির্দেশনায় অষ্টশীল গ্রহণ করতে হয়। নিজ বাড়িতেও অষ্টশীল গ্রহণ করা যায়। সেক্ষেত্রে বুদ্ধাসনের সামনে বসে নিজে অষ্টশীল প্রার্থনাসহ অষ্টশীল গ্রহণ করতে হয়।
উদ্দীপকের সাজুর আচরণে বারাণসীর বোধিসত্ত্বের কাহিনির মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
বোধিসত্ত্ব 'শুচি পরিবার'-এর কাজে নিযুক্ত হন। তিনি ধনী লোকটির বাড়িতে কঠিন সততার সাথে কাজ করতে থাকেন। তিনি প্রতিদিনের মতো সকালে কাজে যান। সেদিন উপোসথ দিবস ছিল, তা তিনি জানতেন না। গৃহকর্তা দাস-দাসীসহ সকলকে নিয়ে শীল গ্রহণ করেন। সন্ধ্যায় বোধিসত্ত্ব ক্ষুধার্ত হয়ে বাড়ি ফিরে এলেন। বাড়িতে এসে দেখলেন সবাই উপোসথ পালন করছেন। এটি দেখে ক্ষুধার্ত অবস্থায় তিনি অষ্টশীল গ্রহণ করে শীলানুস্মৃতি ভাবনা করতে থাকেন। ক্লান্ত হওয়ার পর তিনি উপোসথ শীল পালনের সংকল্প করলেন। অবশেষে তিনি শীল গ্রহণ অবস্থায় মারা গেলেন। উপরিউক্ত কাহিনির মিল খুঁজে পাওয়া যায় সাজুর আচরণে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!