ইসলামি রাষ্ট্রে পরামর্শ সভার নাম মজলিশে শুরা।
ইসলামের ইতিহাসে প্রথম লিখিত সনদকেই মদিনা সনদ বলা হয়।
কাফির ও মুশরিকদের নিপীড়ন নির্যাতনের ফলে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে রাসুল (স) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পর প্রত্যক্ষ করেন- সেখানকার খ্রিষ্টান, ইহুদি, পৌওলিক সবাই বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত এবং পারস্পরিক হিংসা ও হানাহানিতে লিপ্ত। এ পটভূমিতে রাসুল (স) মদিনাবাসীর সব নাগরিকের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ প্রতিষ্ঠা করতে এবং মদিনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতি মনোযোগ দেন। এ লক্ষ্যে ৬২৪ খ্রি: মদিনায় বসবাসকারী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সর্বসম্মত কয়েকটি নীতিমালার ভিত্তিতে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তিই ইসলামের ইতিহাসে 'মদিনা সনদ' নামে পরিচিত। এ সনদের ৪৭ টি ধারা রয়েছে।
উদ্দীপকে শাপলা দলের শিক্ষার্থীরা ইসলামি রাষ্ট্রের কয়েকটি বৈশিষ্ট্যর কথা উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে কল্যাণ রাষ্ট্র ও ধর্মীয় স্বাধীনতা ভিত্তিক রাষ্ট্র ইসলামি রাষ্ট্রের অন্যতম দুটি বৈশিষ্ট্য। ইসলামি রাষ্ট্র অঞ্চল, বর্ণ বা জাতীয়তার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত কোনো রাষ্ট্র নয় বরং এ রাষ্ট্র হলো ইসলামি আদর্শের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত কল্যাণকামী ও ধর্মীয় স্বাধীনতাভিত্তিক রাষ্ট্র। যা শাপলা দলের আলোচনায় ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের শাপলা দলের ৪ এবং ৫নং বৈশিষ্ট্যে বলা হয়েছে, ইসলামি রাষ্ট্র হলো কল্যাণ রাষ্ট্র ও ধর্মীয় স্বাধীনতাভিত্তিক। কেননা আল্লাহ তায়ালার প্রতি ইমান পোষণ এবং ইসলামি অনুশাসন মেনে যে কেউ এ রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে পারে। এমনকি ইমান না এনে শুধু জিজিয়া প্রদানের অঙ্গীকারে অমুসলিমরাও রাষ্ট্রের নাগরিক হতে পারে। ইসলামি রাষ্ট্র সবাইকে সমান নিরাপত্তা দেয়। মুসলিমদের জাতীয় দায়িত্ব হলো মানুষকে হিদায়াতের পথে আহ্বান জানানো। তাই এটি কল্যাণকামী রাষ্ট্র। ইসলামি রাষ্ট্র একটি উদার ধর্মীয় রাষ্ট্র। এ রাষ্ট্রে সব নাগরিকের নিজ নিজ ধর্মপালনের অবাধ সুযোগ থাকে। জোর করে ধর্মান্তরিত করার বিধান ইসলামি রাষ্ট্রে নেই। আল্লাহ তায়ালা ধর্মপালনের স্বাধীনতার অধিকার ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন- 'ধর্মে কোনো বাড়াবাড়ি নেই'।
কদম দলের উল্লেখকৃত ইসলামি-রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে অন্যতম দুটি বৈশিষ্ট্য হলো- মৌলিক অধিকার ও রাজনৈতিক অধিকারের নিয়শ্চয়তা দান। ইসলামি রাষ্ট্র তার নাগরিকদের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার দেয়। নির্দ্বিধায় ও নির্বিঘ্নে সে নিজের মত প্রকাশ করতে পারে। এ রাষ্ট্রে সীমালঙ্ঘন না করে ব্যক্তি সবরকম রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করেন। আর অবাধ যাতায়াত ও ভোেট প্রদানের অধিকার থাকে। ইসলামি রাষ্ট্র নাগরিকদের মৌলিক মানবাধিকার পূরণেরও নিশ্চয়তা দেয়। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বিনোদন মানুষের মৌলিক মানবাধিকার। যা ছকে কদম দলের আলোচনায় ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের কদম দলের আলোচনায় ইসলামি রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুটি বৈশিষ্ট্য তথা রাজনৈতিক অধিকার ও মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তার কথা বলা হয়েছে। ইসলামি রাষ্ট্রের নাগরিকদের শুধু মৌলিক ও রাজনৈতিক অধিকার নয় বরং মৌলিক অধিকার থেকে শুরু করে, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয়, স্বাধীনতাসহ সব ধরনের অধিকার দেওয়া হয়েছে। ইসলামি রাষ্ট্রে নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকারকে সুরক্ষিত করার জন্য রাসুল (স) বলেছেন, 'ইসলামে ন্যায়সঙ্গত কারণ ব্যতীত কাউকে বন্দি রাখা যায় না।' (মুয়াত্তা)। আবার ইসলামি রাষ্ট্র রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় নাগরিকদের মৌলিক অধিকার পূরণে পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ক্ষমতাসীন হওয়ার পর অর্ধ জাহানের খলিফা হযরত ওমর (রা) এজন্যই বলেছিলেন- 'যদি ফোরাতের তীরে কোনো একটি কুকুরও না খেয়ে মারা যায় সেজন্য আমাকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।'
Related Question
View Allদুঃখ-কষ্ট ও বিপদে-আপদে বিচলিত না হয়ে আল্লাহর ওপর ভ ভরসা রেখে দৃঢ়তার সাথে তা সহ্য করাকে সবর বলা হয়।
