নীতি সম্পর্কিত শিক্ষাকে নৈতিক শিক্ষা বলে। যতো শিক্ষাই গ্রহণ করা হোক না কেন, যদি নৈতিকতা অর্জিত না হয়, তাহলে সে শিক্ষা মূল্যহীন। নীতি বা নৈতিকতা ধর্মের অঙ্গ। তাই নৈতিক শিক্ষাও ধর্মের অঙ্গ।
দেশপ্রেম বলতে বোঝায় দেশের প্রতি ভালোবাসা। মানুষ যে দেশে জন্মগ্রহণ করে, তাঁর মাটি-জল-আলো-বাতাস তার দেহকে পুষ্ট করে, বাঁচিয়ে রাখে। বড় হয়ে মানুষ তার মাতৃভূমির প্রতি যে মমত্ববোধ অনুভব করে তাই দেশপ্রেম।
দেশপ্রেম বলতে দেশের প্রতি ভালোবাসাকে বোঝায়। মানুষ যে দেশে জন্মগ্রহণ করে, তার মাটি-জল, আলো-বাতাস তাকে পুষ্ট করে। তাই দেশ মাতৃকার সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করাতেই প্রকৃত শান্তি পাওয়া যায়। তাছাড়া ধর্মগ্রন্থে দেশকে স্বর্গের চেয়েও বড় বলা হয়েছে। তাই দেশপ্রেম ধর্মেরও অঙ্গ।
ধর্মগ্রন্থে বলা হয়েছে- 'জননী জন্মভূমিশ্ব স্বর্গাদপি গরীয়সী'। অর্থাৎ জননী ও জন্মভূমি স্বর্গের চেয়েও বড়। তাই যিনি দেশপ্রেমিক, তিনি দেশের স্বার্থকে ব্যক্তিসার্থের উর্ধ্বে স্থান দেন। দেশপ্রেম মানবজীবনের একটি মহৎ গুণ ও ধর্মের অঙ্গ।
যাঁরা দেশপ্রেমিক, তাঁরা প্রয়োজন হলে নিজের জীবনের বিনিময়ে হলেও দেশের মঙ্গলের জন্য জীবন বিসর্জন দিতে দ্বিধা বোধ করেন না। তাঁরা সবসময় দেশ ও দেশবাসীর কল্যাণের জন্য কাজ করেণ। দেশপ্রেম একটি মহৎ গুণ।
দেশপ্রেম একটি মহৎ গুণ। যাঁরা দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছেন, দেশ ও জাতির জন্য তাঁদের যে অবদান তা স্বর্ণাক্ষরে ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকে। তাঁরা মানুষের হৃদয়ে স্থান পায়। মানুষ শ্রদ্ধাভরে তাঁদের স্মরণ করে, তাঁদের প্রদর্শিত পথে চলতে চেষ্টা করে।
কার্তবীর্যার্জুন ছিলেন একজন চন্দ্রবংশীয় রাজা। তিনি যেমন ছিলেন কর্তব্য পরায়ণ তেমনি প্রজাবৎসল রাজা। একই সাথে তিনি ছিলেন ধর্মপরায়ণ, বীর ও দেশপ্রেমিক। রাজা কোর্তবীর্যাজুনের দেশপ্রেম ইতিহাসে এখনও অমর হয়ে আছে।
একবার রাজা রাজকার্যের ক্লান্তি দূর করার জন্য রাজধানীর বাইরে গেলে সুযোগ বুঝে রাবন তাঁর রাজ্য আক্রমণ করে। একথা শুনে মহারাজ ক্রোধে জ্বলে ওঠেন এবং মাতৃভূমির রক্ষার্থে অবকাশ যাপন স্থগিত করে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন
রাবন যখন রাজা কার্তবীর্যার্জুনের রাজ্য আক্রমণ করে তখন সৈন্যগণ কার্তবীর্যার্জুনের নেতৃত্বে প্রাণপণ যুদ্ধ শুরু করে। একপক্ষ আক্রমণকারী। অন্যপক্ষ আক্রান্ত, কিন্তু দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ। অবশেষে দেশপ্রেমের শক্তিতে বলীয়ান হয়েই তারা যুদ্ধে জয়লাভ করে।
রাবণ ও কার্তবীর্যার্জুনের যুদ্ধে রাবণ পরাজিত হয়ে বন্দি হন। এই বার্তা স্বর্গে মহামুনি পুলস্ত্যের কানে গেল। রাবণ ছিলেন মহামুনি পুলস্ত্যের নাতি। তাই তাঁর খুব দুঃখ হলো। এজন্যই তিনি রাবণের মুক্তি চেয়েছিলেন।
