মদিনা সনদের অপর দুইটি নাম হলো- সহিফাত আল মদিনা এবং দুস্তুর আল-মদিনা।
মদিনা সনদে ৪৭টি মতান্তরে ৫৭টি কিংবা ৬৩টি ধারা রয়েছে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য তিনটি করণীয় হলো-
১. সব ধর্মের মানুষের প্রতি ন্যায়বিচার করা।
২. ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য না করা।
৩. তাদের সঙ্গে ভদ্র ও বিনয়ী আচরণ করা।
ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্পর্কে তিনটি কাজ লেখা হলো-
১. পরস্পরের ধর্মীয় বিশ্বাস ও উপাসনালয়ের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা।
২. সংকট বা প্রয়োজনের সময় ভিন্ন ধর্মের মানুষদের সাহায্য করা।
৩. সামাজিক ও মানবিক কাজে সবাইকে সঙ্গে নেওয়া।
ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সহযোগিতার মাধ্যমে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হয়। এতে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় হয়।
ভিন্ন ধর্মাবলম্বী সহপাঠীদের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের তিনটি উপায় হলো-
১. সকল ধর্মের মানুষের মতামত ও অনুভূতির প্রতি সহনশীল হব।
২. তাদের ধর্ম, জীবন, সম্পদ ও সম্ভ্রমের ক্ষতি হয় এমন সকল কাজ থেকে বিরত থাকব।
৩. ভিন্ন ধর্মের সহপাঠীদের সাহায্য-সহযোগিতায় এগিয়ে আসব।
সম্প্রীতি অর্থ সৌহার্দ, সম্ভাব, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ইত্যাদি। ধর্মীয় সম্প্রীতি হলো সমাজে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মিলেমিশে ও শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করা। ধর্মীয় সম্প্রীতি বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে আসে।
বাংলাদেশে মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করে- তাই বাংলাদেশকে ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ বলা হয়।
কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদের প্ররোচিত না করে যে, তোমরা ন্যায় বিচার করবে না। ন্যায়বিচার অবলম্বন করো। এটিই তাকওয়ার বেশি নিকটবর্তী।”
(সূরা আল-মায়িদা, আয়াত : ৮)
বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে আমরা ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা করব। সব ধর্মের মানুষের প্রতি-ন্যায়বিচার, 'দয়া, সদ্ব্যবহার, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা প্রদর্শন করব। তাদের ধর্ম বিশ্বাস ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য করব না। তাদের সঙ্গে ভদ্র ও বিনীয় আচরণ করার মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা করব।
মদিনায় বসবাসরত মুসলমান, ইহুদি, খ্রিষ্টান ও পৌত্তলিকদের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য মহানবি (স.) কর্তৃক প্রণীত দলিলকে মদিনা সনদ বলে।
মদিনায় হিজরতের পর মহানবি (স.) দেখলেন যে, মদিনা শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে অনতিবিলম্বে ঐক্য ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান গড়ে তোলা প্রয়োজন। এজন্য তিনি মদিনা সনদ প্রণয়ন করেন। এটিই ছিল মদিনা সনদ প্রণয়নের প্রধান উদ্দেশ্য।
মহানবি (স.) হিজরতের পূর্বে মদিনায় ইহুদি, খ্রিস্টান, পৌত্তলিকসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করত। সুদীর্ঘকাল ধরে সেখানে তাদের মধ্যে মতবিরোধ, দ্বন্দ্ব-সংঘাত, হত্যা ও যুদ্ধবিগ্রহ চলে আসছিল। এমতাবস্থায় মদিনা থেকে একটি প্রতিনিধি দল মহানবি (স.)-কে নেতা ও সালিশকারী হিসেবে মদিনায় আমন্ত্রণ জানায়। এজন্য ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন।
বনু আউফের ইহুদিরা মু'মিনদের সঙ্গে এক সমাজ হিসেবে বিবেচিত হবে। ইহুদিদের জন্য তাদের নিজস্ব ধর্ম থাকবে এবং মু'মিনদের জন্য তাদের নিজস্ব ধর্ম থাকবে।
Related Question
View Allবাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ।
আমরা ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে ভদ্র ও বিনয়ী আচরণ করব।
ধর্মীয় সম্প্রীতির 'জন্য ন্যায়বিচার গুরুত্বপূর্ণ।
মদিনা সনদ অনুযায়ী মুসলিম ও অমুসলিমরা এক জাতিগোষ্ঠী, একটি সমাজ ও একটি রাষ্ট্র হিসেবে বিরোচিত হয়েছিল।
ভিন্ন ধর্মের সহপাঠীদের যেকোনো সাহায্য-সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে পারি
আমরা সকল ধর্মের মানুষের মতামত ও অনুভূতির প্রতি সহনশীল হব।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!