শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে নিহত হন।
পাকিস্তানি পরাধীনতার শেকল থেকে স্বাধীন হওয়ার জন্য বাংলার মানুষ মুক্তি চায়।
১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমান বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন। বাংলার মানুষ স্বাধীনতা চায়। তারা পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর পরাধীনতার শেকল থেকে মুক্তি চায়। বাংলার মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার নিয়ে বাঁচার মতো বাঁচতে চায়। আর বাংলার মানুষের প্রাণের দাবির কথাগুলো শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ভাষণে বলেছিলেন।
উদ্দীপকের ভাবার্থ 'এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' প্রবন্ধের শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা সংগ্রামের আহ্বানের দিককে তুলে ধরেছে।
পরাধীনতার শেকল থেকে বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ডাক দেন। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণে তিনি বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান।
'এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' প্রবন্ধে শেখ মুজিবুর রহমানের বাঙালি জাতির স্বাধীনতা অর্জনের দিকনির্দেশনার বিষয়টি উপস্থাপিত হয়েছে। ৭ই মার্চের ভাষণে তিনি পরাধীন বাঙালি জাতিকে মুক্ত করার জন্য স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলার মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। উদ্দীপকের ভাবার্থেও শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার আহ্বান প্রতিফলিত হয়েছে। তাঁর বজ্রকণ্ঠের ভাষণ বাংলার আকাশে-বাতাসে ধ্বনিত হয়েছে। বাংলার মানুষ তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং ছিনিয়ে আনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ভাবার্থ প্রবন্ধে আলোচিত শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা সংগ্রামের আহ্বানের দিককে তুলে ধরেছে।
"উদ্দীপকে 'এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' প্রবন্ধের অনেক বিষয় অপ্রকাশিত রয়েছে।"- উক্তিটি যথার্থ।
১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর থেকেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালি জাতিকে বিভিন্নভাবে শোষণ করতে থাকে। বাঙালিরা বিভিন্ন সময়ে এই শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে। পরবর্তী সময়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে বাঙালি জাতি ছিনিয়ে আনে বাংলার স্বাধীনতা।
উদ্দীপকে বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা সংগ্রামের আহ্বানের দিকটি উপস্থাপিত হয়েছে। বাংলার মানুষ সেই ডাকে সাড়া দিয়ে ছিনিয়ে আনে দেশের স্বাধীনতা। 'এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' প্রবন্ধেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ডাক প্রকাশ পেয়েছে। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের সেই ভাষণের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলার লক্ষ লক্ষ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং ছিনিয়ে আনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। এছাড়াও প্রবন্ধে পাকিস্তানি শাসকদের শোষণ, বৈষম্য, বাঙালিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করা, বিভিন্ন ধারাবাহিক আন্দোলনের কথা প্রবন্ধে রয়েছে যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত।
'এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' প্রবন্ধে শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন, এ বিষয়টি উদ্দীপকেও প্রকাশ পেয়েছে। তবে রচনায় এমন অনেক বিষয় ও ভাব উঠে এসেছে যা উদ্দীপকে অপ্রকাশিত রয়েছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের ১৭ই মার্চ।
'বাংলার ইতিহাস এদেশের মানুষের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস' বলতে বাঙালির অধিকার আদায়ের আন্দোলন-সংগ্রামে রক্তদান ও আত্মদানকে বোঝানো হয়েছে।
'এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' রচনাটিতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে আত্মদান, ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলনে ছাত্রদের ওপর গুলি, ১৯৬৯ সালের গণ-আন্দোলনে ছাত্র-জনতাকে হত্যা এবং ১৯৭০-এর নির্বাচন আন্দোলনের এ ধারাবাহিকতাকে নির্দেশ করা হয়েছে। বাঙালিরা যুগে যুগে রক্ত দিয়ে তাদের অধিকার অর্জন করেছে। ন্যায্য দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে উল্লিখিত উক্তিটিতে বাঙালির ঐতিহ্যগত আন্দোলনের ধারা ও ত্যাগকে বোঝানো হয়েছে।
উদ্দীপকে মহাত্মা গান্ধীর ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা হলো, অধিকার আদায়ে সমষ্টিগত আন্দোলন।
যেকোনো জাতির মুক্তি ও উন্নতির মূলে রয়েছে সঠিক নেতৃত্ব। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন অনেক নেতার দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়, যারা দেশ ও দেশের মানুষের মুক্তি, উন্নতি ও কল্যাণের জন্য যথার্থ নেতৃত্ব দিয়েছেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব বাঙালির অধিকার ও স্বার্থরক্ষার ক্ষেত্রে সোচ্চার ছিলেন। এজন্যই তিনি বাঙালির বন্ধু, প্রাণের মানুষ হয়েছিলেন। উদ্দীপকে মহাত্মা গান্ধীও সাধারণ মানুষের অধিকারের সংগ্রামে ছিলেন আপসহীন। এ কারণে সবাই তাঁকে সমর্থন করেছিল। উভয় নেতাই অন্যায়ের প্রতিবাদী; গণমানুষের স্বার্থরক্ষায় তৎপর এবং জনগণকে ন্যায় ও সংগ্রামের পথে উদ্বুদ্ধ করেন। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মহাত্মা গান্ধীর মতোই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণেও অসাম্প্রদায়িক চেতনা, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সংগ্রাম করার নির্দেশ রয়েছে।
উদ্দীপকটি 'এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' ভাষণের সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করে- মন্তব্যটি যথার্থ নয়।
স্বাধীনতা মানুষের জন্মগত অধিকার। মানুষ পরাধীনতার বেড়াজালে বন্দি থাকতে চায় না। তাই বাঙালিও তার প্রিয় দেশকে মুক্ত করার স্বপ্ন দেখেছিল। তারা একজন যোগ্য নেতার জন্য অপেক্ষা করছিল যিনি এসে তাদেরকে মুক্তির পথ দেখাবেন।
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন। এই আহ্বানই 'এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' ঐতিহাসিক ভাষণ। তাঁর এ স্বাধীনতার ডাক ছিল পাকিস্তানি স্বৈরশাসনের নিগড় থেকে বাঙালি জাতিকে মুক্ত করার এক উদাত্ত আহ্বান। আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্ন ও মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান মূলত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এ ভাষণের মাধ্যমেই সূচিত হয়। সেদিন তিনি উত্তাল জনতাকে মুক্তির অমোঘ বাণী শুনিয়েছিলেন। সেই মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়েছিল ছাত্র-জনতা, কৃষক, শ্রমিক, কুলি, কেরানি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ। উদ্দীপকে মানুষকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে স্বাধীন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে অসাম্প্রদায়িক হতে। সংগ্রামী হতে বলা হলেও মুক্তির অনুরূপ চেতনা প্রকাশ পায়নি। সেখানে যে বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে তা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে এক হতে বলা হয়েছে মাত্র।
১৭৫৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত কয়েকশ বছরের সংগ্রামী চেতনার যথার্থ বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের 'এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' ভাষণের মধ্য দিয়ে। বাঙালি জাতি সেদিন তাদের প্রিয় নেতার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে অনেক রক্ত আর ত্যাগের বিনিময়ে অবশেষে তাঁরা স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করেছিল। এ ধরনের চেতনা জাগানোর মতো উল্লেখযোগ্য বিষয় উদ্দীপকে নেই। উদ্দীপকে শুধু অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ ঘটিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে ব্রতী হতে বলা হয়েছে। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ নয়।
'জাতীয় পরিষদ' হচ্ছে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি।
আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না- এ উক্তিটির কারণ বাংলার মানুষের ন্যায্য দাবি আদায় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের আন্দোলন-সংগ্রামে শেখ মুজিবুর রহমানের আপসহীনতা।পাকি
স্তানি ঔপনিবেশিক রাষ্ট্র কাঠামো ভেঙে বাঙালির সার্বিক মুক্তি অর্জনের লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে কারাবরণ করেন। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। তবু পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এর প্রতিবাদে ১৯৭১ সালে ২ মার্চ বাংলায় সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৭ই মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে তিনি এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। ১৮ মিনিটের এই ভাষণে তিনি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলে বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ে তাঁর আপসহীন অবস্থান তুলে ধরেছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!