বড়োরানিদের কাছ থেকে সন্তান হিসেবে ইঁদুর ও কাঁকড়া প্রসবের কথা শুনে ছোটোরানি মূর্ছা যান।
'সাত ভাই চম্পা' গল্পে রাজার সাত রানি ছিল। তাদের মধ্যে ছোটোরানি সাতটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান প্রসব করেছিলেন। কিন্তু হিংসুটে বড়োরানিরা ষড়যন্ত্র করে সন্তানগুলোকে হাঁড়িতে ভরে পাঁশগাদায় পুঁতে রাখে। আর ছোটোরানিকে ইঁদুর ও কাঁকড়া প্রসবের মিথ্যা কাহিনি বলে। এসব শুনে ছোটোরানি তীব্র মানসিক আঘাত পান এবং শোক সামলাতে না পেরে অজ্ঞান হয়ে যান।
Related Question
View All'সাত ভাই চম্পা' দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের একটি শিক্ষামূলক রূপকথা-জাতীয় গল্প। এই গল্পের মাধ্যমে মূলত বোঝানো হয়েছে যে, হিংসা-বিদ্বেষের পরিণাম কখনো ভালো হয় না। মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করলেও সত্য একদিন প্রকাশ পায়। মিথ্যাকে পরিহার করে সর্বদা সত্যের পথে অবিচল থাকাই এই গল্পের মূলশিক্ষা।
'সাত ভাই চম্পা' গল্পে রাজার ছিল সাত রানি। তাদের মধ্যে ছোটোরানিকে রাজা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন। এ কারণে বড়োরানিরা সবসময় ছোটোরানিকে হিংসা করতেন। ছোটোরানির সন্তান হওয়ার পর তারা ছোটোরানিকে জানায় যে, ছোটোরানি কিছু ইঁদুর ও কাঁকড়া প্রসব করেছেন। অথচ ছোটোরানি প্রসব করেছিলেন সাতটি ফুটফুটে ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান। চক্রান্তের শিকার ছোটোরানিকে রাজা রাজপুরী থেকে বের করে দেন।
বড়োরানিরা মিথ্যার আশ্রয়ে সাময়িকভাবে সুখে থাকলেও একসময় তাদের মিথ্যা ধরা পড়ে যায় এবং কঠিন শাস্তি পায়। বড়োরানিরা যে ছেলেমেয়েগুলোকে হাঁড়িতে ভরে পাঁশগাদায় পুঁতে রেখেছিল, তারা একসময় ফুলগাছে পরিণত হয়। মালি একদিন পূজার জন্য সেই বাগানের ফুল আনতে গেলে ফুলে পরিণত হওয়া সেই সন্তানগুলো রাজা, ছোটোরানি ও পুরো রাজ্যের মানুষের সামনে বড়োরানিদের মিথ্যা কথা ফাঁস করে দেয়। রাজার কাছে বড়োরানিদের ষড়যন্ত্র ধরা পড়ে এবং তিনি তাদেরকে রাজ্য থেকে বের করে দেন।
'সাত ভাই চম্পা' গল্পে ছোটোরানি ও তার সন্তানদের ঘিরে বড়োরানিদের হিংসা, বিদ্বেষ ও মিথ্যাচার তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা সফল হয়নি। তাদের মিথ্যা ধরা পড়ে গিয়েছে এবং তাদের শাস্তি পেতে হয়েছে। তাই গল্পটির মূলশিক্ষা এটাই যে, হিংসা, বিদ্বেষ ও মিথ্যাচার মানুষের জীবনে দুর্ভোগ ব্যতীত কিছুই নিয়ে আসে না। তাই আমাদের সবসময় এসব পরিত্যাগ করে সত্যের পথে চলা উচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!