কালো দতের কালি দিয়ে কবি কেতাব কোরান লেখেন।
আলোচ্য চরণের মধ্য দিয়ে রূপাইয়ের লাঠি খেলার পারদর্শিতা সম্পর্কে প্রশংসা করা হয়েছে।
কৃষকের কালো ছেলে রূপাই সব কাজে পারদর্শী। সে গ্রামের সবার কাজে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে। খেলার মাঠেও সে সমান দক্ষ। আখড়াতে তার অনেক সুনাম, কারণ সে লাঠি খেলায় সবার থেকে ভালো। এ কারণে খেলার দলে সবাই তাকে নিয়ে টানাটানি করে। ভালো খেলে বলেই তার লাঠির অনেক মান। আলোচ্য চরণের মধ্য দিয়ে কবি কৃষক-সন্তান রূপাইয়ের লাঠি খেলার দক্ষতার প্রশংসা করেছেন।
উদ্দীপকের শ্যামলীর মনোভাবের সাথে 'রূপাই' কবিতার কবির মনোভাবের বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
কর্মের মধ্য দিয়েই মানুষ অমর হয়; দেশ ও দশের উন্নতি হয়। কর্মদক্ষ ছেলেদের দ্বারাই দেশের সার্বিক মঙ্গল সাধন হয়।
'রূপাই' কবিতায় কবি গ্রামবাংলার অসাধারণ রূপ এবং এই রূপের মধ্যে বড় হওয়া কৃষক-সন্তানের রূপ-সৌন্দর্য ও কর্মদক্ষতার কথা প্রকাশ করেছেন। কবির মতে কৃষকের এই কালো ছেলে সবার বুক জুড়ায়। তার কর্মদক্ষতা, খেলার পারদর্শিতা দেখে কবির মনে হয় রূপার চেয়ে দামি এই কৃষক-সন্তানটির নামেই একদিন এই গাঁ পরিচিত হবে। অন্যদিকে শ্যামলী তার নিজ সন্তান বাঁধনকে নিয়ে গর্ব করেছে। সে সন্তানের সাফল্যে গর্বিত মাতা। তার আত্মবিশ্বাস তার সন্তান একদিন দেশের বাইরে গিয়েও দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনবে। মূলত উদ্দীপকের মা শ্যামলী শুধু নিজের সন্তানের গুণ ও গর্বের কথা প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে কবি গ্রামীণ সৌন্দর্যের পটভূমিতে একজন কৃষক-সন্তানের মধ্য দিয়ে বাংলার সব কৃষকের বন্দনা করেছেন। তাই আমরা বলতে পারি যে, উদ্দীপকের শ্যামলীর মনোভাবের সাথে 'বুপাই' কবিতার কবির মনোভাবের বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।
"উদ্দীপকের ভাবনা 'রূপাই' কবিতার মূল চেতনাকে ধারণ করতে পারেনি।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
কৃষকরা আমাদের দেশের প্রাণ। তাদের অবদানেই সভ্যতার চাকা সচল থাকে। এ কারণে তাদের কর্ম ও কর্মসাধনাকে শ্রদ্ধার চোখে দেখা উচিত।
উদ্দীপকের বাঁধন তার মায়ের একমাত্র সন্তান। সে পড়ালেখা এবং খেলাধুলায় পারদর্শী। সে স্কাউট হিসেবে রাষ্ট্রপতি এওয়ার্ড অর্জন করেছে। তার এ সাফল্যে তার মা শ্যামলী গর্বিত। সে মনে করে তার সন্তান একদিন দেশের বাইরে গিয়ে নিজের দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনবে। অন্যদিকে 'রূপাই' কবিতায় রূপাইয়ের রূপের বর্ণনা এবং কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রমের বর্ণনা পাওয়া যায়। তারা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে সবার অন্নের জোগান দেয়। সবার জন্য খাদ্যের সম্ভার ও মঙ্গল বয়ে আনে। সে বাংলার সমস্ত কৃষকের প্রতিনিধি।
'রূপাই' কবিতায় কবি গ্রামবাংলার প্রকৃতি, কৃষকের রূপ ও কর্মোদ্যোগ অসাধারণ ভাষায় প্রকাশ করেছেন। এখানে গ্রামবাংলায় কৃষক কীভাবে সবার হিতসাধন করে তা তুলে ধরা হয়েছে। কবি রূপাইয়ের শারীরিক বর্ণনায় গ্রামীণ প্রকৃতিকে অনুষঙ্গ হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃষকের অবদানকে তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে উদ্দীপকে কেবল একজন মেধাবী ও দক্ষ খেলোয়াড়ের দক্ষতা দিয়ে সুনাম অর্জনের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allচাষির ছেলের 'গা-খানি' দেখতে শাওন মাসের তমাল তরুর মতো।
আলোচ্য চরণটির মধ্য দিয়ে কবি বোঝাতে চেয়েছেন সভ্যতা নির্মাণে চাষির ছেলের কৃতিত্ব।
কৃষক সভ্যতার নির্মাতা। দেশের অর্থনীতির চালক। কালো কৃষকরা সারা দিন রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে ফসল ফলিয়ে পৃথিবীকে এগিয়ে নিয়ে যান। চাষির ওই কালো ছেলে রূপাইও তার শ্রম দিয়ে সবকিছু জয় করেছে।
উদ্দীপক ও 'রূপাই' কবিতার আলোকে বলতে পারি আমার দেখা পল্লিগ্রামটি অতি মনোরম।
বাংলাদেশ গ্রামপ্রধান দেশ। এদেশের মানুষ প্রকৃতির নিবিড় বন্ধনে জড়িয়ে রয়েছে। বাংলার মাটে-ঘাটে ছড়ানো অবারিত সৌন্দর্য আমাদের মুগ্ধ করে।
'রূপাই' কবিতায় শস্য-শ্যামল বাংলার অপরূপ রূপের প্রকাশ ঘটেছে রূপাইয়ের শারীরিক বর্ণনার মধ্য দিয়ে। অন্যদিকে উদ্দীপকেও গ্রাম বাংলার ছায়াময় মায়াময় অবস্থার কথা প্রকাশ পায় গ্রাম্য বালক ছমির শেখের কাজে-কর্মে ও অবস্থায়। আমার নানাবাড়ির গ্রামটি ঠিক একই রকম। চারদিক সবুজে ঘেরা। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে নদী। সোনালি ফসল মাঠে বাতাসে দোল খায়। কৃষকরা সারা দিন মাঠে পরিশ্রম করে ফসল ফলান। এককথায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর গ্রামটি।
"উদ্দীপকটি 'রূপাই' কবিতার মূলভাবের খন্ডাংশ মাত্র"-মন্তব্যটি যথার্থ।
বাংলাদেশের গ্রামীণ প্রকৃতি মনোমুগ্ধকর। এদেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বাস করে। পেশাজীবীদের মধ্যে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ হচ্ছে কৃষিজীবী। কৃষকরা সরাসরি উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। তারা এ দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণে নিরলস পরিশ্রম করেন।
উদ্দীপকে গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা একজন দুরন্ত বালকের কর্মতৎপরতা ও মানবিক গুণের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। এ বিষয়টি 'রূপাই' কবিতায় প্রতিফলিত গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রূপাইয়ের কর্মতৎপরতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে তা সব দিক থেকে সমানভাবে নয়। কারণ কবিতায় রূপাইয়ের বাহ্যিক গড়ন ও মানসিক গঠনের যে পরিচয় দেওয়া হয়েছে অনুরূপ পরিচয় উদ্দীপকের বালকটির বেলায় দেওয়া হয়নি। রুপাইকে নিয়ে খেলার দলে টানাটানির বিষয়টিও অনুপস্থিত। কবিতায় কবি 'কালো' রঙের কৃষকের বিশেষত্বের কথাও প্রকাশ করেছেন যা উদ্দীপকে নেই।
'রূপাই' কবিতায় কবি গ্রাম-বাংলার প্রকৃতি, কৃষকের রূপ ও কর্মোদ্যোগ অসাধারণ ভাষায় প্রকাশ করেছেন। গ্রাম-বাংলার প্রকৃতির মধ্যে কালো ভ্রমর, রঙিন ফুল, কাঁচা ধানের পাতা, জালি লাউয়ের ডগার মতো চাষার ছেলের বাহু ইত্যাদি বিষয় আছে, যা আলোচ্য উদ্দীপকে নেই। উদ্দীপকে বর্ণিত বালকটি ফসলের বীজ বোনা ও যাত্রাদলায় অভিনয় করায় দক্ষ। তবে তা কবিতায় বর্ণিত কালো চাষার ছেলের মানবিকতা, পরিশ্রমী মনোভাব ও আখড়ায় লাঠি খেলায় বা জারির গানের দক্ষতাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো নয়। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
কবিতায় 'মরণ'-এর রং কালো।
কর্মদক্ষ এবং সাহসী বলে কবিতায় রূপাইকে 'বাপের বেটা' বলা হয়েছে।
'রূপাই' কবিতায় রূপের বর্ণনাসহ রূপাইয়ের স্বভাব বৈশিষ্ট্যের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। কৃষকের ছেলে রূপাইয়ের গায়ের রং কালো। সে বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে পুড়ে মাঠে সোনার ফসল ফলায়। এ কাজে তার ক্লান্তি নেই। শুধু কৃষিকাজই নয়, রূপাই খেলার মাঠেও দূরন্ত খেলোয়াড়। সবাই তাকে দলে নিতে টানাটানি করে। রূপাই আখড়াতে বাঁশের বাঁশি বাজায়, জারির গান গায়। গাঁয়ের বৃদ্ধরা রূপাইকে অনেক ভালোবাসেন। তারা রূপাইয়ের মঙ্গল কামনা করেন। রূপাইয়ে কর্মদক্ষতা ও সাহসে তারা মুগ্ধ। এ মুগ্ধতা থেকেই তারা প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!