সংক্ষিপ্ত  উত্তর ও প্রশ্ন

Updated: 6 months ago
উত্তরঃ

বিষ্ণুর চতুর্থ অবতার নৃসিংহ ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ঈশ্বরকে ছয়টি গুণের জন্য ভগবান বলা হয়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ব্রহ্ম শব্দের অর্থ সর্ববৃহৎ ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

বিষ্ণুর তৃতীয় অবতার বরাহ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

'অনাদি পুরুষ' শ্রীকৃষ্ণ ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

শ্রীবিষ্ণুর প্রথম অবতার  হলো মৎস্য ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

কলিযুগের অন্তে অবতার হিসেবে কল্কির আবির্ভাব ঘটবে ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ওঁ-এর পূর্ণরূপ হলো অ-উ-ম ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ঈশ্বর যখন জীবের দয়া করেন, তখন তাঁকে  বলে ভগবান ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ঈশ্বরকে ছয়টি গুণের অধীশ্বর বলা হয় ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

অবতার তিন পর্যায়ের  হতে পারে ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ঈশ্বর যখন নির্গুণ থাকেন তখন তাকে নিরাকার বলে ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

সমস্ত আগামশাস্ত্রের বক্তা বলে ব্রহ্মা সুপরিচিত ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

'স্বয়ম্ভু' শব্দের অর্থ  নিজে নিজে সৃষ্টি হওয়া ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

অবতার' শব্দটি সংস্কৃত  শব্দ

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

'তমাদিদেব পুরুষঃ পুরাণ- শ্লোকাংশটি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা থেকে সংকলিত হয়েছে ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ব্রহ্মর মধ্যে সকল কিছুর অবস্থান ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ব্রহ্ম প্রকৃতি ও মহাবিশ্বকে তাঁর ঐশ্বরিক শক্তির মাধ্যমে রক্ষা করে থাকেন ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

আত্মা যখন নিজের মধ্যে অবস্থান করে তখন তাকে পরমাত্মা  বলে ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

'ওঙ্কার'-এর সংক্ষিপ্ত রূপ ওঁ ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

জগতের আদি কারণ ঈশ্বর ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ঈশ্বর পরম পুরুষ, তাঁর সহস্র মস্তক, সহস্ত্র চক্ষু, সহস্র চরণ-ঋগ্বেদ এ বর্ণিত আছে ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

কৃপা বলতে বোঝায় দয়া ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

বিষ্ণুর সপ্তম অবতার রাম ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

বিষ্ণুর সর্বশেষ অবতার কল্কি ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

জগতের নিধান-আধার আশ্রয়  ঈশ্বর ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ঈশ্বর তিনটি প্রধান ক্রিয়া সাধন করে ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ঈশ্বরের লীলার প্রকাশ ঘটে মহামায়া বা প্রকৃতির মধ্যে ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ঈশ্বর সৃষ্টির জন্ম ও মৃত্যু নির্ধারণ করেছেন ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

অপ্রাণী বলতে যার প্রাণ নেই এমন কিছু বোঝায় ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

যারা সৎ পথে চলেন তাদের ঈশ্বর ভালোবাসেন ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ঈশ্বর সৃষ্টির মধ্যে অবস্থান করেন ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ব্রহ্মা  সৃষ্টির দেবতা ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

রক্ষা ও প্রতিপালনের দেবতা বিষ্ণু ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

শিব সংহারের দেবতা ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ন্যায়শাস্ত্র অনুসারে ভালো কাজের ফলাফল শুভ এবং মন্দ কাজের ফলাফল অশুভ ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

সৌভাগ্য ও সৌন্দর্যের দেবী লক্ষ্মী

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

শিশুরা সাধারণত দেবী সরস্বতীর পূজার মাধ্যমে শিক্ষা জীবনে প্রবেশ করে ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ব্যবসায় বাণিজ্যে সিদ্ধি লাভের জন্য গণেশ পূজা করা হয় ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

সরস্বতী পূজার দিন হাতেখড়ি দেওয়া হয় ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

'সফলতার' দেবতা গণেশ ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

রোগ প্রতিরোধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার দেবী শীতলা ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ধ্বংসের দেবতা বলা হয় শিবকে ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

সিদ্ধি দেবতা গণেশ ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

কালীকে  সময় ও পরিবর্তনের দেবী বলা হয় ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

নারায়ণ ভগবান বিষ্ণুর অপর নাম ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

দুর্গা দেবীকে মহাবিশ্বের মহাশক্তি হিসেবে বিশ্বাস ও পূজা করা হয় ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

নাট্যশাস্ত্র ও বাস্তুশাস্ত্রের উদ্ভাবক ব্রহ্মা ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ঈশ্বরের শক্তির প্রকাশ দেব-দেবী ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ঈশ্বর বিষ্ণু রূপে সৃষ্টির প্রতিপালন করেন ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

চিকিৎসাশাস্ত্রে পারদর্শী শিব ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

বিদ্যার দেবী সরস্বতী ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

দেবতারা বিপদে পড়লে বিষ্ণু তাঁদের উদ্ধার করেন ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

নম্র ও বিনয়ী দেবতা কার্তিক ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

শীতলাকে স্বাস্থ্যবিধি পালন বা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দেবী বলা হয় ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

উপাসনা দুই ধরনের ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

মোক্ষলাভ বলতে ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ বোঝায়

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

প্রকৃত ধর্মপ্রাণ ব্যক্তির হৃদয় ঈশ্বরের অনুকম্পা লাভের জন্য উন্মুখ থাকে ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

প্রতীক উপাসনা ভক্তিযোগ যোগ নামে পরিচিত ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

'মোক্ষ' মানে  চিরমুক্তি ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

উপাসনার প্রধান উদ্দেশ্য মোক্ষলাভ ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

মনের দৃঢ়তা বৃদ্ধি করে উপাসনা ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

একোহহম্' বলা হয়েছে  উপনিষদে ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

প্রকৃত ধর্মপ্রাণ ব্যক্তির হৃদয় ঈশ্বরের অনুকম্পা লাভের জন্য উন্মুখ থাকে ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

'প্রতীক' শব্দের অর্থ চিহ্ন বা আকার ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ঈশ্বরের সাকার রূপ দেব-দেবী ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

'নিরাকার' শব্দের অর্থ যার কোনো আকার নেই ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ধ্যান সাধনার মাধ্যমে নিরাকার উপাসনা করা হয় ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

নিরাকাররূপে ঈশ্বর অদৃশ্য অবস্থায় অবস্থান করে ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

উপাসনা হৃদয়কে পরিশুদ্ধ ও পবিত্র করে ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

জীব ও জগতের জন্য অনেক লীলা করেছেন ভগবান বিষ্ণু ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ব্রহ্ম শব্দের অর্থ সর্ববৃহৎ, 'বৃহাত্বাৎ ব্রহ্ম'। যার থেকে বড় কেউ নেই। যিনি সকল কিছুর স্রষ্টা এবং যার মধ্যে সকল কিছুর অবস্থান ও বিলয় তিনিই ব্রহ্ম। ব্রহ্ম নিত্য, শুদ্ধ, সর্বজ্ঞ, মুক্ত, জ্যোতির্ময় নিরাকার, সর্বব্যাপী ও সর্বশক্তিমান। ব্রহ্ম যখন নিজের মধ্যে অবস্থান করেন তখন পরমাত্মা; জীবের মধ্যে অবস্থান করলে জীবাত্মা বলা হয়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

এ মহাবিশ্বে যিনি নিজেকে সৃষ্টি করেছেন, যিনি সকল দুঃখ থেকে মুক্ত। তিনিই এ মহাবিশ্বের স্রষ্টা, তাঁকে ব্রহ্ম, ঈশ্বর, ভগবান, অবতার এবং আত্মা নামে অভিহিত করা হয়েছে। ব্রহ্ম যখন জীব ও জগতের ওপর প্রভুত্ব করেন, তখন তিনি ঈশ্বর। ঈশ্বর যখন ভক্তের ডাকে সাড়া দেন, তখন তিনি ভগবান। আবার ঈশ্বর যখন জীবরূপ ধারণ করে পৃথিবীতে অবতরণ করেন, তখন তিনি অবতার।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ব্রহ্মকে 'ওঙ্কার' বলা হয়। ওঙ্কার সংক্ষেপে হচ্ছে ও। যার পূর্ণরূপ অ-উ-ম। এর অর্থ হচ্ছে সৃষ্টি, স্থিতি ও লয়কারী ব্রহ্ম। একই সাথে তিনি অজ, অনাদি, অনন্ত এবং শাশ্বত। 'ওঙ্কার' রূপে ব্রহ্ম নিরাকার ও নির্গুণ এবং তিনি নিশ্চল অবস্থায় অবস্থান করেন।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ব্রহ্মা যখন জীব ও জগতের ওপর, প্রভুত্ব করেন তখন তাকে ঈশ্বর বলা হয়। ঈশ্বরের রূপের শেষ নেই। তিনি অনন্তরূপী। জ্ঞানীর কাছে তিনি ব্রহ্ম, যোগীর কাছে তিনি পরমাত্মা এবং ভক্তের কাছে তিনি। ভগবান। ঈশ্বরকে পরমেশ্বর নামেও ডাকা হয়ে থাকে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ঈশ্বর সকল জীবের অন্তরাত্মা। কারণ তিনি যখন জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন তখন তাঁকে জীবাত্মা বলে। আত্মা যখন নিজের মধ্যে অবস্থান করে তখন তাকে পরমাত্মা বলা হয়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

'বৃহত্বাৎ ব্রহ্ম' বলতে বোঝানো হয়েছে যাঁর থেকে বড় আর কেউ নেই, যিনি, সকল কিছুর স্রষ্টা এবং যাঁর মধ্যে সকল কিছুর অবস্থান ও বিলয় তিনিই ব্রহ্ম। ব্রহ্ম শুধু প্রকৃতি ও মহাবিশ্বকেই সৃষ্টি করেননি, বরং তিনি প্রকৃতি ও মহাবিশ্বকে তাঁর ঐশ্বরিক শক্তির মাধ্যমে রক্ষাও করে থাকেন। বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে ব্রহ্ম নিত্য, শুদ্ধ, মুক্ত, সর্বজ্ঞ, জ্যোতির্ময়, নিরাকার, সর্বব্যাপী ও সর্বশক্তিমান।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

মহান ঈশ্বর একজন কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক। একজন অপরিসীম ক্ষমতাধর পরমপুরুষ। তাঁর রয়েছে অসংখ্য মস্তক, অনন্ত চক্ষু, অগণিত চরণ। তিনি সমগ্র বিশ্বে সর্বজীবে পরিব্যাপ্ত। লক্ষ কোটি গ্রহ, উপগ্রহ এ মহাকাশে নির্দিষ্ট গতিপথে আবর্তিত হচ্ছে। ঈশ্বর এ মহাবিশ্বের একজন কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করেন। এসব কারণে তাঁকে আদি শক্তি বলা হয়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

