শ্বসন প্রক্রিয়া জীবদেহের অভ্যন্তরে সংঘটিত হয়। এ প্রক্রিয়া চলাকালে প্রতিটি জীব পরিবেশ থেকে যে অক্সিজেন গ্রহণ করে তা কোষের মাইটোকন্ড্রিয়ার অভ্যন্তরে কিছু এনজাইমের নিয়ন্ত্রণাধীনে খাদ্যের সাথে বিক্রিয়া করে শক্তি উৎপন্ন করে। এর ফলে তাপশক্তি ও কার্বন ডাইঅক্সাইড তৈরি হয়। এ কারণে শ্বসনকে অন্তঃকোষীয় বিপাকীয় কার্য বলা হয়।
Related Question
View Allপুরা হলো দুই ভাজবিশিষ্ট একটি ঝিল্লি বা পর্দা, যা ফুসফুসকে আবৃত করে রাখে।
নিউমোনিয়া একটি ফুসফুসের রোগ। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এটি একটি মারাত্মক রোগ। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে রোগীর কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়। শ্বাস নেওয়ার সময় নাকের ছিদ্র বড় হয়। বেশি জ্বর হয়। কাশির সময় রোগী বুকে ব্যথা অনুভব করে। নিউমোনিয়া রোগে প্রতিবছর অনেক শিশু মারা যায়। তাই এটি একটি মারাত্মক রোগ।
উদ্দীপকের চিত্রে সংঘটিত প্রক্রিয়াটি হলো বহিঃশ্বসন প্রক্রিয়া।
বহিঃশ্বসন প্রক্রিয়ায় ফুসফুসের মধ্যে গ্যাসীয় আদান-প্রদান ঘটে। এ পর্যায়ে ফুসফুস ও রক্তজালিকা বা কৈশিক নালির মধ্যে অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের বিনিময় ঘটে। বহিঃশ্বসন দুই পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। যথা-
১. প্রশ্বাস বা শ্বাস গ্রহণ: পরিবেশ থেকে আমরা যে অক্সিজেনযুক্ত বায়ু গ্রহণ করি একে শ্বাস গ্রহণ বা প্রশ্বাস বলে। প্রশ্বাসের সময় মধ্যচ্ছদা ও বক্ষপিঞ্জরাস্থির মাঝের পেশি সংকুচিত হয়।
২. নিঃশ্বাস: প্রশ্বাসের পর পরই নিঃশ্বাস পর্যায় শুরু হয়। এ পর্যায়ে মধ্যচ্ছদা ও পিঞ্জরাস্থির পেশিগুলো শিথিল ও প্রসারিত হয় বলে ফুসফুস আয়তনে ছোট ও সংকুচিত হয়। ফলে বায়ুথলির ভেতরের বায়ু, কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস ফুসফুস থেকে ব্রঙ্কাস, ট্রাকিয়ার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে নাসারন্ধ্র দিয়ে বাইরে নির্গত হয়।
উদ্দীপকের চিত্রের F উপাদানটি অর্থাৎ বাতাসে উপস্থিত ধুলাবালি E অংশে, অর্থাৎ ফুসফুসে প্রবেশের ফলে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা যেমন- শ্বাসনালীর সংক্রমণে ব্রংকাইটিস হয়। বাতাসে উপস্থিত ধুলাবালি প্রশ্বাসের সাথে ফুসফুসে প্রবেশ করলে হাঁপানি হতে পারে এবং শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণত সর্দি থেকে হাঁপানি হতে পারে। উক্ত সমস্যাগুলো প্রতিরোধের জন্য নিম্নোক্ত ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করতে হবে-
১. আলো ও বিশুদ্ধ বাতাসপূর্ণ গৃহে বসবাস করতে হবে।
২. যেসব জিনিসের সংস্পর্শে আসলে বা খেলে শ্বাসকষ্ট বাড়ে তা থেকে বিরত থাকতে হবে। যেমন- পশমি কাপড়।
৩. ধোঁয়া, ধুলাবালি ইত্যাদি থেকে দূরে থাকতে হবে।
৪. ধূমপান পরিহার করতে হবে।
৫. বেশি করে পানি ও তরল পদার্থ পান করতে হবে।
৬. বাহিরে চলাফেরার সময় অবশ্যই মুখে রুমাল বা মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।
যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবকোষস্থ খাদ্যবস্তু অক্সিজেনের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতিতে জারিত হয়ে খাদ্যস্থ রাসায়নিক শক্তিকে গতিশক্তি ও তাপশক্তিতে রূপান্তরিত ও মুক্ত হয় এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড ও পানি উৎপন্ন হয় তাই শ্বসন।
উদ্ভিদের কোনো নির্দিষ্ট শ্বসন অঙ্গ নেই। পাতার পত্ররন্ধ্র, কান্ডের লেন্টিসেল এবং অন্তঃকোষের মাধ্যমে বায়ু দেহাভ্যন্তরে প্রবেশ করে। পত্ররন্দ্রের রক্ষীকোষগুলো পত্ররন্দ্রকে খোলা ও বন্ধ রাখতে সাহায্য করে। খোলা পত্ররন্দ্র দিয়ে বাতাস, O2 ও CO2 গ্যাস চলাচল করে। আর এ গ্যাস চলাচলের মাধ্যমেই পত্ররন্ধ্র শ্বসনে সহায়তা করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!