শুকুর মিয়া একজন কৃষক এবং এলাকায় লোককবি হিসেবে পরিচিত। তিনি কাজের অবসরে পুঁথি ও আঞ্চলিক গান রচনা করেন। সারা দিনের কাজ শেষে প্রতিদিন সন্ধ্যাবেলা তিনি বাড়ির আঙিনায় বসে পুঁথি পাঠ করেন। তার এই আসরে অনেকের সমাগম ঘটে। কেবল মানুষকে আনন্দ দেওয়ার জন্যই তিনি নতুন নতুন গান ও পুঁথি লেখেন।

Updated: 10 months ago
উত্তরঃ

'ফটিক জল' অর্থ হচ্ছে চাতক পাখি।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
উত্তরঃ

'আমরা চাই মুগ্ধ চোখ'- বলতে ঝরনার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয় এমন চোখকে বোঝানো হয়েছে।

'ঝর্ণার গান' কবিতায় কবি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার নিদর্শন ঝরনার রূপবৈচিত্র্য তুলে ধরেছেন। ঝরনা শুধু সৌন্দর্য ছড়িয়েই তৃপ্ত থাকে না, সে তার সৌন্দর্য উপভোগকারীদের মুগ্ধ-দৃষ্টিও প্রত্যাশা করে। সে চায় সৌন্দর্য বিস্তার করে তার অবিরাম ছুটে চলা অবলোকন করে কেউ মুগ্ধ হোক এবং তার সৌন্দর্যের প্রশংসা করুক। কারণ সৌন্দর্যপিপাসুরা প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করে এবং মুগ্ধ হয়।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের শুকুর মিয়ার কর্মকান্ডের সঙ্গে 'ঝর্ণার গান' কবিতার অবস্থানগত ও প্রেক্ষাপটের বৈসাদৃশ্য রয়েছে।

প্রকৃতি সৌন্দর্যের অকৃত্রিম উৎস। বন, পাহাড়, নদী, সাগর, ঝরনা, ফুল, পাখি সবকিছুই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের উৎস। মানুষ প্রকৃতির এসব উৎস থেকে আনন্দ লাভ করে।

উদ্দীপকের শুকুর মিয়া সারা দিনের কাজ শেষে প্রতি সন্ধ্যায় পুঁথি পাঠ করেন। মানুষকে আনন্দ দেওয়ার জন্য তিনি পুঁথি রচনা করেন এবং তা পড়ে শুনিয়ে মানুষকে আনন্দ দেন। এখানে তার পুঁথি সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য মানুষের মনে আনন্দের। শুকুর মিয়া ও তার সৃষ্ট পুঁথি কোনোটিই প্রাকৃতিক উপাদান নয়। 'ঝর্ণার গান' কবিতায় ঝরনা পাহাড়ের নিস্তব্ধতা ভেদ করে, নির্জন দুপুরের ভয়াবহতা ঠেলে নিজের প্রাকৃতিক নিয়মে আছড়ে পড়ে পাথরের বুকে তার সর্বস্ব নিয়ে। তার এই চলা অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। আমাদের চোখ জুড়িয়ে যায়। এখানে ঝরনা প্রকৃতির উপাদান ও সৃষ্টি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শুকুর মিয়ার কর্মকাণ্ডের সঙ্গে 'ঝর্ণার গান' কবিতার অবস্থানগত ও প্রেক্ষাপটের বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
উত্তরঃ

"মানুষকে আনন্দ দেওয়ার বেলায় নতুন সৃষ্টির ক্ষেত্রে উদ্দীপকের শুকুর মিয়া ও 'ঝর্ণার গান' কবিতার ঝরনা যেন একে অন্যের পরিপূরক।"- মন্তব্যটি যথার্থ।

মানুষ যেখান থেকেই হোক তার আনন্দ সংগ্রহ করে নেয়। তবে সবসময় একই বিষয়বস্তু থেকে আনন্দ নেয় না। কখনো প্রকৃতি থেকে আনন্দ গ্রহণ করে, আবার কখনো মানুষের সৃজনশীল সৃষ্টি থেকে। মানুষের জীবনে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য আনন্দের কোনো বিকল্প নেই।

উদ্দীপকে শুকুর মিয়ার পুঁথি লেখা ও পাঠ করার মধ্য দিয়ে মানুষকে আনন্দ দানের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকের শুকুর মিয়া সারা দিনের কাজের শেষে শুধু মানুষকে আনন্দ দিতে স্বরচিত পুঁথি পাঠ করেন। নিজের নতুন সৃষ্টি দিয়ে তিনি মানুষকে আনন্দ দিয়েছেন। 'ঝর্ণার গান' কবিতায় প্রকৃতির মাঝে ঝরনার অবিরাম ও নির্ভীক আবির্ভাব ও ছুটে চলায় রূপবৈচিত্র্য প্রকাশ পেয়েছে। প্রকৃতির সৌন্দর্যের মাঝে ঝরনা অন্যতম। প্রাকৃতিক নিয়মে সবকিছু উপেক্ষা করে ঝরনা পাথরের বুকে আছড়ে পড়ে। ঝরনার এই মনোমুগ্ধকর চলার ধ্বনি ও মূর্ছনা স্তব্ধ প্রকৃতি ও পাথরের বুকে চারদিকে আনন্দের বার্তা ছড়িয়ে দেয়।

