ঘরের মেঝেতে ১৫-২০ সেমি পুরু কাঠের গুঁড়া, ধানের তুষ ইত্যাদি দ্বারা বিছানা তৈরি করে মুরগি পালন করাকে লিটার পদ্ধতি বলা হয়।
সাধারণ তাপমাত্রায় জীবাণু দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে তাই দুধ সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে নষ্ট হয়ে যায়।
দুধের রাসায়নিক পরিবর্তন খুব সহজে ঘটে। দীর্ঘ সময় দুধ কাঁচা অবস্থায় থাকলে দুধের গুণাগুণ ও পুষ্টিমান নষ্ট হয়ে যায়। কারণ সাধারণ তাপমাত্রায় বিভিন্ন জীবাণু দুধে ল্যাকটিক এসিড উৎপন্ন করে। ফলে দুধ টক স্বাদযুক্ত ও নষ্ট হয়ে যায়। দুধ সংরক্ষণ পদ্ধতি অবলম্বন করলে অধিকাংশে ক্ষতিকর জীবাণু বিনষ্ট হয়ে যায়। ফলে দুধ দীর্ঘক্ষণ ভালো থাকে। সংরক্ষণ করলে দুধের পুষ্টিমান ঠিক থাকে এবং কোনো বিস্বাদের সৃষ্টি হয় না।
উদ্দীপকের (i) নং কার্যক্রমটি হলো হাত দিয়ে গাভির দুধ দোহন।
হাত দিয়ে দুধ দোহন কার্যক্রমে।. দোহনকারীর হাত ভালো করে ধুয়ে নিতে হয়। ii. গাভির ওলান কুসুম গরম পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার কাপড় বা তোয়ালে দিয়ে মুছে নিতে হয়। iii. দোহনের সময়ে ওলানের বাঁটের গোড়া বন্ধ রেখে বাঁটের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে হয়। iv. চাপের ফলে বাঁটের মধ্যে জমা হওয়া দুধ বের হয়ে আসে। আবার চাপ সরিয়ে নিলে বাঁটে এসে দুধ জমা হয়। এভাবে প্রক্রিয়াটি চলতে থাকে। v. হাত দিয়ে দোহনের সময় গাভির বামপাশ থেকে শুরু করতে হয়। vi. হাত দিয়ে দুধ দোহনের সময় প্রথমে সামনের দুই বাঁট একসাথে ও পরে পিছনের দুই বাঁট একসাথে দোহন করা হয়। অনেকে গুণ (×) চিহ্নের মতো সামনের একটি ও পিছনের একটি বাঁট একসাথে অথবা যে বাঁটে দুধ বেশি আছে বলে মনে হয় সেগুলো আগে দোহন করে থাকে।
উল্লেখ্য যে, এ পদ্ধতিটি অল্প সংখ্যক গাভির দুধ দোহনের ক্ষেত্রে কার্যকর।
উদ্দীপকের (ii) নং কার্যক্রমটি হলো দুধ পাস্তুরিকরণ।
দুধ নষ্টকারী অণুজীব অতি উচ্চ তাপমাত্রায় ও নিম্ন তাপমাত্রায় জন্মাতে ও বংশবিস্তার করতে পারে না। এই তাপমাত্রা ব্যবহার করে দুধের রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু নিয়ন্ত্রণ করার উপায় হলো পাস্তুরিকরণ।
দুধ পাস্তুরিকরণের সুবিধাসমূহ নিচে দেওয়া হলো-
i. পাস্তুরিকৃত দুধে রোগ উৎপাদনকারী জীবাণু ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, ফলে এ দুধ নিরাপদ।
ii. পাস্তুরিকরণ দুধে ল্যাকটিক এসিড প্রস্তুতকারী জীবাণুর সংখ্যা কমিয়ে দুধের সংরক্ষণকাল দীর্ঘায়িত করা হয়।
iii. পাস্তুরিকরণে দুধের এনজাইম নষ্ট হয়ে যায়। ফলে দুধ দীর্ঘক্ষণ ভালো থাকে।
iv. পাস্তুরিকরণের ফলে অধিকাংশ ক্ষতিকর জীবাণু বিনষ্ট হয়ে যায়।
v. পাস্তুরিকৃত দুধে পুষ্টিমান ঠিক থাকে এবং কোনো বিস্বাদের সৃষ্টি হয় না।
পাস্তুরিকরণের ফলে যেসব অসুবিধা হয় তা নিম্নে দেওয়া হলো-
i. পাস্তুরিকরণ প্রক্রিয়া আদর্শ উপায়ে করতে না পারলে অতিরিক্ত আলোচ্ছলে দুধের চর্বিকণা পৃথক হতে পারে।
ii. তাপ সংবেদনশীল ভিটামিন নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
iii. উচ্চতাপজনিত কারণে কিছুটা বিস্বাদের সৃষ্টি করতে পারে।
উল্লিখিত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, দুধ সংরক্ষণে পাস্তুরিকরণ প্রক্রিয়ার অসুবিধার চেয়ে সুবিধাই বেশি।
Related Question
View Allপরিবারের সদস্যদের পুষ্টি ও আর্থিক চাহিদা মেটানোর জন্য যে খামারের মাধ্যমে শস্য, শাকসবজি, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও মৎস্য উৎপাদন করা হয় তাকে পারিবারিক খামার বলে।
যে খামার আকারে বড় এবং তাতে উৎপাদন, লেনদেন ও আমদানি- রপ্তানি বেশি তাকে বাণিজ্যিক খামার বলে।
বেকারত্ব দূরীকরণ, আত্মকর্মসংস্থান, আর্থিক স্বচ্ছলতা, পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও বাড়তি আয়ের ব্যবস্থার জন্য বাণিজ্যিক খামার প্রয়োজন। বাণিজ্যিক খামারের মাধ্যমে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখা যায়। দেশের কৃষি উৎপাদনে ও জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে বাণিজ্যিক খামার সাহায্য করে।
আরিফ ও হাসিফ দীর্ঘদিন নিজ আঙিনায় দেশি জাতের মুরগি পালন করে। এতে তেমন লাভবান হতে পারেননি। পরবর্তীতে তারা পোল্ট্রি খামারের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে পারিবারিক পোল্ট্রি খামার স্থাপন করে অল্প সময়ের মধ্যেই সফলতা লাভ করেন।
আরিফ ও হাসিফ পারিবারিক পোল্ট্রি খামার স্থাপনের মাধ্যমে উন্নত জাতের মুরগি পালন করেন। সফলভাবে পারিবারিক পোল্ট্রি খামার পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষণ থাকা উচিত। বিশেষ করে পোল্ট্রির জাত, বাসস্থান, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং টিকাদান কর্মসূচী সম্পর্কে জ্ঞান থাকা আবশ্যক। তারা প্রশিক্ষণ নিয়ে এসব বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে খামার পরিচালনা করে এবং তা থেকে অধিক মাংস ও ডিম পায়।
মূলত পোল্ট্রি পালনের সব ধরনের জ্ঞান থাকার জন্যই আরিফ ও হাসিফ সফলতা লাভ করেন।
আরিফ ও হাসিফ লক্ষ করলেন তাদের পোল্ট্রি খামারের বর্জ্যগুলো বাড়ির পরিবেশকে দূষিত করছে। এ অবস্থায় তারা খামারের বর্জ্যগুলো পচিয়ে ফসলের জমিতে ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
জমি বা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি ও সংরক্ষণের জন্য নিয়মিত জৈব সার প্রয়োগ করতে হয়। জৈব সার মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ায়, মাটিস্থ উপকারী অণুজীবকে ক্রিয়াশীল রাখে, মাটির ভৌত ও রাসায়নিক গুণাবলী উন্নত করে। জৈব সার ব্যবহারে রাসায়নিক সারের পরিমাণ কম লাগে ফলে উৎপাদন খরচ কমে। উপরন্তু জৈব সার পরিবেশ বান্ধব। জৈব সার হিসেবে পোল্ট্রির বর্জ্য বেশ উৎকৃষ্ট ও উপযোগী। কাজেই তাদের খামারের বর্জ্যগুলো ফসলের জমিতে ব্যবহারের ফলে বাড়ির পরিবেশ দূষণমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন থাকবে। উপরন্তু জমির উর্বরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
সুতরাং এই আলোচনা থেকে বলা যায়, আরিফ ও হাসিফের উদ্যোগটি খুবই যুক্তিযুক্ত।
পুকুরে অতিরিক্ত কাদা হলে একটি দড়ির মধ্যে ইটের টুকরা বেঁধে তা পানিতে টেনে তলার গ্যাস দূর করার উপকরণটিকে বলে হররা।
পুকুরের তলায় অতিরিক্ত কাদার উপস্থিতি এবং বেশি পরিমাণ লতাপাতা ও আবর্জনা পচনের ফলে গ্যাসের সৃষ্টি হয়। এতে করে পানি বিষাক্ত হয়ে মাছ মারা যায়।
এক্ষেত্রে হররা (একটি মোটা দড়ির সাথে ছোট ছোট দড়ি দ্বারা ইট ঝুলিয়ে বেঁধে দেওয়া) টেনে পুকুরের তলার গ্যাস দূর করার ব্যবস্থা করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!