পূর্ণাবতারে ভগবানের সমস্ত শক্তি ও গুণ থাকে ।
প্রধান অংশাবতার সংখ্যা দশটি ।
ভগবানের পূর্ণাবতার শ্রীকৃষ্ণ ।
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ শেষে শ্রীকৃষ্ণ দ্বারকায় ফিরে যান ।
উগ্রসেনের পুত্রের নাম কংস ।
ভগবান বিষ্ণু বিভিন্ন রূপে পৃথিবীতে অবতরণ করেন ।
অবতাররূপে বিষ্ণু জগতের কল্যাণ করেন ।
পরশুরাম অংশাবতার মধ্যে পড়ে ।
দুষ্টের কাছে শ্রীকৃষ্ণ ভয়ঙ্কর ।
সুশ্রুত ছিলেন একজন মহান চিকিৎসক ।
সুশ্রুত প্রাচীন ভারতের মহান চিকিৎসক ছিলেন ।
বিশ্বামিত্র মুনির পুত্রের নাম সুশ্রুত ।
দেবরাজ ইন্দ্র দেববৈদ্য ধন্বন্তরীকে আয়ুর্বেদ শিক্ষা দেন ।
মর্তবাসীরা ব্যাধিগ্রস্ত হলে দেবরাজ ইন্দ্র দেববৈদ্য ধন্বন্তরীকে আয়ুর্বেদ শিক্ষা দেন ।
ধন্বন্তরী কাশীরাজের পুত্ররূপে জন্মগ্রহণ করেন ।
ধন্বন্তরী দিবোদাস্ নামে জন্মগ্রহণ করেন ।
বিশ্বামিত্র স্বীয় পুত্র সুশ্রুতকে দিবোদাসের নিকট আয়ুর্বেদ শিক্ষার জন্য পাঠান ।
সুশ্রুত খ্রিষ্টপূর্ব ৬০০ অব্দে অব্দে বর্তমান ছিলেন ।
ভারতীয় শল্যবিদ্যার জনক হলেন সুশ্রুত ।
সুশ্রুত চিকিৎসা সংক্রান্ত গ্রন্থ রচনা করেন ।
সুশ্রুত রচিত গ্রন্থটির নাম ছিল সুশ্রুতসংহিতা ।
সুশ্রুতসংহিতা প্রধানত চারটি ভাগে বিভক্ত ।
চরককে 'ভারতীর চিকিৎসা শাস্ত্রের জনক' বলা হয় ।
চরক চররূপে পৃথিবীতে আবির্ভূত হন ।
চরক খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০ অব্দে আবির্ভূত হন ।
চরকসংহিতা গ্রন্থটি চরক প্রণয়ন করেন ।
চরকসংহিতা আরবি ভাষায় অনূদিত হয় ।
চরক সংহিতা গ্রন্থটি আটটি ভাগে বিভক্ত ।
চরক মানবদেহে দাঁতসহ ৩৬০টি অস্থির কথা বলেছিলেন ।
চরক মানবদেহের পরিপাক, বিপাক ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পর্কে বলেন ।
চরক শরীরের কার্যকারিতার জন্য তিনটি দোষ বা উপাদানের কথা বলেন ।
কালাড়ি গ্রামটি দাক্ষিণাত্যের কেরল রাজ্যে ।
শঙ্করাচার্য ৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন ।
শঙ্করাচার্য আবির্ভূত হন বৈশাখী শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে ।
শঙ্করাচার্যের পিতার নাম শিবগুরু ।
শঙ্করাচার্যের মাতার নাম বিশিষ্টা দেবী ।
পাঁচ বছর বয়সে বিশিষ্টাদেবী শঙ্করাচার্যের উপনয়ন দেন ।
শঙ্করাচার্য সাত বছর বয়সে বেদজ্ঞান সম্পন্ন করেন ।
কোষ্ঠী বিচারে শঙ্করের মৃত্যুযোগ ছিল ষোল অথবা বত্রিশ বছর বয়সে ।
কেরলের রাজার নাম চন্দ্রশেখর ।
রাজা চন্দ্রশেখর রাজা শংকরকে সহস্র স্বর্ণমুদ্রা দান করেন ।
শঙ্করাচার্যের অদ্বৈতবাদের মূলসুর জীব ও ব্রহ্মে কোনো পার্থক্য নেই ।
শ্রী শঙ্করাচার্য স্বারকায় সারদা মঠ স্থাপন করেন ।
রামেশ্বরে শৃঙ্গেরী মঠ অবস্থিত ।
গোবর্ধন মঠ পুরীতে অবস্থিত ।
'মোহমুদগর' কাব্যের রচয়িতা শ্রী শঙ্করাচার্য ।
৩২ বছর বয়সে শঙ্করাচার্য ইহলীলা সংবরণ করেন ।
প্রভু নিত্যানন্দ ১৪৭৩ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন ।
নিত্যানন্দ একচক্রা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ।
নিত্যানন্দের পিতার নাম হাড়াই পণ্ডিত ।
নিত্যানন্দের মায়ের নাম পদ্মাবতী ।
প্রভু নিত্যানন্দের প্রকৃত নাম কুবের ।
প্রভু নিত্যানন্দের ধর্মানুরাগের মূলে শ্রীকৃষ্ণ ছিলেন ।
প্রভু নিত্যানন্দ ধর্মকথা শুনতে খুব ভালোবাসতেন ।
শ্রীচৈতন্যের মতে প্রেমপূর্ণ ভক্তি দিয়ে পরম আরাধ্য ভগবানকে লাভ করা যায় ।
সন্ন্যাসী শ্রীপদ মাধবেন্দ্রপুরীর সঙ্গে কুবেরের দেখা হয় ।
কুবেরের একমাত্র ভাবনা কৃষ্ণদর্শন ।
নিমাই পণ্ডিত কৃষ্ণরাজ নামে পরিচিত ।
নবদ্বীপে নন্দন আচার্যের গৃহে কুবের আর গৌরাঙ্গের সাক্ষাৎ হলো ।
নিত্যানন্দ ইহলীলা সংবরণ করেন ১৫৪২ খ্রিস্টাব্দে ।
মীরাবাঈ ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন ।
মীরাবাঈ ভারতের রাজস্থান রাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন ।
মীরাবাঈ রাঠোর বংশে জন্মগ্রহণ করেন ।
মীরাবাঈয়ের পিতার নাম রত্নসিংহ ।
মীরাবাঈয়ের মায়ের নাম বীর কুঁয়রী ।
বীর কুয়রীর বাবার নাম শূরতান সিংহ ।
মীরা বাঈয়ের পিতামহের নাম দুধার্জী ।
মীরাবাঈ আট বছর বয়সে মাকে হারান ।
ভোজরাজ মৃত্যুবরণ করেন ১৫২৮ খ্রিস্টাব্দে ।
সংসারের প্রতি মীরার কোনো আগ্রহ ছিল না কৃষ্ণভজন করার কারণে ।
ভারতের জীবনীশক্তির উৎস ধর্ম ।
দ্বারকাধামে মীরাবাঈ দেহলীলা সংবরণ করেন ।
'সকল ধর্মই সত্য, যত মত তত পথ' এ বিশ্বাসী সাধক ছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ ।
শ্রীরামকৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দে ।
শ্রীরামকৃষ্ণের জন্মস্থান কামারপুকুর, হুগলি ।
শ্রীরামকৃষ্ণের পিতার নাম ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায় ।
শ্রীরামকৃষ্ণের মাতার নাম চন্দ্রমণি দেবী ।
শ্রীরামকৃষ্ণের বাল্যকালের নাম গদাধর ।
শ্রীরামকৃষ্ণের স্ত্রীর নাম সারদা দেবী ।
গদাধর দক্ষিণেশ্বরের কালী মন্দিরে যান ।
সন্ন্যাসী তোতাপুরী গদাধরের নাম শ্রীরামকৃষ্ণ রাখেন ।
শ্রীরামকৃষ্ণের কৃপায় নরেন্দ্রনাথ ঈশ্বর দর্শন পান ।
নারী মাত্রই শ্রীরামকৃষ্ণের কাছে মাতৃস্বরূপ ।
রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান কেন্দ্র বেলুড় মঠ ।
শ্রীরামকৃষ্ণ ১৮৮৬ খ্রিষ্টাব্দে পরলোকগমন করেন ।
'মা গুরুজন, ব্রহ্মময়ী-স্বরূপা-এটি শ্রীরামকৃষ্ণের বাণী ।
বিজয়কৃষ্ণ বাংলা ১২৪৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন ।
শ্রীবিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে জন্মগ্রহণ করেন ।
ঝুলন যাত্রা উৎসবে বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী জন্ম হয় ।
বিজয়কৃষ্ণের পিতার নাম আনন্দকিশোর গোস্বামী ।
বিজয়কৃষ্ণের মায়ের নাম স্বর্ণময়ী দেবী ।
বিজয়কৃষ্ণ উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতার সংস্কৃত কলেজে ভর্তি হন ।
বিজয়কৃষ্ণের স্ত্রীর নাম যোগমায়া ।
বিজয়কৃষ্ণ কয়েক বন্ধুকে নিয়ে যে সভা স্থাপন করেন তার নাম হিতসঞ্চারিণী ।
লোকনাথ বাবার নির্দেশে বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী ঢাকায় আশ্রম স্থাপন করেন ।
বিজয়কৃষ্ণ ইহলোক ত্যাগ করেন বাংলা ১৩০৬ সালে ।
"কখনো পরনিন্দা করবে না"- এটি শ্রী বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর উপদেশ বাণী ।
স্বামী বিবেকানন্দ ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন ।
বিবেকানন্দের পিতার নাম বিশ্বনাথ দত্ত ।
স্বামী বিবেকানন্দের পিতার পেশা ছিল হাইকোর্টের উকিল ।
বিবেকানন্দের মাতার নাম ভুবনেশ্বরী দেবী।
বিবেকানন্দের প্রকৃত নাম নরেন্দ্রনাথ দত্ত ।
আমেরিকার সংবাদপত্রসমূহে স্বামী বিবেকানন্দকে সাইক্লোনিক হিন্দু নামে অভিহিত করা হয় ।
বিবেকানন্দ ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে 'রামকৃষ্ণ মিশন' প্রতিষ্ঠা করেন ।
রাজা রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথা বিলোপ করেন ।
ঈশ্বর সেবার আগে তাঁর সৃষ্ট জীবের সেবা করতে হবে। এ গুরুত্বপূর্ণ উক্তিটি বিবেকানন্দের ।
স্বামী বিবেকানন্দ ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন ।
মৃত্যুর সময় বিবেকানন্দের বয়স ছিল ৩৯ বছর ।
শ্রীমা ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন ।
শ্রীমা ফ্রান্সের প্যারিসে জন্মগ্রহণ করেন ।
শ্রীমার প্রকৃত নাম মীরা ।
শ্রীমার দীক্ষাগুরু ঋষি অরবিন্দ ।
শ্রীঅরবিন্দ শ্রীমাকে মীরা বলে ডাকতেন ।
শ্রীমা অর্গান বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারতেন ।
সাহিত্য প্রতিভা ও কবিশক্তির পরিচয় পাওয়া যায় শ্রীমার মধ্যে ।
শ্রীমা ইহলোক ত্যাগ করেন ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ।
ভগবান বিষ্ণু যখন বিভিন্ন রূপ ধরে পৃথিবীতে অবতরণ করেন তখন তাকে অবতার বলা হয়। অবতাররূপে এসে তিনি জগতের কল্যাণ সাধন করেন। কেননা, পৃথিবী সবসময় একরকম থাকে না। তিনি দুষ্টদের বিনাশ করে ধর্মসংস্থাপন করেন। জগতে আবার শান্তি ফিরে আসলে তিনি তার স্বধামে প্রত্যাবর্তন করেন।
ভগবান যখন পৃথিবীতে অবতরণ করেন তখন তাকে অবতার বলা হয়। অবতার দুই ধরনের। যথা- পূর্ণাবতার ও অংশাবতার। ভগবান যখন পূর্ণরূপে অবতরণ করেন তখন তাকে পূর্ণাবতার বলা হয়। যেমন- শ্রীকৃষ্ণ। আর' ভগবানের অপূর্ণাঙ্গের অবতারকে বলা হয় অংশাবতার। যেমন- মৎস্য, কূর্ম, বরাহ, নৃসিংহ ইত্যাদি।
ভগবান বিষ্ণু বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জীবের রূপ ধরে পৃথিবীতে অবতরণ করেন। তিনি যখন মানুষরূপে অবতীর্ণ হন, তখন মানুষের মতোই আচরণ করেন। মাতৃগর্ভে জন্মগ্রহণ করে মানুষের মতোই সুখ-দুঃখ ভোগ করেন। তবুও তাঁর মধ্যে কিছু স্বাতন্ত্র্য থাকে, যেহেতু তিনি ভগবান। ভগবান ও মানুষ কখনো এক হতে পারে না।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দুষ্টদের বিনাশ করে, ধর্ম স্থাপনের জন্য আবির্ভূত হয়েছিলেন। শ্রীকৃষ্ণ যখন আবির্ভূত হন তখন কংস, জরাসন্ধ, শিশুপাল, দুর্যোধন খুবই অত্যাচারী হয়ে উঠে। শ্রীকৃষ এদের বিনাশ করে শান্তি ও ধর্মের স্থাপনা করেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অবতীর্ণ হয়ে ন্যায়পরায়ণতার শিক্ষা দিয়েছেন। সৌম্য ও শান্তির শিক্ষা দিয়েছেন।
গীতায় ভগবান বলেছেন- হে অর্জুন, যখনই পৃথিবীতে ধর্মের গ্লানি হয় ও অধর্ম বেড়ে যায় তখনই আমি 'নিজেকে সৃজন করি। সাধুদের রক্ষার জন্য দুর্জনদের বিনাশের জন্য এবং ধর্ম সংস্থাপনের জন্য যুগে যুগে আমি আবির্ভূত হই। অর্থাৎ অবতাররূপে জন্মগ্রহণ করি।
অন্যায়-অবিচারের প্রতিবাদ করাকে দুষ্টের দমন এবং ন্যায়ের জন্য লড়াই করে সত্য প্রতিষ্ঠিত করাকেই শিষ্টের পালন বোঝায়। ঈশ্বর বা ভগবান মানবজাতির কল্যাণে বিভিন্নরূপে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করার জন্য অবতাররূপে এ পৃথিবীতে অবতীর্ণ হতেন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা করতেন।
ভগবান যখন পূর্ণরূপে অবতরণ করেন, তখন তাঁকে বলা হয় পূর্ণাবতার। ভগবানের সমস্ত। শক্তি ও গুণ পূর্ণাবতারের মধ্যে থাকে। শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন ভগবানের পূর্ণাবতার। কারণ ভগবানের সমস্ত ঐশ্বর্য তাঁর মধ্যে ছিল।
সুশ্রুত প্রাচীন ভারতের একজন মহান চিকিৎসক ছিলেন। তিনি বিশ্বামিত্র মুনির পুত্র। তিনি প্রধানত শল্যবিদ্যার চর্চা করতেন এবং তার রচিত গ্রন্থের নাম 'সুশ্রুতসংহিতা'। তিনি তার গ্রন্থে শল্যবিদ্যার ৩০০ প্রকার পদ্ধতি এবং ১২০টি অস্ত্রের বর্ণনা দিয়েছেন, যেগুলো আজও গুরুত্বপূর্ণ। সুশ্রুতকে 'ভারতীয় শল্যবিদ্যার জনক' বলা হয়।
সুশ্রুতসংহিতা চিকিৎসা সংক্রান্ত একখানা গ্রন্থ। এটি প্রধানত চারটি ভাগে বিভক্ত- সূত্রস্থান, শারীরস্থান, চিকিৎসিতস্থান এবং কল্পস্থান। এতে আয়ুর্বেদের উৎপত্তি, শল্যতন্ত্র, রসায়নতন্ত্র, পীড়া, ঔষধ, অস্থি, রোগের লক্ষণ, চিকিৎসা, পথ্যাপথ্য ইত্যাদি বিষয় বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে। বর্তমানকালেও চিকিৎসা জগতে এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
দেবরাজ ইন্দ্র একদিন মর্তবাসীকে ব্যাধিগ্রস্ত দেখে দেববৈদ্য ধন্বন্তরীকে সমগ্র আয়ুর্বেদ শিক্ষা দিয়ে পৃথিবীতে জন্ম নিতে বলেন। তখন তিনি কাশীরাজের পুত্ররূপে দিবোদাস নামে জন্মগ্রহণ করেন। সুশ্রুত তাঁর নিকট হতে আয়ুর্বেদ শিক্ষা গ্রহণ করেন ও সুশ্রুতসংহিতা রচনা করে মানবজাতির বিশেষ মঙ্গল সাধন করেন।
চরক ছিলেন প্রাচীন ভারতের একজন মহান চিকিৎসক। তাঁকে 'ভারতীয় চিকিৎসা শাস্ত্রের জনক' বলা হয়। ব্যাধিগ্রস্ত মানুষের দুঃখ-কষ্ট দূর করার জন্য খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০ অব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চররূপে পৃথিবীতে আবির্ভূত হন বলে তাঁর নাম হয় চরক। 'চরকসংহিতা' রচনা করে তিনি মানবজাতির বিশেষ কল্যাণসাধন করেছেন।
চরক শরীরের কার্যকারিতার জন্য তিনটি 'দোষ' বা উপাদানের কথা বলেছেন। সেগুলো হলো- বাত, পিত্ত ও কফ। এই তিনটির সামঞ্জস্য নষ্ট হলে শরীর অসুস্থ হয়। আর সামঞ্জস্য ফিরে এলে শরীর সুস্থ হয়। চরক এ-ও বলেছেন, রোগের চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধ বেশি জরুরি।
চরক তার চিকিৎসাবিদ্যা সংক্রান্ত যে গ্রন্থ রচনা করেন তার নাম 'চরকসংহিতা'। গ্রন্থটি আটটি ভাগে বিভক্ত- সূত্রস্থান, নিদানস্থান, বিমানস্থান, শারীরস্থান, ইন্দ্রিয়স্থান, চিকিৎসাস্থান, কল্পস্থান, ও সিদ্ধিস্থান। এখানে মানবদেহের পরিপাক, বিপাক ও রোগ-প্রতিরোধ, প্রজননবিদ্যা, লিঙ্গ নির্ধারণ অস্থি ও হৃৎপিন্ডের কথা রয়েছে। বর্তমানকালেও এ গ্রন্থের গুরুত্ব অনেক।
চরক ছিলেন প্রাচীন ভারতের একজন মহান চিকিৎসক। তিনি চিকিৎসাক্ষেত্রে প্রভূত উন্নয়ন সাধানের জন্য 'চরকসংহিতা' রচনা করেন। যেখানে মানবদেহের কার্যকারিতা, পরিপাক, বিপাক, রোগ প্রতিরোধ, প্রজননবিদ্যা, অস্থি, হৃদপিন্ডসহ সবকিছুর উল্লেখ করেন। চিকিৎসাশাস্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য চরককে 'ভারতীয চিকিৎসাশাস্ত্রের জনক' বলা হয়।
শঙ্করাচার্য ৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা শিবগুরু ও মাতা বিশিষ্টা দেবী। শঙ্করের ছিল অসাধারণ মেধা। মাত্র ৭ বছরের মধ্যে বেদ, বেদান্ত, স্মৃতি, পুরাণ প্রভৃতি শাস্ত্রে পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। পার্থিব বিষয়ের প্রতি তাঁর কোনো আসক্তি ছিল না। মাত্র ৩২ বছর বয়সে তিনি ইহলীলা সংবরণ করেন।
শঙ্করের পান্ডিত্যের কথা রাজা চন্দ্রশেখরের কানে গেলে তিনি বালক শঙ্করকে রাজসভায় ডেকে পাঠান কিন্তু শঙ্কর বিনয়ের সাথে বলেন, তিনি বিদ্যা নিয়ে ব্যবসা করতে চান না, তিনি কেবল লোকের মঙ্গলের জন্য বিদ্যা বিতরণ করবেন। বালক শঙ্করের তেজোদৃপ্ত কথা শুনে রাজা বিস্মিত হয় এবং নিজে দেখা করতে এসে তাঁর পাণ্ডিত্যের গভীরতা বুঝতে পেরে তাকে প্রণাম করেন ও সহস্র স্বর্ণমুদ্রা দান করেন।
অদ্বৈতবাদ হলো শ্রীশঙ্করাচার্য কর্তৃক প্রবর্তিত একটি মতবাদ। এ মতবাদের মূলকথা হলো- ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা। জীব ও ব্রহ্মে কোনো পার্থক্য নেই। পৃথিবীর সকল জীবের মধ্যে ব্রহ্ম অবস্থিত। জীবই ব্রহ্ম, জীবের সেবা করলেই ব্রহ্মের সেবা করা হবে। ফলে জীব হিংসা কমে যাবে।
শঙ্করাচার্য যখন জন্মগ্রহণ করেন তখন ভারতবের্ষর রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জীবন বিপর্যন্ত ছিল। জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মের নানা কু-সংস্কার ঢুকে পড়ে হিন্দুধর্ম ম্লান হয়ে পড়েছিল। সমাজে বেদের কর্মকান্ড ও যাগ-যজ্ঞের প্রাধান্য বেড়ে গিয়েছিল। তখন শঙ্করাচার্য "অদ্বৈতমত' প্রচার করে হিন্দুধর্মের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনেন।
শঙ্করাচার্যের পিতার নাম ছিল শিবগুরু এবং মাতার নাম বিশিষ্টা দেবী। পিতা শিবগুরু ছিলেন শাস্ত্রজ্ঞ ব্রাহ্মণ পণ্ডিত এবং শিবভক্ত। তিনি নিয়মিত শিবের পূজা দিতেন আর প্রার্থনা করতেন এক পুত্রসন্তানের জন্য"। শিবের কৃপায় অবশেষে তাঁদের আশা পূর্ণ হয় এবং এক পুত্রসন্তান তারা লাভ করেন। তারা মহাদেব শিবের কৃপায় পুত্রসন্তান লাভ করেন বিধায় তাঁদের পুত্রের নাম রাখেন শঙ্কর। কারণ শিবের আরেক নাম হলো শঙ্কর।