উদ্দীপকে পুঁথি রচনা ও পাঠ করে মানুষকে আনন্দ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। 'ঝর্ণার গান' কবিতায় ঝরনাও অবিরাম চলার মধ্য দিয়ে প্রকৃতির মাঝে আনন্দ ছড়িয়ে দেয়। শুকুর মিয়া পুঁথি লিখে এবং পাঠ করে মানুষকে যে আনন্দ দিয়েছেন তা ঝরনার আনন্দ দানের সঙ্গে এক সূত্রে গাঁথা। ঝরনা প্রকৃতির মাঝে, তার চলার ছন্দ দিয়ে, রূপবৈচিত্র্য দিয়ে আনন্দের সঞ্চার ঘটিয়ে মানুষকে মুগ্ধ করে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
136

চপল পায় কেবল ধাই,
         কেবল গাই পরীর গান,
                       পুলক মোর সকল গায়,
        বিভোল মোর সকল প্ৰাণ ৷
শিথিল সব শিলার পর
         চরণ থুই দোদুল মন,
                         দুপুর-ভোর ঝিঁঝিঁর ডাক,
         ঝিমায় পথ, ঘুমায় বন ।
বিজন দেশ, কূজন নাই
         নিজের পায় বাজাই তাল,
                         একলা গাই, একলা ধাই,
        দিবস রাত, সাঁঝ সকাল ।
ঝুঁকিয়ে ঘাড় ঝুম-পাহাড়
        ভয় দ্যাখায়, চোখ পাকায়;
                          শঙ্কা নাই, সমান যাই,
        টগর-ফুল-নূপুর পায়,
কোন গিরির হিম ললাট
        ঘামল মোর উদ্ভবে
                         কোন পরীর টুট্ল হার
         কোন নাচের উৎসবে।
খেয়াল নাই-নাই রে ভাই
          পাই নি তার সংবাদই,
                           ধাই লীলায়,-খিলখিলাই

          বুলবুলির বোল সাধি ।
বন-ঝাউয়ের ঝোপগুলায়
          কালসারের দল চরে,
                           শিং শিলায়-শিলার গায়,
          ডালচিনির রং ধরে ।
ঝাঁপিয়ে যাই, লাফিয়ে ধাই,
          দুলিয়ে যাই অচল-ঠাঁট,
                           নাড়িয়ে যাই, বাড়িয়ে যাই-
         টিলার গায় ডালিম-ফাট।
শালিক শুক বুলায় মুখ
         থল-ঝাঁঝির মখমলে,
                           জরির জাল আংরাখায়
         অঙ্গ মোর ঝলমলে ।
নিম্নে ধাই, শুনতে পাই
          ‘ফটিক জল।' হাঁকছে কে,
                           কণ্ঠাতেই তৃষ্ণা যার
          নিক না সেই পাঁক ছেঁকে ৷
গরজ যার জল স্যাচার
           পাতকুয়ায় যাক না সেই,
                            সুন্দরের তৃষ্ণা যার
           আমরা ধাই তার আশেই ।

 তার খোঁজেই বিরাম নেই
            বিলাই তান-তরল শ্লোক,
                             চকোর চায় চন্দ্রমায়,
            আমরা চাই মুগ্ধ-চোখ ।
চপল পায় কেবল ধাই
         উপল-ঘায় দিই ঝিলিক,
                          দুল দোলাই মন ভোলাই,
        ঝিলমিলাই দিগ্বিদিক।

Related Question

View All
উত্তরঃ

'শিথিল সব শিলার পর' বলতে কবি স্তব্ধ পাথরের বুকে আনন্দচিহ্ন রেখে ঝরনার বয়ে চলাকে বোঝাতে চেয়েছেন। 

'ঝরনার গান' কবিতায় কবি ঝরনার গতিময়তা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তুলে ধরেছেন। ঝরনা সমস্ত নীরবতা ভেঙে আপন ছন্দে বয়ে চলে। পাখির ডাকহীন নির্জন দুপুর, ভয়ংকর পাহাড়- সবকিছু উপেক্ষা করে সে শিথিল শিলা বেয়ে নিচে নেমে আসে। চলার পথে ঝরনা পাথরের উপর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আনন্দচিহ্ন রেখে চলে। এ প্রসঙ্গেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।

1.5k
উত্তরঃ

উদ্দীপকের সঙ্গে 'ঝরনার গান' কবিতার রূপসৌন্দর্যের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ। বাংলাদেশের প্রকৃতি অপূর্ব সুন্দর। 

সবুজ-শ্যামল মাঠ, নদীতে নৌকা, তীরে কাশফুল, মাথার উপরে নীল আকাশ, বন-বনানী, নদী- সাগর, পাহাড়-পর্বত, পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঝরনা প্রভৃতি আমাদের মুগ্ধ করে।

