কুরআন আরবি ভাষায় নাজিল হয়।
হযরত আদম (আ)-এর শ্রেষ্ঠত্ব অস্বীকার এবং নিজের বড়ত্ব নিয়ে অহংকার করার কারণে আজাযিল আল্লাহর গজবে নিপতিত হয়।
আল্লাহ তায়ালা আদম (আ) কে সৃষ্টি করে জ্ঞানগত দিক দিয়ে ফেরেশতাদের ওপর তার শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করেন। এরপর আল্লাহ ফেরেশতাদের আদেশ করেন সিজদার মাধ্যমে আদম (আ) কে সম্মান জানাতে। সব ফেরেশতা আল্লাহর নির্দেশ পালন করে। কিন্তু আজাযিল নিজেকে আগুনের তৈরি বলে গর্ব করে এবং আদম (আ) মাটির তৈরি বলে তাকে সিজদা করতে অস্বীকৃতি জানায়। এ কারণে সে আল্লাহর চিরস্থায়ী গজবে নিপতিত হয়।
আল কুরআন ব্যক্তিজীবনকে সুন্দরভাবে পরিচালনার সর্বোত্তম পথনির্দেশক হওয়ার কারণে 'বেলী' দলটি 'টগর' দলের অস্বীকৃতিকে সমর্থন করা থেকে বিরত থাকে। ব্যক্তিজীবনের সব সমস্যা নিরসন করে সুন্দর ও সঠিক জীবন গঠনের সব দিকনির্দেশনা আল কুরআন থেকেই পাওয়া যায়। 'টগর' দলটি পারিবারিক জীবনে আদর্শ প্রতিষ্ঠায় আল কুরআনের অসাধারণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে। তবে ব্যক্তিজীবনকে সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য সর্বোত্তম পথনির্দেশক হিসেবে আল কুরআনের ভূমিকার কথা তারা অস্বীকার করে। এ কারণেই 'বেলী' দল তাদের সমর্থন করেনি।
নিজেকে বিশ্বাসী মানুষে পরিণত করা, সদাচার ও ন্যায় নিষ্ঠায় অভ্যস্ত করার ক্ষেত্রেও আল কুরআনের অপরিসীম অবদান রয়েছে। কুরআন ব্যক্তিকে সংসারী, ধার্মিক এবং কর্মমুখর হওয়ার নির্দেশনা দিয়ে কর্মবিমুখতা ও বৈরাগ্য সমস্যার সমাধান দিয়েছে। আল্লাহ বলেন, 'সালাত শেষ হলে তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়ো, আর আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান কর' (সুরা জুমুআ-১০)। 'টগর' দল ব্যক্তিজীবনে আল কুরআনকে সর্বোত্তম পথনির্দেশক মানতে নারাজ। কুরআনের অবদান অস্বীকার করায় 'বেলী' দল তাদের সমর্থন করেনি।
হ্যাঁ, 'টগর' দলের প্রথম কথা আমি সমর্থন করি। আমাদের পারিবারিক জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে আল কুরআনের ভূমিকা অপরিসীম। পরিবারের প্রত্যেকের দায়িত্ব, কর্তব্য সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে নির্দেশনা রয়েছে। কুরআন মাজিদের এসব দিকনির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনার মাধ্যমে পারিবারিক জীবনে আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। 'টগর' দল তাদের প্রথম বক্তব্যে কুরআনের এ ভূমিকারই ইঙ্গিত দিয়েছে।
কুরআনের ভূমিকা প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনায় 'টগর' দল প্রথমেই পারিবারিক জীবনে কুরআনের অসাধারণ ভূমিকার কথা তুলে ধরে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস, সহানুভূতি, সৌহার্দ ও সম্প্রীতি এবং সর্বাত্মক সহযোগী মনোভাব প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান রয়েছে আল কুরআনে। কুরআন বিভিন্নভাবে নিকটাত্মীয়দের নানা রকমের হক নির্ধারণ করে দিয়েছে। এ সম্পর্কে কুরআনে বলা হয়েছে, 'আর নিকটাত্মীয়কে তার হক দিয়ে দাও' (সুরা বনি ইসরাইল-২৩)। সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের দায়িত্বের কথাও বলা হয়েছে কুরআনে। কুরআন প্রত্যেক সন্তানকে নির্দেশ দিয়েছে- 'আর মাতা-পিতার সাথে সদাচরণ করো' (সুরা বনি ইসরাইল-২৬)।
পরিশেষে বলা যায় যে, আল কুরআনের শিক্ষা ও নির্দেশনা অনুসরণ করলে এবং বিধান মেনে চললে পারিবারিক জীবনে আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা যায়। 'টগর' দল তাদের প্রথম বক্তব্যে মূলত এ কথাই তুলে ধরেছে, যা আমি সমর্থন করি।
Related Question
View Allসবর শব্দের অর্থ অবিচল থাকা, ধৈর্যধারণ করা।
মুত্তাকি' বলতে আল্লাহভীরু লোকদের বোঝায়। মুত্তাকি শব্দের অর্থ আল্লাহভীরু বা পরহেজগার। জন্মগত বা বংশগত কারণে কারো পক্ষে মুত্তাকি হওয়া সম্ভব নয়। মুত্তাকি হতে হলে কিছু বৈশিষ্ট্যের প্রয়োজন। সুরা বাকারার আলোকে সেগুলো হলো অদৃশ্য বিষয়ের অস্তিত্বে বিশ্বাসী হতে হবে। সব হুকুম-আহকাম পালনের মাধ্যমে সালাত কায়েম করবে। তাকে আল্লাহ যে রিজিক দিয়েছেন তা থেকে মানুষের কল্যাণে অর্থ ব্যয় করবে।
জনাব জাহিদ কুরআন অবতরণের পদ্ধতির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। আল-কুরআন সর্বপ্রথম লাওহে মাহফুজ বা সুরক্ষিত ফলকে লিপিবদ্ধ ছিল। তারপর আল্লাহ তায়ালা লাওহে মাহফুজ থেকে কুরআন অবতরণের সূচনা করেন। ৬১০ খ্রিষ্টাব্দে মহানবি (স) হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকাবস্থায় মহান আল্লাহর নির্দেশে জিবরাইল (আ)-এর মাধ্যমে আল-কুরআনের সুরা আলাকের প্রথম পাঁচটি আয়াত নিয়ে মহানবি (স) এর কাছে অবতরণ করেন। যা উদ্দীপকের জনাব জাহিদের বক্তব্যে ফুটে ওঠে।
উদ্দীপকের জাহিদ পবিত্র কুরআনের অবতরণ পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করে বলেন, এটা একবারে নাজিল বা অবতীর্ণ হয়নি এবং বিভিন্ন পদ্ধতিতে অবতীর্ণ হয়েছে। এ ব্যাপারে আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) বলেন, 'লাওহে মাহফুজ থেকে সমগ্র কুরআন কোনো এক কদরের রাতে পৃথিবীর আকাশের 'বায়তুল ইযযাহ' নামক স্থানে নাজিল হয়। বায়তুল ইযযাহ হলো বায়তুল মামুরের অপর নাম। এটি বায়তুল্লাহ বরাবর পৃথিবীর নিকটবর্তী আকাশে ফেরেশতাদের ইবাদতগৃহ। এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে রাসুল (স)-এর প্রতি ধীরে ধীরে প্রয়োজন মতো অল্প অল্প অংশ নাজিল হয়ে দীর্ঘ তেইশ বছরে এ নাজিল প্রক্রিয়া পূর্ণতা পায়' (আল-ইত্কান, বায়হাকি)। রাসুল (স) এর ওপর স্বপ্নযোগে, ঘন্টাধ্বনিতে, জিবরাইল (আ) নবিজির অন্তরে কুরআন ঢেলে দেওয়ার মাধ্যমে, জিবরাইল (আ) এর নিজস্ব আকৃতিতে নবিজির কাছে ওহি নিয়ে অবতরণ, সরাসরি আল্লাহর সাথে কথোপকথন প্রভৃতি মাধ্যমে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছিল। সুতরাং জনাব জাহিদ এসব পদ্ধতিরই ইঙ্গিত করেছেন।
আদর্শ জাতি গঠনে পবিত্র কুরআনের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে- জনাব নাহিদের এ বক্তব্যের সাথে আমি একমত পোষণ করি। পবিত্র কুরআন সর্বশেষ আসমানি কিতাব। মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স) এর নবুয়ত জীবনের সুদীর্ঘ তেইশ বছরে এটা অবতীর্ণ হয়েছিল। কুরআনে মানবজীবনের সবকিছুর সমাধান রয়েছে। যা নাহিদের বক্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকের জনাব নাহিদ আদর্শ জাতি গঠনে কুরআনের ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা করেন। কুরআন মাজিদ বিশ্বমানবের সুষ্ঠু ও সুন্দর জীবননির্বাহের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত বিধি-ব্যবস্থাপনা। মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। ব্যক্তিজীবন হতে শুরু করে পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, জাতীয়, আন্তর্জাতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় এবং আধ্যাত্মিক জীবনের প্রতিটি অধ্যায় ও বিভাগে মানব সমস্যার অন্ত নেই। মানবজাতিকে এ সমস্যার আবর্ত হতে পরিত্রাণ করে সুষ্ঠু- শান্তিময় ও উদ্বেগহীন জীবন পরিচালনার জন্য আল্লাহ তায়ালা সর্বশেষ নবি হযরত মুহাম্মদ (স) এর প্রতি সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব আল-কুরআন নাজিল করেছেন। তিনি মানবজীবনের সব সমস্যার সমাধান এই মহাগ্রন্থে উপস্থাপন করেছেন।
কুরআনে ইরশাদ হয়েছে- আর আমি তোমার ওপর কিতাব নাজিল করেছি যা প্রতিটি বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা সম্বলিত, হেদায়েত, রহমত এবং সুসংবাদ-মুসলিম জাতির জন্য (সুরা নাহল: ৮৯)। রাসুলুল্লাহ (স) তাঁর বিদায় হজের ভাষণে এজন্যই বলেছেন- 'আমি তোমাদের মাঝে দুটো বিষয় রেখে যাচ্ছি। যদি তোমরা এ দুটোকে আঁকড়ে ধর, কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না। একটা হলো আল্লাহর কিতাব এবং অপরটি তাঁর রাসুলের সুন্নত' (মিশকাত)। পবিত্র কুরআন ও হাদিসের পরিপূর্ণ অনুসরণ করার মাধ্যমে আদর্শ ও কল্যাণকর জাতি গঠন করা সম্ভব।
কুরআন বিশ্ববাসীর জন্য সুস্পষ্ট বর্ণনা, সুপথের নির্দেশনা ও রহমত স্বরূপ।
স্বকীয় উপস্থাপনা ও আলোচ্য বিষয়ের বৈচিত্রের কারণে কুরআন সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ গ্রন্থ। আল-কুরআন আল্লাহর কালাম। এর রচনাশৈলী ও বিষয়বিন্যাস স্বতন্ত্র। এর প্রকাশরীতি, ব্যঞ্জনা, অভিব্যক্তি ও আবেদন অনুপম। এর ভাষা অনন্য। এ গ্রন্থ বিষয়ভিত্তিক ধ্যান-ধারণায় রচিত নয়। স্বকীয় উপস্থাপনা ও বিষয়বৈচিত্র্যের কারণে কুরআন অনবদ্য। বিশিষ্টতা পেয়েছে। আল-কুরআন সর্বজনীন ও সর্বকালীন এক চিরন্তন সত্য মহাগ্রন্থ। এ গ্রন্থের সংশয়হীনতা ও অভ্রান্ত নির্দেশনা এতটাই সুনিশ্চিত ও অকাট্য যে, তা সব কালের ও সব দেশের মানুষের জন্য প্রযোজ্য। তাছাড়া পবিত্র কুরআনের ভাষাচয়ন লক্ষ করলে দেখা যায়, এটা সম্পূর্ণ পদ্য কিংবা পুরোপুরি গদ্য নয়। বরং এ দুয়ের সংমিশ্রণে নাজিল এক অভূতপূর্ব গ্রন্থ- যা এ গ্রন্থটির উচ্চ মর্যাদা প্রকাশ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!