নিজের পছন্দের কিছু ত্যাগ করাকেই বলে আত্মত্যাগ। সাধারণত ত্যাগ বলতে বোঝায় কারো জন্য কোনো কিছু ছেড়ে দেওয়া। যা নিজের জন্য প্রয়োজন তা অন্যের ভালো বা খুশির জন্য ছেড়ে দেওয়াকে আত্মত্যাগ বলে।
আত্মত্যাগের দুইটি উদাহরণ হলো-
১. ইসলাম প্রচারের জন্য মহানবি হজরত মুহাম্মদ (স.) নিজের প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমি ত্যাগ করেন।
২. ইসলামের স্বার্থে তাবুক যুদ্ধে হজরত আবু বকর (রা.) তাঁর সর্বস্ব দান করে দেওয়া.।
পরমতসহিষ্ণুতার দুইটি সুফল হলো--
১. পরমতসহিষ্ণুতার গুণটি থাকলে সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় থাকে।
২. এবং সকলের মাঝে সৌহার্দ ও সম্প্রীতির সৃষ্টি হয়।
পরিবারে ছোটো-বড়ো সবাইকে নিয়ে আমরা বসবাস করি। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ পরিবারে সুখ বয়ে আনে। বাব-মা আমাদের অতি আপনজন। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। তাঁরা আমাদের অতি স্নেহ-আদরে লালন-পালন করেন। তাঁদের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখালে তাঁরা খুব কষ্ট পান। পরিবারের ছোটোরা বড়োদের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাবে। আর বড়োরা ছোটোদের স্নেহ করবে।
মানুষ যে ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণ করে বা স্থায়ীভাবে বসবাস করে, সে ভূখণ্ডই তার দেশ। সে তার দেশকে ভালোবেসে তার কল্যাণে কাজ করে। নিজের দেশ এবং দেশের মানুষকে ভালোবাসা ও তাদের কল্যাণ করাই হচ্ছে দেশপ্রেম।
নৈতিক গুণাবলি হলো- সততা, ন্যায়পরায়ণতা, পরমতসহিষ্ণুতা ইত্যাদি। আর মানবিক গুণাবলি হলো রিনয়, স্নেহমমতা, ক্ষমাশীলতা ইত্যাদি। সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা, সুসম্পর্ক ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে আমাদের এই গুণাবলি অর্জন করতে হয়।
আত্মত্যাগ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে নির্দেশনা রয়েছে। পবিত্র কুরআনে আত্মত্যাগ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, "তোমরা যা ভালোবাস তা হতে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনোই সাওয়াব লাভ করবে না এবং তোমরা যা কিছুই ব্যয় করো আল্লাহ তা অবগত আছেন।" (সূরা আলে-ইমরান, আয়াত: ৯২)
মহানবি (স.) নিজ জীবনে আত্মত্যাগের বহু দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। মক্কায় ইসলাম প্রচার করতে গেলে কুরাইশরা তাঁকে - বাঁধা দেয় এবং এর বিনিময়ে বিভিন্ন মূল্যবান পার্থিব সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। এমনকি ইসলামের স্বার্থে তিনি নিজের জীবনও বিপন্ন করে তোলেন। ইসলাম প্রচারের জন্য তিনি নিজের প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমি ত্যাগ করেন।
৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে তাবুকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধের ব্যয়ভার বহনের জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। ইসলামের স্বার্থে হজরত উসমান (রা.) তাবুক যুদ্ধের জন্য ৯০০ উট, ১০০ ঘোড়া, প্রায় সাড়ে পাঁচ কেজি স্বর্ণমুদ্রা, প্রায় ২৯ কেজি রৌপ্যমুদ্রা দান করেন এবং দশ হাজার সৈন্যের ব্যয়ভার গ্রহণ করেন।
পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ হলো একে অপরকে সম্মান ও' মূল্যায়ন করা। পরস্পরের মতামত, অনুভূতি ও অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা। এর ফলে মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক সৃষ্টি হয়।
অহংকারী ও দাম্ভিক লোকেরা পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অনুশীলন করে না। ফলে মানুষ এদেরকে পছন্দ করে না। মহান আল্লাহ তাদের পছন্দ করেন না। অহংকারী ও দাম্ভিক লোকদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ এমন লোককে পছন্দ করে না, যে অহংকারী ও দান্তিক।" (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৩৬)
মহানবি (স.) নিজে বড়োদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ করেছেন এবং ছোটোদের স্নেহ করতেন। ছোটো ও বড়োদের সম্পর্কে মহানবি (স.) বলেন- "যে ছোটোদের স্নেহ করে না। এবং বড়োদের সম্মান করে না সে আমাদের দলভুক্ত নয়।" (জামে তিরমিজি)
পরমত অর্থ অপরের মত। পরমতসহিষ্ণুতা হলো বিভিন্ন মত, বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সহিষ্ণুতা প্রদর্শন করার মানসিকতা। এটি অন্যের মতামতকে শ্রদ্ধা করাকে বোঝায়। অর্থাৎ অন্যের মনোভাব, মতামত বা বিশ্বাসের সঙ্গে একমত না হয়েও সেসবের প্রতি সহিষ্ণুতা প্রদর্শন করাকে পরমতসহিষ্ণুতা বলে।
হজরত ইবরাহিম (আ.) স্বদেশের কল্যাণে যে দো'আ করেছিলেন তা হলো- "হে আমার প্রতিপালক! এ ভূখণ্ডকে আপনি নিরাপদ শহরে পরিণত করে দিন। এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেন, তাদের বিভিন্ন রকমের ফলমূল দিয়ে জীবিকা দান করুন।" (সূরা আল-বাকারা,আয়াত: ১২৬)
দেশপ্রেম আমাদের দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হতে শেখায়। দেশের সামাজিক ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার জন্য দেশপ্রেমের গুরুত্ব অপরিসীম। দেশপ্রেম আমাদের দেশের আইন মেনে চলতে এবং ন্যায়বিচার, সাম্য ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় উদ্বুদ্ধ করে।
Related Question
View Allআত্মত্যাগ আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে।
সমাজের প্রতিটি মানুষকে তার নিজ অবস্থান অনুযায়ী সম্মান করতে হয়।
আমরা অন্যের মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সম্মান করব প্রদর্শন
দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা দূষণমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখব।
পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ হলো মানুষ হিসেবে একে অপরকে সম্মান মূল্যায়নও করা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!