উদ্দীপকে পলাশ সাহেবের গড়ে তোলা উদ্যানের সৌন্দর্য বর্ণনা করা হয়েছে। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যই মানুষের মনে সৌন্দর্যবোধ জন্ম দেয়। প্রকৃতির তুলিতে যে চিত্র ফুটে ওঠে তা-ই মানুষকে শিল্পসৃষ্টিতে অনুপ্রাণিত করে। তাই শিল্পীর নিজের খেয়ালে সাজানো প্রকৃতির সৌন্দর্য তার একার নয়, তা সব মানুষের আনন্দের উৎস। উদ্দীপকের এ সৌন্দর্য 'ঝরনার গান' কবিতার ঝরনার সৌন্দর্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। পাহাড়িকন্যা ঝরনা সমস্ত নীরবতা ভেঙে ছন্দময় শব্দে চঞ্চল ছুটে চলে পাখির ডাকহীন দুপুরে, স্তব্ধ পাথরের বুকে আনন্দচিহ্ন রেখে। চমৎকার তার ধ্বনিমাধুর্য। গিরি থেকে পতিত জলরাশি পাথরের বুকে আঘাত করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ঝরনার এ মনোহর সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করে। এভাবে উদ্দীপক ও 'ঝরনার গান' কবিতার রূপসৌন্দর্য পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

1.1k
উত্তরঃ

উদ্দীপকটি 'ঝরনার গান' কবিতার মূল বক্তব্যকে অনেকখানি ধারণ করে। বিশেষ করে সৌন্দর্যচেতনার দিকটি।

প্রকৃতির অপরূপ রূপ দেখে মানুষ মুগ্ধ হয়। সেই মুগ্ধতা থেকেই মানুষের মধ্যে শিল্পবোধ সৃষ্টি হয়। প্রকৃতির সৌন্দর্যই মানুষকে সৌন্দর্য সৃষ্টিতে আগ্রহী করে তোলে। নির্মল প্রকৃতিই তাকে এ কাজে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। আর সেই সৌন্দর্য চেতনা থেকেই ব্যক্তিমানুষ নতুন নতুন শিল্পকর্ম সৃষ্টিতে অনুপ্রাণিত হয়।

উদ্দীপকে প্রকৃতির বিচিত্র সৌন্দর্যের বর্ণনা ও তার জন্য সামাজিক বাধা-নিষেধ উপেক্ষা করে পলাশ সাহেবের চেষ্টা ও উদ্যোগটি তুলে ধরা হয়েছে। এই নিপুণতার শিল্পী স্রষ্টা নিজে। স্রষ্টার সেই কর্মকৌশলে তৈরি মানুষ তার অনুভব দিয়ে সৌন্দর্য সৃষ্টি করে। উদ্দীপকে বর্ণিত অনিন্দ্য সৌন্দর্যের সঙ্গে 'ঝরনার গান' কবিতার ঝরনার সৌন্দর্য সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপকে সামাজিক প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে ব্যক্তিমানুষের শিল্পসৃষ্টির যে চেতনা প্রকাশ পেয়েছে তা 'ঝরনার গান' কবিতার ভয়ংকর পাহাড়কে উপেক্ষা করে ঝরনার ছুটে চলার চেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এই দিক থেকে সৌন্দর্য সৃষ্টিতে তারা পরস্পর এক ও অভিন্ন।

উদ্দীপকে বর্ণিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেমন আমাদের মানসিক শান্তি দেয়, 'ঝরনার গান' কবিতার ঝরনার সৌন্দর্যও তেমনই আমাদের বিমোহিত করে। ঝরনার প্রকৃতিতে সৌন্দর্য বিস্তার এবং উদ্দীপকে সৌন্দর্য বিস্তারের বর্ণনা অভিন্ন। এ কারণেই বলা যায় যে, 'ঝরনার গান' কবিতার মূল বক্তব্যকে উদ্দীপক অনেকখানি ধারণ করে আছে।

710
উত্তরঃ

'চকোর চায় চন্দ্রমায়' বলতে চকোর পাখির স্নিগ্ধ জোছনালোক প্রত্যাশাকে বোঝানো হয়েছে। 

'ঝরনার গান' কবিতায় কবি ঝরনার গতিময়তা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিকটি তুলে ধরেছেন। ঝরনা প্রকৃতির সমস্ত নীরবতা ভেঙে আপন ছন্দে ছুটে চলে। পাখির ডাকহীন নির্জন দুপুর, ভয়ংকর পাহাড় সবকিছু উপেক্ষা করে ঝরনা স্তব্ধ পাথরের বুকে আনন্দের পদচিহ্ন রেখে বয়ে চলে। কবি ঝরনার মনোহর দৃশ্যে মুগ্ধ, বিমোহিত। চকোর পাখি যেমন রাতের বেলা চাঁদের স্নিগ্ধ আলো চায়, কবিও তেমনই ঝরনার সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান।

722
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews