ধর্মপাল ৭৮১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার সিংহাসনে বসেন।
মাৎস্যন্যায়ের কারণে সৃষ্ট চরম দুঃখ-দুর্দশা' হতে মুক্তিলাভের জন্য দেশের প্রবীণ নেতাগণ স্থির করলেন যে তারা পরস্পর বিবাদ-বিসম্বাদ ভুলে গিয়ে একজনকে রাজা পদে নির্বাচিত করবেন এবং সকলেই স্বেচ্ছায় তার প্রভুত্ব স্বীকার করবেন। জনগণও এ মত মেনে নেওয়ার ফলে গোপালকে রাজপদে নির্বাচিত করা হয়। এভাবে পাল বংশের প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে মাৎস্যন্যায়ের অবসান হয়।
উদ্দীপকের তালিকাটি সম্পূর্ণ নির্ভুল নয়।
প্রথম মহীপালের প্রতিষ্ঠিত শহর ও দীঘিগুলোর নাম ও অবস্থানের সাথে তালিকাটির মিল করলে দেখা যায় মাহীগঞ্জ ও মহীপুর শহর এবং মাহীপালের সাগরের অবস্থান সঠিক। কিন্তু মাহীসন্তোষ ও মহীপাল নগরী ও মহীপাল দীঘির অবস্থান সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। প্রকৃত পক্ষে মাহীসন্তোষ নগরী দিনাজপুর জেলায় এবং মহীপাল নগরী মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এছাড়া মহীপাল দীঘিটি দিনাজপুর জেলায় খনন করা হয়েছিল।
উদ্দীপকের তালিকায় একদল ছাত্র-শিক্ষকের কথায় প্রথম মহীপালের প্রতিষ্ঠিত শহর ও দীঘিগুলোর নাম ও অবস্থান উল্লেখ করে যে তালিকাটি তৈরি করেছেন তা সম্পূর্ণরূপে সঠিক না হওয়ায় এই তালিকাকে সম্পূর্ণ নির্ভুল বলা যাবে না।উদ্দীপকের তালিকায় একদল ছাত্র-শিক্ষকের কথায় প্রথম মহীপালের প্রতিষ্ঠিত শহর ও দীঘিগুলোর নাম ও অবস্থান উল্লেখ করে যে তালিকাটি তৈরি করেছেন তা সম্পূর্ণরূপে সঠিক না হওয়ায় এই তালিকাকে সম্পূর্ণ নির্ভুল বলা যাবে না।
তালিকায় বর্ণিত শহর ও দীঘিগুলো অবশ্যই মহীপালের জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দিয়েছিল।
শহরের উন্নয়ন একটি দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করে। অপরদিকে আমরা জানি পানির অপর নাম জীবন। দীঘি খনন করার ফলে প্রজাসাধারণ বিনা খরচে বিশুদ্ধ পানি পায়। মহীপাল তার গৃহীত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাঝে নাগরিকদের উন্নত জীবন নিশ্চিত করতে চেয়েছেন। এজন্য তিনি শহর প্রতিষ্ঠাসহ নাগরিকদের জন্য বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা বিধান করেন। এ সকল কর্মকাণ্ড মহীপালের জনপ্রিয়তা এতই বাড়িয়ে দেয় যে, তিনি পঞ্চাশ বছর রাজত্ব করতে সক্ষম হন। জনপ্রিয়তার জন্য তিনি ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
মহীপালের পঞ্চাশ বছরের রাজত্বকালে পালবংশের সৌভাগ্য রবি আবার উদিত হয়েছিল। পাল সাম্রাজ্যের দ্রুত অবনতির যুগে প্রথম মহীপালের আবির্ভাব না ঘটলে সাম্রাজ্যের রাজত্বকালের সময়কাল আরো সংকুচিত হতো। তাই বলা যায়, তিনি তার জনহিতকর কাজের মাধ্যমে যেমন নিজের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করেছিলেন, সেই সাথে পাল শাসনের সময়কালও বৃদ্ধি করেছিলেন।
Related Question
View Allখড়গ বংশের রাজধানীর নাম ছিল কর্মান্ত-বাসক।
সেনরা ব্রাহ্মণ থেকে পেশা পরিবর্তন করে ক্ষত্রিয় হওয়ায় তাদের ব্রহ্মক্ষত্রিয় বলা হয়। সেন বংশের লোকেরা প্রথমে ব্রাহ্মণ ছিল। কিন্তু কালক্রমে তারা পেশা পরিবর্তন করে ক্ষত্রিয় পেশা গ্রহণ করেন। ফলে কোনো কোনো ঐতিহাসিক তাদেরকে 'ব্রহ্মক্ষত্রিয়' বলেছেন।
উদ্দীপকে নবীনগরের শাসক অজয়ের কর্মকাণ্ডের সাথে সেন শাসক বিজয় সেনের কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে।
বিজয় সেনের পূর্বপুরুষদের আদি বাসস্থান ছিল সুদূর দক্ষিণাত্যের কর্ণাট। সেখান থেকে তারা বসতি স্থাপন করেন রায় অঞ্চলের গঙ্গা নদীর তীরে। বরেন্দ্র উদ্ধারে রামপালকে সাহায্য করার বিনিময়ে বিজয় সেন স্বাধীনতার স্বীকৃতি পান। এরপর তিনি তার সামরিক কৃতিত্ব দ্বারা রাজ্যসীমা বৃদ্ধি করেন এবং হুগলির ত্রিবেণীতে অবস্থিত বিজয়পুরে প্রথম রাজধানী স্থাপন করেন। ধর্মের দিক থেকে বিজয় সেন ছিলেন শৈব। অন্য ধর্মের প্রতি তার কোনো সহিষ্ণুতা ছিল না।
উদ্দীপকের অজয় তার পরিবারের-সাথে পুরোনো বাসস্থান ছেড়ে নবীনগরে নতুনভাবে বসবাস শুরু করেন। তিনি শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর এলাকার লোকজন ধর্মীয় বৈষম্যের শিকার হন। এ বিষয়গুলো বিজয় সেনের কর্মকাণ্ডের সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।
বিজয় সেনের বংশধরেরা শিক্ষা ও সাহিত্য বিকাশে যথেষ্ট অবদান রেখেছেন বলে আমি মনে করি।
বিজয় সেন বৈদিক ধর্মের প্রতি বেশ শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তিনি হিন্দুধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। পরবর্তীতে তার পুত্র বল্লাল সেন অত্যন্ত সুপণ্ডিত ছিলেন। বিদ্যা ও বিদ্বানের প্রতি তার যথেষ্ট অনুরাগ ছিল। তার একটি বিরাট গ্রন্থালয় ছিল। তিনি 'দানসাগর' ও 'অদ্ভুতসাগর' নামে দুটি গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি হিন্দুসমাজকে গঠন করার উদ্দেশ্যে- 'কৌলীন্য প্রথা' প্রবর্তন করেছিলেন। এর ফলে সামাজিক আচার-ব্যবহার, বিবাহ অনুষ্ঠান প্রভৃতি বিষয়ে কুলীন শ্রেণির লোকদিগকে কতকগুলো বিশেষ রীতিনীতি মেনে চলতে হতো। আর তার পুত্র লক্ষণ সেনও একজন সুপণ্ডিত ও বিদ্যোৎসাহী ছিলেন। পিতার অসমাপ্ত গ্রন্থ 'অদ্ভুতসাগর' তিনিই সমাপ্ত করেন। ধোয়ী, শরণ, জয়দেব, গোবর্ধন, উমাপতিধর প্রভৃতি প্রসিদ্ধ কবিগণ তার রাজসভা অলঙ্কৃত করতেন। ভারত প্রসিদ্ধ পণ্ডিত হলায়ুধ তার প্রধানমন্ত্রী ও ধর্মীয় প্রধান ছিলেন।
তাই বলা যায়, বিজয় সেনের বংশধরেরা যথার্থই শিক্ষা ও সাহিত্য বিকাশে অবদান রেখেছেন।
পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন গোপাল।
শশাংকের মৃত্যুর পর বাংলার ইতিহাসে যে দুর্যোগপূর্ণ অন্ধকারময় যুগের শুরু হয়েছিল তা মাৎস্যন্যায় হিসেবে অভিহিত। এ সময় বাংলায় কেন্দ্রীয় শাসন শক্ত হাতে ধরার মতো কেউ ছিলেন না। ফলে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা দেখা দেয়। ভূস্বামীরা প্রত্যেকেই বাংলার রাজা হওয়ার কল্পনায় একে অন্যের সাথে সংঘাতে মেতে ওঠে। এ সময়কালকে আখ্যায়িত করা হয়েছে 'মাৎস্যন্যায়' বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!