রাবণ যুদ্ধে পরাজিত হলে কার্তবীর্যার্জুনের কাছে বন্দি হয়। তখন মহামুনি পুলস্ত্য স্বর্গ থেকে এসে তাঁর নাতি রাবণের মুক্তি চায় এবং রাজার দেশপ্রেমের প্রশংসা করেন। তখন কার্তবীর্যার্জুন শ্রদ্ধেয় পুলস্ত্য মুনির কথায় রাবণকে মুক্তি দেন।
মহামুনি পুলস্ত্য যখন রাবণের মুক্তি চাইলেন তখন রাজা কার্তবীর্যার্জুন মুনির প্রতি সম্মান জানিয়ে রাবণকে মুক্তি দিলেন এবং রাবন তাঁর অপরাধ স্বীকার করে অবনত মস্তক হলেন এবং পুলস্ত্য মুনির মাধ্যমে অগ্নিসাক্ষী করে তাঁদের মধ্যে মৈত্রী স্থাপিত হলো।
রাজা কার্তবীর্যার্জুনের উপখ্যান হতে আমরা দেশপ্রেমের শিক্ষা পাই। দেশের যেকোনো বিপদে নিজের জীবন দিয়ে হলেও এগিয়ে আসা উচিত। কেননা জননী ও জন্মভূমি স্বর্গের চেয়েও বড়। তাছাড়া দেশপ্রেম ধর্মেরও অঙ্গ।
স্বাধীন চিন্তা ও জাতীয়তাবোধই হলো দেশপ্রেমের প্রধান উৎস। যখন দেশের সংকট উপস্থিত হয়, দেশের স্বাধীনতা বিপর্যস্ত হয়, তখনই মানুষ দেশপ্রেমের অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষা নিয়ে দেশের মর্যাদা রক্ষায় অকাতরে জীবন বিসর্জন দেয়।
দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষ দেশ ও সমাজের মঙ্গলের জন্য স্বার্থচিন্তার উপরে উঠে পরের হিতার্থে কাজ করে। এমনকি মানুষ তার ধন-জন, জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করতে দ্বিধা করে না। তাই দেশপ্রেমকে মানব জীবনের একটি মহৎ গুণ বলা হয়েছে।
দেশের মঙ্গলের জন্য কাজ করা, দেশের সম্পদ রক্ষা করা, দেশের উন্নতির জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করার মাধ্যমে দেশপ্রেম ফুটে ওঠে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা তথা বহিঃশত্রুর হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার মাধ্যমেও দেশপ্রেম ফুটে ওঠে।
দেশপ্রেমের শিক্ষা মানুষকে উদার করে। দেশের মানুষকে ভালোবাসতে উদ্বুদ্ধ করে; আত্মসুখ বিসর্জন দেওয়ার প্রেরণা দান করে। দেশপ্রেমের মাধ্যমে মানুষের মনুষ্যত্বের পরিচয় ফুটে ওঠে। যার মধ্যে দেশপ্রেম নেই, তাকে প্রকৃত মানুষ বলা যায় না।
কেবল নিজের ও পরিবারের স্বার্থ দেখলেই চলে না। সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণও ভাবতে হয়। কেননা পরাধীনতা ব্যক্তিকে শৃঙ্খলিত করে রাখে। ফলে সমাজের অগ্রগতি ব্যাহত হয়। রাষ্ট্রীয় কার্যে পরাধীন ব্যক্তির কোনো ভূমিকা থাকে না। তাই সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে দেশপ্রেম গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো লক্ষ্য অর্জনে বিশেষ যত্নসহকারে কঠোর সাধনার মধ্য দিয়ে বারবার চেষ্টা করার নামই অধ্যবসায়। যে ব্যক্তি অধ্যবসায়ী নয়, সে জীবনের কোনো সাধারণ কাজেও সফলতা লাভ করতে পারে না। অধ্যবসায় অসাধ্যও সাধন করতে পারে।
অধ্যবসায় হচ্ছে কতিপয় গুণের সমষ্টি। চেস্টা উদ্যোগ, আন্তরিকতা, পরিশ্রম, ধৈর্য, সহিষ্ণুতা, একাগ্রতা ইত্যাদি গুণের সমন্বয়ে অধ্যবসায় নামক নৈতিক গুণটি গড়ে ওঠে। আর অধ্যবসায়ের গুণেই মানুষ বড় হয়, অসাধ্য সাধন করে।
কঠোর পরিশ্রম আর ধৈর্যের মধ্য দিয়ে ঈম্পিত লক্ষ্যে পৌছানোর মধ্যেই অধ্যবসায়ের সার্থকতা নিহিত। যে ব্যক্তি অধ্যবসায়ী নয়, সে জীবনের কোনো সাধারণ কাজেও সফলতা লাভকরতে পারে না। অধ্যবসায়ই সফলতার চাবিকাঠি।
অধ্যবসায় ধর্মেরই অঙ্গ। কেননা ধর্মগ্রন্থে অধ্যবসায়কে একটি বিশেষ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। একাগ্রতা ও অধ্যবসায় ছাড়া জাগতিক বা পারমার্থিক কোনো ফলই লাভ করা যায় না। অধ্যবসায়ই সফলতার পথপ্রদর্শক।
ছাত্রজীবনে অধ্যবসায়ের গুরুত্ব সর্বাধিক। বিদ্যা অর্জনের পথ কুসুমাস্তীর্ণ নয়। অলস, কর্মবিমুখ ও হতাশ শিক্ষার্থী কখনো বিদ্যালাভে সফল হয় না। কিন্তু অধ্যবসায়ী শিক্ষার্থী অল্প মেধাসম্পন্ন হলেও তার পক্ষে সাফল্য অর্জন করা কঠিন নয়।
জীবন সংগ্রামে সাফল্য লাভের মূলমন্ত্র হলো অধ্যবসায়। জীবনের সফলতা ও বিফলতা অনেকাংশেই অধ্যবসায়ের ওপর নির্ভর করে। অধ্যবসায়ের গুণেই মানুষ বড় হয়, অসাধ্য সাধন করে। তাই সকলের উচিত অধ্যবসায়ের গুণটি আয়ত্ত করা।
ছাত্রজীবন ও অধ্যবসায় একই সূত্রে গাঁথা। কেননা অধ্যবসায়ী শিক্ষার্থী অল্প মেধাসম্পন্ন হলেও তার পক্ষে সাফল্য অর্জন সম্ভব। অন্যদিকে যে অধ্যবসায়ী নয়, অলস ও কর্মবিমুখ সে অকৃতকার্য হবেই। একারণে বলা হয়, ছাত্রজীবনে অধ্যবসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
অনেকাল আগে হস্তিনাপুরের কাছে গভীর অরণ্যে নিষাদরাজ হিরণ্যধনু বাস করতেন। তাঁর পুত্র ছিলেন একলব্য। সে ছিল একজন অধ্যবসায়ী বালক। যে কিনা গুরু মূর্তির সামনে চর্চা করেই সমস্ত ধনুর্বিদ্যার কৌশল শিখেছিলেন
গুরু দ্রোণাচার্য শুধুমাত্র রাজপুত্রদের বিদ্যাশিক্ষার পন করেছিলেন। তিনি হস্তিনাপুর-এর রাজা ধৃতরাষ্ট্রের পুত্র দুর্যোধন, দুঃশাসনসহ শতপুত্রকে এবং পান্ডুর পাঁচ পুত্র-যুধিষ্ঠির, ভাম, অর্জুন, নকুল ও সহদেবকে অস্ত্রবিদ্যা শিক্ষা দিতেন।
একলব্য অস্ত্রবিদ্যা শিক্ষার জন্য গুরু দ্রোণাচার্যের কাছে গিয়ে প্রণাম করে মনের কথা জানায়। তখন দ্রোণাচার্য তার পরিচয় জানতে পেরে একলব্যকে বিদ্যাশিক্ষা দানে অস্বীকৃতি জানায়। কেননা তিনি শুধু রাজপুত্রদের বিদ্যা দানের পণ করেছিলেন। এতে একলব্য মর্মাহত হন।
গুরু দ্রোণের কাছে ধনুবিদ্যা গ্রহণে অসমর্থ হলে একলব্য বনে ফিরে দ্রোণাচার্যের একটি মূর্তি তৈরি করেন এবং তাঁকে মনে মনে গুরু মেনে তার মূর্তির সামনে অহর্নিশ অস্ত্রবিদ্যা শিক্ষা করতে লাগলেন এবং কঠোর অধ্যবসায় দ্বারা সে ধনুর্বিদ্যার প্রায় সব কৌশল আয়ত্ব করেন
একলব্য গভীর মনোনিবেশে অস্ত্রবিদ্যা শিক্ষা করার সময় একটি কুকুর চিৎকার করলে তার সাধনায় ব্যাঘাত ঘটে। তখন সে সাতটি বাণ নিক্ষেপ করে কুকুরটির মুখ বন্ধ করে দেয় তবে প্রাণহানি না ঘটিয়েই। এ বিদ্যা দ্রোণাচার্য ছাড়া আর কেউ জানত না।
একলব্যের উপাখ্যান হতে আমরা এই শিক্ষা পাই যে, অধ্যবসায় দ্বারা যেকোনো কাজে সাফল্য অর্জন করা যায়, সে কাজ যতোই কঠিন হোক না কেনো। অধ্যবসায়ীর কাছে কিছুই অসম্ভব নয়। আমাদেরও অধ্যবসায়ের মতো মহৎ গুণটির চর্চা করা উচিত
অধ্যবসায় মানুষকে উন্নতির চরম শিখরে আরোহণ করতে সাহায্য করে। অধ্যবসায়ের গুণেই মানুষ অনেক অসাধ্য সাধন করেছে। অধ্যবসায় ছাড়া কেউ কখনো উন্নতি করতে পারে না। নিজের অসহায়ত্ব উপেক্ষা করে অধ্যবসায়ের প্রয়োগে মানুষ হয় স্বনির্ভর।
মানুষ সমাজবদ্ধভাবে বসবাস করে। তাই সমাজের প্রতি তার বেশকিছু দায়িত্ব-কর্তব্য রয়েছে। সকলেই যদি স্ব-স্ব দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে তবে সমাজ ও রাস্ট্রে কোনো হানাহানি থাকবে না, সমাজের যথাযথ উন্নয়ন সম্ভব হবে। এজন্য প্রত্যেককেই একাগ্র, দায়িত্বশীল ও অধ্যবসায়ী হতে হবে।
উত্তর: যে জাতি যত বেশি অধ্যবসায়ী, সে জাতি তত বেশি উন্নত। রাষ্ট্রীয় বা জাতীয় জীবনে গৌরব ও সাফল্য আনয়নের জন্য রাষ্ট্রের সকল নাগরিককে অধ্যবসায়ী হতে হয়। জাতির প্রতিটি মানুষ অধ্যবসায়ী হলে সে জাতি অবশ্যই সুনাম ও গৌরবের অধিকারী হবে।
দেশের সঙ্কটকালে দেশের জন্য আত্মদান করার মাধ্যমেই দেশপ্রেম প্রকাশ পায়। দেশপ্রেম ধর্মের অঙ্গ। দেশের প্রতি ভালোবাসায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষ দেশ ও সমাজের মঙ্গলের জন্য নিজের স্বার্থবুদ্ধির উপরে ওঠে পরের হিতার্থে কাজ করেন। দেশের যখন সংকটকাল উপস্থিত হয়, যখন দেশ বহিঃশত্রু দ্বারা আক্রান্ত হয়, যখন দেশের স্বাধীনতা বিপর্যস্ত হয় তখন দেশপ্রেমিকের দেশপ্রেম প্রকাশ পায়। শুধু বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করাই নয়, দেশের মঙ্গলের জন্য কাজ করার মাধ্যমেও দেশপ্রেম প্রকাশ পায়। কার্তবীর্যার্জুনের দেশপ্রেম এর অন্যতম দৃষ্টান্ত।
দেশপ্রেম ধর্মের অঙ্গ। দেশপ্রেম বলতে বোঝায় দেশের প্রতি ভালোবাসা। হিন্দুদের বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে দেশপ্রেমকে অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। দেশপ্রেমিকরা দেশ ও জাতির মঙ্গলের জন্য অকাতরে নিজেকে উৎসর্গ করে দেয়। দেশের স্বার্থকে তাঁরা ব্যক্তিস্বার্থের উর্ধ্বে স্থান দেয়। দেশের কোনো বিপদে তারা নীরব থাকতে পারেন না। দেশপ্রেমের মতো গুণের মহিমায় তারা হয়ে উঠেন মহৎ। পৃথিবীর প্রায় সব মহাপুরুষই ছিলেন দেশপ্রেমিক। দেশপ্রেমিকরা চিরকাল অমর হয়ে থাকেন এবং মানুষ তাদেরকে অনুসরণ করে মহৎ হতে চায়। তাই বলা যায়, দেশপ্রেম হলো একটি মহৎ গুণ যা মানুষকে মহানুভব করে তোলে।
একলব্য কঠোর অধ্যবসায়ের দ্বারা ধনুর্বিদ্যা আয়ত্ত করলেন।
