বা বাজারজাতকরণ বলে। বাজারজাতকরণের মাধ্যমে উৎপাদনকারীর উৎপাদিত পণ্য ভোগকারীর কাছে পৌছায়। বিপণন অনেক কাজের সমষ্টি। এটি উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যে সেতুবন্ধ স্থাপন করে। ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন, গুদামজাতকরণ, প্রমিতকরণ, পর্যায়িতকরণ প্রভৃতি কাজের সমষ্টি হলো বিপণন।
পণ্য উৎপাদনের ওপরই শুধু কোনো ব্যবসায় সংগঠনের সাফল্য নির্ভর করে না। উৎপাদিত পণ্য বা সেবা যথাযথভাবে ভোক্তার কাছে পৌছাতে হয়। এক্ষেত্রে বিপণনের মাধ্যমে ক্রেতা ও ভোক্তারা মানসম্মত পণ্য পেয়ে থাকে। এছাড়া কার্যকর বিপণন উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করে। তাই বিপণন গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যবসায়ের সফলতার জন্য পণ্য শুধু উৎপাদন করলেই হয় না। বরং উৎপাদিত পণ্য বা সেবা যথাযথভাবে ভোক্তার কাছে পৌছাতে হয়। আর এই কাজটিই করে থাকে বিপণন। বিপণনের মাধ্যমে ক্রেতা ও ভোক্তারা মানসম্মত পণ্য বা সেবা পেয়ে থাকে। ফলে পণ্যের চাহিদা ও বিক্রি বেড়ে যায়, যা পরবর্তীতে পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করে।
বিপণন উৎপাদিত পণ্য বিক্রয়ের ব্যবস্থা করে ব্যবসায়ের অস্তিত্ব রক্ষা করে। এর মাধ্যমে উৎপাদক তার উৎপাদিত পণ্য যথাক্রমে পাইকার, খুচরা ব্যবসায়ীর কাছে সরবরাহ করে। খুচরা ব্যবসায়ী তা ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করে। উৎপাদিত পণ্য ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানোর মাধ্যমে ব্যবসায়িক কাজ সম্পন্ন হয়। এভাবে বিপণন ব্যবসায়ের অস্তিত্ব রক্ষা করে।
বিপণনের মাধ্যমে এক অঞ্চলের উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী অন্য এলাকার জনগণ ভোগ করতে পারে। আবার এক মৌসুমে উৎপাদিত পণ্য বা সেবাসামগ্রী অন্য মৌসুমে ভোগ করা সম্ভব হয় বিপণনের কারণে। মূলত গবেষণার মাধ্যমে উৎপাদিত নিত্য নতুন পণ্যসামগ্রী ভোগের মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন সম্ভব হয়। এভাবে আয় ও ভোগ বৃদ্ধি করে মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বিপণন' গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
যেসব কাজের মাধ্যমে উৎপাদকের কাছ থেকে চূড়ান্ত ভোক্তার কাছে পণ্য পৌছায় সেগুলো বিপণন কার্যাবলি। পণ্য উৎপাদন থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত অনেক ধরনের কাজ করতে হয়। ক্রয়-বিক্রয়, গুদামজাতকরণ, পরিবহন; পর্যায়িতকরণ, প্রমিতকরণ, তথ্য সংগ্রহ প্রভৃতি বিপণন কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত। বিপণন কার্যাবলি উৎপাদনকারী ও চূড়ান্ত ভোক্তার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে।
কোনো কিছুর অভাব পূরণের ক্ষমতাকে উপযোগ বলে। প্রতিটি দ্রব্যেরই কোনো না কোনো বিশেষ গুণ বা ক্ষমতা আছে। এ গুণ বা ক্ষমতা মানুষের প্রয়োজন বা অভাব মেটাতে পারলেই বুঝতে হবে উক্ত দ্রব্যের উপযোগ আছে। যেমন- মানুষ ক্ষুধা নিবারণের জন্য খাদ্য খায়। এক্ষেত্রে খাদ্য অভাব পূরণে সক্ষম। তাই বলা যায়, খাদ্যের উপযোগ আছে।
মূল্য হলো পণ্য কেনার পর ক্রেতা কর্তৃক দেওয়া অর্থ। পণ্যের ন্যায্যমূল্য বলতে উৎপাদন ও অন্যান্য খরচের সাথে যৌক্তিক মুনাফা যোগ করার পর নির্ধারিত মূল্যকে বোঝায়। এ ন্যায্যমূল্যে ক্রেতা-বিক্রেতা কেউই ঠকেন না। আর অতিরিক্ত মুনাফা ব্যবসায়ের নৈতিকতা বিরোধী কাজ। ভোক্তা সবসময় ন্যায্যমূল্যে মানসম্মত পণ্য পেতে চায়।
প্রাথমিক অবস্থায় উৎপাদক পণ্যের মালিকানা লাভ করে। উৎপাদক পণ্য বিক্রি করলে সেই পণ্যের মালিকানা পাইকার বা খুচরা ব্যবসায়ীর কাছে হস্তান্তরিত হয়। আবার, ভোক্তাদের কাছে পণ্য বিক্রির মাধ্যমে পাইকার বা খুচরা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মালিকানা চলে যায়। এভাবে পণ্য বিক্রির মাধ্যমে পণ্যের মালিকানা হস্তান্তরিত হয়।
বিপণনের পর্যায়িতকরণ কাজটি পণ্য বিক্রয় সহজ করে। মান অনুযায়ী পণ্যকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হলো পর্যায়িতকরণ। সাধারণত ওজন, আকার ও গুণাগুণ অনুযায়ী পর্যায়িতকরণ করা হয়। এর ফলে পণ্য বিক্রি করা সহজ হয়, যা বিপণনের গতিশীলতা নিশ্চিত করে।
ব্যবসায়ে পরিবহন পণ্যের স্থানগত উপযোগ সৃষ্টি করে। উৎপাদনস্থল থেকে ভোক্তার কাছে পণ্য প্রেরণ করে স্থানগত উপযোগ সৃষ্টির কাজ হলো পরিবহন। বিশ্বায়নের এ যুগে পৃথিবীর একপ্রান্তে পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে আর তা ব্যবহার বা ভোগ করছে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। আর পরিবহনের মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে তা সম্ভব হচ্ছে।
অনেক সময় উৎপাদিত পণ্য উৎপাদনকারী সরাসরি ভোক্তার কাছে পৌছাতে পারে না। এক্ষেত্রে পণ্য বণ্টনে মধ্যস্থব্যবসায়ীর নেওয়া হয়। এ ধরনের ব্যবসায়ীগণ উৎপাদকের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করে। এরপর সেসব পণ্য নিজস্ব তত্ত্বাবধানে ভোক্তাদের কাছে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করে। তাই বলা যায়, মধ্যশ্বব্যবসায়ী উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে
ব্যবসায়ের সফলতা নির্ভর করে ক্রয় দক্ষতার ওপর। সঠিক মূল্যে সঠিক পণ্য বা সেবা কিনতে পারলে তা বিক্রি করে বেশি মুনাফা - উপার্জন করা যায়। কম মূল্যে ব্যবসায়ী পণ্য উৎপাদনের কাঁচামাল কিনতে পারলে মুনাফা অর্জনের সম্ভাবনা বেশি থাকে। এজন্য বিপণন কাজে ক্রয় দক্ষতা প্রয়োজন।
বিপণনের পরিবহন কাজের মাধ্যমে বিদেশি পণ্যের ব্যবহার সম্ভব। পরিবহনের মাধ্যমে এক স্থানের পণ্য অন্য স্থানে পৌছানোর মাধ্যমে স্থানগত উপযোগ সৃষ্টি হয়। বিশ্বায়নের এ যুগে পৃথিবীর এক প্রান্তে পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে। আর তা ভোগ বা ব্যবহার করছে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। এক্ষেত্রে পণ্য পরিবহনের ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্রেতারা বিদেশি পণ্য ব্যবহার করতে পারছে।
কোনো পণ্য বা সেবা থেকে প্রত্যাশিত উপযোগ প্রাপ্তিকে ভোক্তা সন্তুষ্টি বলে। প্রত্যাশার তুলনায় প্রাপ্তি কম হলে ভোক্তা বা ক্রেতা অসন্তুষ্ট হয়। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী উপযোগ লাভ করলে ভোক্তা ঐ পণ্য কিনতে উৎসাহিত হয়। সুতরাং, ভোক্তাদের প্রত্যাশা পূরণের পাশাপাশি পরবর্তীতে তাদের পণ্য কিনতে উৎসাহিত করা হলো ভোক্তা সন্তুষ্টি।
ক্রেতা বা ভোক্তার রুচি, চাহিদা, বৈশিষ্ট্য ও আগ্রহকে বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন করা হলো ভোক্তা বিশ্লেষণ। ভোক্তা বিশ্লেষণ ছাড়া কখনো পরিপূর্ণ ভোক্তা সন্তুষ্টি বিধান করা সম্ভব হয় না। এ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভোক্তার চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করা যায়। তাই ব্যবসায়ের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য এবং যথার্থ ভোক্তা সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ভোক্তা বিশ্লেষণ অপরিহার্য একটি বিষয়।
