ষাট বছরের বৃদ্ধ মকবুলের সাথে বিয়ে হয় তেরো বছরের টুনির। ধানভানা থেকে শুরু করে জমির কাজ সবই মকবুল টুনির দ্বারা করায়, তবুও সে মকবুলের মন পায় না। মকবুলের চাচাতো ভাই মঞ্জু টুনির রূপে ও দুক্রে যুদ্ধ। টুনি মাঝে মাঝে স্বপ্ন দেখে মঞ্জুর সাথে চলে যাওয়ার। কিন্তু যেতে পারে না।

Updated: 2 months ago
উত্তরঃ

নিমগাছের ছাল, পাতা ও কচি ডাল যকৃতের জন্য ভারি উপকারী।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

নিমগাছটি নতুন লোকটির সাথে চলে যেতে চেয়েছিল কারণ সে লোকটিকে নিজের প্রতি সহমর্মী ও গুণগ্রাহী মনে করেছিল। এতদিন সে শুধু অন্যকে দিয়ে গেছে, কিন্তু নতুন লোকটি তাকে শুধু প্রশংসা করেছে এবং তার মূল্য বুঝেছে, তার কাছ থেকে কিছু চায়নি।

সাহিত্যে নিমগাছটি এমন এক মানুষের প্রতীক, যে নীরবে নিজের সবকিছু অন্যের জন্য উৎসর্গ করে যায় কিন্তু বিনিময়ে কোনো স্বীকৃতি বা নিজের জন্য স্বাধীনতা পায় না। নতুন লোকটির সাথে যাওয়ার বাসনাটি ছিল তার একঘেয়ে শোষণ ও অবিরাম সেবার জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে নিজের যোগ্য সম্মান ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষারই প্রতিচ্ছবি।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

‘নিমগাছ’ গল্পে লেখক সমাজের অবহেলিত, নিপীড়িত ও বন্দি নারীর জীবনকে একটি নিমগাছের প্রতীকের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। নিমগাছ যেমন নিরন্তর মানুষের সেবা করে যায়, নিজের গুণাগুণ বিলিয়ে দেয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার কোনো মূল্য বা মুক্তি পায় না, ঠিক তেমনি সমাজের অনেক নারীও স্বামীর সংসারে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েও অবহেলা ও বন্দিদশার শিকার হয়। এই গল্পে নিমগাছটি হলো সেবাদানকারী স্ত্রী, আর এর ব্যবহারকারীরা হলো স্বামী বা সমাজ।

উদ্দীপকের মকবুল চরিত্রটি ‘নিমগাছ’ গল্পের সেই দিকটিকে ইঙ্গিত করে যেখানে নিমগাছকে ব্যবহার করা হয় কিন্তু তার কোনো প্রকার মূল্য দেওয়া হয় না। মকবুল ষাট বছরের বৃদ্ধ হয়ে তেরো বছরের কিশোরী টুনিকে বিয়ে করে তার শ্রমের উপর নির্ভর করে জীবনযাপন করে। টুনি ধানভানা থেকে শুরু করে জমির কাজ পর্যন্ত সব করে দিলেও মকবুলের কাছ থেকে সে কোনো মমতা, ভালোবাসা বা স্নেহ পায় না। মকবুলের এই আচরণ নিমগাছের সেবাদানকারী দিকটির বিপরীতে তার ব্যবহারকারী মানুষের অসংবেদনশীলতাকে প্রকাশ করে।

এক্ষেত্রে মকবুল সমাজের সেই নিপীড়ক ও সংবেদনহীন স্বামীর প্রতীক, যে নিজের স্ত্রীর প্রতি কোনো ভালোবাসা না দেখিয়ে কেবল তার শ্রম ও জীবনকে ভোগের বস্তু হিসেবে দেখে। ‘নিমগাছ’ গল্পে যেমন গাছটি নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকে, তেমনি টুনির জীবনও মকবুলের শোষণে ও অবহেলায় আবদ্ধ। মকবুল টুনির এই বন্দিদশা ও অবহেলার প্রধান কারণ, যা ‘নিমগাছ’ গল্পের অবহেলিত, মুক্তিপ্রত্যাশী অথচ বন্দি নারীর প্রতিচ্ছবিকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

