যা নৈতিক তা ধর্ম ।
যা অনৈতিক তা অধর্ম ।
যিনি ধর্মপথে চলেন তাকে ধার্মিক বলে ।
নরক যন্ত্রণা পান অধার্মিক ।
ধার্মিক স্বর্গ ও মোক্ষ পান ।
মাদক গ্রহণ অধর্মের পথ ।
ধর্মাধর্ম নির্ণয়ে বেদের পরের স্থান স্মৃতিশাস্ত্র ।
আমরা ধর্ম পালন করি মোক্ষ লাভের জন্য ।
মানুষের অসুর প্রকৃতির বিনাশ ঘটে ধর্ম পালন করলে ।
ধর্মের বাহ্য লক্ষণ দশটি ।
ধর্মাধর্ম নির্ণয়ের দ্বিতীয় প্রমাণ স্মৃতিশাস্ত্র ।
জীবনের যে পথ অনুসরণ করলে নিজের মোক্ষ বা চিরমুক্তি ঘটে তাকে ধর্ম পথ বলে ।
হিন্দুধর্মের বিশেষ লক্ষণ ৪টি ।
মানব জীবনের শ্রেষ্ঠ উদ্দেশ্য ঈশ্বরলাভ ।
ধর্মের সাধারণ লক্ষণ চারটি ।
ব্যক্তি বা সমাজের ক্ষতিকর কাজে বিবেক বাধা প্রদান করে ।
ধর্মাধর্ম নির্ণয়ের ভিত্তি চারটি ।
ধর্মতত্ত্বের আলোকে জগতের সত্তাকে জানার নাম জ্ঞান ।
ধর্মাধর্ম নির্ণয়ের ক্ষেত্রে চতুর্থ ভিত্তি বিবেকের বাণী ।
জীবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মা মিশে যাওয়াকে ব্রহ্মলগ্ন হওয়া বলে ।
জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন ঈশ্বর ।
আবহমানকাল ধরে অনুসৃত ও মহাপুরুষদের দ্বারা-অনুশীলিত আচরণকে সদাচার বলে ।
নৈতিক মূল্যবোধকে বিচারের মানদণ্ড বলে ।
ভালো-মন্দ বিচার করার শক্তিকে নৈতিক মূল্যবোধ বলে ।
নৈতিক মূল্যবোধের সাথে ধর্মের সম্পর্ক রয়েছে ।
পরের দ্রব্য অপহরণ করা অন্যায় কাজ ।
ধর্মের দৃষ্টিকোণ থেকে পরের দ্রব্য অপহরণ করা অধর্মের কাজ ।
নৈতিকতা ধার্মিকের গুণ ।
ধার্মিক ব্যক্তি কখনো ধৈর্য হারান না ।
প্রজ্ঞা কাজ ধার্মিক ব্যক্তিকে মহান করে তোলে ।
জীবঃ ব্রহ্মৈব নাপরঃ'- অর্থ ব্রহ্ম ছাড়া আর কিছুই নয় ।
ধার্মিক ব্যক্তি ক্ষমতার দন্ড দ্বারা পরিচালিত হন না ।
আমরা ইন্দ্রিয়ের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপথগামী হই ।
কাম, ক্রোধ প্রভৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন ধার্মিক ।
ধার্মিকের প্রধান নৈতিক গুণ দুটি ।
ধার্মিক ব্যক্তি ত্যাগের দ্বারা ভোগ করেন ।
ধার্মিককে রক্ষা করে ধর্ম ।
ধর্ম নষ্ট হলে ধর্মই-ধর্মনষ্টকারীকে বিনাশ করে' মনুসংহিতা গ্রন্থের বাণী ।
ধার্মিক ব্যক্তি নিজের কর্মকে ভগবানের কর্ম মনে করেন ।
পরলোকে নরক যন্ত্রণা ভোগ করতে হয় পাপ কাজ করলে ।
অধার্মিক সর্বদাই বিষণ্ণ থাকেন অতৃপ্ত থাকেন বলে ।
কুকর্ম থেকে পাপ অর্জিত হয় ।
হিরণ্যকশিপু ছিলেন দৈত্যদের রাজা ।
ভগবান বিষ্ণু নৃসিংহ অবতীর্ণ হয়ে দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপুকে বধ করেন ।
হিরণ্যকশিপু সত্য যুগের রাজা ছিলেন ।
রাজা হিরণ্যকশিপু এক মনে শ্রী হরিকে ডাকতো বলে নিজ পুত্রকে হত্যা করতে চেয়েছিল ।
ধর্মের জয়' উপাখ্যান থেকে শিক্ষা পাওয়া যায় যে ধর্মই ধার্মিককে রক্ষা করে ।
ধর্মের জয়' উপাখ্যানের ঘটনাটি সত্য যুগের ।
বিষমিশ্রিত অন্ন দেওয়া হলো প্রহ্লাদকে ।
দৈত্য আর দেবতাদের মধ্যে সম্পর্ক কলহপূর্ণ ।
রাজা হিরণ্যকশিপুর পুত্রের নাম প্রহ্লাদ ।
রাজা হিরণ্যকশিপু অবাক হলেন পুত্রের কথা শুনে ।
প্রহ্লাদকে কোথায় নিক্ষেপ করা সাপের প্রকোষ্ঠে ।
স্ফটিক স্তম্ভন্ড থেকে শ্রীহরি বেরিয়ে এলো ।
মানব জাতির কল্যাণকর পথ জীবের সাধনা ।
পরিবারবদ্ধ হয়ে বাস করে মানুষেরা ।
ছোটরা আচার-আচরণ শিখে বড়দের কাছে ।
প্রতিটি পরিবার ধর্মের পথে চললে সমাজ ধর্মের পথে থাকবে ।
কাঠুরিয়ার দারিদ্র্য দূর হওয়ার মূল কারণ সততা ।
জলদেবতা কাঠুরিয়াকে সোনা ও রূপার কুঠার দুটি দিয়ে দিলেন কাঠুরিয়ার সততার জন্য ।
লোহার কুঠারটিকে কাঠুরিয়া নিজের বলল ।
জলদেবতা, প্রথমে সোনার কুঠার নিয়ে আসে ।
কাঠুরিয়ার কুঠারটা নদীতে পড়ে গেল ।
নদীর ভিতর থেকে জলদেবতা উঠে এলো ।
জলদেবতা মুগ্ধ হলো কাঠুরিয়ার সততায় ।
মোড়ল কাঠ কাঠতে গেলেন সোনার কুঠারের লোভে ।
হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বঙ্গীয় শব্দকোষ গ্রন্থে প্রণামের কথা উল্লেখ করেন ।
নির্ঝর হাত জোড় করে মাথায় ঠেকিয়ে মামাকে সম্মান জানায়। নির্ঝরের আচরণ নমস্কার সাথে সম্পৃক্ত ।
প্রণাম চার প্রকার ।
পঞ্চাঙ্গ প্রণামের কথা তন্ত্রসার গ্রন্থে উল্লেখ আছে ।
নমস্কার তিন প্রকার ।
কমল বাবু বাহুদ্বয়, জানুদ্বয়, মস্তক, বক্ষস্থল ও দর্শনেন্দিয় ব্যবহার করে ঈশ্বরকে প্রণাম জানালেন। কমল বাবুর প্রনামটি পঞ্চাঙ্গ ।
ধর্মাচারের মধ্য দিয়ে শিষ্টাচার প্রকাশ প্রায় ।
হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রণামকে চারটি ভাগে বিভক্ত করেন ।
পঞ্চাঙ্গ প্রণামে পাঁচটি অঙ্গ ব্যবহৃত হয় ।
শিষ্টাচার ও শ্রদ্ধা প্রকাশের অন্যতম উপায় নমস্কার ও প্রণাম ।
নম্র, ভদ্র বা শিষ্ট আচারকে শিষ্টাচার বলা হয় ।
প্রণাম জানানোর মাধ্যমে শিষ্টাচার প্রকাশ পায় ।
আমাদের সৃষ্টি করেছেন ঈশ্বর ।
অষ্টাঙ্গ প্রণামের আটটি অঙ্গ ।
প্রণামের প্রতিশব্দ নমস্কার ।
অনৈতিক এবং অধর্মের পথ মাদক গ্রহণ বা মাদকাসক্তি ।
'আপনি আচরি ধর্ম জীবের শিখায়' শ্রীচৈতন্যচারিতামৃতে গ্রন্থে বলা হয়েছে ।
মাদকাসক্তকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা পরিবারের কর্তব্য ।
মানুষ অর্থের লোভে বিপথগামী হয় ।
মাদকাসক্তি কারণে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন পর্যন্ত শিথিল হয়ে যায় ।
মাদকাসক্তি মাদক গ্রহণকারী স্বাভাবিক চেতনাকে বিমূঢ় করে দেয় ।
মাদক গ্রহণে মানসিক ক্ষতি হয় বাক্যটিতে প্রকাশ পেয়েছে মাদকদ্রব্যের ক্ষতিকর দিক ।
সমাজের প্রথম স্তর পরিবার ।
ধর্মপথ হচ্ছে ন্যায়ের পথ। ধর্মপথ সত্যের পথ, অহিংসা এবং কল্যাণের পথ। জীবনের যে পথ অনুসরণ করলে নিজের মোক্ষলাভহয় এবং জীব ও জগতের কল্যাণ সাধন হয় সেই পথই ধর্মপথ। ধর্মপথে জীবন-যাপন করলে মানুষ যেমন ইহলোকেও সুখ পায়, তেমনি পরলোকেও সদ্গতি প্রাপ্ত হয়।
আমরা কেন ধর্ম পালন করি সে সম্পর্কে বলা হয়েছে-'আত্মমোক্ষায় জগদ্বিতায় চ'। অর্থাৎ আমরা ধর্ম পালন করি নিজের মোক্ষলাড এবং জগতের কল্যাণের জন্য। এ মোক্ষলাভের জন্য কেবল ব্যক্তিগত সাধনা করলে চলবে না। পাশাপাশি জীব ও জগতের কল্যাণ সাধন করতে হবে।
ধর্মাধর্ম নির্ণয়ে বেদের পরেই স্মৃতিশাস্ত্রের স্থান। বেদের পরেই কর্তব্য বা অকর্তব্য, ধর্ম বা অধর্ম নির্ণয়ের জন্য রচিত গ্রন্থাবলিকে বলা হয় স্মৃতিশাস্ত্র। মনুসংহিতা, পরাশরসংহিতা, যাজ্ঞবন্ধ্য সংহিতা প্রভৃতি স্মৃতিশাস্ত্রের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। ধর্মাধর্ম নির্ণয়ে এগুলো দ্বিতীয় প্রমাণ
ব্রহ্মালগ্ন হওয়া অর্থ মোক্ষলাভ করা। আমরা জানি, মোক্ষলাভের পূর্ব পর্যন্ত বার বার জন্মগ্রহণ করে পৃথিবীতে 'আসতে হয়। ভোগ করতে হয় জন্ম, জরা, ব্যাধি ও মৃত্যুর যন্ত্রণা। কিন্তু যখন মোক্ষলাড করে তখন জীবাত্মা ব্রহ্ম বা পরমাত্মার সঙ্গে মিশে যায়। তখন আর ফিরে আসতে হয় না। একেই বলে ব্রহ্মলগ্ন হওয়া।
কোনো বিষয়ে বেদ ও স্মৃতিশাস্ত্র থেকে বাস্তবসম্মত উপদেশ না পাওয়া গেলে মহাপুরুষদের আচরণকে দৃষ্টান্ত হিসেবে গ্রহণ করতে হয় এবং সে পথেই চলতে হয়। আবহমানকাল ধরে অনুসৃত ও মহাপুরুষদের দ্বারা অনুশীলিত আচরণই সদাচার। ধর্মাধর্ম নির্ণয়ে এই সদাচার তৃতীয় প্রমাণ।
মোক্ষলাভ এবং জগতের কল্যাণের জন্য আমরা ধর্ম পালন করি। মোক্ষলাভের পূর্ব পর্যন্ত বারবার জন্মগ্রহণ করে পৃথিবীতে আসতে হয় এবং জন্ম, জরা ও মৃত্যুর যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়। মোক্ষলাড করলে ব্রহ্ম বা পরমাত্মার সাথে জীবাত্মা মিশে যাওয়াকে ব্রহ্মলগ্ন হওয়া বলে। ব্রহ্মলগ্ন হওয়ার অপর নাম মোক্ষলাভ।
অনেক সময় ধর্মাধর্ম নির্ণয়ে কোনো দৃষ্টান্ত পাওয়া যাচ্ছে না, এমন অবস্থার সম্মুখীন হলে তখন বিবেকের বাণীকে গ্রহণ করতে হয়। ধর্মাধর্ম নির্ণয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তিগণ নিজের বিবেককেও প্রামাণ্য বলে বিবেচনা করেন। নিজের বিবেককে প্রশ্ন করতে হয় কাজটি করলে ধর্ম হবে নাকি অধর্ম হবে।
ধর্মাধর্ম নির্ণয়ে চতুর্থ প্রমাণ হলো বিবেক। অনেক সময় যখন বেদ, স্মৃতি, সদাচার হতে সঠিক কোনো সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না, এমন অবস্থার সম্মুখীন হলে তখন নিজের বিবেক দিয়ে সিন্ধান্ত নিতে হয়। কাজটি করলে ধর্ম হবে নাকি অধর্ম হবে, নৈতিক মূল্যবোধ বিচারের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
নৈতিক মূল্যবোধের সাথে ধর্মপথের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। কোন কাজটা ভালো বা কল্যাণকর কাজ, আর কোনটা মন্দ বা অকল্যাণকর তা বিবেচনার যে শক্তি, তাই নৈতিক মূল্যবোধ। যা ভালো ও কল্যাণকর কাজ তা মেনে চললে ধর্ম হয় এবং যা ভালো নয় তা করলে অধর্ম হয়। তাই বলা হচ্ছে, ধর্মপথ ও নৈতিক মূল্যবোধ অঙ্গাঙ্গী।
যে কাজকে ন্যায়, আচরণীয় ও কল্যাণকর মনে করে তা মেনে চললে ধর্ম হয় এবং যে কাজ ভালো বা কল্যাণকর নয় তা করলে পাপ বা অধর্ম হয়, এই বোধটাই হচ্ছে নৈতিক মূল্যবোধ। নৈতিক মানদণ্ডে যা অন্যায় ধর্মের দৃষ্টিতেও তা পাপ। তাই বলা হচ্ছে, নৈতিক মূল্যবোধ বিচারের মানদণ্ড আর ধর্ম হচ্ছে সেই বিচারের ফল।
মনুসংহিতায় ধর্মের দশটি বাহ্য লক্ষণের কথা বলা হয়েছে যার মধ্য দিয়ে ধর্মের স্বরূপ প্রকাশ পেয়েছে। এগুলো হলো- সহিষ্ণুতা, ক্ষমা, দয়া, চুরি না করা, শুচিতা, ইন্দ্রিয় সংযম, শুদ্ধ বুদ্ধি, জ্ঞান, সত্য এবং ক্রোধহীনতা। যার মধ্যে এই গুণগুলি প্রকাশ পায় বা যিনি অনুসরণ করে চলেন তিনিই ধার্মিক।
ধার্মিক ব্যক্তি ধীশক্তিসম্পন্ন। তার প্রজ্ঞা তাকে মহান করে তোলে। তিনি কখনো সত্য থেকে দূরে সরে যান না। ধার্মিক ব্যক্তি সুখে-দুঃখে নিরুদ্বেগ থাকেন। আনন্দে অতি উদ্বেল হন না, দুঃখে ভেঙে পড়েন না। তিনি নানা বিদ্যায় পারদর্শী। দান এবং দয়া ধার্মিকের অন্যতম দুটি প্রধান গুণ।
ধার্মিক ব্যক্তি ত্যাগের দ্বারা ভোগ করেন। তিনি সর্বাবস্থায় নিজেকে সংযত করতে পারেন এবং যোগযুক্ত হয়ে জগতের হিতসাধনে আত্মনিবেদন করেন। যিনি ধার্মিক তিনি কাম ক্রোধ প্রভৃতি 'প্রবৃত্তিকে দমন করতে পারেন। তিনি ইন্দ্রিয়ের ইচ্ছায় চলেন না, বরং ইন্দ্রিয়কেই সংযত করে নিজের ইচ্ছানুসারে চালাতে পারেন।
হিন্দুধর্মের দার্শনিক প্রত্যয় হচ্ছে: জীবের মধ্যে আত্মারূপে ঈশ্বর বাস করেন। জীবের মধ্যে যখন ঈশ্বর আত্মারূপে অবস্থান করেন তখন জীবদেহ সচল হয়, আত্মার বহির্গমন হলে দেহ মৃত-অর্থাৎ জড়বস্তুতে পরিণত হয়। তাই হিন্দুধর্মে জীবসেবাকে প্রধান দ্রু হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। কেননা জীবসেবা ঈশ্বরেরই সেবা।
জীবঃ ব্রহ্মৈব নাপরঃ' অর্থ হলো জীব ব্রহ্ম ছাড়া কিছুই নয়। সকল জীবের মধ্যে ঈশ্বর সমানভাবে বিরাজমান। তাই যিনি ধার্মিক তিনি সমদর্শী হন। তার কাছে বর্ণভেদ নেই, জাতিভেদ নেই। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে তিনি সকলকে সমান বিবেচনা করেন এবং সম্মান করেন।
ধর্মগ্রন্থে আছে, ধার্মিক ইহলোকে শান্তি পান এবং পরলোকে স্বর্গ লাভ করেন। ধার্মিক ধর্মকর্মের মাধ্যমে চরম অবস্থায় ব্রহ্মকে লাভ করেন। তাঁর জীবাত্মা পরমাত্মায় লীন হয়ে যায় এবং সবশেষে ধার্মিক ব্যক্তি মোক্ষ বা চিরমুক্তি লাভ করেন।
ধার্মিক ব্যক্তিরা সমস্ত কর্মকে ঈশ্বরের কর্ম বলে বিবেচনা করেন এবং তার সকল কর্মের ফল ঈশ্বরের প্রতি সমর্পণ করেন। কেননা ধার্মিক ব্যক্তি ত্যাগ করে আনন্দ পান। সেবা করে তৃপ্ত হন। তাঁর কর্ম জ্ঞান দ্বারা পরিযুত এবং ভক্তি দ্বারা বিশোধিত।
অধার্মিক সবসময় অতৃপ্ত থাকেন বলে সর্বদাই বিষণ্ণ থাকেন। কাম তাঁকে তাড়িত করে, ক্রোধ তাঁকে উত্তেজিত করে, লোভ তাঁকে আকর্ষণ করে তাঁর অধঃপতন ঘটায়। ইহলোকে তিনি কর্মের ফল' ভোগ করেন এবং মৃত্যুর পরও নরক যন্ত্রণা ভোগ করেন। আবার জন্ম-মৃত্যুর চক্রে আবর্তিত হতে থাকেন।
মনুসংহিতায় বলা হয়েছে, ধর্ম নষ্ট হলে ধর্মই ধর্ম নষ্টকারীকে বিনাশ করে। অর্থাৎ যিনি ধর্মকে মেনে চলেন না, ধর্মের পথে জীবন ডাতিবাহিত করেন না তিনি তার কৃত কুকর্মের জন্য দণ্ডভোগ করেন। কুকর্ম থেকে পাপ অর্জিত হয় এবং পাপ মৃত্যু পর্যন্ত ডেকে আনে। এভাবেই অধর্মের পরাজয় ঘটে।
প্রহ্লাদ ছিলেন দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপুর পুত্র। দৈত্য আর দেবতাদের মধ্যে ছিল চিরকালের ঝগড়া। হিরণ্যকশিপুও তার ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু দৈত্যশিশু প্রহ্লাদ ছিলেন হরিভক্ত। জাগতিক কোনো বিষয়েই তার আসক্তি নেই। ছোটবেলা থেকেই একমাত্র শ্রীহরির নাম নেয়াতেই তার আনন্দ। তাই সর্বদা সে শ্রীহরির নাম করত।
দৈত্যরা অনাদিকাল থেকেই ছিলেন হরিবিদ্বেষী। কিন্তু প্রহ্লাদ ছিলেন হরিভক্ত। পার্থিব কোনো জিনিসই তার প্রিয় ছিল না। পাঠেও তার মন ছিল না। তার বাবা তাঁকে জিজ্ঞেস করলে বলেন- শ্রীহরির আশ্রয় নেওয়াতেই তার আনন্দ। শত চেষ্টাতেও পুত্রকে হরিবিমুখ করতে না পারলে অবশেষে প্রহ্লাদকে হত্যা করতে উদ্যত হন।
শত চেষ্টা করেও প্রহ্লাদকে হরিনাম নেওয়া থেকে বিরত করতে না পারলে হত্যার আদেশ দেওয়া হয়। প্রহ্লাদের বক্ষে মূল নিক্ষেপ করে, বিষমিশ্রিত অন্ন দিয়ে, হাতির পায়ের নিচে, বিষধর সর্পের প্রকোষ্ঠে রেখে, সুউচ্চ পর্বত থেকে ফেলে দিয়ে, আগুনে নিক্ষেপ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বারবার শ্রীহরি তাঁকে রক্ষা করেন।
হিরণ্যকশিপু ছিলেন অসীম ক্ষমতাধর। তিনি বর পেয়েছিলেন, কোনো দেব, নর, যক্ষ প্রভৃতি কেউ কোনো অস্ত্র দিয়ে স্বর্গ, মর্ত্য বা পাতালে, দিনে বা রাতে তাঁকে হত্যা করতে পারবে না। কিন্তু শ্রীহরি নৃসিংহরূপে স্ফটিক স্তম্ভ থেকে আবির্ভূত হয়ে গোধূলী লগে নিজের কোলের উপর রেখে, হাতের নখ দিয়ে তাকে হত্যা করেন এবং ভক্ত প্রহ্লাদকে রক্ষা করেন।
'ভক্ত' প্রহ্লাদের উপাখ্যান থেকে আমরা দেখতে পাই ধর্মের জয় অবশ্যম্ভাবী। যিনি ধার্মিক, ধর্মপথে থাকেন, ধর্মই তাকে রক্ষা করে। যেমন- ধর্মই প্রহ্লাদকে রক্ষা করেছিল। তাই আমাদেরও সবসময় ধর্মপথে থাকা উচিত এবং সর্বদা শ্রীহরির স্মরণ করা উচিত। ভগবান শ্রীহরিই আমাদের রক্ষা করবেন।
মানুষ পরিবারবদ্ধ হয়ে বাস করে। ফলে পরিবারের সকল সদস্যের স্বার্থ একসূত্রে বাঁধা থাকে। পরিবারের মাধ্যমেই একজন সহমর্মিতা, পরমতসহিষ্ণুতা, সততা, সংযম, নির্লোভতার মতো নৈতিক গুণগুলো শেখে। যার মাধ্যমে সে ধর্মপথে থাকতে পারে। তাই ধর্মপথ অনুশীলনে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে ।
সততা একটি নৈতিক গুণ এবং ধর্মেরও অঙ্গ। সততার সাথে কোনো কিছু করলে এবং সৎপথে জীবন অতিবাহিত করলে তার ফল সবসময়ই শুভ হয়। মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে আপাতদৃষ্টিতে সুখ অনুভূত হলেও' তার ফল কখনো শুভ হয় না। তাই সততাকেই সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা গণ্য করা হয়েছে।
এক দরিদ্র কাঠুরিয়া বনে কাঠ কেটে তা বিক্রি করে সংসার চালাতেন। একদিন নদীর ধারে গাছের ডাল কাটার সময় অসাবধানবশত কুঠারটি নিচে নদীতে পড়ে যায়। তখন কাঠ কাটতে না পেরে পরিবারসহ উপোস করতে হবে ভেবে বসে কাঁদতে লাগলেন। কাঠুরিয়ার দুঃখ লাঘব করার জন্য জলদেবী নদীর ভেতর থেকে আবির্ভূত হন।
জলদেবী গরিব কাঠুরিয়ার সততায় মুগ্ধ হয়েছিলেন। কেননা জলদেবী যখন একে একে সোনা ও রুপার কুঠার দেখায়, কাঠুরিয়া তা দেখে লোভ না করে পরবর্তীতে তার লোহার কুঠারটিই গ্রহণ করে। তা দেখে জলদেবী মুগ্ধ হয় এবং লোহার কুড়ালের সাথে সোনা ও রুপার কুড়াল দুটিও উপহার দেয়।
মোড়লের চরিত্রে লোভ এবং অসত্যের দিকটি ফুটে উঠেছে। গরিব কাঠুরিয়ার কথা শুনে তিনি ইচ্ছে করে কুড়াল হাত থেকে নদীতে ফেলে দেয় এবং জলদেবী এসে সোনার কুঠার দেখালে লোভের বশে সেটাকেই নিজের বলে দাবি করে। জলদেবী রেগে ডুব দিয়ে আর ওঠে আসে না এবং মোড়ল অসত্যের কারণে নিজের কুঠারটিও হারায়।
নম্র, ভদ্র বা শিষ্ট আচারকে বলে শিষ্টাচার। শিষ্টাচার মনুষ্যত্বের অন্যতম প্রধান গুণ। এই শিষ্টাচারের জন্যও মানুষ পশু-পাখি থেকে আলাদা। আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে শিষ্টাচার অপরিহার্য। ধর্মপথে চলার ক্ষেত্রেও শিষ্টাচার অন্যতম পাথেয়। কেননা শিষ্টাচার ধর্মেরও অঙ্গ।
নম্র, ভদ্র বা শিষ্ট আচারকে শিষ্টাচার বলে। আমরা মাতা, পিতা ও গুরুজনদের প্রণাম জানাই। এই প্রণাম জানানোর মধ্য দিয়ে যা প্রকাশ পায় তার নাম ভক্তি। আবার সমবয়সীদের শুভেচ্ছা জানাই ও ছোটদের স্নেহ করি। বিনিময়ে আশীর্বাদ ও ভালোবাসা লাভ করি। এগুলো সবই শিষ্টাচারের রকমের।
ঈশ্বর আমাদের সৃষ্টি করেছেন। প্রাণ বা আত্মারূপে ঈশ্বর সকলের মধ্যে অবস্থান করেন। আবার ঈশ্বরের সাকার রূপ দেব-দেবীরা তাঁদের নিজ নিজ গুণ বা শক্তি দিয়ে আমাদের সহায়তা করেন। তাই আমরা তাঁদের স্তব-স্কৃতি করি, প্রণাম মন্ত্র উচ্চারণ করে প্রণাম জানাই।
শিষ্টাচার একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক মূল্যবোধ এবং ধর্মেরও অঙ্গ। শিষ্টাচার বা ভদ্র ব্যবহারের দ্বারা আমরা মানুষের মন জয় করতে পারি। আমরা যখন প্রণাম বা শ্রদ্ধা জানাই বিনিময়ে তখন আশীর্বাদ ও ভালোবাসা লাভ করি ফলে সমাজে সৌহার্দপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করে। পারিবারিক ও সমাজজীবনে শিষ্টাচার অপরিহার্য।
প্রণাম বলতে বোঝায় প্রকৃষ্টরূপে নমন বা নমস্কার। নমস্কার প্রণামের প্রতিশব্দ। কাউকে প্রণাম করা বা প্রণাম জানানোর মাধ্যমে তার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয়। বঙ্গীয় শব্দকোষ গ্রন্থে চার প্রকার ৩. অষ্টাঙ্গ প্রণাম ও ৪. নমস্কার।
প্রণামের উল্লেখ রয়েছে। যথা- ১. অভিবাদন, ২. পঞ্চাঙ্গ প্রণাম
প্রণাম বলতে বোঝায় প্রকৃষ্ঠরূপে নমন বা নমস্কার। প্রণাম বিভিন্নভাবে হয়ে থাকে। পাঁচটি অঙ্গ ব্যবহার করে যে প্রণাম করা হয় তাকে পঞ্চাঙ্গ প্রণাম বলে। এখানে বাহুদ্বয়, জানুদ্বয়, মস্তক, বক্ষস্থল ও দর্শনেন্দ্রিয় এই পাঁচটি অঙ্গের ব্যবহার হয়।
নমস্কার প্রণামের প্রতিশব্দ। তবে নমস্কার বলতে বোঝায় হাত জোড় করে মাথায় ঠেকানো। নমস্কার তিন প্রকারের হয়ে থাকে। যথা-কায়িক, বাচিক ও মানসিক। নমস্কারকে সকল যজ্ঞের মধ্যে প্রধান বলা হয়। নমস্কার দ্বারা মানব বিশুদ্ধ হয়ে শ্রীহরিকে লাভ করে।
শিষ্টাচারের অঙ্গরূপে প্রণাম বা নমস্কারের আধ্যাত্মিক ও সামাজিক তাৎপর্য রয়েছে। হিন্দুধর্ম দর্শন অনুসারে সকল জীবের মধ্যে ঈশ্বর বা ব্রহ্ম আত্মারূপে অবস্থান করেন। প্রণামের মাধ্যমে আমরা সেই ব্রহ্মকেই শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। আবার বলা যায় ঈশ্বর ও তার শক্তি তো আমাদের শ্রদ্ধারই। এ কারণেই সকলেই প্রণম্য।
প্রণামের একটি প্রকারভেদ হলো অভিবাদন। আমরা অনেক সময় শুধুমাত্র বাক্য দ্বারা 'প্রণাম করি' বলে আনত হই, যাকে অভিবাদন বলা হয়। আবার অনেক সময় বাক্য উচ্চারণ না করে শুধুমাত্র আনত হয়েও অন্যকে অভিবাদন জানানো যায়। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শ্রদ্ধা জানানো।
ধূমপান ও মাদকাসক্তি দৈহিক, মানসিক, আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতি সাধন করে। ধূমপানের ফলে নিউমোনিয়া, ব্রংকাইটিস, যক্ষ্মা, ক্যান্সার, হৃদরোগ, আলসারসহ প্রভৃতি রোগ হয়। মাদকাসক্তি মাদক গ্রহণকারীর চেতনাকে বিমূঢ় করে তোলে, যা পরবর্তীতে অন্যদেরও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় ।
মাদক গ্রহণে মানসিক ক্ষতি হয়। মাদকাসক্তের চৈতন্য পর্যন্ত লোপ পায়। মাদকের অর্থ যোগাড় করতে গিয়ে মাদকাসক্ত অসৎ উপায় অবলম্বন করতেও দ্বিধা করে না। আবার মাদকদ্রব্য না পেলে অস্থির হয়ে তাদের আচরণও হয়ে ওঠে ধ্বংসাত্মক। যে কারণে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন শিথিল হয়ে যায়।
ধূমপান ও মাদকাসক্তি অধর্মের পথ। কেননা আমাদের দেহে আত্মারূপে ব্রহ্ম বা ঈশ্বর অবস্থান করছেন। সুতরাং এ দেহ ব্রহ্ম বা ঈশ্বরের মন্দির। তাকে কোনোভাবেই অপবিত্র করা উচিত নয়। আবার হিন্দুধর্ম দর্শন অনুসারে মাদকাসক্তি ঘোরতর পাপ। যা পাপ কাজ, তাই অধর্ম। তাই মাদক গ্রহণকে অধর্ম বলা হয়েছে।
মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা পারিবারিক কর্তব্য। সন্তানদের কেবল শাসন নয়, সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতি লক্ষ রাখতে হবে। সর্বোপরি নিজে আচরণের মাধ্যমে সন্তানকে শিক্ষা দিতে হবে। এভাবে মাদকাসক্তি থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
অন্যায় হচ্ছে কারও সাথে মিথ্যা বলা, অপরাধ করা, বড়দেরকে মান্য না করা, কাউকে হিংসা করা, পরের দ্রব্য অপহরণ করা, প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করা ইত্যাদি। এগুলো কোনো অবস্থাতেই ন্যায়ের পথ-নয়। তাই অন্যায় ন্যায়ের পথ নয়।
আমাদের মানবদেহের ইন্দ্রিয়গুলো কেবলই পরিতৃপ্ত হতে চায়। কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্থ যখন আমাদের ইন্দ্রিয়গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে, তখন আমরা ইন্দ্রিয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাই। যার ফলে আমরা বিপথগামী হই।
মাদক দ্রব্য ব্যবহারের নানা রকম রোগের সৃষ্টি হয়। যেমন-খাবারে অরুচি, বদহজম বা হজমশক্তি নষ্ট হয়ে যাওয়া, অপুষ্টি, শ্বাসনালির ক্ষতি, স্থায়ী কফ ও কাঁশি, হাঁপানি, ফুসফুসের ক্যান্সার প্রভৃতি। এছাড়া হৃদরোগও হতে পারে। কিডনি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
ধর্মের বাহ্যলক্ষণ দশটি।
বেদের পরে কর্তব্য-অকর্তব্য বা ধর্ম-অধর্ম নির্ণয়ের জন্য রচিত গ্রন্থাবলিকে বলা হয় স্মৃতিশাস্ত্র।
জীবনে যে পথ অনুসরণ করলে নিজের মোক্ষ বা চিরমুক্তি ঘটে এবং সকলের কল্যাণ হয় তাকে ধর্মপথ বলে।
আবহমান কাল ধরে অনুসৃত ও মহাপুরুষদের দ্বারা অনুশীলিত আচরণই সদাচার।
ধর্মাধর্ম নির্ণয়ে বেদের পরে স্থান স্মৃতিশাস্ত্রের ।
ধর্মের সাধারণ লক্ষণ হলো চারটি।
হিন্দুধর্মের মূলে ঈশ্বর।
নিজের মোক্ষলাভ এবং জগতের কল্যাণের জন্য আমরা ধর্ম পালন করি ।
মোক্ষলাভ করলে ব্রহ্ম বা পরমাত্মার সাথে জীবাত্মা মিশে যায়।
মোক্ষলাভ করলে ব্রহ্ম বা পরমাত্মার সাথে জীবাত্মা মিশে যাওয়াকে ব্রহ্মলগ্ন হওয়া বলে।
ব্রহ্মলগ্ন হওয়ার অপর নাম মোক্ষলাভ।
স্মৃতিশাস্ত্রের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো মনুসংহিতা, পরাশয় সংহিতা, যাজ্ঞবন্ধ্য সংহিতা প্রভৃতি।
আবহমানকাল ধরে অনুসৃত ও মহাপুরুষদের দ্বারা অনুশীলিত আচরণই সদাচার।
যে কাজ ব্যক্তিকে বিপথগামী করে এবং সামষ্টিক অমঙ্গল ডেকে আনে, বিবেক সে কাজকে অধর্ম বলে বিবেচনা করে।
যে বোধ বা বিবেচনার মাধ্যমে কোনটা ভালো বা কল্যাণকর কাজ এবং কোনটা মন্দ বা অকল্যাণকর কাজ তা বিচার করা যায়, তাকেই নৈতিক মূল্যবোধ বলে।
নৈতিক মূল্যবোধের নির্দেশ মেনে যিনি ধর্মপথে চলেন, তিনি ধার্মিক বলে বিবেচিত হন। আর যিনি তা করেন না, তিনি অধার্মিক বলে গণ্য হন।
হিন্দুধর্মের মূলে রয়েছেন স্বয়ং ঈশ্বর।
ধার্মিক ব্যক্তি ধীশক্তিসম্পন্ন।
যিনি ধর্মপথে চলেন তিনিই ধার্মিক।
ধার্মিক ব্যক্তি জীবসেবাকে পরম কর্তব্য বলে বিবেচনা করেন।
ধার্মিক ব্যক্তি সম্পর্কে শঙ্করাচার্যের বাণী হলো, "জীব ব্রহ্মৈব নাপরঃ" অর্থাৎ জীব ব্রহ্ম ছাড়া আর কিছুই নয়।
ধার্মিক স্বর্গ ও মোক্ষ পান।
অধার্মিক নরক যন্ত্রণা পান।
ধর্মগ্রন্থে অনেক উপাখ্যানে ধর্ম সম্পর্কে বলা হয়েছে, "ধর্মই ধার্মিককে রক্ষা করে এবং ধর্মেরই জয় হয়।”
ধর্মের দৃষ্টিকোণ থেকে পরের দ্রব্য অপহরণ করাকে অধর্ম বলে ।
পাপ করলে ইহলোকে শাস্তি ভোগ করতে হয় এবং পরলোকে নরক যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়।
ধার্মিক ইহলোকে শান্তি পান এবং পরলোকে তাঁর স্বর্গ লাভ হয়।
প্রহ্লাদ দৈত্যকুলে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
হিরণ্যকশিপুকে নখের সাহায্যে হত্যা করা হয়েছিল।
হিরণ্যকশিপু দৈত্যদের রাজা ছিলেন।
রাজা হিরণ্যকশিপুর পুত্রের নাম প্রহ্লাদ।
দৈত্যকূলে হরিভক্ত প্রহ্লাদ জন্ম নিয়েছিলেন ।
রাজা হিরণ্যকশিপু প্রহ্লাদকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।
স্ফটিক স্তম্ভ থেকে নৃসিংহ মূর্তিতে ভগবান শ্রীহরি বেরিয়ে এলেন।
মানুষ পরিবারবদ্ধ হয়ে বসবাস করে।
যে নিজে নিজের মতে ঠিক থেকে অন্যের মতকেও মেনে নেয়, শ্রদ্ধা করে তাকেই বলে পরমতসহিষ্ণুতা।
কাঠুরিয়া নদীর পাশে বনে কাঠ কাটতে গিয়েছিলেন।
জলদেবতা কাঠুরিয়াকে প্রথমে সোনার কুঠার দেখিয়েছিলেন।
জলদেবতা কাঠরিয়াকে দ্বিতীয়বার রূপার কুঠার দেখিয়েছিলেন।
মোড়ল কাঠুরিয়ার ছদ্মবেশে কাঠ কাটতে গেলেন।
জলদেবতা কাঠুরিয়াকে শেষ পর্যন্ত তিনটি কুঠার দিলেন।
জলদেবতা মোড়লের ওপর রেগে গিয়েছিলেন
লোভে মোড়লের চোখ চকচক করে উঠেছিল ।
জলদেবতা কাঠুরিয়ার সততার জন্য মুগ্ধ হলেন।
নমস্কার তিন প্রকার।
জানু, পদ, হস্ত, বক্ষ, বুদ্ধি, শির, বাক্য ও দৃষ্টি-এ আটটি অঙ্গ ব্যবহার করে প্রণাম করাকে অষ্টাঙ্গ প্রণাম বলে।
নম্র, ভদ্র বা শিষ্ট আচারকে বলে শিষ্টাচার।
বাক্য দ্বারা 'প্রণাম করি' বলে আনত হওয়াকে অভিবাদন বলা হয়।
'শব্দ কোষ' গ্রন্থটির রচয়িতা হচ্ছেন হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রণামের প্রতিশব্দ হচ্ছে নমস্কার।
প্রণাম হচ্ছে প্রকৃষ্টরূপে নমন. বা নমস্কার।
শিষ্টাচার ও শ্রদ্ধা প্রকাশের অন্যতম উপায় হলো প্রণাম ও নমস্কার।
মাতা, পিতা ও অন্যান্য গুরুজনকে প্রণাম জানানোর মধ্য দিয়ে-যে শিষ্টাচার প্রকাশ পায়, তার নাম ভক্তি বা শ্রদ্ধা।
বাহুদ্বয়, জানুদ্বয়, মস্তক, বক্ষস্থল ও দর্শনেন্দ্রিয় যোগে অবনত হয়ে যে প্রণাম করা হয়, তাকে পঞ্চাঙ্গ প্রণাম বলে।
নমষ্কার হলো হাত জোড় করে মাথায় ঠেকানো। নমস্কার প্রণামের প্রতিশব্দ।
ধূমপান দৈহিক, মানসিক, আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতিসাধন করে।
মাদকাসক্তি বা মাদক গ্রহণ সুস্থ জীবনের পরিপন্থী।
যেসব দ্রব্য বা বস্তু সেবন করলে মস্তিষ্কে নেশার উদ্রেক হয় পাঠ্যপুস্তকের ভাষায় তা-ই মাদকদ্রব্য।
মাদকদ্রব্য (যেমন- ধূমপান, মদ, গাঁজা, আফিম, হেরোইন, ফেনসিডিল) ইত্যাদি গ্রহণে যে আসক্তি তা হলো মাদকাসক্তি।
ধূমপান ও মাদক গ্রহণে ব্যক্তি ও সমাজের ক্ষতি হয়।
ধূমপান ও মাদকাসক্তি দৈহিক, মানসিক, আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতি সাধন করে।
ধূমপানে নানাবিধ রোগ হয়। যেমন- নিউমোনিয়া, ব্রংকাইটিস, যক্ষ্মা, ফুসফুসের ক্যান্সার, গ্যাস্ট্রিক আলসার, ক্ষুধামান্দ্য,
হৃদরোগ ইত্যাদি।
মাদক গ্রহণে নানা প্রকার অসুখ হয় এবং মাদকাসক্তি স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে দূরে সরে যায়। মাদক গ্রহণে মানসিক ক্ষতি হয়।
'আত্মমোক্ষায় জগদ্ধিতায় চ'-উক্তিটির দ্বারা বোঝানো হয়েছে, আমরা ধর্ম পালন করি নিজের মোক্ষলাভ এবং জগতের কল্যাণের জন্য। আমরা জানি, মোক্ষলাভের পূর্ব পর্যন্ত বারবার জন্মগ্রহণ করে পৃথিবীতে আসতে হবে। ভোগ করতে হবে জন্ম, জরা ও মৃত্যুর যন্ত্রণা।
-আর মোক্ষলাভ করলে ব্রহ্ম বা পরমাত্মার সঙ্গে জীবাত্মা মিশে যাবে।
'ধর্মাধর্ম নির্ণয়ে সদাচার তৃতীয় প্রমাণ।' নিচে এর ব্যাখ্যা করা হলো-কোনো বিষয়ে বেদ ও স্মৃতিশাস্ত্র থেকে বাস্তবসম্মত উপদেশ না পাওয়া গেলে মহাপুরুষদের আচরণকে দৃষ্টান্ত হিসেবে গ্রহণ করতে হবে এবং সে পথেই চলতে হবে। আবহমান কাল ধরে অনুসৃত ও মহাপুরুষদের দ্বারা অনুশীলিত আচরণই সদাচার। ধর্মাধর্ম নির্ণয়ে সদাচার তৃতীয় প্রমাণ .
ধর্মপথ হচ্ছে ন্যায়ের পথ, সত্যের পথ, অহিংসা এবং কল্যাণের পথ, আমরা কেন ধর্ম পালন করি সে সম্পর্কে বলা হয়েছে, 'আত্মমোক্ষায় জগদ্ধিতায় চ।' অর্থাৎ আমরা ধর্ম পালন করি মোক্ষলাভ এবং জগতের কল্যাণের জন্য। যে পথে চললে নিজের মোক্ষলাভ এবং জীব ও জগতের কল্যাণ সাধন হয়, সে পথই ধর্মপথ .
ধর্মপথে চলার মাধ্যমে নিজের ইন্দ্রিয়কে বশীভূত করা যায়। ধর্মের যে দশটি বাহ্য লক্ষণ রয়েছে তা অনুশীলনের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি হয়ে উঠেন। আমাদের ইন্দ্রিয়গুলো কেবলই পরিতৃপ্ত হতে চায় কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, সাহচর্য যখন আমাদের ইন্দ্রিয়গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে, তখন ইন্দ্রিয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আমরা বিপথগামী হই। কিন্তু ধার্মিক ব্যক্তি কাম, ক্রোধ প্রভৃতি দমন করেন। ধার্মিক ব্যক্তি কখনো ধৈর্য হারান না। তাই ধার্মিক ব্যক্তি ইন্দ্রিয়ের ইচ্ছায় না চলে বরং ইন্দ্রিয়কে বশীভূত করে নিজের ইচ্ছায় চালাতে পারেন।
ধর্মাধর্ম নির্ণয়ের দ্বিতীয় প্রমাণ হলো স্মৃতিশাস্ত্র। বেদের পরে কর্তব্য বা অকর্তব্য ধর্ম বা অধর্ম নির্ণয়ের জন্য রচিত গ্রন্থাবলিকে বলা হয় স্মৃতিশাস্ত্র। মনুসংহিতা, পরাশর সংহিতা, যাজ্ঞবল্ক্য সংহিতা প্রভৃতি স্মৃতিশাস্ত্রের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
বেদের পরে কর্তব্য বা অকর্তব্য ধর্ম বা অধর্ম নির্ণয়ের জন্য রচিত গ্রন্থাবলিকে বলা হয় স্মৃতিশাস্ত্র। ধর্মাধর্ম নির্ণয়ে বেদের পরেই স্মৃতিশাস্ত্রের স্থান। মনুসংহিতা, পরাশর সংহিতা, যাজ্ঞবল্ক্য সংহিতা প্রভৃতি স্মৃতিশাস্ত্রের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। ধর্মাধর্ম নির্ণয়ে স্মৃতিশাস্ত্রগুলো দ্বিতীয় প্রমাণ।
আমাদের ধর্ম পালন করার কারণ হলো নিজের চিরমুক্তি, জগতের হিত এবং কল্যাণ সাধন। নিজের মোক্ষলাভ এবং জগতের কল্যাণের জন্যই আমাদের ধর্ম পালন করা কর্তব্য। ধর্ম পালন করলে সৎভাবে জীবনযাপন করা যায় এবং ঈশ্বরের অনুগ্রহ লাভ করে সুখী হওয়া যায়। তাই আমরা ধর্ম পালন কর।
জীব হচ্ছে ঈশ্বরের সৃষ্টি। ঈশ্বর জীব সৃষ্টি করেই ক্ষান্ত হননি। তিনি জীবের আত্মারূপে সর্বক্ষণ জীবের মধ্যে অবস্থান করেন। মূলত জীবদেহে যে আত্মা বিরাজ করে সে আত্মাই হচ্ছে ঈশ্বর। তাহলে আমরা জীবকেও ঈশ্বর বলতে পারি। ঈশ্বরের আরেক নাম ব্রহ্ম। তাই বলা যায়, জীব ও ব্রহ্মের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
ধর্মাধর্ম নির্ণয়ের চারটি ভিত্তি হলো বেদ, স্মৃতি, সদাচার ও বিবেকের বাণী বেদ, স্মৃতি ও সদাচার দ্বারা ধর্মাধর্ম নির্ণয় করা না গেলে জ্ঞানী ব্যক্তি নিজের বিবেককে প্রশ্ন করে বিবেচনা করতে হবে কাজটি করলে ধর্ম হবে, না অধর্ম হবে। ব্যক্তি বা সমাজের ক্ষতিকর কাজ ধর্মসম্মত নয়। বিবেক সেখানে বাধা দিবে।
একটি উদাহরণের দিয়ে বিষয়টি বোঝানো হলো। গভীর বলে এক ধার্মিক লোকের কাছে এক অসহায় পথিক আশ্রয় নেয়। কিছুক্ষণ পর এক ডাকাতদল আশ্রমে এসে পথিকের খোঁজ নিলে ধার্মিক ব্যক্তি ভাবলেন, সত্য বললে পথিকের প্রাণ যাবে আর মিথ্যা বললে অধর্ম হবে। তাই ধার্মিক সত্য কথাই বললেন। পথিকের প্রাণ গেল। এক্ষেত্রে মিথ্যা বললে পথিকের প্রাণ রক্ষা পেত। আর এটাই ছিল ধর্মসম্মত কাজ। সুতরাং ধর্মাধর্ম নির্ণয়ে বিবেকের বাণীই ধর্ম বলে বিবেচিত হতো।
নৈতিক মূল্যবোধের সাথে ধর্মপথের এক নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। কেননা যে পথ অনুসরণ করলে নিজের মোক্ষ বা চিরমুক্তি ঘটে, সেই পথই ধর্মপথ এবং কোনটা ভালো কাজ আর কোনটা মন্দ কাজ তা বিচার বিবেচনার শক্তিই হলো নৈতিক মূল্যবোধ। একজন ধার্মিক ব্যক্তি অবশ্যই ভালো এবং মন্দ বিচার বিবেচনা করে কাজ করেন। তাই বলা যায়, নৈতিক মূল্যবোধের সাথে ধর্মপথের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় ও ঘনিষ্ঠ।
নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিচারের মানদণ্ড।
আমরা জানি কোনটা ভালো বা কল্যাণকর কাজ আর কোনটা মন্দ বা অকল্যাণকর কাজ, তা বিচার করার যে বোধ বা বিবেচনা শক্তি, তাকেই নৈতিক মূল্যবোধ বলে। আবার ভালো কাজ করা ধর্ম, অন্যদিকে মন্দ বা খারাপ কাজ হলো অধর্ম। তাই নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিচারের মানদণ্ড আর ধর্ম হচ্ছে সেই বিচারের সিদ্ধান্ত বা ফল। নৈতিক মূল্যবোধের সাথে ধর্মপথের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান।
নৈতিক মূল্যবোধ হলো বিচারের মানদণ্ড। ভালো কাজ করা ধর্ম এবং মন্দ কাজ করা অধর্ম, তাই নৈতিক মূল্যবোধ। কোনটা ভালো কাজ বা কল্যাণকর কাজ, আর কোনটা মন্দ কাজ বা অকল্যাণকর কাজ তা বিচার করার যে বোধ বা বিবেচনা শক্তি, তাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা হয়।
নৈতিক মূল্যবোধই হচ্ছে মানুষের বিচারের মানদণ্ড। অনেক সময় নিজের বিবেককে প্রশ্ন করে জানতে হয় যে, কোন কাজটি করলে ধর্ম হয় আর না করলে অধর্ম হয়। নৈতিক মূল্যবোধের বিচারে যা ভালো কাজ তা ধর্মসম্মত ও সঠিক এবং যা ভালো কাজ নয়, যা করলে অধর্ম হয় তা সঠিক নয়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে নৈতিক মূল্যবোধের সাথে ধর্মপথের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাই বলা যায়, নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিচারের মানদন্ড। আর ধর্ম হচ্ছে সেই বিচারের সিদ্ধান্ত বা ফল।
সততা ধর্মের অঙ্গ। যিনি ধার্মিক তিনি কখনো মিথ্যা কথা বলেন না, সবসময় তিনি সত্যের পথে থাকেন। কারণ মিথ্যা কথা এ বললে ধর্মের পথে থাকা যায় না। তাই ধার্মিক ব্যক্তি সত্যপ্রিয় হয়।
"জীবঃ ব্রহ্মৈব নাপরঃ"- শ্লোকটির অর্থ হলো জীব ব্রহ্ম ছাড়া আর কিছুই নয়। ধার্মিক ব্যক্তি শঙ্করাচার্যের এ বাণী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। হিন্দুধর্মের একটি দার্শনিক প্রত্যয় হচ্ছে জীবের মধ্যে আত্মারূপে ঈশ্বর বাস করেন। এ শ্লোকটির মাধ্যমে মূলত জীব ও ব্রহ্মের অভিন্নতাকেই বোঝানো হয়েছে।
ধার্মিক ব্যক্তি সদা ধীশক্তিসম্পন্ন। তাঁর প্রজ্ঞা তাকে মহান করে তোলে। সকল কিছু বিচার করার অনন্য শক্তি দান করে। তিনি নানা বিদ্যায় পারদর্শী। ধী এবং বিদ্যা তাঁকে চরিত্রের উন্নততর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করে। ধার্মিক ব্যক্তি সত্য প্রিয়। তিনি কখনো সত্য থেকে দূরে সরে যান না। ধার্মিক ব্যক্তি সুখে-দুঃখে নিরুদ্বেগ থাকেন। আনন্দে অতি উদ্বেল হন না; দুঃখে ভেঙে পড়েন না। দান ও দয়া ধার্মিকের দুটি প্রধান নৈতিক গুণ।
ধর্মই ধার্মিককে রক্ষা করেন। কারণ ধার্মিক দ্বারা ধর্ম সর্বতোভাবে রক্ষিত থাকে। ধার্মিক সর্ব অবস্থায় ধর্ম পালন করে। ধার্মিক ব্যক্তি ধর্মের দশটি লক্ষণ (ধৃতি, ক্ষমা, দম, ধী, বিদ্যা, অক্রোধ প্রভৃতি) নিজের জীবনে চলার পথে অনুসরণ করেন। মনুসংহিতায় বলা হয়েছে, ধর্ম নষ্ট হলে ধর্মই ধর্ম নষ্টকারীকে বিনাশ করে। আর ধর্ম রক্ষিত হলে ধর্মই ধার্মিককে রক্ষা করে।
দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপুর পুত্র হওয়া সত্ত্বেও প্রহ্লাদ ছিল হরিভক্ত। হরিভক্ত হওয়ায় হিরণ্যকশিপু প্রহ্লাদকে বার বার মেরে ফেলার চেষ্টা করেন। হিরণ্যকশিপু শ্রীহরিকে নিজের শত্রু মনে করতেন। নিজের ছেলে প্রহ্লাদের মুখে হরির নাম তিনি সহ্য করতে পারতেন না। তাই তিনি প্রহ্লাদকে বারবার মারার চেষ্টা করেন।
দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপুর পুত্র হওয়া সত্ত্বেও হরিভক্ত হওয়ায় প্রহ্লাদকে বার বার মারার চেষ্টা করা হয়। হিরণ্যকশিপু শ্রীহরিকে নিজের শত্রু মনে করতেন। তাই নিজের ছেলে প্রহ্লাদের মুখে হরির নাম তিনি সহ্য করতে পারতেন না। তাই তিনি প্রহ্লাদকে বার বার মারার চেষ্টা করেন।
মানুষ পরিবারবদ্ধ হয়ে বাস করে। আর আমরা তো জানি পরিবারের সব, সদস্যের স্বার্থ একসূত্রে গাঁথা থাকে। পরিবারে বড়দের কাছ থেকে ছোটরা আচার-আচরণ শেখে। পরিবারের ছোটরা বড়দের অনুসরণ ও অনুকরণ করে। তাই পরিবারে ধর্মপথ অনুশীলন-অনুসরণের চর্চা থাকা চাই। পরিবারে যদি সর্বদা সত্য কথার চর্চা হয়, কেউ যদি মিথ্যার আশ্রয় না নেয়, তাহলে সে পরিবারের কেউ মিথ্যার আশ্রয় নেবে না। তাই ধর্মপথ অনুসরণ তথা অনুশীলনের ক্ষেত্রে পারিবারিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
জলদেবতা গরিব কাঠুরিয়ার সততায় মুগ্ধ হয়েছিলেন। কাঠুরিয়া সৎ ও নিষ্ঠাবান ছিলেন। এজন্য জলদেবতা কাঠুরিয়াকে। লোহার কুঠারের পরিবর্তে প্রথমে সোনার ও পরে রূপার কুঠার দিতে চাইলেন কিন্তু সে লোভের বশবর্তী না হয়ে তা ফিরিয়ে দেয়। এজন্যই জলদেবতা গরিব কাঠুরিয়ার সততায় মুগ্ধ হয়েছিলেন।
প্রণাম বা নমস্কার হলো সম্মানসূচক অভিবাদন। কাউকে 'শ্রদ্ধাপূর্বক ভক্তি' জানানোর উদ্দেশ্যে তাকে নমস্কার করা হয়। সম্মানের উপযোগী এমন যে কাউকেই নমস্কার করা হয়। এই নমস্কার হলো প্রণামের চারটি প্রকারের একটি। সাধারণত প্রণামে পায়ে হাত ভূঁইয়ে শ্রদ্ধা বোঝানো হয়। আর নমস্কারে হাত জোড় করে মাথায় ঠেকানোর মাধ্যমে সম্মান জানানো হয়। তবে উভয়ের অর্থই অপরকে সম্মান বা শ্রদ্ধা জানানো। এদিক থেকে বলা যায়, নমস্কার প্রণামের প্রতিশব্দ।
প্রণাম বলতে বোঝায় প্রকৃস্টপক্ষে নমন বা নমস্কার। হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় তার বঙ্গীয় 'শব্দকোষ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন প্রণাম চার প্রকার। পঞ্চাঙ্গ প্রণাম এগুলোর একটি। তন্ত্রসার নামক গ্রন্থে পঞ্চাঙ্গ প্রণাম সম্পর্কে বলা হয়েছে। বাহুদ্বয়, জানুন্বয়, মস্তক, বক্ষস্থল ও দর্শনেন্দ্রিয় যোগে অবনত হয়ে যে প্রণাম করা হয় তাকে পঞ্চাঙ্গ প্রণাম বলে।
পাঁচটি অঙ্গযোগে গঠিত প্রণামকে পঞ্চাঙ্গ প্রণাম বলে। 'তন্ত্রসার' নামক গ্রন্থে বলা হয়েছে- বাহুদ্বয়, জানুদ্বয়, মস্তক, বক্ষস্পল ও দর্শনেন্দ্রিয় যোগে অবনত হয়ে যে প্রণাম করা হয় তাকে পঞ্চাঙ্গ প্রণাম বলে।
মনুষ্যত্বের অন্যতম প্রধান উপাদান হচ্ছে শিষ্টাচার। সততার মতো শিষ্টাচারও আদর্শ জীবনের অঙ্গ। আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে শিষ্টাচার অপরিহার্য। এই শিষ্টাচারের জন্যই মানুষ পশু-পাখি থেকে আলাদা। ধর্মপথে চলার ক্ষেত্রে, শিষ্টাচার অন্যতম পাথেয়।
পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে শিষ্টাচার প্রকাশ পায়। নম্র, ভদ্র বা সৃষ্ট আচারকে শিষ্টাচার বলে। শিষ্টাচার মনুষ্যত্বর অন্যতম প্রধান উপাদান।
আমরা, মাতা, পিতা ও অন্যান্য গুরুজনকে প্রণাম জানাই। আবার সমবয়সীদের শুভেচ্ছা জানাই এবং ছোটদের স্নেহ করি। এভাবেই শিষ্টাচার প্রকাশ পায়। শিষ্টাচারের মাধ্যমে আমরা মানুষের মন জয় করতে পারি। বলা চলে, শিষ্টাচার মানুষের জীবনকে সুন্দর করে।
মাদক গ্রহণ অধর্ম। মাদক সবসময়ই আসক্তি তৈরি করে। মাদকাসক্তি মাদক গ্রহণকারীর স্বাভাবিক চেতনাকে বিমূঢ় বা নষ্ট করে দেয়। তিনি আর প্রকৃতিস্থ থাকেন না। সুস্থ থাকেন না। এর ফলে অসুস্থ দেহ ও মনে তিনি যে আচরণ করেন তাতে অনৈতিকতা প্রকাশ। পায়। কাজেই মাদক গ্রহণকে অধর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
মাদকাসক্তি এমন একটি অভ্যাস বা আসক্তি যা দৈহিক, মানসিক, আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতি সাধন করে। মাদকদ্রব্য গ্রহণের ফলে শরীরে নানা রোগের সৃষ্টি হয়। মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটে। বিবেকবুদ্ধি লোপ পায়। ফলে মানুষ নানা অসামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়ে। মাদকের টাকা যোগাড় করতে গিয়ে অনেকে অসৎ উপায় অবলম্বন করে। এমনকি পুত্র পিতাকেও হত্যা করতে দ্বিধাবোধ করে না।
ধূমপানের ফলে নানাবিধ রোগ হয়। যেমন- নিউমোনিয়া, ব্রংকাইটিস, যক্ষ্মা, ফুসফুসের ক্যান্সার, গ্যাস্টিক আলসার, ক্ষুধামন্দা, হৃদরোগ ইত্যাদি। তাছাড়া ধূমপান শুধু ধূমপারীয়রই ক্ষতি করে না, অন্যদেরও ক্ষতির কারণ হয়।
আমরা কেন ধর্ম পালন করি, সে সম্পর্কে বলা হয়েছে, 'আত্মমোক্ষায় জগদ্বিতায় চ'। অর্থাৎ আমরা ধর্ম পালন করি নিজের মোক্ষলাড এবং জগতের কল্যাণের জন্য। আমরা জানি, মোক্ষলাভের পূর্ব পর্যন্ত বারবার জন্মগ্রহণ করে পৃথিবীতে আসতে হবে। ভোগ করতে হবে জন্ম, জরা ও মৃত্যুর যন্ত্রণা। আর মোক্ষলাভ করলে ব্রহ্ম বা পরমাত্মার সঙ্গে জীবাত্মা মিশে যাবে। একে বলে ব্রহ্মলগ্ন হওয়া।
Related Question
View Allযাজ্ঞবল্ক্যসংহিতা স্মৃতিশাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত।
'জীবঃ ব্রহ্মৈব নাপরঃ' এ অংশটির অর্থ হলো জীব ব্রহ্ম ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ প্রতিটি জীবেরই আত্মা আছে। জীবের এ আত্মা হচ্ছে পরমাত্মা। পরমাত্মা মানে হচ্ছে ঈশ্বর। অর্থাৎ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর জীবের আত্মারূপে সকল জীবে বিরাজ করেন। তাই জীব ব্রহ্ম ছাড়া আর কিছুই না।
অধ্যাপক দিব্যেন্দু বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে গবেষণা করে গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি নিয়মিত পূজাহ্নিক করেন, অসহায়দের দান করেন এবং পশুপাখিদের খাবার দেন। সত্য প্রচারে তিনি বাধার সম্মুখীন হলেও বিমুখ হয় না। দিব্যেন্দুর আচরণিক এ মূল্যবোধের মাধ্যমে তার নৈতিক মূল্যবোধের প্রকাশ পেয়েছে। নৈতিক মূল্যবোধ হলো যে কাজকে ন্যায় আচরণীয় ও কল্যাণকর মনে হয়, তা মেনে চললে ধর্ম হয় এবং যা ভালো কাজ নয়, তা করলে অধর্ম হয়।
সুতরাং নৈতিক মূল্যবোধ ধর্মপথের নির্দেশ দেয়। যিনি সে নির্দেশ মেনে ধর্মপথে চলেন, তিনি ধার্মিক বলে বিবেচিত হন। কাজেই পঠিত বিষয়বস্তুর আলোকে দিব্যেন্দুর আচরণিক মূল্যবোধের মাধ্যমে সমাজ ও পরিবার উপকৃত হতে পারে।
পরিবারে ধর্মপথ অনুশীলন অনুসরণের চর্চা থাকা প্রয়োজন। পরিবারের সদস্যরা সততা, সত্যপ্রিয়তা, পরমতসহিষ্ণুতা ও মানবতামণ্ডিত ধর্মপথ অনুসরণ করলে পরিবার শান্তিপূর্ণ থাকবে। মিথ্যার আশ্রয় নিলে কখনও তার ফল ভালো হয় না। তাই বলা হয়, 'সততাই উৎকৃষ্ট পন্থা'।
গরিব কাঠুরিয়ার সততার একটি উদাহরণ দেওয়া হলো। গরিব কাঠুরিয়ার অসতর্কতায় তাঁর কুঠারটা নদীতে পড়ে গেল। পরিবারের সবাই উপোস থাকবে ভেবে মনের দুঃখে তিনি কাঁদতে লাগলেন। কাঠুরিয়ার দুঃখে জলদেবতার দয়া হলো। জলদেবতা একটা সোনার কুঠার দিতে চাইলে কাঠুরিয়া তা নিতে অস্বীকার জানান। পরবর্তীতে রুপার কুঠারও নেন নি। সবশেষে তাঁর লোহার কুঠারটি চিনতে পেয়ে তা নিতে আগ্রহান্বিত হলেন। জলদেবতা দরিদ্র কাঠুরিয়ার সততায় মুগ্ধ হলেন। তিনি কাঠুরিয়াকে সোনা ও রুপার কুঠার দুটিও দিয়ে দিলেন। কাঠুরিয়া সোনা ও রুপার কুঠার নিজের নয় বলে নিতে চান নি। অথচ তা নিলে তাদের জীবন ও সংসার সুখের আলোতে ভরে উঠত। কিন্তু গরিব কাঠুরিয়া ভাবলেন তাতে তার ধর্ম নষ্ট হবে। তিনি অসৎ হয়ে যাবেন। এভাবে দিব্যেন্দু কখনো সত্য প্রচারে বিমুখ হন না। কারণ তিনি জানতেন সৎকর্ম কখনও বিফলে যায় না। এভাবে কাঠুরিয়া সৎকর্ম ও সততার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে পরিচিত।
'তন্ত্রসার' একটি ধর্মীয় গ্রন্থ। যে গ্রন্থে পঞ্চাঙ্গ প্রণামের উল্লেখ রয়েছে।
ঈশ্বর আমাদের সৃষ্টি করেছেন। আর দেব-দেবীরা আমাদের নিজ নিজ শক্তি বা গুণ দিয়ে সহায়তা করেন। তাই আমরা দেবতাদের স্তব-স্তুতি করি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!