বিষ্ণুর চতুর্থ অবতার নৃসিংহ ।
ঈশ্বরকে ছয়টি গুণের জন্য ভগবান বলা হয়।
ব্রহ্ম শব্দের অর্থ সর্ববৃহৎ ।
বিষ্ণুর তৃতীয় অবতার বরাহ।
'অনাদি পুরুষ' শ্রীকৃষ্ণ ।
শ্রীবিষ্ণুর প্রথম অবতার হলো মৎস্য ।
কলিযুগের অন্তে অবতার হিসেবে কল্কির আবির্ভাব ঘটবে ।
ওঁ-এর পূর্ণরূপ হলো অ-উ-ম ।
ঈশ্বর যখন জীবের দয়া করেন, তখন তাঁকে বলে ভগবান ।
ঈশ্বরকে ছয়টি গুণের অধীশ্বর বলা হয় ।
অবতার তিন পর্যায়ের হতে পারে ।
ঈশ্বর যখন নির্গুণ থাকেন তখন তাকে নিরাকার বলে ।
সমস্ত আগামশাস্ত্রের বক্তা বলে ব্রহ্মা সুপরিচিত ।
'স্বয়ম্ভু' শব্দের অর্থ নিজে নিজে সৃষ্টি হওয়া ।
অবতার' শব্দটি সংস্কৃত শব্দ
'তমাদিদেব পুরুষঃ পুরাণ- শ্লোকাংশটি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা থেকে সংকলিত হয়েছে ।
ব্রহ্মর মধ্যে সকল কিছুর অবস্থান ।
ব্রহ্ম প্রকৃতি ও মহাবিশ্বকে তাঁর ঐশ্বরিক শক্তির মাধ্যমে রক্ষা করে থাকেন ।
আত্মা যখন নিজের মধ্যে অবস্থান করে তখন তাকে পরমাত্মা বলে ।
'ওঙ্কার'-এর সংক্ষিপ্ত রূপ ওঁ ।
জগতের আদি কারণ ঈশ্বর ।
ঈশ্বর পরম পুরুষ, তাঁর সহস্র মস্তক, সহস্ত্র চক্ষু, সহস্র চরণ-ঋগ্বেদ এ বর্ণিত আছে ।
কৃপা বলতে বোঝায় দয়া ।
বিষ্ণুর সপ্তম অবতার রাম ।
বিষ্ণুর সর্বশেষ অবতার কল্কি ।
জগতের নিধান-আধার আশ্রয় ঈশ্বর ।
ঈশ্বর তিনটি প্রধান ক্রিয়া সাধন করে ।
ঈশ্বরের লীলার প্রকাশ ঘটে মহামায়া বা প্রকৃতির মধ্যে ।
ঈশ্বর সৃষ্টির জন্ম ও মৃত্যু নির্ধারণ করেছেন ।
অপ্রাণী বলতে যার প্রাণ নেই এমন কিছু বোঝায় ।
যারা সৎ পথে চলেন তাদের ঈশ্বর ভালোবাসেন ।
ঈশ্বর সৃষ্টির মধ্যে অবস্থান করেন ।
ব্রহ্মা সৃষ্টির দেবতা ।
রক্ষা ও প্রতিপালনের দেবতা বিষ্ণু ।
শিব সংহারের দেবতা ।
ন্যায়শাস্ত্র অনুসারে ভালো কাজের ফলাফল শুভ এবং মন্দ কাজের ফলাফল অশুভ ।
সৌভাগ্য ও সৌন্দর্যের দেবী লক্ষ্মী ।
শিশুরা সাধারণত দেবী সরস্বতীর পূজার মাধ্যমে শিক্ষা জীবনে প্রবেশ করে ।
ব্যবসায় বাণিজ্যে সিদ্ধি লাভের জন্য গণেশ পূজা করা হয় ।
সরস্বতী পূজার দিন হাতেখড়ি দেওয়া হয় ।
'সফলতার' দেবতা গণেশ ।
রোগ প্রতিরোধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার দেবী শীতলা ।
ধ্বংসের দেবতা বলা হয় শিবকে ।
সিদ্ধি দেবতা গণেশ ।
কালীকে সময় ও পরিবর্তনের দেবী বলা হয় ।
নারায়ণ ভগবান বিষ্ণুর অপর নাম ।
দুর্গা দেবীকে মহাবিশ্বের মহাশক্তি হিসেবে বিশ্বাস ও পূজা করা হয় ।
নাট্যশাস্ত্র ও বাস্তুশাস্ত্রের উদ্ভাবক ব্রহ্মা ।
ঈশ্বরের শক্তির প্রকাশ দেব-দেবী ।
ঈশ্বর বিষ্ণু রূপে সৃষ্টির প্রতিপালন করেন ।
চিকিৎসাশাস্ত্রে পারদর্শী শিব ।
বিদ্যার দেবী সরস্বতী ।
দেবতারা বিপদে পড়লে বিষ্ণু তাঁদের উদ্ধার করেন ।
নম্র ও বিনয়ী দেবতা কার্তিক ।
শীতলাকে স্বাস্থ্যবিধি পালন বা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দেবী বলা হয় ।
উপাসনা দুই ধরনের ।
মোক্ষলাভ বলতে ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ বোঝায়
প্রকৃত ধর্মপ্রাণ ব্যক্তির হৃদয় ঈশ্বরের অনুকম্পা লাভের জন্য উন্মুখ থাকে ।
প্রতীক উপাসনা ভক্তিযোগ যোগ নামে পরিচিত ।
'মোক্ষ' মানে চিরমুক্তি ।
উপাসনার প্রধান উদ্দেশ্য মোক্ষলাভ ।
মনের দৃঢ়তা বৃদ্ধি করে উপাসনা ।
একোহহম্' বলা হয়েছে উপনিষদে ।
প্রকৃত ধর্মপ্রাণ ব্যক্তির হৃদয় ঈশ্বরের অনুকম্পা লাভের জন্য উন্মুখ থাকে ।
'প্রতীক' শব্দের অর্থ চিহ্ন বা আকার ।
ঈশ্বরের সাকার রূপ দেব-দেবী ।
'নিরাকার' শব্দের অর্থ যার কোনো আকার নেই ।
ধ্যান সাধনার মাধ্যমে নিরাকার উপাসনা করা হয় ।
নিরাকাররূপে ঈশ্বর অদৃশ্য অবস্থায় অবস্থান করে ।
উপাসনা হৃদয়কে পরিশুদ্ধ ও পবিত্র করে ।
জীব ও জগতের জন্য অনেক লীলা করেছেন ভগবান বিষ্ণু ।
ব্রহ্ম শব্দের অর্থ সর্ববৃহৎ, 'বৃহাত্বাৎ ব্রহ্ম'। যার থেকে বড় কেউ নেই। যিনি সকল কিছুর স্রষ্টা এবং যার মধ্যে সকল কিছুর অবস্থান ও বিলয় তিনিই ব্রহ্ম। ব্রহ্ম নিত্য, শুদ্ধ, সর্বজ্ঞ, মুক্ত, জ্যোতির্ময় নিরাকার, সর্বব্যাপী ও সর্বশক্তিমান। ব্রহ্ম যখন নিজের মধ্যে অবস্থান করেন তখন পরমাত্মা; জীবের মধ্যে অবস্থান করলে জীবাত্মা বলা হয়।
এ মহাবিশ্বে যিনি নিজেকে সৃষ্টি করেছেন, যিনি সকল দুঃখ থেকে মুক্ত। তিনিই এ মহাবিশ্বের স্রষ্টা, তাঁকে ব্রহ্ম, ঈশ্বর, ভগবান, অবতার এবং আত্মা নামে অভিহিত করা হয়েছে। ব্রহ্ম যখন জীব ও জগতের ওপর প্রভুত্ব করেন, তখন তিনি ঈশ্বর। ঈশ্বর যখন ভক্তের ডাকে সাড়া দেন, তখন তিনি ভগবান। আবার ঈশ্বর যখন জীবরূপ ধারণ করে পৃথিবীতে অবতরণ করেন, তখন তিনি অবতার।
ব্রহ্মকে 'ওঙ্কার' বলা হয়। ওঙ্কার সংক্ষেপে হচ্ছে ও। যার পূর্ণরূপ অ-উ-ম। এর অর্থ হচ্ছে সৃষ্টি, স্থিতি ও লয়কারী ব্রহ্ম। একই সাথে তিনি অজ, অনাদি, অনন্ত এবং শাশ্বত। 'ওঙ্কার' রূপে ব্রহ্ম নিরাকার ও নির্গুণ এবং তিনি নিশ্চল অবস্থায় অবস্থান করেন।
ব্রহ্মা যখন জীব ও জগতের ওপর, প্রভুত্ব করেন তখন তাকে ঈশ্বর বলা হয়। ঈশ্বরের রূপের শেষ নেই। তিনি অনন্তরূপী। জ্ঞানীর কাছে তিনি ব্রহ্ম, যোগীর কাছে তিনি পরমাত্মা এবং ভক্তের কাছে তিনি। ভগবান। ঈশ্বরকে পরমেশ্বর নামেও ডাকা হয়ে থাকে।
ঈশ্বর সকল জীবের অন্তরাত্মা। কারণ তিনি যখন জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন তখন তাঁকে জীবাত্মা বলে। আত্মা যখন নিজের মধ্যে অবস্থান করে তখন তাকে পরমাত্মা বলা হয়।
'বৃহত্বাৎ ব্রহ্ম' বলতে বোঝানো হয়েছে যাঁর থেকে বড় আর কেউ নেই, যিনি, সকল কিছুর স্রষ্টা এবং যাঁর মধ্যে সকল কিছুর অবস্থান ও বিলয় তিনিই ব্রহ্ম। ব্রহ্ম শুধু প্রকৃতি ও মহাবিশ্বকেই সৃষ্টি করেননি, বরং তিনি প্রকৃতি ও মহাবিশ্বকে তাঁর ঐশ্বরিক শক্তির মাধ্যমে রক্ষাও করে থাকেন। বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে ব্রহ্ম নিত্য, শুদ্ধ, মুক্ত, সর্বজ্ঞ, জ্যোতির্ময়, নিরাকার, সর্বব্যাপী ও সর্বশক্তিমান।
মহান ঈশ্বর একজন কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক। একজন অপরিসীম ক্ষমতাধর পরমপুরুষ। তাঁর রয়েছে অসংখ্য মস্তক, অনন্ত চক্ষু, অগণিত চরণ। তিনি সমগ্র বিশ্বে সর্বজীবে পরিব্যাপ্ত। লক্ষ কোটি গ্রহ, উপগ্রহ এ মহাকাশে নির্দিষ্ট গতিপথে আবর্তিত হচ্ছে। ঈশ্বর এ মহাবিশ্বের একজন কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করেন। এসব কারণে তাঁকে আদি শক্তি বলা হয়।
এ মহাবিশ্ব যিনি নিজেই সৃষ্টি করেছেন, তিনি সকল দুঃখ থেকে মুক্ত। ঈশ্বর এ মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন। তিনি এ মহাবিশ্বের স্রষ্টা, সর্বশক্তির উৎস। বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে স্রষ্টা নিত্য, শুদ্ধ, মুক্ত, সর্বজ্ঞ জ্যোতির্ময়, নিরাকার, সর্বব্যাপি ও- সর্বশক্তিমান। তিনি সকল দুঃখ থেকে মুক্ত।
হিন্দুধর্ম দর্শন অনুসারে ঐশ্বর্য, বীর্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্যকে ভগ বলে। ঈশ্বরকে যখন এই ছয়টি গুণের অধীশ্বররূপে কল্পনা ও আরাধনা করা হয় তখন তাকে ভগবান বলা হয়। বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে ভগবান গুণময় এবং অশেষরূপের আধার। তিনি রসময়, আনন্দময় এবং দয়াময়।
হিন্দুধর্মে অবতার বলতে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনে স্বেচ্ছায় নিরাকার ঈশ্বরের জীব বা সাকার রূপে পৃথিবীতে আবির্ভূত হওয়াকে বোঝায়। দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন এবং ধর্ম রক্ষার জন্য ঈশ্বর নানারূপে পৃথিবীতে অবতরণ করেন। যেমন- নৃসিংহ, রাম, শ্রীকৃষ্ণ প্রভৃতি হচ্ছেন ঈশ্বরের বিভিন্ন অবতার।
বিষ্ণুর দশ অবতার হলেন। যথাক্রমে-
১. মৎস্য, ২. কূর্ম, ৩. বরাহ, ৪. নৃসিংহ, ৫. বামন, ৬. পরশুরাম, ৭. রাম, ৮. বলরাম, ৯. বুদ্ধ ও ১০. কল্কি।
ব্রহ্মকে পরমাত্মা বলা হয়। ব্রহ্ম যখন জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন, তখন তাকে জীবাত্মা বলে। আত্মা যখন নিজের মধ্যে অবস্থান করে, তখন তাকে পরাত্মা বলা হয়। ব্রহ্ম বা পরমাত্মার জন্ম। নেই, মৃত্যু নেই। ব্রহ্মকে 'ওঙ্কার' বলা হয়। ওঙ্কার এর পূর্ণরূপ অ-উ-ম (ওঁ)।
এ মহাবিশ্বে যিনি নিজেকে সৃষ্টি করেছেন, যিনি সকল দুঃখ থেকে মুক্ত। তিনিই এ মহাবিশ্বের স্রষ্টা। তাঁকে ব্রহ্ম, ঈশ্বর, ভগবান, অবতার এবং আত্মা নামে অভিহিত করা হয়েছে। ব্রহ্ম যখন জীব ও জগতের উপর প্রভুত্ব করেন। তখন তিনি ঈশ্বর। ঈশ্বর যখন ভক্তের ডাকে সাড়া দেন, তখন তিনি ভগবান। আবার ঈশ্বর যখন জীবরূপ ধারণ করে পৃথিবীতে অবতরণ করেন, তখন তিনি অবতার।
'ব্রহ্ম' শব্দের অর্থ সর্ববৃহৎ। কাজেই ব্রহ্ম থেকে বড় কেউ নেই। যিনি সকল কিছুর স্রষ্টা এবং যার মধ্যে সকল কিছুর অবস্থান ও বিনয় তিনিই ব্রহ্ম। ব্রহ্ম নিত্য, শুদ্ধ, মুক্ত, সর্বজ্ঞ, জ্যোতির্ময়, নিরাকার, সর্বব্যাপী ও সর্বশক্তিমান।
ব্রহ্ম যখন জীব ও জগতের ওপর প্রভুত্ব করেন, তখন তাঁকে ঈশ্বর বলা হয়। ঈশ্বরের রূপের শেষ নেই। ঈশ্বর অনন্তরূপী। তিনি জগতের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা এবং ধ্বংস কর্তা। ঈশ্বরকে পরমেশ্বর নামেও ডাকা হয়।
বিষ্ণু পুরাণে বলা হয়েছে যিনি ভূতগণের উৎপত্তি, বিনাশ, পরলোকে গতি, ইহলোকে আগমন এবং বিদ্যা ও অবিদ্যা জানেন, তিনিই ভগবান। ভগবান গুণময়, অশেষ রূপের আধার এবং প্রকৃত সত্য। তিনি রসময়, আনন্দময় ও দয়াময়।
'অবতার' শব্দটি সংস্কৃত শব্দ। 'অবতার' অর্থ হলো কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে জীবরূপে মর্ত্যে ঈশ্বরের অবতরণ। দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন এবং ধর্ম রক্ষার জন্য ঈশ্বর নানারূপে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন।
ঈশ্বর এ মহাবিশ্বের সকল কিছু সৃষ্টি করেছেন, এবং সকল কিছুর নিয়ন্ত্রণ করছেন। তাঁর রয়েছে অসংখ্য মস্তক, অনন্ত চক্ষু : অগণিত চরণ। তিনি সমগ্র বিশ্বে সর্বজীবে পরিব্যাপ্ত। তাই লক্ষ কোটি গ্রহ, উপগ্রহ, জীব ও জড় বস্তু সবকিছুই একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আবদ্ধ। যা অসীম ক্ষমতাধর ঈশ্বর কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন। তাই ঈশ্বরকে সর্বশক্তিমান বলা হচ্ছে।
ঈশ্বরের সাকার রূপ হলেন দেব-দেবী। ঈশ্বর যখন কোনো গুণ বা ক্ষমতাকে কোনো বিশেষ আকার বা রূপে প্রকাশ করেন এবং তাঁর মধ্য দিয়ে কোনো দায়িত্ব পরিচালনা করেন তখন তাদের দেব দেবী বলা হচ্ছে। যেমন- ব্রহ্মা সৃষ্টির দেবতা, বিষ্ণু পালনকর্তা, সরস্বতী বিদ্যার দেবী। শিব প্রলয়ের দেবতা। দেবদেবীরা এক ঈশ্বরের বিভিন্ন রূপ।
ঈশ্বর যেরূপে পালন করেন তাঁর নাম বিষ্ণু। তিনি সৃষ্টি স্থিতি ও প্রতিপালনের দেবতা। তিনি এ বিশ্বে যা কিছু আছে তা পালন ও রক্ষা করেন। দুষ্টের দমন ও শিস্টকে পালন করার জন্য তিনি বহুরূপে পৃথিবীতে অবতরণ করেছিলেন। বিষ্ণুকে স্মরণ করলে পাপ দূরীভূত হয়, হৃদয় পবিত্র হয়, মনে শান্তি আসে।
শিব সংহার বা প্রলয়ের দেবতা। তিনি সংহার করে সমতা রক্ষা করেন। এ ছাড়াও তিনি দেবতাদের বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা এবং প্রয়োজনে অসুরদের বিনাশ করেন। তিনি চিকিৎসাশাস্ত্র ও নৃত্যশাস্ত্রসহ বহু বিদ্যায় পারদর্শী। নাট্যে ও নৃত্যে পারদর্শিতার কারণে তাকে নটরাজ বলা হয়।
দেবী শীতলা রোগ প্রতিরোধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার দেবী। দেবী শীতলাকে স্বাস্থ্যবিধি পালন বা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দেবীও বলা হয়। শীতলা পূজার মাধ্যমে আমরা স্বাস্থ্যবিধি ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতন হয়ে থাকি। তিনি মহামারি প্রতিরোধ ও প্রাণিকুলকে বিভিন্ন রোগের হাত থেকে রক্ষা করেন। তাই আমরা দেবী শীতলার পূজা করি।
বিশেষ পদ্ধতিতে ঈশ্বরের গুণগান করার রীতিকেই বলা হয় উপাসনা। আক্ষরিক অর্থে উপাসনা বলতে ঈশ্বরের পাশে অবস্থান করাকে বোঝানো হয়। হিন্দুধর্ম অনুসারে ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করাই হলো পরম তৃপ্তি ও মুক্তির একমাত্র পথ। উপাসনা ঈশ্বরের সান্নিধ্য | লাভের একটি মাধ্যম বা পথ।
হিন্দুধর্মের মূলে রয়েছেন ভগবান স্বয়ং ঈশ্বর আছেন। তিনি এক বা অদ্বিতীয়। তিনি সকল জীবের অন্তরাত্মা। সবকিছুই তার থেকে সৃষ্ট। ঈশ্বর আমাদের সৃষ্টি করেছেন। তিনি আমাদের পালন করেন। আমাদের ভালো-মন্দ, মঙ্গল-অমঙ্গল সবকিছুই তাঁর হাতে। তাই ঈশ্বরকেই ধর্মের মূল উৎস বলা হয়েছে।
সাকার উপাসনাকে প্রতীক উপাসনা ও বলা হয়। প্রতীক শব্দের অর্থ চিহ্ন বা আকার। মূলত এ ধরনের উপাসনা বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমাকে (ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, লক্ষ্মী, মনসা প্রভৃতি) উদ্দেশ্য করে করা হয়। সাকার উপাসনা সগুণ উপাসনা বা ভক্তিযোগ নামে পরিচিত। এ উপাসনায় ভগবান প্রতিকৃতিতে প্রকাশিত থাকেন, অবস্থান করেন। তাই একে সাকার উপাসনা বলা হয়।
'নিরাকার' শব্দের অর্থ যার কোনো আকার নেই। মূলত এ ধরনের উপাসনা ধ্যান সাধনার মাধ্যমে করা হয়। এ উপাসনা ঈশ্বরের কোনো প্রতিকৃতিকে উদ্দেশ্য করে করা হয় না। নিরাকাররূপ অদৃশ্য ঈশ্বরকে উপলব্ধি করে তার উপাসনা করা হয়। জ্ঞানযোগ নিরাকার উপাসনার একটি অংশ।
মোক্ষ অর্থ চিরমুক্তি। দেহান্তরের মধ্য দিয়ে জীবাত্মা এক দেহ থেকে অন্য দেহে যায়। কিন্তু পুণ্যবলে একসময় আর দেহান্তর হয় না। তখন জীবাত্মাকে অন্য দেহে যেতে হয় না। জীবাত্মা পরমাত্মায় লীন হয়ে যায়। ফলে পুনর্জন্ম হয় না আর একেই বলে মোক্ষ বা মোক্ষলাভ করা।
উপাসনার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি- ব্রহ্ম বা ঈশ্বরের চেয়ে উৎকৃষ্ট আর কিছুই নেই। তিনি সবকিছুর সৃষ্টি করেছেন এবং । নিজ গুণে তাঁর সৃষ্টির মধ্যে বিশ্বজগতে বিরাজ করছেন। তিনি ছাড়া এ জগতে দ্বিতীয় আর কেউ নেই অর্থাৎ ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়। আমাদের উচিত সর্বদা ঈশ্বরের নাম জপ করা, মহত্ত্ব উপলব্ধি করা।
ভগ তথা ঐশ্বর্য, বীর্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্য যার মধ্যে পূর্ণরূপে আছে তিনিই ভগবান।
ঈশ্বরকে যখন (ঐশ্বর্য, বীর্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্য) এই ছয়টি গুণের অধিশ্বররূপে কল্পনা ও আরাধনা করা হয় তখন ঈশ্বরকে ভগবান বলা হয়।
ব্রহ্ম যখন জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন তখন তাকে জীবাত্মা বলে।
স্রষ্টার নিরাকার রূপ ব্রহ্মকে পরমাত্মা বলা হয়।
ব্রহ্ম যখন জীব ও জগতের ওপর প্রভুত্ব করেন তখন তাঁকে ঈশ্বর বলা হয়।
ঈশ্বরের চেয়ে উৎকৃষ্ট বা অপকৃষ্ট কিছুই নেই।
ওঙ্কার-এর অর্থ হচ্ছে সৃষ্টি, স্থিতি ও লয়কারী ব্রহ্ম।
সর্বভূতের সনাতন বীজ হচ্ছেন ঈশ্বর।
বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার হচ্ছেন পরশুরাম।
ব্রহ্ম ঈশ্বরের স্বরূপ।
সনাতন বা হিন্দুধর্ম অনুসারে স্রষ্টাকে ব্রহ্ম, ঈশ্বর, ভগবান ও অবতার নামে অভিহিত করা হয়েছে।
'ব্রহ্ম' শব্দের অর্থ সর্ববৃহৎ।
ব্রহ্মকে পরমাত্মা বলা হয়।
ঈশ্বরকে পরমেশ্বর নামে ডাকা হয়।
ঈশ্বর সর্বত্র বিরাজ করেন।
হিন্দুধর্ম দর্শন অনুসারে ঐশ্বর্য, বীর্য, যশ, শ্রীজ্ঞান ও বৈরাগ্যকে 'ভগ' বলে।
ভগবান সম্পর্কে বিষ্ণু পুরাণে বলা হয়েছে।
ঈশ্বর যখন জীবের দয়া করেন, তখন তাকে ভগবান বলা হয়।
শ্রীমদভগবত পুরাণ মতে সর্বশেষ অবতার হলেন কল্কি ।
হিন্দুধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী কলিযুগের শেষে কল্কি অবতার আবির্ভূত হবেন।
কোনো উদ্দেশ্য সাধনের জন্য ঈশ্বর যখন জীবরূপ ধারণ করে পৃথিবীতে অবতরণ করেন, তখন তাকে অবতার বলে।
অবতার দুষ্টকে শক্ত হাতে দমন করেন এবং সাধুদের রক্ষা করেন।
ব্রহ্ম যখন জীব ও জগতের ওপর প্রভুত্ব করেন, তখন তাঁকে ঈশ্বর বলা হয়।
ত্রয়ী শক্তির অর্থ হচ্ছে ব্রহ্মা সৃষ্টির দেবতা, বিষ্ণু রক্ষার ও প্রতিপালনকারী দেবতা এবং শিব ধ্বংসের দেবতা।
এ বিশ্বে যখন ধর্ম কমে যায় এবং অধর্ম বেড়ে যায়, তখন স্রষ্টা জগতে অবতাররূপে অবতীর্ণ হন।
ন্যায়শাস্ত্র অনুসারে ভালো কাজের ফলাফল শুভ এবং মন্দ কাজের ফলাফল অশুভ।
বিষ্ণুকে স্মরণ করলে পাপ দূরীভূত হয়, হৃদয় পবিত্র হয় ও মনে শান্তি আসে ।
ব্রহ্ম থেকে প্রকৃতি ও মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছে।
পূজার মাধ্যমে দেবতারা সন্তুষ্ট হয়ে পূজারির অভীষ্ট পূরণ করেন।
ঈশ্বর যে রূপে সৃষ্টি করেন তাঁর নাম ব্রহ্মা।
বিষ্ণু হলেন সৃষ্টির রক্ষা ও প্রতিপালনের দেবতা।
দুষ্টকে দমন ও শিষ্টকে পালন করেন বিষ্ণু।
দুষ্টকে দমন ও শিষ্টকে পালন করেন বিষ্ণু।
শিব বা মহেশ্বর ধ্বংস বা প্রলয়ের দেবতা।
নাট্যে ও নৃত্যে পারদর্শিতার কারণে শিব রা মহেশ্বরকে নটরাজ বলা হয়।
দেবী দুর্গা হলেন ঈশ্বরের শান্তিরূপ।
দেবী দুর্গাকে মহাবিশ্বের মহাশক্তি হিসেবে পূজা করা হয়।
দেবী কালী হলেন শাশ্বত ক্ষমতা ও শক্তির আধার।
দেবী কালীকে সময় ও পরিবর্তনের দেবী বলা হয়।
দেবী লক্ষ্মী হলেন সৌভাগ্য, ধনসম্পদ এবং সৌন্দর্যের দেবী।
দেবী লক্ষ্মী আমাদের বিভিন্ন সম্পদ দান করেন।
দেবী সরস্বতী হলেন বিদ্যা, শিল্পকলা ও সংস্কৃতির দেবী।
সিদ্ধি বা সফলতার দেবতা হলেন গণেশ।
যে কোনো শুভ কাজে বা ব্যবসায় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সিদ্ধিদাতা হিসেবে দেবতা গণেশের পূজা করা হয়।
দেবতা কার্তিক হলেন নম্র ও বিনয়ী দেবতা ।
আদর্শ ও সুন্দর সন্তান লাভের জন্য দেবতা কার্তিকের পূজা করা হয়।
শীতলা দেবী হলেন রোগ প্রতিরোধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার দেবী।
দেবী শীতলাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দেবী বলে।
দেবী শীতলা মহামারী প্রতিরোধ করে প্রাণিকুলকে বিভিন্ন রোগের হাত থেকে রক্ষা করেন।
বিশেষ পদ্ধতিতে ঈশ্বরের গুণগান করার রীতিকে উপাসনা বলে।
যে উপাসনা বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমাকে (ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব,। সরস্বতী, লক্ষ্মী, মনসা প্রভৃতি) উদ্দেশ্য করে করা হয়, তাকে সাকার উপাসনা বলে।
উপাসনা দুই ধরনের হয়ে থাকে।
ক. সাকার উপাসনা ও খ.নিরাকার উপাসনা।
হিন্দুধর্মের মূলে রয়েছেন ভগবান স্বয়ং।
ঈশ্বর নিরাকার আবার প্রয়োজনে সাকার রূপ ধারণ করেন।
উপনিষদ অনুসারে ঈশ্বর সকলের প্রভু, সর্বজ্ঞ, নিয়ন্ত্রক, স্রষ্টা ও ধ্বংসকারী।
ঈশ্বরই ধর্মের মূল উৎস।
'প্রতীক' শব্দের অর্থ চিহ্ন বা আকার।
প্রতীক উপাসনা সগুণ উপাসনা বা ভক্তিযোগ নামে পরিচিত।
পূজা করাকে সগুণ উপাসনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
নিরাকার শব্দের অর্থ যার কোনো আকার নেই।
উপাসনার বিভিন্ন উপায়ের মধ্যে রয়েছে পূজা করা, জপ ধ্যান বা যোগসাধনা, তন্ত্রসাধনা প্রভৃতি।
উপাসনা ও প্রার্থনার জন্য হিন্দুধর্মগ্রন্থে অনেক মন্ত্র বা শ্লোক রয়েছে।
জীবাত্মা পরমাত্মা বা ব্রহ্মে লীন হয়ে গেলে পুনর্জন্ম হয় না।
যখন জীবাত্মা পরমাত্মায় বা ব্রহ্মে লীন হয়ে যায় আর পুনর্জন্ম হয় না, তখন তাকে মোক্ষ বলে।
মোক্ষলাভ বলতে ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করাকে বোঝায়।
উপাসনার প্রধান উদ্দেশ্য হলো মোক্ষলাভ।
ভগবান শ্রীবিষ্ণুই হলেন শ্রীকৃষ্ণ।
জীব ও জগতের মঙ্গলের জন্য শ্রীকৃষ্ণ অনেক লীলা করেছেন ।
ব্রহ্ম যখন জীব ও জগতের ওপর প্রভুত্ব করেন তখন তাকে ঈশ্বর বলা হয়।
ব্রহ্ম শব্দের অর্থ সর্ববৃহৎ 'বৃহাত্বাৎ ব্রহ্ম'। যার থেকে বড় কেউ নেই। যিনি সকল কিছুর স্রষ্টা এবং যাঁর মধ্যে সকল কিছু অবস্থান ও বিলয় তিনিই ব্রহ্ম। তিনি নিত্য, শুদ্ধ, মুক্ত, সর্বজ্ঞ, নিরাকার, নির্গুণ ও সর্বব্যাপী। ব্রহ্মকে পরমাত্মাও বলা হয়। তিনি যখন জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন তখন তাকে জীবাত্মা বলা হয়। আবার তিনি স্বয়ম্ভু, অর্থাৎ তাঁকে কেউ সৃষ্টি করেনি এবং সকল কিছুর নিয়ন্তা তিনি। তাই ব্রহ্মকে ঈশ্বর বলা হয়।
'ভগ' বলতে ঈশ্বরের ছয়টি গুণকে বোঝায়। হিন্দুধর্ম দর্শন অনুসারে ঐশর্য, বীর্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্যকে 'ভগ' বলা হয়। আর এই 'ভগ' বা ৬টি গুণ যার মধ্যে পূর্ণরূপে আছে তিনিই ভগবান। বিষ্ণু পুরাণে বলা হয়েছে, যিনি ভূতগণের উৎপত্তি, বিনাশ, পরলোকে গতি, ইহলোকে আগমন এবং বিদ্যা-অবিদ্যা সম্বন্ধে জানেন তিনিই ভগবান। আর ঈশ্বর বা শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন এই ছয়টি গুণের পূর্ণ অধীশ্বর। অর্থাৎ তিনিই 'ভগ' বা ভগবান।
ঈশ্বর যখন জীবকে দয়া করেন তখন তাকে ভগবান বলা হয়।
হিন্দুধর্ম দর্শন অনুসারে ঐশ্বর্য, বীর্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্য- এ ছয়টি গুণ পূর্ণরূপে যার মধ্যে বিদ্যমান এবং যিনি ভূতগণের উৎপত্তি, বিনাশ, পরলোকে গতি, ইহলোকে আগমন সম্বন্ধে জানেন তিনিই ভগবান। তিনি প্রয়োজনে জীবের ন্যায় দেহধারী হয়ে তপস্যা, ধ্যান, প্রার্থনা ও সকল সুখ-দুঃখ ভোগ করেন। ভক্তের ডাকে সাড়া দিয়ে যখন ভক্তের কাছে আসেন, ভক্তের সাথে লীলা করে, প্রয়োজনে ভক্তের বোঝা বহন করেন, তখন ঈশ্বরকে ভগবান বলা হয়। ভগবান রসময়, আনন্দময় এবং কৃপাময়।
ভগবান যেকোনো রূপ ধারণ করে ভক্তকে দেখা দেন, লীলা করেন। প্রয়োজনে জীবের ন্যায় দেহধারী হয়ে তপস্যা, ধ্যান, প্রার্থনা ও সকল সুখ-দুঃখ ভোগ করেন এবং পৃথিবীতে এসে ভগবান দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন করে ধর্ম ও ন্যায়ের সংস্থাপন করে থাকেন। ভক্তের ডাকে সাড়া দিয়ে ভগবান কাছে আসেন, প্রয়োজনে ভক্তের বোঝা বহন করেন।
শান্তি প্রতিষ্ঠায় ঈশ্বর অবতাররূপে পৃথিবীতে নেমে আসেন। হিন্দুধর্মে অবতার বলতে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনে স্বেচ্ছায় নিরাকার ঈশ্বরের জীব বা সাকাররূপে পৃথিবীতে আবির্ভূত হওয়াকে বোঝানো হয়। দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন এবং ধর্মরক্ষার জন্য ঈশ্বর নানারূপে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন বা নেমে আসেন।
শ্রীকৃষ্ণকে ভগবান বলা হয়। কারণ ভগবানের সমস্ত ঐশ্বর্য তাঁর মধ্যে উপস্থিত ছিল। হিন্দুধর্ম দর্শন অনুসারে ঐশ্বর্য, বীর্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্যকে ভগ বলে। ভগ যাঁর মধ্যে পূর্ণরূপে আছে তিনিই ভগবান। শ্রীকৃষ্ণ ভগ-এর অধিকারী এবং তিনি ভগবানের পূর্ণাবতার। ভগবানের সমস্ত ঐশ্বর্য তাঁর মধ্যে বিদ্যমান থাকার কারণেই তাঁকে ভগবান বলা হয়।
'ব্রহ্ম' শব্দের অর্থ সর্ববৃহৎ। যাঁর থেকে বড় কেউ নেই, যিনি সকল কিছুর স্রষ্টা এবং যাঁর মধ্যে সকল কিছুর অবস্থান ও বিলয় তিনিই ব্রহ্ম। ব্রহ্ম নিত্য, শুদ্ধ, মুক্ত, সর্বজ্ঞ, জ্যোতির্ময়, নিরাকার, সর্বব্যাপী ও সর্বশক্তিমান। ব্রহ্মকে পরমাত্মা বলা হয়। তিনি যখন জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন, তখন তাঁকে জীবাত্মা বলে। ব্রহ্ম বা পরমাত্মার জন্ম ও মৃত্যু নেই। তিনি অজ, অনাদি এবং শাশ্বত। ব্রহ্মকে 'ওঙ্কার' বলা হয়। ওঙ্কার (ওঁ) হলো অ-উ-ম। এর অর্থ হলো সৃষ্টি, স্থিতি ও লয়কারী ব্রহ্ম।
ঈশ্বর নিরাকার। আবার প্রয়োজনে ঈশ্বর সাকাররূপ ধারণ করেন। দেবতারা ঈশ্বরের সাকার রূপ। ঈশ্বর যখন নিজের কোনো গুণ বা ক্ষমতাকে কোনো বিশেষ আকার বা রূপে প্রকাশ করেন, তখন তাঁকে দেবতা বলা হয়। যেমন- ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, দুর্গা সরস্বতী প্রভৃতি দেবতা সকলেই ঈশ্বরের বিশেষ গুণ বা ক্ষমতা ধারণ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ব্রহ্মা সৃষ্টির দেবতা, বিষ্ণু পালনকর্তা, শিব প্রলয়ের দেবতা, দুর্গা দুষ্টের দমনকারী, সরস্বতী বিদ্যার দেবী ইত্যাদি। কাজেই বিভিন্ন নামে বা রূপে ব্যক্ত হলেও দেবতারা একই ঈশ্বরের ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ মাত্র।
মহান ঈশ্বর একজন কেন্দ্রিয় নিয়ন্ত্রক। একজন অসীম ক্ষমতাধর পরমপুরুষ। তাঁর রয়েছে অসংখ্য মস্তক, অনন্ত চক্ষু, অগণিত চরণ। তিনি সমগ্র বিশ্বে সর্বজীবে পরিব্যাপ্ত। লক্ষ কোটি গ্রহ, উপগ্রহ এ মহাকাশে নির্দিষ্ট গতিপথে আবর্তিত হচ্ছে। জীব ও জড়বস্তু সবকিছুই একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আবদ্ধ। পরম কারণবাদের যৌক্তিকতা থেকে বিচার করলে দেখা যায় যে, এক ঈশ্বর বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডকে বিস্ময়কর শৃঙ্খলার মাধ্যমে পরিচালিত করছেন। কেননা একাধিক ঈশ্বরের নিয়মকানুনগুলো । ভিন্ন ভিন্ন হতো যা সংঘাতের সৃষ্টি করত। অতএব ঈশ্বর এ মহাবিশ্বের । একজন কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক হিসেবে প্রধান ভূমিকা পালন করছেন। পৃথিবী, মাটি, জল, আলো-বাতাস দ্বারা গঠিত, যা কোনো পরম একক শক্তি দ্বারা সৃষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত। ঈশ্বর ব্যতীত অন্য কারও পক্ষে তা করা অসম্ভব। । এজন্য সর্বশক্তিমান হিসেবে স্রষ্টার ভূমিকা অপরিসীম।
বিষ্ণু হলেন সৃষ্টির স্থিতি ও প্রতিপালনের দেবতা। বিশ্বে যা কিছু আছে ভগবান বিষ্ণু তা পালন ও রক্ষা করেন। বিষ্ণুকে স্মরণ করলে পাপ দূরীভূত হয়। হৃদয় পবিত্র হয় ও মনে শান্তি আসে। দুষ্টকে দমন ও শিষ্টকে পালন করার জন্য তিনি বহুরূপে এ পৃথিবীতে আবির্ভূত হন। তাই বিষ্ণুকে প্রতিপালনের দেবতা বলা হয়ে থাকে।
দেব-দেবী ঈশ্বরের সাকার রূপ। ঈশ্বর নিজের কোনো গুণ বা ক্ষমতাকে কোনো বিশেষ আকার বা রূপে প্রকাশ করেন। যেমন-ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, দুর্গা, সরস্বতী ইত্যাদি। তারা সকলেই ঈশ্বরের বিশেষ গুণ বা ক্ষমতা ধারণ করে রয়েছেন। এ কারণে ঈশ্বররূপে বিভিন্ন দেব-দেবীকে পূজা করা হয়। পূজার মাধ্যমে দেবতারা সন্তুষ্ট হয়ে পূজারির অভীষ্ট পূরণ করেন।
নাট্যে ও নৃত্যে পারদর্শিতার কারণে শিবকে নটরাজ বলা হয়। শিব বা মহেশ্বর ধ্বংস বা প্রলয়ের দেবতা। তিনি দুষ্টদের ধ্বংস করে পৃথিবীতে সমতা রক্ষা করেন। এ ছাড়াও তিনি দেবতাদের বিপদ-আপদ থেকে রক্ষার জন্য অসুরদের বিনাশ করেন। তিনি চিকিৎসাশাস্ত্র ও নৃত্যশাস্ত্রসহ বহুবিদ্যায় পারদর্শী। এ পারদর্শীতার কারণে ভক্তরা তাঁকে নটরাজ নামেও ডাকে।
মহাবিশ্বের মহাশক্তি হিসেবে বিশ্বাস এবং পূজা করা হয় দেবী | দুর্গাকে। দেবী দুর্গা ঈশ্বরের শান্তিরূপ। আদ্য শক্তি মহামায়াই বিভিন্ন দেবীরূপে প্রকাশিত হয়েছেন যেমন- দুর্গা, কালী, জগদ্ধাত্রী, কাত্যায়নী প্রভৃতি। দেবী দুর্গা অসীম শক্তির দেবী। যিনি মহাবিশ্ব সৃষ্টি ও ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার সাথে সম্পৃক্ত।
হিন্দুধর্মের মূলে রয়েছেন স্বয়ং ভগবান। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, 'ধর্মমূলো হি ভগবান, সর্ববেদময়ো হরিঃ।' ঈশ্বর আছেন, তিনি এক ও অদ্বিতীয়, তিনি সকল জীবের অন্তরাত্মা, সবকিছুই তাঁর থেকে সৃষ্ট। সুতরাং ঈশ্বরই ধর্মের মূল উৎস।
ঈশ্বরের কোনো গুণ বা আকারের উপাসনা করার পদ্ধতিকে -সাকার উপাসনা বলে।
মূলত এ ধরনের উপাসনা বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমাকে (ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, সরস্বতী, লক্ষ্মী, মনসা প্রভৃতি) উদ্দেশ্য করেই করা হয়। সাকার বা প্রতীক উপাসনা সগুণ উপাসনা বা ভক্তিযোগ নামে পরিচিত। - সগুণরূপে ঈশ্বর সাকাররূপে অবস্থান করেন।
Related Question
View Allবিষ্ণুর সর্বশেষ অবতার হচ্ছেন কল্কি।
আমাদের মঙ্গল-অমঙ্গল সবই ঈশ্বরের হাতে। তাই আমাদের মঙ্গলের জন্য আমরা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা জানাই। বিশেষ পদ্ধতিতে ঈশ্বরের গুণগান করার রীতিকে উপাসনা বলা হয়। আক্ষরিকভাবে উপাসনা বলতে ঈশ্বরের পাশে অবস্থান করাকে বোঝানো হয়।
অনুচ্ছেদে শুভ্রের প্রশ্নের জবাবে মা স্রষ্টার সৃষ্টির নিয়ম এবং অস্তিত্ব সম্পর্কে ব্যক্ত করেন।
আদিতে এ মহাবিশ্ব ছিল না। তখন সব ছিল অন্ধকার। তারপর এলো আলো, জল এবং জলের পরে পৃথিবী। পৃথিবীর পরে এলো গাছপালা, কীটপতঙ্গ, জীবজন্তু, মানবকুল প্রভৃতি। এ সবকিছু সৃষ্টির মূলে রয়েছেন ঈশ্বর। তিনি নিজেই সৃষ্টি হয়েছেন। গীতায় বলা হয়েছে তিনি পরমাত্মা এবং একমাত্র আশ্রয়। তাছাড়া আমরা বছরের বিভিন্ন সময়ে দেব-দেবীর পূজা করে থাকি। এসব দেব- দেবী মূলত ঈশ্বরেরই সাকার রূপ। এঁরা ঈশ্বরের একেক শক্তির অধিকারী। তাই দেখা যাচ্ছে এ পৃথিবীর জলে, স্থলে, আকাশে, বাতাসে সর্বত্র স্রষ্টা অর্থাৎ ঈশ্বর বিরাজমান। আর তাঁর ভূমিকা আছে বলেই পৃথিবী এত সুন্দর।
শুভ্রের মায়ের শেষোক্ত কথাটি অর্থাৎ 'সকল দেব-দেবী হচ্ছেন ঈশ্বরের সাকার রূপের প্রতিফলন'- এটি যথার্থ ও সঠিক।
শুভ্রের মা বোঝাতে চাইছেন, ঈশ্বর সীমাহীন গুণ ও ক্ষমতার অধিকারী। তিনি যখন নিজের কোনো গুণ বা ক্ষমতাকে কোনো বিশেষ আকার বা রূপে প্রকাশ করেন, তখন তাঁকে দেবতা বলে। দেবতারা আলাদা গুণ বা শক্তির অধিকারী হলেও ঈশ্বর নন। ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়। দেবতারা এক ঈশ্বরের বিভিন্ন গুণ বা শক্তির প্রকাশ মাত্র। ঈশ্বর নিরাকার, আবার প্রয়োজনে সাকার রূপও ধারণ করেন। দেব-দেবী ঈশ্বরের সাকার রূপ। ঈশ্বর নিজের কোনো গুণ বা ক্ষমতাকে কোনো বিশেষ আকার বা রূপে প্রকাশ করেন। যেমন ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, দুর্গা, সরস্বতী ইত্যাদি। এসব দেব-দেবী ঈশ্বরের বিশেষ গুণ বা ক্ষমতা ধারণ করে রয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ব্রহ্মা সৃষ্টির দেবতা, বিষ্ণু পালনের দেবতা, শিব প্রলয়ের দেবতা, দুর্গা দুর্গতি নাশিনী, সরস্বতী বিদ্যার দেবী ইত্যাদি। আমরা ঈশ্বরের বিভিন্ন গুণ ও শক্তি অর্জনের জন্য দেব-দেবীর পূজা করি। এসব দেবদেবী মূলত ঈশ্বরের সাকার রূপেরই প্রতিফলন।'
ঈশ্বর যখন জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন তখন তাকে পরমাত্মা বলে।
শান্তি প্রতিষ্ঠায় ঈশ্বর অবতাররূপে পৃথিবীতে নেমে আসেন। হিন্দুধর্মে অবতার বলতে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনে স্বেচ্ছায় নিরাকার ঈশ্বরের জীব বা সাকাররূপে পৃথিবীতে আবির্ভূত হওয়াকে বোঝানো হয়। দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন এবং ধর্ম রক্ষার জন্য ঈশ্বর নানারূপে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন বা নেমে আসেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!