হ্যাঁ, আমি এই বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ একমত যে উদ্দীপকের টুনি যেন 'নিমগাছ' গল্পের লক্ষ্মীবউয়েরই প্রতিচ্ছবি। সমাজের অবহেলিত, নিগৃহীত ও স্বাধীনতা বঞ্চিত নারীর প্রতীক হিসেবে উভয় চরিত্রের মধ্যে গভীর সাদৃশ্য বিদ্যমান।

উদ্দীপকের তেরো বছরের কিশোরী টুনির জীবন বাল্যবিবাহের এক নির্মম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। ষাট বছরের বৃদ্ধ মকবুলের সাথে তার বিয়ে হয় এবং সে স্বামীর কোনো স্নেহ-মমতা না পেয়ে দাসীর মতো ধানভানা থেকে শুরু করে জমির কাজ পর্যন্ত সকল দায়িত্ব পালন করে। টুনির এই যাপিত জীবন বনফুলের 'নিমগাছ' গল্পের লক্ষ্মীবউয়ের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। লক্ষ্মীবউ যেমন তার পরিবারের সকলের সেবা করে, যত্ন নেয়, তাদের সব প্রয়োজন মেটায়, তেমনি টুনিও অপরের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করে চলে।

'নিমগাছ' গল্পের লক্ষ্মীবউ যেমন গৃহস্থালির সকল কাজ করে সবার উপকার সাধন করে, কিন্তু তার নিজস্ব সত্তা বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা সম্পূর্ণ উপেক্ষিত থাকে, তেমনি টুনিও বৃদ্ধ স্বামীর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখে চরম বঞ্চনার শিকার। তার শ্রমের কোনো মূল্য নেই, তার কোনো মানবিক মর্যাদা নেই। টুনি মকবুলের চাচাতো ভাই মঞ্জুর সাথে পালিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে, যা তার পরাধীন ও শৃঙ্খলিত জীবন থেকে মুক্তি পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষারই প্রকাশ। লক্ষ্মীবউয়ের মতোই টুনিও যেন সমাজের শোষণ ও বঞ্চনার শিকার এক নীরব প্রতিনিধি, যার সকল ত্যাগ ও সেবা সমাজের চোখে মূল্যহীন।

সুতরাং, উদ্দীপকের টুনি এবং 'নিমগাছ' গল্পের লক্ষ্মীবউ উভয়ের জীবনপ্রবাহে অবহেলা, শ্রমের প্রতিদানহীনতা এবং পরাধীনতার এক গভীর সাদৃশ্য সুস্পষ্ট। তাদের জীবন আমাদের সমাজে নারীদের অবস্থান এবং তাদের নীরব আত্মত্যাগের করুণ চিত্র তুলে ধরে, যেখানে তারা নিমগাছের মতো কেবল দিয়েই যায়, কিন্তু নিজেদের অস্তিত্বের জন্য কোনো যত্ন বা সম্মান পায় না।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
40

Related Question

View All
উত্তরঃ

'পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভার'- কথাটির মধ্য দিয়ে লেখক বাষ্প্রতিবন্ধী সুভার বিয়ের বয়স হওয়া সত্ত্বেও বিয়ে দিতে না পারায় পিতা-মাতার হৃদয়ের নীরব কষ্টকে বোঝাতে চেয়েছেন।

সুভা বাণীকন্ঠের ছোট মেয়ে। সে কথা বলতে পারে না। বাণীকণ্ঠ তার বড় দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু বাষ্প্রতিবন্ধী হওয়ায় ছোট মেয়ে সুভাকে বিয়ে দিতে পারেননি। তাই সুভার ভবিষ্যৎ নিয়ে বাণীকণ্ঠ এবং তার স্ত্রী উভয়েই চিন্তিত। সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে তাদের হৃদয়ে নীরব কষ্ট সৃষ্টি হয়। লেখক সেই কষ্টকেই বলেছেন- পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভার।

10.8k
উত্তরঃ

উদ্দীপকের প্রথম অংশের বক্তব্যে কল্যাণী ও সুভার শারীরিক প্রতিবন্ধিতার দিকটির সংগতি দেখানো হয়েছে।

শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে অনেকে সমাজে অবহেলার শিকার হয়। এতে সমাজের মানুষ হীনম্মন্যতার পরিচয় দেয়। প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহানুভূশীল হলে তবেই তারা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে এবং সমাজে সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারবে।

'সুভা' গল্পে সুভা কথা বলতে পারে না। আনন্দের বার্তা নিয়ে পৃথিবীতে এলেও কথা বলতে না পারার বিষয়টি কিছুটা সুভার বাবা- মায়ের মনে নীরব হৃদয়ভারের জন্ম দেয়। উদ্দীপকের কল্যাণীর জন্মও পরিবারে আনন্দ নিয়ে আসে। কিন্তু তার মানসিক প্রতিবন্ধিতার দিকটি সবাইকে চিন্তিত করে তোলে। তার মানসিক বিকাশ কিছুটা কম হয়েছে। 'সুভা' গল্পের সুভাও বাষ্প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার পরিবারের সবার দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে উদ্দীপকের বক্তব্যে কল্যাণী ও সুভার প্রতিবন্ধিতার দিকটি সংগতিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

7.7k
উত্তরঃ

কল্যাণী ও সুভা একই পরিস্থিতির শিকার হলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি ভিন্ন- মন্তব্যটি যথার্থ।

শারীরিক প্রতিবন্ধীরা আমাদের সমাজে বিভিন্নভাবে অবহেলার সম্মুখীন হয়। তারা আমাদের সমাজেরই অংশ, আমাদের মতোই মানুষ। তাই তাদের কল্যাণে এগিয়ে আসা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমাদের সহানুভূতি পেলে তারা জীবনের পূর্ণতা লাভ করবে।

উদ্দীপকে কল্যাণীর মানসিক বিকাশ ঠিকভাবে ঘটেনি। বিয়ের কথাবার্তায় তার বাবা পলাশ বাবু বরপক্ষের কাছে সে সব কথা খুলে বলেন। তারা সব শুনে উদারতার পরিচয় দেন। বরের বাবা সুবোধ বাবু মহত্ত্বের পরিচয় দিয়ে কল্যাণীকে ঘরে নিয়ে যেতে চান। অন্যদিকে 'সুভা' গল্পের সুভা বাষ্প্রতিবন্ধী। সে কথা বলতে পারে না। সবার কাছ থেকে অবহেলা পেলেও সুভা তার বাবার ভালোবাসা পেয়েছে। সুভার সাথে কেউ মেশে না বলে সে পোষা প্রাণীদের মাঝে নিজের একটি বিশাল জগৎ তৈরি করেছে।

উদ্দীপকের কল্যাণী ও 'সুভা' গল্পের সুভা একই পরিস্থিতির শিকার হলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি ভিন্ন। কল্যাণী সুবোধ বাবুর উদারতায় পেয়েছে সুন্দর ভবিষ্যতের সন্ধান। অথচ 'সুভা' গল্পের সুভার পরিণতি এতটা মানবিকতায় সিক্ত হয়নি। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

5.9k
উত্তরঃ

শঙ্খের মধ্যে যেমন সমুদ্রের শব্দ শুনা যায়, তেমনি এই লাইব্রেরির মধ্যে কি হৃদয়ের উত্থানপতনের শব্দ শুনিতেছ

8.1k
উত্তরঃ

‘জীবিত ও মৃত ব্যক্তির হৃদয় পাশাপাশি এক পাড়ায় বাস করিতেছে’ – উক্তিটির মাধ্যমে গ্রন্থাগার বা বইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। বইয়ের পাতায় মৃত বা বিগত প্রজন্মের জ্ঞানী-গুণী মানুষের চিন্তা, দর্শন, অভিজ্ঞতা ও সৃষ্টিশীলতা সংরক্ষিত থাকে। যখন একজন জীবিত পাঠক সেই বই পড়েন, তখন যেন মৃত লেখকের হৃদয় বা মননের সাথে জীবিত পাঠকের মনের নিবিড় সংযোগ ঘটে।

এভাবে বইয়ের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা জীবিত প্রজন্মের মধ্যে প্রবাহিত হয়, যা মানবজাতির নিরন্তর জ্ঞানচর্চাকে সম্ভব করে তোলে। লেখক এবং পাঠকের এই আত্মিক মিলনকে তুলনা করা হয়েছে একই পাড়ায় বসবাস করা হৃদয়ের সাথে, যেখানে সময় ও স্থানের বাধা অতিক্রম করে জ্ঞান ও উপলব্ধির এক নিরন্তর বিনিময় ঘটে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
6.1k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews