সকল কর্মের ফলদাতা ঈশ্বর ।
মানুষ সৃষ্টিকর্তার শ্রেষ্ঠ জীব ।
সর্বভূতের সনাতন বীজ ঈশ্বর ।
ঈশ্বর জীবদেহের মধ্যে জীবাত্মা হিসেবে বিরাজ করছেন ।
মৃত্যু বলতে বোঝায় জীবদেহ থেকে জীবাত্মার পরিত্যাগ ।
আমাদের জন্ম-মৃত্যুর কারণ ঈশ্বর ।
প্রকৃতির সৌন্দর্য বলতে ঈশ্বরের সৌন্দর্যকে বোঝায় ।
যোগীর কাছে ঈশ্বর পরমাত্মা ।
জ্ঞানীর কাছে ঈশ্বর ব্রহ্ম ।
ভক্তদের কাছে ঈশ্বর ভগবান নামে পরিচিত ।
পরমাত্মা থেকে জীবের সৃষ্টি ।
দেহ থেকে আত্মার বহির্গমনের অর্থ মৃত্যু ।
'ঈশ্বর পরমাত্মা এবং একমাত্র আশ্রয়'-এটি গীতায় গ্রন্থে বর্ণিত রয়েছে ।
হিন্দুধর্মাবলম্বীরা স্রষ্টাকে ব্রহ্ম, ঈশ্বর বা ভগবান বলে অভিহিত করেন ।
পরমাত্মা জীবের মধ্যে আত্মা রুপে অবস্থান করেন ।
'আত্মা জন্মহীন মৃত্যুহীন শাশ্বত, পুরাতন হলেও চির নতুন' বলেছেন শ্রীকৃষ্ণ ।
আত্মার দেহ পরিবর্তনকে জন্ম ও মৃত্যু বলে ।
দেহকে আশ্রয় করে আত্মার অভিযাত্রা ।
"অহমাত্মা গুড়াকেশ সর্বভূতাশয়স্পিতঃ”। এটি গীতার দশম অধ্যায় অধ্যায়ের শ্লোক ।
আছ অনল অনিলে ………. শশী তারকার তপনে। এটি রজনীকান্ত সেন এর গীতিকবিতার অংশ ।
আদিতে এ মহাবিশ্ব অন্ধকারময় ছিল ।
জীবের মধ্যে ঈশ্বর আত্মারূপে অবস্থান করেন ।
'হে অর্জুন, আমি ভূত সকলের আদি' এখানে 'আদি' বলতে বোঝানো হয়েছে জীবজগতের উৎপত্তি ।
"ঈশ্বর অমি, বায়ু ও চির সুনীল আকাশে আছেন” – বলেছেন রজনীকান্ত সেন ।
অগ্নির যে দাহিকাশক্তি তা ঈশ্বরের শক্তি ।
বায়ুর গতির মূলে রয়েছে ঈশ্বরের শক্তি ।
বৃক্ষের মধ্যে প্রাণরূপে ঈশ্বর বিরাজিত ।
হিন্দুধর্মে বৃক্ষকে জীব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ।
যত্র জীবঃ তত্র শিবঃ- কথাটির অর্থ যেখানে জীব সেখানেই শিব ।
হিন্দুধর্মে বিভিন্ন সেবাশ্রম বা মঠ গড়ে উঠেছে জীবসেবার জন্য ।
সকল সৃষ্টির মূলে রয়েছেন ঈশ্বর। সুনীল আকাশ, পৃথিবী, পৃথিবীর প্রকৃতি – সব মিলিয়ে এ বিশ্বব্রহ্মান্ড। আদিতে এ মহাবিশ্ব ছিল না। সব ছিল অন্ধকার। তারপর এল আলো, জল এবং জলের পর পৃথিবী। পৃথিবীর পরে এলো গাছ, কীট-পতঙ্গ, জীবজন্তু, মানবকুল প্রভৃতি। যার সবকিছু ঈশ্বর সৃষ্টি করেছেন এবং জীবাত্মারূপে অবস্থান করছেন ।
ঈশ্বরই আমাদের জন্ম ও মৃত্যুর কারণ। কেননা জীবদেহের মধ্যে যখন ঈশ্বর আত্মারূপে প্রবেশ করেন, জীবদেহ তখন চেতনা সম্পন্ন হয়, সচল ও সক্রিয় হয়। যতদিন তিনি জীবদেহে অবস্থান করেন, ততদিনই জীবের জীবন বা আয়ু থাকে। জীবাত্মা দেহ ত্যাগ করলে জীবের মৃত্যু ঘটে ও দেহের বিনাশ হয়।
দেহ ও আত্মার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। দেহকে আশ্রয় করেই আত্মার অভিযাত্রা। আবার আত্মাকে লাভ করে দেহ হয় সজীব। দেহহীন আত্মা নিষ্ক্রিয়। আত্মাহীন দেহ জড়। অর্থাৎ জড় বস্তুর আত্মা নেই, তাই নিশ্চল, প্রাণহীন। ও ক্রিয়াহীন। আবার আত্মাকে ছাড়া সেই দেহের কোনো মূল্য নেই, মৃত।
এখানে 'বিশ্বচরাচর' বলতে পৃথিবীর সকল সৃষ্টিকে বোঝানো হয়েছে। জ্ঞানী ব্যক্তিরা প্রতিটি সৃষ্টির মধ্যে পরমাত্মার অবস্থান শনাক্ত করতে পারেন। তাছাড়া জ্ঞানের মাধ্যমে তাঁরা পারমার্থিক সকল জ্ঞানলাভ করে থাকেন।
আত্মার জন্ম নেই, মৃত্যু নেই। আত্মা নিত্যবস্তু ও নিরাকার। একই পরমাত্মা বহু আত্মারূপে জীবদেহের মধ্যে অবস্থান করে। জীবদেহের বিনাশ আছে। কিন্তু আত্মার বিনাশ নেই। জীবাত্মা পরমাত্মারই অংশবিশেষ। তাই পরমাত্মার ন্যায় জীবাত্মা জন্মমৃত্যুহীন এবং শাশ্বত। গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, আত্মা জন্মেন না, মরেন না।
আত্মা নিত্যবস্তু ও নিরাকার। আত্মার জন্ম নেই, মৃত্যু নেই। একই পরমাত্মা বহু আত্মারূপে জীবদেহের মধ্যে অবস্থান করে। জীবদেহের বিনাশ আছে। কিন্তু আত্মার বিনাশ নেই। জীবাত্মা পরমাত্মারই অংশবিশেষ। তাই পরমাত্মার ন্যায় জীবাত্মা জন্মমৃত্যুহীন এবং শাশ্বত। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, আত্মা জন্মেন না, মরেন না। আত্মা নিত্য বিদ্যমান, জন্মরহিত, শাশ্বত এবং পুরাণ। শরীরের বিনাশ ঘটলেও আত্মা বিনষ্ট হন না।
গীতায় ভগবান বলেছেন- আত্মার সৃষ্টি বা বিনাশ কোনোটিই সম্ভব নয়। আত্মা নিত্য বিদ্যমান। ইনি জন্মরহিত, নিত্য, শাশ্বত ও পুরান। মানুষ যেমন পুরাতন কাপড় পরিত্যাগ করে নতুন কাপড় পরিধান করে, আত্মাও তেমনি পুরাতন দেহ ত্যাগ করে নতুন দেহ ধারণ করে। আত্মা জন্মহীন, মৃত্যুহীন শাশ্বত, পুরাতন হয়েও চির নতুন ।
জীবদেহের মূল হলো আত্মা। আত্মা জীবদেহকে সচল ও ক্রিয়াশীল রাখে। জীবদেহের বিনাশ আছে, কিন্তু আত্মার বিনাশ নেই। মানুষ যেমন পুরাতন কাপড় পরিত্যাগ করে নতুন কাপড় পরে, তেমনি আত্মা পুরাতন দেহ পরিত্যাগ করে নতুন দেহে প্রবেশ করে। এ দেহ পরিবর্তনকে বলে জন্ম ও মৃত্যু।
সাধারণ অর্থে 'সেবা' বলতে পরিচর্যা করা বোঝায়। যেমন- অতিথি সেবা, জীবসেবা, ঈশ্বর সেবা প্রভৃতি। অপরের সন্তোষ বিধানের জন্য দেহ ও মনের সমন্বয়ে কল্যাণকর যে কাজ করা হয় তাকে সেবা বলে। এছাড়াও বুদ্ধি দিয়ে, পরামর্শ দিয়ে, সহানুভূতি জানিয়ে, বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নানাভাবে সেবা করা যায়। সেবা ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।
ঈশ্বরকে আদি শক্তি বলার কারণ হলো-
সৃষ্টির আদিতে এ মহাবিশ্ব ছিল না। তখন সব ছিল অন্ধকার। তারপর এলো আলো, জল এবং জলের পরে পৃথিবী। পৃথিবীর পরে গাছপালা, কীটপতঙ্গ, জীবজন্তু, মানুষ প্রভৃতি। সবকিছুর সৃষ্টি করেছেন 'ঈশ্বর'। তাই ঈশ্বরকে আদি শক্তি বলা হয়।
যত্র জীবঃ তত্র শিবঃ কথাটির অর্থ যেখানে জীব, সেখানেই শিব। এখানে শিব মানে সৃষ্টিকর্তা বা ঈশ্বর। প্রত্যেক জীবের সৃষ্টিকর্তা হচ্ছেন ঈশ্বর। অর্থাৎ প্রতিটি জীবের মধ্যে ঈশ্বর বিদ্যমান। জীবের প্রতি ভালোবাসা ও প্রেম ঈশ্বরের প্রতি ভালোবাসা ও প্রেমের শামিল। স্রষ্টাকে পাবার শ্রেষ্ঠ পথ হচ্ছে জীবের প্রতি ভালোবাসা বা জীব সেবা করা।
জীবসেবা করলে ঈশ্বরের সেবা করা হয়। কেননা ঈশ্বর আত্মারূপে জীবের মাঝে সবসময় অবস্থান করেন। তাই জীবসেবা করলে পরোক্ষভাবে ঈশ্বরেরই সেবা করা হয়। তাই জীবসেবাই ঈশ্বরসেবা।
জীবের সেবা করা হিন্দুধর্মের অন্যতম প্রধান অঙ্গ হিসেবে বিবেচিত। 'যত্র জীবঃ তত্র শিবঃ' অর্থাৎ যেখানে জীব সেখানেই শিব। এখানে শিব বলতে ঈশ্বরের কথাই বোঝানো হয়েছে। আমরা জানি, ঈশ্বর জীবাত্মারূপে জীবের মধ্যে অবস্থান করেন। তাই জীবসেবা করলে ঈশ্বরকে সেবা করা হয়।
জীবসেবা করলে ঈশ্বরের সেবা করা হয়। তাই হিন্দুধর্মে জীব সেবার বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জীবনই ঈশ্বরের সৃষ্টি। আর ঈশ্বর সকল জীবের মধ্যে আত্মারূপে বিরাজ করে। হিন্দুধর্মে শুধুমাত্র মানুষের নয় সকল জীবের মঙ্গল চায়। তাই জীব ও জগতের কল্যাণে আত্মনিবেদন করার প্রতি হিন্দুধর্মে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
হিন্দুধর্মাবলম্বীরা আহার পাত্রে কিছু না কিছু খাদ্যদ্রব্য অবশিষ্ট রেখে দেন। কারণ হিসেবে বলা যায়, হিন্দুধর্মীয় রীতি অনুসারে পূজা শেষে প্রসাদ সকল শ্রেণির মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়। তেমনি আহারের অবশিষ্ট্যাংশ অন্যান্য প্রাণীর জন্য সংরক্ষণ করা হয়, যা জীবসেবারই অংশ হিসেবে স্বীকৃত।
জীবের সেবা করা হিন্দুধর্মের অন্যতম প্রধান ব্রত হিসেবে বিবেচিত। 'যত্র জীবঃ তত্র শিবঃ' অর্থাৎ যেখানে জীব সেখানেই শিব (ঈশ্বর)। তাছাড়া সকল জীবের মধ্যে ঈশ্বর আত্মারূপে বিরাজ করছেন। তাই জীবকে ভালোবাসলে, জীবের সেবা করলে ঈশ্বরকেই ভালোবাসা হয়, ঈশ্বরের সেবা করা হয়। তাইতো স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন- 'জীবে প্রেম করে যেই জন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর'।
সকল সৃষ্টির মূলে রয়েছেন ঈশ্বর।
ব্রহ্ম থেকে প্রকৃতি এবং মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছে। ব্রহ্ম সকল কিছুর স্রষ্টা।
ঈশ্বর স্বয়ং এ বিশাল সৃষ্টির মধ্যে একটা শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেছেন।
জীবকুলের সৃষ্টির মূলে রয়েছেন ঈশ্বর।
প্রকৃতির সৌন্দর্য সৃষ্টির মূলে ঈশ্বর রয়েছেন।
হিন্দুধর্মাবলম্বীরা স্রষ্টাকে ব্রহ্ম, ঈশ্বর বা ভগবান বলে অভিহিত করেন।
পরমাত্মা জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন।
যোগীর নিকট ঈশ্বর হচ্ছেন পরমাত্মা।
শ্রীগীতা মহাভারত গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
জ্ঞানীর কাছে ঈশ্বর ব্রহ্ম নামে পরিচিত।
গীতায় বলা হয়েছে, "ঈশ্বর পরমাত্মা এরং একমাত্র আশ্রয়।"
ভক্তের নিকট ঈশ্বর ভগবান নামে পরিচিত।
আত্মা সম্পর্কে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, আত্মা জন্মেন না মরেন না। আত্মা জন্মরহিত, নিত্য, শাশ্বত এবং পুরাণ।
আত্মার দেহ পরিবর্তনকে জন্ম ও মৃত্যু বলে।
জীবের মধ্যে আত্মারূপে ঈশ্বর অবস্থান করেন।
কবি রজনীকান্ত সেন তাঁর গীত কবিতায় ব্যক্ত করেছেন যে, নিরাকার ঈশ্বর অগ্নি, বায়ু ও চির সুনীল আকাশে আছেন।
অপরের সন্তোষ বিধানের জন্য দেহ ও মনের সমন্বয়ে কল্যাণকর যে কাজ করা হয় তাকে সেবা বলে।
হিন্দুধর্মের কেন্দ্রবিন্দুতে ঈশ্বর অবস্থান করেছেন।
অশ্বত্থ বৃক্ষের মধ্যে ঈশ্বর বিরাজ করেন।
জীবসেবা বলতে জীবের পরিচর্যা, সংরক্ষণ ও বৃদ্ধি করাকে বোঝায়।
জীবসেবা করলে ঈশ্বরকে সেবা করা হয়।
ঈশ্বর জ্ঞানে জীবসেবা হিন্দুধর্মের অন্যতম প্রধান নৈতিক শিক্ষা।
হিন্দুধর্মে বৃক্ষ একটি জীব।
জীবদেহের মধ্যে যখন আত্মা প্রবেশ করে জীবদেহ তখন চেতনাসম্পন্ন হয়, সচল হয় ও সক্রিয় হয়। যতদিন আত্মা জীবদেহে অবস্থান করে ততদিনই জীবের জীবন বা আয়ু থাকে। আত্মা জীবদেহ পরিত্যাগ করলে জীবের মৃত্যু ঘটে এবং মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দেহের বিনাশ ঘটে।
পাহাড়ি সান্ন্যাল প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে মালয়েশিয়া বেড়াতে গিয়ে স্রষ্টার অপরূপ সৃষ্টি দেখতে পায়। সে দেখে সাগরের মাঝে সুন্দর সবুজঘেরা দ্বীপ, উঁচু ঢেউয়ের সাথে নুড়ি পাথরের খেলা ঝরণা-এসব দেখে ঈশ্বরের অপরূপ সৌন্দর্যের কথা ভেবে অবাক হয়।
ঈশ্বর সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। তিনি সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি এক ও অদ্বিতীয়। তাঁর আদি নেই, অন্ত নেই। তাঁকে চোখে দেখা যায় না। তিনি নিরাকার। তিনি জীবের মধ্যে 'আত্মারূপে। অবস্থান করেন। আর ঈশ্বর স্বয়ং মানুষের রূপ ধারণ করে ভগবানের অপ্রাকৃত নিত্যধাম থেকে নেমে আসাকে অবতার বলে। অবতার অর্থ হলো উপর থেকে নিচে অবতরণ করা। ঈশ্বর তাঁর সৃষ্টিকে রক্ষা করার জন্যই জীবের ন্যায় দেহ ধারণ করে আমাদের মাঝে আবির্ভূত হন।
ঈশ্বর সকল জীবদেহের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন।
ঈশ্বর সর্বশক্তিমান। তিনি এ মহাবিশ্বের সকল কিছু সৃষ্টি করেছেন এবং তার সৃষ্ট সকল জীবের মধ্যে তিনি আত্মারূপে অবস্থান করেন। তিনি জীবদেহের মধ্যে নিয়ন্ত্রণকারী জীবাত্মারূপে যতক্ষণ অবস্থান করেন ততক্ষণ জীবদেহের জীবন বা আয়ু থাকে। আত্মা ছাড়া দেহ অচল, মৃত। তিনি জীবের জন্ম ও মৃত্যুর কারণ। জীবাত্মা জীবদেহ পরিত্যাগ করলে দেহের বিনাশ ঘটে। আবার আত্মা নতুন দেহ ধারণ করলে সেই দেহ চেতনাসম্পন্ন, সচল, সক্রিয় হয়। তাই বলা যায়, দেহ ও আত্মার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
আত্মা নিত্যবস্তু ও নিরাকার। আত্মার সৃষ্টি বা বিনাশ নেই। একই পরমাত্মা বহু আত্মারূপে জীবদেহের মধ্যে অবস্থান করে। জীবদেহের বিনাশ আছে। কিন্তু আত্মার বিনাশ নেই। কারণ জীবাত্মা পরমাত্মারই অংশবিশেষ। পরমাত্মার সব গুণই জীবাত্মায় বিদ্যমান। তাই পরমাত্মার ন্যায় জীবাত্মার সৃষ্টি বা বিনাশ নেই।
আত্মা যখন নিজের মধ্যে অবস্থান করে তখন তাকে পরমাত্মা বলে। আত্মার অস্তিত্বের ফলেই জীব সচল হয়। জীবদেহের মধ্যে ঈশ্বর যখন আত্মারূপে অবস্থান করেন তখনই জীবদেহ চেতনাসম্পন্ন হয়। জীবের মধ্যে আত্মার এ অস্তিত্বের জানান দিয়ে অবস্থানকে বলা হয় জীবাত্মা। আবার জীবাত্মা যখন নিরাকার, নির্গুণ ও নিশ্চল অবস্থায় নিজের মধ্যে অবস্থান করে তখন সে পরমাত্মা বলে অভিহিত হয়। এ আত্মা ব্রহ্মময়। ব্রহ্ম সর্বব্যাপী। ব্রহ্মই পরমাত্মা।
জ্ঞানীদের কাছে ঈশ্বর ব্রহ্ম, যোগীদের কাছে পরমাত্মা এবং ভক্তের নিকট ভগবান। পরমাত্মা থেকেই জীবনের সৃষ্টি। এ পরমাত্মা আত্মারূপে জীবদেহে বিদ্যমান। তাই একে জীবাত্মা বলে। জীবাত্মা পরমাত্মারই অংশবিশেষ।
আত্মা নিত্যবস্তু ও নিরাকার। আত্মার জন্ম নেই, মৃত্যু নেই। একই পরমাত্মা বহু আত্মারূপে জীবদেহের মধ্যে অবস্থান করে জীবদেহের বিনাশ আছে। কিন্তু আত্মার বিনাশ নেই। কারণ জীবাত্মা পরমাত্মারই অংশবিশেষ। পরমাত্মার সব গুণই জীবাত্মার মধ্যে বিদ্যমান। তাই পরমাত্মার ন্যায় জীবাত্মাও জন্ম-মৃত্যুহীন এবং শাশ্বত। তাই বলা হয়, আত্মা জন্মরহিত, নিত্য, শাশ্বত এবং পুরাণ।
জীবের সেবা করা হিন্দুধর্মের অন্যতম একটি দিক হিসেবে বিবেচিত। আমরা জানি, ঈশ্বর জীবাত্মারূপে জীবের মধ্যে অবস্থান করেন। তাই জীবসেবা করলে ঈশ্বরকে সেবা করা হয়। এজন্যই হিন্দুধর্মে জীবসেবা এত গুরুত্বপূর্ণ।
জীবের মধ্যে আত্মারূপে ঈশ্বরের অবস্থান সম্পর্কিত শ্লোকটি হলো-
অহমাত্মা গুড়াকেশ সর্বভূতাশয়স্থিতঃ। অহমাদিশ্চ মধ্যঞ্চ ভূতানামন্ত এব চ ॥ (১০/২০)
সরলার্থ : হে অর্জুন! আমি সকল প্রাণীর হৃদয়স্থিত আত্মা, আমি ভূত সকলের আদি, মধ্য ও অন্ত।
শিক্ষা: এখানে আদি বলতে জীবজগতের উৎপত্তি, মধ্য বলতে তাঁদের স্থিতি এবং অন্ত বলতে তাদের মৃত্যু বোঝানো হয়েছে। ঈশ্বরই জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করছেন। একথা উপলব্ধি করে আমরা ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং জীবকে ঈশ্বরজ্ঞানে ভালোবাসব ও সেবা করব।
জীবসেবা করলে ঈশ্বরের সেবা করা হয়। তাই হিন্দুধর্মে জীব সেবার বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জীবনই ঈশ্বরের সৃষ্টি। আর ঈশ্বর সকল জীবের মধ্যে আত্মারূপে বিরাজ করে। হিন্দুধর্মে শুধুমাত্র মানুষের নয় সকল জীবের মঙ্গল চায়। তাই জীব ও জগতের কল্যাণে আত্মনিবেদন করার প্রতি হিন্দুধর্মে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
Related Question
View Allব্রহ্ম থেকে প্রকৃতি এবং মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছে।
সৃষ্টির আদিতে এ মহাবিশ্ব ছিল না। তখন সব ছিল অন্ধকার। তারপর এলো আলো, জল এবং জলের পরে পৃথিবী। পৃথিবীর পরে এলো গাছপালা, কীটপতঙ্গ, জীবজন্তু, মানুষ প্রভৃতি। ঈশ্বরই সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। তাই ঈশ্বরকে আদি শক্তি বলা হয়।
হিন্দুধর্মগ্রন্থ হলো বেদ, উপনিষদ, পুরাণ, গীতা, রামায়ণ, মহাভারত প্রভৃতি। মৌমিতার মা গীতা ধর্মগ্রন্থের বক্তব্য তুলে ধরেন। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ জীবাত্মা সম্পর্কে বলেছেন-
"জীবাত্মা জন্মেন না মরেন না। ইনি নিত্য বিদ্যমান? ইনি জন্মরহিত, নিত্য, শাশ্বত এবং পুরাণ। শরীরের বিনাশ ঘটলেও ইনি বিনষ্ট হন না।” উদ্দীপকের মৌমিতার মা প্রিয় ঠাকুরদার কষ্ট দূর করার জন্য মৌমিতাকে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার আলোচ্য অংশটুকুর মাধ্যমেই ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
মৌমিতা উপলব্ধি করল নিজের প্রকৃত স্বরূপকে। চৈতন্যস্বরূপ আত্মারূপে উপলব্ধি না করা পর্যন্ত প্রত্যেক জীবাত্মা জন্ম-মৃত্যু চকে আবর্তিত হতে থাকে। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় বলা হয়েছে-
'বাসাংসি জীর্ণানি যথা বিহায় নবানি গৃহাতি নরোৎপরাণি।
তথা শরীরাণি বিহায় জীর্ণা ন্যন্যানি সংযাতি নবানি দেহী।' (২/২২)
সরলার্থ : মানুষ যেমন পুরাতন কাপড় পরিত্যাগ করে নতুন কাপড় পরিধান করে, আত্মাও তেমনি পুরাতন দেহ পরিত্যাগ করে নতুন দেহে প্রবেশ করে। আত্মার দেহ পরিবর্তনকে জন্ম ও মৃত্যু বলে। দেহকে আশ্রয় করে আত্মার অভিযাত্রা। আবার আত্মাকে লাভ করে দেহ সজীব। আত্মার জন্ম ও মৃত্যু নেই। মৌমিতা তা উপলব্ধি করতে পেরে, শ্রদ্ধায় ঈশ্বরের প্রতি মাথা নত করে।
পরমাত্মা আত্মারূপে জীবের মধ্যে অবস্থান করেন।
আত্মা নিত্যবস্তু ও নিরাকার। আত্মার সৃষ্টি বা বিনাশ নেই। একই পরমাত্মা বহু আত্মারূপে জীবদেহের মধ্যে অবস্থান করে। জীবদেহের বিনাশ আছে। কিন্তু আত্মার বিনাশ নেই। কারণ জীবাত্মা পরমাত্মারই অংশবিশেষ। পরমাত্মার সব গুণই জীবাত্মায় বিদ্যমান। তাই পরমাত্মার ন্যায় জীবাত্মার সৃষ্টি বা বিনাশ নেই।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!