কোনো পরিবারে সংঘটিত যাবতীয় লেনদেন হিসাবের বইতে যথাযথ লিপিবদ্ধ করে বছর শেষে পারিবারিক আয়-ব্যয়ের উদ্বৃত্ত বা ঘাটতি নির্ণয় এবং পরিবারের সম্পদ ও দায়দেনার পরিমাণ নির্ধারণ করাকে পারিবারিক হিসাবব্যবস্থা বলা হয়।
পারিবারিক হিসাব ব্যবস্থার দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
স্বতন্ত্র একক নির্ধারণ প্রতিটি পরিবারকে তার কর্তাব্যক্তি বা অন্যান্য ব্যক্তি থেকে পৃথক বিবেচনা করে হিসাব-নিকাশ সম্পন্ন করতে হয়। নগদ লেনদেন: পরিবারের লেনদেন বেশিরভাগ নগদে সংঘটিত হয়ে থাকে। ফলে হিসাব-নিকাশ সংরক্ষণ করা অনেক সহজ।
পারিবারিক হিসাবব্যবস্থার দুটি প্রয়োজনীয়তা হলো-
(i) পরিকল্পনা হিসাব-নিকাশে স্বচ্ছতা থাকলে সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে পারিবারিক বন্ধনকে অনেক বেশি উপভোগ করা সম্ভব।
(ii) 'আয় বুঝে ব্যয় কর'-এ মতবাদ অনুযায়ী হিসাবব্যবস্থা পরিচালিত হলে পারিবারিক সুখ ও সচ্ছলতা বৃদ্ধি পাবে।
বাজেট বলতে বোঝায় পরিকল্পনার সংখ্যাত্মক প্রকাশ, অর্থাৎ নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের আয় ও ব্যয়ের পূর্বপরিকল্পনার সংখ্যাত্মক প্রকাশই হচ্ছে বাজেট। নির্দিষ্ট সময় বলতে কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। সাপ্তাহিক, মাসিক কিংবা বার্ষিকও হতে পারে।
পারিবারিক বাজেট বলতে বোঝায় পারিবারকেন্দ্রিক আয়-ব্যয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। অর্থাৎ পরিবারের আয়ের উৎস এবং চাহিদার ভিত্তিতে ব্যয়ের খাত নির্ধারণ করে যে পূর্বপরিকল্পনা করা হয়, তাকেই পারিবারিক বাজেট বলা হয়।
পারিবারিক জীবনে আয় অনুযায়ী ব্যয় নির্বাহের উদ্দেশ্যে পারিবারিক বাজেট তৈরি করা হয়। পরিবারের প্রয়োজন এবং চাহিদা অনেক। কিন্তু আয় সীমিত, এমতাবস্থায় বাজেট প্রস্তুত করে সীমিত আয় দ্বারা পরিকল্পনামাফিক নানাবিধ খরচ পরিশোধ করা সম্ভব হয়।
পারিবারিক বাজেট প্রণয়নের দুটি সুবিধা হলো-
(i) পারিবারিক বাজেট প্রণয়ন দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য বাস্তবায়নে সাহায্য করে। জীবনের লক্ষ্য স্থির করার ব্যাপারেও পারিবারিক বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
(ii) বাজেটের মাধ্যমে পারিবারের আয় ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা বজায় রাখাসহ জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা যায়
একটি সার্থক বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন নির্ভর করে পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উপর। পরিবারের গঠন, আকৃতি, পরিবারের আয়, সদস্যের রুচিবোধ, সামাজিক পরিচিতি ইত্যাদি উপাদানগুলো সক্রিয়ভাবে বাজেট প্রণয়নের সময় বিবেচনায় রাখতে হয়। তাছাড়া প্রতিটি পরিবারের বাজেট একরকম এবং একই মানে তৈরি করা সম্ভব হয় না। মোটকথা হলো আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য থেকেই একটি পারিবারিক বাজেট তৈরি হয়।
আনুমানিক আয় থেকে প্রকৃত আয় কম হলে অথবা আনুমানিক ব্যয় থেকে প্রকৃত ব্যয় বেশি হলে 'ঘাটতি বাজেট হয়। এ ঘাটতি পূরণ করার জন্য পরিবারকে ধার-দেনা করতে হয়। পক্ষান্তরে, আনুমানিক আয় থেকে প্রকৃত আয় বেশি হলে অথবা আনুমানিক ব্যয় থেকে প্রকৃত ব্যয় কম হলে উদ্বৃত্ত' বাজেট হয়। এ উদ্বৃত্ত দিয়ে পারিবারিক তহবিল গড়ে ওঠে যা ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা-বাস্তবায়নে সহায়তা করে।
পারিবারিক বাজেট তৈরির জন্য কতকগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। বাজেট তৈরি ও বাস্তবায়ন তখনই সম্ভব হবে, যদি নির্ধারিত নিয়মনীতি মেনে বাজেট প্রস্তুত করা হয়। পদক্ষেপগুলো
নিম্নরূপ :
i. প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির তালিকা প্রস্তুতকরণ।
ii. মূল্য নিরূপণ।'
iii. সম্ভাব্য আয় নির্ধারণ।
iv. বাজেটের ভারসাম্য রক্ষা।
v. যুগোপযোগী বাজেট প্রণয়ন।
একটি নির্দিষ্ট সময়ে পরিবারের সদস্য দ্বারা অর্জিত অর্থ বা ক্রয়ক্ষমতাকে সাধারণ অর্থে পারিবারিক আয় 'বলে। এখানে একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোনো পরিবারের বিভিন্ন উৎস থেকে যে নগদ অর্থ প্রাপ্তি ঘটে বা অর্জিত হয় তার সমষ্টিকে বলা হয় পারিবারিক আয়। যেমন- শ্রমের বিনিময়ে প্রাপ্ত পারিশ্রমিক, মজুরি বা বেতন, ব্যবসায় থেকে প্রাপ্ত লাভ, কৃষি ফসল বিক্রয় করে প্রাপ্ত আয় ইত্যাদি।
পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন চাহিদা পূরণ করে সুষ্ঠুভাবে পরিবার পরিচালনার জন্য যে খরচ হয়, তার সমষ্টিকে বলা হয় পারিবারিক ব্যয়। পারিবারিক ব্যয়কে কয়েকটি খাতে ভাগ করা হয়।
যেমন- খাদ্য, বাসস্থান, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ইত্যাদি।
পারিবারিক দৈনন্দিন নগদ লেনদেনের সংরক্ষিত হিসাব থেকে বছর শেষে শ্রেণিবদ্ধভাবে এবং সংক্ষিপ্ত আকারে যে হিসাব প্রস্তুত করা হয়, তাকে প্রাপ্তি ও প্রদান হিসাব বলা হয়। প্রাপ্তি ও প্রদান হিসাব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নগদান বইয়ের অনুরূপ; কিন্তু এটি নগদান বই নয়।
হিসাবকাল শেষে অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময় পর পরিবারের আয় ও ব্যয়ের উদ্বৃত্ত বা ঘাটতি নির্ণয়ের জন্য শুধু চলতি সালের মুনাফাজাতীয় আয় এবং মুনাফাজাতীয় ব্যয়ের সাহায্যে যে বিবরণী প্রস্তুত করা হয়, তাকেই পারিবারিক আয়-ব্যয় বিবরণী বলে।
আয় ব্যয় হিসাবের দুটি বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:
(i) আয়-ব্যয় হিসাবের ক্রেডিট জেরকে ব্যয়াতিরিক্ত আয় বলে যা প্রতিষ্ঠানের আয়ের উদ্বৃত্ত নির্দেশ করে এবং ক্রেডিট উদ্বৃত্তকে আয়াতিরিক্ত ব্যয় বলে যা প্রতিষ্ঠানের ঘাটতি নির্দেশ করে।
(ii) প্রারম্ভিক ও সমাপনী নগদ উদ্বৃত্ত ও মূলধনজাতীয় আয়-ব্যয় এই হিসাবে নেওয়া হয় না।
আর্থিক অবস্থার বিবরণী বলতে সম্পদ এবং দায়ের বিবরণীকে বোঝায়। অর্থাৎ কোনো একটি নির্দিষ্ট দিনের প্রতিষ্ঠানের সকল প্রকার সম্পদ এবং দায়ের সাহায্যে যে বিবরণী তৈরি করা হয় তাকে আর্থিক অবস্থার বিবরণী বলা হয়।
প্রাপ্তি ও প্রদান হিসাবের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
i. প্রাপ্তি ও প্রদান হিসাব নগদান বইয়ের মতো।
ii. এই হিসাবের বাম পার্শ্বে প্রারম্ভিক নগদ তহবিল ও ব্যাংক ব্যালেন্স দিয়ে শুরু হয় এবং ডান পার্শ্বে সমাপনী নগদ তহবিল ও ব্যাংক ব্যালেন্স দিয়ে শেষ হয়।
পরিবারের দৈনন্দিন বা স্বাভাবিক সকল প্রাপ্তি ও জমাকে পারিবারিক মুনাফাজাতীয় আয় বলে। একটি পরিবারের মুনাফাজাতীয় আয় বলতে সে সকল আয়কে বোঝায় যা পরিবারের দৈনন্দিন স্বাভাবিক কার্যাবলি দ্বারা অর্জিত হয় এবং নিয়মিতভাবে পাওয়া যায়। যেমন-বেতনপ্রাপ্তি, বিনিয়োগের সুদপ্রাপ্তি, কৃষি ফসল বিক্রয় ইত্যাদি।
পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি ভোগ বা ব্যবহারের জন্য যে অর্থ ব্যয় করা হয় তাকে মূলধনজাতীয় ব্যয় বলা হয়। মূলধনজাতীয় ব্যয় সাধারণত পুনঃপুন সংঘটিত হয় না এবং এই-ব্যয়ের সুফল অনেকদিন ধরে পাওয়া যায়। যেমন- জমিক্রয়, বাড়িঘর নির্মাণ ব্যয়, বৈদ্যুতিক সংস্থাপন ব্যয় ইত্যাদি।
প্রাপ্তি ও প্রদান হিসাব এবং আয়-ব্যয় হিসাবের মধ্যে দুটি পার্থক্য নিম্নরূপ:
| প্রাপ্তি ও প্রদান হিসাব | আয়-ব্যয় হিসাব |
| ১. এই হিসাব হতে হাতে নগদ ও ব্যাংক উদ্বৃত্ত জানা যায়। | ১. এই হিসাব হতে আয়ের উদ্বৃত্ত বা ঘাটতির পরিমাণ জানা যায়। |
| ২. এই হিসাবে চলতি, বিগত ও পরবর্তী বছরের সকল নগদ প্রাপ্তি ও প্রদানসমূহ নেওয়া হয়। | ২. এই হিসাবে শুধুমাত্র চলতি বছরের আয় ও ব্যয়সমূহ আসে। |
প্রাপ্তি ও প্রদান হিসাব এবং আয়-ব্যয় হিসাবের মধ্যে দুটি পার্থক্য নিম্নরূপ:
| প্রাপ্তি ও প্রদান হিসাব | আয়-ব্যয় হিসাব |
| ১. এই হিসাব হতে হাতে নগদ ও ব্যাংক উদ্বৃত্ত জানা যায়। | ১. এই হিসাব হতে আয়ের উদ্বৃত্ত বা ঘাটতির পরিমাণ জানা যায়। |
| ২. এই হিসাবে চলতি, বিগত ও পরবর্তী বছরের সকল নগদ প্রাপ্তি ও প্রদানসমূহ নেওয়া হয়। | ২. এই হিসাবে শুধুমাত্র চলতি বছরের আয় ও ব্যয়সমূহ আসে। |
প্রাপ্তি ও প্রদান হিসাব এবং নগদান হিসাবের মধ্যে দুটি পার্থক্য
নিম্নরূপ:
প্রাপ্তি ও প্রদান হিসাব | নগদান হিসাব |
১. প্রাপ্তি ও প্রদান হিসাব একটি নির্দিষ্ট সময় পর প্রস্তুত করা হয়। | ১. নগদ লেনদেনগুলোর তারিখের ক্রমানুসারে লিপিবদ্ধ করা হয়। |
২. এই হিসাব হতে হিসাব বছরের প্রারম্ভিক ও সমাপনী উদ্বৃত্ত জানা যায়। | ২. এই হিসাব হতে দৈনন্দিন নগদ উদ্বৃত্তের পরিমাণ জানা যায়। |
পরিবারের প্রারম্ভিক সম্পদ থেকে প্রারম্ভিক দায় দেনার পার্থক্যকে পারিবারিক তহবিল বলে। পরিবার কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়, এর কোনো প্রারম্ভিক মূলধন থাকে না। তবে পরিবারের তহবিল নির্ণয় করা হয়। পারিবারিক তহবিল আর্থিক অবস্থার বিবরণীতে দায় হিসেবে প্রদর্শন করা হয়। আয়-ব্যয় বিবরণীর ব্যয়াতিরিক্ত আয় পারিবারিক তহবিলে যোগ হয় এবং ঘাটতি হলে পারিবারিক তহবিল থেকে বাদ দিয়ে দেখানো হয়।
পারিবারিক তহবিল = প্রারম্ভিক সম্পদ প্রারম্ভিক দায়
= (নগদ তহবিল + তৈজসপত্র + সঞ্চয়পত্র) (১০% ব্যাংক ঋণ +পাওনাদার)
= ১,৬০,০০০ টাকা।
পরিবার, সমাজ তথা রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য যেকোনো ছোট খাটো আত্মকর্মসংস্থানমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা যায়। হাঁস-মুরগী প্রতিপালন, মৎস্য চাষ, গবাদি পশু পালন, মৌমাছি চাষ, তাঁত ও কুটির শিল্প ইত্যাদি প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। যেকোনো ব্যক্তিই এসব আত্মকর্মসংস্থানমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। আত্মকর্মসংস্থানমূলক প্রকল্পের সফলতা নির্ভর করে উদ্যোক্তার দক্ষতা, মেধা এবং নির্ভুল হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার উপর।
হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে জ্ঞান আহরণ করে একদিকে যেমন পারিবারিক বাজেট ও পারিবারিক আয় ও ব্যয়ের সার্বিক হিসাব রেখে পরিবার সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা যায়, তেমনি পারিবারিকভাবে ছোটখাটো আত্মকর্মসংস্থানমূলক উদ্যোগ যেমন হাঁস-মুরগি প্রতিপালন, মৎস্য ও চিংড়ির চাষ, গবাদিপশু প্রতিপালন, মৌমাছি চাষ, হস্তচালিত তাঁত ও কুটিরশিল্প ইত্যাদি করে পারিবারিক আয় বাড়ানোর ব্যবস্থা করা যায়। শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতী একে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে সচ্ছল জীবনযাপন করতে পারে। এসব আত্মকর্মসংস্থানমূলক উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করে সঠিকভাবে এর আয় ও ব্যয় নির্ধারণ করার উপর। নির্ভুল হিসাবরক্ষণ ও উপযুক্ত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নির্ধারিত আয় ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করে লাভজনক ফলাফল অর্জন করা সম্ভব।
হিসাব নিকাশের ক্ষেত্রে প্রতিটি পরিবার হচ্ছে একটি অমুনাফাভোগী চলমান প্রতিষ্ঠান।
পারিবারিক হিসাব ব্যবস্থার প্রধান উদ্দেশ্য আয় বুঝে ব্যয় করা।
পারিবারিক হিসাব নিকাশের প্রধান বৈশিষ্ট্য পাঁচটি।
পারিবারিক হিসাব নিকাশের ক্ষেত্রে লাভ-ক্ষতির প্রশ্ন নেই কারণ পরিবার অমুনাফাভোগী চলমান প্রতিষ্ঠান।
পারিবারিক হিসাব পেশ করতে হয় কারও নিকট নয়।
পারিবারিক হিসাব নিকাশ নিরীক্ষার প্রয়োজন হয় না।
পারিবারিক হিসাব রাখলে বৃদ্ধি পায় সঞ্চয়ের প্রবণতা।
সঞ্চয়ের প্রবণতা পারিবারিক হিসাব নিকাশের একটি প্রয়োজনীয়তা।
বাজেটের উদ্দেশ্য ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা।
সরকার, আত্মীয়-স্বজন, শিষ্য বা মুরিদদের নিকট থেকে প্রাপ্ত সাহায্য বা দান পারিবারিক আয়।
পারিবারিক আয় আসে পরিবারের আয়ের বিভিন্ন উৎস. থেকে।
গায়কের গান গেয়ে প্রাপ্ত অর্থ পেশা হতে আয়।
বাসস্থান খাতে ব্যয় ৩০% থেকে ৪০%।
বস্ত্র খাতে ব্যয় ৫% থেকে ১০%।
খাদ্য খাতে ব্যয় ২০% থেকে ২৫%।
শিক্ষা খাতে ব্যয় ১০% ১৫%।
যানবাহন খাতে ব্যয় ১৫%-২০%।
পরিবারের আয়গুলো হলো বেতন বা মজুরি, ব্যবসায় থেকে প্রাপ্ত লাভ বা মুনাফা।
পরিবারের দৈনন্দিন বা স্বাভাবিক সকল প্রাপ্তি বা জমাকে বলা হয় মুনাফাজাতীয় আয়।
মুনাফাজাতীয় পারিবারিক আয় ব্যাংকে জমা টাকার ওপর প্রাপ্ত সুদ, পরিবারের সদস্যদের উপার্জিত মজুরি, বেতন, কমিশন, নিয়মিতভাবে প্রাপ্ত সাহায্য বা দান, প্রাপ্ত বাড়িভাড়া, বিনিয়োগের ওপর সুদ, পণ্যদ্রব্য বিক্রয়লব্ধ অর্থ ইত্যাদি।
মুনাফাজাতীয় পারিবারিক ব্যয় দৈনন্দিন বাজার খরচ, শিক্ষা খরচ, চিকিৎসা খরচ, আপ্যায়ন খরচ, দান-খয়রাত, কৃষি খরচ, যাতায়াত খরচ, মেরামত খরচ, কাপড়চোপড় ক্রয়, ঋণের সুদ প্রদান ইত্যাদি।
মূলধনজাতীয় পারিবারিক আয় সম্পত্তি বিক্রয় করে প্রাপ্ত অর্থ, ঋণের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ, সরকার বা সাহায্য সংস্থার নিকট থেকে প্রাপ্ত এককালীন অনুদান, অভিভাবক কর্তৃক নবগঠিত পরিবারকে এককালীন দান ইত্যাদি।
মূলধনজাতীয় পারিবারিক ব্যয় জমি ক্রয়, বাড়িঘর নির্মাণ ব্যয়, আসবাবপত্র ক্রয়, টেলিভিশন ও ফ্রিজ ক্রয়, বৈদ্যুতিক সংস্থাপন ব্যয়, সাইকেল ক্রয় ইত্যাদি।
পরিবারের সদস্যদের পেশা থেকে যে অর্থ প্রাপ্তি ঘটে তা পারিবারিক আয়।
খাতা, কাগজ, পেন্সিল ও কলম প্রভৃতি খরচকে বলা হয় মনিহারি খরচ।
পারিবারিক আর্থিক বিবরণীর সঠিক রূপ প্রাপ্তি ও প্রদান হিসাব, আয়-ব্যয় হিসাব ও আর্থিক অবস্থার বিবরণী।
পারিবারিক আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করা হয় ৩টি পর্যায়ে বা ধাপে।
পরিবারের আয়ব্যয় বিবরণীর আয় উদ্বৃত্ত দ্বারা সৃষ্টি হয় পারিবারিক তহবিল।
আয় উদ্বৃত্ত পারিবারিক তহবিলের সাথে যোগ করা হয়।
পরিবারের আয়ব্যয় বিবরণীর আয়াতিরিক্ত ব্যয় দ্বারা পারিবারিক তহবিল হ্রাস পায়।
প্রারম্ভিক সম্পদ প্রারম্ভিক দায় পারিবারিক তহবিল।
পারিবারিক তহবিল আর্থিক অবস্থার বিবরণীতে দেখানো হয় দায় হিসাবে।
পারিবারিক আয়ব্যয় বিবরণীর ব্যয়ের দিকের যোগফল আয়ের দিকের যোগফল অপেক্ষা বেশি হলে, পার্থক্যকে বলা হয় ঘাটতি বা আয়াতিরিক্ত ব্যয়।
পারিবারিক তহবিল সৃষ্টি হয় আয় উদ্বৃত্ত দ্বারা।
আনুমানিক ব্যয় থেকে প্রকৃত ব্যয় কম হলে উদ্বৃত্ত বাজেট হয়।
পারিবারিক বাজেট বলতে বোঝায় পরিবারের ভবিষ্যৎ আয়-ব্যয়ের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা।
পারিবারিক বাজেট প্রস্তুত করা হয় সপ্তাহ, মাস কিংবা বছরের জন্য।
নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট আয়ের ভিত্তিতে ব্যয় ও সঞ্চয় করার পর্ব পরিকল্পনাকে বলে বাজেট।
পরিবারের ভবিষ্যৎ আয়-ব্যয়ের অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকে বলে পারিবারিক বাজেট।
আর্থিক সচ্ছলতা আসে সঞ্চয়ী ও মিতব্যয়ী হলে।
পারিবারিক বাজেট তৈরির সময় উচিত নয় অতিরিক্ত আয়ের হিসাব করা।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
