চিকিৎসা হলো পশুপাখি রোগাক্রান্ত পরবর্তী ব্যবস্থা আর রোগ-প্রতিরোধ হলো পশুপাখি যাতে রোগাক্রান্ত না হয় সেজন্য রোগের পূর্ববর্তী ব্যবস্থা। গৃহপালিত পশুপাখি রোগাক্রান্ত হলে তার চিকিৎসাবাবদ প্রচুর অর্থ খরচ হয় এরপরেও পরিপূর্ণভাবে সুস্থ না হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। কিন্তু রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার মাধ্যমে পশুপাখিকে রোগ প্রতিরোধক্ষম করার ফলে রোগ আক্রমণের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায় যা ভবিষ্যতে লাভজনক ফলন দিবে এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও হ্রাস করবে। এজন্যই বলা হয়, চিকিৎসা থেকে রোগ প্রতিরোধ শ্রেয়।
পারিবারিক লেয়ার ও ব্রয়লার মুরগির খামার স্থাপনের মূল উদ্দেশ্য হলো পারিবারিক ডিম ও মাংসের চাহিদা মেটানো এবং উদ্বৃত্ত ডিম ও মুরগি বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করা।
বাংলাদেশে পারিবারিকভাবে ছাগল পালন খুবই লাভজনক। কারণ, ছাগলের মাংসের চাহিদা ব্যাপক থাকায় এর বাজারমূল্য অনেক বেশি। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল দ্রুত প্রজননের উপযুক্ততা লাভ করে। এরা একসাথে ২ ৩টি বাচ্চা প্রসব করে। আবার পুরুষ ছাগল ৮ মাস বয়সে বাজারজাত করা যায়।
পারিবারিক শাকসবজি খামারের সুবিধা হলো-
১. সারাবছরই পরিবারের সবজির চাহিদা মেটানো যায়।
২. আগাম ফসল উৎপাদন করে বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রয় করা যায়।
৩. নিরাপদ ও সুস্বাদু শাকসবজি পাওয়া যায়।
পারিবারিক পোল্ট্রি খামার পরিচালনায় যেসর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করতে হবে তার উল্লেখযোগ্য কিছু নিচে দেওয়া হলো-
১. সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান বাচ্চা দ্বারা খামার শুরু করা।
২. বন্যামুক্ত উঁচু স্থানে খামার করা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।
৩. খামারের চারদিক মাঝে মাঝে জীবাণুনাশক স্প্রে করতে হবে।
৪. সুষম খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে হবে।
৫. হাঁস, লেয়ার ও ব্রয়লার মুরগির জন্য পৃথক পৃথক টিকাদান কর্মসূচি মেনে চলতে হবে।
পারিবারিক পোল্ট্রি খামারের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো-
১. এতে পরিবারের ডিম ও মাংসের চাহিদা মেটে।
২. উদ্বৃত্ত ডিম ও মুরগি বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় হয়।
গবাদিপশুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ৪টি পদক্ষেপ নিম্নরূপ-
১. উঁচু স্থানে খামার করা ও খামারের চারদিক পরিষ্কার রাখা।
২. খামারে সাধারণের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা।
৩. খামারে বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা থাকা।
৪. পশুকে নিয়মিত গোসল করানো।
দেশি মাছের প্রজাতির মধ্যে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউশ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য নাম। এসব মাছ খাল-বিল, হাওর-বাঁওড়, পুকুর-দিঘিসহ বন্ধ পানিতে ডিম পাড়ে না। বর্ষাকালে এ সকল মাছ স্রোতযুক্ত নদীর গভীর অংশে ডিম ছাড়ে। তবে প্রণোদিত বা কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে হ্যাচারিতেও দেশি মাছের পোনা উৎপাদন করা যায়
বিদেশি মাছের দুটি প্রজাতির নাম নিম্নরূপ-
১. তেলাপিয়া বা নাইলোটিকা ও
২. থাইপাঙ্গাশ।
খামারে পোনা মজুদের পূর্বে পোনাগুলোকে শোধন করা উচিত। কারণ পোনা শোধন করলে পোনাগুলো কোনো ক্ষতিকারক পরজীবী দ্বারা আক্রান্ত থাকলে তা থেকে মুক্ত হয়, রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে এবং পোনার মৃত্যু ঝুঁকি কমে যায়।
১. পুকুরে আগাছা পরিষ্কার
২. রাক্ষুসে ও অপ্রয়োজনীয় মাছ দূরীকরণ
৩. পাড় মেরামত
৪. চুন প্রয়োগ
৫. সার প্রয়োগ
৬. পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্য পরীক্ষা
৭. পানির বিষাক্ততা পরীক্ষা
মাছের ক্ষতরোগ হওয়ার কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. পুকুরে পানির পরিবেশ দূষণ।
২. পুকুরে ভারি পদার্থের পুঞ্জীভবন। যেমন- কপার, জিংক, পারদ, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি।
৩. মাছ ভাইরাস, ছত্রাক কিংবা ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হলে।
উপর্যুক্ত কারণের যেকোনো একটি কারণে মাছের দেহে ক্ষতরোগ দেখা দিতে পারে।
মাছ চাষের জন্য মাছের পোনা বাছাই করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মাছ চাষে লাভবান হওয়া অনেকাংশে পোনার উপর নির্ভর করে। পোনা ভালো হলে মাছের বৃদ্ধি ভালো হবে এবং সেই মাছ আমাদের আর্থিকভাবে সহায়তা করবে। অন্যদিকে পোনা ভালো না হলে তা রোগাক্রান্ত হবে এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে গিয়ে লোকসানে পরিণত হবে। এ কারণেই মাছ চাষের ক্ষেত্রে ভালো পোনা বাছাইকরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
মাছ চাষকালীন সময়ে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে। নিচে
রোগের দুটি সাধারণ লক্ষণ উল্লেখ করা হলো-
১. মাছের স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
২. দেহের উপর লাল/কালো/সাদা দাগ পড়ে।
পুকুরের পানিতে অক্সিজেনের অভাব হলে মাছ ও চিংড়ি মারা যায়। তাই পানিতে সাঁতার কেটে বা পানির উপর বাঁশ পিটিয়ে পুকুরের পানি আন্দোলিত করে অথবা হররা টেনে পুকুরে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়াতে হবে। এছাড়াও বিপজ্জনক অবস্থায় পুকুর পরিষ্কার করে নতুন পানি সরবরাহ করতে হবে অথবা পাম্প দিয়ে ছিটানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
পুকুরে অতিরিক্ত সবুজ শেওলা উৎপাদনের ফলে পানির উপর সবুজ স্তর পড়ে। এ অবস্থা হলে পাতলা সুতি কাপড় দিয়ে সবুজ স্তর তুলে ফেলতে হবে। সার ও খাদ্য দেওয়া সাময়িক বন্ধ রাখতে হবে। প্রয়োজন হলে কিছু পানি পরিবর্তন করতে হবে। এছাড়াও পুকুরে বড় সিলভার কার্প ছেড়ে জৈবিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।
বৃষ্টি ধোয়া পানি পুকুরে প্রবেশের ফলে পানি ঘোলাটে হয়ে যায়। পুকুর পাড়ে যদি ঘাস না থাকে তাহলেও এমনটি দেখা যায়। এর ফলে সূর্যের আলো পানির নির্দিষ্ট গভীরতা পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারে না। ফলে মাছে প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদন কমে যায় যা মাছের খাদ্য চাহিদাকে প্রভাবিত করে। এছাড়াও পানি ঘোলা হলে ঘোলা পানিতে দ্রবীভূত বিভিন্ন ধরনের কণা মাছের ফুলকায় আটকে থেকে ফুলকা বন্ধ করে দেয়।
পুকুরে লাল শেওলা অথবা অতিরিক্ত আয়রনের জন্য পানির উপর লাল স্তর পড়ে। শতাংশ প্রতি ১২-১৫ গ্রাম কপার সালফেট বা তুঁতে ছোট ছোট পোটলায় বেঁধে পানির উপর থেকে ১০-১৫ সে.মি. নিচে বাঁশের খুঁটিতে বেঁধে রাখলে বাতাসে পানিতে ঢেউয়ের ফলে ছুঁতে পানিতে মিশে শেওলা দমন করে।
গোয়ালার প্রস্তুতি বলতে পরিষ্কার কাপড় পরিধান করা; গামছা বা কোনো কাপড় দিয়ে মাথার চুল ঢেকে রাখা; দোহনের সময় থুথু না ফেলা ও নাক না ঝাড়া; হাতের নখ ছোট রাখা ইত্যাদিকে বোঝায়। গাভীর দুধ দোহনের পূর্বে গোয়ালার জন্য এসব প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এসব প্রস্তুতি না নিলে দুধ দোহনের পাত্রে ময়লা জীবাণু পড়ে দুধের গুণাগুণ ব্যাহত করে দিবে, যার ফলে বাজারমূল্য কমে যাবে।
দুধ দোহনের জন্য গাভীকে উদ্দীপিত করার কারণ হচ্ছে গাভী থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ দুধ প্রাপ্তি। এজন্য বাছুরের দ্বারা গাভীর বাঁট চুষিয়ে অথবা গোয়ালা কর্তৃক ওলান ম্যাসাজ করে গাভীকে দুধ দোহনের জন্য উদ্দীপিত করতে হবে।
দুধ সংরক্ষণের সনাতন পদ্ধতিটি হচ্ছে তাপ দ্বারা ফুটিয়ে দুধ সংরক্ষণ করা। পারিবারিকভাবে এ পদ্ধতিটি দুধ সংরক্ষণের সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে একবার দুধ গরম করলে ৪ ঘন্টা ভালো থাকে। তাই ৪ ঘন্টা পরপর ২০ মিনিট করে ফুটাতে হয়। এভাবে বারবার ফুটানোর ফলে প্রায় সবরকম রোগ উৎপাদনকারী জীবাণু ধ্বংসপ্রাপ্ত হলেও দুধের পুষ্টিমান কিছুটা কমে যায়। এ কারণেই সনাতন পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা দুধের পুষ্টিমান কম হয়।
দুধ সংরক্ষণের আধুনিক পদ্ধতিগুলো হলো-
১. রেফ্রিজারেটরে অল্প সময়ের জন্য ৪°সে. তাপমাত্রায় রেখে দুধ সংরক্ষণ।
২. ডিপ ফ্রিজে দুধ সংরক্ষণ।
৩. দুধ পান্ডুরিকরণ।
সাধারণ তাপমাত্রায় বিভিন্ন জীবাণু দুধে ল্যাকটিক এসিড উৎপাদনের মাধ্যমে দুধকে টক স্বাদযুক্ত করে ফেলে। স্ট্রেপটোকক্কাই (Streptococci) নামক জীবাণু প্রধানত দুধে এসিড তৈরি করে।
নির্দিষ্ট সময়-সীমা পর্যন্ত দুধকে খাদ্য হিসেবে উপযোগী রাখতে পচনমুক্ত রাখার প্রক্রিয়াকে দুধ সংরক্ষণ করা হয়। সাধারণ তাপমাত্রায় বিভিন্ন জীবাণু দুধে ল্যাকটিক এসিড উৎপন্নের মাধ্যমে দুধকে টক স্বাদযুক্ত করে ফেলে। স্ট্রেপটোকক্কাই নামক জীবাণু প্রধানত দুধে এসিড তৈরি করে। সাধারণ তাপমাত্রায় জীবাণু দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। তাই বিভিন্নভাবে দুধ সংরক্ষণ করা হয়।
অতি উচ্চ তাপমাত্রা ও অতি নিম্ন তাপমাত্রা ব্যবহার করে দুধে রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব নিয়ন্ত্রণের উপায়কে বলা হয় পাস্তুরিকরণ। বড় খামারে দুধের সমস্ত জীবাণু ধ্বংস করে অনেকদিন দুধ সংরক্ষণ করে রাখাই পাস্তুরিকরণের প্রধান উদ্দেশ্য।
বড় খামারে গাভীর সংখ্যা থাকে অনেক বেশি, তাই সনাতন পদ্ধতিতে অনেক সময় ব্যয় হয়। আবার দোহন যন্ত্র ব্যবহারে সহজে এবং স্বাস্থ্যসম্মতভাবে দুধ দোহন করা সম্ভব। তাই বড় খামারে দোহন যন্ত্র ব্যবহার করা প্রয়োজন।
দুধে সুষম খাদ্যের প্রায় সকল গুণাগুণ বিদ্যমান। দুধ প্রাণিজ আমিষের অন্যতম প্রধান উৎস। জৈব আমিষের এক-তৃতীয়াংশ সংগৃহীত হয় গাভীর দুধ থেকে। এছাড়া দুধে বিভিন্ন খনিজ পদার্থ, ভিটামিন 'এ', রোগ প্রতিরোধক এন্টিবডি বিদ্যমান থাকে। এসব কারণে দুধকে আদর্শ খাদ্য বলা হয়।
দুধে খাদ্য উপাদানের প্রায় সবকটিই বিদ্যমান থাকে বিধায় দুধকে আদর্শ খাদ্যরূপে ভাবা হয়। কিন্তু দুধে ভিটামিন 'সি' এবং লৌহ (Fe) না থাকায় বা খুব কম পরিমাণে থাকায় দুধকে সুষম খাদ্য বলা যায় না।
দুধ সংরক্ষণের সনাতন পদ্ধতিতে দুধ তাপ দ্বারা ফুটিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। পারিবারিকভাবে এটি সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে একবার দুধ গরম করলে ৪ ঘণ্টা ভালো থাকে। তাই ৪ ঘণ্টা "পরপর ২০ মিনিট করে ফুটালে প্রায় সব রকম রোগ উৎপাদনকারী জীবাণু ধ্বংস প্রাপ্ত হয় এবং দুধ ভালো থাকে।
পান্ডুরিকরণের দুটি সুবিধা নিম্নরূপ-
১. পাস্তুরিকৃত দুধ নিরাপদ। কেননা এতে কোনো রোগ উৎপাদনকারী জীবাণু থাকে না।
২. পাস্তুরিকরণ দুধের সংরক্ষণকাল দীর্ঘায়িত করে।
পান্ডুরিকরণের ফলে দুধে কিছু সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। যেমন- পাস্তুরিকরণ প্রক্রিয়া আদর্শ উপায়ে করতে না পারলে অতিরিক্ত আলোচ্ছলে দুধের চর্বিকণা পৃথক হতে পারে; তাপ সংবেদনশীল ভিটামিন নষ্ট হয়ে যেতে পারে। উচ্চ তাপজনিত কিছুটা বিষাদের সৃষ্টি করতে পারে ইত্যাদি।'
পারিবারিক খামার একটি অর্থনেতিক প্রতিষ্ঠান। অর্থাৎ এখানে লাভ-ক্ষতি কিংবা আয়-ব্যয়ের বিষয়টি জড়িত থাকে। কোন খাতে কত টাকা খরচ হলো, কত টাকা আয় হলো ইত্যাদির সূক্ষ্ম হিসাব সবার জানা দরকার। এ কারণেই পারিবারিক কৃষি খামারের সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ-সম্পত্তির বিবরণ, ব্যয় বা বিনিয়োগের যাবতীয় তথ্য, আয়ের সকল তথ্য এবং মুনাফার তথ্য লিপিবদ্ধ বা নথিবদ্ধ করা প্রয়োজন।
খামারে বাচ্চা ক্রয় থেকে শুরু করে দৈনন্দিন যেসব খরচ হয় তাকে চলমান খরচ বলে। যেমন- বাচ্চা পালনকালে শেষ পর্যন্ত ১০০টির মধ্যে ২-৫টির মৃত্যু হয়। তাহলে চলমান খরচের মধ্যে বাচ্চার দাম, খাদ্য ক্রয়, চলতি বিদ্যুৎ বিল, টিকা ও ওষুধ, লিটার, শ্রমিক ও পরিবহন উল্লেখযোগ্য।
Related Question
View Allপরিবারের সদস্যদের পুষ্টি ও আর্থিক চাহিদা মেটানোর জন্য যে খামারের মাধ্যমে শস্য, শাকসবজি, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও মৎস্য উৎপাদন করা হয় তাকে পারিবারিক খামার বলে।
যে খামার আকারে বড় এবং তাতে উৎপাদন, লেনদেন ও আমদানি- রপ্তানি বেশি তাকে বাণিজ্যিক খামার বলে।
বেকারত্ব দূরীকরণ, আত্মকর্মসংস্থান, আর্থিক স্বচ্ছলতা, পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও বাড়তি আয়ের ব্যবস্থার জন্য বাণিজ্যিক খামার প্রয়োজন। বাণিজ্যিক খামারের মাধ্যমে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখা যায়। দেশের কৃষি উৎপাদনে ও জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে বাণিজ্যিক খামার সাহায্য করে।
আরিফ ও হাসিফ দীর্ঘদিন নিজ আঙিনায় দেশি জাতের মুরগি পালন করে। এতে তেমন লাভবান হতে পারেননি। পরবর্তীতে তারা পোল্ট্রি খামারের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে পারিবারিক পোল্ট্রি খামার স্থাপন করে অল্প সময়ের মধ্যেই সফলতা লাভ করেন।
আরিফ ও হাসিফ পারিবারিক পোল্ট্রি খামার স্থাপনের মাধ্যমে উন্নত জাতের মুরগি পালন করেন। সফলভাবে পারিবারিক পোল্ট্রি খামার পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষণ থাকা উচিত। বিশেষ করে পোল্ট্রির জাত, বাসস্থান, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং টিকাদান কর্মসূচী সম্পর্কে জ্ঞান থাকা আবশ্যক। তারা প্রশিক্ষণ নিয়ে এসব বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে খামার পরিচালনা করে এবং তা থেকে অধিক মাংস ও ডিম পায়।
মূলত পোল্ট্রি পালনের সব ধরনের জ্ঞান থাকার জন্যই আরিফ ও হাসিফ সফলতা লাভ করেন।
আরিফ ও হাসিফ লক্ষ করলেন তাদের পোল্ট্রি খামারের বর্জ্যগুলো বাড়ির পরিবেশকে দূষিত করছে। এ অবস্থায় তারা খামারের বর্জ্যগুলো পচিয়ে ফসলের জমিতে ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
জমি বা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি ও সংরক্ষণের জন্য নিয়মিত জৈব সার প্রয়োগ করতে হয়। জৈব সার মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ায়, মাটিস্থ উপকারী অণুজীবকে ক্রিয়াশীল রাখে, মাটির ভৌত ও রাসায়নিক গুণাবলী উন্নত করে। জৈব সার ব্যবহারে রাসায়নিক সারের পরিমাণ কম লাগে ফলে উৎপাদন খরচ কমে। উপরন্তু জৈব সার পরিবেশ বান্ধব। জৈব সার হিসেবে পোল্ট্রির বর্জ্য বেশ উৎকৃষ্ট ও উপযোগী। কাজেই তাদের খামারের বর্জ্যগুলো ফসলের জমিতে ব্যবহারের ফলে বাড়ির পরিবেশ দূষণমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন থাকবে। উপরন্তু জমির উর্বরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
সুতরাং এই আলোচনা থেকে বলা যায়, আরিফ ও হাসিফের উদ্যোগটি খুবই যুক্তিযুক্ত।
পুকুরে অতিরিক্ত কাদা হলে একটি দড়ির মধ্যে ইটের টুকরা বেঁধে তা পানিতে টেনে তলার গ্যাস দূর করার উপকরণটিকে বলে হররা।
পুকুরের তলায় অতিরিক্ত কাদার উপস্থিতি এবং বেশি পরিমাণ লতাপাতা ও আবর্জনা পচনের ফলে গ্যাসের সৃষ্টি হয়। এতে করে পানি বিষাক্ত হয়ে মাছ মারা যায়।
এক্ষেত্রে হররা (একটি মোটা দড়ির সাথে ছোট ছোট দড়ি দ্বারা ইট ঝুলিয়ে বেঁধে দেওয়া) টেনে পুকুরের তলার গ্যাস দূর করার ব্যবস্থা করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!