এ মহাবিশ্ব যিনি নিজেই সৃষ্টি করেছেন, তিনি সকল দুঃখ থেকে মুক্ত। ঈশ্বর এ মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন। তিনি এ মহাবিশ্বের স্রষ্টা, সর্বশক্তির উৎস। বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে স্রষ্টা নিত্য, শুদ্ধ, মুক্ত, সর্বজ্ঞ জ্যোতির্ময়, নিরাকার, সর্বব্যাপি ও- সর্বশক্তিমান। তিনি সকল দুঃখ থেকে মুক্ত।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

হিন্দুধর্ম দর্শন অনুসারে ঐশ্বর্য, বীর্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্যকে ভগ বলে। ঈশ্বরকে যখন এই ছয়টি গুণের অধীশ্বররূপে কল্পনা ও আরাধনা করা হয় তখন তাকে ভগবান বলা হয়। বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে ভগবান গুণময় এবং অশেষরূপের আধার। তিনি রসময়, আনন্দময় এবং দয়াময়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

হিন্দুধর্মে অবতার বলতে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনে স্বেচ্ছায় নিরাকার ঈশ্বরের জীব বা সাকার রূপে পৃথিবীতে আবির্ভূত হওয়াকে বোঝায়। দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন এবং ধর্ম রক্ষার জন্য ঈশ্বর নানারূপে পৃথিবীতে অবতরণ করেন। যেমন- নৃসিংহ, রাম, শ্রীকৃষ্ণ প্রভৃতি হচ্ছেন ঈশ্বরের বিভিন্ন অবতার।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

বিষ্ণুর দশ অবতার হলেন। যথাক্রমে-
১. মৎস্য, ২. কূর্ম, ৩. বরাহ, ৪. নৃসিংহ, ৫. বামন, ৬. পরশুরাম, ৭. রাম, ৮. বলরাম, ৯. বুদ্ধ ও ১০. কল্কি।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ব্রহ্মকে পরমাত্মা বলা হয়। ব্রহ্ম যখন জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন, তখন তাকে জীবাত্মা বলে। আত্মা যখন নিজের মধ্যে অবস্থান করে, তখন তাকে পরাত্মা বলা হয়। ব্রহ্ম বা পরমাত্মার জন্ম। নেই, মৃত্যু নেই। ব্রহ্মকে 'ওঙ্কার' বলা হয়। ওঙ্কার এর পূর্ণরূপ অ-উ-ম (ওঁ)।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

এ মহাবিশ্বে যিনি নিজেকে সৃষ্টি করেছেন, যিনি সকল দুঃখ থেকে মুক্ত। তিনিই এ মহাবিশ্বের স্রষ্টা। তাঁকে ব্রহ্ম, ঈশ্বর, ভগবান, অবতার এবং আত্মা নামে অভিহিত করা হয়েছে। ব্রহ্ম যখন জীব ও জগতের উপর প্রভুত্ব করেন। তখন তিনি ঈশ্বর। ঈশ্বর যখন ভক্তের ডাকে সাড়া দেন, তখন তিনি ভগবান। আবার ঈশ্বর যখন জীবরূপ ধারণ করে পৃথিবীতে অবতরণ করেন, তখন তিনি অবতার।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

'ব্রহ্ম' শব্দের অর্থ সর্ববৃহৎ। কাজেই ব্রহ্ম থেকে বড় কেউ নেই। যিনি সকল কিছুর স্রষ্টা এবং যার মধ্যে সকল কিছুর অবস্থান ও বিনয় তিনিই ব্রহ্ম। ব্রহ্ম নিত্য, শুদ্ধ, মুক্ত, সর্বজ্ঞ, জ্যোতির্ময়, নিরাকার, সর্বব্যাপী ও সর্বশক্তিমান।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ব্রহ্ম যখন জীব ও জগতের ওপর প্রভুত্ব করেন, তখন তাঁকে ঈশ্বর বলা হয়। ঈশ্বরের রূপের শেষ নেই। ঈশ্বর অনন্তরূপী। তিনি জগতের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা এবং ধ্বংস কর্তা। ঈশ্বরকে পরমেশ্বর নামেও ডাকা হয়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

বিষ্ণু পুরাণে বলা হয়েছে যিনি ভূতগণের উৎপত্তি, বিনাশ, পরলোকে গতি, ইহলোকে আগমন এবং বিদ্যা ও অবিদ্যা জানেন, তিনিই ভগবান। ভগবান গুণময়, অশেষ রূপের আধার এবং প্রকৃত সত্য। তিনি রসময়, আনন্দময় ও দয়াময়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

'অবতার' শব্দটি সংস্কৃত শব্দ। 'অবতার' অর্থ হলো কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে জীবরূপে মর্ত্যে ঈশ্বরের অবতরণ। দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন এবং ধর্ম রক্ষার জন্য ঈশ্বর নানারূপে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ঈশ্বর এ মহাবিশ্বের সকল কিছু সৃষ্টি করেছেন, এবং সকল কিছুর নিয়ন্ত্রণ করছেন। তাঁর রয়েছে অসংখ্য মস্তক, অনন্ত চক্ষু : অগণিত চরণ। তিনি সমগ্র বিশ্বে সর্বজীবে পরিব্যাপ্ত। তাই লক্ষ কোটি গ্রহ, উপগ্রহ, জীব ও জড় বস্তু সবকিছুই একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আবদ্ধ। যা অসীম ক্ষমতাধর ঈশ্বর কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন। তাই ঈশ্বরকে সর্বশক্তিমান বলা হচ্ছে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ঈশ্বরের সাকার রূপ হলেন দেব-দেবী। ঈশ্বর যখন কোনো গুণ বা ক্ষমতাকে কোনো বিশেষ আকার বা রূপে প্রকাশ করেন এবং তাঁর মধ্য দিয়ে কোনো দায়িত্ব পরিচালনা করেন তখন তাদের দেব দেবী বলা হচ্ছে। যেমন- ব্রহ্মা সৃষ্টির দেবতা, বিষ্ণু পালনকর্তা, সরস্বতী বিদ্যার দেবী। শিব প্রলয়ের দেবতা। দেবদেবীরা এক ঈশ্বরের বিভিন্ন রূপ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ঈশ্বর যেরূপে পালন করেন তাঁর নাম বিষ্ণু। তিনি সৃষ্টি স্থিতি ও প্রতিপালনের দেবতা। তিনি এ বিশ্বে যা কিছু আছে তা পালন ও রক্ষা করেন। দুষ্টের দমন ও শিস্টকে পালন করার জন্য তিনি বহুরূপে পৃথিবীতে অবতরণ করেছিলেন। বিষ্ণুকে স্মরণ করলে পাপ দূরীভূত হয়, হৃদয় পবিত্র হয়, মনে শান্তি আসে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

শিব সংহার বা প্রলয়ের দেবতা। তিনি সংহার করে সমতা রক্ষা করেন। এ ছাড়াও তিনি দেবতাদের বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা এবং প্রয়োজনে অসুরদের বিনাশ করেন। তিনি চিকিৎসাশাস্ত্র ও নৃত্যশাস্ত্রসহ বহু বিদ্যায় পারদর্শী। নাট্যে ও নৃত্যে পারদর্শিতার কারণে তাকে নটরাজ বলা হয়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

দেবী শীতলা রোগ প্রতিরোধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার দেবী। দেবী শীতলাকে স্বাস্থ্যবিধি পালন বা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দেবীও বলা হয়। শীতলা পূজার মাধ্যমে আমরা স্বাস্থ্যবিধি ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতন হয়ে থাকি। তিনি মহামারি প্রতিরোধ ও প্রাণিকুলকে বিভিন্ন রোগের হাত থেকে রক্ষা করেন। তাই আমরা দেবী শীতলার পূজা করি।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

বিশেষ পদ্ধতিতে ঈশ্বরের গুণগান করার রীতিকেই বলা হয় উপাসনা। আক্ষরিক অর্থে উপাসনা বলতে ঈশ্বরের পাশে অবস্থান করাকে বোঝানো হয়। হিন্দুধর্ম অনুসারে ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করাই হলো পরম তৃপ্তি ও মুক্তির একমাত্র পথ। উপাসনা ঈশ্বরের সান্নিধ্য | লাভের একটি মাধ্যম বা পথ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

হিন্দুধর্মের মূলে রয়েছেন ভগবান স্বয়ং ঈশ্বর আছেন। তিনি এক বা অদ্বিতীয়। তিনি সকল জীবের অন্তরাত্মা। সবকিছুই তার থেকে সৃষ্ট। ঈশ্বর আমাদের সৃষ্টি করেছেন। তিনি আমাদের পালন করেন। আমাদের ভালো-মন্দ, মঙ্গল-অমঙ্গল সবকিছুই তাঁর হাতে। তাই ঈশ্বরকেই ধর্মের মূল উৎস বলা হয়েছে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

সাকার উপাসনাকে প্রতীক উপাসনা ও বলা হয়। প্রতীক শব্দের অর্থ চিহ্ন বা আকার। মূলত এ ধরনের উপাসনা বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমাকে (ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, লক্ষ্মী, মনসা প্রভৃতি) উদ্দেশ্য করে করা হয়। সাকার উপাসনা সগুণ উপাসনা বা ভক্তিযোগ নামে পরিচিত। এ উপাসনায় ভগবান প্রতিকৃতিতে প্রকাশিত থাকেন, অবস্থান করেন। তাই একে সাকার উপাসনা বলা হয়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

'নিরাকার' শব্দের অর্থ যার কোনো আকার নেই। মূলত এ ধরনের উপাসনা ধ্যান সাধনার মাধ্যমে করা হয়। এ উপাসনা ঈশ্বরের কোনো প্রতিকৃতিকে উদ্দেশ্য করে করা হয় না। নিরাকাররূপ অদৃশ্য ঈশ্বরকে উপলব্ধি করে তার উপাসনা করা হয়। জ্ঞানযোগ নিরাকার উপাসনার একটি অংশ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

মোক্ষ অর্থ চিরমুক্তি। দেহান্তরের মধ্য দিয়ে জীবাত্মা এক দেহ থেকে অন্য দেহে যায়। কিন্তু পুণ্যবলে একসময় আর দেহান্তর হয় না। তখন জীবাত্মাকে অন্য দেহে যেতে হয় না। জীবাত্মা পরমাত্মায় লীন হয়ে যায়। ফলে পুনর্জন্ম হয় না আর একেই বলে মোক্ষ বা মোক্ষলাভ করা।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

উপাসনার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি- ব্রহ্ম বা ঈশ্বরের চেয়ে উৎকৃষ্ট আর কিছুই নেই। তিনি সবকিছুর সৃষ্টি করেছেন এবং । নিজ গুণে তাঁর সৃষ্টির মধ্যে বিশ্বজগতে বিরাজ করছেন। তিনি ছাড়া এ জগতে দ্বিতীয় আর কেউ নেই অর্থাৎ ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়। আমাদের উচিত সর্বদা ঈশ্বরের নাম জপ করা, মহত্ত্ব উপলব্ধি করা।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ভগ তথা ঐশ্বর্য, বীর্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্য যার মধ্যে পূর্ণরূপে আছে তিনিই ভগবান।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ঈশ্বরকে যখন (ঐশ্বর্য, বীর্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্য) এই ছয়টি গুণের অধিশ্বররূপে কল্পনা ও আরাধনা করা হয় তখন ঈশ্বরকে ভগবান বলা হয়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ব্রহ্ম যখন জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন তখন তাকে জীবাত্মা বলে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

স্রষ্টার নিরাকার রূপ ব্রহ্মকে পরমাত্মা বলা হয়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ব্রহ্ম যখন জীব ও জগতের ওপর প্রভুত্ব করেন তখন তাঁকে ঈশ্বর বলা হয়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ঈশ্বরের চেয়ে উৎকৃষ্ট বা অপকৃষ্ট কিছুই নেই।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ওঙ্কার-এর অর্থ হচ্ছে সৃষ্টি, স্থিতি ও লয়কারী ব্রহ্ম।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

সর্বভূতের সনাতন বীজ হচ্ছেন ঈশ্বর।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার হচ্ছেন পরশুরাম।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ব্রহ্ম ঈশ্বরের স্বরূপ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

সনাতন বা হিন্দুধর্ম অনুসারে স্রষ্টাকে ব্রহ্ম, ঈশ্বর, ভগবান ও অবতার নামে অভিহিত করা হয়েছে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

'ব্রহ্ম' শব্দের অর্থ সর্ববৃহৎ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ব্রহ্মকে পরমাত্মা বলা হয়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ঈশ্বরকে পরমেশ্বর নামে ডাকা হয়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ঈশ্বর সর্বত্র বিরাজ করেন।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

হিন্দুধর্ম দর্শন অনুসারে ঐশ্বর্য, বীর্য, যশ, শ্রীজ্ঞান ও বৈরাগ্যকে 'ভগ' বলে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ভগবান সম্পর্কে বিষ্ণু পুরাণে বলা হয়েছে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ঈশ্বর যখন জীবের দয়া করেন, তখন তাকে ভগবান বলা হয়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

শ্রীমদভগবত পুরাণ মতে সর্বশেষ অবতার হলেন কল্কি ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

হিন্দুধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী কলিযুগের শেষে কল্কি অবতার আবির্ভূত হবেন।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

কোনো উদ্দেশ্য সাধনের জন্য ঈশ্বর যখন জীবরূপ ধারণ করে পৃথিবীতে অবতরণ করেন, তখন তাকে অবতার বলে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

অবতার দুষ্টকে শক্ত হাতে দমন করেন এবং সাধুদের রক্ষা করেন।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ব্রহ্ম যখন জীব ও জগতের ওপর প্রভুত্ব করেন, তখন তাঁকে ঈশ্বর বলা হয়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ত্রয়ী শক্তির অর্থ হচ্ছে ব্রহ্মা সৃষ্টির দেবতা, বিষ্ণু রক্ষার ও প্রতিপালনকারী দেবতা এবং শিব ধ্বংসের দেবতা।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

এ বিশ্বে যখন ধর্ম কমে যায় এবং অধর্ম বেড়ে যায়, তখন স্রষ্টা জগতে অবতাররূপে অবতীর্ণ হন।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ন্যায়শাস্ত্র অনুসারে ভালো কাজের ফলাফল শুভ এবং মন্দ কাজের ফলাফল অশুভ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

বিষ্ণুকে স্মরণ করলে পাপ দূরীভূত হয়, হৃদয় পবিত্র হয় ও মনে শান্তি আসে ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ব্রহ্ম থেকে প্রকৃতি ও মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

পূজার মাধ্যমে দেবতারা সন্তুষ্ট হয়ে পূজারির অভীষ্ট পূরণ করেন।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ঈশ্বর যে রূপে সৃষ্টি করেন তাঁর নাম ব্রহ্মা।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

বিষ্ণু হলেন সৃষ্টির রক্ষা ও প্রতিপালনের দেবতা।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

দুষ্টকে দমন ও শিষ্টকে পালন করেন বিষ্ণু।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

দুষ্টকে দমন ও শিষ্টকে পালন করেন বিষ্ণু।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

শিব বা মহেশ্বর ধ্বংস বা প্রলয়ের দেবতা।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

নাট্যে ও নৃত্যে পারদর্শিতার কারণে শিব রা মহেশ্বরকে নটরাজ বলা হয়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

দেবী দুর্গা হলেন ঈশ্বরের শান্তিরূপ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

দেবী দুর্গাকে মহাবিশ্বের মহাশক্তি হিসেবে পূজা করা হয়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

দেবী কালী হলেন শাশ্বত ক্ষমতা ও শক্তির আধার।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

দেবী কালীকে সময় ও পরিবর্তনের দেবী বলা হয়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

দেবী লক্ষ্মী হলেন সৌভাগ্য, ধনসম্পদ এবং সৌন্দর্যের দেবী।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

দেবী লক্ষ্মী আমাদের বিভিন্ন সম্পদ দান করেন।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

দেবী সরস্বতী হলেন বিদ্যা, শিল্পকলা ও সংস্কৃতির দেবী।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

সিদ্ধি বা সফলতার দেবতা হলেন গণেশ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

যে কোনো শুভ কাজে বা ব্যবসায় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সিদ্ধিদাতা হিসেবে দেবতা গণেশের পূজা করা হয়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

দেবতা কার্তিক হলেন নম্র ও বিনয়ী দেবতা ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

আদর্শ ও সুন্দর সন্তান লাভের জন্য দেবতা কার্তিকের পূজা করা হয়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

শীতলা দেবী হলেন রোগ প্রতিরোধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার দেবী।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

দেবী শীতলাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দেবী বলে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

দেবী শীতলা মহামারী প্রতিরোধ করে প্রাণিকুলকে বিভিন্ন রোগের হাত থেকে রক্ষা করেন।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

বিশেষ পদ্ধতিতে ঈশ্বরের গুণগান করার রীতিকে উপাসনা বলে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

যে উপাসনা বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমাকে (ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব,। সরস্বতী, লক্ষ্মী, মনসা প্রভৃতি) উদ্দেশ্য করে করা হয়, তাকে সাকার উপাসনা বলে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

উপাসনা দুই ধরনের হয়ে থাকে।
ক. সাকার উপাসনা ও খ.নিরাকার উপাসনা।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

হিন্দুধর্মের মূলে রয়েছেন ভগবান স্বয়ং।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ঈশ্বর নিরাকার আবার প্রয়োজনে সাকার রূপ ধারণ করেন।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

উপনিষদ অনুসারে ঈশ্বর সকলের প্রভু, সর্বজ্ঞ, নিয়ন্ত্রক, স্রষ্টা ও ধ্বংসকারী।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ঈশ্বরই ধর্মের মূল উৎস।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

'প্রতীক' শব্দের অর্থ চিহ্ন বা আকার।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

প্রতীক উপাসনা সগুণ উপাসনা বা ভক্তিযোগ নামে পরিচিত।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

পূজা করাকে সগুণ উপাসনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

নিরাকার শব্দের অর্থ যার কোনো আকার নেই।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

উপাসনার বিভিন্ন উপায়ের মধ্যে রয়েছে পূজা করা, জপ ধ্যান বা যোগসাধনা, তন্ত্রসাধনা প্রভৃতি।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

উপাসনা ও প্রার্থনার জন্য হিন্দুধর্মগ্রন্থে অনেক মন্ত্র বা শ্লোক রয়েছে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

জীবাত্মা পরমাত্মা বা ব্রহ্মে লীন হয়ে গেলে পুনর্জন্ম হয় না।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

যখন জীবাত্মা পরমাত্মায় বা ব্রহ্মে লীন হয়ে যায় আর পুনর্জন্ম হয় না, তখন তাকে মোক্ষ বলে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

মোক্ষলাভ বলতে ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করাকে বোঝায়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

উপাসনার প্রধান উদ্দেশ্য হলো মোক্ষলাভ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ভগবান শ্রীবিষ্ণুই হলেন শ্রীকৃষ্ণ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

জীব ও জগতের মঙ্গলের জন্য শ্রীকৃষ্ণ অনেক লীলা করেছেন ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ব্রহ্ম যখন জীব ও জগতের ওপর প্রভুত্ব করেন তখন তাকে ঈশ্বর বলা হয়।
ব্রহ্ম শব্দের অর্থ সর্ববৃহৎ 'বৃহাত্বাৎ ব্রহ্ম'। যার থেকে বড় কেউ নেই। যিনি সকল কিছুর স্রষ্টা এবং যাঁর মধ্যে সকল কিছু অবস্থান ও বিলয় তিনিই ব্রহ্ম। তিনি নিত্য, শুদ্ধ, মুক্ত, সর্বজ্ঞ, নিরাকার, নির্গুণ ও সর্বব্যাপী। ব্রহ্মকে পরমাত্মাও বলা হয়। তিনি যখন জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন তখন তাকে জীবাত্মা বলা হয়। আবার তিনি স্বয়ম্ভু, অর্থাৎ তাঁকে কেউ সৃষ্টি করেনি এবং সকল কিছুর নিয়ন্তা তিনি। তাই ব্রহ্মকে ঈশ্বর বলা হয়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

'ভগ' বলতে ঈশ্বরের ছয়টি গুণকে বোঝায়। হিন্দুধর্ম দর্শন অনুসারে ঐশর্য, বীর্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্যকে 'ভগ' বলা হয়। আর এই 'ভগ' বা ৬টি গুণ যার মধ্যে পূর্ণরূপে আছে তিনিই ভগবান। বিষ্ণু পুরাণে বলা হয়েছে, যিনি ভূতগণের উৎপত্তি, বিনাশ, পরলোকে গতি, ইহলোকে আগমন এবং বিদ্যা-অবিদ্যা সম্বন্ধে জানেন তিনিই ভগবান। আর ঈশ্বর বা শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন এই ছয়টি গুণের পূর্ণ অধীশ্বর। অর্থাৎ তিনিই 'ভগ' বা ভগবান।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ঈশ্বর যখন জীবকে দয়া করেন তখন তাকে ভগবান বলা হয়।
হিন্দুধর্ম দর্শন অনুসারে ঐশ্বর্য, বীর্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্য- এ ছয়টি গুণ পূর্ণরূপে যার মধ্যে বিদ্যমান এবং যিনি ভূতগণের উৎপত্তি, বিনাশ, পরলোকে গতি, ইহলোকে আগমন সম্বন্ধে জানেন তিনিই ভগবান। তিনি প্রয়োজনে জীবের ন্যায় দেহধারী হয়ে তপস্যা, ধ্যান, প্রার্থনা ও সকল সুখ-দুঃখ ভোগ করেন। ভক্তের ডাকে সাড়া দিয়ে যখন ভক্তের কাছে আসেন, ভক্তের সাথে লীলা করে, প্রয়োজনে ভক্তের বোঝা বহন করেন, তখন ঈশ্বরকে ভগবান বলা হয়। ভগবান রসময়, আনন্দময় এবং কৃপাময়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ভগবান যেকোনো রূপ ধারণ করে ভক্তকে দেখা দেন, লীলা করেন। প্রয়োজনে জীবের ন্যায় দেহধারী হয়ে তপস্যা, ধ্যান, প্রার্থনা ও সকল সুখ-দুঃখ ভোগ করেন এবং পৃথিবীতে এসে ভগবান দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন করে ধর্ম ও ন্যায়ের সংস্থাপন করে থাকেন। ভক্তের ডাকে সাড়া দিয়ে ভগবান কাছে আসেন, প্রয়োজনে ভক্তের বোঝা বহন করেন।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

শান্তি প্রতিষ্ঠায় ঈশ্বর অবতাররূপে পৃথিবীতে নেমে আসেন। হিন্দুধর্মে অবতার বলতে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনে স্বেচ্ছায় নিরাকার ঈশ্বরের জীব বা সাকাররূপে পৃথিবীতে আবির্ভূত হওয়াকে বোঝানো হয়। দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন এবং ধর্মরক্ষার জন্য ঈশ্বর নানারূপে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন বা নেমে আসেন।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

শ্রীকৃষ্ণকে ভগবান বলা হয়। কারণ ভগবানের সমস্ত ঐশ্বর্য তাঁর মধ্যে উপস্থিত ছিল। হিন্দুধর্ম দর্শন অনুসারে ঐশ্বর্য, বীর্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্যকে ভগ বলে। ভগ যাঁর মধ্যে পূর্ণরূপে আছে তিনিই ভগবান। শ্রীকৃষ্ণ ভগ-এর অধিকারী এবং তিনি ভগবানের পূর্ণাবতার। ভগবানের সমস্ত ঐশ্বর্য তাঁর মধ্যে বিদ্যমান থাকার কারণেই তাঁকে ভগবান বলা হয়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

'ব্রহ্ম' শব্দের অর্থ সর্ববৃহৎ। যাঁর থেকে বড় কেউ নেই, যিনি সকল কিছুর স্রষ্টা এবং যাঁর মধ্যে সকল কিছুর অবস্থান ও বিলয় তিনিই ব্রহ্ম। ব্রহ্ম নিত্য, শুদ্ধ, মুক্ত, সর্বজ্ঞ, জ্যোতির্ময়, নিরাকার, সর্বব্যাপী ও সর্বশক্তিমান। ব্রহ্মকে পরমাত্মা বলা হয়। তিনি যখন জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন, তখন তাঁকে জীবাত্মা বলে। ব্রহ্ম বা পরমাত্মার জন্ম ও মৃত্যু নেই। তিনি অজ, অনাদি এবং শাশ্বত। ব্রহ্মকে 'ওঙ্কার' বলা হয়। ওঙ্কার (ওঁ) হলো অ-উ-ম। এর অর্থ হলো সৃষ্টি, স্থিতি ও লয়কারী ব্রহ্ম।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ঈশ্বর নিরাকার। আবার প্রয়োজনে ঈশ্বর সাকাররূপ ধারণ করেন। দেবতারা ঈশ্বরের সাকার রূপ। ঈশ্বর যখন নিজের কোনো গুণ বা ক্ষমতাকে কোনো বিশেষ আকার বা রূপে প্রকাশ করেন, তখন তাঁকে দেবতা বলা হয়। যেমন- ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, দুর্গা সরস্বতী প্রভৃতি দেবতা সকলেই ঈশ্বরের বিশেষ গুণ বা ক্ষমতা ধারণ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ব্রহ্মা সৃষ্টির দেবতা, বিষ্ণু পালনকর্তা, শিব প্রলয়ের দেবতা, দুর্গা দুষ্টের দমনকারী, সরস্বতী বিদ্যার দেবী ইত্যাদি। কাজেই বিভিন্ন নামে বা রূপে ব্যক্ত হলেও দেবতারা একই ঈশ্বরের ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ মাত্র।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

মহান ঈশ্বর একজন কেন্দ্রিয় নিয়ন্ত্রক। একজন অসীম ক্ষমতাধর পরমপুরুষ। তাঁর রয়েছে অসংখ্য মস্তক, অনন্ত চক্ষু, অগণিত চরণ। তিনি সমগ্র বিশ্বে সর্বজীবে পরিব্যাপ্ত। লক্ষ কোটি গ্রহ, উপগ্রহ এ মহাকাশে নির্দিষ্ট গতিপথে আবর্তিত হচ্ছে। জীব ও জড়বস্তু সবকিছুই একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আবদ্ধ। পরম কারণবাদের যৌক্তিকতা থেকে বিচার করলে দেখা যায় যে, এক ঈশ্বর বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডকে বিস্ময়কর শৃঙ্খলার মাধ্যমে পরিচালিত করছেন। কেননা একাধিক ঈশ্বরের নিয়মকানুনগুলো । ভিন্ন ভিন্ন হতো যা সংঘাতের সৃষ্টি করত। অতএব ঈশ্বর এ মহাবিশ্বের । একজন কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক হিসেবে প্রধান ভূমিকা পালন করছেন। পৃথিবী, মাটি, জল, আলো-বাতাস দ্বারা গঠিত, যা কোনো পরম একক শক্তি দ্বারা সৃষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত। ঈশ্বর ব্যতীত অন্য কারও পক্ষে তা করা অসম্ভব। । এজন্য সর্বশক্তিমান হিসেবে স্রষ্টার ভূমিকা অপরিসীম।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

বিষ্ণু হলেন সৃষ্টির স্থিতি ও প্রতিপালনের দেবতা। বিশ্বে যা কিছু আছে ভগবান বিষ্ণু তা পালন ও রক্ষা করেন। বিষ্ণুকে স্মরণ করলে পাপ দূরীভূত হয়। হৃদয় পবিত্র হয় ও মনে শান্তি আসে। দুষ্টকে দমন ও শিষ্টকে পালন করার জন্য তিনি বহুরূপে এ পৃথিবীতে আবির্ভূত হন। তাই বিষ্ণুকে প্রতিপালনের দেবতা বলা হয়ে থাকে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

দেব-দেবী ঈশ্বরের সাকার রূপ। ঈশ্বর নিজের কোনো গুণ বা ক্ষমতাকে কোনো বিশেষ আকার বা রূপে প্রকাশ করেন। যেমন-ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, দুর্গা, সরস্বতী ইত্যাদি। তারা সকলেই ঈশ্বরের বিশেষ গুণ বা ক্ষমতা ধারণ করে রয়েছেন। এ কারণে ঈশ্বররূপে বিভিন্ন দেব-দেবীকে পূজা করা হয়। পূজার মাধ্যমে দেবতারা সন্তুষ্ট হয়ে পূজারির অভীষ্ট পূরণ করেন।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

নাট্যে ও নৃত্যে পারদর্শিতার কারণে শিবকে নটরাজ বলা হয়। শিব বা মহেশ্বর ধ্বংস বা প্রলয়ের দেবতা। তিনি দুষ্টদের ধ্বংস করে পৃথিবীতে সমতা রক্ষা করেন। এ ছাড়াও তিনি দেবতাদের বিপদ-আপদ থেকে রক্ষার জন্য অসুরদের বিনাশ করেন। তিনি চিকিৎসাশাস্ত্র ও নৃত্যশাস্ত্রসহ বহুবিদ্যায় পারদর্শী। এ পারদর্শীতার কারণে ভক্তরা তাঁকে নটরাজ নামেও ডাকে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

মহাবিশ্বের মহাশক্তি হিসেবে বিশ্বাস এবং পূজা করা হয় দেবী | দুর্গাকে। দেবী দুর্গা ঈশ্বরের শান্তিরূপ। আদ্য শক্তি মহামায়াই বিভিন্ন দেবীরূপে প্রকাশিত হয়েছেন যেমন- দুর্গা, কালী, জগদ্ধাত্রী, কাত্যায়নী প্রভৃতি। দেবী দুর্গা অসীম শক্তির দেবী। যিনি মহাবিশ্ব সৃষ্টি  ও ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার সাথে সম্পৃক্ত।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

হিন্দুধর্মের মূলে রয়েছেন স্বয়ং ভগবান। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, 'ধর্মমূলো হি ভগবান, সর্ববেদময়ো হরিঃ।' ঈশ্বর আছেন, তিনি এক ও অদ্বিতীয়, তিনি সকল জীবের অন্তরাত্মা, সবকিছুই তাঁর থেকে সৃষ্ট। সুতরাং ঈশ্বরই ধর্মের মূল উৎস।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ঈশ্বরের কোনো গুণ বা আকারের উপাসনা করার পদ্ধতিকে -সাকার উপাসনা বলে।
মূলত এ ধরনের উপাসনা বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমাকে (ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, সরস্বতী, লক্ষ্মী, মনসা প্রভৃতি) উদ্দেশ্য করেই করা হয়। সাকার বা প্রতীক উপাসনা সগুণ উপাসনা বা ভক্তিযোগ নামে পরিচিত। - সগুণরূপে ঈশ্বর সাকাররূপে অবস্থান করেন।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
65

প্রথম অধ্যায়

স্রষ্টা ও সৃষ্টি প্রথম পরিচ্ছেদ : স্রষ্টার স্বরূপ ও উপাসনা

 

 

যিনি নিজেই নিজের স্রষ্টা, সর্বশক্তির উৎস, যার উপরে কেউ নেই, তিনিই পরম পিতা। তিনিই পরম স্রষ্টা। তিনি এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তা এবং নিয়ন্তা । সনাতন ধর্ম তথা হিন্দুধর্মের চেতনায় তাঁকে নানা নামে অভিহিত করা হয়েছে। তিনি ব্রহ্ম, পরমেশ্বর, পরমাত্মা, আত্মা, ঈশ্বর, ভগবান ।

 

স্রষ্টাকে উপাসনার মাধ্যমে আমরা তাঁর সন্তুষ্টি ও সান্নিধ্য লাভ করতে পারি। আমাদের সকল কাজে গভীর শ্রদ্ধার সাথে তাঁকে স্মরণ এবং তাঁর উপাসনা করা উচিত। এ অধ্যায়ে আমরা তাঁর স্বরূপ, সৃষ্টির মধ্যে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা, তাঁর গুণ ও শক্তিরূপে দেব-দেবীর পরিচয়, তাঁকে উপাসনার ধারণা ও প্রয়োজনীয়তা এবং উপাসনার একটি মন্ত্র বা শ্লোক সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করব ।

এ অধ্যায় শেষে আমরা -

  • নিরাকার ব্রহ্ম, ঈশ্বর, ভগবান, আত্মা ও অবতাররূপে স্রষ্টার স্বরূপ ব্যাখ্যা করতে পারব
  • স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির সম্পর্ক ও সৃষ্টির মধ্যে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় স্রষ্টার ভূমিকা বিশ্লেষণ করতে পারব • দেব-দেবী ঈশ্বরের বিভিন্ন গুণ ও শক্তির প্রকাশ- এ ধারণাটি ব্যাখ্যা করতে পারব
  • ঈশ্বর উপাসনার ধারণা, ধরন (নিরাকার ও সাকার) ও প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব • ঈশ্বর উপাসনার একটি যন্ত্র বা শ্লোক আবৃত্তি করতে পারব এবং এর অর্থ ও শিক্ষা ব্যাখ্যা করতে পারব
  • ঈশ্বর ও দেব-দেবীর প্রতি প্রার্থনার একটি মন্ত্র বা শ্লোক আবৃত্তি করতে পারব এবং অর্থ বলতে ও এর শিক্ষা ব্যাখ্যা করতে পারব
  • ঈশ্বরের প্রতি অবিচল বিশ্বাস স্থাপন করতে পারব এবং ঈশ্বরের উপাসনায় উদ্বুদ্ধ হব
  • ঈশ্বরের উদ্দেশে উপাসনা ও প্রার্থনা মন্ত্র অনুশীলন করতে পারব।

পাঠ ১ ও ২ : স্রষ্টার স্বরূপ— ব্রহ্ম, ঈশ্বর, ভগবান ও অবতার

সনাতন ধর্ম বা হিন্দুধর্ম অনুসারে স্রষ্টাকে ব্রহ্ম, ঈশ্বর, ভগবান ও অবতার নামে অভিহিত করা হয়েছে । তাঁর স্বরূপ বৈশিষ্ট্যের প্রতি লক্ষ রেখে এসকল নাম নির্ধারণ করা হয়েছে ।

১.১. ব্রহ্ম ও ঈশ্বর

ব্রহ্মরূপে স্রষ্টার স্বরূপ

ব্রহ্ম শব্দের অর্থ সর্ববৃহৎ, 'বৃহত্বাৎ ব্রহ্ম' । যাঁর থেকে বড় কেউ নেই, যিনি সকল কিছুর স্রষ্টা এবং যাঁর মধ্যে সকল কিছুর অবস্থান ও বিলয় তিনিই ব্ৰহ্ম । ব্রহ্ম শুধু প্রকৃতি ও মহাবিশ্বকেই সৃষ্টি করেননি, বরং তিনি প্রকৃতি ও মহাবিশ্বকে তাঁর ঐশ্বরিক শক্তির মাধ্যমে রক্ষাও করে থাকেন । বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে ব্রহ্ম নিত্য, শুদ্ধ, মুক্ত, সর্বজ্ঞ, জ্যোতির্ময়, নিরাকার, সর্বব্যাপী ও সর্বশক্তিমান । ব্রহ্ম সর্বব্যাপী বলে তাঁকে কেউ দেখতে পায় না। আমরা জানি, ব্রহ্মকে পরমাত্মাও বলা হয়। তিনি যখন জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন, তখন তাঁকে জীবাত্মা বলে। আত্মা যখন নিজের মধ্যে অবস্থান করে তখন তাকে পরমাত্মা বলা হয় ।

ব্রহ্ম নিরাকার ও নির্গুণ এবং তিনি নিশ্চল অবস্থায় অবস্থান করেন। ব্রহ্ম বা পরমাত্মার জন্ম নেই, মৃত্যু নেই । তিনি অজ, অনাদি, অনন্ত এবং শাশ্বত । ব্রহ্মকে ‘ওঙ্কার' বলা হয় । ওঙ্কার সংক্ষেপে ওঁ । এর পূর্ণরূপ অ-উ-ম । এর অর্থ হচ্ছে সৃষ্টি, স্থিতি ও লয়কারী ব্রহ্ম ।

ঈশ্বররূপে স্রষ্টার স্বরূপ

ব্রহ্ম যখন জীব ও জগতের উপর প্রভুত্ব করেন, তখন তাঁকে ঈশ্বর বলা হয়। ঈশ্বরকে পরমেশ্বর নামেও ডাকা হয় । তিনি জগতের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা এবং ধ্বংসকর্তা। ঈশ্বরের রূপের শেষ নেই । তিনি অনন্তরূপী । জ্ঞানীর কাছে তিনি ব্রহ্ম, যোগীর কাছে তিনি পরমাত্মা এবং ভক্তের কাছে ভগবান ।

ত্বমাদিদেবঃ পুরুষঃ পুরাণ-

শ্রীমদ্ভগবদ্‌গীতার একটি শ্লোকে ঈশ্বর সম্পর্কে বলা হয়েছে— স্বমস্য বিশ্বস্য পরং নিধানম্ । ত্বয়া ততং বিশ্বমনন্তরূপ । (১১/৩৮)

বেত্তাসি বেদ্যঞ্চ পরঞ্চ ধাম

অর্থাৎ ‘তুমি আদিদেব, তুমি অনাদি পুরুষ, তুমি বিশ্বের পরম আশ্রয় স্বরূপ, তুমি একমাত্র জ্ঞাতব্য এবং জ্ঞাতা । তুমি একমাত্র পরম স্থান। হে অনন্তরূপ, তুমি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে প্রসারিত' একমাত্র প্রভু । শ্রীমদ্‌ভগবদ্‌গীতার এই শ্লোক থেকে সহজেই ঈশ্বরের মহিমা ও শক্তি প্রতীয়মান হয় । বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে ঈশ্বর অনন্ত অসীম, তাঁর কোনো পরিবর্তন নেই । তিনি শাশ্বত । তিনি জগতের আদি কারণ, তিনি বিধাতা । তাঁর কোনো স্রষ্টা নেই । তিনি স্বয়ম্ভু অর্থাৎ নিজে নিজেই সৃষ্ট হয়েছেন । তিনি নিত্য, শুদ্ধ ও পরম পবিত্র । তিনি সকল

 

 

 

কর্মের ফলদাতা। যে যেরকম কর্ম করে, তিনি তাকে সেরকম ফল দিয়ে থাকেন। ঈশ্বর নিরাকার। প্রয়োজনে তিনি সাকার হতে পারেন । কারণ অনন্ত তাঁর শক্তি। ঈশ্বর সর্বত্র বিরাজ করেন। ঋগবেদ অনুসারে তিনি পরম পুরুষ, তাঁর সহস্র মস্তক, সহস্র চক্ষু, সহস্র চরণ। এ কথার মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের সর্বব্যাপিতাই বোঝানো হয়েছে । তিনি অদ্বিতীয় । তিনি জ্যোতিঃস্বরূপ, তিনি সকলের মধ্যে বিরাজ করেন ।

১.২. স্রষ্টার স্বরূপ : ভগবান ও অবতার

ভগবানরূপে স্রষ্টার স্বরূপ

হিন্দুধর্ম দর্শন অনুসারে ঐশ্বর্য, বীর্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্যকে ভগ বলে। ভগ যার মধ্যে পূর্ণরূপে আছে তিনিই ভগবান। বিষ্ণুপুরাণে বলা হয়েছে- যিনি ভূতগণের উৎপত্তি, বিনাশ, পরলোকে গতি, ইহলোকে আগমন এবং বিদ্যা অবিদ্যা জানেন, তিনিই ভগবান। ঈশ্বরকে যখন এই ছয়টি গুণের অধীশ্বররূপে কল্পনা ও আরাধনা করা হয় তখন ঈশ্বরকে ভগবান বলা হয় (শ্রীমদ্‌ভাগবত পুরাণ, ৬। ৫। ৭৯)। বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে ভগবান গুণময় এবং অশেষরূপের আধার। তিনি রসময়, আনন্দময় ও দয়াময়। তিনি তাঁর ভক্তদের বিভিন্নভাবে কৃপা করে থাকেন। ভগবানের মধ্যে ভক্ত তাঁর অভীষ্ট প্রত্যক্ষ করতে পারেন । ভগবান যে-কোনো রূপ ধারণ করে ভক্তকে দেখা দেন, লীলা করেন। তিনি প্রয়োজনে জীবের ন্যায় দেহধারী হয়ে তপস্যা, ধ্যান, প্রার্থনা ও সকল সুখ-দুঃখ ভোগ করেন। আবার ঈশ্বরাবেশে অপ্রাকৃত লীলা, দাবানল পান, একহাতে গোবর্ধন পর্বত ধারণ, পাষণ্ড দলন এবং কঠোর তপস্যা করে সকলকে মুগ্ধ করেন এবং সকলের মঙ্গল করেন। সামান্য দেহধারী হয়ে ভক্তের ডাকে সাড়া দিয়ে ভগবান তাঁর কাছে আসেন । প্রয়োজনে ভক্তের বোঝা তিনি বহন করেন । মোট কথা ঈশ্বর যখন জীবকে দয়া করেন। তখন তাঁকে বলা হয় ভগবান ।

অবতাররূপে স্রষ্টার স্বরূপ

হিন্দুধর্মে অবতার বলতে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনে স্বেচ্ছায় নিরাকার ঈশ্বরের জীব বা সাকার রূপে পৃথিবীতে আবির্ভূত হওয়াকে বোঝানো হয়। এই সকল অবতার সর্বজনশ্রদ্ধেয় ও অতিলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন । অবতার শব্দটি তৎসম অর্থাৎ সংস্কৃত শব্দ, যার অর্থ হচ্ছে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে জীবরূপে মর্ত্যে ঈশ্বরের অবতরণ ।

দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন এবং ধর্ম রক্ষার জন্য ঈশ্বর নানারূপে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন বা নেমে আসেন । যেমন নৃসিংহ, রাম, শ্রীকৃষ্ণ প্রভৃতি ঈশ্বরের অবতার। ধর্ম অনুশীলনের ক্ষেত্রে পরম সত্তা বা পরমেশ্বর থেকে উদ্ভূত সকল অবতারই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।

শ্রীমদ্‌ভাগবত পুরাণে বলা হয়েছে, ভগবান বিষ্ণু অনেকবার অবতার হিসেবে বিশেষ বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে এ পৃথিবীতে এসেছেন । বিভিন্ন যুগে ভগবান বিষ্ণু নয়বার অবতার হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছেন । কলিযুগের শেষে তিনি কল্কিরূপে দশম অবতার হিসেবে অবতীর্ণ হবেন।

 

 

 

বিষ্ণুর দশ অবতার হচ্ছে -

১.মত্বস

২. কুর্ম

৩. বরাহ

8. নৃসিং‍

৫. বামন

৬. পরশুরাম

৭. রাম

৮. বলরাম

৯. বুদ্ধ

১০. কল্কি

কল্কি সর্বশেষ অবস্থার। হিন্দুধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী কলিযুগের শেষের দিকে তাঁর আবিৰ্তাৰ ঘটবে।

স্রষ্টার স্বরূপ সম্পর্কে সবশেষে আমরা বলতে পারি; ব্রহ্মরূপে স্রষ্টা নিরাকার, নির্গুণ । ব্রহ্ম যখন জীব ও জগতের ওপর প্রভুত্ব করেন, তখন তিনি ঈশ্বর। ঈশ্বর নিরাকার, ভবে প্রয়োজনে সাকার রূপ ধারণ করতে পারেন। ঈশ্বর যখন ভক্তের ডাকে সাড়া দেন, তাঁর কাছে আসেন, নানা রকম লীলা করেন, তখন তাঁকে বলা হয় ভগবান। আবার মঙ্গলকর কোনো উদ্দেশ্য সাধনের জন্য ঈশ্বর যখন জীবরূপ ধারণ করে পৃথিবীতে অবতরণ করেন তখন তাঁকে বলে অবতার। ব্রহ্ম, ঈশ্বর, ভগবান ও অবভার আলাদা নয়, এ হচ্ছে একই সর্বশক্তিমান স্রষ্টা বা ব্রহ্মেরই ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ ।