যে মাধ্যম ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয় তাকে পরিবহন বলে। পরিবহন বিপণনের অন্যতম ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ। পণ্য উৎপাদন হয় একস্থানে আর ভোগ বা ব্যবহার হয় সারাবিশ্বে। এটি সম্ভব হচ্ছে পরিবহনের মাধ্যমে। পরিবহনের কারণেই আমরা বাংলাদেশে বসে চীনের তৈরি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী খুব সহজেই ব্যবহার করতে পারছি।
উৎপাদন ও ভোগের মধ্যবর্তী সময়ে বিনষ্ট হওয়ার হাত থেকে পণ্যকে রক্ষার জন্য সংরক্ষণের যে ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয় তাকে গুদামজাতকরণ বলে। পণ্যসামগ্রী উৎপাদনের পর হতে ভোগের সময় পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে তা সংরক্ষণের প্রয়োজন পড়ে। গুদামজাতকরণ পণ্যের সময়গত বা কালগত উপযোগ সৃষ্টি করে।
পণ্যের মূল্য নির্ধারণের কাজকে প্রমিতকরণ বলা হয়। সাধারণত পণ্যের গুণাগুণ, আকার, রং, স্বাদ ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে পণ্যের মূল্য নির্ধারণের কাজকে প্রমিতকরণ বলে। সুষ্ঠুভাবে প্রমিতকরণের পর মানের ভিত্তিতে পণ্যমূল্য নির্ধারণ করা হয়। এর ফলে পণ্যের বিপণন প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং বিক্রয়কার্যের গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়।
মান অনুযায়ী পণ্য বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করাকে পর্যায়িতকরণ বলা হয়। ক্রেতার প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত মান অনুসারে একই জাতীয় পণ্যকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করা পর্যায়িতকরণের প্রধান কাজ। ওজন, আকার ও গুণাগুণ অনুযায়ী পর্যায়িতকরণ করা হয় বলে বিক্রয়ের কাজ সহজ হয়।
নিচে প্রমিতকরণ ও পর্যায়িতকরণের মধ্যে ২টি পার্থক্য উল্লেখ করা হলো:
পার্থক্যের বিষয় | প্রমিতকরণ | পর্যায়িতকরণ |
সংজ্ঞা | পণ্যের মৌলিক মান নির্ধারণ করাকে প্রমিতকরণ বলে। | পণ্যকে তার মান অনুযায়ী বিভিন্ন সাইজে ভাগ করাকে পর্যায়িতকরণ বলে। |
দক্ষতা | প্রমিতকরণে পণ্যের মান নির্ধারণ করা হয় বলে এতে বেশ দক্ষতার প্রয়োজন। | প্রমিতকরণের উপর ভিত্তি করে পর্যায়িতকরণ করা হয় বলে এতে দক্ষতার প্রয়োজন ক্ষীণ। |
বিপণনের বিক্রয় কাজটির মাধ্যমে পণ্যের মালিকানা হস্তান্তরিত হয়। প্রাথমিক অবস্থায় উৎপাদকের কাছে পণ্যের মালিকানা থাকে। উৎপাদক পণ্য বিক্রি করলে সেই পণ্যের মালিকানা পাইকার বা খুচরা - ব্যবসায়ীর কাছে হস্তান্তরিত হয়। আবার ভোক্তাদের কাছে পণ্য বিক্রির মাধ্যমে পাইকার বা খুচরা ব্যবসায়ীর কাছে মালিকানা চলে যায়। এভাবে পণ্য বিক্রির মাধ্যমে পণ্যের মালিকানা হস্তান্তরিত হয়
পণ্যসামগ্রীকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করা এবং নষ্ট বা ভেঙে যাওয়া থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে কিছু দ্বারা আবৃত করাকে মোড়কিকরণ বলে। মোড়কিকরণ পণ্যকে নষ্ট হতে রক্ষা করে। এর মাধ্যমে পণ্যের আকর্ষণীয়তা বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া পণ্যের খাদ্যমান সুরক্ষায় ও পণ্যের | কালগত উপযোগ সৃষ্টিতেও মোড়কিকরণ ভূমিকা রাখে।.
ভোক্তা বিশ্লেষণ হলো বিপণনের অন্যতম কাজ। বিপণনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে ভোক্তা বা ব্যবহারকারীর রুচি, চাহিদা, বৈশিষ্ট্য ও আগ্রহ বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন করা। কারণ যথাযথভাবে এ কাজটি না করতে পারলে ব্যবসায়িক ঝুঁকি বেড়ে যায় এবং প্রসার ব্যাহত হয়। তাই বিপণনে ভোক্তা বিশ্লেষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
বিপণনে উৎপাদক সবসময় সরাসরি ভোক্তার নিকট পণ্য পৌছাতে পারে না। এর জন্য মধ্যস্থ ব্যবসায়ীর প্রয়োজন হয়। মধ্যস্থ ব্যবসায়ী উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করে এবং বিভিন্ন ধরনের বণ্টনপ্রণালির সৃষ্টি করে। অর্থাৎ পণ্য, দ্রব্য ও সেবা উৎপাদক হতে ভোক্তার নিকট পৌঁছানো পর্যন্ত যে সকল মাধ্যম বা প্রণালি ব্যবহৃত হয় তাই বণ্টনপ্রণালি হিসেবে পরিচিত।
নিচে বণ্টনপ্রণালির প্রকারভেদ দেখানো হলো-

যে বণ্টনপ্রণালিতে উৎপাদনকারী সরাসরি ভোক্তার কাছে পণ্য বিক্রি করে তাকে 'সরাসরি ভোক্তার নিকট বিক্রয়' বণ্টনপ্রণালি বলে। এ বণ্টনপ্রণালিতে উৎপাদনকারী ও ভোক্তার মাঝে কোনো মধ্যস্থকারবারি থাকে না। এক্ষেত্রে উৎপাদনকারী ও ভোক্তার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হয় বলে একে সরাসরি বিপণনও বলা হয়। ধান, ফলমূল, সবজি, গুড়, চিনি প্রভৃতি অনেক সময় এ পদ্ধতিতে বিপণন করা হয়।
খুচরা ব্যবসায়ী পাইকারের কাছ থেকে পণ্যসামগ্রী কিনে আনে। এরপর সেগুলো তার দোকানে রেখে ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করে। এভাবে খুচরা ব্যবসায়ী পাইকার ও ভোক্তার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে।
উৎপাদকের পণ্য ভোক্তার কাছে পৌছে দেওয়ার মাধ্যমে মধ্যস্থব্যবসায়ীগণ সেতু বন্ধন হিসেবে কাজ করে।
পণ্য উৎপাদন করার পর সবসময় উৎপাদনকারীর পক্ষে সরাসরি ভোক্তার কাছে তা বিক্রি করা সম্ভব হয় না। প্রয়োজন হয় মধ্যস্থব্যবসায়ীরা পণ্য এক্ষেত্রে পইকার, খুচরা ব্যবসায়ী, এজেন্ট, ডিলার প্রভৃতি মধ্যস্থব্যবসায়ীর সহায়তা নিতে হয়। এরা উৎপাদনকারীর কাছ থেকে পণ্য ভোক্তার কাছে পৌছাতে সহায়তা করে। এভাবেই মধ্যস্থ ব্যবসায়ী উৎপাদক ও ভোক্তার মাঝে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে।
যেসব পণ্য উৎপাদন বা পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের জন্য ব্যবহার করা হয় তাকে শিল্পপণ্য বলে। সহজ অর্থে, শিল্পপণ্য হলো শিল্পে ব্যবহার্য পণ্য যা উৎপাদনের কাজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়। অবশ্য এমন কিছু পণ্য রয়েছে যা শিল্পপণ্য না ভোগ্যপণ্য তা নির্ভর করে ক্রেতার ইচ্ছার ওপর অর্থাৎ তার কাজের, ব্যবহারের প্রকৃতির ওপর। আর এজন্যই বাসা-বাড়িতে ব্যবহারের জন্য এয়ারকুলার ক্রয় করা হলে তা ভোগ্যপণ্য আবার শিল্প বা ব্যবসায়ের প্রয়োজনে ক্রয় করা হলে তা শিল্পপণ্য হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে।
পাইকার বা উৎপাদকের কাছ থেকে পণ্য কিনে চূড়ান্ত ভোক্তাদের কাছে পণ্যদ্রব্য বিক্রি করা হলো খুচরা ব্যবসায়। খুচরা ব্যবসায় হচ্ছে বণ্টন প্রণালিতে ভোক্তার আগের ধাপ। খুচরা ব্যবসায়ী পাইকার ও চূড়ান্ত ভোক্তাদের মাঝে সংযোগ স্থাপন করে। সাধারণত এ ব্যবসায়ে কম পরিমাণে বিক্রি করা হয়।
পাইকারি ব্যবসায় কতকগুলো ব্যবসায় কার্যের সমষ্টি। উৎপাদকের নিকট থেকে পণ্যদ্রব্য বা সেবাসামগ্রী ক্রয় করে তা খুচরা ব্যবসায়ীর নিকট বিক্রয় করার কাজকে পাইকারি ব্যবসায় বলে। পাইকার পুনঃবিক্রেতাদের নিকট পণ্য বিক্রয় করে। তারা সাধারণত ছোট ছোট লটে ভাগ করে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রি করে। এর ফলে উৎপাদন ও বণ্টন ব্যবস্থার গতি বৃদ্ধি পায়।
যে প্রক্রিয়ায় পণ্য বা সেবাসামগ্রীর প্রতি জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়, তাকে বিজ্ঞাপন বলে। এর মাধ্যমে খুব সহজেই ক্রেতাসাধারণকে পণ্য ক্রয়ে উদ্বুদ্ধ করা যায়। এর মাধ্যমে পণ্যের মান, মূল্য ও ব্যবহারবিধি ক্রেতা রা জনসাধারণের কাছে তুলে ধরা হয়। ফলে পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির সাথে সাথে পণ্যে উৎপাদন ও বিক্রয়ের পরিমাণ বাড়ে।
বিজ্ঞাপন নতুন পণ্যকে বাজারে পরিচিত করে তোলে। এর মাধ্যমে পণ্যের গুণাগুণ, মূল্য ও ব্যবহারবিধি তুলে ধরা হয়। ফলে জনসাধারণ নতুন পণ্য ও সেবা সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা পায়। ফলে ক্রেতা পণ্য কিনতে আগ্রহী হয়।
যে মাধ্যম ব্যবহার করে একজন ব্যবসায়ী তার পণ্য বা সেবাসামগ্রীর বিজ্ঞাপন প্রদান করেন, তাকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যম বলে। বিজ্ঞাপনের বিভিন্ন মাধ্যম রয়েছে। সব ধরনের ব্যবসায়ের জন্য কিংবা সব ধরনের পণ্যের একই বিজ্ঞাপন মাধ্যম ব্যবহার করা হয় না। পণ্যের চাহিদা, গুণাগুণ, মূল্য ও ক্রেতাদের কথা বিবেচনা করে বিজ্ঞাপনের মাধ্যম নির্বাচন করতে হয়। সংবাদপত্র, সাময়িকী, প্রচারপত্র, বিজ্ঞাপনী ফলক, প্রাচীরপত্র, টেলিভিশন, রেডিও, চলচ্চিত্র, পণ্যসজ্জা, মেলা বা প্রদর্শনী প্রভৃতি বিজ্ঞাপনের মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়।
কোনো প্রতিষ্ঠানের নতুন পণ্য সম্পর্কে সম্ভাব্য ক্রেতাদেরকে অবহিত করতে বিনামূল্যে প্রদানকৃত পণ্যকে নমুনা (Sample) পণ্য বলা হয়। কোনো পণ্য সম্পর্কে ক্রেতারা না জানলে ক্রয় করবে না এটাই স্বাভাবিক। আর প্রতিষ্ঠান তার পণ্যের গুণাগুণ, মূল্য, সাইজ ইত্যাদি জানানোর জন্য বিনামূল্যে পণ্য নমুনা হিসেবে বিতরণ করে থাকে। এতে সম্ভাব্য ক্রেতারা পণ্য সম্পর্কে জানতে পারে। ফলে পণ্যের চাহিদা সৃষ্টি হয় এবং বিক্রয় বৃদ্ধি পায়।
মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বিভিন্ন যাত্রীবাহী বা পণ্যবাহী গাড়িতে বিশেষ পদ্ধতিতে যে বিজ্ঞাপনের ব্যবস্থা করা হয়, তাকে পরিবহন বিজ্ঞাপন বলে। কোনো পণ্য বা সেবা সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিতকরণের উদ্দেশ্যে তুলনামূলক অনেক কম খরচে পরিবহন বিজ্ঞাপনের ব্যবস্থা করা যায়।
নিচে বিজ্ঞাপনের দুটি মাধ্যম তুলে ধরা হলো-
- বর্তমানে দৈনিক ও সাপ্তাহিক সংবাদপত্রগুলো বিজ্ঞাপনের অন্যতম কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এর সাহায্যে বিজ্ঞাপনদাতা তার পণ্যদ্রব্য, সেবাকর্ম বা মতাদর্শের খবর অত্যন্ত কম সময়ে ও কম ব্যয়ে অধিকসংখ্যক লোকের নিকট পৌছে দিতে পারে। তাছাড়া প্রায় সকল প্রকার বিজ্ঞাপন সংবাদপত্রে দেওয়া যায়।
- আধুনিক যুগে টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের অন্যতম কার্যকর মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। ফলে বিশ্বের সকল দেশে আজকাল টেলিভিশনকে
বিজ্ঞাপনের সর্বাধিক প্রচলিত মাধ্যম হলো সংবাদপত্র। এটি একটি স্বল্প ব্যয়সাপেক্ষ প্রচার মাধ্যম। এর মাধ্যমে দূর-দূরান্তের জনগণের কাছে দ্রুত বার্তা পৌছানো যায়। এটি নমনীয় হওয়ায় সহজে
বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে জনসাধারণ নতুন পণ্য ও সেবা সম্পর্কে জানতে পারে। এভাবে বিজ্ঞাপন পণ্যের বিক্রয় বাড়াতে সহায়তা করে। ফলে মুনাফাও বাড়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই ব্যবসায় ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
Food Panda প্রতিনিধি বা এজেন্টের হিসেবে পণ্য সরবরাহ করে। এ প্রক্রিয়ায় উৎপাদনকারী প্রতিনিধি নিয়োগ করে তাদের মাধ্যমে সরাসরি ভোক্তাদের কাছে পণ্য বিক্রি করে। Food Panda উৎপাদনকারীর প্রতিনিধি হিসেবে ভোক্তার কাছে পণ্য সরবরাহ করে।
নিচে বণ্টনপ্রণালিতে Food Panda-এর অবস্থান দেখানো হলো

কোমল পানীয় বণ্টনপ্রণালিটি হলো প্রতিনিধি ও খুচরা বিক্রেতার মাধ্যমে বিক্রয়। কোমল পানীয় বণ্টনের ক্ষেত্রে উৎপাদনকারী ও ভোক্তার মাঝে প্রতিনিধি ও খুচরা বিক্রেতা অবস্থান করে। এরা উৎপাদনকারীর কাছ থেকে পণ্য ভোক্তার কাছে পৌছে দেয়। বণ্টনপ্রণালিটি হলো-

পণ্যের প্রতি জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বিজ্ঞাপন ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে ক্রেতাদের পণ্য ও সেবা সম্পর্কে জানানো হয়। এভাবে বিজ্ঞাপন পণ্যের চাহিদা সৃষ্টিতে সহায়তা করে। ফলে বিক্রি ও মুনাফা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এসব কারণে পণ্যের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়।
ক্রেতা আকর্ষণ করার কৌশল বা দক্ষতাকে বিক্রয়িকতা বলে। বিক্রয়িকতার মাধ্যমে একজন বিক্রয়কর্মী তার দক্ষতা ও কৌশলকে কাজে লাগিয়ে সে সম্ভাব্য ক্রেতার নিকট পণ্য বা সেবাসামগ্রী বিক্রয় করতে সক্ষম হয়। এছাড়াও তিনি তার নিজ গুণে ব্যবসায় ও পণ্য সম্পর্কে ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করে তাদেরকে স্থায়ী গ্রাহকে পরিণত করে।
বিক্রয়কর্মী সম্ভাব্য ক্রেতার কাছে পণ্য সম্পর্কিত তথ্য তুলে ধরে তাকে পণ্য কিনতে উৎসাহিত করে। এছাড়া তার শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক গুণাবলির দ্বারা ব্যবসায় ও পণ্য সম্পর্কে ক্রেতাদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়। এভাবেই একজন বিক্রয়কর্মী প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য ক্রেতাকে স্থায়ী ক্রেতায় পরিণত করে।
সততা ও বিশ্বস্ততা, মার্জিত ব্যবহার, মেলামেশার ক্ষমতা, জেন্ডার সচেতনতা, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রভৃতি একজন বিক্রয়কর্মীর নৈতিক গুণ হিসেবে বিবেচিত হয়। একজন আদর্শ বিক্রয়কর্মী হওয়ার জন্য অবশ্যই তাকে জাগ্রত বিবেকের মানুষ হতে হবে। বিবেকবোধ মানুষের মধ্যে নৈতিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। যা কার্যক্ষেত্রে তার চারিত্রিক গুণ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। নৈতিক গুণসমৃদ্ধ একজন বিক্রয়কর্মী খুব সহজেই ক্রেতাদের আস্থা ও বিশ্বাস 'অর্জন করে তাদেরকে নিয়মিত ও স্থায়ী ক্রেতায় পরিণত করতে পারে।
ক্রেতা বা ভোক্তাদের কাছে সৎ থাকা এবং তাদের আস্থা অর্জন করাকে সততা ও বিশ্বস্ততা বলে। সততা ও বিশ্বস্ততা একজন আদর্শ বিক্রয়কর্মীর নৈতিক গুণ। একজন বিক্রয়কর্মীকে অবশ্যই তার কাজে সততা ও বিশ্বস্ততা বজায় রাখতে হয়। এ গুণ থাকলে ক্রেতাদের স্থায়ী গ্রাহকে পরিণত করা সহজ হয়।
বিক্রয়কর্মীর শারীরিক গুণাবলি বলতে সুদর্শন চেহারা, সুস্বাস্থ্য এবং সুন্দর হাসির সমন্বয়কে বোঝায়। একজন বিক্রয়কর্মীর কতকগুলো শারীরিক গুণ থাকা আবশ্যক। বিক্রয়কর্মী সুন্দর ও আকর্ষণীয় হলে সহজেই ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। এছাড়া বিক্রয়কর্মীকে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হয়। কারণ সুস্বাস্থ্য গ্রাহকদেরকে আকৃষ্ট করে। সেই সাথে বিক্রয়কর্মীর হাসিমাখা মুখ ক্রেতাদেরকে বাড়তি অনুপ্রেরণা দেয়।
ধৈর্যশীলতা একজন বিক্রয়কর্মীর মানসিক গুণ। পণ্য কেনার সময় ক্রেতা পণ্য সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য (পণ্যের দাম, উপযোগিতা, ব্যবহারবিধি) বিক্রয়কর্মীর কাছে জানতে চায়। এ সময় সম্ভাব্য ক্রেতা না কোনো বিষয় বুঝলে একাধিক বার প্রশ্ন করতে পারে। এক্ষেত্রে বিক্রয়কর্মী অধৈর্য হয়ে পড়লে ক্রেতা পণ্য কিনতে আগ্রহী হবে না। যেকোনো পরিস্থিতিতে বিক্রয়কর্মীকে ধৈর্য ধারণ করতে হয়।
তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা বিক্রয়কর্মীর মানসিক গুণ। পেশার প্রতি। আগ্রহ, পণ্য বিক্রিতে আত্মবিশ্বাস, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা, ধৈর্যশীলতা প্রভৃতি হলো বিক্রয়কর্মীর মানসিক গুণাবলি। বিক্রয়কর্মী তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তার কাজের জটিলতা দূর করতে সক্ষম হন। এর মাধ্যমে তিনি ক্রেতার আগ্রহ, মনোভাব ও আচরণ বুঝতে পারেন। ফলে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সহজ হয়।
একজন বিক্রয়কর্মী ক্রেতার সাথে মার্জিত ও ভালো আচরণের মাধ্যমে তাকে সন্তুষ্ট করতে পারেন। এ আচরণে মুগ্ধ হয়ে একজন ক্রেতা স্থায়ী গ্রাহকে পরিণত হতে পারে। ক্রেতার সাথে আচরণের বিষয়ে বিক্রয়কর্মীর সচেতন থাকতে হয়। এটি বিক্রয়কর্মীর একটি নৈতিক গুণ।
মেলামেশার ক্ষমতা' বিক্রয়কর্মীর নৈতিক গুণ। একজন আদর্শ বিক্রয়কর্মীর বিভিন্ন ধরনের গুণ থাকে। ক্রেতার সাথে মেলামেশার ক্ষমতা সেসব গুণের মধ্যে অন্যতম। বিক্রয়কর্মীর সহজেই মেলামেশার ক্ষমতা থাকলে সে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে পারে। এ ধরনের গুণ স্থায়ী গ্রাহক সৃষ্টিতে সহায়তা করে।
Related Question
View Allমোড়কিকরণ দ্বারা পণ্যকে আকর্ষণীয় করা যায়।
পণ্যের মান নির্ধারণের কাজকে প্রমিতকরণ (Standardization) বলে। পণ্যের গুণাগুণ, আকার, রং, স্বাদ প্রভৃতির ওপর ভিত্তি করে প্রমিতকরণ করা হয়। প্রমিতকরণের ফলে পণ্যের বিপণন প্রক্রিয়া সহজ হয়। আবার বিক্রয় কাজের গতিশীলতাও বেড়ে যায়।
শুভ বিক্রয়কর্মীর শারীরিক বৈশিষ্ট্যের কথা বিবেচনা করেছেন।
বিক্রয়কর্মী তার নিজস্ব গুণ বা বৈশিষ্ট্য দিয়ে ক্রেতা ও ভোক্তাদের সহজে আকৃষ্ট করতে পারেন। এজন্য বিক্রয়কর্মীর কিছু শারীরিক গুণ থাকা প্রয়োজন। বিক্রয়কর্মীর সুন্দর হাসি, দৃষ্টিভঙ্গি, কণ্ঠস্বর প্রভৃতি তার শারীরিক বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকের শুভ তার দোকানের বিক্রি বাড়ানোর জন্য একজন বিক্রয়কর্মী নিয়োগ দেন। এজন্য তিনি দেখতে ভালো এবং সদালাপী এরকম বিক্রয়কর্মীকে প্রাধান্য দেন। কেননা সুন্দর ও আকর্ষণীয় চেহারার বিক্রয়কর্মী সহজেই ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন। তাছাড়া বিক্রয়কর্মীর হাসিমাখা মুখ ক্রেতাদের পণ্য কিনতে উদ্বুদ্ধ করে। এ থেকে বোঝা যায়, শুভ শারীরিক বৈশিষ্ট্যকে গুরুত্ব দিয়ে বিক্রয়কর্মী নিয়োগ দিয়েছেন।
বিক্রি বাড়াতে শুভর বিক্রয়কর্মী নিয়োগের পদক্ষেপটি যথার্থ হয়েছে বলে আমি মনে করি।
বিক্রয়কর্মী তার শারীরিক (সুদর্শন চেহারা, সুস্বাস্থ্য), মানসিক (আন্তরিকতা, ধৈর্যশীলতা) ও নৈতিক (সততা, জেন্ডার সচেতনতা) প্রভৃতি গুণাবলির মাধ্যমে গ্রাহকের আস্থা অর্জন করেন। বর্তমানে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সাফল্য বিক্রয়কর্মীর ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করে। এজন্য বিক্রয়কর্মীর কাজকে খুবই গুরুত্ব দেওয়া হয়।
উদ্দীপকের শুভর একটি দোকান আছে। তার দোকানের পাশে একই ধরনের-আরও একটি দোকান গড়ে উঠেছে। এতে তার দোকানের পণ্যের বিক্রির পরিমাণ কমে যায়। তাই শুভ বিক্রি বাড়াতে একজন আদর্শ বিক্রয়কর্মী নিয়োগ দেন।
বিক্রয়কর্মীর সুদর্শন চেহারা, হাসি-খুশি মনোভাব দেখে গ্রাহকরা আকৃষ্ট হয়। ফলে নতুন নতুন ক্রেতা এসে দোকানে ভিড় করে। বিক্রয়কর্মী এভাবে তাদের পণ্য কিনতে উদ্বুদ্ধ করে। তখন অনেক গ্রাহক স্থায়ী ক্রেতায় পরিণত হন। এতে শুভর দোকানের পণ্যের বিক্রি বেড়ে যায়। ফলে বিক্রির পরিমাণ আগের অবস্থানে ফিরে আসে। সুতরাং, শুভর বিক্রয়কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্তটি সময়োপযোগী ও যথাযথ হয়েছে।
বণ্টন প্রণালিতে সবশেষে ভোক্তার অবস্থান।
মানের ভিত্তিতে পণ্যকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করাকে পর্যায়িতকরণ (Grading) বলে।
সাধারণত ওজন, আকার ও গুণাগুণের ভিত্তিতে পণ্যকে পর্যায়িতকরণ করা হয়। পর্যায়িতকরণ করার ফলে ক্রেতা সহজেই তার পছন্দের পণ্য খুঁজে নিতে পারেন। এতে পণ্য বিক্রি করা সহজ হয়। ফলে ক্রেতা সন্তুষ্টিও অর্জিত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