যারা রাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করে, রাষ্ট্রপ্রদত্ত সুযোগ- সুবিধা ভোগ করে এবং রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে তারাই নাগরিক। উৎপত্তিগত অর্থে নগরের অধিবাসীদেরই নাগরিক বলা হয়। কিন্তু আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে নাগরিক হতে হলে রাষ্ট্র প্রদত্ত অধিকার ভোগের পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন ও কর্তব্য পালন করাও অত্যাবশ্যক।
রিয়াজ সাহেবের মধ্যে তাওয়াক্কুলের অভাব লক্ষণীয়। তাওয়াক্কুল শব্দের অর্থ ভরসা বা নির্ভর করা। কোনোকিছু অর্জনের জন্য চেষ্টা বা সাধনা করার পর সফলতার জন্য মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা বা নির্ভর করাকে তাওয়াক্কুল বলে। আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, বান্দা আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট। কিন্তু রিয়াজ সাহেবের ক্ষেত্রে তাওয়াক্কুলের অভাব লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকের রিয়াজ সাহেবের ছেলে অসুস্থ হলে তিনি বিচলিত হয়ে পড়েন। এক্ষেত্রে তার আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ধৈর্যধারণ করা উচিত ছিল। কিন্তু তিনি তা না করে বলেন, ডাক্তার ছাড়া তার আর কোনো উপায় নেই। রিয়াজ সাহেবের ছেলেকে ভালো করার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর। যা ডাক্তার সাহেবের কথায় প্রমাণিত হয়েছে। খাঁটি মুমিন হতে হলে জীবনের সবক্ষেত্রে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করতে হবে। যারা আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন। তাওয়াক্কুল করলে আল্লাহর সাহায্য পাওয়া যায়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট' (সুরা আত-তালাক: ৩)। রোগ হলে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে এবং ওষুধ খেতে হবে। আর আল্লাহর কাছে ভালো হওয়ার জন্য প্রার্থনা করতে হবে, ধৈর্যধারণ করতে হবে এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করতে হবে। কিন্তু রিয়াজ সাহেব তা করেননি। তাই বলা যায়, তার মধ্যে তাওয়াক্কুলের অভাব রয়েছে।
ডাক্তার সাহেবের উক্তিতে ইসলামি রাষ্ট্রে একজন নাগরিকের অধিকারের বিষয়টি যথাযথভাবে ফুটে উঠেছে। ইসলামি রাষ্ট্রের নাগরিকরা যেকোনো বিষয়ে একমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা করবে এবং তাঁর কাছে সাহায্য চাইবে। উদ্দীপকে রিয়াজ সাহেব তার অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে বিচলিত হয়ে পড়লে ডাক্তার সাহেব তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল বা ভরসা করুন। আমরা উসিলা মাত্র। আর একজন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেক ব্যক্তিরই সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপনের অধিকার আছে। আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করছি মাত্র। এখানে ডাক্তার সাহেব একজন মুমিন ব্যক্তি হিসেবে প্রমাণিত হন। তিনি তার বক্তব্যে আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা করা এবং রিয়াজ সাহেবকে বিচলিত না হওয়ার পরামর্শ দেন। ইসলামি রাষ্ট্রের একজন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের সুন্দর ও সুস্থভাবে জীবনযাপনের অধিকার আছে। আর এই সুন্দর সুস্থ জীবনযাপনের ক্ষেত্রে তিনি তার দায়িত্ব পালন করছেন। কেননা ডাক্তার হিসেবে তার দায়িত্ব রোগীকে সঠিক চিকিৎসা সেবা দেওয়ার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করা। সুস্থ করার মালিক একমাত্র আল্লাহ। এক্ষেত্রে তার মধ্যে কর্তব্যপরায়ণতার দিকটিও ফুটে ওঠে। তিনি নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ইসলামি রাষ্ট্রে প্রত্যেক নাগরিকের সুষ্ঠু, সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। আর এ অধিকার পূরণে রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিক নিজ নিজ অবস্থান থেকে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করবে। ডাক্তার সাহেবের বক্তব্যে এ বিষয়টির প্রতিফলন ঘটেছে।
অমুসলিম নাগরিকদের অধিকার বলতে ইসলামি রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধাকে বোঝায়। ইসলামি রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকদের জান-মাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা থাকবে। রাষ্ট্র তাদের স্বাধীনভাবে ধর্মকর্ম পালনের সুযোগ-সুবিধা দেবে। ধর্মের ব্যাপারে কোনো জোর-জবরদস্তি করা যাবে না। অমুসলিম নাগরিক যাতে তাদের মৌলিক প্রয়োজন যেমন- অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা এগুলো নিশ্চিত করতে পারে সে ব্যবস্থা নিতে হবে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদ ছাড়া ইসলামি রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকদের চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!