একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়। এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। যেমন-মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম Homo sapiens। বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন অথবা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়।
প্রজাতি হলো শ্রেণিবিন্যাসের সবচেয়ে নিচের ধাপ বা একক। প্রকৃতি বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন। প্রতিটি প্রজাতি আপন বৈশিষ্ট্যে স্বতন্ত্র। যেমন-মানুষ, কুনোব্যাঙ, কবুতর ইত্যাদি এক একটি প্রজাতি।
পরিফেরা পর্বের প্রাণীদেরকে স্পঞ্জ বলা হয়। এদের দেহপ্রাচীর অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত এবং এই ছিদ্রপথে পানির সাথে অক্সিজেন ও খাদ্যবস্তু প্রবেশ করে।
স্পঞ্জের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. এরা সামুদ্রিক প্রাণী।
২. দলবদ্ধ হয়ে বসবাস করে।
পরিফেরা পর্বের দুটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলো-
১. সরলতম বহুকোষী প্রাণী ও ২. দেহপ্রাচীর অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত।
পরিফেরা পর্বভুক্ত দুটি প্রাণীর নাম হলো-
১. Spongilla, ও ২. Scypha.
নিডারিয়া পর্বের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. দেহ দুটি ভ্রূণীয় কোষস্তর দ্বারা গঠিত।
২. এক্টোডার্মে নিডোসাইট নামক বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ কোষ থাকে।
নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের দেহগহ্বরকে সিলেন্টেরন বলে। জেলিফিস, হাইড্রা ইত্যাদি প্রাণীদের শরীরে এটি পাওয়া যায়। এটির মাধ্যমে দেহে পানি চলাচল করে। যা, কোষগুলোর জন্য পুষ্টি ও অক্সিজেন সরবরাহ করে। এটি একধারে পরিপাক ও সংবহনে অংশ নেয়
নিডোসাইট হচ্ছে বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ কোষ যা নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের এক্টোডার্মে দেখা যায়। এ কোষগুলো শিকার ধরা, আত্মরক্ষা, চলন ইত্যাদি কাজে অংশ নেয়।
প্লাটিহেলমিনথেস পর্বের দুটি প্রাণী হচ্ছে-
১. যকৃৎ কৃমি এবং ২. ফিতা কৃমি।
ফিতা কৃমির দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. দেহ পুরু কিউটিকল দ্বারা আবৃত।
২. দেহে চোষক ও আংটা থাকে।
নেমাটোডা পর্বের দুটি উদাহরণ হচ্ছে-
১. গোল কৃমি ও ২. ফাইলেরিয়া কৃমি।
নেমাটোডা পর্বের দুটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো-
১. দেহ নলাকার ও পুরু ত্বক দ্বারা আবৃত।
২. পৌষ্টিকনালি সম্পূর্ণ, মুখ ও পায়ু ছিদ্র উপস্থিত।
যকৃৎ কৃমি ও গোল কৃমির মধ্যে দুটি পার্থক্য হলো-
যকৃৎ কৃমি | গোল কৃমি |
১. দেহ চ্যাপ্টা ও উভলিঙ্গ। | ১. দেহ নলাকার ও একলিঙ্গ। |
২. পৌষ্টিকতন্ত্র অসম্পূর্ণ। | ২. পৌষ্টিকনালি সম্পূর্ণ। |
অ্যানেলিডা পর্বের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. দেহ নলাকার ও খণ্ডিত।
২. নেফ্রিডিয়া নামক রেচন অঙ্গ থাকে।
অ্যানেলিডা পর্বভুক্ত দুটি প্রাণী হলো- ১. কেঁচো ও ২. জোঁক।
প্রাণিজগতের সবচেয়ে বড় পর্বটি হচ্ছে আর্থ্রোপোডা। নিচে আর্থ্রোপোডা পর্বের দুটি বৈশিষ্ট্য দেওয়া হলো-
১. দেহ মস্তক, বক্ষ ও উদর এই তিনটি অঞ্চলে বিভক্ত ও সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ বিদ্যমান।
২. নরম দেহ কাইটিন সমৃদ্ধ শক্ত আবরণী দ্বারা গঠিত।
আরশোলার দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. এরা সর্বভুক প্রাণী।
২. এদের সম্পূর্ণ দেহ কাইটিনযুক্ত শক্ত আবরণী দ্বারা আবৃত।
সিলোম ও হিমোসিলের মধ্যে দুটি পার্থক্য হলো-
সিলোম | হিমোসিল |
১. বহুকোষী প্রাণীর পৌষ্টিকনালি ও দেহপ্রাচীরের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থান। | ১. রক্তপূর্ণ দেহগহ্বর। |
২. পুষ্টি পদার্থ পরিবহন করে না। | ২. পুষ্টি পদার্থ পরিবহন করে। |
কেঁচোর দেহ নলাকার ও খণ্ডায়িত। দেহের প্রতিটি খন্ডে সিটা থাকে যা চলাচলে সহায়তা করে। রেচন অঙ্গ হিসেবে নেফ্রিডিয়া থাকে। কেঁচোর এই সবগুলো বৈশিষ্ট্য অ্যানেলিডা পর্বের সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় কেঁচোকে অ্যানেলিডা পর্বের প্রাণী বলা হয়।
মলাস্কা পর্বের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. দেহ নরম এবং শক্ত খোলস দ্বারা আবৃত থাকে।
২. পেশিবহুল পর্দা দিয়ে এরা চলাচল করে।
একাইনোডার্মাটা পর্বের দুটি উদাহরণ হলো-
১. তারামাছ ও ২. সমুদ্র শশা।
কর্ডাটা পর্বের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. পৃষ্ঠদেশে একক, ফাঁপা স্নায়ুরজ্জু থাকে।
২. এই পর্বের প্রাণীরা সারাজীবন অথবা ভ্রুণ অবস্থায় পৃষ্ঠীয়দেশ বরাবর নটোকর্ড অবস্থান করে।
কর্ডাটা পর্বের উপপর্ব তিনটি। যথা-
১.ইউরোকর্ডাটা,
২. সেফালোকর্ডাটা ও
৩. ভার্টিব্রাটা
কর্ডাটা পর্বের প্রাণীরা পৃথিবীর সকল পরিবেশে বাস করে। এদের বহু প্রজাতি ডাঙ্গায় বাস করে। জলচর কর্ডাটাদের মধ্যে বহু প্রজাতি স্বাদু পানিতে অথবা সমুদ্রে বাস করে। বহু প্রজাতি বৃক্ষবাসী, মরুবাসী, মেরুবাসী, গুহাবাসী ও খেচর। এছাড়াও কর্ডাটা পর্বের বহু প্রাণী বহিঃপরজীবী হিসেবে অন্য প্রাণীর দেহে সংলগ্ন হয়ে জীবনযাপন করে।
কর্ডাটা পর্বের দুটি প্রাণীর নাম হলো-
১. কুনোব্যাঙ ও ২. মানুষ।
মানুষকে কর্ডাটা পর্বের প্রাণী বলা হয়। কারণ, মানুষের জীবনচক্রে কোনো একসময় পৃষ্ঠীয়দেশ বরাবর নটোকর্ড ছিল যা পরবর্তীতে মেরুদণ্ডে পরিণত হয়। এদের পৃষ্ঠদেশে একক, ফাঁপা মেরুরজ্জু বিদ্যমান। অর্থাৎ মানুষের বৈশিষ্ট্যাবলি কর্ডাটা পর্বের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় মানুষকে কর্ডাটা পর্বের প্রাণী বলা হয়।
ইউরোকর্ডাটা উপপর্বের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. প্রাথমিক অবস্থায় ফুলকা রন্দ্র, পৃষ্ঠীয় ফাঁপা স্নায়ুরজ্জু থাকে।
২. শুধুমাত্র লার্ভা দশায় এদের লেজে নটোকর্ড থাকে।
সেফালোকর্ডাটা কর্ডাটা পর্বের একটি উপপর্ব। এই উপপর্বের প্রাণীদের দেহে সারাজীবন নটোকর্ডের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
এরা দেখতে মাছের মতো। উদাহরণ- Branchiostoma.
গঠন ও বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে মেরুদন্ডী প্রাণীদের ৭টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১. সাইক্লোস্টোমাটা
২. কনড্রিকথিস,
৩. অসটিকথিস,
৪. উভচর,
৫. সরীসৃপ,
৬. পক্ষীকুল ও
৭. স্তন্যপায়ী।
সাইক্লোস্টোমাটার দুটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো-
১. এদের দেহে আঁইশ বা যুগ্ম পাখনা অনুপস্থিত।
২. মুখছিদ্র গোলাকার এবং চোয়ালবিহীন।
অ্যানেলিডা ও আর্থ্রোপোডা পর্বের দুটি পার্থক্য হলো-
অ্যানেলিডা | আর্থোপোডা |
১. চলন অঙ্গ সিটা | ১. চলন অঙ্গ সন্ধিযুক্ত পা। |
২. রেচনঅঙ্গ নেফ্রিডিয়া। | ২. রেচনঅঙ্গ মালপিজিয়ান নালিকা। |
কনড্রিকথিস ও অস্টিকথিস-এর মধ্যে দুটি পার্থক্য হলো-
| কনড্রিকথিস | অস্টিকথিস |
| ১. কঙ্কাল তরুণাস্থিময়। | ১. কঙ্কাল অস্থিময়। |
| ২. লেজের দুটি অংশ ভিন্ন আকৃতির। | ২. লেজের দুটি অংশ একই রকম। |
হাঙর ও ইলিশ মাছের মধ্যে দুটি পার্থক্য হলো-
হাঙর | ইলিশ |
১. দেহে প্ল্যাকয়েড আঁইশ দ্বারা আবৃত। | ১. দেহ সাইক্লয়েড ও টিনয়েড |
২. লেজ হেটেরোসার্কাল। | ২. লেজ হোমোসার্কাল |
কর্ডাটা পর্বের সদস্যকে মেরুদণ্ডী বলা হয় কারণ কর্ডাটা পর্বের অন্তর্ভুক্ত ভাটিব্রাটা উপপর্বের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য রয়েছে যার ফলে কর্ডাটা পর্বের সদস্যকে মেরুদণ্ডী বলা হয়। বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-
১. নটোকর্ড কোমলাস্থি বা অস্থিনির্মিত মেরুদণ্ড দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়।
২. পৃষ্ঠীয় স্নায়ুরজ্জুর সম্মুখপ্রান্ত রূপান্তরিত হয়ে মস্তিষ্ক গঠন করে।
সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীই কর্ডাটা পর্বভুক্ত। কারণ, কর্ডাটা পর্বের প্রাণীদের সারাজীবন অথবা ভূণ অবস্থায় দেহের পৃষ্ঠীয়দেশ বরাবর একটি নরম, দণ্ডাকার, দৃঢ় ও অখন্ডায়িত নটোকর্ড থাকে। শুধু উন্নত কর্ডাটায় এটি মেরুদণ্ড দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। অর্থাৎ শুধু উন্নত কর্ডাটা প্রাণীদের মেরুদণ্ড থাকে, নটোকর্ড বিশিষ্ট অন্য কর্ডাটাদের মেরুদণ্ড থাকে না। এজন্য বলা হয়, সকল মেরুদন্ডী প্রাণী কর্ডাটা পর্বের হলেও সকল কর্ডাটা পর্বের প্রাণী মেরুদণ্ডী নয়।
চিংড়ির চেয়ে মাছ উন্নত কারণ, চিংড়ির দেহে নটোকর্ড এর উপস্থিতি নেই কিন্তু মাছের দেহে নটোকর্ড উপস্থিত। মাছের ক্ষেত্রে হৃৎপিন্ড বিদ্যমান যা চিংড়ির নেই। মাছের দেহ সাইক্লয়েড অথবা টিনয়েড আঁইশ দ্বারা আবৃত কিন্তু চিংড়ির দেহ কাইটিন নির্মিত শক্ত খোলস দ্বারা আবৃত।
করাত মাছ কনড্রিকথিস শ্রেণিভুক্ত। কনড্রিকথিস শ্রেণির মাছদের কঙ্কাল তরুণাস্থিময়। মুখছিদ্র দেহের অঙ্কীয় দেশে অবস্থিত। দেহ প্ল্যাকয়েড আঁইশ দ্বারা আবৃত, মাথার দুপাশে ৫-৭জোড়া ফুলকাছিদ্র থাকে। কানকো থাকে না, লেজের দুটি অংশ ভিন্ন আকৃতির অর্থাৎ হেটেরোসার্কাল।
অস্টিকথিস শ্রেণির দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. মুখছিদ্র দেহের সম্মুখ প্রান্তে অবস্থিত।
২. লেজের দুটি অংশ একই রকম অর্থাৎ হোমোসার্কাল।
ইলিশ মাছ ও সি-হর্স একই শ্রেণিভুক্ত মাছ। কারণ দুটি মাছের মুখছিদ্র দেহের সম্মুখপ্রান্তে অবস্থিত। উভয় মাছেরই মাথার দুইপাশে চারজোড়া ফুলকা থাকে এবং ফুলকাগুলো কানকো দিয়ে ঢাকা থাকে।
এছাড়াও উভয় মাছের লেজ হোমোসার্কাল ধরনের।
উভচরের দুটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো-
১. দেহত্বক আঁইশবিহীন।
২. ত্বক নরম, পাতলা, ভেজা ও গ্রন্থিযুক্ত।
সরীসৃপ শ্রেণির দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. বুকে ভর করে চলে।
২. ত্বক শুষ্ক ও আঁইশযুক্ত।
কুনোব্যাঙ ও দোয়েল পাখির মধ্যে দুটি পার্থক্য হলো-
কুনোব্যাঙ | দোয়েল পাখি |
১. দেহত্বক আঁইশবিহীন। | ১. দেহ পালকে আবৃত। |
২. শীতল রক্তের প্রাণী। | ২. উষ্ণ রক্তের প্রাণী। |
স্তন্যপায়ী প্রাণীদের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণী।
২. হৃৎপিন্ড চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট।
তিমি একটি জলজ প্রাণী অর্থাৎ জলে বাস করে। কিন্তু এরা বাচ্চা প্রসব করে এবং বাচ্চা মাতৃস্তন্য দুগ্ধে লালিত হয়। এ কারণেই তিমিকে স্তন্যপায়ী প্রাণী বলা হয়।
শ্রেণিবিন্যাসের ধাপ সাতটি। যথা- ১. জগৎ; ২. পর্ব; ৩.
শ্রেণি; ৪. বর্গ, ৫. গোত্র; ৬. গণ ও ৭. প্রজাতি।
শ্রেণিবিন্যাসের দুটি গুরুত্ব হলো-
১. শ্রেণিবিন্যাসের সাহায্যে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সহজে, অল্প পরিশ্রমে ও অল্প সময়ে পৃথিবীর সকল উদ্ভিদ ও প্রাণী সম্পর্কে জানা যায়।
২. প্রাণিকুলের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের বিভিন্ন তথ্য ও উপাত্ত পাওয়া যায়।
প্রাণীর দ্বিপদ নামে দুটি অংশ থাকে। এ অংশগুলো হলো- গণ ও প্রজাতি।
মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম হলো: Homo sapiens
আমার চেনাজানা পাঁচটি আর্থ্রোপোডার নাম হলো-
১. প্রজাপতি,
২. চিংড়ি,
৩. আরশোলা,
৪. মৌমাছি ও
৫. মশা।
চিংড়ি আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণী। এদের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-
১. দেহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত ও সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ বিদ্যমান।
২. মাথায় এক জোড়া পুঞ্জাক্ষি ও অ্যান্টেনা থাকে।
৩. নরম দেহ কাইটিন সমৃদ্ধ শক্ত আবরণী দ্বারা আবৃত।
৪. দেহের রক্তপূর্ণ গহ্বর হিমোসিল নামে পরিচিত।
স্তন্যপায়ী প্রাণীদের বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ-
১. এদের দেহ লোমে আবৃত থাকে।
২. ব্যতিক্রমী স্তন্যপায়ী প্রাণী ছাড়া এরা সবাই সন্তান প্রসব করে।
৩. শিশুরা মাতৃদুগ্ধ পান করে বড় হয়।
৪. এরা উষ্ণ রক্তের প্রাণী।
৫. চোয়ালে বিভিন্ন ধরনের দাঁত থাকে।
৬. হৃৎপিন্ড চার প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট।
ইউরোকর্ডাটার বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ-
১. প্রাথমিক অবস্থায় ফুলকারন্দ্র থাকে।
২. পৃষ্ঠীয় ফাঁপা স্নায়ুরজ্জু থাকে।
৩. শুধুমাত্র লার্ভা দশায় এদের লেজে নটোকর্ড থাকে।
উদাহরণ- অ্যাসিডিয়া।
পৃথিবীতে অসংখ্য বিচিত্র ছোট বড় প্রাণী বাস করে। এদের মধ্যে রয়েছে নানারকম মিল ও অমিল। এ বৈচিত্র্যময় প্রাণিকূলে রয়েছে আণুবীক্ষণিক প্রাণী অ্যামিবা থেকে শুরু করে বিশাল আকারের তিমি। প্রাণীর বিভিন্নতা নির্ভর করে পরিবেশের বৈচিত্র্যের উপর। ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশ ও বাসস্থানে প্রাণিবৈচিত্র্য ভিন্ন রকম হয়। বিশাল এই প্রাণিজগৎ সম্পর্কে জানা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। সহজে সুশৃঙ্খলভাবে বিশাল প্রাণিজগৎকে জানার জন্য এর বিন্যস্তকরণ প্রয়োজন, তার বিন্যস্ত করার পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। শ্রেণিবিন্যাস প্রাণিজগৎকে জানার পথ সহজ করে দিয়েছে।
এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-
• অমেরুদণ্ডী প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস করতে পারব;
• মেরুদণ্ডী প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস করতে পারব;
• জীবজগতের শ্রেণিবিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব।
Related Question
View Allযেসব প্রাণীর দেহকে কেন্দ্রীয় লম্ব অক্ষ বরাবর কেটে সদৃশ দুইয়ের বেশি সংখ্যক অংশে ভাগ করা যায়, তাদেরকে অরীয় প্রতিসম প্রাণী বলে।
দোয়েল পাখি উড়তে পারে কারণ দোয়েল পাখি Aves তথা পক্ষীকুল শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত একটি প্রাণী। এ পাখির অস্থি হালকা, ফাঁপা ও বায়ুপূর্ণ। এছাড়াও ফুসফুসের সাথে বায়ুথলি নামক বিশেষ ধরনের অঙ্গ উপস্থিত। যার কারণে দোয়েল পাখি সহজেই উড়তে পারে।
চিত্র: A এর প্রাণীটি হচ্ছে তেলাপোকা, যা আর্থ্রোপোডা পর্বভুক্ত। নিচে আর্থ্রোপোডা পর্বের সাধারণ বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হলো-
১.দেহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত ও সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ বিদ্যমান।
২. মাথায় একজোড়া পুঞ্জাক্ষি ও অ্যান্টেনা থাকে।
৩. নরম দেহ কাইটিন সমৃদ্ধ শক্ত আবরণী দ্বারা আবৃত।
৪. দেহের রক্তপূর্ণ গহ্বর হিমোসিল নামে পরিচিত।
যচিত্র: B হচ্ছে টিকটিকি যা কর্ডাটা পর্বের এবং চিত্র: C হচ্ছে শামুক যা মলাস্কা পর্বের অন্তর্ভুক্ত। জীবজগতে শ্রেণিবিন্যাসের রীতি অনুযায়ী বৈশিষ্ট্যের বিচারে অনুন্নত জীবগুলো শ্রেণিবিন্যাসের প্রথম দিকে থাকে এবং উন্নত জীবগুলো শ্রেণিবিন্যাসের শেষের দিকে থাকে। এ হিসেবে কর্ডাটা পর্বের প্রাণীরা অন্যান্য প্রাণী অপেক্ষা উন্নত। তাই টিকটিকি শামুক অপেক্ষা উন্নত। নিচে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হলো-
শামুকের দেহ নরম, নরম দেহ শক্ত খোলস দ্বারা আবৃত থাকে। এরা পেশিবহুল পা দিয়ে চলাচল করে। ফুসফুস বা ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। আর টিকটিকির ক্ষেত্রে, এদের সারা জীবন অথবা ভূণ অবস্থায় পৃষ্ঠীয়দেশ বরাবর নটোকর্ড থাকে। নটোকর্ড হলো একটা নরম, নমনীয় দণ্ডাকার দৃঢ় ও অখণ্ডায়িত অঙ্গ। পৃষ্ঠদেশে একক বা ফাঁপা স্নায়ুরজ্জু থাকে। এই নটোকর্ড এক সময় মেরুদণ্ড দ্বারা
প্রতিস্থাপিত হয়। এই মেরুদন্ড থাকার কারণেই কর্ডাটা পর্বের প্রাণীরা মলাস্কা পর্বের প্রাণী অপেক্ষা উন্নত। তাই আমরা বলতে পারি টিকটিকি ও শামুকের মধ্যে টিকটিকি উন্নত।
নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের দেহগহ্বরকে সিলেন্টেরন বলে।
যেসব মেরুদণ্ডী প্রাণী বুকে ভর করে চলে এবং যাদের ত্বক শুষ্ক ও আঁইশযুক্ত তাদেরকে সরীসৃপ প্রাণী বলে। সাপ বুকে ভর করে চলে, এদের ত্বক শুষ্ক ও আঁইশযুক্ত। তাই সাপকে সরীসৃপ প্রাণী বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!