একলব্য নিষাদ বংশীয় ব্যাধ ছিলেন বলে গুরু দ্রোণাচার্যের কাছে তাঁর আয়ত্ত করা কেবল স্বপ্নই রয়ে গিয়েছিল। । কিন্তু তিনি হার মানেননি। তাই তিনি গভীর বনে মাটি দিয়ে দ্রোণাচার্যে মূর্তি নির্মাণ করে মনে মনে তাঁকে গুরু মেনে অহর্নিশ তীর ধনুক দিয়ে অস্ত্রবিদ্যা শিক্ষা করতে লাগলেন। এভাবেই কঠোর সাধনা, নিরলস পরিশ্রম আর ক্রমাগত অনুশীলনের দ্বারা একলব্য ধনুর্বিদ্যার প্রায় সকল কলাকৌশল আয়ত্ত করে ফেললেন এবং তাঁর কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যার্জনে সক্ষম হলেন।
একলব্যের উপাখ্যানটি পড়ে আমি শিক্ষা পেলাম যে, একমাত্র ধ্যবসায়ের দ্বারাই সফলতা অর্জন করা যায়। জীবনে বাধা আসতেই পারে। কিন্তু যদি কারও লক্ষ্য অটুট থাকে তবে গভীর অধ্যবসায়ের দ্বারা সে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। কলব্যের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটেছিল। সে ব্যাধ ছিল বলে গুরু দ্রোণাচার্যের কাছে ধনুর্বিদ্যা আয়ত্ত করতে পারেনি। কিন্তু সে দমে যায়নি। তাই সে নিজ প্রচেষ্টায় মনে মনে দ্রোণাচার্যকে গুরু মেনে ধনুর্বিদ্যা আয়ত্ত করে তার লক্ষ্য পূরণ করে। একলব্যের এ গভীর অধ্যবসায় আমাকেও জীবনে সফল হতে অধ্যবসায়ী হয়ে ওঠার নির্দেশনা প্রদান করে।
Related Question
View Allকৌরব ও পাণ্ডবদের অস্ত্রগুরু ছিলেন দ্রোণাচার্য।
অস্ত্রগুরু দ্রোণাচার্য, কৌরব ও পান্ডবদের ছিল একটি প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত কুকুর। একদিন অর্মগুরু কৌরব ও পাণ্ডবদের অস্ত্রবিদ্যা শিক্ষার পরীক্ষা নিতে গভীর বনে গেলেন। তাঁদের শিবিরের অল্প দূরেই ছিল একলব্যর সাধনার স্থান। একলব্য গভীর মনোনিবেশে অস্ত্রবিদ্যা শিক্ষায় ব্যস্ত। এমন সময় কুকুরটি সেখানে এসে ঘেউ ঘেউ করে চিৎকার করাতে একলব্যের সাধনা ভেঙে যায়। যার জন্য একলব্য কুকুরটির মুখে বান নিক্ষেপ করেন।
মনোহর বাবুর কর্মকান্ডে যে নৈতিক গুণটি প্রকাশ পেয়েছে তা হলো দেশপ্রেম।
দেশপ্রেম বলতে বোঝায় দেশের প্রতি ভালোবাসা। মানুষ যেদেশে জন্মগ্রহণ করে, তার মাটি-জল আলো-বাতাস তার দেহকে পুষ্ট করে, তাকে বাঁচিয়ে রাখে। বড় হয়ে মানুষ তার মাতৃভূমির প্রতি মমত্ব অনুভব করে। মাতৃভূমির প্রতি এ মমত্ববোধই দেশপ্রেম। দেশ ও জাতির মঙ্গলের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করার নামই দেশপ্রেম। দেশপ্রেম ধর্মের অঙ্গ। উদ্দীপকের মনোহর বাবু গ্রামের উন্নয়ন ও মানুষের সেবায় নিয়োজিত আছেন। রাস্তার পাশে বৃক্ষরোপণ, হাসপাতাল নির্মাণ এবং সেখানে রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া এসব কাজের মধ্য দিয়ে তিনি দেশপ্রেমেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। যিনি দেশপ্রেমিক, তিনি দেশের স্বার্থকে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেন। তিনি সবসময় দেশ ও দেশবাসীর কল্যাণের জন্য কাজ করেন। দেশের কোনো বিপদে দেশপ্রেমিক কখনো নীরব থাকতে পারেন না। দেশের মঙ্গলের জন্য প্রয়োজন হলে নিজের জীবন বিসর্জন দিতেও দ্বিধাবোধ করেন না। দেশপ্রেম মানবজীবনের একটি মহৎ গুণ। মনোহর বাবুর কর্মকাণ্ডে দেশপ্রেম নামক নৈতিক গুণটিই প্রকাশ পেয়েছে।
হ্যাঁ, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে মনোহর বাবুর নৈতিক গুণটির অবশ্যই প্রয়োজন আছে।
মনোহর বাবুর কর্মকাণ্ডে দেশপ্রেমের যে বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে তা সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশপ্রেম ধর্মের অঙ্গ। একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক ব্যক্তি নিজ স্বার্থের ঊর্ধ্বে গিয়ে দেশের কল্যাণের। কথা চিন্তা করেন। তিনি দেশের উন্নতির জন্য কাজ করেন এবং দেশের মানুষকে ভালোবাসেন। উদ্দীপকের মনোহর বাবু তার গ্রামের উন্নয়ন ও মানুষের সেবায় যেসব কর্মকাণ্ড সম্পাদন করেন তার মধ্য দিয়ে প্রকারান্তরে দেশপ্রেমেরই বহিঃপ্রকাশ লক্ষ করা যায়। দেশের উন্নতির জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করার মধ্য দিয়ে দেশপ্রেমের। প্রকাশ-ঘটে। রাষ্ট্র যাতে সঠিকভাবে শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়, সেজন্য যোগ্য নাগরিক হিসেবে দেশপ্রেমিক বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। নিজের দেশের কল্যাণের জন্য দক্ষ নাগরিক হিসেবে নিজেকে। গড়ে তুলতে হয়। কেবল নিজের বা নিজের পরিবারের স্বার্থ দেখলেই। চলে না, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণের কথাও ভাবতে হয়। সমাজ তথা রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য সদা সচেষ্ট থাকতে হয়। এর নাম দেশপ্রেম। ত্যাগ ও তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে দেশপ্রেম নামক নৈতিক গুণটি অর্জন করতে হয়। দেশপ্রেম মানুষকে উদার করে, দেশের মানুষকে ভালোবাসতে উদ্বুদ্ধ করে, আত্মসুখ বিসর্জন দেওয়ার প্রেরণা দান করে। দেশপ্রেম মনুষ্যত্বের পরিচায়ক। যার মধ্যে দেশপ্রেম নেই তাকে যথার্থ মানুষ বলা যায় না। আত্মকেন্দ্রিক মানুষ কখনো দেশপ্রেমিক হতে পারে না। দেশপ্রেমিক। দেশের সম্পদ, দেশের স্বার্থ, দেশের মর্যাদা প্রভৃতিকে নিজের সম্পদ, নিজের স্বার্থ ও নিজের মর্যাদা বলে মনে করেন। তাই বলা যায়, মনোহর বাবুর কর্মকান্ডে দেশপ্রেমের যে বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে তা সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে।
দেশ ও জাতির মঙ্গলের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করার নার্স হচ্ছে দেশপ্রেম।
হাতে কাম, মুখে নাম'- এটি হরিচাঁদ ঠাকুরের অন্যতম উপদেশ। তিনি বলেছেন, গৃহকর্ম গৃহধর্ম করিবে সকল, হাতে কাম মুখে নাম ভক্তিই প্রবল। হরিচাঁদ ঠাকুর নিজেও সংসারী ছিলেন, তাই তিনি সংসারে থেকেই ধর্মচর্চা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনিই সবাইকে বুঝিয়েছেন যে, ধর্মচর্চার জন্য সংসার ত্যাগ করতে হয় না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!