 

পাঠ ৩ : স্রষ্টা ও সৃষ্টির সম্পর্ক এবং সৃষ্টির মধ্যে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় স্রষ্টার

ভূমিকা

স্রষ্টা তাঁর সৃষ্টিকে ভালোবাসেন, প্রতিপালন করেন, বিপদ-আপদে রক্ষা করেন, প্রয়োজনে সৃষ্টি ও ধ্বংস করেন, দুষ্টের হাত থেকে সৃষ্টিকে রক্ষাও করেন। তিনি তাঁর সৃষ্টিকে সৎপথে চলতে সহায়তা করেন। যাঁরা সৎপথে চলেন তিনি তাঁদের ভালোবাসেন। তাঁদের উন্নতির পথ দেখান এবং সর্বদা তাঁদের মাঝে বিরাজ করেন। অসৎ ব্যক্তিদের তিনি পছন্দ করেন না এবং শাস্তি দিয়ে থাকেন । কিন্তু সৎ ব্যক্তিদের রক্ষা করেন। তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্যেই অবস্থান করেন । অর্থাৎ জীবের মধ্যে এক ঈশ্বর বহুরূপে বিরাজ করেন । এ কারণে স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে গভীর সম্পর্ক বিরাজ করছে । স্রষ্টা হিসেবে ঈশ্বর জীবকুলের উপর প্রভুত্ব করেন । জীব, বস্তু – সকল কিছুর তিনিই নিয়ন্ত্রক । স্রষ্টা ছাড়া সৃষ্টিকে যেমন কল্পনা করা যায় না, তেমনি সৃষ্টি ছাড়া স্রষ্টাকেও ভাবা যায় না । নিচে সৃষ্টির শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় স্রষ্টার ভূমিকা বিশদভাবে বর্ণনা করা হলো ।

১. অভিভাবক হিসেবে সৃষ্টিকর্তার ভূমিকা

স্রষ্টা ছাড়া কোনো কিছুই সৃষ্টি হয় না । এ মহাবিশ্বের চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, তারা, জীব-জন্তু সবকিছুর একজন স্রষ্টা আছেন । তিনি ঈশ্বর । তিনি অবিনশ্বর এবং অসীম ক্ষমতার অধিকারী । সৃষ্টিকর্তা হিসেবে তিনি তাঁর সৃষ্টিকে পরিচালনা করছেন এবং রক্ষা করছেন । তিনি তাঁর সৃষ্টির জন্য জন্ম ও মৃত্যু নির্ধারণ করেছেন ।

ভালো কাজের জন্য তিনি তাঁর ভক্তদের ভালো ফল দিয়ে থাকেন এবং খারাপ কাজের জন্য শাস্তি প্রদান করেন । আবার মহাকাশের নক্ষত্রমালা যে কক্ষচ্যুত হচ্ছে না, তার মূলেও রয়েছে ঈশ্বরের শৃঙ্খলা বিধানের শক্তি। এ সব কিছুই সৃষ্টিকর্তার আদেশে পরিচালিত হচ্ছে । ঈশ্বর ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব এই ত্রয়ী শক্তিরূপে বিরাজিত । ব্রহ্মা সৃষ্টির দেবতা, বিষ্ণু রক্ষা ও প্রতিপালনকারী দেবতা এবং শিব সংহারের দেবতা । এ থেকে বোঝা যায়, সৃষ্টিকর্তা তাঁর সৃষ্টিকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করার জন্য তাঁর নির্ধারিত ভূমিকা পালন করছেন ।

২. সর্বশক্তিমান হিসেবে স্রষ্টার ভূমিকা

মহান ঈশ্বর একজন কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক, একজন অসীম ক্ষমতাধর পরমপুরুষ। তাঁর রয়েছে অসংখ্য মস্তক, অনন্ত চক্ষু, অগণিত চরণ । তিনি সমগ্র বিশ্বে সর্বজীবে পরিব্যাপ্ত । লক্ষকোটি গ্রহ, উপগ্রহ এ মহাকাশে নির্দিষ্ট গতিপথে আবর্তিত হচ্ছে। জীব ও জড় বস্তু সবকিছুই একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আবদ্ধ । পরম কারণবাদের যৌক্তিকতা থেকে বিচার করলে দেখা যায় যে এক ঈশ্বর বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে বিস্ময়কর শৃঙ্খলার মাধ্যমে পরিচালিত করছেন। কেননা, একাধিক ঈশ্বরের নিয়ম-কানুনগুলো ভিন্ন ভিন্ন হতো যা সংঘাতের সৃষ্টি করত। অতএব ঈশ্বর এ মহাবিশ্বের একজন কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক হিসেবে প্রধান ভূমিকা পালন করছেন । অনেক ধর্মতাত্ত্বিকের মতে, বিশ্ব কোনো কারণের ফলাফল । পৃথিবী মাটি, জল, আলো বাতাস দ্বারা গঠিত, যা কোনো পরম একক শক্তি দ্বারা সৃষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত । ঈশ্বর ব্যতীত অন্য কারও পক্ষে তা করা অসম্ভব ।

 

 

 

 

 

৩. দুষ্টের দমনে স্রষ্টার ভূমিকা

যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত ।

অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্ ॥ পবিত্র গীতার এ শ্লোক থেকে প্রতীয়মান হয় যে যখন এ বিশ্বে ধর্ম কমে যায়, অধর্ম বেড়ে যায় তখনই স্রষ্টা জগতে অবতাররূপে অবতীর্ণ হন । এ সময় তিনি দুষ্টকে শক্তহাতে দমন করেন ।

৪. শাসক হিসেবে ভূমিকা

ন্যায়শাস্ত্র অনুসারে ভালো কাজের ফলাফল শুভ এবং মন্দ কাজের ফলাফল অশুভ। ভালো ও খারাপ অবচেতনভাবে হৃদয়ে বিরাজ করে। এই চেতনা পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজন একজন শাসকের । ঈশ্বর সর্বজ্ঞ। তিনি ভালো মানুষকে সুখী করেন, অপরাধীদের শাস্তি দেন এবং সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন । অন্তরকে পরিচালিত করা, ন্যায়-অন্যায়কে নির্দিষ্ট করা ঈশ্বর ভিন্ন অন্য কোনো শক্তির পক্ষে সম্ভব নয় ।

ঈশ্বর সকলের হৃদয়ে অবস্থান করেন, সকলকে পরিচালনা করেন । ঈশ্বর সকলের প্রভু, সর্বজ্ঞ, নিয়ন্ত্রক, বিশ্বের কারণ, স্রষ্টা ও ধ্বংসকারী ।

৫. জন্ম ও মৃত্যুর বিধায়ক এবং ভালো কাজের ফলদাতা

হিন্দু ধর্মের বেদান্ত দর্শন অনুসারে প্রাণী ও অপ্রাণী যে কোনো বিষয় বা পদার্থ যে-স্থান থেকে জন্মলাভ করে, মৃত্যু বা ধ্বংসের মাধ্যমে যার কাছে ফিরে যায়, তিনিই ব্রহ্ম বা অক্ষয় শক্তি বা ঈশ্বর । বেদান্তের এই উক্তি থেকে প্রতীয়মান হয় যে ঈশ্বর জীবকুলের সৃষ্টি ও মৃত্যু উভয়ের সাথে সম্পৃক্ত । ঈশ্বর জন্ম ও মৃত্যু সৃষ্টি করেছেন যাতে এ জগতের সকল প্রাণী একটা নিয়মের মধ্য দিয়ে ভারসাম্য রক্ষা করে পরিচালিত হয় । তিনি স্বর্গ ও নরক সৃষ্টি করেছেন, যাতে মানুষ সৎ পথে ও সৎ কর্মের মধ্য দিয়ে স্বর্গলাভ করতে পারে । মন্দ কর্ম করলে নরকে যেতে হয় ।

পাঠ ৪ : ঈশ্বরের গুণ ও শক্তি : দেবদেবী

ঈশ্বর এ মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা এবং সংহারকর্তা । অর্থাৎ ঈশ্বর যে তিনটি প্রধান ক্রিয়া সাধন করে থাকেন, তা হলো সৃষ্টি, স্থিতি ও লয় । তিনি নিরাকার, আবার প্রয়োজনে সাকার রূপ ধারণ করেন । দেবদেবী ঈশ্বরের সাকার রূপ। ঈশ্বর নিজের কোনো গুণ বা ক্ষমতাকে কোনো বিশেষ আকার বা রূপে প্রকাশ করেন - যেমন ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, দুর্গা, সরস্বতী ইত্যাদি । এঁরা সকলেই ঈশ্বরের বিশেষ গুণ বা ক্ষমতা ধারণ করে রয়েছেন । উদাহরণস্বরূপ বলা যায় : ব্রহ্মা সৃষ্টির দেবতা, বিষ্ণু পালনকর্তা, সরস্বতী বিদ্যার দেবী, শিব প্রলয়ের দেবতা ইত্যাদি । আমরা ঈশ্বরের বিভিন্ন গুণ ও শক্তি অর্জনের জন্য স্বতন্ত্রভাবে দেবদেবীর পূজা করি, ভক্তি করি, তাঁদের কাছে মঙ্গল প্রার্থনা করি ।

 

 

 

 

 

 

আগেই বলা হয়েছে, ঈশ্বর বা ভগবান প্রধানত ছয়টি গুণে গুণান্বিত- ঐশ্বর্য, বীর্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্য।

দেবদেবীগণ পরিপূর্ণ ঈশ্বর না হলেও মহান ঈশ্বরের বিভিন্ন গুণে গুণান্বিত । কেননা, তাঁরা ঈশ্বরের এক বা একাধিক গুণ বা শক্তি ধারণ করে আছেন । এ কারণে ঈশ্বররূপে বিভিন্ন দেবদেবীকে পূজা করা হয় । পূজার মাধ্যমে দেবতারা সন্তুষ্ট হয়ে পূজারীর অভীষ্ট পূরণ করেন ।

সুতরাং ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, দুর্গা, কালী প্রভৃতি দেবদেবী এক ঈশ্বরের বিভিন্ন সাকার রূপ । উদাহরণস্বরূপ নিচে

কয়েকজন দেবদেবীর ঐশ্বরিক গুণ ও শক্তির বর্ণনা করা হলো- ব্রহ্মা : ঈশ্বর যে-রূপে সৃষ্টি করেন তাঁর নাম ব্রহ্মা । তিনি বিশ্ব ও বিশ্বের সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। বিশ্ব সৃষ্টি করা ছাড়াও ব্রহ্মা নাট্যশাস্ত্র, বাস্তুশাস্ত্র প্রভৃতি শাস্ত্রের উদ্ভাবক । তিনি কল্যাণমূলক কাজ করে থাকেন ।

বিষ্ণু : তিনি সৃষ্টির স্থিতি ও প্রতিপালনের দেবতা । এ বিশ্বে যা কিছু আছে বিষ্ণু তা পালন ও রক্ষা করেন। দেবতারা বিপদে পড়লে বিষ্ণু তাদের উদ্ধার করেন। দুষ্টকে দমন ও শিষ্টকে পা

লন করার জন্য তিনি বহুরূপে এ পৃথিবীতে অবতাররূপে আবির্ভূত হন । বিষ্ণুকে স্মরণ করলে পাপ দূরীভূত হয়, হৃদয় পৰিত্ৰ হয় ও মনে শান্তি আসে।

শিব বা মহেশ্বর : তিনি সংহার বা প্রলয়ের দেবতা। তিনি সংহার করে সমতা রক্ষা করেন। এ ছাড়াও তিনি দেবতাদের বিপদ আপদ থেকে রক্ষা এবং প্রয়োজনে অসুরদের বিনাশ করেন। তিনি চিকিৎসাশাস্ত্র ও নৃত্যশাস্ত্রসহ বহু বিদ্যায় পারদর্শী। নাট্যে ও নৃত্যে পারদর্শিতার কারণে তাঁকে নটরাজ বলা হয় ।

দেবী দুর্গা : দেবী দুর্গা ঈশ্বরের শক্তিরূপ। আদ্য শক্তি মহামায়াই বিভিন্ন দেবীরূপে প্রকাশিত হয়েছেন যেমন – দুর্গা, কালী, জগদ্ধাত্রী, কাত্যায়নী প্রভৃতি। দেবী দুর্গা অসীম শক্তির দেবী, যিনি মহাবিশ্ব সৃষ্টি ও ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার সাথে সম্পৃক্ত। দেবী দুর্গাকে এ মহাবিশ্বের মহাশক্তি হিসেবে বিশ্বাস এবং পূজা করা হয় ।

দেবী কালী : দেবী কালী শাশ্বত ক্ষমতা ও শক্তির আধার । তিনি একদিকে অন্যায় ও অশুভকে ধ্বংস করেন । অপরদিকে মমতাময়ী মা রূপে দেন বরাভয় ।

লক্ষ্মী : লক্ষ্মী সৌভাগ্য, ধন-সম্পদ এবং সৌন্দর্যের দেবী। তিনি আমাদের বিভিন্ন সম্পদ দান করে থাকেন।

সরস্বতী : তিনি বিদ্যা, শিল্পকলা ও সংস্কৃতির দেবী। সরস্বতী পূজার মাধ্যমে আমরা বিদ্যাশক্তি অর্জন করতে পারি ।

গণেশ : সিদ্ধি বা সফলতার দেবতা। যে-কোনো শুভকাজে বা ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সিদ্ধিদাতা হিসেবে গণেশের পূজা করা হয় ।

কার্তিক : কার্তিক যুদ্ধের দেবতা, তিনি দেবসেনাপতি। তিনি অন্যায়, অত্যাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার শিক্ষা দিয়ে থাকেন। আদর্শ ও সুন্দর সন্তান লাভের জন্য দেবতা কার্তিকের পূজা করা হয় ।

শীতলা : তিনি রোগ প্রতিরোধ ও শাস্তি প্রতিষ্ঠার দেবী। দেবী শীতলাকে স্বাস্থ্যবিধি পালন বা পরিষ্কার- পরিচ্ছন্নতার দেবীও বলা হয়। শীতলা পূজার মাধ্যমে আমরা স্বাস্থ্যবিধি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতন হয়ে থাকি । তিনি মহামারী প্রতিরোধ ও প্রাণিকূলকে বিভিন্ন রোগের হাত থেকে রক্ষা করে থাকেন ।

পাঠ ৫ : উপাসনা

উপাসনার ধারণা

হিন্দুধর্মের মূলে রয়েছেন ভগবান স্বয়ং। 'ধর্মমূলো হি ভগবান, সর্ববেদময়ো হরিঃ। ঈশ্বর আছেন । তিনি এক ও অদ্বিতীয় । তিনি সকল জীবের অন্তরাত্মা । সবকিছুই তাঁর থেকে সৃষ্ট। সুতরাং ঈশ্বরই ধর্মের মূল উৎস । ঈশ্বর আমাদের সৃষ্টি করেছেন। তিনি আমাদের পালন করেন। তিনি সর্বশক্তিমান । আমাদের মঙ্গল-অমঙ্গল সব তাঁর হাতে। তাই আমাদের মঙ্গলের জন্য আমরা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা জানাই । তাঁর গুণগান করি। বিশেষ পদ্ধতিতে ঈশ্বরের গুণগান করার রীতিকে বলা হয় উপাসনা । আক্ষরিকভাবে উপাসনা বলতে ঈশ্বরের পাশে অবস্থান করাকে বোঝানো হয় ।

প্রকৃত ধর্মপ্রাণ ব্যক্তির হৃদয় ঈশ্বরের অনুকম্পা লাভের জন্য উন্মুখ থাকে । সে ঈশ্বরের

সান্নিধ্য লাভের জন্য বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে । হিন্দুধর্ম অনুসারে ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করাই

 

 

 

হলো পরম তৃপ্তি ও মুক্তির একমাত্র পথ । পবিত্র ধর্মগ্রন্থ বেদে ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের বিভিন্ন পথের কথা উল্লেখ রয়েছে । উপাসনা ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের একটি মাধ্যম বা পথ ।

উপাসনার ধরন

উপাসনা সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে । যথা-

ক. সাকার উপাসনা বা প্রতীক উপাসনা 

খ. নিরাকার উপাসনা বা নির্গুণ উপাসনা

সাকার উপাসনা বা প্রতীক উপাসনা : প্রতীক শব্দের অর্থ চিহ্ন বা আকার। মূলত এ ধরনের উপাসনা বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমাকে (ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, সরস্বতী, লক্ষ্মী, মনসা প্রভৃতি) উদ্দেশ্য করে করা হয় । প্রতীক উপাসনা সগুণ উপাসনা বা ভক্তিযোগ নামে পরিচিত। সগুণরূপে ঈশ্বর সাকাররূপে অবস্থান করেন। এ সময় তিনি প্রতিকৃতিতে প্রকাশিত। পূজা করাকে সগুণ উপাসনা হিসেবে বিবেচনা করা হয় ।

নিরাকার উপাসনা : 'নিরাকার' শব্দের অর্থ যার কোনো আকার নেই। মূলত এ ধরনের উপাসনা ধ্যান সাধনার মাধ্যমে করা হয় । জ্ঞানযোগ নিরাকার উপাসনার একটি অংশ। এ উপাসনা ঈশ্বরের কোনো প্রতিকৃতিকে উদ্দেশ করে করা হয় না । নিরাকাররূপ ঈশ্বর অদৃশ্য অবস্থায় অবস্থান করেন। তাঁকে উপলব্ধি করে তাঁর উপাসনা করা হয় ।

হিন্দুধর্মাবলম্বী কেউ নিরাকার, কেউবা সাকার উপাসনার মাধ্যমে ঈশ্বরকে পূজা বা আরাধনা করেন । এ সম্পর্কে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শ্রীমদ্‌ভগবদ্‌গীতায় উল্লেখ করেছেন :

যে যথা মাং প্রপদ্যন্তে তাংস্তথৈব ভজাম্যহম্ । মম বর্থানুবর্তন্তে মনুষ্যাঃ পার্থ সর্বশঃ । (গীতা ৪/১১)

অর্থাৎ যারা যেভাবে আমাকে ভজনা করে তাদের সেভাবেই আমি কৃপা করে থাকি । মনুষ্যগণ সর্বপ্রকারে আমার পথ অনুসরণ করে। দেবদেবীগণ একই ঈশ্বরের বিভিন্ন রূপ। তাই হিন্দুধর্মে একের মধ্যে বহুর সমাবেশ বা বহুর মধ্যে একের অভিব্যক্তি ঘটেছে। 

 

 

 

উপাসনার উপায়

উপাসনা করার বিভিন্ন উপায় রয়েছে । এ উপায়গুলোর মধ্যে আছে পূজা করা, জপ ধ্যান বা যোগ সাধনা, তন্ত্র সাধনা প্রভৃতি । এ ছাড়াও দেব-দেবীর উদ্দেশে মন্ত্র পাঠ, প্রার্থনা মন্ত্র, পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, প্রণাম মন্ত্ৰ পাঠ, আরতিগান, কীর্তন প্রভৃতি উপাসনার উপায় হিসেবে ধরা হয়। এ বাহ্য আচরণের মাধ্যমে মূলত অন্তরের ভক্তি, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ইষ্ট দেবতার উদ্দেশে প্রকাশ করা হয় । উপাসনা ও প্রার্থনার জন্য হিন্দু ধর্মগ্রন্থে অনেক মন্ত্র বা শ্লোক রয়েছে । সেগুলো আবৃত্তি করে উপাসনা করা হয় বা প্রার্থনা জানানো হয় ।

উপাসনার প্রয়োজনীয়তা

১. হৃদয় পরিশুদ্ধ ও পবিত্র করা : ঈশ্বরের উপাসনা হৃদয়কে পরিশুদ্ধ ও পবিত্র করে এবং সুন্দর অনুভূতির সৃষ্টি করে ।

২. মনের দৃঢ়তা বৃদ্ধি করা : উপাসনা মনের দৃঢ়তা বৃদ্ধি করে, মনের আবেগকে পরিশুদ্ধ, উন্নত ও

নিয়ন্ত্রণ করে ।

৩. ভক্তদের মনে ঈশ্বরের উপস্থিতি সৃষ্টি করা : উপাসনা ভক্তদের ঈশ্বরের কাছাকাছি অবস্থানের সুযোগ করে দেয় এবং ধর্মীয় বিষয়ে গভীর চেতনার সৃষ্টি করে ।

8. মানসিক অবস্থার উন্নতি করা: উপাসনা মানুষের মানসিক অবস্থার উন্নতি করে, মনের কুটিলতা দূর করে এবং মনকে শুদ্ধ করে সত্যের পথে পরিচালিত করে। উপাসনা মনের কামনা, বাসনা, তৃষ্ণা, অহমিকা, আমিত্ব, হিংসা বিদ্বেষ দূর করে।

৫. ভক্ত ও ঈশ্বরকে মুখোমুখি করা : উপাসনার মাধ্যমে ভক্ত তার ইষ্ট দেবতাকে উপলব্ধি করতে পারে এবং গভীর ভালোবাসার মাধ্যমে সে তাকে নিজের চোখে অবলোকন করতে পারে ।

৬. মোক্ষ লাভ : মোক্ষ অর্থ চিরমুক্তি । দেহান্তরের মধ্য দিয়ে জীবাত্মা এক দেহ থেকে অন্য দেহে যায় । কিন্তু পুণ্যবলে এক সময় আর দেহান্তর হয় না। তখন জীবাত্মাকে আর অন্যদেহে যেতে হয় না । জীবাত্মা পরমাত্মায় লীন হয়ে যায় । তখন আর পুনর্জন্ম হয় না। একে বলে মোক্ষ, মোক্ষলাভ । উপাসনার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে ঈশ্বরের সান্নিধ্যলাভ, শেষে মোক্ষলাভ ।

পাঠ ৬ : ঈশ্বর উপাসনার একটি মন্ত্র বা শ্লোকের অর্থ ও শিক্ষা

উপাসনার একটি মন্ত্র :

যস্মাৎ পরং নাপরমস্তি কিঞ্চিদ্

যস্মান্নাণীয়ো ন জ্যায়ো হস্তি কিঞ্চিৎ । বৃক্ষ ইব স্তব্ধো দিবি তিষ্ঠত্যেক- স্তেনেদং পূর্ণং পুরুষেণ সর্বম্ ॥ (শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ্ ৩/৯)

 

 

 

সরলার্থ : যা থেকে উৎকৃষ্ট বা অপকৃষ্ট আর কিছু নেই, যা থেকে ক্ষুদ্রতর বা বৃহত্তর কিছুই নেই, যে অদ্বিতীয় পরমাত্মা বৃক্ষের ন্যায় নিশ্চলভাবে স্বমহিমায় বিরাজিত, সেই পুরুষের দ্বারাই সমস্ত জগৎ পরিব্যাপ্ত।

উপাসনার শিক্ষা : এ শ্লোক থেকে আমরা যে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি তা হলো- ব্রহ্ম বা ঈশ্বরের চেয়ে উৎকৃষ্ট আর কিছুই নেই । তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি নিজ গুণে তাঁর সৃষ্টির মধ্যে এ বিশ্ব জগতে বিরাজ করছেন । তিনি ছাড়া এ জগতে আর দ্বিতীয় কেউ নেই অর্থাৎ ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয় । আমাদের উচিত সবসময় ঈশ্বরের নাম জপ করা বা প্রতিদিন একবার ঈশ্বরের মন্ত্র বা শ্লোক পাঠ করা, যাতে আমাদের মনে ঈশ্বরের মহত্ত্ব সর্বদাই পরিব্যাপ্ত থাকে ।

প্ৰাৰ্থনা মন্ত্ৰ

কেশব ক্লেশহরণ নারায়ণ জনার্দন । গোবিন্দ পরমানন্দ মাং সমুদ্ধর মাধব

সরলার্থ : হে কেশব, হে দুঃখদূরকারী, হে নারায়ণ, হে জনার্দন, হে গোবিন্দ-পরমানন্দ, হে মাধব আমাকে উদ্ধার কর ।

শিক্ষা

ভগবান বিষ্ণুই শ্রীকৃষ্ণ । তিনি জীব ও জগতের মঙ্গলের জন্য অনেক লীলা করেছেন । দুষ্টের দমন করে ধর্ম ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেছেন, শান্তি স্থাপন করেছেন । তাঁর অনেক নাম : কেশব, নারায়ণ, জনার্দন, গোবিন্দ, মাধব ইত্যাদি । তিনি সবসময় আনন্দময় থাকেন, সুখ বা দুঃখে তিনি বিচলিত হন না । তাই তিনি পরমানন্দ । তিনি জীব ও জগতের দুঃখ হরণ করেন, অর্থাৎ দূর করেন । আমরা জীবেরা অনেক সময় জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে এমন কাজ করি, যাতে পাপ হয় । তাই আমাদের পাপ ক্ষমা করে উদ্ধার করার জন্য আমরা তাঁর কাছে প্রার্থনা জানাই। এ প্রার্থনা মন্ত্র থেকে আরও শিক্ষা পাই যে, ঈশ্বরের কাছে পাপমুক্তির জন্যও প্রার্থনা করতে হয় ।

অনুশীলনী

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন :

১। কলিযুগের অন্তে অবতার হিসেবে কার আবির্ভাব ঘটবে?

ক. কূর্ম

গ. বামন

খ. বরাহ

ঘ. কল্কি

২। ঈশ্বরের সাকার রূপ কারা?

ক. মুনি-ঋষি 

গ. যোগী-সন্ন্যাসী

খ. দেব-দেবী

ঘ. সাধক-সাধিকা

 

 

 

৩। রোগ প্রতিরোধকারী দেবী কে?

খ. দুর্গা

ক. লক্ষ্মী

ঘ. শীতলা

গ. কালী

৪। পরমাত্মার মৃত্যু নেই, কারণ পরমাত্মা -

i. সাকার

ii. মৃত্যুহীন

iii. জন্ম ও মৃত্যুহীন

নিচের কোনটি সঠিক?

খ. ii

ক. i

গ. iii

ঘ. i, ii ও iii

নিচের অনুচ্ছেদটি পড় এবং ৫ ও ৬ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও । সুমিতা দেবী ফলাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করে প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় গভীর ধ্যানে মগ্ন থেকে ঈশ্বরের উপাসনা করেন । তাঁর জীবনের উদ্দেশ্য মোক্ষলাভ ।

৫ । সুমিতা দেবী কোন ধরনের উপাসনা করেন?

ক. সাকার

গ. সকাম

খ. নিরাকার

ঘ. সমবেত

৬। নিয়মিত উপাসনার ফলে সুমিতা দেবীর -

i. হৃদয় পরিশুদ্ধ ও পবিত্র হবে ii. মনের দৃঢ়তা বৃদ্ধি পাবে

iii. ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের প্রত্যাশা পূরণ হবে

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i

খ. i ও ii

ঘ. i, ii ও iii

গ. ii ও iii

সৃজনশীল প্রশ্ন :

শুভ্র ও তার মায়ের কথপোকথন-

শুভ্র   -মা, দিনের পর রাত, রাতের পর দিন হয় কেন? দাদু মারা গেলেন কেন? 

মা    -এটি মহাবিশ্বের একটি নিয়ম। এর মূলে রয়েছেন স্রষ্টা । তাঁকে আমরা ঈশ্বর বলি।

শুভ্র    -মা, ঈশ্বর কে? ব্রহ্মা, শিব না বিষ্ণু ?

মা    -এঁরা সকলেই এক ঈশ্বরের বিভিন্ন গুণ ও শক্তি এবং ঈশ্বরের সাকাররূপের প্রতিফলন । তাই

আমরা বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজা করি । 

ক. বিষ্ণুর সর্বশেষ অবতার কোনটি ?

খ. উপাসনা বলতে কী বোঝায়?

গ. অনুচ্ছেদে শুভ্রের প্রশ্নের জবাবে তার মা স্রষ্টার কোন ভূমিকার কথা ব্যক্ত করেন তা তোমার পঠিত বিষয়বস্তুর আলোকে ব্যাখ্যা কর ।

ঘ. শুভ্রের মায়ের শেষোক্ত কথাটি— 'ঈশ্বরের সাকার রূপের প্রতিফলন'- বিশ্লেষণ কর ।

 

 

Related Question

View All
উত্তরঃ

আমাদের মঙ্গল-অমঙ্গল সবই ঈশ্বরের হাতে। তাই আমাদের মঙ্গলের জন্য আমরা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা জানাই। বিশেষ পদ্ধতিতে ঈশ্বরের গুণগান করার রীতিকে উপাসনা বলা হয়। আক্ষরিকভাবে উপাসনা বলতে ঈশ্বরের পাশে অবস্থান করাকে বোঝানো হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
1.2k
উত্তরঃ

অনুচ্ছেদে শুভ্রের প্রশ্নের জবাবে মা স্রষ্টার সৃষ্টির নিয়ম এবং অস্তিত্ব সম্পর্কে ব্যক্ত করেন।

আদিতে এ মহাবিশ্ব ছিল না। তখন সব ছিল অন্ধকার। তারপর এলো আলো, জল এবং জলের পরে পৃথিবী। পৃথিবীর পরে এলো গাছপালা, কীটপতঙ্গ, জীবজন্তু, মানবকুল প্রভৃতি। এ সবকিছু সৃষ্টির মূলে রয়েছেন ঈশ্বর। তিনি নিজেই সৃষ্টি হয়েছেন। গীতায় বলা হয়েছে তিনি পরমাত্মা এবং একমাত্র আশ্রয়। তাছাড়া আমরা বছরের বিভিন্ন সময়ে দেব-দেবীর পূজা করে থাকি। এসব দেব- দেবী মূলত ঈশ্বরেরই সাকার রূপ। এঁরা ঈশ্বরের একেক শক্তির অধিকারী। তাই দেখা যাচ্ছে এ পৃথিবীর জলে, স্থলে, আকাশে, বাতাসে সর্বত্র স্রষ্টা অর্থাৎ ঈশ্বর বিরাজমান। আর তাঁর ভূমিকা আছে বলেই পৃথিবী এত সুন্দর।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
852
উত্তরঃ

শুভ্রের মায়ের শেষোক্ত কথাটি অর্থাৎ 'সকল দেব-দেবী হচ্ছেন ঈশ্বরের সাকার রূপের প্রতিফলন'- এটি যথার্থ ও সঠিক।

শুভ্রের মা বোঝাতে চাইছেন, ঈশ্বর সীমাহীন গুণ ও ক্ষমতার অধিকারী। তিনি যখন নিজের কোনো গুণ বা ক্ষমতাকে কোনো বিশেষ আকার বা রূপে প্রকাশ করেন, তখন তাঁকে দেবতা বলে। দেবতারা আলাদা গুণ বা শক্তির অধিকারী হলেও ঈশ্বর নন। ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়। দেবতারা এক ঈশ্বরের বিভিন্ন গুণ বা শক্তির প্রকাশ মাত্র। ঈশ্বর নিরাকার, আবার প্রয়োজনে সাকার রূপও ধারণ করেন। দেব-দেবী ঈশ্বরের সাকার রূপ। ঈশ্বর নিজের কোনো গুণ বা ক্ষমতাকে কোনো বিশেষ আকার বা রূপে প্রকাশ করেন। যেমন ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, দুর্গা, সরস্বতী ইত্যাদি। এসব দেব-দেবী ঈশ্বরের বিশেষ গুণ বা ক্ষমতা ধারণ করে রয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ব্রহ্মা সৃষ্টির দেবতা, বিষ্ণু পালনের দেবতা, শিব প্রলয়ের দেবতা, দুর্গা দুর্গতি নাশিনী, সরস্বতী বিদ্যার দেবী ইত্যাদি। আমরা ঈশ্বরের বিভিন্ন গুণ ও শক্তি অর্জনের জন্য দেব-দেবীর পূজা করি। এসব দেবদেবী মূলত ঈশ্বরের সাকার রূপেরই প্রতিফলন।'

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
657
উত্তরঃ

ঈশ্বর যখন জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন তখন তাকে পরমাত্মা বলে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
392
উত্তরঃ

শান্তি প্রতিষ্ঠায় ঈশ্বর অবতাররূপে পৃথিবীতে নেমে আসেন। হিন্দুধর্মে অবতার বলতে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনে স্বেচ্ছায় নিরাকার ঈশ্বরের জীব বা সাকাররূপে পৃথিবীতে আবির্ভূত হওয়াকে বোঝানো হয়। দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন এবং ধর্ম রক্ষার জন্য ঈশ্বর নানারূপে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন বা নেমে আসেন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
430
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews