সংক্ষিপ্ত উত্তর ও প্রশ্ন

Updated: 7 months ago
উত্তরঃ

সকল কর্মের ফলদাতা ঈশ্বর ।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

মানুষ সৃষ্টিকর্তার শ্রেষ্ঠ জীব ।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

সর্বভূতের সনাতন বীজ ঈশ্বর ।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

ঈশ্বর জীবদেহের মধ্যে জীবাত্মা  হিসেবে বিরাজ করছেন ।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

মৃত্যু বলতে  বোঝায় জীবদেহ থেকে জীবাত্মার পরিত্যাগ ।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

আমাদের জন্ম-মৃত্যুর কারণ ঈশ্বর ।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

প্রকৃতির সৌন্দর্য বলতে ঈশ্বরের সৌন্দর্যকে বোঝায় ।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

যোগীর কাছে ঈশ্বর পরমাত্মা ।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

জ্ঞানীর কাছে ঈশ্বর ব্রহ্ম ।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

ভক্তদের কাছে ঈশ্বর ভগবান নামে পরিচিত ।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

পরমাত্মা থেকে জীবের সৃষ্টি ।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

দেহ থেকে  আত্মার বহির্গমনের অর্থ মৃত্যু ।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

'ঈশ্বর পরমাত্মা এবং একমাত্র আশ্রয়'-এটি গীতায় গ্রন্থে বর্ণিত রয়েছে ।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

হিন্দুধর্মাবলম্বীরা স্রষ্টাকে ব্রহ্ম, ঈশ্বর বা ভগবান বলে অভিহিত করেন ।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

পরমাত্মা জীবের মধ্যে আত্মা রুপে অবস্থান করেন ।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

'আত্মা জন্মহীন মৃত্যুহীন শাশ্বত, পুরাতন হলেও চির নতুন'  বলেছেন শ্রীকৃষ্ণ ।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

আত্মার দেহ পরিবর্তনকে জন্ম ও মৃত্যু বলে ।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

দেহকে আশ্রয় করে আত্মার অভিযাত্রা ।  

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

"অহমাত্মা গুড়াকেশ সর্বভূতাশয়স্পিতঃ”। এটি গীতার দশম অধ্যায় অধ্যায়ের শ্লোক ।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

আছ অনল অনিলে ………. শশী তারকার তপনে। এটি রজনীকান্ত সেন এর গীতিকবিতার অংশ ।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

আদিতে এ মহাবিশ্ব অন্ধকারময় ছিল ।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

জীবের মধ্যে ঈশ্বর আত্মারূপে অবস্থান করেন ।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

'হে অর্জুন, আমি ভূত সকলের আদি' এখানে 'আদি' বলতে  বোঝানো হয়েছে জীবজগতের উৎপত্তি ।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

"ঈশ্বর অমি, বায়ু ও চির সুনীল আকাশে আছেন” – বলেছেন রজনীকান্ত সেন ।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

অগ্নির যে দাহিকাশক্তি তা ঈশ্বরের শক্তি ।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

বায়ুর গতির মূলে রয়েছে ঈশ্বরের শক্তি ।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

বৃক্ষের মধ্যে প্রাণরূপে ঈশ্বর বিরাজিত ।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

হিন্দুধর্মে বৃক্ষকে জীব  হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

যত্র জীবঃ তত্র শিবঃ- কথাটির অর্থ যেখানে জীব সেখানেই শিব ।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

হিন্দুধর্মে বিভিন্ন সেবাশ্রম বা মঠ গড়ে উঠেছে জীবসেবার জন্য ।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

সকল সৃষ্টির মূলে রয়েছেন ঈশ্বর। সুনীল আকাশ, পৃথিবী, পৃথিবীর প্রকৃতি – সব মিলিয়ে এ বিশ্বব্রহ্মান্ড। আদিতে এ মহাবিশ্ব ছিল না। সব ছিল অন্ধকার। তারপর এল আলো, জল এবং জলের পর পৃথিবী। পৃথিবীর পরে এলো গাছ, কীট-পতঙ্গ, জীবজন্তু, মানবকুল প্রভৃতি। যার সবকিছু ঈশ্বর সৃষ্টি করেছেন এবং জীবাত্মারূপে অবস্থান করছেন ।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

ঈশ্বরই আমাদের জন্ম ও মৃত্যুর কারণ। কেননা জীবদেহের মধ্যে যখন ঈশ্বর আত্মারূপে প্রবেশ করেন, জীবদেহ তখন চেতনা সম্পন্ন হয়, সচল ও সক্রিয় হয়। যতদিন তিনি জীবদেহে অবস্থান করেন, ততদিনই জীবের জীবন বা আয়ু থাকে। জীবাত্মা দেহ ত্যাগ করলে জীবের মৃত্যু ঘটে ও দেহের বিনাশ হয়।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

দেহ ও আত্মার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। দেহকে আশ্রয় করেই আত্মার অভিযাত্রা। আবার আত্মাকে লাভ করে দেহ হয় সজীব। দেহহীন আত্মা নিষ্ক্রিয়। আত্মাহীন দেহ জড়। অর্থাৎ জড় বস্তুর আত্মা নেই, তাই নিশ্চল, প্রাণহীন। ও ক্রিয়াহীন। আবার আত্মাকে ছাড়া সেই দেহের কোনো মূল্য নেই, মৃত।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

এখানে 'বিশ্বচরাচর' বলতে পৃথিবীর সকল সৃষ্টিকে বোঝানো হয়েছে। জ্ঞানী ব্যক্তিরা প্রতিটি সৃষ্টির মধ্যে পরমাত্মার অবস্থান শনাক্ত করতে পারেন। তাছাড়া জ্ঞানের মাধ্যমে তাঁরা পারমার্থিক সকল জ্ঞানলাভ করে থাকেন।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

আত্মার জন্ম নেই, মৃত্যু নেই। আত্মা নিত্যবস্তু ও নিরাকার। একই পরমাত্মা বহু আত্মারূপে জীবদেহের মধ্যে অবস্থান করে। জীবদেহের বিনাশ আছে। কিন্তু আত্মার বিনাশ নেই। জীবাত্মা পরমাত্মারই অংশবিশেষ। তাই পরমাত্মার ন্যায় জীবাত্মা জন্মমৃত্যুহীন এবং শাশ্বত। গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, আত্মা জন্মেন না, মরেন না।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

আত্মা নিত্যবস্তু ও নিরাকার। আত্মার জন্ম নেই, মৃত্যু নেই। একই পরমাত্মা বহু আত্মারূপে জীবদেহের মধ্যে অবস্থান করে। জীবদেহের বিনাশ আছে। কিন্তু আত্মার বিনাশ নেই। জীবাত্মা পরমাত্মারই অংশবিশেষ। তাই পরমাত্মার ন্যায় জীবাত্মা জন্মমৃত্যুহীন এবং শাশ্বত। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, আত্মা জন্মেন না, মরেন না। আত্মা নিত্য বিদ্যমান, জন্মরহিত, শাশ্বত এবং পুরাণ। শরীরের বিনাশ ঘটলেও আত্মা বিনষ্ট হন না।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

গীতায় ভগবান বলেছেন- আত্মার সৃষ্টি বা বিনাশ কোনোটিই সম্ভব নয়। আত্মা নিত্য বিদ্যমান। ইনি জন্মরহিত, নিত্য, শাশ্বত ও পুরান। মানুষ যেমন পুরাতন কাপড় পরিত্যাগ করে নতুন কাপড় পরিধান করে, আত্মাও তেমনি পুরাতন দেহ ত্যাগ করে নতুন দেহ ধারণ করে। আত্মা জন্মহীন, মৃত্যুহীন শাশ্বত, পুরাতন হয়েও চির নতুন ।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

জীবদেহের মূল হলো আত্মা। আত্মা জীবদেহকে সচল ও ক্রিয়াশীল রাখে। জীবদেহের বিনাশ আছে, কিন্তু আত্মার বিনাশ নেই। মানুষ যেমন পুরাতন কাপড় পরিত্যাগ করে নতুন কাপড় পরে, তেমনি আত্মা পুরাতন দেহ পরিত্যাগ করে নতুন দেহে প্রবেশ করে। এ দেহ পরিবর্তনকে বলে জন্ম ও মৃত্যু।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

সাধারণ অর্থে 'সেবা' বলতে পরিচর্যা করা বোঝায়। যেমন- অতিথি সেবা, জীবসেবা, ঈশ্বর সেবা প্রভৃতি। অপরের সন্তোষ বিধানের জন্য দেহ ও মনের সমন্বয়ে কল্যাণকর যে কাজ করা হয় তাকে সেবা বলে। এছাড়াও বুদ্ধি দিয়ে, পরামর্শ দিয়ে, সহানুভূতি জানিয়ে, বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নানাভাবে সেবা করা যায়। সেবা ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

ঈশ্বরকে আদি শক্তি বলার কারণ হলো-
সৃষ্টির আদিতে এ মহাবিশ্ব ছিল না। তখন সব ছিল অন্ধকার। তারপর এলো আলো, জল এবং জলের পরে পৃথিবী। পৃথিবীর পরে গাছপালা, কীটপতঙ্গ, জীবজন্তু, মানুষ প্রভৃতি। সবকিছুর সৃষ্টি করেছেন 'ঈশ্বর'। তাই ঈশ্বরকে আদি শক্তি বলা হয়।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

যত্র জীবঃ তত্র শিবঃ কথাটির অর্থ যেখানে জীব, সেখানেই শিব। এখানে শিব মানে সৃষ্টিকর্তা বা ঈশ্বর। প্রত্যেক জীবের সৃষ্টিকর্তা হচ্ছেন ঈশ্বর। অর্থাৎ প্রতিটি জীবের মধ্যে ঈশ্বর বিদ্যমান। জীবের প্রতি ভালোবাসা ও প্রেম ঈশ্বরের প্রতি ভালোবাসা ও প্রেমের শামিল। স্রষ্টাকে পাবার শ্রেষ্ঠ পথ হচ্ছে জীবের প্রতি ভালোবাসা বা জীব সেবা করা।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

জীবসেবা করলে ঈশ্বরের সেবা করা হয়। কেননা ঈশ্বর আত্মারূপে জীবের মাঝে সবসময় অবস্থান করেন। তাই জীবসেবা করলে পরোক্ষভাবে ঈশ্বরেরই সেবা করা হয়। তাই জীবসেবাই ঈশ্বরসেবা।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

জীবের সেবা করা হিন্দুধর্মের অন্যতম প্রধান অঙ্গ হিসেবে বিবেচিত। 'যত্র জীবঃ তত্র শিবঃ' অর্থাৎ যেখানে জীব সেখানেই শিব। এখানে শিব বলতে ঈশ্বরের কথাই বোঝানো হয়েছে। আমরা জানি, ঈশ্বর জীবাত্মারূপে জীবের মধ্যে অবস্থান করেন। তাই জীবসেবা করলে ঈশ্বরকে সেবা করা হয়।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

জীবসেবা করলে ঈশ্বরের সেবা করা হয়। তাই হিন্দুধর্মে জীব সেবার বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জীবনই ঈশ্বরের সৃষ্টি। আর ঈশ্বর সকল জীবের মধ্যে আত্মারূপে বিরাজ করে। হিন্দুধর্মে শুধুমাত্র মানুষের নয় সকল জীবের মঙ্গল চায়। তাই জীব ও জগতের কল্যাণে আত্মনিবেদন করার প্রতি হিন্দুধর্মে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

হিন্দুধর্মাবলম্বীরা আহার পাত্রে কিছু না কিছু খাদ্যদ্রব্য অবশিষ্ট রেখে দেন। কারণ হিসেবে বলা যায়, হিন্দুধর্মীয় রীতি অনুসারে পূজা শেষে প্রসাদ সকল শ্রেণির মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়। তেমনি আহারের অবশিষ্ট্যাংশ অন্যান্য প্রাণীর জন্য সংরক্ষণ করা হয়, যা জীবসেবারই অংশ হিসেবে স্বীকৃত।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

জীবের সেবা করা হিন্দুধর্মের অন্যতম প্রধান ব্রত হিসেবে বিবেচিত। 'যত্র জীবঃ তত্র শিবঃ' অর্থাৎ যেখানে জীব সেখানেই শিব (ঈশ্বর)। তাছাড়া সকল জীবের মধ্যে ঈশ্বর আত্মারূপে বিরাজ করছেন। তাই জীবকে ভালোবাসলে, জীবের সেবা করলে ঈশ্বরকেই ভালোবাসা হয়, ঈশ্বরের সেবা করা হয়। তাইতো স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন- 'জীবে প্রেম করে যেই জন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর'।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

সকল সৃষ্টির মূলে রয়েছেন ঈশ্বর।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

ব্রহ্ম থেকে প্রকৃতি এবং মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছে। ব্রহ্ম সকল কিছুর স্রষ্টা।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

ঈশ্বর স্বয়ং এ বিশাল সৃষ্টির মধ্যে একটা শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেছেন।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

জীবকুলের সৃষ্টির মূলে রয়েছেন ঈশ্বর।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

প্রকৃতির সৌন্দর্য সৃষ্টির মূলে ঈশ্বর রয়েছেন।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

হিন্দুধর্মাবলম্বীরা স্রষ্টাকে ব্রহ্ম, ঈশ্বর বা ভগবান বলে অভিহিত করেন।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

পরমাত্মা জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

যোগীর নিকট ঈশ্বর হচ্ছেন পরমাত্মা।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

শ্রীগীতা মহাভারত গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

জ্ঞানীর কাছে ঈশ্বর ব্রহ্ম নামে পরিচিত।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

গীতায় বলা হয়েছে, "ঈশ্বর পরমাত্মা এরং একমাত্র আশ্রয়।"

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

ভক্তের নিকট ঈশ্বর ভগবান নামে পরিচিত।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

আত্মা সম্পর্কে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, আত্মা জন্মেন না মরেন না। আত্মা জন্মরহিত, নিত্য, শাশ্বত এবং পুরাণ।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

আত্মার দেহ পরিবর্তনকে জন্ম ও মৃত্যু বলে।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

জীবের মধ্যে আত্মারূপে ঈশ্বর অবস্থান করেন।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

কবি রজনীকান্ত সেন তাঁর গীত কবিতায় ব্যক্ত করেছেন যে, নিরাকার ঈশ্বর অগ্নি, বায়ু ও চির সুনীল আকাশে আছেন।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

অপরের সন্তোষ বিধানের জন্য দেহ ও মনের সমন্বয়ে কল্যাণকর যে কাজ করা হয় তাকে সেবা বলে।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

হিন্দুধর্মের কেন্দ্রবিন্দুতে ঈশ্বর অবস্থান করেছেন।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

অশ্বত্থ বৃক্ষের মধ্যে ঈশ্বর বিরাজ করেন।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

জীবসেবা বলতে জীবের পরিচর্যা, সংরক্ষণ ও বৃদ্ধি করাকে বোঝায়।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

জীবসেবা করলে ঈশ্বরকে সেবা করা হয়।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

ঈশ্বর জ্ঞানে জীবসেবা হিন্দুধর্মের অন্যতম প্রধান নৈতিক শিক্ষা।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

হিন্দুধর্মে বৃক্ষ একটি জীব।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

জীবদেহের মধ্যে যখন আত্মা প্রবেশ করে জীবদেহ তখন চেতনাসম্পন্ন হয়, সচল হয় ও সক্রিয় হয়। যতদিন আত্মা জীবদেহে অবস্থান করে ততদিনই জীবের জীবন বা আয়ু থাকে। আত্মা জীবদেহ পরিত্যাগ করলে জীবের মৃত্যু ঘটে এবং মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দেহের বিনাশ ঘটে।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

পাহাড়ি সান্ন্যাল প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে মালয়েশিয়া বেড়াতে গিয়ে স্রষ্টার অপরূপ সৃষ্টি দেখতে পায়। সে দেখে সাগরের মাঝে সুন্দর সবুজঘেরা দ্বীপ, উঁচু ঢেউয়ের সাথে নুড়ি পাথরের খেলা ঝরণা-এসব দেখে ঈশ্বরের অপরূপ সৌন্দর্যের কথা ভেবে অবাক হয়।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

ঈশ্বর সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। তিনি সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি এক ও অদ্বিতীয়। তাঁর আদি নেই, অন্ত নেই। তাঁকে চোখে দেখা যায় না। তিনি নিরাকার। তিনি জীবের মধ্যে 'আত্মারূপে। অবস্থান করেন। আর ঈশ্বর স্বয়ং মানুষের রূপ ধারণ করে ভগবানের অপ্রাকৃত নিত্যধাম থেকে নেমে আসাকে অবতার বলে। অবতার অর্থ হলো উপর থেকে নিচে অবতরণ করা। ঈশ্বর তাঁর সৃষ্টিকে রক্ষা করার জন্যই জীবের ন্যায় দেহ ধারণ করে আমাদের মাঝে আবির্ভূত হন।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

ঈশ্বর সকল জীবদেহের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন।
ঈশ্বর সর্বশক্তিমান। তিনি এ মহাবিশ্বের সকল কিছু সৃষ্টি করেছেন এবং তার সৃষ্ট সকল জীবের মধ্যে তিনি আত্মারূপে অবস্থান করেন। তিনি জীবদেহের মধ্যে নিয়ন্ত্রণকারী জীবাত্মারূপে যতক্ষণ অবস্থান করেন ততক্ষণ জীবদেহের জীবন বা আয়ু থাকে। আত্মা ছাড়া দেহ অচল, মৃত। তিনি জীবের জন্ম ও মৃত্যুর কারণ। জীবাত্মা জীবদেহ পরিত্যাগ করলে দেহের বিনাশ ঘটে। আবার আত্মা নতুন দেহ ধারণ করলে সেই দেহ চেতনাসম্পন্ন, সচল, সক্রিয় হয়। তাই বলা যায়, দেহ ও আত্মার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

আত্মা নিত্যবস্তু ও নিরাকার। আত্মার সৃষ্টি বা বিনাশ নেই। একই পরমাত্মা বহু আত্মারূপে জীবদেহের মধ্যে অবস্থান করে। জীবদেহের বিনাশ আছে। কিন্তু আত্মার বিনাশ নেই। কারণ জীবাত্মা পরমাত্মারই অংশবিশেষ। পরমাত্মার সব গুণই জীবাত্মায় বিদ্যমান। তাই পরমাত্মার ন্যায় জীবাত্মার সৃষ্টি বা বিনাশ নেই।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

আত্মা যখন নিজের মধ্যে অবস্থান করে তখন তাকে পরমাত্মা বলে। আত্মার অস্তিত্বের ফলেই জীব সচল হয়। জীবদেহের মধ্যে ঈশ্বর যখন আত্মারূপে অবস্থান করেন তখনই জীবদেহ চেতনাসম্পন্ন হয়। জীবের মধ্যে আত্মার এ অস্তিত্বের জানান দিয়ে অবস্থানকে বলা হয় জীবাত্মা। আবার জীবাত্মা যখন নিরাকার, নির্গুণ ও নিশ্চল অবস্থায় নিজের মধ্যে অবস্থান করে তখন সে পরমাত্মা বলে অভিহিত হয়। এ আত্মা ব্রহ্মময়। ব্রহ্ম সর্বব্যাপী। ব্রহ্মই পরমাত্মা।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

জ্ঞানীদের কাছে ঈশ্বর ব্রহ্ম, যোগীদের কাছে পরমাত্মা এবং ভক্তের নিকট ভগবান। পরমাত্মা থেকেই জীবনের সৃষ্টি। এ পরমাত্মা আত্মারূপে জীবদেহে বিদ্যমান। তাই একে জীবাত্মা বলে। জীবাত্মা পরমাত্মারই অংশবিশেষ।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

আত্মা নিত্যবস্তু ও নিরাকার। আত্মার জন্ম নেই, মৃত্যু নেই। একই পরমাত্মা বহু আত্মারূপে জীবদেহের মধ্যে অবস্থান করে জীবদেহের বিনাশ আছে। কিন্তু আত্মার বিনাশ নেই। কারণ জীবাত্মা পরমাত্মারই অংশবিশেষ। পরমাত্মার সব গুণই জীবাত্মার মধ্যে বিদ্যমান। তাই পরমাত্মার ন্যায় জীবাত্মাও জন্ম-মৃত্যুহীন এবং শাশ্বত। তাই বলা হয়, আত্মা জন্মরহিত, নিত্য, শাশ্বত এবং পুরাণ।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

জীবের সেবা করা হিন্দুধর্মের অন্যতম একটি দিক হিসেবে বিবেচিত। আমরা জানি, ঈশ্বর জীবাত্মারূপে জীবের মধ্যে অবস্থান করেন। তাই জীবসেবা করলে ঈশ্বরকে সেবা করা হয়। এজন্যই হিন্দুধর্মে জীবসেবা এত গুরুত্বপূর্ণ।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

জীবের মধ্যে আত্মারূপে ঈশ্বরের অবস্থান সম্পর্কিত শ্লোকটি হলো-

অহমাত্মা গুড়াকেশ সর্বভূতাশয়স্থিতঃ। অহমাদিশ্চ মধ্যঞ্চ ভূতানামন্ত এব চ ॥ (১০/২০)


সরলার্থ : হে অর্জুন! আমি সকল প্রাণীর হৃদয়স্থিত আত্মা, আমি ভূত সকলের আদি, মধ্য ও অন্ত।
শিক্ষা: এখানে আদি বলতে জীবজগতের উৎপত্তি, মধ্য বলতে তাঁদের স্থিতি এবং অন্ত বলতে তাদের মৃত্যু বোঝানো হয়েছে। ঈশ্বরই জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করছেন। একথা উপলব্ধি করে আমরা ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং জীবকে ঈশ্বরজ্ঞানে ভালোবাসব ও সেবা করব।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
উত্তরঃ

জীবসেবা করলে ঈশ্বরের সেবা করা হয়। তাই হিন্দুধর্মে জীব সেবার বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জীবনই ঈশ্বরের সৃষ্টি। আর ঈশ্বর সকল জীবের মধ্যে আত্মারূপে বিরাজ করে। হিন্দুধর্মে শুধুমাত্র মানুষের নয় সকল জীবের মঙ্গল চায়। তাই জীব ও জগতের কল্যাণে আত্মনিবেদন করার প্রতি হিন্দুধর্মে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

Joy Roy
Joy Roy
7 months ago
261

প্রথম অধ্যায়

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ : স্রষ্টা, সৃষ্টি ও সেবা

পূর্ব পরিচ্ছেদে আমরা স্রষ্টার স্বরূপ ও উপাসনা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনেছি। এ পরিচ্ছেদে স্রষ্টা, সৃষ্টি ও সেবা সম্পর্কে জানব । ঈশ্বর সবকিছু সৃষ্টি করেছেন । তিনি সকল কিছুর নিয়ন্তা । তিনি এক ও অদ্বিতীয়। তাঁর আদি নেই, অন্ত নেই । তাঁকে চোখে দেখা যায় না, তিনি নিরাকার । তিনিই জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন । তাই জীবকে সেবা করলে ঈশ্বরের সেবা করা হয়। এ অধ্যায়ে আমরা সকল সৃষ্টির মূলে ঈশ্বর, জীবের মধ্যে আত্মারূপে ঈশ্বরের অবস্থান, এ সম্পর্কে একটি শ্লোক ও কবিতা এবং ঈশ্বর জ্ঞানে জীবসেবা সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করব ।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-

  • সকল সৃষ্টির মূলে ঈশ্বরের অস্তিত্ব ব্যাখ্যা করতে
  • পারব আত্মারূপে জীবের মধ্যে ঈশ্বরের অবস্থানকে
  • ব্যাখ্যা করতে পারব ধর্মগ্রন্থ থেকে জীব ও জগতের মধ্যে ঈশ্বরের অবস্থান সম্পর্কে একটি মন্ত্র বা শ্লোকের অর্থ ও এর শিক্ষা ব্যাখ্যা করতে পারব
  • সবকিছুর মূলে ঈশ্বরের অবস্থান সম্পর্কিত একটি গীতিকবিতা ব্যাখ্যা ও এর শিক্ষা শনাক্ত করতে পারব
  • ঈশ্বরজ্ঞানে জীব সেবার গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারব
  • জীব ও প্রকৃতির মধ্যে ঈশ্বরের অস্তিত্ব উপলব্ধি করতে এবং জীবসেবা ও পরিবেশ সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ হব।

 

পাঠ ১ : সকল সৃষ্টির মূলে ঈশ্বর সুনীল আকাশ, পৃথিবী ও পৃথিবীর প্রকৃতি— সব মিলিয়ে বিচিত্র এ বিশ্বব্রহ্মাণ্ড। অনন্ত আকাশজুড়ে বিরাজ করছে চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ ও নক্ষত্রমণ্ডলী । পৃথিবীতে রয়েছে সমুদ্র, মহাসমুদ্র, নদ-নদী, পাহাড়-পর্বত, গাছ- পালা, আলো-বাতাস ও বিভিন্ন ধরনের জীবজন্তু । সবকিছু মিলে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড । আদিতে এ মহাবিশ্ব ছিল না । তখন সব ছিল অন্ধকার। তারপর এল আলো, জল এবং জলের পরে পৃথিবী। পৃথিবীর পরে এল গাছ-পালা, কীট-পতঙ্গ, জীবজন্তু, মানবকুল প্রভৃতি । এ সবকিছু সৃষ্টির মূলে রয়েছেন ঈশ্বর । গীতায় বলা হয়েছে, তিনি পরমাত্মা এবং একমাত্র আশ্রয় । এ বিশ্বে জীবকুল সৃষ্টির মূলে রয়েছেন ঈশ্বর । আবার তিনিই জীবদেহের মধ্যে নিয়ন্ত্রণকারী জীবাত্মা হিসেবে বিরাজ করছেন । তিনি জীবের জীবন, প্রাণীর প্রাণ, সর্বভূতের সনাতন বীজ। জীবদেহের ভেতরে যে জীবন আছে তা পরমাত্মারই অংশ । আত্মা ছাড়া জীবদেহ অচল, মৃত । তিনি জীবের জন্ম ও মৃত্যুর কারণ । কথাটি আরও একটু বুঝিয়ে বলি : জীবদেহের মধ্যে যখন ঈশ্বর আত্মারূপে প্রবেশ করেন, জীবদেহ তখন চেতনাসম্পন্ন হয়, সচল, সক্রিয় হয়। যতদিন জীবাত্মারূপে তিনি জীবদেহে অবস্থান করেন, ততদিনই জীবের জীবন বা আয়ু থাকে । জীবাত্মা জীবদেহ পরিত্যাগ করলে জীবের মৃত্যু ঘটে এবং মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দেহের বিনাশ ঘটে । তাই বলা হয়েছে ঈশ্বরই আমাদের জন্ম ও মৃত্যুর কারণ। তিনিই আমাদের চিন্তা, চেতনা ও সকল প্রচেষ্টার নিয়ন্তা ।

ঈশ্বর মানুষ ও জীবজন্তুর কল্যাণে অফুরন্ত সৌন্দর্যে ও সম্পদে ভরপুর এ সুন্দর পৃথিবী ও প্রকৃতি সৃষ্টি করেছেন। এ প্রকৃতিতে বিরাজ করছে কত রকমের ফুল, কত রকমের ফল। প্রকৃতির সৌন্দর্য তাঁরই সৌন্দর্য । সৌন্দর্য সৃষ্টির মূলেও ঈশ্বর রয়েছেন ।

পাঠ ২ : আত্মারূপে ঈশ্বর

স্রষ্টা বা ঈশ্বর সর্বশক্তিমান। হিন্দুধর্মাবলম্বীরা স্রষ্টাকে ব্রহ্ম, ঈশ্বর বা ভগবান বলে অভিহিত করেন। জ্ঞানীদের কাছে ঈশ্বর ব্রহ্ম, যোগীদের কাছে পরমাত্মা এবং ভক্তের নিকট ভগবান নামে পরিচিত । পরমাত্মা জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন । পরমাত্মা যখন জীবের মধ্যে অবস্থান করেন, তখন তিনি জীবাত্মার রূপ ধারণ করেন । এই পরমাত্মা থেকেই জীবের সৃষ্টি । আত্মা নিত্যবস্তু ও নিরাকার । আত্মার জন্ম নেই, মৃত্যু নেই । একই পরমাত্মা বহু আত্মারূপে জীবদেহের মধ্যে অবস্থান করেন। জীবদেহের বিনাশ আছে, কিন্তু আত্মার বিনাশ নেই । কারণ জীবাত্মা পরমাত্মারই অংশবিশেষ । পরমাত্মার সকল গুণই জীবাত্মার

 

 

 

মধ্যে বিদ্যমান । তাই পরমাত্মার ন্যায় জীবাত্মাও জন্ম-মৃত্যুহীন এবং শাশ্বত । শ্রীমদ্‌ভগবদ্‌গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, আত্মার সৃষ্টি বা বিনাশ কোনটিই সম্ভব নয় । ইনি নিত্য বিদ্যমান । ইনি জন্মরহিত, নিত্য, শাশ্বত এবং পুরাণ । শরীরের বিনাশ ঘটলেও, ইনি বিনষ্ট হন না

(গীতা, ২/২০) । আত্মার দেহান্তর ঘটে । শ্রীমদ্‌ভগবদ্‌গীতায় বলা হয়েছে-

“বাসাংসি জীর্ণানি যথা বিহায় নবানি গৃহাতি নরোঽপরাণি । তথা শরীরাণি বিহায় জীর্ণা ন্যন্যানি সংযাতি নবানি দেহী' (২/২2)

অর্থাৎ মানুষ পুরাতন কাপড় পরিত্যাগ করে যেমন নতুন কাপড় পরিধান করে, আত্মাও তেমনি পুরাতন দেহ পরিত্যাগ করে নতুন দেহে প্রবেশ করে । আত্মার এই দেহ পরিবর্তনকে জন্ম ও মৃত্যু বলে ।

দেহ ও আত্মার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে । দেহকে আশ্রয় করে আত্মার অভিযাত্রা । আবার আত্মাকে লাভ করে দেহ সজীব । দেহহীন আত্মা নিষ্ক্রিয়, আত্মাহীন দেহ জড় । অর্থাৎ জড় বস্তুর আত্মা নেই, তাই নিশ্চল, প্রাণহীন ও ক্রিয়াহীন । আত্মার জন্ম ও মৃত্যু নেই । গীতায় শ্রীকৃষ্ণের উক্তিতেও জানা যায়-আত্মা জন্মহীন, মৃত্যুহীন শাশ্বত, পুরাতন হয়েও চিরনতুন ।

পাঠ ৩ : জীবের মধ্যে আত্মারূপে ঈশ্বরের অবস্থান সম্পর্কিত একটি মন্ত্র বা শ্লোক এবং

ঈশ্বরের অবস্থান সম্পর্কিত কবি রজনীকান্ত সেন-এর গীতিকবিতা

শ্রীমদ্‌ভগবদ্‌গীতায় বলা হয়েছে :

অহমাত্মা গুড়াকেশ সর্বভূতাশয়স্থিতঃ। অহমাদিশ্চ মধ্যঞ্চ ভূতানামন্ত এব চ ॥ (১০/20 )

সরলার্থ : হে অর্জুন! আমি সকল প্রাণীর হৃদয়স্থিত আত্মা, আমি ভূতসকলের আদি, মধ্য ও অন্ত ।

শিক্ষা : এখানে আদি বলতে জীব-জগতের উৎপত্তি, মধ্য বলতে তাদের স্থিতি এবং অন্ত বলতে তাদের মৃত্যু বোঝানো হয়েছে । ঈশ্বরই জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করছেন । একথা উপলব্ধি করে আমরা ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করব এবং জীবকে ঈশ্বরজ্ঞানে ভালোবাসব ও সেবা করব । উল্লিখিত শ্লোকের আলোকে আমরা এই শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি-

আছ অনল-অনিলে

চির নভোনীলে

ভূধর সলিল গহনে,

আছ বিটপী লতায়

জলদের গায়

শশী তারকায় তপনে ।

ব্যাখ্যা : উল্লিখিত কবিতাংশটি রজনীকান্ত সেন-এর একটি গীতিকবিতার অংশ । এখানে সবকিছুর মূলে ঈশ্বরের অবস্থান সম্পর্কে বলা হয়েছে । ঈশ্বর তাঁর সকল সৃষ্টি ও সৌন্দর্যের মধ্যে অবস্থান করেন । কবি রজনীকান্ত সেন-এর এ গীতিকবিতায় তিনি ব্যক্ত করেছেন যে নিরাকার ঈশ্বর অনল অর্থাৎ অগ্নি, বায়ু ও 

 

 

 

সুনীল আকাশে আছেন । এর অর্থ হচ্ছে - অগ্নির যে দাহিকা শক্তি, তা ঈশ্বরের শক্তি। বায়ু ঈশ্বরেরই সৃষ্টি । বায়ুর যে গতি, তার মূলে রয়েছে ঈশ্বরের শক্তি । আমাদের মাথার ওপরে যে সুনীল আকাশ, ঈশ্বর সেখানেও আছেন নীলিম সৌন্দর্যরূপে । একইভাবে ভূধরে মানে পর্বতের দৃঢ়তা, উচ্চতা ও মৌনতার মধ্যে ঈশ্বরের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় । আবার ঈশ্বর আছেন জলের গভীরতায় । তিনি বৃক্ষ, লতা, মেঘ, চন্দ্ৰ, সূর্য ও তারকারাজির মধ্যেও বিরাজিত আছেন। এ সব কিছুই তাঁর সৃষ্টি। তিনি তাঁর সকল সৃষ্টির মধ্যে অবস্থান করছেন। রজনীকান্ত সেন এ কবিতায় ব্যক্ত করেছেন যে, ঈশ্বর সকল কিছুর মূলে অবস্থান করছেন । তিনি তাঁর সৃষ্টিকে নিজের মহিমা ও সৌন্দর্য দিয়ে সৃষ্টি করেছেন । তাই ঈশ্বরের সৌন্দর্যেই সকল কিছু সুন্দর। তাঁর শক্তিতেই সকল কিছু শক্তিমান ।

পাঠ ৪ : ঈশ্বরজ্ঞানে জীবসেবা

সাধারণ অর্থে ‘সেবা' বলতে পরিচর্যা করা বোঝায়। যেমন- অতিথি সেবা, জীবসেবা, ঈশ্বর সেবা প্রভৃতি। অপরের সন্তোষ বিধানের জন্য দেহ ও মনের সমন্বয়ে কল্যাণকর যে কাজ করা হয় তাকে সেবা বলে। জীবসেবা বলতে জীবের পরিচর্যা, সংরক্ষণ ও বৃদ্ধি করাকে বোঝায়। এ ছাড়াও বুদ্ধি দিয়ে, পরামর্শ দিয়ে, সহানুভূতি জানিয়ে, বিপদে পাশে দাঁড়িয়ে নানাভাবে সেবা করা যায়। আমরা জীবের সেবা করব কেন? আমরা জানি, ঈশ্বর জীবাত্মারূপে জীবের মধ্যে অবস্থান করেন। তাই জীবসেবা করলে ঈশ্বরকে সেবা করা হয়।

জীবের সেবা করা হিন্দুধর্মের অন্যতম প্রধান ব্রত হিসেবে বিবেচিত। 'যত্র জীবঃ তত্র শিবঃ'। অর্থাৎ যেখানে জীব সেখানেই শিব। এখানে শিব বলতে ঈশ্বরের কথাই বোঝানো হয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন :

'বহুরূপে সম্মুখে তোমার ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর জীবে প্রেম করে যেইজন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর।'

এ কথার তাৎপর্য এই যে, বহুরূপে অর্থাৎ বহুজীবরূপে ঈশ্বর আমাদের সম্মুখেই আছেন। তাই তাঁকে খুঁজে বেড়ানোর দরকার নেই। যিনি জীবকে ভালোবাসেন, তিনি সেই সেবার মধ্য দিয়ে ঈশ্বরেরই সেবা করেন। তাই হিন্দুধর্মে জীবকে ঈশ্বর বা ব্রহ্মজ্ঞানে সেবা করতে বলা হয়েছে। কারণ জীবকে সেবা করলেই ঈশ্বরের সেবা

 করা হয়।

সুতরাং ঈশ্বর জ্ঞানে জীবসেবা হিন্দুধর্মের একটি মূল বৈশিষ্ট্য এবং অন্যতম নৈতিক শিক্ষা।

হিন্দুধর্মে বৃক্ষ একটি জীব। বৃক্ষের মধ্যে প্রাণরূপে ঈশ্বর বিরাজিত। তাই বৃক্ষের সেবা বা পরিচর্যা করার

 

 

 

 

 

বিষয়টিকে হিন্দুধর্মে প্রাচীন কাল থেকেই অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আহারের শেষে কিছু অংশ বিভিন্ন প্রাণীর জন্য সংরক্ষণ করা হয় । এই অংশ জীবকে দেওয়া হয়। এভাবেও জীবসেবা হয়। হিন্দুধর্মে জীবসেবা প্রদানের জন্য বিভিন্ন সেবাশ্রম, মঠ গড়ে উঠেছে যা মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের

সেবা প্রদান করছে। বিভিন্ন উপায়ে জীবসেবা করা হচ্ছে ।

সকল জীবের মধ্যে প্রাণরূপে ঈশ্বর বিরাজিত এবং ঈশ্বরের সত্তা প্রকাশিত। আমরা এ সত্য উপলব্ধি করে, সব ভেদাভেদ ভুলে জীবের সেবা করব।

অনুশীলনী

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন :

১। ‘আত্মা জন্মহীন মৃত্যুহীন শাশ্বত, পুরাতন হলেও চির নতুন' – কে বলেছেন? -

ক. শ্রীচৈতন্যদেব গ. শ্ৰীকৃষ্ণ

খ. শ্রীবিজয়কৃষ্ণ ঘ. শ্রীরামকৃষ্ণ

২। ভক্তদের কাছে ঈশ্বর কী নামে পরিচিত?

খ. বৈষ্ণব ঘ. পরমাত্মা

ক. ব্ৰহ্ম গ. ভগবান

৩ । জীবকে ভালোবাসার মূল কারণ হচ্ছে – 

i. যেখানেই জীব সেখানেই শিব iii. জাগতিক কল্যাণ হয়

ii. ঈশ্বর সন্তুষ্ট হন

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii গ. ii ও iii

খ. i ও iii

ঘ. i, ii ও iii

নিচের অনুচ্ছেদটি পড় এবং ৪ ও ৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও :

অতীন্দ্র বাবু প্রতিদিন দুপুরে আহারের সময় একমুঠো ভাত তাঁর কুকুরকে দিতেন ।একটি একসময় কুকুরটি তাঁর খুব ভক্ত হয়ে ওঠে ।

৪ । অতীন্দ্র বাবুর আচরণে হিন্দুধর্মের কোন মূল বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন ঘটেছে?

ক. পশুপ্রীতি গ. কর্তব্যনিষ্ঠা

খ. জীবসেবা

ঘ. অন্নদান

 

 

 

 

 

৫। অতীন্দ্র বাবুর পক্ষে ঈশ্বরকে ভালোবাসা সম্ভব, কারণ তাঁর বিশ্বাসে রয়েছে ঈশ্বর—

i. সকল সৃষ্টির মূল

ii. মহাবিশ্বের নিয়ন্তা

iii. আত্মারূপে জীবের মধ্যে অবস্থান করেন

নিচের কোনটি সঠিক?

খ. i ও iii

ক. i ও ii

গ. ii ও iii

ঘ. i, ii ও iii

সৃজনশীল প্রশ্ন :

মৌমিতার বোনের জন্মের সাত দিন পরেই তার ঠাকুরমার মৃত্যু হয় । প্রিয় ঠাকুরমাকে হারিয়ে সে একা হয়ে পড়ে এবং মায়ের কাছে দুঃখ প্রকাশ করলে মা তাকে জীবাত্মা সম্পর্কে একটি ধর্মগ্রন্থের বক্তব্য বুঝিয়ে বলেন । মৌমিতা তা উপলব্ধি করতে পেরে শ্রদ্ধায় ঈশ্বরের প্রতি মাথা নত করে ।

ক. ব্রহ্ম থেকে কী সৃষ্টি হয়েছে?

খ. ঈশ্বরকে কেন আদি শক্তি বলা হয়?

গ. অনুচ্ছেদে মৌমিতার মা কোন ধর্মগ্রন্থের বক্তব্য তুলে ধরেন তা তোমার পঠিত বিষয়বস্তুর

আলোকে ব্যাখ্যা কর ।

ঘ. মৌমিতার উপলব্ধিটি তোমার পঠিত বিষয়বস্তুর আলোকে মূল্যায়ন কর ।  

Related Question

View All
উত্তরঃ

সৃষ্টির আদিতে এ মহাবিশ্ব ছিল না। তখন সব ছিল অন্ধকার। তারপর এলো আলো, জল এবং জলের পরে পৃথিবী। পৃথিবীর পরে এলো গাছপালা, কীটপতঙ্গ, জীবজন্তু, মানুষ প্রভৃতি। ঈশ্বরই সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। তাই ঈশ্বরকে আদি শক্তি বলা হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
2k
উত্তরঃ

হিন্দুধর্মগ্রন্থ হলো বেদ, উপনিষদ, পুরাণ, গীতা, রামায়ণ, মহাভারত প্রভৃতি। মৌমিতার মা গীতা ধর্মগ্রন্থের বক্তব্য তুলে ধরেন। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ জীবাত্মা সম্পর্কে বলেছেন-

"জীবাত্মা জন্মেন না মরেন না। ইনি নিত্য বিদ্যমান? ইনি জন্মরহিত, নিত্য, শাশ্বত এবং পুরাণ। শরীরের বিনাশ ঘটলেও ইনি বিনষ্ট হন না।” উদ্দীপকের মৌমিতার মা প্রিয় ঠাকুরদার কষ্ট দূর করার জন্য মৌমিতাকে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার আলোচ্য অংশটুকুর মাধ্যমেই ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
1k
উত্তরঃ

মৌমিতা উপলব্ধি করল নিজের প্রকৃত স্বরূপকে। চৈতন্যস্বরূপ আত্মারূপে উপলব্ধি না করা পর্যন্ত প্রত্যেক জীবাত্মা জন্ম-মৃত্যু চকে আবর্তিত হতে থাকে। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় বলা হয়েছে-

'বাসাংসি জীর্ণানি যথা বিহায় নবানি গৃহাতি নরোৎপরাণি।
 তথা শরীরাণি বিহায় জীর্ণা ন্যন্যানি সংযাতি নবানি দেহী।' (২/২২)

সরলার্থ : মানুষ যেমন পুরাতন কাপড় পরিত্যাগ করে নতুন কাপড় পরিধান করে, আত্মাও তেমনি পুরাতন দেহ পরিত্যাগ করে নতুন দেহে প্রবেশ করে। আত্মার দেহ পরিবর্তনকে জন্ম ও মৃত্যু বলে। দেহকে আশ্রয় করে আত্মার অভিযাত্রা। আবার আত্মাকে লাভ করে দেহ সজীব। আত্মার জন্ম ও মৃত্যু নেই। মৌমিতা তা উপলব্ধি করতে পেরে, শ্রদ্ধায় ঈশ্বরের প্রতি মাথা নত করে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
805
উত্তরঃ

আত্মা নিত্যবস্তু ও নিরাকার। আত্মার সৃষ্টি বা বিনাশ নেই। একই পরমাত্মা বহু আত্মারূপে জীবদেহের মধ্যে অবস্থান করে। জীবদেহের বিনাশ আছে। কিন্তু আত্মার বিনাশ নেই। কারণ জীবাত্মা পরমাত্মারই অংশবিশেষ। পরমাত্মার সব গুণই জীবাত্মায় বিদ্যমান। তাই পরমাত্মার ন্যায় জীবাত্মার সৃষ্টি বা বিনাশ নেই।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
516
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews