যুগে যুগে মানুষ সত্যের সাধনায় জীবন উৎসর্গ করেছে ।
ধর্মীয় উপাখ্যান আমাদের নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে শিক্ষা দেয় ।
ধর্মগ্রন্থের কাহিনীগুলোকে উপাখ্যান বলা হয় ।
ধর্মের বিধিবিধান রয়েছে ধর্মগ্রন্থে ।
মানুষের সৎপথে চলার উপদেশ রয়েছে ধর্মগ্রন্থে ।
মানুষ ধর্মগ্রন্থকে মান্য করে। বাক্যটিতে ফুটে উঠেছে ধর্মগ্রন্থের প্রতি শ্রদ্ধা ।
ধর্মগ্রন্থে উপাখ্যান সন্নিবেশিত করা হয়েছে সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করতে ।
ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠ করে আমরা নৈতিক শিক্ষা শিখব ।
মানুষকে অন্যান্য জীব থেকে শ্রেষ্ঠ বলা হয় মানবতার জন্য ।
মানুষের মহত্ত্ব প্রকাশ পায় মানবতার দ্বারা ।
মানুষের মানবতা হচ্ছে ধর্ম ।
অত্যাচারীর কবল থেকে দুর্বলকে রক্ষা করতে হবে ।
যুগে যুগে মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছে সত্যের সাধনায় ।
মানবজাতির কল্যাণের পথ জীবের দয়া ।
মানুষের একটি সহজাত প্রবৃত্তি হিংসা-দ্বেষ করা ।
মানবতা নৈতিক গুণ ধরনের গুণ ।
যার মানবতা নেই তাকে মানুষ বলা যায় না ।
মানুষ হওয়ার জন্য মানবিক গুণাবলি প্রয়োজন ।
মহত্ত্বের উৎস মানবতা ।
মানবতা ধর্মের অঙ্গ ।
মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসাকে মানবতা বলা হয় ।
মানুষ মঙ্গলের জন্য দুঃখ বরণ করেছে ।
শোকার্তকে সান্ত্বনা দান করা মানবতার অপর নাম ।
শ্রীকৃষ্ণের চরণকেই একমাত্র সম্পদ জ্ঞান করতেন রন্তিবর্মা ।
রাজা রন্তিবর্মা ছিলেন একজন বৈষ্ণব ।
রন্তিবর্মা শ্রীকৃষ্ণের ভক্ত ছিলেন ।
রাজা রন্তিবর্মা অযাচকবৃত্তি গ্রহণ করে উপবাস ছিলেন আটচল্লিশ দিন ।
সম্রাট হয়েও রন্তিবর্মা পার্থিব বিষয়ের প্রতি আসক্ত নন ।
শ্রীকৃষ্ণ সবকিছু সমর্পণ করে একবার অযাচক বৃত্তি গ্রহণ করেছিলেন রাজা রন্তিবর্মা ।
রাজা রন্তিবর্মাকে ঊনপঞ্চাশ দিবসে এক ভক্ত খাবার দিয়েছিল ।
ভিক্ষুকের সাথে একটি কুকুর ছিল ।
রাজ রন্তিবর্মার চোখে জল এলো ভিক্ষুকের করুণ অবস্থা দেখে ।
তরণীসেনের পিতার নাম বিভীষণ ।
:
বিভীষণের পুত্রের নাম তরণীসেন ।
যুদ্ধক্ষেত্রে সৎসাহস দেখানো বীরের কর্তব্য ।
রাবণ ত্রেতা যুগে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ।
ধর্ম রক্ষার জন্য যুদ্ধ করা বীরের ধর্ম ।
রাবণের ভাইয়ের নাম বিভীষণ ।
রাবণ সীতাকে অশোক বনে বন্দী করে রাখে ।
বিভীষণের স্ত্রীর নাম সরমা ।
'সাহস' কথাটি নির্ভীকতা অর্থে ব্যবহৃত হয় ।
'সৎ' শব্দের অর্থ সত্য ও ন্যায়ের পথে চলা ।
অন্যের মঙ্গলের জন্য নিজের শক্তি দ্বারা যথাসাধ্য চেষ্টা করাকে সৎ সাহস বলে ।
অত্যাচারীর কবল থেকে দুর্বলকে রক্ষা করতে হবে ।
কৈকেয়ীর চক্রান্তে রাম চৌদ্দ বৎসরের জন্য, বনে গিয়েছিলেন ।
শ্রীরামচন্দ্রের সাথে স্ত্রী স্বীতা ও ভাই লক্ষণ বনে গমন করেন ।
রাবণের এহেন বিবেচনা দেখে রাম বিস্মিত হলেন ।
ভীরুরা মঙ্গলজনক কাজ করতে পারে না ।
অযোধ্যার রাজা ছিলেন দশরথ ।
দশরথের তিন রানি ছিলেন ।
রাম কৌশল্যার পুত্র ।
কৈকেয়ীর পুত্রের ভরত ।
সুমিত্রার দুই পুত্র ।
রাম বনে গমন করেন চৌদ্দ বছরের জন্য ।
রাম চৌদ্দ বছরের জন্য বনে গমন করে পিতৃ সত্য পালন করতে ।
রাক্ষস রাজা ছিলেন রাবণ ।
সীতাকে হরণ করেন রাবণ ।
রাম লঙ্কা আক্রমণ করেন সীতাকে উদ্ধার করতে ।
রাম লক্ষণ যুদ্ধ করেন রাক্ষস বাহিনীর সাথে ।
লঙ্কায় রাম-রাবণের যুদ্ধের সময় তরণীসেনের বয়স বারো বছ ।
মানবজীবনের ইহলৌকিক ও পারলৌকিক সুখ এবং নৈতিক চরিত্র গঠনের জন্য বিভিন্ন উপদেশ, নির্দেশ, রীতিনীতি, আখ্যান-উপাখ্যান যে গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে তাই ধর্মগ্রন্থ। ধর্মগ্রন্থে ধর্মীয় বিধিবিধান রয়েছে। যা মানুষকে সৎপথে ও ন্যায়ের পথে চলার উপদেশ দেয় এবং মানুষকে সত্যিকারের নৈতিক মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ভূমিকা রাখে। তাই মানুষ আগ্রহভরে ধর্মগ্রন্থ পাঠ বা শ্রবণ করে ধন্য হয়।
প্রতিটি ধর্মগ্রন্থে রয়েছে নানা উপাখ্যানের সন্নিবেশ, যা মানুষকে সৎপথে, ন্যায়ের পথে চলার উপদেশ দেয়। মানুষকে নৈতিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। এতে সমাজে হিংসা-দ্বেষ, হানাহানি ইত্যাদি তিরোহিত হয়ে শান্তির বাতাবরণ সৃষ্টি হয়। তাই মানবের কল্যাণে, সামাজিক শৃঙ্খলা বিধানে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করতেই ধর্মগ্রন্থে উপাখ্যান সন্নিবেশিত করা হয়েছে।
মানবতা একটি বিশেষ নৈতিক গুণ। মানবতা ধর্মেরও অঙ্গ। মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। সমাজে বাস করে এবং অপরের দুঃখে তার প্রাণ কেঁদে ওঠে। মানুষের প্রতি মানুষের এই যে ভালোবাসা বা মমত্ববোধ এরই নাম মানবতা। মানুষের মধ্যে এই মানবতার গুণ না থাকলে তাকে প্রকৃত মানুষ বলা যায় না। মহত্ত্বের উৎসই হলো এই মানবতা।
মানবতা একটি বিশেষ নৈতিক গুণ। মানবতা ধর্মেরও অঙ্গ। মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। সমাজে বাস করে এবং অপরের দুঃখে তার প্রাণ কেঁদে ওঠে। মানুষের প্রতি মানুষের এই যে ভালোবাসা বা মমত্ববোধ এরই নাম মানবতা। মানুষের মধ্যে এই মানবতার গুণ না থাকলে তাকে প্রকৃত মানুষ বলা যায় না। মহত্ত্বের উৎসই হলো এই মানবতা।
মানবতা নামক মহৎ গুণটির জন্যই মানুষকে অন্যান্য জীব থেকে শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে। কেননা ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ভয়, ক্রোধ, হিংসা-দ্বেষ-লোভসহ কিছু সহজাত প্রবৃত্তি নিয়ে মানুষ জন্মগ্রহণ করে। যেগুলো পশুর মধ্যেও বিদ্যমান। কিন্তু শুধু পাশবিক আচরণ দিয়ে মানুষ হওয়া যায় না। তখনই প্রকৃত মানুষ হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে যখন তার মধ্যে মানবতার গুণগুলো বিদ্যমান থাকবে।
মানুষের প্রতি মানুষের রয়েছে দরদ, রয়েছে সংবেদনশীলতা। এই ভালোবাসা বা মমত্ববোধের নামই মানবতা। কেবল অর্থ দিয়ে নয়, নিজের জীবন দিয়েও অনেক মহানুভব ব্যক্তি চরম ত্যাগের পরিচয় দিয়েছেন। জীবে দয়াই মানবজাতির কল্যাণকর পথ। নিরন্নকে অন্ন, বস্ত্রহীনে বস্তু, তৃষ্ণার্তকে জল, বিদ্যাহীনকে বিদ্যা, বিপন্নকে আশ্রয়, ভয়ার্তকে অভয়, শোকার্তকে সান্ত্বনা প্রভৃতি সবই মানবতার আরেক নাম।
জীবসেবা সম্পর্কে ধর্মগ্রন্থে বলা হয়েছে, যত্র জীবঃ তত্র শিবঃ। জীবের সেবা করলে ঈশ্বরের সেবা করা হয়। হিন্দুধর্মে জীবকে ঈশ্বর বা ব্রহ্মজ্ঞানে সেবা করতে বলা হয়েছে। জীবকে সেবা করলে ঈশ্বরের সেবা করা হয়।
মানুষের মহত্ত্বের উৎস হলো মানবতা বা মানবপ্রেম। এই মানবপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়েই অসংখ্য মহৎপ্রাণ ব্যক্তি নিজের জীবনের সর্বস্ব অন্যের জন্য উৎসর্গ করেছেন। মানুষ সমাজবদ্ধ জীব, সমাজে বাস করে এবং অপরের দুঃখে তার প্রাণ কেঁদে ওঠে। এই ভালোবাসাই হলো মানবতা। জীবে দয়াই মানবজাতির কল্যাণকর পথ। মানবতার দ্বারাই মানুষ প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠে।
জীবে দয়াই মানবজাতির কল্যাণকর পথ। নিরন্নকে অন্ন, বস্ত্রহীনে বস্ত্র, তৃষ্ণার্তকে জল, দৃষ্টিহীনে দৃষ্টি, বিদ্যাহীনে বিদ্যা, ধর্মহীনে ধর্মজ্ঞান, বিপন্নকে আশ্রয়, ভয়ার্তকে অভয়, রুগ্নকে ওষুধ, গৃহহীনে গৃহ, শোকার্তকে সান্ত্বনা দান করা মানবতা বা জীবে দয়ার আরেক নাম।
মানবতা একটি বিশেষ নৈতিক গুণ। একই সাথে মানবতা ধর্মেরও অঙ্গ। যার মধ্যে মানবতা নেই, তিনি মানুষ হতে পারে না। তাছাড়াও ধর্মের যে দশটি বাহ্য লক্ষণ- সহিষ্ণুতা, ক্ষমা, দয়া, চুরি না করা, শুচিতা, ইন্দ্রিয় সংযম, শুদ্ধবুদ্ধি, জ্ঞান, সত্য ও অক্রোধ এই গুণাবলি যার মধ্যে আছে তাকে প্রকৃত মানুষ বলতে পারি। মানবিক মানুষ সর্বদা ধর্মপথেই জীবন অতিবাহিত করেন। জীবসেবাও ধর্মেরই অঙ্গ। তাই মানবতাকেও ধর্মের অঙ্গ বলা হয়েছে।
মানুষ কিছু সহজাত প্রবৃত্তি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। যেগুলো পশুর মধ্যেও বিদ্যমান। কিন্তু শুধু এই পাশবিক গুণাবলি দিয়ে একজনকে = মানুষ বলা যায় না। মানুষ হওয়ার জন্য প্রয়োজন মানবিক গুণাবলি বা মানবতা। যার দ্বারা মানুষকে অন্যান্য জীব থেকে পৃথক করা যায়। এছাড়াও যিনি সর্বদা ধর্মপথে চলেন অর্থাৎ ধর্মের লক্ষণগুলো যার মধ্যে বিরাজিত তাকে আমরা প্রকৃত মানুষরূপে আখ্যায়িত করতে পারি।
মানবতা একটি বিশেষ নৈতিক গুণ। মানবতা ধর্মেরও অঙ্গ। মানবতার জন্যই মানুষকে অন্যান্য জীব থেকে শ্রেষ্ঠ বলা হয়। যার মানবতা নেই তাকে মানুষ বলা যায় না। মানুষের সহজাত প্রবৃত্তিগুলো পশুর মধ্যেও আছে। এসব সহজাত প্রবৃত্তিকে পাশবিক গুণও বলা যায়। শুধু পাশবিক গুণাবলি দিয়ে মানুষ হওয়া যায় না। মানুষ হওয়ার জন্য মানবিক গুণাবলি প্রয়োজন। তাই বলা যায়, মানবতাহীন মানুষ পশুর সমান- উক্তিটি যথার্থ।
রন্তিবর্মা একজন রাজা ছিলেন। যিনি অত্যন্ত প্রজাবৎসল এবং কৃষ্ণভক্ত ছিলেন। তার রাজ্যের প্রজাগণ সুখে-শান্তিতে বসবাস করতেন। তিনি শুধু রাজা ছিলেন না। ছিলেন রাজার রাজা, মহারাজা, সম্রাট। তবে সম্রাট হয়েও রন্তিবর্মা কোনো পার্থিব বিষয়ের প্রতি আসক্ত ছিলেন না। শ্রীকৃষ্ণের চরণকেই তিনি একমাত্র সম্পদ বলে জ্ঞান করে সবকিছু সমর্পণ করেছিলেন ভগবানের চরণে।
অযাচক বৃত্তি হলো কারও কাছে কিছু চাওয়া যাবে না, লোকে ইচ্ছা করে বা দয়া করে যা দেবে, তাই দিয়েই জীবন-যাপন করতে হবে। যখন কারো এই জড়-জগতের প্রতি আর কোনো আসক্তি থাকে না। ভগবানের চরণে সবকিছু সমর্পণ করে ফেলে তখনই কেউ এমন ব্রত করতে পারেন। যেমনটি পাঠ বইয়ের রাজা রন্তিবর্মা করেছিলেন।
রাজা রন্তিবর্মার মধ্যে আমরা মানবতার মতো মহৎ গুণটিকে প্রত্যক্ষ করি। কেননা রাজা একবার অযাচক বৃত্তি পালনের সিদ্ধান্ত নেন। এবং ৪৮ দিন অতিবাহিত হলেও কোনো খাবার পাননি। ৪৯তম দিনে কিছু খাবার পেলেও সে সময় একজন ক্ষুধার্ত ও রুগ্ন ভিক্ষুক খাবার চাইলে নিজে না খেয়ে তিনি তা দিয়ে দেন। যা তার মানবতা নামক গুণটির জন্যই সম্ভব হয়েছে।
রন্তিবর্মা আটচল্লিশ দিন উপবাস ছিলেন। কারণ তিনি। অযাচকবৃত্তি গ্রহণ করেছিলেন। অযাচকবৃত্তি হলো কারও কাছে কিছু চাওয়া যাবে না। লোকে ইচ্ছে করে যা দেবে তাই দিয়ে দিন যাপন করতে হবে। কিন্তু আটচল্লিশ দিনে রন্তিবর্মা কোনো কিছু পান নি। তাই তিনি উপবাস ছিলেন।
রাজা রন্তিবর্মা ছিলেন একজন কৃষ্ণভক্ত। অপরের দুঃখে তাঁর প্রাণ কেঁদে উঠত। কেননা তাঁর মধ্যে মানবিক গুণগুলো পূর্ণরূপে বিদ্যমান ছিল। তাইতো নিজে আটচল্লিশ দিন অনাহারে থাকলেও যখন ক্ষুধার্ত ও রুগ্ন ভিক্ষুক তাঁর কাছে খাবার চাইল, তাদের করুণ অবস্থা দেখে রাজার চোখে জল এলো এবং নিজের সব খাবার দিয়ে দিয়েছিলো। যা তার ভেতরের মানবতাকে নির্দেশ করে।
রাজা রন্তিবর্মার উপাখ্যান হতে আমরা এই শিক্ষা পাই যে, মানবতাই ধর্ম। মানবতার গুণের দ্বারা মানুষের মহত্ত্ব প্রকাশ পায়, অন্যের উপকারও হয়। মানবতার জন্যই একজন মানুষকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। মানবতাবর্জিত মানুষ পশুর সমান। তাই, আমরা মানবতার গুণ অবং অপরেরও কল্যাণ হবে ।
]সৎসাহস কথাটির সামগ্রিক অর্থ হলো সত্য ও ন্যায়ের জন্য ভয় না পেয়ে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় নিজেকে। উৎসর্গ করার নামই সৎসাহস। অন্যভাবে বলা যায়, নিজের জীবনের ঝুঁকি আছে জেনেও দেশের মঙ্গলের জন্য বা অন্যের মঙ্গলের জন্য নিজের শক্তি দ্বারা যথাসাধ্য চেষ্টা করা বা সাহস প্রদর্শন করাকেই সৎসাহস বলে।
তরণী ছিলেন পিতা বিভীষণের মতোই ধার্মিক। সে তার রথের চূড়ায় রামনামখচিত পতাকা শোভিত করল। নিজের সারা। অঙ্গে রামনাম লিখে নামাবলি গায়ে দিয়ে যুদ্ধের ময়দানে ছুটে চলল। এতে তরণীর ধার্মিকতার পরিচয় ফুটে ওঠে।
যাদের মধ্যে সৎসাহস নেই তারা দেশ ও সমাজের জন্য বোঝাস্বরূপ। কেননা যাদের মধ্যে সৎসাহস নেই, তারা ভীরু ও কাপুরুষ। তারা কখনো কোনো কল্যাণকর ও মঙ্গলজনক কাজ করতে। পারে না। সমাজ, দেশ ও জাতি এদের দ্বারা উপকৃত হয় না। তারা শুধু সমাজের থেকে গ্রহণই করে যায়, বিনিময়ে সমাজকে কিছু দেয়। না। এজন্যই সেই ভীরু কাপুরুষরা সমাজের জন্য বোঝাস্বরূপ।
সৎসাহস একটি বিশেষ নৈতিক গুণ। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় নিজেকে উৎসর্গ করার নামই সৎসাহস। যখন কেউ দুর্বলের ওপর অত্যাচার করে তখন সৎসাহস নিয়ে দুর্বলের পাশে দাঁড়ানোও ধর্ম। আবার ধর্ম রক্ষার জন্য যুদ্ধ করাও বীরের ধর্ম। যার মাধ্যমে সমাজ, দেশ ও জাতির মঙ্গল হয়। তাই, বলা হয়েছে- সৎসাহস ধর্মের অঙ্গ।
তরণীসেন ছিলেন দ্বাদশবর্ষী বালক। তরণীসেন সৎসাহসের। এক উজ্জ্বল প্রতিমূর্তি। সে রাবণের ভাই বিভীষণের পুত্র ছিলেন। তরুণীসেন রাক্ষস বাহিনীর পরাজয়ের পর দেশ রক্ষায় নিজের সৎসাহস প্রদর্শন করতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
তখন ছিল ত্রেতা যুগ। অযোধ্যার রাজা ছিলেন দশরথ। তিনি ছিলেন রঘুবংশীয়। তিনি অনেক প্রজাবৎসল রাজা ছিলেন। রাজা দশরথের ছিলেন তিন রানি- কৌশল্যা, কৈকেয়ী ও সুমিত্রা। কৌশল্যার পুত্র রাম, কৈকেয়ীর পুত্র ভরত এবং সুমিত্রার দুই পুত্র লক্ষণ ও শত্রুঘ্ন। জ্যেষ্ঠপুত্র রাম পিতৃসত্য পালনের জন্য বনে গমন করলে পুত্রশোকে তিনি দেহত্যাগ করেন।
তরণীসেন ছিলেন পিতা বিভীষণের মতোই ধার্মিক। তাই সে যুদ্ধে যাওয়ার সময় রথের চূড়ায় রামনামখচিত পতাকা শোভিত করেন। গায়ে রামনামের নামাবলি জড়ায় এবং মুখে জয় রাম ধ্বনি দিয়ে হাতে ধনুর্বাণ নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করে তীর নিক্ষেপ করে। ফলে রাম দ্বিধায় পড়ে যায়। তাইতো ভক্তের ওপর তার বাণ নিক্ষেপ করতে পারছিলেন না।
বালক তরণীসেন রামনাম খচিত পতাকা রথের চূড়ায় শোভিত করে এবং গায়ে রাম নামাবলি জড়িয়ে যুদ্ধে যায়। মুখে জয়রাম ধ্বনি দিয়ে তীর নিক্ষেপ করে বহু বানরসৈন্য হত্যা করে। এখন যদি রাম জানতে পারে যে, তরণীসেন মিত্র বিভীষণের পুত্র, তাহলে নিজের পরাজয় হলেও রাম তরণীসেনকে বধ করবে না। ফলে রাবণের হাত থেকে সীতাকেও উদ্ধার করা সম্ভব হবে না। তাই বিভীষণ রামের কাছে পুত্র তরণীসেনের পরিচয় গোপন রেখেছিলেন।
সৎসাহসী বালক তরণীসেন উপাখ্যান হতে আমরা এই শিক্ষা পাই যে, স্বাধীনতা রক্ষা করতে যার যতটুকু শক্তি আছে, তা প্রয়োগ করা বা কাজে লাগানোর সৎসাহস থাকতে হবে। দেশ, সমাজ ও মানুষের কল্যাণে এগিয়ে যেতে হবে। তরণীসেনের মতো সৎসাহসী হতে হবে। দেশের জন্য জীবন বিসর্জন দিতেও কখনো পিছপা হওয়া যাবে না। কেননা সৎসাহস ধর্মেরও অঙ্গ এবং একটি বিশেষ নৈতিক গুণ।
তরণী ছিল পিতা বিভীষণের মতই ধার্মিক। সে রামকে খুব ভক্তি করত। তাই সে তার রথের চূড়ায় রামনাম খচিত পতাকা শোভিত করল এবং নিজের শরীরে রামনাম লিখে নামাবলি গায়ে দিয়ে রথে ওঠে বসল।
যুদ্ধ করা বীরের ধর্ম। শুধুমাত্র ধর্ম রক্ষার ক্ষেত্রে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে বীরের সৎসাহস দেখানো কর্তব্য। রামায়ণ, মহাভারত, - পুরাণ প্রভৃতি ধর্মগ্রন্থে অনেক বীরের সৎসাহসের দৃষ্টান্ত রয়েছে।
কাপুরুষরা সমাজের জঞ্জালস্বরূপ। যারা ভীরু, ভীতু ও সাহসহীন তারাই কাপুরুষ। তারা কখনো কোনো কল্যাণকর বা মঙ্গলজনক কাজ করতে পারে না। সমাজ, দেশ ও জাতি এদের দ্বারা - উপকৃত হয় না। তারা নিজেরাই নিজেদের বোঝাস্বরূপ ।
সমাজে যাঁরা সজ্জন তাঁরা ধর্মকে ভালোবাসেন, শ্রদ্ধা করেন, সম্মান করেন এবং ধর্মের নিয়মকানুন, রীতিনীতি, আচার-অনুষ্ঠান মেনে চলেন।
ধর্মগ্রন্থে ধর্মের বিধিবিধান রয়েছে।
ধর্মগ্রন্থে নানা উপাখ্যানের মাধ্যমে মানুষকে সৎপথে, ন্যায়ের পথে চলার উপদেশ রয়েছে।
মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা বা মমত্ববোধকে মানবতা বলে।
মনু+ষ্ণ = মানব অর্থাৎ মানুষ। মানুষ হওয়ার জন্য প্রয়োজন মানবিক গুণাবলি। যার মধ্যে এই মানবিক গুণ রয়েছে, তাকেই প্রকৃত অর্থে মানুষ বলে।
মানুষের প্রতি মানুষের যে ভালোবাসা তার নাম মানবতা।
জীবসেবা মানবতার অঙ্গ।
মানবিকতা বিচারের মানদণ্ড হলো নৈতিক মূল্যবোধ।
মানবতার জন্য মানুষকে অন্যান্য জীব থেকে শ্রেষ্ঠ বলা হয়।
মানুষ হওয়ার জন্য মানবিক গুণাবলি প্রয়োজন।
যে মানুষের মধ্যে মানবিক গুণাবলি রয়েছে। তাকে প্রকৃত মানব বলে আখ্যায়িত করা হয়।
অযাচক বৃত্তি হলো কারও কাছে কিছু চাওয়া যাবে না। লোকে ইচ্ছে করে যা দেবে, তাই দিয়েই জীবন ধারণ করতে হবে।
রন্তিবর্মা আটচল্লিশ দিন অনাহারে ছিলেন।
রাজা রন্তিবর্মা অযাচকবৃত্তি পালন করেছিল।
রস্তিবর্মা এক প্রজাবৎসল, কৃষ্ণভক্ত রাজা ছিলেন।
রাজা রন্তিবর্মা একবার শ্রীকৃষ্ণে সবকিছু সমর্পণ করে অযাচক বৃত্তি গ্রহণ করেন।
মহত্ত্বের উৎস হলো মানবতা বা মানবপ্রেম।
রাবণ সীতাকে অশোক বনে বন্দি করে রেখেছিলেন .
বীরের ধর্ম হলো ধর্ম রক্ষার জন্য যুদ্ধ করা।
সৎসাহস অর্থ হলো সত্য ও ন্যায়ের জন্য ভয় না পেয়ে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো।
রাবণ ত্রেতা যুগের রাজা ছিলেন।
বিভীষণের স্ত্রীর নাম হলো সরমা।
তরণী সেনের পিতার নাম বিভীষণ।
অযোধ্যার রাজা দশরথ ছিলেন।
দশরথের জ্যেষ্ঠ পুত্রের নাম রাম।
রামের মায়ের নাম কৌশল্যা ।
সৎ' শব্দের অর্থ সত্য ও ন্যায়ের পথে চলা।
'সাহস' শব্দের অর্থ হলো ভয়শূন্যতা বা নির্ভীকতা ।
অধিকাংশ মানুষ ধর্মকে ভালোবাসেন, শ্রদ্ধা করেন, সম্মান করেন এবং ধর্মের নিয়ম-কানুন, রীতি-নীতি, আচার-অনুষ্ঠান মেনে চলেন। আর এ ধর্মের বিধি-বিধান রয়েছে ধর্মগ্রন্থে। প্রতিটি ধর্মগ্রন্থে রয়েছে নানা উপাখ্যানের মাধ্যমে মানুষকে সৎপথে, ন্যায়ের পথে চলার উপদেশ। এ সকল উপদেশ মানুষকে সত্যিকারের মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ভূমিকা রাখে। তাই মানুষ ধর্মকে শ্রদ্ধা করে।
মানবতা নামক গুণটির জন্য মানুষ অন্য জীব থেকে আলাদা।
মানুষ কিছু সহজাত প্রবৃত্তি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। যেমন- ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ভয়, ক্রোধ, লোভ, হিংসা ইত্যাদি। যা পশুদেরও আছে। সুতরাং মানুষকে তখনই প্রকৃত মানুষরূপে চিহ্নিত করা যাবে যখন তার মধ্যে মানবতা নামক এ বিশেষ গুণ থাকবে এবং যার দ্বারা তাকে অন্য প্রাণী থেকে আলাদা করা যাবে। কেননা যার মানবতা নেই তাকে মানুষ বলা যায় না। আর এ মানবতার জন্যই মানুষকে শ্রেষ্ঠ জীব বলা হয়েছে।
মানুষকে শ্রেষ্ঠ জীব বলা হয়। সকল প্রাণীর কিছু সহজাত প্রবৃত্তি রয়েছে, যা মানুষের মধ্যেও আছে, যেমন- ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ক্রোধ, ভয়, হিংসা-দ্বেষ, লোভ-লালসা ইত্যাদি। কিন্তু মানুষকে তখনই প্রকৃত মানুষকে চিহ্নিত করা যাবে যখন কোনা একটি বিশেষ গুণের দ্বারা তাকে অন্যান্য জীব-জন্তু থেকে আলাদা করা যাবে। আর এ গুণটির নাম মানবতা। আর এই মানবতার জন্যই মানুষকে অন্যান্য জীব থেকে শ্রেষ্ঠ বলা হয়।
মানবতা ধর্মের অঙ্গ। আমরা জানি সহিষ্ণুতা, ক্ষমা, দয়া, চুরি না করা, শুচিতা, ইন্দ্রিয় সংযম, শুদ্ধবৃদ্ধি, জ্ঞান, সত্য, ও অক্রোধ (রাগ না করা) এ দশটি যার মধ্যে আছে, তাকে আমরা প্রকৃত মানুষ বলে আখ্যায়িত করতে পারি। কারণ মানবতার গঠন ও বিকাশে এ গুণগুলো অপরিহার্য। মানবতা একটি বিশেষ নৈতিক গুণ। মানুষের প্রতি মানুষের যে ভালোবাসা বা মমত্ববোধ এর নাম মানবতা।
মানুষের মহত্ত্বের উৎস হলো মানবতা বা মানবপ্রেম। মানবতা প্রকাশ করার মধ্য দিয়ে মানুষ তার মহত্ত্বের পরিচয় রাখতে পারে, মানবপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে অসংখ্য মহৎপ্রাণ ব্যক্তি নিজের জীবনের সর্বস্ব অন্যের জন্য উৎসর্গ করে গেছেন। মানবতা গুণের দ্বারা মানুষের মহত্ত্ব প্রকাশ পায়, অন্যেরও উপকার হয়। তাই বলা যায়, মানুষ হয়ে মানুষের প্রতি মানবতা প্রদর্শন করাই হলো মহত্ত্বের বহিঃপ্রকাশ ।
অযাচকবৃত্তি হলো কারও কাছে কিছু চাওয়া যাবে না, লোকে ইচ্ছে করে বা দয়া করে নিজের ইচ্ছায় যা দেবে তা দিয়ে জীবনযাপন করতে হবে। ধর্মগ্রন্থে রাজা রন্তিদেব ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চরণে নিজেকে সমর্পন করে অযাচকবৃত্তি গ্রহণ করেছিলেন।
বিভীষণ তার পুত্র তরণীসেনকে রামচন্দ্রের কাছে পুত্ররূপে পরিচয় না করানোয় রামচন্দ্র মিত্র বিভীষণকে ভৎর্সনা করেন। তরণী যুদ্ধক্ষেত্রে এসে জয়রাম ধ্বনি বলে তীর নিক্ষেপ শুরু করলে বহু বানরসেনা হতাহত হয়। বালক বিবেচনায় এবং সে রাম নাম জপ করায় শ্রীরাম বান নিক্ষেপ করতে না পেরে মিত্র বিভীষণের কাছে তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি পুত্ররূপে পরিচয় না দিয়ে বলেন, এ বালক এক দুরন্ত রাক্ষস। একে বৈষ্ণব অস্ত্র নিক্ষেপ করলে এর মৃত্যু হবে। শ্রীরামচন্দ্র তাই করলেন পুত্রের মৃত্যুতে বিভীষণ পুত্রের দেহ কোলে নিয়ে কেঁদে উঠলেন। তখন রামচন্দ্র বিষয়টি বুঝতে পেরে মিত্র বিভীষণকে ভৎর্সনা করলেন।
রাবণের ভাই বিভীষণ ছিলেন ধার্মিক। যখন তার ভাই রাবণ সীতা দেবীকে ছলনার দ্বারা অন্যায়ভাবে হরণ করে নিয়ে আসেন, তখন ভগবান রামচন্দ্র স্ত্রীকে উদ্ধারের জন্য সাগর পাড়ি দিয়ে লঙ্কায় আক্রমণ করেন। তখন বিভীষণ রাবণকে অনুরোধ করেন সীতাকে ফিরিয়ে দিয়ে রামের সাথে সন্ধি করার। কিন্তু দুষ্টমতি রাবণ বিভীষণের কথায় কান না দিয়ে তাকে অপমান করে লঙ্কা থেকে তাড়িয়ে দিলে, রামের আশ্রয়ে চলে আসেন এবং রামের পক্ষে রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগদান করেন।
একজন মানুষের জীবনে সৎসাহস খুবই প্রয়োজন। কেননা যখন কেউ দুর্বলের উপর অত্যাচার করে তখন সৎসাহসের বলে দুর্বলের পাশে দাঁড়ানো যায়। সৎসাহসের কারণে দুর্বলকে যা অত্যচারিত ব্যক্তিকে অত্যাচারীর কবল থেকে রক্ষা করা যায় এবং অত্যাচারীকে প্রতিহত করা যায়। সমাজ, দেশ ও জাতি সৎসাহসী ব্যক্তির দ্বারা উপকৃত হয়। সৎসাহসী ব্যক্তি সমাজের দেশের বা জাতির কোনো বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়তে কখনো দ্বিধা করেন না। এজন্য সৎসাহস একান্ত প্রয়োজন না।
অষ্টম অধ্যায়
ধর্মীয় উপাখ্যান ও নৈতিক শিক্ষা
পূর্বের অধ্যায়ে আমরা ধর্মগ্রন্থ থেকে কীভাবে নৈতিক শিক্ষা পাওয়া যায় সে সম্পর্কে জেনেছি। বর্তমান অধ্যায়ে
ধর্মগ্রন্থে ধর্মীয় উপাখ্যান ও নৈতিক শিক্ষা সম্পর্কে জানব। ধর্মগ্রন্থে বিভিন্ন ধরনের আখ্যান- উপাখ্যান ধর্মতত্ত্বের নানা বিষয়ের দৃষ্টান্ত হিসেবে সন্নিবেশিত হয়েছে এবং উপাখ্যানগুলো নৈতিক শিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে । সুতরাং আমরা ধর্মীয় উপাখ্যান পাঠ করব এবং নৈতিক শিক্ষা আর্জন করব। এ অধ্যায়ে ধর্মগ্রন্থে উপাখ্যান সন্নিবেশ করার গুরুত্ব, মানবতা ও সৎসাহস নামক দুইটি নৈতিক বিষয়ের ধারণা ব্যাখ্যা ও তার প্রতিফলনমূলক উপাখ্যান বর্ণনা করব ।
- অধ্যায় শেষে আমরা-
- ধর্মগ্রন্থে উপাখ্যান সন্নিবেশ করার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব
- মানবতার ধারণাটির ধর্মীয় ব্যাখ্যা করতে পারব
- মানবতার দৃষ্টান্তমূলক উপাখ্যান বর্ণনা করতে পারব
- বর্ণিত উপাখ্যানের শিক্ষা চিহ্নিত করতে পারব
- সমাজ ও পারিবারিক জীবনে এ শিক্ষার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করতে পারব •
- নৈতিক সাহস ধারণার ধর্মীয় ব্যাখ্যা করতে পারব
- সৎ সাহসের দৃষ্টান্তমূলক উপাখ্যান বর্ণনা করতে পাৱৰ
- বর্ণিত উপাখ্যানের শিক্ষা ব্যাখ্যা করতে পারব।
পাঠ ১ : ধর্মগ্রন্থে উপাখ্যান সন্নিবেশ করার গুরুত্ব
অধিকাংশ মানুষ ধর্মকে ভালোবাসেন, শ্রদ্ধা করেন, সম্মান করেন এবং ধর্মের নিয়ম-কানুন, রীতি-নীতি, আচার-অনুষ্ঠান মেনে চলেন । আর এ ধর্মের বিধি-বিধান রয়েছে ধর্মগ্রন্থে। আমরা জানি, হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ বেদ, উপনিষদ, রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ, ভাগবত, গীতা, চণ্ডী ইত্যাদি। প্রতিটি ধর্মগ্রন্থে রয়েছে নানা উপাখ্যানের মাধ্যমে মানুষকে সৎপথে, ন্যায়ের পথে চলার উপদেশ। আর এ সকল উপদেশ মানুষকে সত্যিকারের মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ভূমিকা রাখে। আমরা যেমন ধর্মকে শ্রদ্ধা করি, তেমনি ধর্মগ্রন্থকেও শ্রদ্ধা করি।
ধর্মগ্রন্থে সন্নিবেশিত আদেশ-নির্দেশ মেনে চলতে হয়। এতেই সমাজে হিংসা-দ্বেষ, হানাহানি ইত্যাদি তিরোহিত হয়ে শান্তির বাতাবরণ সৃষ্টি হতে পারে । মানুষ ধর্মগ্রন্থকে মান্য করে, শ্রদ্ধা করে, সম্মান দেয় এবং আগ্রহভরে ধর্মগ্রন্থ পাঠ করে বা শ্রবণ করে ধন্য হয়, সুতরাং মানব জীবনে নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টিতে এবং নৈতিক শিক্ষার ক্ষেত্রে ধর্মগ্রন্থের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । তাই মানবের কল্যাণে, সামাজিক শৃঙ্খলা বিধানে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করতেই ধর্মগ্রন্থে সন্নিবেশ করা হয়েছে নানা উপাখ্যান । আমরা এসব ধর্মীয় উপাখ্যান পাঠ করে নিজেকে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলব । আর আমরা সবাই যদি এ নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হই, তাহলে সমাজেও তার প্রভাব পড়বে ।
একক কাজ : ধর্মগ্রন্থে কী থাকে? ধর্মগ্রন্থ পাঠ করলে বা শ্রবণ করলে কী হয়? এ বিষয়ে পোস্টার তৈরি
কর ।
পাঠ ২ : মানবতার ধারণা
মনু+ষ্ণ = মানব অর্থাৎ মানুষ । মানুষের সহজাত কিছু প্রবৃত্তি নিয়ে মানুষ জন্মগ্রহণ করে । যেমন- ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ক্রোধ, ভয়, হিংসা-দ্বেষ, লোভ-লালসা, ইত্যাদি । এই প্রবৃত্তিগুলো থাকলে তাকে মানুষ বলে চিহ্নিত করা যায় না । কারণ পশু-পাখি, জীব-জন্তু, এমনকি ইতর প্রাণীর মধ্যেও এ প্রবৃত্তিগুলো বিদ্যমান । সুতরাং মানুষকে তখনই প্রকৃত মানুষরূপে চিহ্নিত করা যাবে যখন কোনো একটি বিশেষ গুণের দ্বারা তাকে অন্যান্য জীব-জন্তু থেকে আলাদা করা যাবে । কী সেই গুণ? এক কথায় বলা যায়, এ গুণটির নাম মানবতা । মানবতার জন্যই মানুষকে অন্যান্য জীব থেকে শ্রেষ্ঠ বলা হয়। যার মানবতা নেই তাকে মানুষ বলা যায় না । পাঠের প্রথমে যে সহজাত প্রবৃত্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা পশুর মধ্যেও আছে; তাই এগুলোকে পাশবিক আচরণও বলা যেতে পারে । সুতরাং শুধু পাশবিক আচরণ দিয়ে মানুষ হওয়া যায় না। মানুষ হওয়ার জন্য প্রয়োজন মানবিক গুণাবলি । যার মধ্যে এই মানবিক গুণ রয়েছে তাকেই প্রকৃত মানব বলে আখ্যায়িত করা যায় ।
একক কাজ : (ক) মানুষ ধর্মকে কেন শ্রদ্ধা বা সম্মান করে? (খ) কয়েকটি ধর্মগ্রন্থের নাম লেখ।
মানবতা একটি বিশেষ নৈতিক গুণ । মানবতা ধর্মেরও অঙ্গ । আমরা জানি, সহিষ্ণুতা, ক্ষমা, দয়া, চুরি না করা, শুচিতা, ইন্দ্রিয় সংযম, শুদ্ধবুদ্ধি, জ্ঞান, সত্য ও অক্রোধ (রাগ না করা) এ দশটি যার মধ্যে আছে তাকে আমরা প্রকৃত মানুষ বলে আখ্যায়িত করতে পারি । কারণ মানবতার গঠন ও বিকাশে এ গুণগুলো অপরিহার্য । মানুষ সমাজবদ্ধ জীব, সমাজে বাস করে এবং অপরের দুঃখে তার প্রাণ কেঁদে ওঠে । মানুষের প্রতি মানুষের এই যে ভালোবাসা বা মমত্ববোধ, এরই নাম মানবতা । জীবসেবাও মানবতার অঙ্গ ।
মানুষের প্রতি মানুষের রয়েছে দরদ, রয়েছে সংবেদনশীলতা। যুগে যুগে মানুষ সত্যের সাধনায় জীবন উৎসর্গ করেছে । মানুষের মঙ্গলের জন্য দুঃখ বরণ করেছে । সেবায়, ত্যাগে, কর্মে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে ধন্য হয়েছে। মানুষের কল্যাণ কামনায় নিজের মেধা, শ্রম কাজে লাগিয়ে নিজেকে সার্থক করেছে, করেছে মহান । মহত্ত্বের উৎস হলো মানবতা বা মানবপ্রেম । মানবপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে অসংখ্য মহৎপ্রাণ ব্যক্তি নিজের
জীবনের সর্বস্ব অন্যের জন্য উৎসর্গ করে গেছেন। কেবল অর্থ দিয়ে নয়, নিজের জীবন দিয়েও অনেক মহানুভব ব্যক্তি চরম ত্যাগের পরিচয় দিয়েছেন। জীবে দয়াই মানব জাতির কল্যাণকর পথ। নিরন্নকে অন্ন, বস্ত্রহীনে বস্ত্র, তৃষ্ণার্তকে জল, দৃষ্টিহীনে দৃষ্টি, বিদ্যাহীনে বিদ্যা, ধর্মহীনে ধর্মজ্ঞান, বিপন্নকে আশ্রয়, ভয়ার্তকে অভয়, রুগ্নকে ঔষধ, গৃহহীনে গৃহ, শোকার্তকে সান্ত্বনা দান করা মানবতারই আরেক নাম । আমরা আমাদেরীরীওনাখ্যামানান্তক্ষণ। ক্ষর্জন করব । আমরা প্রকৃত মানুষ হব ।
দলীয় কাজ : মানবিক ও পাশবিক আচরণ বা গুণের তুলনা করে ছক তৈরি কর ।
পাঠ ৩ : রক্তিবর্মার মানবতা
অনেক অনেক দিন আগের কথা । রক্তিবর্মা নামে এক প্রজাবৎসল, কৃষ্ণভক্ত রাজা ছিলেন। তার রাজ্যের প্রজাগণ সুখে শান্তিতে বসবাস করতেন। তিনি শুধু রাজা ছিলেন না। ছিলেন রাজার রাজা, মহারাজা, সম্রাট। সম্রাট হয়েও রক্তিবর্মা পার্থিব বিষয়ের প্রতি আসক্ত নন। শ্রীকৃষ্ণের চরণকেই তিনি একমাত্র সম্পদ বলে জ্ঞান করেন। শ্রীকৃষ্ণে সবকিছু সমর্পণ করে তিনি একবার অযাচক বৃত্তি গ্রহণ করেন । অযাচক বৃত্তি হলো, কারও কাছে কিছু চাওয়া যাবে না, লোকে ইচ্ছে করে বা দয়া করে যা দেবে, তাই দিয়েই দিন যাপন করতে হবে । অযাচক বৃত্তি গ্রহণ করার পর একে একে আটচল্লিশ দিন কেটে গেছে। এই আটচল্লিশ দিনে কেউ তাঁকে কিছুই দেয়নি। তিনিও খেতে চাননি, কেউ ইচ্ছা করে কিছু দেয়নি । ঊনপঞ্চাশতম দিবসে এক ভক্ত তাঁকে একটি থালায় করে কিছু খাবার দিয়ে গেলেন । এবার তাঁর উপবাস ভঙ্গ হবে। হঠাৎ তাঁর সামনে একজন ভিক্ষুক উপস্থিত; সাথে একটি কুকুর। উভয়ের শরীর খুবই কাহিল। দেখেই বোঝা যাচ্ছে, কতদিন কিছুই খায়নি। ভিক্ষুক কাঁপা কাঁপা গলায় বলল, 'কদিন ধরে কিছুই খেতে পাইনি, দয়া করে আমাকে কিছু খেতে দিন। আমার সাথে আমার কুকুরটিও না খেয়ে আছে।' “ক্ষুধার্ত” লোকটির করুণ অবস্থা দেখে রাজা রক্তিবর্মার চোখে জল এল। কুকুরটি ক্ষুধায় ধুঁকছে। রাজা কিছুক্ষণ পূর্বে খাবার ভিক্ষা পেয়েছেন, তার সবটাই ভিক্ষুক ও তার কুকুরটিকে দিয়ে দিলেন ।
‘পেট ভরল না”, ভিক্ষুক জানাল । রাজা রস্তিবর্মা হাতজোড় করে বললেন, “আর তো কিছুই নেই, ভাই । এরই নাম মানবতাবোধ। নিজে আটচল্লিশ দিন অনাহারে থেকে প্রাণ ওষ্ঠাগত; তবু অপরের দুঃখে নিজের ভিক্ষালব্ধ খাবার
ক্ষুধার্ত ব্যক্তিকে দিয়ে নিজে কষ্ট সহ্য করা, এটা যে কত বড় মানবতা, তা যে কেউ অনুধাবন করতে পারেন । উপাখ্যানের শিক্ষা : মানবতাই ধর্ম । মানবতা গুণের দ্বারা মানুষের মহত্ত্ব প্রকাশ পায়, অন্যেরও উপকার
হয় । আমরা মানবতা গুণ অর্জন করব । তাহলে নিজের পুণ্য হবে এবং অপরেরও কল্যাণ হবে । একক কাজ : উপাখ্যানটি পড়ে তোমরা কী শিক্ষা পেলে? এ সম্পর্কে খাতায় লেখ ।
পাঠ ৪ ও ৫ : সৎসাহসের ধারণা
‘সাহস’ কথাটির অর্থ ভয়শূন্যতা বা নির্ভীকতা। ‘সৎ' শব্দের অর্থ সত্য ও ন্যায়ের পথে চলা । সুতরাং সৎসাহস কথাটির সামগ্রিক অর্থ হলো সত্য ও ন্যায়ের জন্য ভয় না পেয়ে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো অথবা সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় নিজেকে উৎসর্গ করার নামই সৎসাহস। অন্য কথায় নিজের জীবনের ঝুঁকি আছে জেনেও দেশের মঙ্গলের জন্য বা অন্যের মঙ্গলের জন্য যে ব্যক্তি নিজের শক্তিদ্বারা যথাসাধ্য চেষ্টা করে বা সাহস প্রদর্শন করে, তাকেই বলে 'সৎ সাহস' । যখন কেউ দুর্বলের উপর অত্যাচার করে, তখন সৎসাহস নিয়ে দুর্বলের পক্ষে দাঁড়ানো উচিত । দুর্বলকে বা অত্যাচারিত ব্যক্তিকে অত্যাচারীর কবল থেকে রক্ষা করা এবং অত্যাচারীকে প্রতিহত করার জন্য সৎসাহসের প্রয়োজন হয় । যারা ভীরু-কাপুরুষ তারা কখনো কোনো কল্যাণকর বা মঙ্গলজনক কাজ করতে পারে না । সমাজ, দেশ ও জাতি এদের দ্বারা উপকৃত হয় না । এরা সমাজের জঞ্জাল স্বরূপ। আর সৎসাহসী ব্যক্তি সমাজ, দেশ ও জাতির অহঙ্কার। তাঁরা সমাজের, দেশের বা জাতির যে কোনো বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়তে দ্বিধা করেন না। সৎসাহস মানুষের একটি বিশেষ নৈতিকগুণ। সৎসাহস ধর্মেরও অঙ্গ ।
ধর্ম রক্ষার জন্য যুদ্ধ করা বীরের ধর্ম । তাই যুদ্ধক্ষেত্রে সৎসাহস দেখানো বীরের কর্তব্য। রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ প্রভৃতি ধর্মগ্রন্থে অনেক বীরের কাহিনি আছে যাঁরা তাদের সৎসাহসের জন্য বিখ্যাত হয়েছেন ।
| একক কাজ : সৎসাহস সম্পর্কে তিনটি বাক্য লেখ । |
সৎসাহসী বালক তরণীসেন
ত্রেতা যুগের কথা । অযোধ্যার রাজা দশরথ । তাঁর তিন রানি- কৌশল্যা, কৈকেয়ী ও সুমিত্রা। কৌশল্যার পুত্র রাম সকলের বড় । কৈকেয়ীর পুত্র ভরত। সুমিত্রার দুই পুত্র লক্ষ্মণ ও শত্রুঘ্ন । পুত্রদের মধ্যে রাম সকলের বড় । কৈকেয়ীর চক্রান্তে রাম পিতৃসত্য পালন করতে চৌদ্দ বৎসরের জন্য বনে গমন করেন । তাঁর সাথে বনে যান স্ত্রী সীতা ও ভাই লক্ষ্মণ ।
বনবাসকালে রাক্ষস রাজা রাবণ সীতাকে একা পেয়ে হরণ করে লঙ্কায় এনে অশোক বনে বন্দি করে রাখেন । রাম সীতাকে উদ্ধার করতে সাগরে সেতু বন্ধন করে বানর বাহিনী নিয়ে সাগর পাড়ি দিয়ে লঙ্কা আক্রমণ করেন । রাবনের ভাই বিভীষণ রাবণকে অনুরোধ করেন রামের সাথে যুদ্ধ না করে সীতাকে ফিরিয়ে দিয়ে তাঁর সঙ্গে সন্ধি করার জন্য । কিন্তু দুষ্টমতি লঙ্কাপতি বিভীষণের কথায় কান না দিয়ে তাকে অপমান
করে লঙ্কা থেকে তাড়িয়ে দেন। বিভীষণ রামের আশ্রয়ে চলে আসেন এবং রামের পক্ষে রাবণের বিরুদ্ধে
যুদ্ধে যোগদান করেন ।
রাক্ষস বাহিনীর সাথে রাম-লক্ষ্মণের ভীষণ যুদ্ধ শুরু হলো। যুদ্ধে রাক্ষসবাহিনীর বড় বড় বীর যোদ্ধারা সব প্রাণ ত্যাগ করল । রাবণের একলক্ষ পুত্র ও সোয়া লক্ষ নাতি ছিল। সকলেই এ যুদ্ধে প্রাণ ত্যাগ করেছে । সোনার লঙ্কা পরিণত হয়েছে শ্মশানে । রাবণ বিমর্ষ হয়ে রাজসভায় বসে প্রমাদ গুনছেন। এখন কী করা যায়? যুদ্ধ পরিচালনা করার জন্য এমন কেউ নেই যে, যুদ্ধ করে লঙ্কাকে রক্ষা করে ।
বিভীষণ লঙ্কাপুরী ত্যাগ করলেও তার স্ত্রী সরমা ও পুত্র তরণীসেন লঙ্কা পুরীতেই অবস্থান করছিলেন। তরণীসেন তখন দ্বাদশ বর্ষীয় বালক । তরণীসেনের কাছে সংবাদ গেল যুদ্ধে রাক্ষসবাহিনীর পরাজয়ের কথা, লঙ্কার বীরদের আত্মত্যাগের কথা। সে তখন রাবণের দরবারে উপস্থিত হয়ে যুদ্ধযাত্রার অনুমতি প্রার্থনা করে । রাবণ বালক তরণীকে কোনোমতেই এ ভয়ঙ্কর যুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি দিতে চাইলেন না। কিন্তু তরণীসেন রাবণকে রাজি করিয়ে যুদ্ধে যাত্রা করল ।
তরণী ছিল পিতা বিভীষণের মতই ধার্মিক। সে তার রথের চূড়া রামনাম খচিত পতাকায় শোভিত করল । নিজের সারা অঙ্গে রামনাম লিখে নামাবলি গায়ে দিয়ে রখে উঠে বসল। রথ ছুটে চলল যুদ্ধের ময়দানে । রাম তাকিয়ে দেখেন রামনাম খচিত ধ্বজাধারী রথের উপর দ্বাদশ বর্ষীয় বালক যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত । রাবণের এহেন বিবেচনা দেখে রাম বিস্মিত হলেন । তার গায়ে রাম নামের নামাবলি জড়ানো ।
তরণী যুদ্ধক্ষেত্রে এসে ধনুর্বাণ হাতে নিয়ে জয়রাম বলে ধ্বনি করে তীর নিক্ষেপ করতে শুরু করল । অনেক বানর সৈন্য হতাহত হলো। রাম বালক বিবেচনায় এবং তার মুখে রাম নামের ধ্বনি শ্রবণ করে তার প্রতি বাণ নিক্ষেপ না করে বিভীষণকে বললেন, 'ওহে মিত্র বিভীষণ! কে এই বালক? সর্বদা মুখে রাম নাম জপ করছে । আমি কি করে এর প্রতি বাণ নিক্ষেপ করি?'
তখন বিভীষণ তরণীর আসল পরিচয় রামকে বললেন না। বিভীষণ বললেন, 'এ দুরন্ত রাক্ষস। হে প্রভু রাম, এ রাক্ষসের প্রতি তুমি বৈষ্ণব অস্ত্র নিক্ষেপ কর । তাহলেই এ রাক্ষসের মৃত্যু হবে ।'
রাম ধনুতে বৈষ্ণব অস্ত্র যোজনা করলেন । তরণীসেনকে লক্ষ্য করে বাণ নিক্ষেপ করলেন রামচন্দ্র । বাণ তরণীর বক্ষে বিদ্ধ হলো । তরণী ‘জয়রাম, জয়রাম' বলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল । বিভীষণ তরণীর প্রাণহীন দেহ কোলে তুলে ‘হা পুত্র তরণীসেন', বলে কেঁদে উঠলেন । এতক্ষণে রাম বুঝতে পারলেন এ বীর বালক আর কেউ নয়, মিত্র বিভীষণের পুত্র তরণীসেন। রাম মিত্র বিভীষণকে ভর্ৎসনা করলেন । শেষে তরণীর মস্তকে হস্ত রেখে রাম তাকে আশীর্বাদ করলেন । তরণী রাক্ষস দেহ পরিত্যাগ করে দিব্যদেহ ধারণ করে বৈকুণ্ঠে চলে গেল।
উপাখ্যানের শিক্ষা
স্বাধীনতা রক্ষা করতে যার যতটুকু শক্তি আছে, তা প্রয়োগ করা বা কাজে লাগানোর সৎসাহস থাকা বাঞ্ছনীয়। আমরা তরণীসেনের মতো সৎসাহসী হব। দেশের জন্য জীবন বিসর্জন দিতে কখনো
পিছপা হব না ।
দলীয় কাজ : তরণীসেনের আদর্শ সম্পর্কে একটি পোস্টার তৈরি কর । |
নতুন শব্দ : অযাচক, দ্বাদশ বর্ষীয়, ধনুর্বাণ, বৈকুণ্ঠ, দিব্যদেহ
অনুশীলনী
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন :
১। রামায়ণে কোন যুগের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে?
ক. সত্য
খ. দ্বাপর
গ. ত্রেতা
ঘ. কলি
২। তোমার পঠিত উপাখ্যানে তরণীসেনের চরিত্রে কোন গুণটি প্রকাশ পেয়েছে?
i. আত্মত্যাগ ii. দেশপ্রেম
iii. নির্বুদ্ধিতা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii গ. i ও iii
খ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
নিচের অনুচ্ছেদটি পড় এবং ৩ ও ৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও :
রামতনু টেলিভিশনের খবরে জানতে পারেন তাদের পার্শ্ববর্তী উপজেলা বন্যাকবলিত । প্রবল স্রোত ও দুর্যোগের কারণে উপদ্রুত এলাকার অধিবাসীদের উদ্ধার করা বা সাহায্য দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না
বিধায় তারা জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে । রামতনু তখনই একটি নৌকা নিয়ে তাদের উদ্ধার করতে যায় এবং সাধ্যমত উদ্ধারে ব্রতী হয় ।
৩। অনুচ্ছেদে রামতনুর বন্যাকবলিতদের উদ্ধার করার কাজটি হলো -
i. কর্তব্যনিষ্ঠা
ii. জীবসেবা
iii. সৎসাহস
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i
খ. iii
গ. i ও iii
ঘ. i, ii ও iii
৪ । কোন মূল্যবোধটি রামতনুকে বন্যার্তদের উদ্ধার করার কাজটি করতে উদ্বুদ্ধ করে?
ক. মানবতাবোধ
খ. দয়া
গ. সহিষ্ণুতা
ঘ. ক্ষমা
সৃজনশীল প্রশ্ন :
পৃথাদের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো নয় । একদিন পৃথা মায়ের সাথে এক আত্মীয়ের বাড়ি যাবে বলে বের হয়ে পথের ধারে রিক্শার জন্য অপেক্ষা করছে । এমন সময় এক ভিক্ষুক এসে ভিক্ষা চাইল । পৃথার মা তাকে ভিক্ষা দিলেন । তা দেখে আরো কয়েকজন ভিক্ষুক এগিয়ে এল । সবাইকে ভিক্ষা দেওয়ার পর মা দেখলেন তাদের কাছে রিক্শা ভাড়ার আর কোনো টাকা নেই । তখন তারা পায়ে হেঁটেই আত্মীয়ের বাড়ি পৌঁছালেন। এতে একটু কষ্ট হলেও এবং সময় বেশি লাগলেও তাদের মন মানুষের জন্য কিছু করতে পারার আনন্দে ভরে গেল ।
ক. রাজা রন্তিবর্মা কোন্ দেবতার ভক্ত ছিলেন? খ. সকল জীবের মধ্যে মানুষ শ্রেষ্ঠ কেন বুঝিয়ে লেখ।
গ. রক্তিবর্মার আচরণের যে দিকটি পৃথার মায়ের আচরণে প্রতিফলিত হয়েছে তা ব্যাখ্যা কর।
ঘ. পৃথা ও তার মায়ের অনুভূতি যেন রক্তিবর্মার অনুভূতিরই প্রতিফলন- বিশ্লেষণ কর।
Related Question
View Allরাজা রন্তিবর্মা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ভক্ত ছিলেন।
মানুষকে তখনই প্রকৃত মানুষরূপে চিহ্নিত করা যায় যখন কোনো একটি বিশেষ গুণের দ্বারা তাকে অন্যান্য জীবজন্তু থেকে আলাদা করা যায়। এ গুণের নাম মানবতা। মানবতার জন্যই মানুষকে সকল জীবের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলা হয়।
রাজা রন্তিবর্মার আচরণের মানবতার দিকটি পৃথার মায়ের আচরণে প্রতিফলিত হয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণে সবকিছু সমর্পণ করে কৃষ্ণভক্ত রাজা রন্তিবর্মা একবার অযাচকবৃত্তি গ্রহণ করেন। অযাচকবৃত্তি হলো কারও কাছে কিছু চাওয়া যাবে না। লোকে ইচ্ছে করে কিছু দিলে তা দিয়েই জীবনযাপন করতে হবে। উপবাসের ঊনপঞ্চাশতম দিবসে এক ভক্ত তাঁকে খাবার দিয়ে গেলেন। উপবাস ভঙ্গের সময় এক ভিক্ষুক উপস্থিত, সাথে একটি কুকুর। রাজা রন্তিবর্মা ক্ষুধার্ত ভিক্ষুক ও কুকুরটিকে তাঁর ভিক্ষার সব খাবার দিয়ে দিলেন। ভিক্ষুক জানাল, তার পেট ভরে নি। রাজা রন্তিবর্মা হাত জোড় করে জানালেন, তাঁর কাছে আর কিছুই নেই। এরই নাম মানবতা। যা পৃথার মায়ের আচরণে প্রতিফলিত হয়েছে।
পৃথা ও তার মা আত্মীয় বাড়ি যাওয়ার পথে রিক্সার জন্য অপেক্ষা করছে। এমন সময় এক ভিক্ষুক এসে ভিক্ষা চাইল। পৃথার মা তাকে ভিক্ষা দিলেন। আরও কয়েকজন ভিক্ষুক এগিয়ে এল। সবাইকে ভিক্ষা দেওয়ার পর তাদের রিক্সা ভাড়ার কোনো টাকা নেই। এখন তারা পায়ে হেঁটেই আত্মীয় বাড়ি পৌঁছলেন। একটু কষ্ট হলেও মানুষের জন্য কিছু করতে পেরে তারা আনন্দিত হলেন। কৃষ্ণভক্ত রাজা রন্তিবর্মা অযাচকবৃত্তি গ্রহণ করেন। অযাচকবৃত্তি হলো কারও কাছে কিছু চাওয়া যাবে না, লোক ইচ্ছে করে কিছু দিলে তা দিয়েই জীবনযাপন করতে হবে। উপবাসের ঊনপঞ্চাশতম দিবসে এক ভক্ত তাঁকে খাবার দিয়ে গেলেন। উপবাস ভঙ্গের সময় এক ভিক্ষুক উপস্থিত, সাথে একটি কুকুর। রাজা রন্তিবর্মা ক্ষুধার্ত ভিক্ষুক ও কুকুরটিকে তাঁর ভিক্ষার সব খাবার দিয়ে দিলেন। ভিক্ষুক জানাল, তার পেট ভরে নি। রাজা রন্তিবর্মা হাত জোড় করে জানালেন, তাঁর কাছে আর কিছুই নেই। এরই নাম মানবতা।
মানবতাই ধর্ম। মানবতা গুণের দ্বারা মানুষের মহত্ত্ব প্রকাশ পায়, অন্যের উপকার হয়। রাজা রন্তিবর্মার মানবতার দিকটিই পৃথা ও তার মায়ের আচরণে প্রতিফলিত হয়েছে। তাই বলা যায়, পৃথা ও তার মায়ের অনুভূতি যেন রন্তিবর্মার অনুভূতিরই প্রতিফলন।
মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা বা মমত্ববোধকে মানবতা বলে।
সকল প্রাণীর কিছু সহজাত প্রবৃত্তি থাকে। মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি ছাড়াও কিছু গুণ আছে, যেমন মানবতা যা অন্য প্রার্থীর নেই। আর এ জন্যই মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!