শোন বন্ধু শোন, প্রাণহীন এক শহরের ইতিকথা,

ইটের পাঁজরে লোহার খাঁচায়

দারুণ মর্ম ব্যথা।

এখানে আকাশ নেই, এখানে বাতাস নেই

এখানে অন্ধ গলির নরকে মুক্তির আকুলতা।

Updated: 6 months ago
উত্তরঃ

কবি জসীমউদ্দীন 'পল্লিকবি' নামে খ্যাত।

উত্তরঃ

কবি দূরে ভেসে থাকা মেঘদের মেঘ-কনে বলে সম্বোধন করেছেন।

কবি পল্লি-দুলালের দেশে অর্থাৎ পল্লিগ্রামে যেতে চান। কেননা প্রকৃতিঘেরা পল্লিগ্রামের অপরূপ সৌন্দর্য তাকে মুগ্ধ করে। সেই সৌন্দর্যময় পল্লিপ্রকৃতির রূপ কবি নানা উপমা ও চিত্রকল্পের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। তাই কবি দূরে ভেসে থাকা মেঘকে মেঘ-কনে হিসেবে সম্বোধন করেছেন। কবির দৃষ্টিতে মেঘ হলো সেই কনেরা যারা মাথায় জলের ঝারি নিয়ে বিজলি পেড়ে শাড়ি পরে পল্লিগ্রামের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ কবি মেঘকে বিজলি বা বিদ্যুৎ চমকের পাড়যুক্ত শাড়ি পরা কনে হিসেবে কল্পনা করেছেন।

উত্তরঃ

'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতার পল্লিগ্রামের যে অপরূপ সৌন্দর্য বর্ণনা করা হয়েছে তার সাথে উদ্দীপকের শহরের যান্ত্রিক বর্ণনার রৈসাদৃশ্য রয়েছে।

নগরজীবন যন্ত্রণাময়। শহরের মিল, কল-কারখানা থেকে সৃষ্ট শব্দদূষণ জনমানুষের মেজাজ খিটখিটে করে দেয়। তাই তো নগরবাসী স্বস্তির জন্য ছুটে যায় পল্লির বুকে। সেখানে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে হাঁপ ছাড়ে।

'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতার বর্ণনায় কবি যেতে চেয়েছেন পল্লি-দুলালের পল্লিগ্রামে। যে পল্লিগ্রামের চারদিক প্রকৃতি দিয়ে ঘেরা। সেখানে বনের শীর্ষে আকাশ, পায়ের কাছে দিক-হারা মাঠ। সেখানে বেত-কেয়ার বনে ডাহুক ডাকে। কবি সেখানের সরু সুতার মতো আঁকাবাঁকা দীর্ঘ পথে হাঁটতে চেয়েছেন। তিনি সেখানে পাড়ার দস্যি ছেলেদের সাথে খেলা করবেন। ধলদিঘিতে সাঁতার কেটে রক্তকমল তুলে আনবেন। পাখিদের সাথে ডাকবেন। অজানা ফুলের রূপ দেখে মুগ্ধ হবেন। গাছের শাখা দুলিয়ে হাজার রঙের ফুল তুলবেন। চারিদিকে আঁধার নেমে এলে নিরালা নিঝুম অন্ধকারে কবি পল্লির অপরূপ সৌন্দর্য অবলোকন করবেন। উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, পল্লির অপূর্ব রূপের বিপরীতে প্রাণহীন এক রূপ, যেখানে ইটের পাঁজরে, লোহার খাঁচায় দারুণ মর্মব্যথা। যেখানে পল্লির মতো মুক্ত আকাশ নেই, নেই শ্বাস নেওয়ার মতো স্নিগ্ধ বাতাস। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সাথে কবিতার বিস্তর বৈসাদৃশ্য রয়েছে ।

উত্তরঃ

"উদ্দীপকের মুক্তির আকুলতাটি কবিকে গ্রামের প্রতি আকৃষ্ট করেছে।"- মন্তব্যটি যথার্থ।

শহরে মানুষ যান্ত্রিক জীবনযাপন করে। সেখানে না থাকে মুক্ত বাতাস, না থাকে পল্লির মত স্নিগ্ধতা। গ্রামীণ প্রকৃতির মোহময় রূপ নগরজীবনে কল্পনাই করা যায় না।

'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় আমরা দেখতে পাই, কবি পল্লি-দুলালের দেশে যেতে চেয়েছেন যা অকৃত্রিম প্রাকৃতিক পরিবেশ দিয়ে ঘেরা। কবি এই পল্লিগ্রামের অপরূপ সৌন্দর্যে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। পেয়েছেন প্রাণহীন শহুরে যান্ত্রিকতা থেকে মুক্তি। গ্রামের ধান-কাউনের খেতের ভেতর দিয়ে সরু সুতার মতো দীর্ঘ আঁকাবাঁকা পথে তিনি হেঁটে যাবেন। পাড়ার দস্যি ছেলেদের সাথে খেলা করবেন, ধলদিঘিতে সাঁতার কেটে তুলে আনবেন রক্তকমল। পাখিদের সাথে ডাকবেন। এসব বর্ণনা থেকে আমরা দেখতে পাই, কবি প্রকৃতির সাথে কীভাবে মিশে মানবমনের মুক্তির দিশা দিচ্ছেন।

উদ্দীপকেও আমরা দেখতে পাই, এখানে প্রাণহীন এক শহরে ইতিকথা শোনানো হচ্ছে, যার ইটের পাঁজরে, লোহার খাঁচায় দারুণ মর্মব্যর্থ; যেখানে আকাশ-বাতাস কিছুই নেই। তবে অন্ধ এই গলির নরকে মুক্তির আকুলতা আছে। মূলত নগরযন্ত্রণা থেকে মুক্তি লাভই গ্রামীণ প্রকৃতির প্রতি আকর্ষণ বাড়ায়, যা আলোচ্য কবিতার কবির মধ্যে দৃশ্যমান। তাই বলা যায়, এই মুক্তির আকুলতাই কবিকে পল্লিগ্রামের প্রতি আকৃষ্ট করেছে।

56
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
435
উত্তরঃ

'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় গ্রাম্য মেয়ে পথে কদমকলি ছড়িয়ে হেঁটে চলে।


'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় কবি আদরের পল্লি-দুলালের দেশে অর্থাৎ পল্লিগ্রামে যেতে চেয়েছেন এবং সেই সূত্রে পল্লিগ্রামের চিত্র এঁকেছেন। পল্লিগ্রাম, প্রকৃতি যেন কবিকে ঘিরে রেখেছে। তার বনের শীর্ষে আকাশ, পায়ের কাছে দিক-হারা মাঠ। সেখানে ধান-কাউনের খেতের ভিতর দিয়ে সরু সুতার মতো দীর্ঘ বাঁকা পথ গেছে। সেই পথ নানা মাঠ ও বন পেরিয়ে গাঁয়ের ছায়াময় পথে মিশেছে। সেই পথে গাঁয়ের মেয়ে কদম-কলি ছড়িয়ে হেঁটে চলে।

451
উত্তরঃ

উদ্দীপকে শহুরে দুই বন্ধুর গ্রাম দেখার যে ব্যাকুলতা প্রকাশ পেয়েছে আমার পাঠ্য পুস্তকের 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় এমন অভিব্যক্তি প্রকাশ পেয়েছে।

গ্রাম মানুষের প্রিয়। শহুরে মানুষকে গ্রাম চিরদিন হাতছানি দিয়ে ডাকে। গ্রামের অনাবিল নির্মল প্রকৃতি ও পরিবেশ মানুষের মনে শান্তি আনে। তাই গ্রামে যাওয়ার জন্য শহুরে মানুষ আকুল হয়।

উদ্দীপকে শহরের দুই বন্ধু শফিক ও আশিক গ্রীষ্মের ছুটিতে তাদের গ্রামের বন্ধু শাহেদের বাড়িতে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। তারা বইয়ের পাতায় পড়েছে, টেলিভিশনে দেখেছে, কিন্তু কখনো সশরীরে গ্রামে যায়নি। তাদের ভালো লাগা ও যাওয়ার ব্যাকুলতা আরও বেড়ে যায় ছেলেমেয়েদের দুরন্তপনার বর্ণনা শুনে। শহুরে এই দুই বন্ধুর ব্যাকুলতা ধরা পড়ে 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতার মধ্যে। কবি সেই গ্রামে যেতে চান যেখানে ধান-কাউনের খেতের ভেতর দিয়ে সরু সুতোর মতো দীর্ঘ বাঁকা পথ গেছে। সেই পথে কবি গ্রামে যেতে চান, সেখানে দস্যি বা দুরন্ত ছেলেদের সাথে খেলতে চান, ধলদিঘিতে সাঁতার কেটে রক্তকমল আনতে চান। এমন ইচ্ছা ও ব্যাকুলতা উদ্দীপকের শহুরে দুই বন্ধুর মধ্যেও প্রকাশ পেয়েছে।

122
উত্তরঃ

উদ্দীপকে শাহেদ তার গ্রামের যে নয়নাভিরাম বর্ণনা করেছেন 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতার কবিও তেমনই এক পল্লি বা গ্রামের বর্ণনা দিয়েছেন।

মানুষ সব সময় প্রকৃতি ও গ্রামের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়। জীবন ও জীবিকার তাগিদে শহরে বসবাস করলেও গ্রামের মনোমুগ্ধকর রূপ সর্বদাই মানুষকে টানে।

'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় কবি আদরের পল্লি-দুলালের দেশে অর্থাৎ পল্লিগ্রামে যেতে চেয়েছেন। সেই পল্লিগ্রামটিকে প্রকৃতি যেন ঘিরে রেখেছে। সেখানে বেত-কেয়ার বনে ডাহুক ডাকে, ধান-কাউনের খেতের ভেতর দিয়ে সরু সুতার মতো দীর্ঘ বাঁকা পথ চলে গেছে। কবি সেই পথে গ্রামে গিয়ে দস্যি ছেলেদের সাথে খেলা করবেন, দিঘিতে সাঁতার কেটে রক্তকমল তুলে আনবেন। অজানা ফুলের রূপে মুগ্ধ হবেন। উদ্দীপকেও এমন সৌন্দর্যময় একটি গ্রামের বর্ণনা করেছে শাহেদ।

উদ্দীপকে শাহেদ তার গ্রামের নয়নাভিরাম এক বর্ণনা দিয়েছেন। তার গ্রামের বনবনানী, ফুল, পাখি, দিঘি, শাপলা, মেঠোপথ, ছেলেমেয়েদের দুরন্তপনা ইত্যাদির নয়নাভিরাম বর্ণনা শুনে তার শহুরে দুই বন্ধু গ্রামে আসার জন্য ব্যাকুল হয়। এমনই নয়নাভিরাম গ্রামের বর্ণনা পাওয়া যায় 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায়।

100
উত্তরঃ

ধান-কাউনের খেতের ভেতর দিয়ে যে দীর্ঘ সরু সুতার মতো বাঁকা পথ গেছে কবি সেই পথ দিয়ে পল্লি-দুলালের দেশে যাবেন।

'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় কবি পল্লিগ্রামে যেতে চেয়েছেন। পলিগ্রাম, প্রকৃতি যেন তাকে ঘিরে রেখেছে। তার বনের শীর্ষে আকাশ, পায়ের কাছে দিক-হারা মাঠ। কবি পল্লিগ্রামে যাওয়ার পথ কল্পনা করেছেন। কবির কল্পনার সেই পথকে হাবা মেয়ের এলো মাথার সিঁথির সাথে তুলনা করেছেন। সেই পথ কোথাও সিধা কোথাও বাঁকা। সেই পথে গাঁয়ের মেয়ে কদম-কলি ছড়িয়ে হেঁটে চলে। কবি এই পথে পল্লি-দুলালের দেশে যাবেন।

97
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews