আমাদের সমাজে এমন কিছু মানুষ জন্মেছিলেন, যারা আজীবন অন্যের কথা ভেবে গেছেন, নিজের কথা ভাবেননি। তাঁদের কোনো লোভ-মোহ ছিল না। পরোপকার ও দেশের কল্যাণই ছিল তাঁদের একমাত্র উদ্দেশ্য। তাঁরাই হলেন মহাপুরুষ ও মহীয়সী নারী।
মহাপুরুষ ও মহীয়সী নারীরা যে আদর্শ জীবন পালন করে গেছেন, সেই জীবনীই হলো আদর্শ জীবনচরিত। যারা আজীবন অন্যের উপকার করে গেছেন। যাঁদের কোনো লোভ-মোহ ছিল না। পরোপকার, জগতের কল্যাণই ছিল যাদের ব্রত। তাদের জীবনী থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারি।
শ্রীকৃষ্ণ ছিলেন স্বয়ং ভগবান। কারণ, তাঁর মধ্যে ভগবানের ছয়টি গুণই পূর্ণরূপে বিদ্যমান ছিল। তিনি পৃথিবীতে জীবের ন্যায় দেহধারী হয়ে বিভিন্ন লীলা সম্পাদন করেন এবং দুষ্ঠের দমন করে ধর্মের সংস্থাপন করেন।
কংস ছিলেন মথুরার রাজা। তিনি ছিলেন ভীষণ অত্যাচারী। তিনি নিজের পিতা উগ্রসেনকে বন্দি করে রাজ্য দখল করেন। কৃষ্ণ তাকে হত্যা করবে- এই দৈববাণী শোনার পর শিশুকাল থেকে কৃষ্ণকে বধ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু অবশেষে কৃষ্ণের হাতেই নিহত হন।
কৃষ্ণ কংসকে হত্যা করবে- এই দৈববাণী শোনার পর থেকে কংস কৃষ্ণকে হত্যা করার জন্য উঠে পড়ে লাগেন কিন্তু পারেননি। পরে কৌশলে তাঁকে মারার পরিকল্পনা করলেন মল্লযুদ্ধে আমন্ত্রণ জানানোর মাধ্যমে। এজন্য কৃষ্ণ বলরামকে মথুরায় আনতে অক্রুরকে পাঠালেন।
কৃষ্ণ ও বলরাম মথুরায় আসলে তাঁদের হাতে অনেক যোদ্ধা মারা পড়ল। তা দেখে কংস ক্ষিপ্ত হলেন এবং কৃষ্ণকে মারার জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে আসলে কৃষ্ণ লাফ দিয়ে রথে ওঠে। তারপর তার চুল ধরে মাটিতে ফেলে দিয়ে হত্যা করে।
জরাসন্ধ ছিলেন মগধের রাজা ও কংসের শ্বশুর। তিনিও ভীষণ অত্যাচারী ছিলেন। কংসের মৃত্যুর খবর শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে মথুরা আক্রমণ করেন কিন্তু কৃষ্ণের হাতে তার পরাজয় ঘটে। কৃষ্ণ তাকে ক্ষমা করে দেন। পরবর্তীতে পাণ্ডুপুত্র ভীমের হাতে বধ হন।
জরাসন্ধ একবার স্থির করেছিলেন যে, বুদ্রদেবের পূজার জন্য তিনি একশ নরবলি দেবেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি ৮৬ জন রাজাকে বন্দি করেছিলেন। আর ১৪ জন হলেই অভীষ্ট কাজ সম্পন্ন করবেন। একথা কৃষ্ণ জানতে পেরে ভীমের দ্বারা তাকে বধ করেন ও একশ রাজার প্রাণ রক্ষা করেন।
শিশুপাল ছিলেন চেদিরাজ্যের রাজা। কৃষ্ণের আত্মীয়। পিসতুত ভাই। কিন্তু ভীষণ অত্যাচারী ছিলেন। তাই শিশুপালের মা কৃষ্ণকে অনুরোধ করে বলেছিলেন- বাবা, তুমি ওর একশোটি অপরাধ ক্ষমা করো। পিসির অনুরোধে কৃষ্ণ ক্ষমা করেছিলেন। মূলত গুরুজনের কথা রাখতেই কৃষ্ণ শিশুপালের একশত অপরাধ ক্ষমা করেছিলেনctivate
একবার যুধিষ্ঠিরের রাজসূয় যজ্ঞে কৃষ্ণ শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি নির্বাচিত হওয়ায় ঈর্ষান্বিত হয়ে শিশুপাল তাঁর নিন্দা শুরু করেন। পান্ডবদেরও গালমন্দ করেন। যুদ্ধের হুমকি দেন। তখন কৃষ্ণ তার সুদর্শন চক্র দিয়ে শিশুপালকে বধ করেন।
শ্রীকৃষ্ণ সুদর্শন চক্র দ্বারা শিশুপালকে হত্যা করেছিলেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শিশুপালের মাকে কথা দিয়েছিলেন যে, তিনি শিশুপালের একটি অপরাধ ক্ষমা করবেন। যুধিষ্ঠিরের রাজসূয় যজ্ঞে শিশুপালের অপরাধের সংখ্যা পূর্ণ হওয়ায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাকে সুদর্শন চক্র দ্বারা হত্যা করেন।
ধৃতরাষ্ট্র ও পাচ্চু দুই ভাই। ধৃতরাষ্ট্র জন্মান্ধ তাই ছোট ভাই পাণ্ডু হস্তিনাপুরের রাজা হন। পাণ্ডুর পাঁচ ছেলে, বড় যুধিষ্ঠির। তাদের একত্রে বলা হতো পাণ্ডব। আর ধৃতরাষ্ট্রের একশত পুত্র, বড় দুর্যোধন। কুরু বংশের নাম অনুসারে তাদের কৌরব বলা হতো।
বনবাস থেকে ফিরে এসে পান্ডবরা তাদের রাজ্য দাবি করলে দুর্যোধন তখন বলেন- বিনা যুদ্ধে রাজ্য দেবেন না। কৃষ্ণ যুদ্ধ ঠেকানোর জন্য অনেক চেষ্টা করলেন। দুর্যোধন কারও কথাই শুনলেন না। অগত্যা কুরুক্ষেত্রে তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হলো ও. কুরুবংশের নাশ হলো।
কৌরব ও পান্ডবদের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হলে, কৃষ্ণ পান্ডবদের পক্ষে ছিলেন। কৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান। আর ভগবান যার সহায় হোন, বিজয় সে পক্ষেরই হবে। যুদ্ধে কুরুবংশের নাশ হয়, যুধিষ্ঠির রাজা হয় ও পৃথিবীতে শান্তি ফিরে আসে।
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে যখন দুই পক্ষ মুখোমুখি, মাঝখানে অর্জুনের রথ স্থাপিত হলে সে বিপক্ষে সব আত্মীয়স্বজনদের দেখে বিমর্ষ হয়ে পড়ে। আত্মীয়দের হত্যা করে সে রাজ্য ভোগ করতে চায় না। তাই সে যুদ্ধ করতে চাইছিল না।
শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছিলেন, তুমি ক্ষত্রিয়। আর ক্ষত্রিয়ের ধর্ম যুদ্ধ করা। তাছাড়া আত্মার মৃত্যু নেই, দেহান্তর ঘটে। তুমি যাদের দেখে মায়া করছো, তারা নিজেদের দোষে মৃত্যুকে বরণ করছে তুমি উপলক্ষ মাত্র। কাজেই যুদ্ধ করা তোমার কর্তব্য পরে অর্জুনের মোহভঙ্গ হয়।
শ্রীকৃষ্ণ ছিলেন খুবই বন্ধুবৎসল। সুদামা নামে তাঁর এক সহপাঠী ছিলেন। সুদামা খুব গরিব, তবে ব্রহ্মবিদ। একসময় কৃষ্ণ দ্বারকার রাজা হন। তবুও বন্ধুকে ভুলে যায়নি। অনেক দিন পর বন্ধুকে দেখতে পেয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে। রাজা হয়েও বন্ধুর দেয়া চিড়ার খুদ গ্রহণ করে। এটিই বন্ধুত্বের ভালোবাসা।
একদিন সুদামার স্ত্রী তাঁকে বললেন, 'তোমার বন্ধু কৃষ্ণ স্বারকার রাজা। তাঁর কাছে গেলে হয়তো কিছু অর্থ পাওয়া যেত। তাতে অভাব কিছুটা ঘুচতো।' কিন্তু সুদামা অর্থের লোভে নয়, বরং অনেক দিন পর বন্ধুর সাথে দেখা হবে ভেবে দ্বারকায় গিয়েছিলেন।
সুদামা ছিলেন খুবই গরিব। তবে ব্রহ্মবিদ। তার কোনো লোভ-লালসা নেই। অনেক দিন পর তিনি যখন বন্ধু ও ভগবান কৃষ্ণের সাথে দেখা করেন। তিনি তখন একবারও অর্থের কথা বলেননি। তবে ভগবানের ঐশীবলে অনেক কিছু লাভ করলেও তিনি আগের মতোই সাধারণ জীবনযাপন ও ব্রহ্মোপসনাই করতেন।
দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের জন্য ভগবান পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন। পৃথিবীতে যখন ধর্মের গ্লানি দেখা দেয় এবং অধর্মের বৃদ্ধি ঘটে তখন ধর্ম সংস্থাপনের জন্য ভগবান অবতাররূপে আগমন করেন। এভাবে পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয় এবং ধর্মের মর্যাদা রক্ষা পায়।
দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের জন্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যুগে যুগে জন্মগ্রহণ করেন। পৃথিবীতে যখন ধর্মের গ্লানি দেখা দেয়, অধর্মের বৃদ্ধি ঘটে তখন ধর্ম সংস্থাপনের জন্য তিনি বারবার পৃথিবীতে অবতরণ করেন নানারূপে।
ভগবান মনে করলেন তিনি যে উদ্দেশ্যে অবতাররূপে জন্ম নিয়েছিলেন তা সম্পন্ন হয়েছে। একদিন তিনি বনে প্রবেশ করে একটি অশ্বত্থ বৃক্ষের নিচে বসলেন। তখন দূর থেকে জরা নামে এক ব্যাধ তাঁকে হরিণ মনে করে শর নিক্ষেপ করেন। শরটি কৃষ্ণের পায়ে এসে লাগে। আর এ শরাঘাতেই কৃষ্ণ ইহলীলা সংবরণ করেন।
শ্রীকৃষ্ণের জীবন থেকে আমরা এই শিক্ষা পাই যে, অন্যায় ও অসত্য একসময় পরাজিত হয়ই। সমাজে দুষ্টদের ঠাঁই নেই। ভগবান তাদের ক্ষমা করেন না। ভগবান ধনী-গরিব সকলকেই ভালোবাসেন। যার যা কর্তব্য তা পালন করা ধর্মের অঙ্গ।
হরিচাঁদ ঠাকুর বাংলা ১২১৮ সালের ২৯শে ফাল্গুন কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে গোপালগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা যশোমন্ত বৈরাগী ও মাতা অন্নপূর্ণা দেবী। তিনি 'মতুয়া' সম্প্রদায় তৈরি করে সকলকে হরিনামে মাতোয়ারা হয়ে থাকার নির্দেশ দেন। ১২৮৪ সালে তিনি দেহত্যাগ করেন।
হরিচাঁদ ঠাকুর মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যের হরিনাম প্রচার করেছেন। তিনি বলেছেন, 'ভক্তির সঙ্গে হরির নাম নিলেই ঈশ্বরকে পাওয়া যাবে।' এই নাম সংকীর্তনই হচ্ছে তাঁর সাধন-ভজনের পথ। তিনি এই হরিনামে ভজনে মাতোয়ারা হয়ে যেতেন। এজন্য তার এই সাধনপথের নাম হয় মতুয়া। আর তাঁর অনুসারীদের নিয়ে মতুয়া সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠা হয়।
মতুয়াবাদের মূলকথা হলো মনুষ্যত্ব অর্জন, আত্মোন্নতি এবং সার্বিক কল্যাণ সাধন। সত্য, প্রেম ও পবিত্রতা- এই তিনটি স্তরের উপর মতুয়াবাদ প্রতিষ্ঠিত। আর সাধনার লক্ষ্য হচ্ছে সত্যদর্শন বা ঈশ্বর লাভ। এজন্য চাঁই প্রেম, আর প্রেমের পূর্বশর্ত পবিত্রতা। পবিত্র দেহ মনে প্রেমের উদয় হয়। তখন ভক্তের অন্তরে প্রেমময় হরি জাগ্রত হয়।
হরিচাঁদ ঠাকুর হরিনামের মাধ্যমে সামাজিকভাবে অবহেলিত সম্প্রদায়কে একতাবদ্ধ করেন। মতুয়াবাদে নারী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র, ধর্ম-বর্ণ এসবের কোনো ভেদ নেই। তাঁর পুত্র শ্রী শ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুর বলতেন,'দল নাই যার, বল নাই তার। এর ফলে মতুয়াবদ এক বিরাট আন্দোলনেtings to পরিণত হয় এবং মতুয়া সম্প্রদায় বাংলার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।
মতুয়া সম্প্রদায়' হরিচাঁদ ঠাকুরকে ভগবান বিষ্ণুর অবতার হিসেবে জ্ঞান করতেন ও গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতেন। তাই তাঁরা বলেন-
রাম হরি কৃষ্ণ হরি হরি গোরাচাঁদ। সর্ব হরি মিলে এই পূর্ণ হরিচাঁদ।
হরিচাঁদ ঠাকুর তার অনুসারীদের বারটি উপদেশ দিয়েছেন, যেগুলো 'দ্বাদশ আজ্ঞা' নামে পরিচিত। এই আঙ্গগুলো সবার জন্য পালনীয়। এর মধ্যে তিনটি হলো-
১. সদা সত্য কথা বলবে,
২. নারীকে মাতৃজ্ঞান করবে,
৩. জাতিভেদ করবে না।
হাতে কাম, মুখে নাম'- এটি হরিচাঁদ ঠাকুরের অন্যতম উপদেশ। তিনি বলেছেন, গৃহকর্ম গৃহধর্ম করিবে সকল, হাতে কাম মুখে নাম ভক্তিই প্রবল। হরিচাঁদ ঠাকুর নিজেও সংসারী ছিলেন, তাই তিনি সংসারে থেকেই ধর্মচর্চা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনিই সবাইকে বুঝিয়েছেন যে, ধর্মচর্চারের জন্য সংসার ত্যাগ করতে হয় না।
হরিচাঁদ ঠাকুরের ২টি বাণী নিম্নরূপ-
১. জীবে দয়া নামে রুচি মানুষেতে নিষ্ঠা। ইহা ছাড়া আর যত সব ক্রিয়া ভ্রষ্ট।
২. গৃহকর্ম গৃহধর্ম করিবে সকল। হাতে কাম মুখে নাম ভক্তিই প্রবল।
১৮৬৩ সালের ১২ই জানুয়ারি কোলকাতায় বিশ্বনাথ দত্ত ও ভুবনেশ্বরী দেবীর ঘরে জন্ম নেন বিবেকানন্দ। নির্ভীকতা, সত্যবাদিতা, উদার দৃষ্টিভঙ্গি, জীবে দয়া এসব ছিল তাঁর স্বভাগত বৈশিষ্ট্য। বিশ্বধর্ম সম্মেলনে বক্তৃতা দিয়ে তিনি জগদ্বিখ্যাত হন। ১৯০২ সালের ৪ জুলাই তিনি দেহত্যাগ করেন।
১৮৬৩ সালের ১২ই জানুয়ারি কোলকাতায় বিশ্বনাথ দত্ত ও ভুবনেশ্বরী দেবীর ঘরে জন্ম নেন বিবেকানন্দ। নির্ভীকতা, সত্যবাদিতা, উদার দৃষ্টিভঙ্গি, জীবে দয়া এসব ছিল তাঁর স্বভাগত বৈশিষ্ট্য। বিশ্বধর্ম সম্মেলনে বক্তৃতা দিয়ে তিনি জগদ্বিখ্যাত হন। ১৯০২ সালের ৪ জুলাই তিনি দেহত্যাগ করেন।
বিবেকানন্দ ছোটবেলা থেকেই ঈশ্বরচিন্তায় মগ্ন থাকতেন। তার মনে সবসময় প্রশ্ন জাগে ভগবান কী আছেন, তাকে কী দেখা যায়। অনেকের কাছে জিজ্ঞাসা করলেও উত্তর মনঃপূত হয়নি। পরে সাধক রামকৃষ্ণের সরল উত্তর তার ভালো লাগে এবং তার কাছে ত্যাগের মন্ত্রে দীক্ষা নেন।
স্বামী বিবেকানন্দ ধ্যানের মাধ্যমে বুঝতে পেরেছিলেন, ভারতের জীবনশক্তির উৎস হলো ধর্ম। আর এই ধর্ম হচ্ছে দেবতাজ্ঞানে জীবসেবা। জীবসেবা করলেই ঈশ্বরের সেবা হয়। এই ধর্মমন্ত্রে ভারতবাসীকে জাগিয়ে তুলতে হবে।
বিবেকানন্দের প্রকৃত নাম নরেন্দনাথ দত্ত। ঈশ্বর দর্শন সম্পর্কিত প্রশ্নে সাধক রামকৃষ্ণের উত্তর তার ভালো লাগে এবং রামকৃষ্ণের নিকট তিনি ত্যাগের মন্ত্রে দীক্ষা নেন। তখন হয়ে ওঠেন গৃহত্যাগী সন্ন্যাসী এবং তার নাম হয়ে ওঠে বিবেকানন্দ।
বিবেকানন্দ বেদান্ত দর্শনের প্রকৃত সত্য তুলে ধরেন। বেদান্তের মূল কথা হলো- জীব ও ব্রহ্মে কোনো পার্থক্য নেই।' তাই ব্রহ্মজ্ঞানে জীবসেবা করতে হবে। আর হিন্দুধর্ম কেবল মূর্তিপূজা করে না, সকল দেবতার পূজার মধ্য দিয়ে এক ঈশ্বরের আরাধনা করে।
মার্গারেট এলিজাবেথ নোবল স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ভারতবর্ষে এসেছিলেন। স্বামী বিবেকানন্দের বক্তৃতা শুনে মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল এতই অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন যে, নিজের জন্মভূমি আয়ারল্যান্ড ছেড়ে ভারতবর্ষে চলে আসেন এবং বিবেকানন্দের কাছে দীক্ষা নেন। এরপর তাঁর নাম হয় ভগিনী নিবেদিতা।
স্বামীজী বলেছেন, 'সত্যই সকল ধর্মের ভিত্তি। সৎ হওয়া আর সৎ কর্ম করা ধর্মের অঙ্গ।' তিনি অথর্বেদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন-'অসত্য নয়, সত্যেরই জয় হয়; একমাত্র সত্যের মধ্য দিয়েই ঈশ্বর লাভের পথ প্রসারিত হয়।
বিবেকানন্দের মহান বাণী হলো- ঈশ্বর জ্ঞানে জীবসেবা। জীবসেবা করলেই ঈশ্বরের সেবা করা হয়। তাইতো তিনি বলেছেন-বহুরূপে সম্মুখে তোমার, ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর? জীবে প্রেম করে যেইজন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর।
বিবেকানন্দ, নারীদের উন্নয়নের ব্যাপারে ও নারীর স্বাধীনতায় খুবই সোচ্চার ছিলেন। নারী শিক্ষাকে তিনি সর্বান্তঃকরণে সমর্থন করতেন। তিনি নারীকে শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখতেন। তাই বলতেন শক্তিকে বাদ দিয়ে বিশ্বের পুনর্জাগরণ সম্ভব নয়।
স্বামীজী বুঝতে পেরেছিলেন যে, খালি পেটে ধর্ম হয় না। এজন্য তিনি দরিদ্রদের উন্নয়নের কথা চিন্তা করতেন, তাদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের কথা ভাবতেন। কেননা, শিক্ষাই কারোর অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারে। তাই তিনি বলেছেন, 'আগে অন্ন, তারপর ধর্ম'।
স্বামী বিবেকানন্দ তার গুরুদেবের আদর্শ প্রচারের জন্য একটি মঠ ও মিশন প্রতিষ্ঠা করেন, এটি পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার বেলুড়ে অবস্থিত বলে এর নাম বেলুড় মঠ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন রয়েছে তার প্রধান কেন্দ্র এই বেলুড় মঠ।
স্বামী বিবেকানন্দের দুটি বাণী হলো-
১. পরধর্ম বা পরমতের প্রতি দ্বেষভাবশূন্য হলেই চলবে না, আমাদের ঐ ধর্ম বা মতকে আলিঙ্গনও করতে হবে; সত্যই সকল ধর্মের ভিত্তি।
২. মানুষের মহত্ত্বের পরিচয় তার চরিত্রে, বৃত্তিতে নয়।
ঠাকুর নিগমানন্দ ১২৮৭ সালে ঝুলন পূর্ণিমার রাতে মেহেরপুরে তার মাতুলায়ে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের পর তার চোখ দুটি ছিল পদ্ম বা নলিনীর মতো। এজন্য তার নাম রাখা হয় নলিনীকান্ত। নলিনীকান্ত ভট্টাচার্য।
বয়স বাড়ার সাথে নলিনীকান্তের মধ্যে কিছু পরিবর্তন লক্ষিত হয়। তিনি জাতিভেদ মানতেন না। ব্রাহ্মণের মিথ্যা অহংকার ঘৃণা করতেন। তবে প্রকৃত ব্যক্তিকে সম্মান জানাতেন। যুক্তিযুক্ত মতকে সমর্থন করতেন। ভুল হলে স্বীকার করতেন। ধর্মের নামে ভন্ডামি ঘৃণা করতেন
দাদামশায় ও মায়ের মৃত্যুর পর মানবজীবনের 'নশ্বরতা নলিনীকে ভাবিয়ে তোলে। দেব-দ্বিজে, ধর্ম-কর্মে, ভগবানে বিশ্বাস ওঠে যায়। যাত্রা-থিয়েটার ও জনসেবা শুরু করে। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে রোগীর সেবা, মৃতদেহ সৎকার এসব করতেন। তাই তার পিতাকে নিন্দাবাক্য শুনতে হয়
সংসারের প্রতি মন ওঠে গেলে নলিনী মহাতীর্থ তার পীঠে যান। যেখানে ছিলেন সাধক বামাক্ষেপা। তিনি তাকে তারামন্ত্রে দীক্ষা দেন। ও সাধনা করতে বলেন। একমনে সাধনা করার ফলে অবশেষে মা স্ত্রীরূপে দেখা দিলেন নলিনীকে।
বামাক্ষেপার কথামতো নলিনী জ্ঞানীগুরুর সন্ধান করতে করতে পুষ্করতীর্থে সচ্চিদানন্দ পরমহংসের দর্শন পান। তার আশ্রমে থেকে নলিনী বেদ-বেদান্ত, দর্শনশাস্ত্রাদি অধ্যয়ন করেন ও সন্ন্যাস মন্ত্রে দীক্ষা পান। তখন তার নাম হয়, 'স্বামী নিগমানন্দ সরস্বতী'।
ঠাকুর নিগমানন্দের দর্শন ছিল- "শঙ্করের মত ও গৌরাঙ্গের পথ'। অর্থাৎ সেবা ও ডক্তির পথে অদ্বৈত ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করা। তার আদর্শ ও দর্শন প্রচারে বাংলার চারদিকে চারটি সারস্বত আশ্রম সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ঠাকুর নিগমানন্দ বলেছেন, আদর্শ গৃহস্থ জীবন প্রতিষ্ঠাই সকলের লক্ষ্য হওয়া উচিত। শুধু সন্ন্যাসী হয়ে বনে গেলেই ভগবান লাভ হয় না। গৃহে থেকে আদর্শ গৃহী হয়ে ধর্ম সাধনা করলেও ভগবানকে লাভ করা যায়।
ঠাকুর নিগমানন্দ আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন যে, মিথ্যা অহংকার কারো পক্ষেই ভালো নয়, জাতিভেদ সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। আদর্শ গৃহী হয়েও ভগবানকে লাভ করা যায়। এবং নারায়ণজ্ঞানে সকল জীবের সেবা করতে হবে।
অনুকূলচন্দ্র পাবনার হিমাইতপুরে জন্মগ্রহণ করেন। সেখানে পাঠশালায় লেখাপড়া শুরু করেন। নবম শ্রেণি পর্যন্ত পাবনা ইনস্টিটিউট ও নৈহাটী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রবেশিকা পাশ করেন। তারপর কোলকাতা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ থেকে ডাক্তারি পাশ করেন।
অনুকূলচন্দ্র ডাক্তার হয়ে ফিরে এসে চিকিৎসা শুরু করলে উপলব্ধি করেন যে, মানুষের দুঃখের স্থায়ী সমাধান করতে হলে কেরল শরীীরিক চিকিৎসা নয়, মানসিক ও আত্মিক উন্নয়ন দরকার। কারণ শরীর, মন ও আত্মা একসাথে সম্পর্কিত। এজন্য তিনি এ চিকিৎসাও শুরু করলেন।
মানুষ যাতে সৎপথে থাকে, সৎ চিন্তা করে সেজন্য হিমাইতপুরে প্রতিষ্ঠা করেন 'সৎসঙ্গ' আশ্রম। এ আশ্রমের মাধ্যমে তিনি আত্মিক উন্নতির জন্য ব্রহ্মজ্ঞান লাভে সহায়তা করতেন তাঁর অনুসারীদের এবং এখানে তিনি ধর্মের সাথে কর্মের সংযোগ ঘটান।
সৎসঙ্গের আদর্শ হচ্ছে ধর্ম কোনো অলৌকিক ব্যাপার নয়, ধর্ম হলো বিজ্ঞানসিদ্ধ জীবনসূত্র। এ সঙ্গের পাঁচটি মূলনীতি হচ্ছে-যজন, যাজন, ইষ্ঠভূতি, স্বস্ত্যয়নী ও সদাচার। আর এ সংঘের মূল স্তন্ড হিসেবে রয়েছে- শিক্ষা, কৃষি, শিল্প ও সুবিবাহ।
ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের শিক্ষা ছিল- মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই। যে যেই সম্প্রদায়েরই হোক, ঈশ্বর এক, ধর্মও এক। সংসারে থাকবে, মন রাখবে ভগবানে। শুধু লেখাপড়া করলেই বড় হওয়া যায় না, আচার-ব্যবহার পুরুত্বপূর্ণ।
মা আনন্দময়ীর জন্ম ১৮৯৬ সালের ৩০শে এপ্রিল। তার পিতা বিপিনবিহারী ভট্টাচার্য এবং মাতা মোক্ষদা সুন্দরী। আনন্দময়ীর আসল নাম নির্মলা সুন্দরী। লেখাপড়ার চেয়ে হরিনাম কীর্তনেই আকুল ভক্তি ছিল তার। ১৯৮২ সালে তিনি পরলোক গমন করেন।
মা আনন্দময়ী একবার ভূদেবচন্দ্র বাবুর বাড়িতে হরিনাম কীর্তন শুনছিলেন। শুনতে শুনতে একসময় তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। তখন তার দেহ থেকে দিব্য আলো প্রকাশিত হচ্ছিল। কিছুক্ষণ পর তিনি আবার সুস্থ হলেন। এভাবেই তার মধ্যে মহাভাবের শুরু হয়।
সাধারণ মানুষের অজ্ঞাতে নির্মলা দেবীর শরীরে চলতে থাকে সাধন-ভজনের লীলা। দিব্য জ্যোতির আলোয় আভাসিত হয়ে ওঠে সমস্ত শরীর। একবার ঢাকার শাহবাগে মা কালীর মন্দিরে নির্মলার মধ্যে মাতৃমূর্তি প্রকটিত হয়। তখন থেকেই তিনি 'মা আনন্দময়ী' হয়ে উঠেন।
স্বামীর সাথে দেরাদুনের চলে যাওয়ায় মা আনন্দময় লীলাক্ষেত্র ঢাকা থেকে উত্তর ভারতে স্থানান্তরিত হয়েছিল। ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে মা আনন্দময়ী স্বামীসহ ঢাকার শাহবাগ থেকে দেরাদুনে চলে যান। ফলে তার লীলাক্ষেত্র ঢাকা থেকে উত্তর ভারতে স্থানান্তরিত হয়।
মা আনন্দময়ীর জীবনী থেকে আমাদের শিক্ষণীয় হলো- সর্বদা ভগবনের নাম নিতে হবে। তার নামে সবকিছু করতে হবে। কর্তব্যকর্মে অবহেলা করা যাবে না। আমাদের ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে
শ্রীলপ্রভুপাদ ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে কোলকাতায় জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা গৌরমোহন দে এবং মাতা রজনী দেবী। প্রভুপাদের প্রকৃত নাম অভয়চরণ দে। 'ইসকন' প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সারবিশ্বে হিন্দুধর্ম তথা কৃষ্ণনাম প্রচার করে পূজিত হন। ১৯৭৭ সালে তিনি ইহলীলা সংবরণ করেন।
শ্রীল প্রভুপাদ বিশ্বাস করতেন, সকল জাতির মধ্যে কৃষ্ণভাবনামৃত ছড়িয়ে দিতে পারলে কোনো জাতিভেদ থাকবে না, হিংসা-বিদ্বেষ থাকবে না। যুদ্ধবিগ্রহ, ধ্বংসাত্মক কাজ থেমে ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে। একই সাথে বিশ্বাভ্রাতৃত্ব গড়ে উঠবে। এ উদ্দেশ্যেই তিনি 'ইসকন' প্রতিষ্ঠা করেন।
গৌরমোহন দে পুত্রের কোষ্ঠী বিচার করলে জ্যোতিষী বলেন-এই শিশু ৭০ বছর বয়সে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে বিদেশ যাবে। একজন ধর্মপ্রচারক হিসেবে খ্যাতি লাভ করবে ও ১০৮টি মন্দির প্রতিষ্ঠা করবে। তার ভবিষ্যদ্বাণীর প্রায় সবটাই সত্যে পরিণত হয়েছে।
অভয়চরণ এক সময় কৃষ্ণনাম বা কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচারের জন্য চাকরি, সংসার সব ছেড়ে দেন। বিভিন্ন গ্রন্থের ইংরেজি ভাষা রচনা করেন, যাতে পাশ্চাত্যরাও পাঠ করতে পারে। পরে বৃন্দাবনে গিয়ে সন্ন্যাসধর্মে দীক্ষা নেন। তখন তার নাম হয় 'শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ।
ইসকনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- কৃষ্ণ নামের মাধ্যমের মানুষের মধ্যে আধ্যাত্মিক চেতনা জাগ্রত করা। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসা সৃষ্টি ও ভেদাভেদ দূর করা। জ্ঞানের আলো দ্বারা অজ্ঞানতা ও কুসংস্কার দূরা করা। বিভিন্ন সমাজস্বোমূলক কাজ করাসহ প্রভৃতি উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠা হয় 'ইসকন'।
পৃথিবীতে শ্রীকৃষ্ণ অবতীর্ণ হওয়ার কারণ হলো দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন। শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং গীতায় বলেছেন:
ধর্মের গ্লানি, অধর্মে হয় যবে বাড়।
হেনকালে জন্ম মোর জান তত্ত্বসার।
দুষ্টের বিনাশ আর সাধুর রক্ষণে।
যুগে যুগে জন্মি আমি ধর্মসংস্থাপনে।
অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছে স্বয়ং ভগবান। পৃথিবীতে যখন ধর্মের গ্লানি দেখা দেয়, অধর্মের বুদ্ধি ঘটে, তখন ধর্মসংস্থাপনের জন্য এবং দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের জন্য তিনি যুগে যুগে জন্মগ্রহণ করেন। এ কারণেই পৃথিবীতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অবতীর্ণ হন।
হরিচাঁদ ঠাকুর হরিনামে মাতোয়ারা হয়ে যেতেন বলে তাঁর। অনুসারীদের 'মতুয়া' বলা হয়। হরিচাঁদ ঠাকুর নতুন কোনো ধর্মমত, প্রচার করেননি। তিনি মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য দেবের হরিনাম প্রচার করে বলেছেন, 'ভক্তির সঙ্গে হরির নাম নিলেই ঈশ্বরকে পাওয়া যাবে।' তিনি এই হরিনামে মাতোয়ারা হয়ে যেতেন। এ কারণে তাঁর সাধনপথের নাম হয় মতুয়া এবং তাঁর অনুসারীদের বলা হয় 'মতুয়া সম্প্রদায়।'
পরিবারের আপনজনদের জীবন থেকে হারানোই ঠাকুর নিগমানন্দের পরলোক সম্পর্কে চর্চা করার মূল কারণ। প্রথমে দাদ পরে মা, এরপর সদ্য ভূমিষ্ঠ কন্যা সন্তান এবং সবশেষে স্ত্রীকে হারিয়ে ঠাকুর নিগমানন্দ মানুষের নশ্বরতা নিয়ে চিন্তায় পড়ে যান। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি প্রায়শই তাঁর স্ত্রী সুধাংশুবালার ছায়ামূর্তি দেখতে পান। মূলত এর রহস্য উন্মোচন করতে গিয়েই তিনি পরলোক সম্পর্কে চর্চা করা শুরু করেন।
ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র মানুষের দুঃখের স্থায়ী সমাধান করার উদ্দেশ্যেই মানসিক চিকিৎসা শুরু করেছিলেন। তিনি তাঁর গ্রামে চিকিৎসাকর্ম শুরু করেন এবং এতে অভূতপূর্ব সাফল্যও পান। কিন্তু তিনি উপলব্ধি করেন যে, মানুষের, দুঃখের স্থায়ী সমাধান করতে হলে কেবল শারীরিক চিকিৎসা নয়, মানসিক ও আত্মিক চিকিৎসাও প্রয়োজন। এ অনুভূতির কারণেই ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র মানসিক চিকিৎসা শুরু করেছিলেন।
স্বামী বিবেকানন্দ নারী শিক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
তিনি নারীকে শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখতেন। তাই তিনি বলতেন-শক্তিকে বাদ দিয়ে বিশ্বের পুনর্জাগরণ সম্ভব নয়। তাঁর মতে প্রত্যেক পুরুষের কাছে স্ত্রী ছাড়া অন্য সব নারীরই মায়ের মতো হওয়া উচিত। তিনি বিধবাদের পুনর্বিবাহের পাশাপাশি শিক্ষা গ্রহণ করে স্বাবলম্বী হয়ে আত্মসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন। আমেরিকায় হিন্দু-বিধবাদের অবস্থা সম্পর্কে বক্তৃতা দিয়ে যে অর্থ উপার্জন করেছিলেন, তার একাংশ তিনি বরানগরে হিন্দুবিধবাশ্রমে প্রদান করেন। এ আশ্রম বিধবাদের জীবনধারণের উপযোগী শিক্ষা দেওয়া হতো। তিনি নারীদের সন্ন্যাস গ্রহণেরও পক্ষপাতী ছিলেন।
Related Question
View Allস্বামী বিবেকানন্দের পিতার নাম হলো বিশ্বনাথ দত্ত।
মার্গারেট এলিজাবেথ নোবল স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ভারতবর্ষে এসেছিলেন। স্বামী বিবেকানন্দের বক্তৃতা শুনে মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল এতই অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন যে, নিজের জন্মভূমি আয়ারল্যান্ড ছেড়ে ভারতবর্ষে চলে আসেন এবং বিবেকানন্দের কাছে দীক্ষা নেন। এরপর তাঁর নাম হয় ভগিনী নিবেদিতা।
যোগেশ বাবুর মধ্যে স্বামী বিবেকানন্দ চরিত্রের দারিদ্র্য মোচনের প্রচেষ্টার দিকটি লক্ষ করা যায়।
বিবেকানন্দ গৃহত্যাগ করে ভারতভ্রমণে বের হন। তিনি দেখেন, সারা দেশে কেবল দারিদ্র্য আর দারিদ্র্য। কেবল অশিক্ষা আর কুশিক্ষা। দেশবাসীর এই দুরবস্থা দেখে তিনি খুব ব্যথিত হন। তাই কীভাবে এসব থেকে দেশবাসীকে উদ্ধার করা যায়, সে কথা চিন্তা করতে লাগলেন। উদ্দীপকের যোগেশ বাবুর ক্ষেত্রেও দেখা যায়, তিনি তার গ্রামের লোকদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কাজকর্ম করে অর্থ উপার্জন করতে বলেন এবং সন্ধ্যায় ধর্মকর্ম করার উপদেশ দেন। স্বামী বিবেকানন্দও ভারতবাসীকে কর্মমুখী হওয়ার পরামর্শ দেন যেন ভারতবর্ষ থেকে দারিদ্র্য দূরীভূত হয়। বিবেকানন্দ বলতেন-নীচ জাতি, মূর্খ, দরিদ্র, অজ্ঞ, মুচি, মেথর সকলেই আমাদের ভাই। এদের সেবাই পরম ধর্ম। তিনি দরিদ্রদের উন্নয়নের জন্য সর্বদা চিন্তা করতেন। তাদের দারিদ্র্য দূর করা এবং তাদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের কথা ভাবতেন। তাঁর গুরুদেব বলতেন 'খালি পেটে ধর্ম হয় না'। তাই তিনি সবার আগে মানুষের দারিদ্র্য ঘোচানোর কথা ভাবতেন। তিনি বলতেন, 'দরিদ্রদের মুখে অন্ন জোগাতে হবে, শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। আগে অন্ন, তারপর ধর্ম। যোগেশ বাবুর মাঝে স্বানী বিবেকানন্দের চরিত্রের এ দিকটিই লক্ষ করা যায়।
হ্যাঁ, স্বামী বিবেকানন্দের কাজের আলোকে বলাই বাবুর কাজটি নিঃসন্দেহে যৌক্তিক।
স্বামী বিবেকানন্দ জীবসেবাকে পরম ধর্ম হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জীবকে ঈশ্বর জ্ঞানে সেবা করতে বলেছেন। তার চিন্তাধারায় জীবের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। উদ্দীপকের বলাই বাবুর মাঝেও এ বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়। তিনিও জীবসেবায় বিশ্বাসী। তাই তিনি মানুষসহ অন্য যেকোনো প্রাণীর মাঝে ঈশ্বরের অস্তিত্ব খুঁজে বেড়ান। বিবেকানন্দের মহান বাণী হলো 'শিবজ্ঞানে জীবসেবা।' ঈশ্বরসেবার আগে তাঁর সৃষ্ট জীবের সেবা করতে হবে। জীবসেবা করলেই ঈশ্বরসেবা হবে। জীবকে জীবজ্ঞানে সেবা করলে তা হবে দয়া, আর আত্মজ্ঞানে সেবা করলে হবে প্রেম। তাই তিনি বলেছেন- বহুরূপে সম্মুখে তোমার, ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ? জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।
তিনি মানুষের মাঝে ঈশ্বরকে খুঁজে ফিরতেন। জীবের প্রতি তার এই ভালোবাসার অনুভূতিকেই উদ্দীপকের বলাই বাবু। তার কাজে-কর্মে, প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। তাই বলা যায়, স্বামী বিবেকানন্দের কাজের আলোকে বলাই বাবুর কাজটি অবশ্যই যৌক্তিক।
কংসের শ্বশুর ছিলেন জরাসন্ধ।
দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের জন্য ভগবান পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন। পৃথিবীতে যখন ধর্মের গ্লানি দেখা দেয় এবং অধর্মের বৃদ্ধি ঘটে তখন ধর্ম সংস্থাপনের জন্য ভগবান অবতাররূপে আগমন করেন। এভাবে পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয় এবং ধর্মের মর্যাদা রক্ষা পায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!