যেখানে কোনো জীব স্বচ্ছন্দে বসবাস করতে পারে সেটাই জীবের আবাসস্থল। বিভিন্ন জীব বিভিন্ন ধরনের আবাসস্থলে জন্মে ও বসবাস করে। জল বা স্থলভেদে যেমন বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ জন্মে। তেমনি বিভিন্ন ধরনের আবাসস্থলে ভিন্ন ভিন্ন রকমের প্রাণী বাস করে। যেমন-স্থলজ আবাসস্থল, জলজ আবাসস্থল, মেরুজ আবাসস্থল ইত্যাদি।
জলজ আবাসস্থলের মধ্যে স্বাদু পানির পরিবেশ অন্যতম।
যেমন- নদী, পুকুর, খাল, বিল ইত্যাদি। এই পরিবেশে জন্মানো বিভিন্ন. উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে- শাপলা, পদ্ম, কচুরিপানা, ক্ষুদিপানা, টোপাপানা ও বিভিন্ন ধরনের শৈবাল। অন্যদিকে প্রাণীর
মধ্যে রয়েছে- রুই, কাতলা, মৃগেল, পাঙ্গাসসহ অনেক ধরনের মাছ, কুমির, কাছিম, কাঁকড়া, শামুক, ঝিনুক, চিংড়ি ইত্যাদি।
জলজ প্রাণীতে বিভিন্ন ধরনের অভিযোজন ঘটে। যেমন-
১. পানির ঢেউয়ের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য মাছের দেহের মধ্যভাগ চ্যাপ্টা এবং মাথা ও লেজের দিকে সরু হয়।
২. পানিতে ভেসে থাকা ও চলাচলের জন্য মাছের দেহে বায়ুথলি বা পটকা থাকে।
৩. পাখনা ও লেজ মাছকে সাঁতার কাটতে সহায়তা করে।
৪. মাছ ফুলকা দিয়ে পানিতে থাকা অক্সিজেন গ্রহণ করে শ্বাসকার্য চালায়।
৫. সামুদ্রিক মেরুদণ্ডী প্রাণীদের ফুসফুস দীর্ঘসময় ধরে বাতাস জমা রাখে।
৬. শিকার ও আত্মরক্ষার জন্য এরা আলো, রং ও বিষাক্ত তরল ব্যবহার করতে পারে।
৭. জলাভূমির পানি কমে গেলে কিছু কিছু প্রাণী অল্প পানিতে বা কাদার মধ্যে লুকিয়ে আত্মরক্ষা করে।।
যেখানে কোনো জীব স্বচ্ছন্দে বসবাস করতে পারে সেই স্থানকে জীবের আবাসস্থল বলে। উদাহরণ- বনভূমি, মরুভূমি, তৃণভূমি, জলাভূমি, সমুদ্র ইত্যাদি।
জীবের বসবাসের জন্য বিভিন্ন ধরনের পরিবেশ রয়েছে। যেমন- স্থলজ, জলজ, মেরু অঞ্চলের পরিবেশ ইত্যাদি।
জীবের স্থলজ আবাসস্থল তিন প্রকার। যথা-
১. বনজ, ২. মরুজ ও ৩. তৃণভূমি।
যখন কোনো স্থানে প্রাকৃতিকভাবে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ প্রচুর পরিমাণে জন্মায় তখন সেখানে বনের সৃষ্টি হয়। যেমন-আমাদের দেশের শালবন, সুন্দরবন ইত্যাদি।
ব্যাঙের তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. ব্যাঙ উভচর প্রাণী।
২. এরা শিশু অবস্থায় (ব্যাঙাচি) পানিতে বাস করে।
৩. এরা বড়ো হয়ে মাটি ও পানি উভয় স্থানে বসবাস করে।
বনের উদ্ভিদসমূহের মধ্যে শাল বা গজারি, মেহগনি, সুন্দরী, গেওয়া, গর্জন অন্যতম। এছাড়াও আছে গুল্ম, তৃণ, মস ও ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদ।
বনজ পরিবেশে অনেক প্রাণী বাস করে। যেমন- আমাদের সুন্দরবনে বাঘ, হরিণ, বানর, কুমির, বিভিন্ন ধরনের পাখি ইত্যাদি।
মাটির গর্তে বাস করে এমন তিনটি প্রাণী হলো-
১. সাপ, ২. ইঁদুর ও ৩: কাঁকড়া।
মরুভূমির তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. মরুভূমিতে উচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করে।
২. বৃষ্টিপাত কম হয়।
৩. দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যাপক পার্থক্য থাকে।
মরুজ পরিবেশে অনেক উদ্ভিদ পাওয়া যায়। যেমন-খেজুর, ফণীমনসা, বিভিন্ন ধরনের ক্যাকটাস, গুল্ম ইত্যাদি।
মরুজ পরিবেশে বিভিন্ন ধরনের প্রাণী বাস করে। যেমন-উট, গিরগিটি, টিকটিকি, সান্ডা, বিভিন্ন ধরনের পতঙ্গ ইত্যাদি।
মেরু অঞ্চলের তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. ভূমি বরফে ঢাকা থাকে।
২. এ অঞ্চলে খুবই কম-উদ্ভিদ জন্মে।
৩. এ অঞ্চলে দীর্ঘ শীতকাল দেখা যায়।
মেরু অঞ্চলে খুবই কম উদ্ভিদ জন্মে। এদের মধ্যে আছে-আর্কটিক উইলো, কটন গ্রাস, লাইকেন ইত্যাদি।
মেরু অঞ্চলে কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্যের প্রাণী বাস করে।
যেমন- শ্বেত ভল্লুক, সিল, পেঙ্গুইন ইত্যাদি।
সারা বছর পানি থাকে এমন আবাসস্থলগুলোই হলো জলজ আবাসস্থল। উদাহরণ- সমুদ্র, নদী, পুকুর, খাল, বিল ইত্যাদি।
স্বাদু পানির জলজ পরিবেশ; যেমন- নদী, পুকুর, খাল, বিল ইত্যাদি। এই পরিবেশে জন্মানো বিভিন্ন উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে শাপলা, পদ্ম, কচুরিপানা, ক্ষুদিপানা, টোপাপানা, বিভিন্ন ধরনের শৈবাল ইত্যাদি।
স্বাদু পানির জলজ পরিবেশ; যেমন- নদী, পুকুর, খাল, বিল ইত্যাদি। এই পরিবেশে জন্মানো প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে রুই, কাতলা, মৃগেল, পাঙ্গাস, কুমির, কাছিম, কাঁকড়া, শামুক, ঝিনুক, চিংড়ি ইত্যাদি।
সামুদ্রিক পরিবেশে বিভিন্ন ধরনের প্রাণী বসবাস করে। এদের মধ্যে রয়েছে তিমি, ডলফিন, অক্টোপাস, হাঙর, লাল কাঁকড়া, তারামাছ, জেলিফিশসহ অসংখ্যা প্রজাতির মাছ। এছাড়াও সমুদ্রের নোনা পানির মাছের মধ্যে প্রধান হলো রূপচাঁদা, লইট্যা, লাক্ষা, কোরাল, স্যামন, টুনা, ইলিশ ইত্যাদি।
জলজ আবাসস্থলের যেসব নিচু এলাকা বছরের বেশির ভাগ সময় জলমগ্ন থাকে এবং বাকি সময় শুষ্ক থাকে সেসব স্থানকে জলাভূমি বলে। যেমন- বাংলাদেশের হাওড়, বাঁওড় ইত্যাদি।
স্বাদু পানির তিনটি জলাভূমি হলো-
১. রাতারগুল,
২. হাকালুকি হাওড়,
৩. চিত্রা বিল।
পানির গভীরতার সাথে সাথে জলাভূমির জীববৈচিত্র্যের পরিবর্তন হয়। এখানকার বিশেষ উদ্ভিদ হলো কলমি, হেলেঞ্চা, হিজল, করচ, বরুন ইত্যাদি। এ পরিবেশে বিভিন্ন ধরনের প্রাণী যেমন- মাছ, সাপ, ব্যাঙ এবং জলচর পাখি দেখা যায়।
নির্দিষ্ট বাসস্থানের বা পরিবেশের সাথে জীবের খাপ খাইয়ে বেঁচে থাকার প্রক্রিয়াকে অভিযোজন বলে। যেমন-বায়ুকুঠুরি জলজ পরিবেশে উদ্ভিদের একটি অভিযোজন। বায়ুকুঠুরি কচুরিপানাকে জলজ পরিবেশে ভেসে থাকতে সাহায্য করে।
কচুরিপানার মধ্যে যে ফাঁপা অংশ থাকে তাকে বায়ুকুঠুরি বলে। এই বায়ুকুঠুরি জলজ পরিবেশে কচুরিপানাকে ভেসে থাকতে সাহায্য করে। বায়ুকুঠুরি জলজ পরিবেশে উদ্ভিদের একটি অভিযোজন।
মুরগির অভিযোজনিক কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেমন- পা-গুলো শক্ত, লম্বা এবং শক্ত নখরযুক্ত হয়। এজন্য মুরগি মাটি খুঁড়ে পোকা বের করে খেতে পারে।
জীবের দৈহিক পরিবর্তনের তিনটি কারণ হলো-
১. বাসস্থান,
২. আত্মরক্ষা ও
৩. প্রজনন বা বংশবৃদ্ধির জন্য।
স্থলজ পরিবেশে প্রচুর পরিমাণে বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ জন্মে। 'নিচে এ পরিবেশের উদ্ভিদের তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখা হলো-
১. এদের কান্ড শক্ত ও মোটা এবং শাখা-প্রশাখা যুক্ত।
২. মূল মোটা, শক্ত ও বিস্তৃত শাখা-প্রশাখা যুক্ত।
৩: কাণ্ড দৃঢ়ভাবে মাটির সাথে আটকে থাকে।
শীতকালে বায়ু শুষ্ক থাকায় উদ্ভিদের পাতার মাধ্যমে পানি বের হয়ে যাওয়ার পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়। এ কারণে পানিশূন্য হয়ে উদ্ভিদের মৃত্যু হতে পারে।
শিকারি প্রাণীর দেহে বিভিন্ন ধরনের অভিযোজন দেখা যায়। যেমন- তীক্ষ্ণ ঠোঁট, ধারালো নখর, দাঁত ইত্যাদি। এ ধরনের বৈশিষ্ট্যের কারণেই শিকারি প্রাণী সহজেই শিকার ধরা ও মাংস ছিঁড়ে খেতে পারে।
পাখির তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. এরা মূলত আকাশচারী।
২. এদের ডানা আছে এবং হাড়ে মজ্জা কম থাকায় দেহ হালকা হয়।
৩. দেহে বায়ুভর্তি খলি থাকে, যা উড়তে সহায়তা করে।
শিকারি পাখি ঈগলের অভিযোজনিক বৈশিষ্ট্য হলো-
১. এদের দৃষ্টিশক্তি তীক্ষ্ণ।
২. ধারালো বড়শির মতো বাঁকানো ঠোঁট।
৩. নখরযুক্ত পা এবং শক্তিশালী ডানা আছে।
গিরগিটি ও প্রজাপতি বিভিন্ন কারণে বর্ণ পরিবর্তন করে। যেমন-
১. আত্মরক্ষার জন্য।
২. তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে।
৩. নিজেদের প্রজাতির সাথে যোগাযোগের জন্য।
মরুজ পরিবেশের প্রাণীদের অভিযোজনিক বৈশিষ্ট্য হলো-
১. মরুজ পরিবেশের প্রাণীরা শরীরে পানি ও খাদ্য সঞ্চয় করে রাখতে পারে। যেমন- উট।
২. সূর্যতাপ থেকে বাঁচার জন্য ছোট ছোট প্রাণীরা মাটির নিচে গর্ত করে বসবাস করে।
মেরু অঞ্চলের প্রাণীদের অভিযোজনিক বৈশিষ্ট্য হলো-
১. তীব্র ঠান্ডায় উষ্ণ থাকার জন্য মেরু অঞ্চলের প্রাণীদের শরীরের চামড়ার নিচে পুরু চর্বির স্তর থাকে।
২. এদের অধিকাংশই বরফের মতো সাদা লোমযুক্ত হওয়ায় সহজেই লুকিয়ে থেকে আত্মরক্ষা ও শিকার করতে পারে।
৩. এদের লম্বা, বাঁকানো এবং শক্তিশালী পা বরফে চলার জন্য অভিযোজিত হয়েছে।
জলজ উদ্ভিদের অভিযোজন হলো-
১. জলজ পরিবেশে পানির ঢৈউয়ের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য উদ্ভিদের দেহ নরম ও মূল সংক্ষিপ্ত হয়।
২. ভেসে থাকার জন্য দেহে প্রচুর বায়ুকুঠুরি থাকে।
৩. এরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে অঙ্গজ বংশবৃদ্ধি করে।
সামুদ্রিক পরিবেশের প্রাণীদের তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. সামুদ্রিক মাছের মাথা ও লেজের দিকে সরু এবং মধ্যভাগ চওড়া হয়।
২. পাখনা ও লেজ সাঁতার কাটতে সাহায্য করে।
৩. সামুদ্রিক মেরুদণ্ডী প্রাণীদের ফুসফুস দীর্ঘ সময় ধরে বাতাস জমা রাখে।
উদ্ভিদ ও প্রাণীসহ আরও নানা রকমের জীব নিয়ে জীবজগৎ গঠিত।
অর্কিড বড়ো উদ্ভিদের গায়ে আশ্রয় নিয়ে বেঁচে থাকে।
সাপ, ইঁদুর ও কাঁকড়া মাটির গর্তে বাস করে।
সামুদ্রিক পরিবেশের প্রধান উদ্ভিদ হলো বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক শৈবাল। যেমন- ল্যামিনারিয়া, সারগাসাম ইত্যাদি। এছাড়াও সামুদ্রিক ঘাস এর মধ্যে রয়েছে যস্টেরা, হ্যালোডিউল ইত্যাদি।
পানিতে সাঁতার কাটার প্রয়োজনে হাঁসের পা-এর গঠনগত পরিবর্তন ঘটেছে। এ ধরনের পরিবর্তনে হাঁসের পা-গুলো পাতার মতো পর্দাবিশিষ্ট হয়। এ কারণে হাঁস সহজে পানিতে সাঁতার কাটতে পারে।
মরুজ উদ্ভিদের অভিযোজনিক বৈশিষ্ট্য হলো-
১. এ পরিবেশের কম বৃষ্টিপাত এবং উষ্ণ ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে উদ্ভিদগুলো ছোট ছোট ঝোপ ঝাড়ের মতো হয়।
২. পানি জমা করে রাখার জন্য মরুজ গাছের পাতা ও কান্ড মোটা, চ্যাপ্টা এবং রসালো হয়।
৩. আত্মরক্ষার জন্য কোনো কোনো গাছে পাতার কাঁটায় রূপান্তরিত হয়। যেমন- ক্যাকটাস, খেজুর ইত্যাদি।
মরুজ পরিবেশের প্রাণীদের অভিযোজনিক বৈশিষ্ট্য হলো-
১. মরুজ পরিবেশের প্রাণীরা শরীরে পানি ও খাদ্য সঞ্চয় করে রাখতে পারে। যেমন- উট।
২. সূর্যতাপ থেকে বাঁচার জন্য ছোট ছোট প্রাণীরা মাটির নিচে গর্ত করে বসবাস করে।
Related Question
View Allজলজ উদ্ভিদকে পানিতে ভেসে থাকতে সাহায্য করে বায়ুকুঠুরি l
তীব্র ঠান্ডায় প্রাণীর দেহকে গরম রাখে চর্বিন্তর l
ছায়াযুক্ত স্থানের একটি উদ্ভিদ হলো ফার্ন
মাটির পরিবেশ হলো স্থলজ আবাসস্থল।
স্যাঁতসেঁতে, ভেজা ও ঠান্ডা স্থানে জন্মে মস ও ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদ।
বড়ো উদ্ভিদের গায়ে আশ্রয় নিয়ে বেঁচে থাকে অর্কিড ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!