সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্নোত্তর সমাধান

Updated: 7 months ago
উত্তরঃ

আমাদের সমাজে এমন কিছু মানুষ জন্মেছিলেন, যারা আজীবন অন্যের কথা ভেবে গেছেন, নিজের কথা ভাবেননি। তাঁদের কোনো লোভ-মোহ ছিল না। পরোপকার ও দেশের কল্যাণই ছিল তাঁদের একমাত্র উদ্দেশ্য। তাঁরাই হলেন মহাপুরুষ ও মহীয়সী নারী।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

মহাপুরুষ ও মহীয়সী নারীরা যে আদর্শ জীবন পালন করে গেছেন, সেই জীবনীই হলো আদর্শ জীবনচরিত। যারা আজীবন অন্যের উপকার করে গেছেন। যাঁদের কোনো লোভ-মোহ ছিল না। পরোপকার, জগতের কল্যাণই ছিল যাদের ব্রত। তাদের জীবনী থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারি।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

শ্রীকৃষ্ণ ছিলেন স্বয়ং ভগবান। কারণ, তাঁর মধ্যে ভগবানের ছয়টি গুণই পূর্ণরূপে বিদ্যমান ছিল। তিনি পৃথিবীতে জীবের ন্যায় দেহধারী হয়ে বিভিন্ন লীলা সম্পাদন করেন এবং দুষ্ঠের দমন করে ধর্মের সংস্থাপন করেন।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

কংস ছিলেন মথুরার রাজা। তিনি ছিলেন ভীষণ অত্যাচারী। তিনি নিজের পিতা উগ্রসেনকে বন্দি করে রাজ্য দখল করেন। কৃষ্ণ তাকে হত্যা করবে- এই দৈববাণী শোনার পর শিশুকাল থেকে কৃষ্ণকে বধ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু অবশেষে কৃষ্ণের হাতেই নিহত হন।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

কৃষ্ণ কংসকে হত্যা করবে- এই দৈববাণী শোনার পর থেকে কংস কৃষ্ণকে হত্যা করার জন্য উঠে পড়ে লাগেন কিন্তু পারেননি। পরে কৌশলে তাঁকে মারার পরিকল্পনা করলেন মল্লযুদ্ধে আমন্ত্রণ জানানোর মাধ্যমে। এজন্য কৃষ্ণ বলরামকে মথুরায় আনতে অক্রুরকে পাঠালেন।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

কৃষ্ণ ও বলরাম মথুরায় আসলে তাঁদের হাতে অনেক যোদ্ধা মারা পড়ল। তা দেখে কংস ক্ষিপ্ত হলেন এবং কৃষ্ণকে মারার জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে আসলে কৃষ্ণ লাফ দিয়ে রথে ওঠে। তারপর তার চুল ধরে মাটিতে ফেলে দিয়ে হত্যা করে।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

জরাসন্ধ ছিলেন মগধের রাজা ও কংসের শ্বশুর। তিনিও ভীষণ অত্যাচারী ছিলেন। কংসের মৃত্যুর খবর শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে মথুরা আক্রমণ করেন কিন্তু কৃষ্ণের হাতে তার পরাজয় ঘটে। কৃষ্ণ তাকে ক্ষমা করে দেন। পরবর্তীতে পাণ্ডুপুত্র ভীমের হাতে বধ হন।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

জরাসন্ধ একবার স্থির করেছিলেন যে, বুদ্রদেবের পূজার জন্য তিনি একশ নরবলি দেবেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি ৮৬ জন রাজাকে বন্দি করেছিলেন। আর ১৪ জন হলেই অভীষ্ট কাজ সম্পন্ন করবেন। একথা কৃষ্ণ জানতে পেরে ভীমের দ্বারা তাকে বধ করেন ও একশ রাজার প্রাণ রক্ষা করেন।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

শিশুপাল ছিলেন চেদিরাজ্যের রাজা। কৃষ্ণের আত্মীয়। পিসতুত ভাই। কিন্তু ভীষণ অত্যাচারী ছিলেন। তাই শিশুপালের মা কৃষ্ণকে অনুরোধ করে বলেছিলেন- বাবা, তুমি ওর একশোটি অপরাধ ক্ষমা করো। পিসির অনুরোধে কৃষ্ণ ক্ষমা করেছিলেন। মূলত গুরুজনের কথা রাখতেই কৃষ্ণ শিশুপালের একশত অপরাধ ক্ষমা করেছিলেনctivate

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

একবার যুধিষ্ঠিরের রাজসূয় যজ্ঞে কৃষ্ণ শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি নির্বাচিত হওয়ায় ঈর্ষান্বিত হয়ে শিশুপাল তাঁর নিন্দা শুরু করেন। পান্ডবদেরও গালমন্দ করেন। যুদ্ধের হুমকি দেন। তখন কৃষ্ণ তার সুদর্শন চক্র দিয়ে শিশুপালকে বধ করেন।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

শ্রীকৃষ্ণ সুদর্শন চক্র দ্বারা শিশুপালকে হত্যা করেছিলেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শিশুপালের মাকে কথা দিয়েছিলেন যে, তিনি শিশুপালের একটি অপরাধ ক্ষমা করবেন। যুধিষ্ঠিরের রাজসূয় যজ্ঞে শিশুপালের অপরাধের সংখ্যা পূর্ণ হওয়ায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাকে সুদর্শন চক্র দ্বারা হত্যা করেন।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

ধৃতরাষ্ট্র ও পাচ্চু দুই ভাই। ধৃতরাষ্ট্র জন্মান্ধ তাই ছোট ভাই পাণ্ডু হস্তিনাপুরের রাজা হন। পাণ্ডুর পাঁচ ছেলে, বড় যুধিষ্ঠির। তাদের একত্রে বলা হতো পাণ্ডব। আর ধৃতরাষ্ট্রের একশত পুত্র, বড় দুর্যোধন। কুরু বংশের নাম অনুসারে তাদের কৌরব বলা হতো।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

বনবাস থেকে ফিরে এসে পান্ডবরা তাদের রাজ্য দাবি করলে দুর্যোধন তখন বলেন- বিনা যুদ্ধে রাজ্য দেবেন না। কৃষ্ণ যুদ্ধ ঠেকানোর জন্য অনেক চেষ্টা করলেন। দুর্যোধন কারও কথাই শুনলেন না। অগত্যা কুরুক্ষেত্রে তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হলো ও. কুরুবংশের নাশ হলো।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

কৌরব ও পান্ডবদের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হলে, কৃষ্ণ পান্ডবদের পক্ষে ছিলেন। কৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান। আর ভগবান যার সহায় হোন, বিজয় সে পক্ষেরই হবে। যুদ্ধে কুরুবংশের নাশ হয়, যুধিষ্ঠির রাজা হয় ও পৃথিবীতে শান্তি ফিরে আসে।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে যখন দুই পক্ষ মুখোমুখি, মাঝখানে অর্জুনের রথ স্থাপিত হলে সে বিপক্ষে সব আত্মীয়স্বজনদের দেখে বিমর্ষ হয়ে পড়ে। আত্মীয়দের হত্যা করে সে রাজ্য ভোগ করতে চায় না। তাই সে যুদ্ধ করতে চাইছিল না।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছিলেন, তুমি ক্ষত্রিয়। আর ক্ষত্রিয়ের ধর্ম যুদ্ধ করা। তাছাড়া আত্মার মৃত্যু নেই, দেহান্তর ঘটে। তুমি যাদের দেখে মায়া করছো, তারা নিজেদের দোষে মৃত্যুকে বরণ করছে তুমি উপলক্ষ মাত্র। কাজেই যুদ্ধ করা তোমার কর্তব্য পরে অর্জুনের মোহভঙ্গ হয়।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

শ্রীকৃষ্ণ ছিলেন খুবই বন্ধুবৎসল। সুদামা নামে তাঁর এক সহপাঠী ছিলেন। সুদামা খুব গরিব, তবে ব্রহ্মবিদ। একসময় কৃষ্ণ দ্বারকার রাজা হন। তবুও বন্ধুকে ভুলে যায়নি। অনেক দিন পর বন্ধুকে দেখতে পেয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে। রাজা হয়েও বন্ধুর দেয়া চিড়ার খুদ গ্রহণ করে। এটিই বন্ধুত্বের ভালোবাসা।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

একদিন সুদামার স্ত্রী তাঁকে বললেন, 'তোমার বন্ধু কৃষ্ণ স্বারকার রাজা। তাঁর কাছে গেলে হয়তো কিছু অর্থ পাওয়া যেত। তাতে অভাব কিছুটা ঘুচতো।' কিন্তু সুদামা অর্থের লোভে নয়, বরং অনেক দিন পর বন্ধুর সাথে দেখা হবে ভেবে দ্বারকায় গিয়েছিলেন।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

সুদামা ছিলেন খুবই গরিব। তবে ব্রহ্মবিদ। তার কোনো লোভ-লালসা নেই। অনেক দিন পর তিনি যখন বন্ধু ও ভগবান কৃষ্ণের সাথে দেখা করেন। তিনি তখন একবারও অর্থের কথা বলেননি। তবে ভগবানের ঐশীবলে অনেক কিছু লাভ করলেও তিনি আগের মতোই সাধারণ জীবনযাপন ও ব্রহ্মোপসনাই করতেন।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের জন্য ভগবান পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন। পৃথিবীতে যখন ধর্মের গ্লানি দেখা দেয় এবং অধর্মের বৃদ্ধি ঘটে তখন ধর্ম সংস্থাপনের জন্য ভগবান অবতাররূপে আগমন করেন। এভাবে পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয় এবং ধর্মের মর্যাদা রক্ষা পায়।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের জন্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যুগে যুগে জন্মগ্রহণ করেন। পৃথিবীতে যখন ধর্মের গ্লানি দেখা দেয়, অধর্মের বৃদ্ধি ঘটে তখন ধর্ম সংস্থাপনের জন্য তিনি বারবার পৃথিবীতে অবতরণ করেন নানারূপে।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

ভগবান মনে করলেন তিনি যে উদ্দেশ্যে অবতাররূপে জন্ম নিয়েছিলেন তা সম্পন্ন হয়েছে। একদিন তিনি বনে প্রবেশ করে একটি অশ্বত্থ বৃক্ষের নিচে বসলেন। তখন দূর থেকে জরা নামে এক ব্যাধ তাঁকে হরিণ মনে করে শর নিক্ষেপ করেন। শরটি কৃষ্ণের পায়ে এসে লাগে। আর এ শরাঘাতেই কৃষ্ণ ইহলীলা সংবরণ করেন।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

শ্রীকৃষ্ণের জীবন থেকে আমরা এই শিক্ষা পাই যে, অন্যায় ও অসত্য একসময় পরাজিত হয়ই। সমাজে দুষ্টদের ঠাঁই নেই। ভগবান তাদের ক্ষমা করেন না। ভগবান ধনী-গরিব সকলকেই ভালোবাসেন। যার যা কর্তব্য তা পালন করা ধর্মের অঙ্গ।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

হরিচাঁদ ঠাকুর বাংলা ১২১৮ সালের ২৯শে ফাল্গুন কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে গোপালগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা যশোমন্ত বৈরাগী ও মাতা অন্নপূর্ণা দেবী। তিনি 'মতুয়া' সম্প্রদায় তৈরি করে সকলকে হরিনামে মাতোয়ারা হয়ে থাকার নির্দেশ দেন। ১২৮৪ সালে তিনি দেহত্যাগ করেন।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

হরিচাঁদ ঠাকুর মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যের হরিনাম প্রচার করেছেন। তিনি বলেছেন, 'ভক্তির সঙ্গে হরির নাম নিলেই ঈশ্বরকে পাওয়া যাবে।' এই নাম সংকীর্তনই হচ্ছে তাঁর সাধন-ভজনের পথ। তিনি এই হরিনামে ভজনে মাতোয়ারা হয়ে যেতেন। এজন্য তার এই সাধনপথের নাম হয় মতুয়া। আর তাঁর অনুসারীদের নিয়ে মতুয়া সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠা হয়।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

মতুয়াবাদের মূলকথা হলো মনুষ্যত্ব অর্জন, আত্মোন্নতি এবং সার্বিক কল্যাণ সাধন। সত্য, প্রেম ও পবিত্রতা- এই তিনটি স্তরের উপর মতুয়াবাদ প্রতিষ্ঠিত। আর সাধনার লক্ষ্য হচ্ছে সত্যদর্শন বা ঈশ্বর লাভ। এজন্য চাঁই প্রেম, আর প্রেমের পূর্বশর্ত পবিত্রতা। পবিত্র দেহ মনে প্রেমের উদয় হয়। তখন ভক্তের অন্তরে প্রেমময় হরি জাগ্রত হয়।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

হরিচাঁদ ঠাকুর হরিনামের মাধ্যমে সামাজিকভাবে অবহেলিত সম্প্রদায়কে একতাবদ্ধ করেন। মতুয়াবাদে নারী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র, ধর্ম-বর্ণ এসবের কোনো ভেদ নেই। তাঁর পুত্র শ্রী শ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুর বলতেন,'দল নাই যার, বল নাই তার। এর ফলে মতুয়াবদ এক বিরাট আন্দোলনেtings to পরিণত হয় এবং মতুয়া সম্প্রদায় বাংলার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

মতুয়া সম্প্রদায়' হরিচাঁদ ঠাকুরকে ভগবান বিষ্ণুর অবতার হিসেবে জ্ঞান করতেন ও গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতেন। তাই তাঁরা বলেন-
রাম হরি কৃষ্ণ হরি হরি গোরাচাঁদ। সর্ব হরি মিলে এই পূর্ণ হরিচাঁদ।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

হরিচাঁদ ঠাকুর তার অনুসারীদের বারটি উপদেশ দিয়েছেন, যেগুলো 'দ্বাদশ আজ্ঞা' নামে পরিচিত। এই আঙ্গগুলো সবার জন্য পালনীয়। এর মধ্যে তিনটি হলো-
১. সদা সত্য কথা বলবে,
২. নারীকে মাতৃজ্ঞান করবে,
৩. জাতিভেদ করবে না।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

হাতে কাম, মুখে নাম'- এটি হরিচাঁদ ঠাকুরের অন্যতম উপদেশ। তিনি বলেছেন, গৃহকর্ম গৃহধর্ম করিবে সকল, হাতে কাম মুখে নাম ভক্তিই প্রবল। হরিচাঁদ ঠাকুর নিজেও সংসারী ছিলেন, তাই তিনি সংসারে থেকেই ধর্মচর্চা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনিই সবাইকে বুঝিয়েছেন যে, ধর্মচর্চারের জন্য সংসার ত্যাগ করতে হয় না।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

হরিচাঁদ ঠাকুরের ২টি বাণী নিম্নরূপ-
১. জীবে দয়া নামে রুচি মানুষেতে নিষ্ঠা। ইহা ছাড়া আর যত সব ক্রিয়া ভ্রষ্ট।
২. গৃহকর্ম গৃহধর্ম করিবে সকল। হাতে কাম মুখে নাম ভক্তিই প্রবল।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

১৮৬৩ সালের ১২ই জানুয়ারি কোলকাতায় বিশ্বনাথ দত্ত ও ভুবনেশ্বরী দেবীর ঘরে জন্ম নেন বিবেকানন্দ। নির্ভীকতা, সত্যবাদিতা, উদার দৃষ্টিভঙ্গি, জীবে দয়া এসব ছিল তাঁর স্বভাগত বৈশিষ্ট্য। বিশ্বধর্ম সম্মেলনে বক্তৃতা দিয়ে তিনি জগদ্বিখ্যাত হন। ১৯০২ সালের ৪ জুলাই তিনি দেহত্যাগ করেন।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

১৮৬৩ সালের ১২ই জানুয়ারি কোলকাতায় বিশ্বনাথ দত্ত ও ভুবনেশ্বরী দেবীর ঘরে জন্ম নেন বিবেকানন্দ। নির্ভীকতা, সত্যবাদিতা, উদার দৃষ্টিভঙ্গি, জীবে দয়া এসব ছিল তাঁর স্বভাগত বৈশিষ্ট্য। বিশ্বধর্ম সম্মেলনে বক্তৃতা দিয়ে তিনি জগদ্বিখ্যাত হন। ১৯০২ সালের ৪ জুলাই তিনি দেহত্যাগ করেন।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

বিবেকানন্দ ছোটবেলা থেকেই ঈশ্বরচিন্তায় মগ্ন থাকতেন। তার মনে সবসময় প্রশ্ন জাগে ভগবান কী আছেন, তাকে কী দেখা যায়। অনেকের কাছে জিজ্ঞাসা করলেও উত্তর মনঃপূত হয়নি। পরে সাধক রামকৃষ্ণের সরল উত্তর তার ভালো লাগে এবং তার কাছে ত্যাগের মন্ত্রে দীক্ষা নেন।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

স্বামী বিবেকানন্দ ধ্যানের মাধ্যমে বুঝতে পেরেছিলেন, ভারতের জীবনশক্তির উৎস হলো ধর্ম। আর এই ধর্ম হচ্ছে দেবতাজ্ঞানে জীবসেবা। জীবসেবা করলেই ঈশ্বরের সেবা হয়। এই ধর্মমন্ত্রে ভারতবাসীকে জাগিয়ে তুলতে হবে।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

বিবেকানন্দের প্রকৃত নাম নরেন্দনাথ দত্ত। ঈশ্বর দর্শন সম্পর্কিত প্রশ্নে সাধক রামকৃষ্ণের উত্তর তার ভালো লাগে এবং রামকৃষ্ণের নিকট তিনি ত্যাগের মন্ত্রে দীক্ষা নেন। তখন হয়ে ওঠেন গৃহত্যাগী সন্ন্যাসী এবং তার নাম হয়ে ওঠে বিবেকানন্দ।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