শঙ্করাচার্যকে যুগসন্ধিক্ষণের মহামানব বলা হয়। কারণ শঙ্করাচার্য যখন জন্মগ্রহণ করেন, তখন ভারতবর্ষের রাজনৈতিক জীবন যেমন বিপর্যস্ত ছিল, ধর্মীয় জীবনও তেমনি বিপর্যস্ত ছিল। জৈন ও বৌদ্ধধর্মের মধ্যে নানা কুসংস্কার ঢুকে পড়েছিল। হিন্দুধর্মও ম্লান হয়ে পড়েছিল। সমাজে বেদের কর্মকাণ্ড অর্থাৎ যাগযজ্ঞের প্রাধান্য বেড়ে গিয়েছিল। এসময় শঙ্করাচার্য তাঁর অদ্বৈতমত প্রচার করে হিন্দুধর্মের অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনেন।
শঙ্করাচার্য তার মতবাদ প্রচারের জন্য সারা ভারতবর্ষ ঘুরে বেড়ান এবং ভারতবর্ষের চার প্রান্তে ৪টি মঠ স্থাপন করেন। দ্বারকায় সারদা মঠ, পুরীতে গোবর্ধন মঠ, জ্যোতিধার্মে যোশী মঠ এবং রামেশ্বরে শৃঙ্গেরী মঠ। এছাড়াও তিনি যে ব্রহ্মসূত্রের ভাষ্য ও বেদান্তভাষ্য রচনা করেন হিন্দুধর্ম ও দর্শন চর্চার ক্ষেত্রে একটা বড় অবদান।
শঙ্করাচার্যের অদ্বৈতবাদের মূল কথা হলো 'ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা। জীব ও ব্রহ্মে কোনো পার্থক্য নেই।' একথা বলে তিনি মানুষের ভালোবাসাকে জাগিয়ে তোলেন। এর ফলে জীবহিংসা কমে যায়। জীবের মাধ্যমে ব্রহ্ম বা ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধাকে জাগিয়ে তোলেন।
নিত্যানন্দের প্রকৃত নাম ছিল কুবের। তাকে পাঠশালায় পাঠানো হলেও পড়াশোনায় তার একদম মন ছিল না। কিন্তু তিনি ছাত্র হিসেবে বেশ মেধাবী ছিলেন। খেলাধুলার পরিবর্তে মন্দিরে গিয়ে বসে থাকতে ও ধর্মকথা শুনতে বেশি ভালোবাসতেন। তাঁর ধর্মানুরাগের মূলে ছিলেন- শ্রীকৃষ্ণ। মাত্র ১২ বছর বয়সে কুবের গৃহত্যাগ করেন-বৃন্দাবনের উদ্দেশ্যে।
কুবেরের ধর্মানুরাগের মূলে ছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। কীভাবে শ্রীকৃষ্ণের দর্শন পাওয়া যাবে এই ছিল সারাক্ষণের ভাবনা। কুবের শুনেছেন বৃন্দাবন শ্রীকৃষ্ণের লীলাক্ষেত্র। একদিন এক সন্ন্যাসী তাঁদের বাড়ি আসলে জানতে পারেন তিনি বৃন্দারনে যাবেন। তাই কুবের ভাবলেন বৃন্দাবনে গেলে হয়তো প্রাণের ঠাকুর কৃষ্ণকে পাওয়া যাবে। এজন্য তিনি বৃন্দাবনে যেতে চেয়েছিলেন।
কুবের সর্বদা কৃষ্ণচিন্তায় বিভোর থাকতেন। তিনি কেবল কৃষ্ণদর্শনের জন্য ব্যাকুল তিনি। হঠাৎ একদিন কৃষ্ণকে তিনি স্বপ্নে দেখেন এবং কৃষ্ণ তাকে বললেন, গৌড় দেশে নবদ্বীপে যেতে এবং গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর সাথে যোগ দিতে। নবদ্বীপে এসে গৌরাঙ্গের দর্শনে তাঁরা তাঁদের জীবোম্বারহেতু আবির্ভাবের উদ্দেশ্য বুঝতে পারেন। তখনই কুবেরের নাম হয় নিত্যানন্দ।
গৌর নিতাই নবদ্বীপে নেচে গেয়ে আচন্ডালে হরিনাম প্রেম বিতরণ করছিলেন। তাদের প্রেমধর্মে কোনো জাতিভেদ নেই। উঁচু-নীচু নেই। সমাজের শুষ্ক ধর্মাচারণ উপেক্ষা করে প্রেমভক্তি দিয়ে সকলকে বুকে টেনে নিলেন এবং হরিনামের দ্বারা উদ্ধার করতে লাগলেন ফলে দলে দলে লোক তাঁদের অনুসারী হতে শুরু করলো।
জগাই-মাধাই দুই ভাই। তারা নবদ্বীপে নগর কোতোয়ালের কাজ করতেন। লোকে তাদের বলত জগাই-মাধাই। তারা ছিল মদ্যপ এবং ভয়ঙ্কর প্রকৃতির। যখন যা খুশি তাই করত। কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস করত না। সব সময় মদ খেয়ে মাতাল হয়ে রাস্তাঘাটে পড়ে থাকত। পথচারীদের নানাভাবে উত্ত্যক্ত করত। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে মারত। কিন্তু নিত্যানন্দের সহচার্যে তারা তাদের ভুল বুঝতে পারে এবং ভালো পথে ফিরে আসে।
জগাই-মাধাই হরিনাম শুনতে পারতেন না। একদিন নিত্যানন্দের মুখে কৃষ্ণনাম শুনলে ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে মাধাই নিত্যানন্দের মাথায় আঘাত করে। গৌরাঙ্গ তাঁদের শাস্তি দিতে চাইলেও নিত্যানন্দ প্রভু এতে বাঁধা দেন এবং ক্ষমা করে দিয়ে বুকে টেনে নেন। এভাবে প্রেমভক্তি দিয়ে গৌর নিতাই জগাই-মাধাইকে পাপময় জীবন হতে উদ্ধার করেন।
শ্রীগৌরাঙ্গ সন্ন্যাস নিয়ে নীলাচলে গেলেও নিত্যানন্দকে গৌড়ে ফিরে সংসারী হতে বলেন। কেননা, গৌড়ে তখন একদিকে চলছে শক্তি ও তন্ত্রসাধনা, অন্যদিকে চলছে নব্যন্যায়ের যুক্তিসর্বষ জ্ঞানতত্ত্বচর্চা। ধর্মাপিপাসু সাধারণ মানুষ কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছে না। তাই সেখানে গিয়ে সংসারী হয়ে বিদ্বান মূর্খ, আচণ্ডালে সকলকে হরিভক্তি ও প্রেমধর্ম বিতরণের জন্য বলেন নিত্যানন্দ প্রভুকে।
ভারতের রাজস্থানের কুড়কি গ্রামে ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দে মীরাবাঈ জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা রত্নসিংহ ও মাতা বীর কুঁয়রী। মাত্র ৮ বছর বয়সে মীরা মাকে হারান। ছোটবেলা থেকেই ধর্মজীবনের প্রতি অনুরাগ ছিল তাঁর। বালিকা বয়সেই ভক্তিরসাত্মক ভজন রচনায় অসামান্য প্রতিভা রাখেন। পার্থিব জগতের কোনো কিছুর প্রতিই তার আসক্তি ছিল না। সর্বদা গিরিধারীলালের সাধন ভজনেই নিবিষ্ট থাকতেন মীরাবাঈ।
ভোজরাজ স্ত্রী মীরার প্রতি ছিলেন উদার ও সহনশীল। তিনি স্ত্রীর মনের কথা বুঝতে পারতেন। শ্রীকৃষ্ণ গোপালের প্রতি অসীম ভালোবাসা লক্ষ করে মীরার জন্য কৃষ্ণ মন্দির নির্মাণ করে সেখানে কৃষ্ণের বিগ্রহ স্থাপন করে দেন। এতে মীরা খুব খুশি হয় এবং স্বামীর প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা বেড়ে যায়। ভোজরাজও স্ত্রীর সাধন-ভজনে সার্বিক সহায়তা করতে থাকেন।
ছোটবেলা থেকেই মীরা ধর্মের প্রতি অনুরাগ ছিল। সংসারের অতুল ঐশ্বর্যের প্রতি তার কোনো আগ্রহ নেই। সময় কাটে তার । কৃষ্ণভজনে। দিন-রাত সবসময়ই তিনি ভজন-পূজনে ব্যস্ত থাকেন এবং ক্রমশই মীরার মধ্যে কৃষ্ণপ্রেমের ব্যাকুলতা বৃদ্ধি পায়, যেন গিরিধারী গোপাল ছাড়া আর কেউ নেই। একারণেই রাজবধূর বেশে মীরাকে। তপম্বিনী বলা হয়েছে।
ছোটবেলা থেকেই মীরা ধর্মানুরাগী ছিলেন এবং তিনি মন্দিরে। ভাবতন্ময় হয়ে শান্তালোচনা শুনতেন। একবার এক সাধু মীরাকে একটি গিরিধারী গোপালের বিগ্রহ দিলেন। সেটি প্রাসাদে নিয়ে নিত্য সেবা পূজা করতেন। এর ফলে সেই ছোটবেলা থেকেইষ্ঠ যেটি প্রতি মীরার গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সৃষ্টি হয়।
মীরার রচিত ভজন-সংগীত, কৃষ্ণপ্রেমের গান, কৃষ্ণের উপাসনা ভগবৎ সাধনার ক্ষেত্রে এক নতুন পথ প্রদর্শন করে। এই সংগীত ধারা হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতির সৃষ্টি করে। এই সম্প্রীতি যে মিলন ধারায় প্রকাশ লাভ করে, তাকে বলা হয় 'ভক্তিবাদ'। এখানে সকল শ্রেণির মানুষকে সমান দেখা হয়।
মীরাবাঈয়ের জীবনী হতে আমরা এই শিক্ষা পাই যে, যাঁরা প্রকৃত সাধক তাঁরা জাগতিক সবকিছুর উর্ধ্বে উঠে যান। দৈহিক রূপ-লাবণ্য, পার্থিব বিষয়-আশায়, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য তাঁদের চিত্তকে আকর্ষণ করে না। সবকিছু ছেড়ে তারা কাম্যবস্তুকে লাভ করার জন্য একাগ্রচিত্তে সাধনা করেন এবং সফল হন।
শ্রীরামকৃষ্ণ পশ্চিমবঙ্গের যুগলিতে ১৮৩৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায় ও মাতা চন্দ্রমণি দেবী। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন প্রকৃতিপ্রেমী। তার স্মৃতিশক্তি ছিল অত্যন্ত প্রখর। শুনে শুনেই তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রে পরদর্শী হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে রামকৃষ্ণ কালীর সাধক রূপে বিখ্যাত হন। ১৮৮৬ সালে তিনি পরলোকগমন করেন।
শ্রীরামকৃষ্ণের সাধু-বৈষ্ণবদের প্রতি ভীষণ কৌতূহল ছিল ছোটবেলা থেকেই। একদিন বড় ভাই রামকুমারের সাথে দক্ষিণেশ্বর আসেন এবং মা-কালীর বিগ্রহ ও পূজা-অর্চনা দেখে আনন্দিত হয়। হঠাৎ রামকুমারের মৃত্যু হলে মায়ের পূজার ভার পড়ে গদাধরের ওপর। কালক্রমে এখানেই তাঁর সাধনার শুরু হয় ও সিদ্ধিলাভ ঘটে কালী সধানায়।
ধর্মীয় মত ও পথ ভিন্ন হলেও সকল মানুষের উদ্দেশ্য ও গন্তব্য এক-ঈশ্বর লাভ। শ্রীরামকৃষ্ণ এই গভীর সত্যটি উপলব্ধি করেছিলেন। ধর্মসমূহের পথ ভিন্ন হলেও সকলের জীবনের উদ্দেশ্য হচ্ছে ঈশ্বরকে উপলব্ধি করা এবং এক ও অভিন্ন ঈশ্বরের নৈকট্য লাভ করা। একারণেই তিনি বলেছেন, 'সকল ধর্মই সত্য, যত মত তত পথ।'
শ্রীরামকৃষ্ণ ছিলেন লোকগুরু। ধর্মের জটিল তত্ত্ব তিনি গল্পের মাধ্যমে সহজ করে বোঝাতেন। ঈশ্বর রয়েছেন সকল জীবের মধ্যে, তাই জীবসেবাই ঈশ্বরসেবা- এই ছিল তার দর্শন। ধর্মীয় সম্প্রীতিতে তিনি গভীর বিশ্বাসী ছিলেন, মেয়ে-পুরুষ, ধনী-নির্ধনী, ব্রাহ্মণ-চন্ডাল সকল ভেদ দূর করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
শ্রীরামকৃষ্ণ নারীকে মাতৃরূপে দর্শন করতেন এবং তিনি সকল নারীর মধ্যে জগন্মাতাকে দর্শন করতেন। নারী মাত্রই তার কাছে ব্রহ্মম্বরূপিণী মাতৃস্বরূপা। তাইতো তিনি নিজের স্ত্রীকেও মাতৃজ্ঞানে পূজা করতে পেরেছিলেন। জগতে এমন ঘটনা আর দ্বিতীয়টি নেই।
শ্রীরামকৃষ্ণ জগতের মানুষের জন্য কতকগুলো উপদেশ দিয়ে গেছেন। তার মধ্যে দুটি হলো-
১. পিতাকে ভক্তি কর, প্রীতি কর। জগৎ রূপে যিনি সর্বব্যাপী হয়ে আছেন; তিনিই মা। জননী, জন্মস্থান, বাপ-মাকে ফাঁকি দিয়ে যে ধর্ম করবে, তার ধর্ম ছাই হয়ে যাবে।
২. আন্তরিক হলে সব ধর্মের মধ্য দিয়ে ঈশ্বরকে পাওয়া যায়। 'যত মত তত পথ।'
শ্রীরামকৃষ্ণের জীবনী থেকে আমরা ঈশ্বরজ্ঞানে জীবসেবার শিক্ষা পাই। পিতা-মাতা এবং জন্মভূমিকে শ্রদ্ধা করার শিক্ষা পাই। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার শিক্ষা পাই। সকল ধর্মেরই যে এক উদ্দেশ্য ঈশ্বর লাভ তা জানতে পারি। সকল ভেদাভেদ দূর করে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার শিক্ষা পাই।
'হিতসঞ্চারিণী' একটি সভার নাম। বিজয়কৃষ্ণ মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে এই 'হিতসঞ্চারিণী' সভা। স্থাপন করেন। সভার সিদ্ধান্ত ছিল যিনি যা সত্য বলে বুঝবেন, তিনি তা প্রাণপণে কার্যে পরিণত করবেন এবং এই সভায় তাঁরা পৈতা জাতিভেদের চিহ্ন মনে করায় সবাই পৈতা ফেলে দেন।
বিজয়কৃষ্ণ মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় বন্ধুদের নিয়ে 'হিতসঞ্চারিণী' নামে এক সভা স্থাপন করেন। এই সময় ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে বিজয়কৃষ্ণের যোগাযোগ ঘটে। মহর্ষি দেবন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কেশবচন্দ্রের বক্তৃতা শুনে তাঁর মনে পরিবর্তন আসে। তিনি ব্রাহ্মধর্মের প্রতি অনুরক্ত হন এবং তখনই ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করেন।
পৈতা জাতিভেদের চিহ্ন'- এই সিদ্ধান্ত 'হিতসঞ্চারিণী' নামক সভায় নেওয়া হয়। এই সভার সিদ্ধান্ত ছিল যিনি যা সত্য বলে মনে করবেন তা প্রাণপণে কার্যে পরিণত করবেন। তখন বিজয়কৃষ্ণ এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেন- 'পৈতা জাতিভেদের চিহ্ন'। তাই আমাদের পৈতা ত্যাগ করা উচিত। এ কথা শুনে যারা ব্রাহ্মণ ছিলেন তারা পৈতা ফেলে দেন।
বিজয়কৃষ্ণের চারটি উপদেশ হলো-
১. সর্বদা নিষ্ঠা সহকারে ভগবানের নাম করবে।
২. সত্যকথা বলবে ও সর্বদা ব্রহ্মচর্য রক্ষা করবে।
৩. কখনো পরনিন্দা করবে না।
৪. সর্বজীবে দয়া করবে।
১৩০৪ সালে বিজয়কৃষ্ণ শ্রীক্ষেত্র পুরীতে চলে আসেন এবং সেখানে অতি অল্প সময়েই পরিচিত হয়ে ওঠেন। উড়িষ্যা প্রদেশেও তাঁর প্রভাব ব্যাপ্ত হয়। তখন ঈর্ষান্বিত হয়ে স্থানীয় ধর্মব্যবসায়ীরা তাঁকে বিষমিশ্রিত লাড্ডু খেতে দেয়। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ১৩০৬ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
নরেন্দ্রনাথ বা বিবেকানন্দের মনে কেবল ঈশ্বর সম্পর্কে চিন্তা। ঈশ্বর কি আছেন, তাঁকে কি দেখা যায়? অনেককে প্রশ্ন করেও মনঃপূত উত্তর পায়নি। পরে রামকৃষ্ণের সাথে দেখা হলে একই প্রশ্ন করেন এবং সাদাসিধে রামকৃষ্ণের উত্তর ভালো লাগে এবং তখনই রামকৃষ্ণের প্রতি ভক্তিভাব জেগে ওঠে ও তাঁর নিকট ত্যাগের মন্ত্রে দীক্ষা নেন।
বিবেকানন্দ তার বক্তৃতায় বলেন- হিন্দুধর্ম পৃথিবীর সকল ধর্মকে সত্য মনে করে। সর্ব ধর্মেরই লক্ষ্য এক-ঈশ্বর লাভ। তাই বিবাদ নয়, সহায়তা; বিনাশ নয়, পরস্পরের ভাবগ্রহণ; মতবিরোধ নয়; সমন্বয় ও শান্তি; প্রত্যেক ধর্মই অন্য ধর্মের সারভাগগুলো গ্রহণ করে পুষ্ঠিলাভ করবে এবং নিজস্ব বিশেষত্ব বজায় রেখে বিকাশ লাভকরবে।
বেদান্তের মূলকথা হলে- জীব ও ব্রহ্মে কোনো পার্থক্য নেই; জীবই ব্রহ্ম। বিবেকানন্দ বেদান্ত দর্শনের প্রকৃত সত্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমাদের ব্রহ্মজ্ঞানে জীবসেবা করতে হবে। যেহেতু ঈশ্বর আত্মারূপে সকলের মধ্যে বিরাজমান, তাই জীবের সেবা করলে তা ঈশ্বরেরই সেবা করা হবে।
বিবেকানন্দ বলেছেন- সত্যই সকল ধর্মের ভিত্তি। সৎ হওয়া আর সৎ কর্ম করা ধর্মের অঙ্গ। তিনি অথর্ববেদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, 'অসত্য নয়, সত্যেরই জয় হয়; একমাত্র সত্যের মধ্য দিয়েই ঈশ্বর লাভের পথ প্রসারিত হয়। নিজের ক্ষুদ্র আমিত্বকে ত্যাগ করে পবিত্র ও সাহসী হলে সবকিছু পার করা সম্ভব।
বিবেকানন্দ নারীদের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ছিলেন এবং নারী শিক্ষাকে তিনি সর্বান্তঃকরণে সমর্থন করেছেন। তার মতে যে জাতি নারীদের সম্মান দেয় না, সে জাতি কখনো বড় হতে পারে না। "কোনো পাখি যেমন একটি ডানা দিয়ে উড়তে পারে না, তেমনি নারীদের অবস্থার উন্নতি না করেও জগতের মঙ্গল সাধন সম্ভব নয়।'
শিকাগো বিশ্বধর্ম সম্মেলনে স্বামী বিবেকানন্দ বলেন, "হিন্দুধর্ম পৃথিবীর সকল ধর্মকে সমান সত্য মনে করে। সব ধর্মেরই লক্ষ এক। নদীসমূহ যেমন এক সাগরে গিয়ে মিলিত হয়, তেমনি সকল ধর্মেরই লক্ষ্য এক-ঈশ্বর লাভ। তাই বিবাদ নয়, সহায়তা; বিনাশ নয়, পরস্পরের ভাবগ্রহণ; মতবিরোধ নয়, সমন্বয় ও শান্তি।"
যত্র জীবঃ তত্র শিবঃ অর্থাৎ যেখানে জীব সেখানেই শিব। এখানে শিব বলতে ঈশ্বরকে বোঝানো হয়েছে। জীবের সেবা করা হিন্দু ধর্মের অন্যতম প্রধান অঙ্গ হিসেবে বিবেচিত। ঈশ্বর জীবাত্মারূপে জীবের মধ্যে অবস্থান করেন। জীবকে সেবা করলে ঈশ্বরকে সেবা করা হয়।
স্বামীজী বুঝতে পেরেছিলেন- খালি পেটে ধর্ম হয় না। আগে দরিদ্রের মুখে অন্ন জোগাতে হবে, তারপর ধর্ম। যারা অনাহারে দিন কাটাচ্ছে তাদের আমরা ধর্মোপদেশ শুনিয়ে যাচ্ছি, এতে কি তাদের পেট ভরবে? তাই সবকিছুরই প্রথম অংশ পাবে আগে দরিদ্ররা। আমাদের অধিকাংশ শুধু অবশিষ্টাংশে।
বিবেকানন্দ একজন আদর্শ মহামানব ছিলেন। তিনি দেশকে তাঁর প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন, তাই সর্বদা দেশের মানুষের কল্যাণের কথা ভাবতেন। দেশের আসল রূপ তাঁর চোখের সামনে ভেসে উঠল; যেখানে অন্ন নেই, বস্ত্র নেই, শিক্ষা নেই, দেশের মানুষ নৈতিক বল হারিয়ে কুসংস্কারে ডুবে আছে। তাদের এ অবস্থা তাঁর মনকে ব্যথিত করে তুলল। তাই তিনি স্থির করলেন পাশ্চাত্য দেশে গিয়ে অর্থ উপার্জন করে দেশবাসীর সেবায় তা ব্যয় করবেন।
বিবেকানন্দ তাঁর গুরুদেবের মতাদর্শ প্রচারের জন্য ১৮৯৭সালে রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করে। পরের বছর হাওড়া জেলার বেলুড়ে গঙ্গার তীরে একটি মঠ প্রতিষ্ঠা করে যা বেলুড় মঠ নামে পরিচিত। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যেসব মঠ ও মিশনের শাখা রয়েছে, এসবের প্রধান কেন্দ্র হলো এই বেলুড় মঠ।
বিবেকানন্দের ৩টি বাণী হলো-
১. ধর্ম এমন একটি ভাব যা পশুকে মানুষে এবং মানুষকে দেবত্বে উন্নত করে।
২. অপরকে ভালোবাসাই ধর্ম, অপরকে ঘৃণা পাপ।
৩. জীবসেবার চেয়ে বড় ধর্ম নেই। ‘জীবে প্রেম করে যেই জন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর।’
বিবেকানন্দের জীবনী থেকে আমরা শিক্ষা পাই পৃথিবীর সকল মানুষ এক জাতি। ধর্ম তাদের পৃথক হতে পারে। সত্যই ধর্ম। জীবসেবা মানেই ঈশ্বরের সেবা। জগতের সকল ভেদাভেদ দূর করতে হবে। প্রকৃত শিক্ষা ব্যতীত জাগতিক বা পারমার্থিক উন্নতি লাভ সম্ভব নয়। আত্মবিশ্বাস ও ঈশ্বরে বিশ্বাস রাখতে হবে।
শৈশবকাল থেকেই শ্রীমার মধ্যে ভক্তিভাব জেগে ওঠে। মাত্র চার বছর বয়সেই মাঝে মাঝে তিনি ধ্যানমগ্ন হয়ে পড়তেন। শুধু পড়াশোনা নয়, পার্থিব কোনো বিষয়ের প্রতি তার আগ্রহ ছিল না। তিনি শুধুমাত্র ঈশ্বর চিন্তা করতেন এবং সবসময় আধ্যাত্মিক চিন্তাভাবনায় মগ্ন থাকতেন।
ছোটবেলা থেকেই শ্রীমার মধ্যে আধ্যাত্মিক ভাব জেগে ওঠে। প্যারিস শহরের বাইরে ছিল প্রকাণ্ড এক বন। সময় পেলেই সেখানে গিয়ে ধ্যান করতেন। তখন পাখিরা নির্ভয়ে তাঁর শরীরে বসত। কাঠবিড়ালী ছুটোছুটি করত গা দিয়ে। এভাবে বনের গাছপালা ও পশুপাখির সাথে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
খাদ্য, কৃষি, শিল্প, গো-পালন প্রভৃতি বিভাগ খুলে শ্রীমা অরবিন্দ আশ্রমকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেন। শরীর সুস্থ রাখার জন্য ব্যায়ামাগার গড়ে তোলেন। শিক্ষার জন্য পাঠাশালা খোলেন, ক্রমে তা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়। চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, বাগান ও দুগ্ধ খামার করে সত্যিকার অর্থেই আশ্রমকে পূর্ণ করেছিলেন।
শ্রীমার পরিকল্পনা ছিল অরোভিল হবে একটি আধুনিক নগর। এখানে প্রায় পঞ্চাশ হাজার লোক বাস করবে। সবাই হবে এক পরিবারের সদস্য। আধুনিক নগরের সমস্ত সুবিধা থাকবে এখানে। জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্পকল্পা-দর্শন, আধ্যাত্মিক চেতনা সবকিছু চর্চা হবে এখানে। আন্তর্জাতিক মানব ঐক্যের জীবন্ত ল্যাবরেটরি হবে এই অরোভিল নগর।
শ্রীমা স্বপ্নে দেখে ঈশ্বররূপী জ্যোতির্ময় পুরুষকে খুঁজতে খুঁজতে পন্ডিচেরীর অরবিন্দ আশ্রমে উপস্থিত হন। সেখানে ঋষি অরবিন্দকে দেখে তার স্বপ্নে দেখা জ্যোতির্ময় পুরুষের কথা মনে পড়ে যায়। তিনি মনে করেন একটি বিশেষ বিদ্যকর্ম করার জন্য পৃথিবীতে এসেছেন এবং মহাযোগী শ্রী অরবিন্দের সহযোগিতা ছাড়া তা সম্ভব নয়। তিনি উপলব্ধি করলেন, অরবিন্দের সঙ্গে মিলিত হওয়ার মধ্যেই আছে তার আত্মার মুক্তি। আর তাই সারা পৃথিবীর মধ্যে পন্ডিচেরীর আশ্রমকে স্বর্গ বলে মনে হয়।
শ্রীমা আশ্রমের সকলকে মা-সন্তানের ন্যায় ভালোবাসতেন। নিজের মায়ের মতো সকলের সুখ-সুবিধার প্রতি দৃষ্টি রাখতেন। শুধু তা-ই নয় আশ্রমের বৃক্ষ-লতা, পশু-পাখির প্রতিও গভীর ভালোবাসা ছিল তাঁর। শ্রীমা সবসময় কাজ করতে ভালোবাসতেন এবং আজীবন তিনি কামনাহীন কর্মযজ্ঞ করে গেছেন। সেবা করে গেছেন সকলের ।
ভগবান যখন পূর্ণরূপে অবতরণ করেন, তখন তাকে বলা হয় পূর্ণাবতার। শ্রীকৃষ্ণ ভগবানের পূর্ণাবতার।
অবতার দুই ধরনের-পূর্ণাবতার ও অংশাবতার।
যে অবতারের মধ্যে ভগবানের সমস্ত শক্তি ও গুণ থাকে না, তাকে অংশাবতার বলে।
কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনে স্বেচ্ছায় নিরাকার ঈশ্বরের জীব বা সাকাররূপে পৃথিবীতে আবির্ভূত হওয়াকে অবতার বলে।
কংস ছিলেন ভোজ রাজবংশের রাজা।
শ্রীকৃষ্ণ হলেন ভগবানের পূর্ণাবতার। কারণ ভগবানের সমস্ত ঐশ্বর্য তাঁর মধ্যে ছিল।
অবতার বিভিন্ন সময়ে আবির্ভূত হয়ে জগতের কল্যাণ সাধন করেন
বিশ্বামিত্রের পুত্রের নাম সুশ্রুত।
সুশ্রুতসংহিতা প্রধানত চারটি ভাগে বিভক্ত।
সুশ্রুত প্রাচীন ভারতের একজন মহান চিকিৎসক ছিলেন।
সুশ্রুত-এর পিতার নাম বিশ্বামিত্র মুনি।
বিশ্বামিত্র মুনি পুত্র সুশ্রুতকে আয়ুর্বেদ শিক্ষার জন্য দিবোদাসের নিকট পাঠান
সুশ্রুত রচিত গ্রন্থের নাম 'সুশ্রুত' বা 'সুশ্রুতসংহিতা'।
সুশ্রুত বর্তমান বারাণসী নগরে গঙ্গার তীরে বাস করতেন এবং চিকিৎসাবিদ্যা চর্চা করতেন।
সুশ্রুত প্রধানত শল্যবিদ্যার চর্চা করতেন।
সুশ্রুত ভারতীয় শল্যবিদ্যার জনক।
চরক শরীরের কার্যকারিতার জন্য ৩টি উপাদানের কথা বলেছেন।
চরক প্রাচীন ভারতের একজন মহান চিকিৎসক ছিলেন।
ভারতীয় চিকিৎসাশাস্ত্রের জনক হলেন চরক।
মুনিপুত্র চররূপে পৃথিবীতে আবির্ভূত হওয়ায় তাঁর নাম চরক হয়।
আধুনিক গবেষকদের মতে চরক. খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০ অব্দে আবির্ভূত হন।
চরক রচিত গ্রন্থের নাম 'চরকসংহিতা'।
চরক হৃৎপিন্ডকে দেহের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র বলেছেন।
সুশ্রুতসংহিতা এবং চরকসংহিতা ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে আব্বাসীয় খিলাফত আমলে আরবি ভাষায় অনূদিত হয়।
শ্রীশঙ্করাচার্য কালাড়ি নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
শ্রীশঙ্করাচার্যের ধর্মের মূলকথা হচ্ছে 'অদ্বৈতবাদ ।
'অদৈতবাদ' হচ্ছে 'ব্রহ্ম সত্য জগৎ মিথ্যা/জীব ও ব্রহ্মে কোনো পার্থক্য নেই।'
দাক্ষিণাত্যের কেরল রাজ্যে কালাড়ি গ্রাম অবস্থিত।
শ্রীশঙ্করাচার্যের পিতার নাম শিবগুরু এবং মাতার নাম বিশিষ্টা দেবী।
শিবগুরু একজন শাস্ত্রজ্ঞ ব্রাহ্মণ এবং শিবভক্ত ছিলেন।
শিবগুরু একজন শাস্ত্রজ্ঞ ব্রাহ্মণ এবং শিবভক্ত ছিলেন।
শিষ্যদের কাছে শঙ্করাচার্য 'আচার্য' নামে খ্যাত।
শ্রীশঙ্করাচার্য প্রচারিত ধর্মের মূলকথা 'অদ্বৈতবাদ'।
শঙ্করাচার্য মাত্র ৩২ বছর বয়সে উত্তরাখন্ডের কেদারনাথে ইহলীলা সংবরণ করেন।
নিমাই পন্ডিতের অপর নাম শ্রীচৈতন্য বা শ্রীগৌরাঙ্গ।
নিমাই পন্ডিতই শ্রীগৌরাঙ্গ বা শ্রীচৈতন্য নামে পরিচিত।
প্রভু নিত্যানন্দ ১৪৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার একচক্রা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
প্রভু নিত্যানন্দের পিতার নাম হাড়াই পন্ডিত এবং মাতার নাম পদ্মাবতী।
প্রভু নিত্যানন্দের প্রকৃত নাম কুবের।
প্রভু নিত্যানন্দের ধর্মানুরাগের মূলে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ছিলেন।
শ্রীকৃষ্ণের লীলাক্ষেত্র বৃন্দাবন।
পরম সন্ন্যাসী শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী প্রভু নিত্যানন্দের দীক্ষাগুরু।
গৌরাঙ্গের সংক্ষিপ্ত নাম গৌর।
নিত্যানন্দের সংক্ষিপ্ত নাম নিতাই।
গৌর-নিতাই নবদ্বীপে প্রেমভক্তি প্রচার করেন।
গৌর-নিতাই প্রেমভক্তি দিয়ে জগাই-মাধাইকে উদ্ধার করেন।
শ্রীগৌরাঙ্গ সন্ন্যাস নিয়ে নীলাচলে গেলেন।
১৫৪২ খ্রিস্টাব্দে প্রভু নিত্যানন্দ ইহলীলা সংবরণ করেন।
দুধাজী ছিলেন মেড়তার অধিপতি এবং সাধক মীরাবাঈ-এর পিতামহ।
মিরার বিবাহ হয় ১৫১৬ খ্রিস্টাব্দে।
ভারতের রাজস্থানে কুড়কি গ্রামে ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দে রাঠোর বংশে মীরাবাঈ জন্মগ্রহণ করেন।
মীরাবাঈয়ের পিতার নাম রত্নসিংহ।
রত্নসিংহ মেড়তার অধিপতি রাও দুধাজীর পুত্র ছিলেন।
মীরাবাঈয়ের মা কুঁয়রী ঝালাবংশীয় রাজপুত্র শূরতান সিংহের কন্যা ছিলেন।
রত্নসিংহ কুড়কি অঞ্চলে বারো খানা গ্রামের জায়গির পেয়ে সেখানে ঘর নির্মাণ করে বাস করতেন।
চিতোরের রাণা সংগ্রামসিংহের পুত্র ভোজরাজ মীরাবাঈয়ের স্বামী।
মীরাবাঈয়ের জীবনে একমাত্র কাম্যবস্তু হলো কৃষ্ণপ্রেম আর গিরিধারীলালের সাক্ষাৎ লাভ।
১৫২৮ খ্রিষ্টাব্দে মীরাবাঈয়ের স্বামী ভোজরাজ মারা যান।
মীরাবাঈয়ের জীবনী থেকে আমরা শিক্ষা পাই, যাঁরা প্রকৃত সাধক তাঁরা জাগতিক সবকিছুর ঊর্ধ্বে ওঠে যান।
যত মত তত পথ কথাটি বলেছেন ঠাকুর শ্রীরাকৃষ্ণ।
১৮৬১ সালে সিদ্ধা ভৈরবী যোগেশ্বরী দক্ষিণেশ্বরে আসেন।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার কামারপুকুর গ্রামে ১৮৩৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ ফেব্রুয়ারি শ্রীরামকৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেন।
শ্রীরামকৃষ্ণের পিতার নাম ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায় এবং মাতার নাম চন্দ্রমণি দেবী।
শ্রীরামকৃষ্ণের বাল্য নাম গদাধর।
গদাধর শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস নামে জগদ্বিখ্যাত হন।
শ্রীরামকৃষ্ণের স্ত্রীর নাম সারদাদেবী।
শ্রীরামকৃষ্ণের গুরু সিদ্ধা ভৈরবী যোগেশ্বরী।
ভৈরবী গদাধরকে অসামান্য যোগী এবং অবতার পুরুষ বলে আখ্যায়িত করেন।
সন্ন্যাসী তোতাপুরী গদাধরকে সন্ন্যাসমন্ত্রে দীক্ষিত করেন।
সন্ন্যাস মন্ত্রে দীক্ষিত হওয়ার পর গদাধরের নাম শ্রীরামকৃষ্ণ রাখা হয়।
শ্রীরামকৃষ্ণের শ্রেষ্ঠ শিষ্য হলেন স্বামী বিবেকানন্দ।
স্বামী বিবেকানন্দের পূর্ব নাম নরেন্দ্রনাথ দত্ত।
শ্রীরামকৃষ্ণ মা কালীর সাধনা করতেন।
শ্রীরামকৃষ্ণ নারীকে মাতৃরূপে দেখতেন।
শ্রীরামকৃষ্ণ ১৮৮৬ খ্রিষ্টাব্দে ১৫ আগস্ট পরলোক গমন করেন।
বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর পিতার নাম আনন্দকিশোর গোস্বামী।
শ্রীবিজয়কৃষ্ণ বাংলা ১২৪৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
১৩০৬ সালে বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী ইহলোক ত্যাগ করেন।
শ্রীবিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী নবদ্বীপের শান্তিপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
শ্রীবিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর পিতার নাম আনন্দকিশোর গোস্বামী এবং মাতার নাম স্বর্ণময়ী দেবী।
শ্রীবিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর স্ত্রী যোগমায়া শিকারপুরের রামচন্দ্র ভাদুড়ীর কন্যা ছিলেন।
শ্রীবিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী 'হিতসঞ্চারিণী' নামে এক সভা স্থাপন করেন।
শ্রীবিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী পৈতা ত্যাগ করার এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেন।
শ্রীবিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী ব্রাহ্মধর্মের প্রতি অনুরক্ত হয়ে ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করেন।
শ্রীবিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর দীক্ষাগুরু হলেন যোগী ব্রহ্মানন্দ স্বামী।
শ্রীবিজয়কৃষ্ণ দীক্ষা নিয়ে পুনরায় হিন্দু যোগীতে পরিণত হয়ে ব্রাহ্মধর্ম ছেড়ে দেন।
বিবেকানন্দের প্রকৃত নাম নরেন্দ্রনাথ দত্ত।
স্বামী বিবেকানন্দ শ্রীরামকৃষ্ণের নিকট ত্যাগের মন্ত্রে দীক্ষিত হন।
মহাবীর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উপাধি ছিল।
স্বামী বিবেকানন্দ বেদান্ত সমিতি নামে সংগঠনটি নিউইয়র্কে স্থাপন করেন।
স্বামী বিবেকানন্দ ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকা যান।
স্বামী বিবেকানন্দ ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দের ১২ জানুয়ারি কোলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন ।
স্বামী বিবেকানন্দের পিতার নাম বিশ্বনাথ দত্ত এবং মাতার নাম ভুবনেশ্বরী দেবী।
বিশ্বনাথ দত্ত কোলকাতা হাইকোর্টের নামকরা উকিল ছিলেন।
ঈশ্বরের সম্পর্কে নরেন্দ্রনাথ দত্তের প্রশ্ন ঈশ্বর কী আছেন? তাকে কী দেখা যায়?
নরেন্দ্রনাথ দত্ত শ্রীরামকৃষ্ণকে সরাসরি জিজ্ঞেস করেন, "আপনি কী ঈশ্বর দেখেছেন?"
নরেন্দ্রনাথ দত্তের দীক্ষাগুরু হলেন শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস দেব।
শ্রীরামকৃষ্ণের নিকট ত্যাগের মন্ত্রে দীক্ষা নেওয়ার পর - নরেন্দ্রনাথ গৃহত্যাগী সন্ন্যাসী হন। তখন তার নাম বিবেকানন্দ হয়।
ভক্তরা বিবেকানন্দকে স্বামী বিবেকানন্দ বা শুধু স্বামীজী বলে ডাকতেন।
বিবেকানন্দ শিকাগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্বধর্ম সম্মেলনে বক্তৃতা দেন।
বিবেকানন্দ তাঁর বক্তৃতার শুরুতে উপস্থিত সকলকে ভগিনী ও ভ্রাতৃবৃন্দ বলে সম্বোধন করেন।
আমেরিকার সংবাদপত্রে বিবেকানন্দকে 'সাইক্লোনিক হিন্দু' - নামে অভিহিত করা হয়।
বিবেকানন্দ তাঁর মতাদর্শ প্রচারের জন্য নিউইয়র্কে 'বেদান্ত সমিতি' নামে একটি সংগঠন স্থাপন করেন।
বেদান্তের মূল কথা হলো- "জীব ও ব্রহ্মে কোনো পার্থক্য নেই; জীবই ব্রহ্ম।"
স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে মার্গারেট এলিজাবেথ নোবল ভারতবর্ষে চলে আসেন।
মার্গারেট এলিজাবেথের জন্মভূমি আয়ারল্যান্ড।
মার্গারেট এলিজাবেথ নোবল বিবেকানন্দের কাছে দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁর নাম 'ভগিনী নিবেদিতা' রাখা হয়।
বিবেকানন্দের সবচেয়ে গরুত্বপূর্ণ কথা হলো 'খালি পেটে ধর্ম হয় না।"
বিধবা বিবাহ প্রচলনের জন্য বিবেকানন্দ বিদ্যাসাগরকে মহাবীর বলে আখ্যায়িত করেন।
বিবেকানন্দ গুরুদেবের আদর্শ প্রচারের জন্য রামকৃষ্ণ মঠ প্রতিষ্ঠা করেন।
পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার বেলুড়ে গঙ্গার পশ্চিম পাড়ে রামকৃষ্ণ মঠ অবস্থিত।
রামকৃষ্ণ মঠ বেলুড় মঠ নামে পরিচিত।
গুরুদেবের আদর্শ প্রচারের জন্য বিবেকানন্দ রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন।
স্বামী বিবেকানন্দ ১৯০২ খ্রিস্টাব্দের ৪ জুলাই বেলুড় মঠে দেহত্যাগ করেন।
শ্রীমার প্রকৃত নাম মীরা।
১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দের ২১ ফেব্রুয়ারি ফ্রান্সের প্যারিস শহরে শ্রীমা জন্মগ্রহণ করেন
শ্রীঅরবিন্দ শ্রীমাকে মীরা নামে ডাকতেন।
ভারতের পণ্ডিচেরীতে অরবিন্দ আশ্রমে এলে শ্রীমা নাম হয়।
ভক্তরা মীরাকে শ্রীমা নামেই ডাকতেন।
ভারতবাসীর কাছে মীরা শ্রীমা নামে পরিচিত।
১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে স্বামী মঁসিয়ে পলরিশারকে নিয়ে শ্রীমা ভারতবর্ষে আসেন।
শ্রীমার দীক্ষাগুরু হলেন ঋষি অরবিন্দ।
শ্রীঅরবিন্দের আশ্রম থেকে 'আর্য' নামে একটি পত্রিকা প্রকাশিত হতো ।
শ্রীঅরবিন্দের পরিকল্পনা অনুযায়ী শ্রীমা প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ের নাম 'ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অব এডুকেশন।"
১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দের ১৭ নভেম্বর পন্ডিচেরীর অরবিন্দ আশ্রমে মহীয়সী নারী শ্রীমার জীবনাবসান ঘটে।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ধর্ম ও ন্যায় স্থাপনের জন্য পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন পূর্ণাবতার। কারণ ভগবানের সমস্ত ঐশ্বর্য তার মধ্যে ছিল। তিনি পৃথিবীতে আসার কারণ নিজে ভগবদ্গীতায় বলেছেন, জগতে যখন ধর্মের গ্লানি হয়, অধর্মের উত্থান ঘটে তখনই আমি নিজেকে সৃজন করি। সজ্জনদের রক্ষার জন্য, দুর্জনদের বিনাশের জন্য এবং ধর্মকে সংস্থাপনের জন্য তিনি যুগে যুগে অবতীর্ণ * হন। এবং অসুরদের বিনাশ করে শান্তি স্থাপন করেন।
ভগবান বিষ্ণু জগতের কল্যাণের জন্য বিভিন্ন রূপ ধরে পৃথিবীতে অবতরণ করেন।
ভগবান যখন কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে পৃথিবীতে অবতরণ করেন তখন তাকে অবতার বলা হয়। যখনই পৃথিবীতে ধর্মের গ্লানি দেখা দেয় এবং অধর্মের উত্থান ঘটে, শোক-দুঃখ-কষ্ট ও অশান্তির সৃষ্টি হয়, তখনই তিনি সমনদের রক্ষার জন্য, দুর্জনদের বিনাশের জন্য এবং ধর্মকে ও ন্যায়কে সংস্থাপনের জন্য আবির্ভূত হয়ে থাকেন। এ কথা ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গীতায় স্বয়ং বলেছেন।
ভগবান যখন পূর্ণরূপে অবতরণ করেন তখন তাকে পূর্ণাবতার বলা হয়। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন ঈশ্বরের পূর্ণাবতার। হিন্দুধর্ম দর্শন অনুসারে যার মধ্যে ঈশ্বরের সমস্ত গুণ অর্থাৎ ঐশ্বর্য, বীর্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্য পূর্ণরূপে বিদ্যমান থাকে, তখন তাকে ভগবান বলা হয়। আর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মধ্যে এসব গুণ বা ঐশ্বর্য পূর্ণরূপে বিদ্যমান ছিল। তাই শ্রীকৃষ্ণকে ভগবানের পূর্ণাবতার বলা হয়।
যিনি অবতরণ করেন তিনিই অবতার। তবে যে কাউকেই অবতার বলা যাবে না। ভগবান বিষ্ণু যখন জগতের কল্যাণের জন্য বিভিন্নরূপে বৈকুণ্ঠ থেকে পৃথিবীতে অবতরণ করেন, তখন তাঁকে বলা হয় অবতার। কাজ শেষ হলে তিনি আবার সস্থানে ফিরে যান। পৃথিবীতে নানা সময়ে নানা দুষ্ট লোকের জন্ম হয়। তারা মানুষের প্রতি অত্যাচার করে। এতে জগতে শোক-দুঃখ, কষ্ট ও অশান্তি সৃষ্টি হয়। অধর্ম বেড়ে যায়। এমন সময়ে ভগবান বিষ্ণু অবতাররূপে জীবের | রূপ ধরে পৃথিবীতে অবতরণ করেন।
কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে জীবরূপে, মর্ত্যে ঈশ্বরের অবতরণই হলো অবতার।
হিন্দুধর্মে অবতার বলতে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনে স্বেচ্ছায় নিরাকার ঈশ্বরের জীবন বা সাকাররূপে পৃথিবীতে আবির্ভূত হওয়াকে বোঝায় বা বোঝানো হয়। মূলত দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন ও ধর্মরক্ষার জন্যই অবতারগণ পৃথিবীতে আসেন।
দেশে যখন অধর্ম বেড়ে যায় তখন ভগবান অবতাররূপে পৃথিবীতে আগমন করেন। জগতে মানুষের কল্যাণ সাধন করার জন্য শ্রীকৃষ্ণ অবতাররূপে আগমন করে। শ্রীকৃষ্ণের আগমনের সময় কঙ্গ, জরাসন্ধ, শিশুপাল, দুর্যোধনেরা খুবই অত্যাচারী হয়ে উঠেছিলেন। এদের অত্যাচারে মানুষের খুব কষ্ট হচ্ছিল, শ্রীকৃষ্ণ এদের বিনাশ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন এবং ন্যায়পরায়ণতার শিক্ষা দেন। জগতে শোক, দুঃখ, কষ্ট, অশান্তির হাত থেকে মানুষকে রক্ষা: করার জন্য শ্রীকৃষ্ণ আগমন করেন।
সুশ্রুত আয়ুর্বেদ শিক্ষালাভ করে চিকিৎসা সংক্রান্ত একটি গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর নাম অনুসারে এ গ্রন্থের নাম হয় 'সুশ্রুত' বা 'সুশ্রুতসংহিতা'। তিনি এ গ্রন্থে শল্যবিদ্যার ৩০০ প্রকার পদ্ধতি এবং ১২০টি অস্ত্রের বর্ণনা দিয়েছেন। এ গ্রন্থটি রচনা করে সুশ্রুত মানবজাতির বিশেষ মঙ্গল সাধন করেছেন। আয়ুর্বেদ মতে চিকিৎসা করতে হলে সুশ্রুত সংহিতায় বিশেষজ্ঞান থাকতে হয়। শল্যবিদ্যার চর্চা করতেন এবং এর ওপর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ রচনা করেন বলে তাঁকে ভারতীয় শল্যবিদ্যার জনক বলা হয়।
বিশ্বামিত্র মুনির পুত্র সুশ্রুত প্রাচীন ভারতের একজন মহান চিকিৎসক ছিলেন। সুশ্রুত দিবোদাসের নিকট আয়ুর্বেদ শাস্ত্র শিখে চিকিৎসা সংক্রান্ত একখানা গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর নাম অনুসারে গ্রন্থের নাম 'সুশ্রুত' বা 'সুশ্রুতসংহিতা' রাখা হয়। সুশ্রুতসংহিতা রচনা করে সুশ্রুত মানব জাতির বিশেষ মঙ্গল সাধন করেছেন। সুশ্রুতকে ভারতীয় শল্যবিদ্যার জনক বলা হয়।
চরক শরীরের কার্যকারিতার জন্য ৩টি উপাদানের কথা বলেছেন। চরক প্রাচীন ভারতের একজন মহান চিকিৎসক, তাকে 'ভারতীয় চিকিৎসা শাস্ত্রের জনক' বলা হয়। তিনি শরীরের কার্যকারিতার জন্য তিনটি দোষ বা উপাদানের কথা বলেছেন। সেগুলো হলো বাত, পিত্ত এবং কফ। এই তিনটির সামঞ্জস্য নষ্ট হলে শরীর অসুস্থ হয়। আর যখন এ তিনটির মধ্যে সামঞ্জস্য ফিরে আসে পুনরায় শরীর সুস্থ হয়। তাই তার মতে এই তিনটি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
চরক প্রাচীন ভারতের একজন মহান চিকিৎসক ছিলেন। তাঁকে ভারতীয় চিকিৎসাশাস্ত্রের জনক বলা হয়। আধুনিক গবেষকদের মতে, তিনি খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০ অব্দে আবির্ভূত হন। চরক চিকিৎসা সংক্রান্ত একটি নতুন গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। এ গ্রন্থের নাম 'চরকসংহিতা'। প্রাচীন ভারতীয় চিকিৎসাশাস্ত্রে চরকসংহিতা একখানা বিখ্যাত গ্রন্থ।
অদ্বৈতবাদ হলো শ্রীশঙ্করাচার্য কর্তৃক প্রবর্তিত একটি মতবাদ। এ মতবাদের মূলকথা হলো- ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা। জীব ও ব্রহ্মে কোনো পার্থক্য নেই। পৃথিবীর সকল জীবের মধ্যে ব্রহ্ম অবস্থিত। জীবই ব্রহ্মা, জীবের সেবা করলেই ব্রহ্মের সেবা করা হবে। ফলে জীব হিংসা কমে যাবে।
নবদ্বীপে যাওয়ার পর কুবেরের নাম নিত্যানন্দ হলো। কুবেরের মন সবসময় কৃষ্ণদর্শনের জন্য ব্যাকুল থাকত। স্বপ্নে শ্রীকৃষ্ণের আদেশ পেয়েই তিনি বৃন্দাবন ছেড়ে নবদ্বীপে যান। সেখানে নন্দন আচার্যের গৃহে নিমাইয়ের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয় এবং তারা বুঝতে পারেন যে, জীবোদ্ধারের জন্যই দুই দেহে তাদের আবির্ভাব ঘটেছে। সেদিন থেকেই কুবেরের নতুন নাম হলো নিত্যানন্দ।
ভারতের রাজস্থানে কুড়কি নামক স্থানে রাঠোর বংশে মীরাবাঈ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন পিতামাতার একমাত্র সন্তান। তাই খুব আদর-যত্নে তিনি লালিত-পালিত হচ্ছিলেন। কিন্তু মাত্র আট বছর বয়সে তিনি তাঁর মাকে হারান। ফলে তাঁর জীবনে একটা ছন্দপতন ঘটে। পিতা রত্নসিংহ মেয়েকে নিয়ে অনেকটা বিপদে পলেন। তখন পিতামহ রাও দুধাজী মীরাকে নিজের কাছে নিয়ে যান। দুধাজী নিজে ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ। তিনি প্রায়ই চতুর্জীর মন্দিরে পূজার্চনা করতেন। মাঝে মাঝে মীরাও সেখানে যেতেন। তারপর থেকে তিনিও সাধনায় মনোনিবেশ করেন।
সকল ধর্মের লক্ষ্য হলো ঈশ্বর লাভ। আর একমাত্র সত্যের মধ্য দিয়েই ঈশ্বর লাভের পথ প্রসারিত। সৎ হওয়া আর সৎ কর্ম করা ধর্মের অঙ্গ। ঈশ্বর সবসময় এবং সর্বত্র বিরাজমান-এ সত্যকে মনে ধারণ করে ঈশ্বরকে আরাধনা করতে হবে। সকল ধর্মে এক ঈশ্বরকে সকল সৃষ্টির মূল বলা হয়। আর এজন্যই বলা হয়েছে 'সকল ধর্মেরই লক্ষ্য এক-ঈশ্বর লাভ।'
'যত মত তত পথ'- উক্তিটি করেছেন ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ।
'যত মত তত পথ'- অর্থাৎ ধর্মীয় মত ও পথ ভিন্ন হলেও সকল মানুষের উদ্দেশ্য ও গন্তব্য এক। তা হলো ঈশ্বর লাভ। বিভিন্ন ধর্ম সাধনার মাধ্যমে ঈশ্বরকে উপলব্ধি করেই তিনি বলেছেন, ধর্মসমূহের পথ ও মত ভিন্ন হলেও সকলের মুখ্য উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন- ঈশ্বরের নৈকট্য লাভ করা। ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করার মাধ্যমে তার সেবা ও আরাধনা করা।
'হিতসঞ্চারিণী' শ্রীবিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি সভা। মেডিকেলে পড়ার সময় বিজয়কৃষ্ণ কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে। 'হিতসঞ্চারিণী' নামে একটি সভা স্থাপন করেন। সভার সিদ্ধান্ত ছিল যিনি যা সত্য বলে মনে করবেন বা বুঝবেন, তা প্রাণপণে কার্যে পরিণত করবেন। এখানেই বিজয়কৃষ্ণ একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, 'পৈতা জাতিভেদের চিহ্ন'। তাই আমাদের সবার পৈতা ত্যাগ করা উচিত। এ কথা শুনে অনেকেই পৈতা ফেলে দেন। এই ছিল মূলত 'হিতসঞ্চারিণী' সভা।
শ্রী বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী 'হিতসঞ্চারিণী' নামে একটি সভা স্থাপন করেন, যার সিদ্ধান্ত ছিল, যিনি যা সত্য বুঝবেন তা প্রাণপণে কার্যে পরিণত করবেন। তারা পৈতাকে জাতিভেদের চিহ্ন মনে করে পৈতা ত্যাগ করেন। এই সময় ব্রাহ্মসমাজের সাথে তার যোগাযোগ ঘটে। এবং মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ও কেশবচন্দ্রের বক্তৃতা শুনে তার মনে পরিবর্তন আসে এবং তিনি ব্রাহ্মধর্মের প্রতি অনুরক্ত হন। এজন্য তিনি ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করেন।
শ্রী বিজয়কৃষ্ণের মতে পৈতা বর্জন করা উচিত কারণ এটি জাতিভেদের চিহ্ন। শ্রী বিজয়কৃষ্ণের উদ্যোগে স্থাপিত 'হিতসঞ্চারিণী' সভার সিদ্ধান্ত ছিল যিনি যা সত্য বলে বুঝবেন, তিনি তা প্রাণপণে কার্যে পরিণত করবেন। তিনি বলেন, 'পৈতা জাতিভেদের চিহ্ন।' তাই তিনি পৈতা বর্জন করা উচিত বলে মনে করেন।
বিবেকানন্দ বলতেন, সত্যই সকল ধর্মের ভিত্তি। সৎ হওয়া আর সৎ কর্ম করা ধর্মের অঙ্গ। তিনি অর্থর্ববেদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, 'অসত্য নয়, সত্যেরই জয় হয়; একমাত্র সত্যের মধ্য দিয়েই ঈশ্বর লাভের পথ প্রসারিত হয়।' যে ব্যক্তি জগতের জন্য তার ক্ষুদ্র 'আমিকে' ত্যাগ করতে পারে, সে দেখে সমস্ত জগৎ তার। যে ব্যক্তি পবিত্র এবং সাহসী, সেই সবকিছু করতে পারে।
নরেন্দ্রনাথ বিএ পাস করার পর কেবল ঈশ্বর সম্পর্কে চিন্তা করেন। ঈশ্বর কি আছেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে তার দেখা হয় শ্রীরামকৃষ্ণের সাথে। সাদাসিধে সাধক শ্রীরামকৃষ্ণকে তার ভালো লাগে। শ্রীরামকৃষ্ণের প্রতি তার একটা ভক্তির ভাব জেগে ওঠে। তিনি শ্রীরামকৃষ্ণের নিকট ত্যাগের মন্ত্রে দীক্ষা নেন। নরেন্দ্রনাথ হন গৃহত্যাগী সন্ন্যাসী। তখন তার নাম হয় বিবেকানন্দ।
বেলুড় মঠ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার মাধ্যমে দারিদ্র্যমুক্তি ও ঈশ্বর লাভ। পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার বেলুড়ে গঙ্গার পশ্চিম পাড়ে এটি অবস্থিত। সাধারণভাবে এটি 'বেলুড় মঠ' নামে পরিচিত। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এ মঠের শাখা রয়েছে। পৃথিবীব্যাপী এ মঠের মাধ্যমে ধর্মচর্চার পাশাপাশি অসংখ্য মানুষকে সেবা প্রদান করা হচ্ছে। সেবার মধ্যে রয়েছে শিক্ষা, চিকিৎসা, আপদকালীন সাহায্য প্রদান ইত্যাদি।
শ্রীমা আশ্রমে ব্যায়ামাগার গড়ে তোলেন। কারণ শ্রীমা বুঝতে পেরেছিলেন যে, আধ্যাত্মিক সাধনা করতে হলে শরীরকে সুস্থ রাখতে হয়। এজন্য যোগব্যায়াম প্রয়োজন। তাই তিনি আশ্রমে একটি ব্যায়ামাগার গড়ে তোলেন।
শ্রীমার পড়াশুনা বেশিদূর এগোয়নি কারণ এর প্রতি তাঁর তেমন আকর্ষণ ছিল না। চার বছর বয়স থেকেই তিনি মাঝে মাঝে ধ্যানমগ্ন হয়ে পড়তেন। আর পাঁচজন শিশুর মতো শৈশবে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা হলেও পড়াশুনার প্রতি তাঁর কোনো আগ্রহ ছিল না। কেবল পড়াশুনা না, পার্থিব কোনোকিছুর প্রতিই তাঁর কোনো আসক্তি ছিল না। এ কারণেই শ্রীমার পড়াশুনা বেশিদূর এগোয়নি।
মহীয়সী চরিত্রের নারী হলেন 'শ্রীমা'। তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কাজ হলো-
১. শ্রীমা পৈতৃকসূত্রে অনেক সম্পদ ও অর্থ পেয়েছিলেন তা দিয়ে তিনি পন্ডিচেরীর অরবিন্দ আশ্রমের যাবতীয় খরচ চালাতেন।
২. শ্রীমা অরবিন্দ আশ্রমে খাদ্য, কৃষি, শিল্প, গো-পালন প্রভৃতি বিভাগ খুলে আশ্রমটিকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠানরূপে গড়ে তুলেছেন।
৩. আশ্রমে তিনি একটি ব্যায়ামাগার গড়ে তোলেন।
বিবেকানন্দ আমেরিকা যান ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে ।
Related Question
View Allস্বামী বিবেকানন্দ বেদান্ত সমিতি নামে সংগঠনটি নিউইয়র্কে স্থাপন করেন।
বিবেকানন্দ কেবল ঈশ্বর চিন্তা করতেন। ঈশ্বর কি আছে? তাকে কি দেখা যায় এরকম প্রশ্ন মনে দেখা দিত। কারও কাছে এর সদুত্তর পান নি। এসময় কালীর সাধক শ্রীরামকৃষ্ণের সাথে দেখা হয়। তাকেও বিবেকানন্দ একই প্রশ্ন করে। রামকৃষ্ণ বলেন হাঁ দেখেছি, যেমন তোকে দেখছি। চাইলে তোকেও দেখাতে পারি। শ্রীরামকৃষ্ণের এ 'সাদাসিধে ভাব দেখে স্বামী বিবেকানন্দের ভালো লাগে এবং তারপর থেকে রামকৃষ্ণের প্রতি তার ভক্তিভাব জেগে ওঠে।
স্বামী বিবেকানন্দ বলেন "জীবে প্রেম করে যেই জন সেইজন সেবিছে ঈশ্বর” অনুচ্ছেদটি তমার পাখিপ্রীতি স্বামী বিবেকানন্দের উক্ত মতবাদটিকে সমর্থন করে।
বিবেকানন্দ তাঁর বেদান্ত দর্শনের প্রকৃত সত্য তুলে ধরেন, তিনি বলেন জীব ও ব্রহ্মে কোনো পার্থক্য নেই। জীবই ব্রহ্ম। তাই ব্রহ্মজ্ঞানে জীবসেবা করতে হবে। জীবসেবা করলেই ঈশ্বর সেবা হবে। জীব মাত্র শুধু মানুষ নয়। যার জীবন আছে সেই জীব। তাই ঈশ্বরের সকল সৃষ্টজীবকে সেবা করলে ঈশ্বরের সকল সৃষ্ট জীবকে সেবা করলে ঈশ্বরের সেবা করা হয়। তাই ঈশ্বর সেবার আগে তাঁর সৃষ্ট জীবের সেবা করতে হবে। তমার পাখিদের প্রতি প্রেম যেন পরোক্ষভাবে ঈশ্বরেরই সেবা।
স্বামী বিবেকানন্দ নারী শিক্ষা ও নারী স্বাধীনতাকে সমর্থন করতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন পৃথিবীর প্রতিটি কল্যাণময় কাজেই নারীর সমান অংশীদার রয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দের এ আদর্শই তমার শিক্ষকের চরিত্রে ও কর্মে প্রতিফলিত হয়েছে।
নারী সমাজের উন্নতি ছাড়া সামগ্রিকভাবে সমাজের উন্নতি কখনোই সম্ভব নয়। বৈদিক যুগের মৈত্রেয়ী, গার্গী প্রমুখ বিদুষী নারীদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই যুগে নারীরা যদি এত শিক্ষালাভ করতে পারে, তাহলে এযুগের নারীরা তা পারবে না কেন? নারীরা যেন আধ্যাত্মিক সাধনায় সুযোগ পায় এবং এগিয়ে আসে তার জন্য তিনি সারদাদেবীর পরিচালনায় নারীদের জন্য একটি মঠও প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করেছিলেন। আলোচ্য উদ্দীপকে প্রধান শিক্ষক যেমন অল্প বয়সে তমার বিবাহের তীব্র প্রতিবাদ জানায়। তার লেখাপড়া আবার চালু করার ব্যবস্থা করে তেমনি স্বামী বিবেকানন্দ এটাই চেয়েছিলেন নারী পুরুষের পাশাপাশি সমান অধিকার ভোগ করবে জোরপূর্বক তাদের ওপর কোনোকিছু চাপিয়ে দেওয়া হবে না। নারীপুরুষ এক সাথে পরস্পরের সহযোগি হয়ে কাজ করলে সমাজকে দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
শ্রীবিজয়কৃষ্ণের পিতার নাম ছিল আনন্দ কিশোর গোস্বামী।
শ্রীবিজয়কৃষ্ণ মেডিকেল কলেজে পড়ালেখা করার সময় 'হিতসঞ্চারিণী' নামে একটি সভা প্রতিষ্ঠা করেন। এ সভায় ঘোষণা করে 'পৈতা জাতিভেদের চিহ্ন। তাই আমাদের পৈতা ত্যাগ করা উচিত। তার কথা শুনে যারা ব্রাহ্মণ ছিলেন তারা পৈতা ফেলে দেয়। এসময় ব্রাহ্ম সমাজের সাথে তার পরিচয় ঘটে। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কেশবচন্দ্রের বক্তৃতা শুনে তার মনে পরিবর্তন আসে। তিনি ব্রাহ্মধর্মের প্রতি অনুরক্ত হন এবং ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!