শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক লাহোর প্রস্তাব পেশ করেন।
জাতীয়তাবাদ হচ্ছে একধরনের মানসিক চেতনা বা অনুভূতি। জাতীয়তাবাদ বলতে একটি আদর্শকে বোঝানো হয় যেখানে জাতিকে মানব সমাজের কেন্দ্রীয় অবস্থানে স্থাপন করা হয় এবং অন্যান্য সামাজিক ও রাজনৈতিক আদর্শকে পরে স্থান দেওয়া হয়। স্বদেশ তথা মাতৃভূমির গৌরব ও অগৌরবকে কেন্দ্র করে সেই দেশের মানুষ বা জাতির অন্তরে যে উল্লাস, স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ, অনুভূতি, চেতনা, আত্মমর্যাদা ইত্যাদি সঞ্চারিত হয় তাকেই জাতীয়তাবাদ বলে।
উদ্দীপকের বর্ণিত শ্যামলপুর ও কমলগঞ্জের মধ্যকার বৈষম্যের সাথে বাংলাদেশের ইতিহাসের পূর্ব বাংলার প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্যের সাদৃশ্য রয়েছে।
পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পকিস্তান ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্রের দুটি অঞ্চল। শুরু থেকেই পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করে আসছিল। পাকিস্তানের মোট রপ্তানির ফলে যে অর্থ আসতো, তাতে পূর্ব পাকিস্তানের অবদান ছিল অনেক বেশি। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের অর্জিত এ বৈদেশিক মুদ্রা দ্বারা পশ্চিম পাকিস্তান শিল্প গড়ে উঠত। সব গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিষ্ঠিত হতো পশ্চিম পাকিস্তানে। পাকিস্তানে শাসকগোষ্ঠীরা পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে সব সময় বিভোর থাকত। পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি তাদের কোনো খেয়াল ছিল না। চাকুরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রেও পশ্চিম পাকিস্তানের আধিপত্য বিরাজমান ছিল।
উদ্দীপকে বর্ণিত শ্যামলপুরে উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে যা অর্থ উপার্জিত হয় তার সবটাই কমলগঞ্জের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যয় হয়। এ ঘটনাটি উপরের আলোচিত পূর্ব পাকিস্তানের সাথে পশ্চিমের পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বৈষম্যের কথা মনে করিয়ে দেয়।
তাই এটা সুস্পষ্ট যে, উদ্দীপকে দ্বারা পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্যমূলক আচরণকেই নির্দেশ করা হয়েছে।
উদ্দীপকের অনুরূপ পরিস্থিতি তথা বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে প্রেরণা যুগিয়েছিলো- উক্তিটি যথার্থ বলে আমি মনে করি।
পশ্চিম পাকিস্তানিরা অর্থনৈতিক বৈষম্যের পাশাপাশি অন্যান্য সব ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানিরা প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করতো। বিশেষ করে পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে সামাজিক বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করেছিলো। পশ্চিম পাকিস্তানে বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিলো। অবকাঠামোগত বৈষম্য, শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য প্রভৃতি চরম আকার ধারণ করেছিল। সাংস্কৃতিক বৈষম্যমূলক আচরণের মধ্য দিয়ে তারা বাংলাভাষাকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা তা পারেনি। ভাষা আন্দোলন বাঙালিকে অধিকার সচেতন করে। এরকম বিভিন্নক্ষেত্রে বৈষম্যের ফলে বঞ্চিত জনগোষ্ঠী একসময় অধিকার সচেতন হয়ে উঠে। যার ফলশ্রুতিতে দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়।
পরিশেষে বলা যায় যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পেছনে উদ্দীপকের অনুরূপ পরিস্থিতি চালিকাশক্তি হিসেবে বাঙালিদের প্রেরণা যুগিয়েছিলো।
Related Question
View All'সমাজবিজ্ঞান সমীক্ষণ' বই-এর লেখক ড. এ. কে. নাজমুল করিম।
বিবাহ বিহীন পরিবার গঠন দিবালোকে স্বপ্ন দেখার মতো। এমন কোনো পরিবারের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি যারা বিবাহ বহির্ভূত পরিবার গঠন করেছে। এজন্য পরিবারের ভিত্তি বলা হয় বিবাহকে। যখন একজন পুরুষ ও একজন স্ত্রীলোক একত্রে বৈধভাবে বসবাস করে তখন তাকে পরিবার বলে। এ সংজ্ঞা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, পরিবার গঠনের পূর্বশর্ত বিবাহ।
উদ্দীপকে ভাষা আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই বাঙালিদের সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বশ্যতা স্বীকার করানোর জন্য পাকিস্তানিরা উঠে পড়ে লাগে। ১৯৪৭ সালেই উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব আসলে বুদ্ধিজীবীরা নানা রচনার মাধ্যমে তার প্রতিবাদ জানান। ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতায় বলেন, "উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।" বাংলার নির্ভীক ছাত্রসমাজ সাথে সাথে এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানায়। তারপর ১৯৫২ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দীন ঢাকার এক জনসভায় আবারও ঘোষণা করেন, "উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।" এ ঘোষণা শোনা মাত্রই পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। ভাষা আন্দোলনের গতিকে তীব্রতর করতে গঠিত হয় 'সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ'। তীব্র আন্দোলন চলার এক পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি জারিকৃত ১৪৪ ধারা ভেঙে ছাত্ররা মিছিল বের করে। মিছিলে পুলিশ বাহিনী গুলি করলে বরকত, জব্বার, রফিক প্রমুখ শহিদ হন।
উদ্দীপকের আইদান প্রভাত ফেরীতে শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে বাবাকে জিজ্ঞেস করে, আমরা শহিদ মিনারে কেন ফুল দেই? বাবা বলেন, এই দিনে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য ছাত্রজনতা বুকের রক্ত রাজপথে ঢেলে দিয়েছিল। তাদের স্মরণে আমরা শহিদ মিনারে ফুল দেই। পূর্বোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, আইদানের বাবার বক্তব্যে ভাষা আন্দোলনের প্রতিচ্ছবিই ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের দিবসটি অর্থাৎ শহীদ দিবসের মতোই স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস ইত্যাদি বাংলাদেশের নগর সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে।
বাঙালির বিভিন্ন দিবস পালনকে সাংস্কৃতিক অথবা আর্থ-সামাজিক যেভাবেই বিবেচনা করি না কেন, তার গুরুত্বকে অস্বীকার করা যায় না। গ্রামীণ ও নগর সংস্কৃতিতে এসব দিবস পালনের অনুষ্ঠানে ভিন্নতা দেখা যায়। স্বাভাবিকভাবেই গ্রামীণ সংস্কৃতি অপেক্ষা নগর সংস্কৃতিতে যেকোনো দিবস ঘটা করে পালন করা হয়। যেমন ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস। এ দিনটি উপলক্ষে নগরে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড হাতে নেওয়া হয়। যেমন- আনন্দ র্যালি বের করা, বিভিন্ন সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, ইত্যাদি করা হয়। এসব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সবসময়ই নগরবাসীকে অনুপ্রেরণা যোগায়। এ কারণে নগর সমাজের মানুষ জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন দিবসের অনুষ্ঠানে আগ্রহ সহকারে অংশগ্রহণ করে। এছাড়া এ জাতীয় অনুষ্ঠান নগর সমাজের শিশুরা খুব কাছে থেকে উপভোগ করে বলে তাদের মধ্যে গভীর দেশপ্রেম দানা বাঁধতে থাকে। ফলে দেশের প্রতি তাদের মনে গভীর ভালোবাসার সৃষ্টি হয়। শুধু তাই নয়, এসব দিবস উদযাপন নগর সমাজের সব শ্রেণি ও পর্যায়ের মানুষের মধ্যে এক ধরনের জাতীয়তাবাদী চেতনা তৈরি করে।
উপরের আলোচনার আলোকে বলা যায়, বাঙালির বিভিন্ন দিবস উদযাপন নগর সংস্কৃতি বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
সংস্কৃতি জাতির পরিচয় বহন করে।
সাঁওতালরা মূলত এ দেশে আসে কৃষি মজুর হয়ে, জমি পরিষ্কার করে চাষাবাদ করার জন্য, রেললাইন বসাতে এবং চা বাগানের শ্রমিক হিসেবে। ধারণা করা হয়, বর্তমান সাঁওতালদের পূর্বপুরুষরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার রাজ্য ও অন্যান্য পার্বত্য অঞ্চল থেকে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে এসে এখানকার পার্বত্য এলাকা ও আশপাশের বন-জঙ্গলে ও পতিত জমিতে বসতি স্থাপন করে। পরে তারা এসব বন-জঙ্গল পরিষ্কার করে পতিত জমিকে চাষযোগ্য করে তোলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!