বিবেকানন্দ বেদান্ত দর্শনের প্রকৃত সত্য তুলে ধরেন। বেদান্তের মূল কথা হলো- জীব ও ব্রহ্মে কোনো পার্থক্য নেই।' তাই ব্রহ্মজ্ঞানে জীবসেবা করতে হবে। আর হিন্দুধর্ম কেবল মূর্তিপূজা করে না, সকল দেবতার পূজার মধ্য দিয়ে এক ঈশ্বরের আরাধনা করে।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

মার্গারেট এলিজাবেথ নোবল স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ভারতবর্ষে এসেছিলেন। স্বামী বিবেকানন্দের বক্তৃতা শুনে মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল এতই অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন যে, নিজের জন্মভূমি আয়ারল্যান্ড ছেড়ে ভারতবর্ষে চলে আসেন এবং বিবেকানন্দের কাছে দীক্ষা নেন। এরপর তাঁর নাম হয় ভগিনী নিবেদিতা।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

স্বামীজী বলেছেন, 'সত্যই সকল ধর্মের ভিত্তি। সৎ হওয়া আর সৎ কর্ম করা ধর্মের অঙ্গ।' তিনি অথর্বেদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন-'অসত্য নয়, সত্যেরই জয় হয়; একমাত্র সত্যের মধ্য দিয়েই ঈশ্বর লাভের পথ প্রসারিত হয়।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

বিবেকানন্দের মহান বাণী হলো- ঈশ্বর জ্ঞানে জীবসেবা। জীবসেবা করলেই ঈশ্বরের সেবা করা হয়। তাইতো তিনি বলেছেন-বহুরূপে সম্মুখে তোমার, ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর? জীবে প্রেম করে যেইজন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

বিবেকানন্দ, নারীদের উন্নয়নের ব্যাপারে ও নারীর স্বাধীনতায় খুবই সোচ্চার ছিলেন। নারী শিক্ষাকে তিনি সর্বান্তঃকরণে সমর্থন করতেন। তিনি নারীকে শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখতেন। তাই বলতেন শক্তিকে বাদ দিয়ে বিশ্বের পুনর্জাগরণ সম্ভব নয়।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

স্বামীজী বুঝতে পেরেছিলেন যে, খালি পেটে ধর্ম হয় না। এজন্য তিনি দরিদ্রদের উন্নয়নের কথা চিন্তা করতেন, তাদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের কথা ভাবতেন। কেননা, শিক্ষাই কারোর অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারে। তাই তিনি বলেছেন, 'আগে অন্ন, তারপর ধর্ম'।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

স্বামী বিবেকানন্দ তার গুরুদেবের আদর্শ প্রচারের জন্য একটি মঠ ও মিশন প্রতিষ্ঠা করেন, এটি পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার বেলুড়ে অবস্থিত বলে এর নাম বেলুড় মঠ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন রয়েছে তার প্রধান কেন্দ্র এই বেলুড় মঠ।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

স্বামী বিবেকানন্দের দুটি বাণী হলো-
১. পরধর্ম বা পরমতের প্রতি দ্বেষভাবশূন্য হলেই চলবে না, আমাদের ঐ ধর্ম বা মতকে আলিঙ্গনও করতে হবে; সত্যই সকল ধর্মের ভিত্তি।
২. মানুষের মহত্ত্বের পরিচয় তার চরিত্রে, বৃত্তিতে নয়।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

ঠাকুর নিগমানন্দ ১২৮৭ সালে ঝুলন পূর্ণিমার রাতে মেহেরপুরে তার মাতুলায়ে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের পর তার চোখ দুটি ছিল পদ্ম বা নলিনীর মতো। এজন্য তার নাম রাখা হয় নলিনীকান্ত। নলিনীকান্ত ভট্টাচার্য।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

বয়স বাড়ার সাথে নলিনীকান্তের মধ্যে কিছু পরিবর্তন লক্ষিত হয়। তিনি জাতিভেদ মানতেন না। ব্রাহ্মণের মিথ্যা অহংকার ঘৃণা করতেন। তবে প্রকৃত ব্যক্তিকে সম্মান জানাতেন। যুক্তিযুক্ত মতকে সমর্থন করতেন। ভুল হলে স্বীকার করতেন। ধর্মের নামে ভন্ডামি ঘৃণা করতেন

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

দাদামশায় ও মায়ের মৃত্যুর পর মানবজীবনের 'নশ্বরতা নলিনীকে ভাবিয়ে তোলে। দেব-দ্বিজে, ধর্ম-কর্মে, ভগবানে বিশ্বাস ওঠে যায়। যাত্রা-থিয়েটার ও জনসেবা শুরু করে। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে রোগীর সেবা, মৃতদেহ সৎকার এসব করতেন। তাই তার পিতাকে নিন্দাবাক্য শুনতে হয়

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

সংসারের প্রতি মন ওঠে গেলে নলিনী মহাতীর্থ তার পীঠে যান। যেখানে ছিলেন সাধক বামাক্ষেপা। তিনি তাকে তারামন্ত্রে দীক্ষা দেন। ও সাধনা করতে বলেন। একমনে সাধনা করার ফলে অবশেষে মা স্ত্রীরূপে দেখা দিলেন নলিনীকে।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

বামাক্ষেপার কথামতো নলিনী জ্ঞানীগুরুর সন্ধান করতে করতে পুষ্করতীর্থে সচ্চিদানন্দ পরমহংসের দর্শন পান। তার আশ্রমে থেকে নলিনী বেদ-বেদান্ত, দর্শনশাস্ত্রাদি অধ্যয়ন করেন ও সন্ন্যাস মন্ত্রে দীক্ষা পান। তখন তার নাম হয়, 'স্বামী নিগমানন্দ সরস্বতী'।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

ঠাকুর নিগমানন্দের দর্শন ছিল- "শঙ্করের মত ও গৌরাঙ্গের পথ'। অর্থাৎ সেবা ও ডক্তির পথে অদ্বৈত ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করা। তার আদর্শ ও দর্শন প্রচারে বাংলার চারদিকে চারটি সারস্বত আশ্রম সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

ঠাকুর নিগমানন্দ বলেছেন, আদর্শ গৃহস্থ জীবন প্রতিষ্ঠাই সকলের লক্ষ্য হওয়া উচিত। শুধু সন্ন্যাসী হয়ে বনে গেলেই ভগবান লাভ হয় না। গৃহে থেকে আদর্শ গৃহী হয়ে ধর্ম সাধনা করলেও ভগবানকে লাভ করা যায়।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

ঠাকুর নিগমানন্দ আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন যে, মিথ্যা অহংকার কারো পক্ষেই ভালো নয়, জাতিভেদ সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। আদর্শ গৃহী হয়েও ভগবানকে লাভ করা যায়। এবং নারায়ণজ্ঞানে সকল জীবের সেবা করতে হবে।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

অনুকূলচন্দ্র পাবনার হিমাইতপুরে জন্মগ্রহণ করেন। সেখানে পাঠশালায় লেখাপড়া শুরু করেন। নবম শ্রেণি পর্যন্ত পাবনা ইনস্টিটিউট ও নৈহাটী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রবেশিকা পাশ করেন। তারপর কোলকাতা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ থেকে ডাক্তারি পাশ করেন।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

অনুকূলচন্দ্র ডাক্তার হয়ে ফিরে এসে চিকিৎসা শুরু করলে উপলব্ধি করেন যে, মানুষের দুঃখের স্থায়ী সমাধান করতে হলে কেরল শরীীরিক চিকিৎসা নয়, মানসিক ও আত্মিক উন্নয়ন দরকার। কারণ শরীর, মন ও আত্মা একসাথে সম্পর্কিত। এজন্য তিনি এ চিকিৎসাও শুরু করলেন।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

মানুষ যাতে সৎপথে থাকে, সৎ চিন্তা করে সেজন্য হিমাইতপুরে প্রতিষ্ঠা করেন 'সৎসঙ্গ' আশ্রম। এ আশ্রমের মাধ্যমে তিনি আত্মিক উন্নতির জন্য ব্রহ্মজ্ঞান লাভে সহায়তা করতেন তাঁর অনুসারীদের এবং এখানে তিনি ধর্মের সাথে কর্মের সংযোগ ঘটান।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

সৎসঙ্গের আদর্শ হচ্ছে ধর্ম কোনো অলৌকিক ব্যাপার নয়, ধর্ম হলো বিজ্ঞানসিদ্ধ জীবনসূত্র। এ সঙ্গের পাঁচটি মূলনীতি হচ্ছে-যজন, যাজন, ইষ্ঠভূতি, স্বস্ত্যয়নী ও সদাচার। আর এ সংঘের মূল স্তন্ড হিসেবে রয়েছে- শিক্ষা, কৃষি, শিল্প ও সুবিবাহ।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের শিক্ষা ছিল- মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই। যে যেই সম্প্রদায়েরই হোক, ঈশ্বর এক, ধর্মও এক। সংসারে থাকবে, মন রাখবে ভগবানে। শুধু লেখাপড়া করলেই বড় হওয়া যায় না, আচার-ব্যবহার পুরুত্বপূর্ণ।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

মা আনন্দময়ীর জন্ম ১৮৯৬ সালের ৩০শে এপ্রিল। তার পিতা বিপিনবিহারী ভট্টাচার্য এবং মাতা মোক্ষদা সুন্দরী। আনন্দময়ীর আসল নাম নির্মলা সুন্দরী। লেখাপড়ার চেয়ে হরিনাম কীর্তনেই আকুল ভক্তি ছিল তার। ১৯৮২ সালে তিনি পরলোক গমন করেন।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

মা আনন্দময়ী একবার ভূদেবচন্দ্র বাবুর বাড়িতে হরিনাম কীর্তন শুনছিলেন। শুনতে শুনতে একসময় তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। তখন তার দেহ থেকে দিব্য আলো প্রকাশিত হচ্ছিল। কিছুক্ষণ পর তিনি আবার সুস্থ হলেন। এভাবেই তার মধ্যে মহাভাবের শুরু হয়।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

সাধারণ মানুষের অজ্ঞাতে নির্মলা দেবীর শরীরে চলতে থাকে সাধন-ভজনের লীলা। দিব্য জ্যোতির আলোয় আভাসিত হয়ে ওঠে সমস্ত শরীর। একবার ঢাকার শাহবাগে মা কালীর মন্দিরে নির্মলার মধ্যে মাতৃমূর্তি প্রকটিত হয়। তখন থেকেই তিনি 'মা আনন্দময়ী' হয়ে উঠেন।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

স্বামীর সাথে দেরাদুনের চলে যাওয়ায় মা আনন্দময় লীলাক্ষেত্র ঢাকা থেকে উত্তর ভারতে স্থানান্তরিত হয়েছিল। ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে মা আনন্দময়ী স্বামীসহ ঢাকার শাহবাগ থেকে দেরাদুনে চলে যান। ফলে তার লীলাক্ষেত্র ঢাকা থেকে উত্তর ভারতে স্থানান্তরিত হয়।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

মা আনন্দময়ীর জীবনী থেকে আমাদের শিক্ষণীয় হলো- সর্বদা ভগবনের নাম নিতে হবে। তার নামে সবকিছু করতে হবে। কর্তব্যকর্মে অবহেলা করা যাবে না। আমাদের ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

শ্রীলপ্রভুপাদ ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে কোলকাতায় জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা গৌরমোহন দে এবং মাতা রজনী দেবী। প্রভুপাদের প্রকৃত নাম অভয়চরণ দে। 'ইসকন' প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সারবিশ্বে হিন্দুধর্ম তথা কৃষ্ণনাম প্রচার করে পূজিত হন। ১৯৭৭ সালে তিনি ইহলীলা সংবরণ করেন।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

শ্রীল প্রভুপাদ বিশ্বাস করতেন, সকল জাতির মধ্যে কৃষ্ণভাবনামৃত ছড়িয়ে দিতে পারলে কোনো জাতিভেদ থাকবে না, হিংসা-বিদ্বেষ থাকবে না। যুদ্ধবিগ্রহ, ধ্বংসাত্মক কাজ থেমে ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে। একই সাথে বিশ্বাভ্রাতৃত্ব গড়ে উঠবে। এ উদ্দেশ্যেই তিনি 'ইসকন' প্রতিষ্ঠা করেন।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

গৌরমোহন দে পুত্রের কোষ্ঠী বিচার করলে জ্যোতিষী বলেন-এই শিশু ৭০ বছর বয়সে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে বিদেশ যাবে। একজন ধর্মপ্রচারক হিসেবে খ্যাতি লাভ করবে ও ১০৮টি মন্দির প্রতিষ্ঠা করবে। তার ভবিষ্যদ্বাণীর প্রায় সবটাই সত্যে পরিণত হয়েছে।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

অভয়চরণ এক সময় কৃষ্ণনাম বা কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচারের জন্য চাকরি, সংসার সব ছেড়ে দেন। বিভিন্ন গ্রন্থের ইংরেজি ভাষা রচনা করেন, যাতে পাশ্চাত্যরাও পাঠ করতে পারে। পরে বৃন্দাবনে গিয়ে সন্ন্যাসধর্মে দীক্ষা নেন। তখন তার নাম হয় 'শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

ইসকনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- কৃষ্ণ নামের মাধ্যমের মানুষের মধ্যে আধ্যাত্মিক চেতনা জাগ্রত করা। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসা সৃষ্টি ও ভেদাভেদ দূর করা। জ্ঞানের আলো দ্বারা অজ্ঞানতা ও কুসংস্কার দূরা করা। বিভিন্ন সমাজস্বোমূলক কাজ করাসহ প্রভৃতি উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠা হয় 'ইসকন'।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

পৃথিবীতে শ্রীকৃষ্ণ অবতীর্ণ হওয়ার কারণ হলো দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন। শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং গীতায় বলেছেন:

ধর্মের গ্লানি, অধর্মে হয় যবে বাড়।

হেনকালে জন্ম মোর জান তত্ত্বসার।

দুষ্টের বিনাশ আর সাধুর রক্ষণে।
যুগে যুগে জন্মি আমি ধর্মসংস্থাপনে।

অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছে স্বয়ং ভগবান। পৃথিবীতে যখন ধর্মের গ্লানি দেখা দেয়, অধর্মের বুদ্ধি ঘটে, তখন ধর্মসংস্থাপনের জন্য এবং দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের জন্য তিনি যুগে যুগে জন্মগ্রহণ করেন। এ কারণেই পৃথিবীতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অবতীর্ণ হন।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

হরিচাঁদ ঠাকুর হরিনামে মাতোয়ারা হয়ে যেতেন বলে তাঁর। অনুসারীদের 'মতুয়া' বলা হয়। হরিচাঁদ ঠাকুর নতুন কোনো ধর্মমত, প্রচার করেননি। তিনি মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য দেবের হরিনাম প্রচার করে বলেছেন, 'ভক্তির সঙ্গে হরির নাম নিলেই ঈশ্বরকে পাওয়া যাবে।' তিনি এই হরিনামে মাতোয়ারা হয়ে যেতেন। এ কারণে তাঁর সাধনপথের নাম হয় মতুয়া এবং তাঁর অনুসারীদের বলা হয় 'মতুয়া সম্প্রদায়।'

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

পরিবারের আপনজনদের জীবন থেকে হারানোই ঠাকুর নিগমানন্দের পরলোক সম্পর্কে চর্চা করার মূল কারণ। প্রথমে দাদ পরে মা, এরপর সদ্য ভূমিষ্ঠ কন্যা সন্তান এবং সবশেষে স্ত্রীকে হারিয়ে ঠাকুর নিগমানন্দ মানুষের নশ্বরতা নিয়ে চিন্তায় পড়ে যান। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি প্রায়শই তাঁর স্ত্রী সুধাংশুবালার ছায়ামূর্তি দেখতে পান। মূলত এর রহস্য উন্মোচন করতে গিয়েই তিনি পরলোক সম্পর্কে চর্চা করা শুরু করেন।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র মানুষের দুঃখের স্থায়ী সমাধান করার উদ্দেশ্যেই মানসিক চিকিৎসা শুরু করেছিলেন। তিনি তাঁর গ্রামে চিকিৎসাকর্ম শুরু করেন এবং এতে অভূতপূর্ব সাফল্যও পান। কিন্তু তিনি উপলব্ধি করেন যে, মানুষের, দুঃখের স্থায়ী সমাধান করতে হলে কেবল শারীরিক চিকিৎসা নয়, মানসিক ও আত্মিক চিকিৎসাও প্রয়োজন। এ অনুভূতির কারণেই ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র মানসিক চিকিৎসা শুরু করেছিলেন।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
উত্তরঃ

স্বামী বিবেকানন্দ নারী শিক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
তিনি নারীকে শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখতেন। তাই তিনি বলতেন-শক্তিকে বাদ দিয়ে বিশ্বের পুনর্জাগরণ সম্ভব নয়। তাঁর মতে প্রত্যেক পুরুষের কাছে স্ত্রী ছাড়া অন্য সব নারীরই মায়ের মতো হওয়া উচিত। তিনি বিধবাদের পুনর্বিবাহের পাশাপাশি শিক্ষা গ্রহণ করে স্বাবলম্বী হয়ে আত্মসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন। আমেরিকায় হিন্দু-বিধবাদের অবস্থা সম্পর্কে বক্তৃতা দিয়ে যে অর্থ উপার্জন করেছিলেন, তার একাংশ তিনি বরানগরে হিন্দুবিধবাশ্রমে প্রদান করেন। এ আশ্রম বিধবাদের জীবনধারণের উপযোগী শিক্ষা দেওয়া হতো। তিনি নারীদের সন্ন্যাস গ্রহণেরও পক্ষপাতী ছিলেন।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
24

সপ্তম অধ্যায়

আদর্শ জীবনচরিত

আমাদের সমাজে এমন কিছু মানুষ জন্মেছিলেন, যাঁরা আজীবন অন্যের উপকার করে গেছেন। নিজের কথা ভাবেন নি। তাঁদের কোনো লোভ-মোহ ছিলনা। পরোপকারই ছিল তাদের একমাত্র ভাবনা। জগতের কল্যাণ করাই ছিল তাদের জীবনের উদ্দেশ্য। তাঁরাই হলেন মহাপুরুষ ও মহীয়সী নারী। তাঁদের জীবনীই হচ্ছে আদর্শ জীবনচরিত। তাঁদের জীবনী থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারি। আমাদের জীবন সুন্দরভাবে গড়তে পারি। আমরা ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে এমন বেশ কয়েকজন মহাপুরুষ ও মহীয়সী নারী সম্পর্কে জেনেছি। এ অধ্যায়ে আমরা শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীহরিচাদ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, ঠাকুর নিগমানন্দ, ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র, মা আনন্দময়ী এবং শ্রীলভক্তিবেদান্তস্বামী প্রভুপাদের জীবনী সম্পর্কে জানব এবং নৈতিকতা গঠনে তাঁদের শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করব।

এ অধ্যায়শেষে আমরা-

নৈতিকতা গঠনে শ্রীকৃষ্ণের কৈশোর-পরবর্তীকালের জীবন ও শিক্ষার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব

• নৈতিকতা গঠনে শ্রীহরিচাদ ঠাকুরের জীবন ও শিক্ষার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব

• নৈতিকতা গঠনে স্বামী বিবেকানন্দের জীবনচরিতের আলোকে তাঁর শিক্ষার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব

• নৈতিকতা গঠনে ঠাকুর নিগমানন্দের জীবন ও শিক্ষার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব

• নৈতিকতা গঠনে ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের জীবন ও শিক্ষার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব

• নৈতিকতা গঠনে মা আনন্দময়ীর জীবন ও শিক্ষার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পাৱৰ

নৈতিকতা গঠনে শ্রীলভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের জীবন ও শিক্ষার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব।

 

আদর্শ জীবনচরিত

90

পাঠ ১, ২ ও ৩ : শ্রীকৃষ্ণ

আমরা ষষ্ঠ শ্রেণিতে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম ও শৈশবকালের কথা জেনেছি। সপ্তম শ্রেণিতে জেনেছি তাঁর বাল্য ও কৈশোরের কথা। এখন আমরা জানব তাঁর কৈশোর-পরবর্তী থেকে শুরু করে শেষ জীবন পর্যন্ত কর্মকাণ্ডের কথা। আমরা আগেই জেনেছি যে, শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন স্বয়ং ভগবান । পৃথিবীতে যখন ধর্মের গ্লানি দেখা দেয়, অধর্মের বৃদ্ধি ঘটে, তখন ধর্ম সংস্থাপনের জন্য এবং দুষ্টের দমন ও নিষ্টের পালনের জন্য তিনি জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে এবং বাল্য ও কৈশোরে কীভাবে তিনি দুষ্টদের দমন করেছেন এবং শিউদের পালন করেছেন তা আমরা জেনেছি। এখন আমরা তাঁর কৈশোর থেকে পরবর্তী জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি এবং তার শিক্ষা সম্পর্কে অবগত হব।

কংস ছিলেন মধুরার রাজা। তিনি ছিলেন ভীষণ অত্যাচারী। নিজের পিতা উগ্রসেনকে বন্দি করে তিনি রাজ্য দখল করেন । কৃষ্ণ তাকে হত্যা করবে এই দৈববাণী শুনে শিশুকাল থেকেই তিনি কৃষ্ণকে মারার বহু চেষ্টা করেছেন। কিন্তু পারেন নি। তাই বলে তিনি বসে নেই। এবার কৌশলে তাঁকে মারার পরিকল্পনা করলেন। মল্লযুদ্ধে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য তিনি অনুররে পাঠালেন কৃষ্ণের কাছে। কৃষ্ণ-বলরাম তখন বৃন্দাবনে। অসুর গিয়ে কংসের দুরভিসন্ধির কথা বলে দিলেন। কৃষ্ণ ও বলরাম মথুরায় এলেন। তাঁদের হাতে অনেক যোদ্ধা মারা গেল। তা দেখে কংস ক্ষিপ্ত হয়ে গেলেন। তিনি কৃষ্ণকে মারার জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে আসামাত্রই কৃষ্ণ লাফ দিয়ে তাঁর রখে উঠলেন। চুল ধরে মাটিতে ফেলে কংসকে হত্যা করেন। তারপর উগ্রসেন, দেবকী বসুদেবসহ সকল নন্দীকে যুক্ত করেন। উগ্রসেনকে মথুরার রাজা করেন। মা-বাবার সঙ্গে কৃষ্ণ, বলরামও মথুরায় থেকে যান। মথুরায় শান্তি ফিরে আসে। জরাসন্ধ বধ

জরাসন্ধ ছিলেন মগধের রাজা এবং ফংশের শ্বশুর। তিনিও ভীষণ অত্যাচারী ছিলেন। কালের মৃত্যুর খবর শুনে তিনি ভীষণ রেগে খান। বিরাট সৈন্যবাহিনী নিয়ে তিনি মথুরা আক্রমণ করেন। কিন্তু কৃষ্ণের হাতে তাঁর পরাজয় ঘটে। কৃষ্ণ তাঁকে ক্ষমা করে দেন। এতে জরাসন্ধ লজ্জিত হন বটে, কিন্তু তাঁর প্রতিশোষস্পৃহা বেড়ে যায়। তাই কৃষ্ণকে মারার জন্য তিনি পরপর সাতবার মন্থরা আক্রমণ। কৃষ্ণ তারপরও তাঁকে মারেন নি। কিন্তু জরাসন্ধ এক বিরাট অন্যায় কাজ করতে যাচ্ছিলেন। প্রদেবের পূজার জন্য তিনি একশ নরবলি দেবেন বলে স্থির করেছিলেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি ৮৬ জন রাজাকে বন্দি করে রেখেছিলেন। আর ১৪ জন হলেই তিনি তাঁর অভীষ্ট কাজ সম্পন্ন করবেন। এ খবর কৃষ্ণ জানতে পেরে দ্বিতীয় পাণ্ডব ভীমের সাহায্যে তাঁকে বধ করেন। ফলে একশ জন রাজার প্রাণ বেঁচে যায় ফর্মা ১০, হিন্দুধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা- অষ্টম শ্রেণি

আদর্শ জীবনচরিত

দুর্যোধনের কাছে যান। অনেক আলোচনা করেন। কিন্তু দুর্যোধন কোনো কথাই শুনলেন না। অগত্যা কুরুক্ষেত্র নামক স্থানে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ হয়। কৃষ্ণ পাণ্ডবদের পক্ষে ছিলেন যুদ্ধে লক্ষ-লক্ষ লোক নিহত হয় । কৌরবদের সবাই নিহত হন। যুদ্ধশেষে যুধিষ্ঠির রাজা হন এবং রাজ্যে শান্তি ফিরে আসে। অর্জুনের প্রতি শ্রীকৃষ্ণের উপদেশ

কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে দুই পক্ষ মুখোমুখি। কৃষ্ণ অর্জুনের রথের সারথি। তখনো যুদ্ধ শুরু হয়নি। অর্জুন বিপক্ষে আত্মীয়-স্বজনদের দেখে কৃষ্ণকে বললেন যুদ্ধ করবেন না। আত্মীয়দের হত্যা করে তিনি রাজ্য চান না। তখন শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে বললেন, 'তুমি ক্ষত্রিয়। ক্ষত্রিয়ের ধর্ম যুদ্ধ করা। তা না হলে তার অধর্ম হয়। অপযশ হয়। তাছাড়া আত্মার মৃত্যু নেই। দেহান্তর ঘটে মাত্র। তুমি যাদের দেখে মায়া করছ, তারা নিজেদের দোষে মৃত্যুকে বরণ করে আছে। তুমি উপলক্ষ মাত্র। কাজেই যুদ্ধ করে তুমি তোমার কর্তব্য পালন কর। যার যা কর্তব্য তা পালন করাই ধর্ম।

কৃষ্ণ একথা বলার পর অর্জুনের মোহভঙ্গ হয় এবং তিনি যুদ্ধ করেন। যুদ্ধে অন্যায়ের পরাজয় ঘটে, ন্যায়ের জয় হয় । এভাবে শ্রীকৃষ্ণ বারবার দুষ্টকে দমন করে শিষ্টের পালন করেছেন এবং সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছেন।

দলীয় কাজ: দুষ্টের দমনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অবদান লিখে একটি তালিকা তৈরি কর

শ্রীকৃষ্ণের বন্ধুবাৎসল্য

শ্রীকৃষ্ণ ছিলেন খুবই বন্ধুবৎসল। সুদামা নামে তাঁর এক সহপাঠী ছিলেন। একই গুরুর নিকট তাঁরা পড়াশোনা করেছেন। সুদামা খুবই গরিব। তবে ব্রহ্মবিদ। তাঁর কোনো লোভ-লালসা নেই। অন্যদিকে শ্রীকৃষ্ণ এখন দ্বারকার রাজা। তদুপরি স্বয়ং ভগবান হিসেবে তাঁর খ্যাতি সর্বত্র

একদিন সুদামার স্ত্রী তাঁকে বললেন, 'তোমার বন্ধু কৃষ্ণ দ্বারকার রাজা। তাঁর কাছে গেলে হয়তো কিছু অর্থ পাওয়া যেত। তাতে আমাদের অভাব অনেকটা ঘুচত।' সুদামা অর্থের লোভে নয়, অনেক দিন পরে বন্ধুর সঙ্গে দেখা হবে এই ভেবে যেতে রাজি হলেন। তিনি একদিন সত্যি-সত্যিই দ্বারকায় রওনা হলেন । যাওয়ার সময় তাঁর স্ত্রী কৃষ্ণকে উপহার দেয়ার জন্য কিছু চিড়ার খুদ সুদামার উত্তরীয় বস্ত্রে বেঁধে দিলেন।

সুদামা দ্বারকায় পৌঁছলেন। তাঁকে দেখামাত্র কৃষ্ণ দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরলেন। কৃষ্ণের স্ত্রী রুক্মিণী তাঁকে বিশেষভাবে আদর-আপ্যায়ন করলেন। কিছুক্ষণ পর শ্রীকৃষ্ণ বললেন, 'বন্ধু, আমার জন্য কী এনেছ?' সুদামা তখন সেই চিড়ার খুদ বের করে দিলেন। কৃষ্ণ পরম তৃপ্তিভরে তা খেলেন। তারপর তাঁরা অনেকক্ষণ গল্প করলেন। কিন্তু সুদামা একবারও অর্থের কথা বললেন না। কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বন্ধুর বেশভূষা দেখে সবই বুঝতে পারলেন। তাই তিনি ঐশীবলে সুদামার বাড়ির অবস্থা পরিবর্তন করে দিলেন। সুদামা ফিরে গিয়ে দেখেন তাঁর কুড়ে ঘরের জায়গায় বিশাল অট্টালিকা ঘরে ধন-সম্পদের অভাব নেই। কিন্তু তিনি আগের মতই সাধারণ জীবন যাপন করতেন এবং ব্রহ্মের উপাসনা করতেন।

একক কাজ: তোমার জানা বন্ধুপ্রীতির কোনো ঘটনা সম্পর্কে লেখ।

96

হিন্দুধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা

শ্রীকৃষ্ণের অন্তর্ধান

ভগবান যে উদ্দেশ্যে কৃষ্ণ অবতাররূপে জন্ম নিয়েছিলেন, তা সম্পন্ন হয়েছে। দুষ্টদের দমন করা হয়েছে। সমাজে ধর্ম ও শান্তি পুনঃস্থাপিত হয়েছে। তাই এবার তাঁর বৈকুণ্ঠে যাবার পালা। বলরাম ইতোমধ্যে ধ্যানযোগে দেহত্যাগ করেছেন। কৃষ্ণ তাই বনে প্রবেশ করে একটি অশ্বখ বৃক্ষের নিচে বসে আছেন। দূর থেকে জরা নামে এক ব্যাধ তাঁকে হরিণ মনে করে শর নিক্ষেপ করে। শরটি কৃষ্ণের পায়ে লাগে। এই শরাষাতেই কৃষ্ণ ইহলীলা সংবরণ করেন ।

শ্রীকৃষ্ণের জীবনী থেকে আমরা এই নৈতিক শিক্ষা পাই যে, অন্যায় ও অসত্য এক সময় পরাজিত হয়ই। সমাজে দুষ্টদের ঠাঁই নেই । ভগবানও তাদের ক্ষমা করেন না। ভগবান ধনী-গরিব সকলকেই ভালোবাসেন । যার যা কর্তব্য তা পালন করা ধর্মের অঙ্গ। অতএব, আমরা এই শিক্ষাগুলো আমাদের জীবনে কাজে লাগাব। নতুন শব্দ: গ্লানি, অনুর, স্পৃহা, অভীষ্ট, রাজসূয়, ইন্দ্রপ্রস্থ, ঐশীবল, অন্তর্ধান

পাঠ ৪ ও ৫ শ্রীহরিচাদ ঠাকুর

গোপালগঞ্জ জেলার কাশীয়ানি উপজেলার অন্তর্গত সাফলিডাঙ্গা একটি গ্রাম। এই গ্রামেই অ করেন হরিচাদ ঠাকুর। তাঁর জন্ম বাংলা ১২১৮ সনের ২৯ শে (১১ মার্চ ১৮১২ খ্রি:) ফাল্গুন। সেদিন ছিল কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিনি।

হরিচাদ ঠাকুরের পিতার নাম যশোমন্ত বৈরাগী এবং মাতা অন্নপূর্ণা দেবী। যশোমন্ত ছিলেন নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ভুক্ত নিষ্ঠাবান বৈষ্ণব। হরিচাঁদ ছিলেন যশোমন্তের দ্বিতীয় পুত্র। তাঁর অপর চার পুত্রের নাম যথাক্রমে কৃষ্ণদাস, বৈষ্ণব দাস, গৌরী দাস ও স্বরূপ দাস। এঁরা সকলেই ছিলেন বৈষ্ণব। হরিচাদ ছিলেন খুবই মেধাবী। কিন্তু বিদ্যালয়ের ধরাবাধা পাঠ তাঁর ভালো লাগেনি তাই মাত্র কয়েক মাস গিয়ে তিনি বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। মিশে যান রাখাল বন্ধুদের সঙ্গে। তাদের সঙ্গে গোচারণ করেন। খেলাধুলা করেন। কখনো বা গান করেন। তাঁর গানের গলা ছিল খুবই মধুর। তাই তাঁর গান, ভজন, কীৰ্ত্তন শুনে সবাই মুগ্ধ হয়ে যেত। তাঁর চেহারাও ছিল খুবই সুন্দর। ব্যবহার ছিল অমায়িক। এসব কারণে সবাই তাঁকে পছন্দ করত। রাখাল বন্ধুরা তাঁকে বলত 'রাখাল রাজা"

আদর্শ জীবনচরিত

११

হরিচাদ ঠাকুর ছোটবেলা থেকেই ছিলেন ভাবুক প্রকৃতির। বয়স বাড়ার সঙ্গে-সঙ্গে এ বিষয়টি তাঁর মধ্যে আরো প্রকট হয়। তিনি ক্রমশ ধর্মের দিকে চলে যান। তবে তিনি নতুন কোনো ধর্মমত প্রচার করেন নি । তিনি মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যের হরিনাম প্রচার করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ভক্তির সঙ্গে হরির নাম নিলেই ঈশ্বরকে পাওয়া যাবে। এই নাম সংকীর্তনই হচ্ছে তাঁর সাধন-ভজনের পথ। তিনি এই হরিনামে মাতোয়ারা হয়ে যেতেন। এজন্য তাঁর এই সাধনপথের নাম হয় ‘মতুয়া'। আর তাঁর অনুসারীদের বলা হয় 'মতুয়া সম্প্রদায়।

মতুয়াবাদের মূল কথা হলো মনুষ্যত্ব অর্জন, আত্মোন্নতি এবং সার্বিক কল্যাণ সাধন। সভ্য, প্রেম ও পবিত্রতা – এই তিনটি স্তম্ভের ওপর মতুয়াবাদ প্রতিষ্ঠিত। সাধনার লক্ষ্য সত্যদর্শন বা ঈশ্বরলাভ। এজন্য চাই প্রেম। প্রেমের পূর্বশর্ত হচ্ছে পবিত্রতা। পবিত্র দেহ-মনে প্রেমের উদয় হয়। তখন ভক্তের অন্তরে প্রেমময় হরি জাগ্রত হন।

হরিচাদ ঠাকুর হরিনামের মাধ্যমে সামাজিকভাবে অবহেলিত সম্প্রদায়কে একতাবদ্ধ করেন। তাঁর পুত্র শ্রী শ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুর বলতেন, 'দল নাই যার, বল নাই তার। এর ফলে মতুয়াবাদ এক বিরাট আন্দোলনে পরিণত হয় এবং মতুয়া সম্প্রদায় ছড়িয়ে পড়ে বাংলার সর্বত্র।

ঠাকুর বলতেন, 'ধর্মচর্চার জন্য সংসার ত্যাগ করতে হয় না। সংসারে থেকে সংসারের কাজ করেও ধর্মচর্চা করা যায়।' তাঁর নির্দেশই ছিল, 'হাতে কাম, মুখে নাম। তিনি নিজেও সংসারী ছিলেন। তাঁর দুই পুত্র ও তিন কন্যা ছিলেন। পুত্ররা হলেন গুরুচরণ ও উমাচরণ। ঠাকুরের অন্তর্ধানের পর গুরুচরণই গুরুচাঁদ নামে মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রধানরূপে পূজিত হন। মতুয়া সম্প্রদায় হরিচাদ ঠাকুরকে বিষ্ণুর অবতার হিসেবে জ্ঞান করেন। তাই তাঁরা বলেন:

রাম হরি কৃষ্ণ হরি হরি গোরাচাঁদ। সর্ব হরি মিলে এই পূর্ণ হরিচাদ ॥

ঠাকুরের মতুয়াবাদে নারী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র, ধর্ম-বর্ণ এসবে কোনো ভেদ নেই যে-কেউ হরিনাম সংকীর্তনে অংশগ্রহণ করতে পারেন।

মতুয়া সম্প্রদায়ের মূল কেন্দ্র গোপালগঞ্জের ওড়াকান্দিতে। সাফলিডাঙ্গা গ্রামের পাশে। সেখানে প্রধান হরিমন্দির অবস্থিত। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে হরিমন্দির আছে। ২০১০ সনে ঢাকার রমনা কালীমন্দির প্রাঙ্গণে একটি হরিমন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিবছর চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে ওড়াকান্দিতে মহাবারুণি স্নান অনুষ্ঠিত হয়। তিনদিন পর্যন্ত মেলা বসে। হাজার হাজার লোকের সমাগম ঘটে ঐ স্নান ও মেলায়। তাঁরা হরিচাদ ও গুরুচাঁদ ঠাকুরকে গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন ।

 

হিন্দুধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা

বাংলা ১২৮৪ সনের (১৮৭৮ খ্রিষ্টাব্দ) ২৩ ফাল্গুন ৬৬ বছর বয়সে হরিচাঁদ ঠাকুর ইহলীলা সংবরণ করেন। ঠাকুরের জীবন ও আদর্শ নিয়ে কবিয়াল তারকচন্দ্র সরকার রচনা করেছেন 'শ্রীশ্রীহরিলীলামৃত' গ্রন্থ। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠিত হরিমন্দিরে মতুয়াসহ ভক্তরা নিয়মিত নামকীর্তন করেন এবং হরিচাঁদ ঠাকুরের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

ঠাকুরের কয়েকটি বাণী

১. হরি ধ্যান হরি জ্ঞান হরি নাম সার।

প্রেমেতে মাতোয়ারা মতুয়া নাম যার।

২. জীবে দয়া নামে রুচি মানুষেতে নিষ্ঠা

ইহা ছাড়া আর যত সব ক্রিয়া স্রষ্টা।

৩. গৃহেতে থাকিয়া যার হয় ভাবোদয়

সেই যে পরম সাধু জানিও নিশ্চয়।

B. গৃহকর্ম গৃহধর্ম করিবে সকল ।

হাতে কাম মুখে নাম ভক্তিই প্রবল।

৫. গার্হস্থ্য তোমার ধর্ম অতি সনাতন । দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনঃ

হরিচাঁদ ঠাকুর তাঁর অনুসারীদের বারটি উপদেশ দিয়েছেন, যেগুলো দ্বাদশ আজ্ঞা' নামে পরিচিত। এই আজ্ঞাগুলো সবার জন্যই পালনীয়। আজ্ঞাগুলো হলো: (১) সদা সত্য কথা বলবে। (২) পিতা-মাতাকে দেবতাজ্ঞানে ভক্তি করবে। (৩) নারীকে মাতৃজ্ঞান করবে। (৪) জগৎকে প্রেম করবে। (৫) সকল ধর্মে উদার থাকবে। (৬) জাতিভেদ করবে না। (৭) হরিমন্দির প্রতিষ্ঠা করবে। (৮) প্রত্যহ প্রার্থনা করবে । (৯) ঈশ্বরে আত্মদান করবে। (১০) বহিরঙ্গে সাধু সাজবে না। (১১) ষড়রিপু বশে রাখবে। (১২) হাতে কাম, মুখে নাম করবে।

দলীয় কাজ: হরিচাদ ঠাকুরের উপদেশগুলো লিখে একটি পোস্টার তৈরি কর ।

নতুন শব্দ: আত্মোন্নতি, মতুয়া, মহাবারুণি, বহিরঙ্গে, ষড়রিপু।

 

আদর্শ জীবনচরিত

পাঠ ৬, ৭ ও ৮ : স্বামী বিবেকানন্দ

'মন চল নিজ নিকেতনে

সংসার বিদেশে বিদেশির বেশে

ভ্রম কেন অকারণে

সুললিত কণ্ঠে অসীম দরদ দিয়ে গানটি গাইলেন এক যুবক। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব তন্ময় হয়ে গানটি শুনলেন কোলকাতার সিমুলিয়ায় সুরেন্দ্রনাথ মিত্রের বাড়িতে বসে। তিনি জানতে চাইলেন কে এই যুবক? সুরেন্দ্রনাথ বললেন বিশ্বনাথ দত্তের ছেলে নরেন্দ্রনাথ। এই নরেন্দ্রনাথই পরবর্তীকালে স্বামী বিবেকানন্দ নামে জগদ্বিখ্যাত হন। ১৮৬৩ খ্রিষ্টাব্দের ১২ই জানুয়ারি কোলকাতায় তাঁর জন্ম। পিতা বিশ্বনাথ দত্ত ছিলেন কোলকাতা হাইকোর্টের একজন নামকরা উকিল। মাতা ভুবনেশ্বরী দেবী ছিলেন একজন ধর্মপরায়ণা সুগৃহিণী।

প্রথম দেখায়ই ঠাকুর রামকৃষ্ণের ভালো লাগে নরেন্দ্রনাথকে। তিনি আকুল কণ্ঠে নরেন্দ্রনাথকে বলেন, 'একদিন এসো দক্ষিণেশ্বরে ।

নরেন্দ্রনাথ ছোটবেলা থেকেই ছিলেন একটু অন্য রকম। নির্ভীকতা, সত্যবাদিতা, উদার দৃষ্টিভঙ্গি, জীবে দয়া এসব ছিল তাঁর স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। হিন্দুদের জাত-পাত ভেদ তাঁর ভালো লাগত না। তাঁর পিতার মক্কেলদের মধ্যে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র, মুসলমান, খ্রিষ্টান সবই ছিল। বাড়ির বৈঠকখানায় তাঁদের সবার জন্য আলাদা আলাদা হুঁকা ছিল তামুক সেবনের জন্য। প্রত্যেক হুঁকার গায়ে নাম লেখা ছিল। নরেন্দ্রনাথ একদিন সব হুঁকায় মুখ লাগাচ্ছিলেন। এমন সময় পিতা বিশ্বনাথ এসে পড়েন। তিনি ছেলেকে বলেন, 'এ কী হচ্ছে, নরেন?' নরেন্দ্রনাথ বললেন, 'আমি সব হুঁকা টেনে দেখলাম, কৈ আমার তো জাত গেল না!' ছেলের এই অদ্ভুত কথা শুনে পিতা হেসে ফেললেন । প্রভাত যেমন সমস্ত দিনের ইঙ্গিত দেয়, এই ঘটনাও তেমনি সেদিন ভবিষ্যতের সর্বজীবে সমদর্শী বিবেকানন্দের ইঙ্গিত দিয়েছিল।

নরেন্দ্রনাথ ছেলেবেলা থেকেই খুব মেধাবী ছিলেন। এন্ট্রান্স পরীক্ষায় তিনি প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন । ১৮৮৪ সনে তিনি বিএ পাস করেন। এর পরপরই তাঁর পিতার মৃত্যু হয়। ফলে তাঁদের পরিবার দারুণ অর্থসঙ্কটে পড়ে। মা এবং ছোট ভাই-বোনদের ভরণ-পোষণের জন্য তিনি বিভিন্ন জায়গায় চাকরির সন্ধান করেন। কিন্তু সুবিধা হয় না। অবশেষে কোলকাতার এ্যাটর্নি অফিসে একটা কাজ নেন এবং বই অনুবাদ করে কিছু-কিছু রোজগার করতে থাকেন ।

এ-সময়ে নরেন্দ্রনাথের মনে এক পরিবর্তন দেখা দেয়। তিনি কেবল ঈশ্বর সম্পর্কে চিন্তা করেন। ঈশ্বর কি আছেন? তাঁকে কি দেখা যায়? এ ধরনের প্রশ্ন প্রায়ই তাঁর মনে জাগে। তিনি অনেককে এ প্রশ্ন জিজ্ঞেসও করেছেন। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথকেও প্রশ্নটি করেছিলেন। কিন্তু কারো উত্তরে তিনি হিন্দুধর্ম ও নৈতিক শিক্ষ

সন্তুষ্ট হতে পরেননি এমন সময় একদিন তিনি লক্ষণেশ্বর কালীবাড়িতে যান। সুযোগমতো তিনি রামকৃষ্ণকে জিজ্ঞেস করেন, 'আপনি কি ঈশ্বর দেখেছেন?' রামকৃষ্ণ হাসতে হাসতে বলেন, হ্যাঁ, দেখেছি, যেমন তোকে দেখছি। চাইলে ডোকেও দেখাতে পারি । এই সহজ-সরল উত্তরে শ্রীরামকৃষ্ণকে নরেন্দ্রনাথের ভালো লাগে। তিনি নিয়মিত দক্ষিণেশ্বরে যাতায়াত শুরু করেন। এক সময় শ্রীরামকৃষ্ণের নিকট ত্যাগের মন্ত্রে দীক্ষা নেন। নরেন্দ্রনাথ হন গৃহত্যাগী সন্ন্যাসী। তখন তাঁর নাম হয় বিবেকানন্দ। পরবর্তীকালে তরুরা তাঁকে স্বামী বিবেকানন্দ বা শুধু স্বামীজী বলেই ডাকতেন ।

বিবেকানন্স গৃহত্যাগ করে ভারতভ্রমণে বের হন। তিনি দেখেন, সারা দেশে কেবল দারিদ্র্য আর দারিদ্র্য। কেবল অশিক্ষা আর কুশিক্ষা। দেশবাসীর এই দুরবস্থা দেখে তিনি খুব ব্যথিত হন। তাই কীভাবে এসব থেকে দেশবাসীকে উদ্ধার করা যায়, সে-কথা চিন্তা করতে লাগলেন কন্যাকুমারীকায় ভারতের শেষ শিলাখতে বসে তিনি ধ্যান হলেন। ধ্যানের মাধ্যমে তিনি বুঝতে পারলেন, ভারতের জীবনীশক্তির উৎস হচ্ছে ধর্ম। এই ধর্ম হচ্ছে দেবতা জ্ঞানে মানুষের সেবা। এই ধর্মমন্ত্রে ভারতবাসীকে জাগিয়ে তুলতে হবে। তবেই ভারতের উন্নতি হবে।

১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি আমেরিকা যান। সেখানে ১১ই সেপ্টেম্বর শিকাগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্বধর্ম সম্মেলনে। তিনি বক্তৃতা দেন। তিনি তাঁর বক্তৃতায় বলেন, হিন্দুধর্ম পৃথিবীর সকল ধর্মকে সমান সত্য মনে করে। সব ধর্মের লক্ষ্যই এক। নদীসমূহ যেমন এক সাগরে গিয়ে মিলিত হয়, তেমনি সকল ধর্মেরই লক্ষ্য এক ঈশ্বরলাভ। তাই বিবাদ নয়, সহায়তা: বিনাশ নয়, পরস্পরের ভাবগ্রহণ; মতবিরোধ - নয়, সমন্বয় ও শান্তি। ধর্মসভার বিচারে তিনি হন শ্রেষ্ঠ বক্তা। তাঁর পাখিতো মুগ্ধ হয়ে আমেরিকার বিখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন হেনরি রাইট বলেছিলেন, ইনি এমন একজন মানুষ, যাঁর পাণ্ডিত্য আমাদের সমস্ত অধ্যাপকদের মিলিত পাণ্ডিত্যকেও হার মানায়

ধর্মসভার বক্তৃতার পর সারা আমেরিকায় বিবেকানন্দের নাম ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন জায়গা থেকে আমন্ত্রণ আসে বক্তৃতার জন্য। তিনিও হিন্দু ধর্ম-দর্শন, বিশেষত বেদান্ত দর্শন সম্পর্কে একের পর এক বক্তৃতা দিয়ে আমেরিকা জয় করেন। তারপর যান ইউরোপ ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, ইতালি প্রভৃতি দেশ ঘুরে বেড়ান

Related Question

View All
উত্তরঃ

মার্গারেট এলিজাবেথ নোবল স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ভারতবর্ষে এসেছিলেন। স্বামী বিবেকানন্দের বক্তৃতা শুনে মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল এতই অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন যে, নিজের জন্মভূমি আয়ারল্যান্ড ছেড়ে ভারতবর্ষে চলে আসেন এবং বিবেকানন্দের কাছে দীক্ষা নেন। এরপর তাঁর নাম হয় ভগিনী নিবেদিতা।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
99
উত্তরঃ

যোগেশ বাবুর মধ্যে স্বামী বিবেকানন্দ চরিত্রের দারিদ্র্য মোচনের প্রচেষ্টার দিকটি লক্ষ করা যায়।

বিবেকানন্দ গৃহত্যাগ করে ভারতভ্রমণে বের হন। তিনি দেখেন, সারা দেশে কেবল দারিদ্র্য আর দারিদ্র্য। কেবল অশিক্ষা আর কুশিক্ষা। দেশবাসীর এই দুরবস্থা দেখে তিনি খুব ব্যথিত হন। তাই কীভাবে এসব থেকে দেশবাসীকে উদ্ধার করা যায়, সে কথা চিন্তা করতে লাগলেন। উদ্দীপকের যোগেশ বাবুর ক্ষেত্রেও দেখা যায়, তিনি তার গ্রামের লোকদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কাজকর্ম করে অর্থ উপার্জন করতে বলেন এবং সন্ধ্যায় ধর্মকর্ম করার উপদেশ দেন। স্বামী বিবেকানন্দও ভারতবাসীকে কর্মমুখী হওয়ার পরামর্শ দেন যেন ভারতবর্ষ থেকে দারিদ্র্য দূরীভূত হয়। বিবেকানন্দ বলতেন-নীচ জাতি, মূর্খ, দরিদ্র, অজ্ঞ, মুচি, মেথর সকলেই আমাদের ভাই। এদের সেবাই পরম ধর্ম। তিনি দরিদ্রদের উন্নয়নের জন্য সর্বদা চিন্তা করতেন। তাদের দারিদ্র্য দূর করা এবং তাদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের কথা ভাবতেন। তাঁর গুরুদেব বলতেন 'খালি পেটে ধর্ম হয় না'। তাই তিনি সবার আগে মানুষের দারিদ্র্য ঘোচানোর কথা ভাবতেন। তিনি বলতেন, 'দরিদ্রদের মুখে অন্ন জোগাতে হবে, শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। আগে অন্ন, তারপর ধর্ম। যোগেশ বাবুর মাঝে স্বানী বিবেকানন্দের চরিত্রের এ দিকটিই লক্ষ করা যায়।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
105
উত্তরঃ

হ্যাঁ, স্বামী বিবেকানন্দের কাজের আলোকে বলাই বাবুর কাজটি নিঃসন্দেহে যৌক্তিক।

স্বামী বিবেকানন্দ জীবসেবাকে পরম ধর্ম হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জীবকে ঈশ্বর জ্ঞানে সেবা করতে বলেছেন। তার চিন্তাধারায় জীবের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। উদ্দীপকের বলাই বাবুর মাঝেও এ বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়। তিনিও জীবসেবায় বিশ্বাসী। তাই তিনি মানুষসহ অন্য যেকোনো প্রাণীর মাঝে ঈশ্বরের অস্তিত্ব খুঁজে বেড়ান। বিবেকানন্দের মহান বাণী হলো 'শিবজ্ঞানে জীবসেবা।' ঈশ্বরসেবার আগে তাঁর সৃষ্ট জীবের সেবা করতে হবে। জীবসেবা করলেই ঈশ্বরসেবা হবে। জীবকে জীবজ্ঞানে সেবা করলে তা হবে দয়া, আর আত্মজ্ঞানে সেবা করলে হবে প্রেম। তাই তিনি বলেছেন- বহুরূপে সম্মুখে তোমার, ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ? জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।

তিনি মানুষের মাঝে ঈশ্বরকে খুঁজে ফিরতেন। জীবের প্রতি তার এই ভালোবাসার অনুভূতিকেই উদ্দীপকের বলাই বাবু। তার কাজে-কর্মে, প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। তাই বলা যায়, স্বামী বিবেকানন্দের কাজের আলোকে বলাই বাবুর কাজটি অবশ্যই যৌক্তিক।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
90
উত্তরঃ

দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের জন্য ভগবান পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন। পৃথিবীতে যখন ধর্মের গ্লানি দেখা দেয় এবং অধর্মের বৃদ্ধি ঘটে তখন ধর্ম সংস্থাপনের জন্য ভগবান অবতাররূপে আগমন করেন। এভাবে পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয় এবং ধর্মের মর্যাদা রক্ষা পায়।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
7 months ago
137
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews