হিন্দুধর্মের ক্রমবিকাশকে তিনটি স্তরে রিভক্ত করা হয়েছে ।
বৈদিক পূজা পদ্ধতি হোমভিত্তিক ছিল ।
বৈদিক ধর্মগ্রন্থের চারটি ভাগ রয়েছে ।
যাগযজ্ঞের অনুশীলন করে আর্যগণ শ্রীও ধী বস্তুর প্রার্থনা জানাতেন ।
হিন্দুধর্মের আদি ধর্মগ্রন্থের নাম বেদ ।
প্রধান ও প্রামাণ্য উপনিষদ বারটি ।
ভাগবত বৈষ্ণবদের ধর্মগ্রন্থ ।
জ্ঞান ও প্রজ্ঞাকে ধী বলা হয় ।
হিন্দুধর্মের অপর নাম সনাতন ধর্ম ।
পৌরাণিক যুগে হিন্দুধর্মে ভক্তির প্রাধান্য লক্ষ করা যায় ।
শক্তি ব্যতীত শক্তিমানের কর্মক্ষমতা থাকে না ।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উদার আহ্বানে হিন্দুধর্মের সমন্বয়-চেতনা বিবৃত হয়েছে ।
দাহিকাশক্তি ছাড়া অগ্নির কল্পনা অসম্ভব ।
১৯৬৬ সালে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ প্রতিষ্ঠা করা হয় ।
লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আদর্শের মূলমন্ত্র পাঁচটি ।
অযাচক আশ্রম স্বামী স্বরূপানন্দ প্রতিষ্ঠা করেন ।
ভারত সেবাশ্রম' প্রতিষ্ঠা করেন স্বামী প্রণবানন্দ ।
ব্রাহ্ম সমাজ স্থাপন করেন রাজা রামমোহন রায় ।
লোকনাথ ব্রহ্মচারী ঢাকা বিভাগে আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ।
১৮৯৭ সালে রামকৃষ্ণ মিশন স্থাপিত হয় ।
শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর ১৮১২ খ্রিস্টাব্দে আবির্ভূত হন ।
আদিনাথ মন্দির মহেশখালীতে অবস্থিত ।
বঙ্গীয় শব্দকোষ গ্রন্থের প্রণেতা হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ।
১৯২১ সালে দুর্ভিক্ষপীড়িত জনগণের সেবা করেন স্বামী প্রণবানন্দ ।
মতুয়া ধর্মের মূলমন্ত্র ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে হরিনামে মেতে থাকা ।
শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র কত সালে আবির্ভূত হন ১৮৮৮ সালে ।
১৮৮৬ সালে রামকৃষ্ণ মঠ প্রতিষ্ঠিত হয় ।
রাজা রামমোহন রায় ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন হিন্দুধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য ।
'সৎসঙ্গ' ধর্মীয় সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ।
সৎসঙ্গের মূলনীতি পাঁচটি ।
হরিচাঁদ ঠাকুরের ধর্মনীতি থেকে মাতুয়া ধর্মের উদ্ভব হয় ।
সৎসঙ্গীদের আদর্শ ধর্ম ও বিজ্ঞানকে একত্রিত করে জীবন গঠন ।
অখন্ডমন্ডলীর সংগঠনের নাম অযাচক আশ্রম ।
স্বামী প্রণবানন্দ 'ভারত সেবাশ্রম' প্রতিষ্ঠা করেন জনগণের সেবার জন্য ।
বর্তমান বিশ্বে প্রচলিত ধর্মসমূহের মধ্যে সনাতন ধর্ম তথা হিন্দুধর্ম একাধারে প্রাচীন এবং নবীন। প্রাচীন এ কারণে যে, সনাতন ধর্ম তার সনাতন ঐতিহ্য বজায় রেখেছে। আর নবীন এ কারণে যে, সনাতন ঐতিহ্য বজায় রেখেও এ ধর্ম যুগের পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে চলেছে।
আর্যগণ সুপ্রাচীন সিন্ধু নদের তীরবর্তী অঞ্চলে বসবাস করতে থাকে। বহিরাগত আফগান ও পার্সিক সম্প্রদায় সিন্ধুনদকে হিন্দুনদ বলে উচ্চারণ করত। তাদের উচ্চারণে সিন্ধুর 'স' পরিবর্তিত হয়ে হ-তে রূপ নেয় এবং সিন্ধু শব্দটি 'হিন্দু' বলে উচ্চারিত হতে থাকে। এই সিন্ধু শব্দ থেকেই হিন্দু শব্দটির উৎপত্তি।
বেদ হিন্দুধর্মের আদি ধর্মগ্রন্থ। বৈদিক ধর্মগ্রন্থসমূহের রয়েছে চারটি ভাগ। যথা- সংহিতা, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক এবং উপনিষদ। সংহিতা ও ব্রাহ্মণভাগ নিয়ে বেদের কর্মকান্ড, আবার আরণ্যক ও উপনিষদ ভাগ দুটি নিয়ে বেদের জ্ঞানকাণ্ড। বেদের সংহিতা অংশে ইন্দ্র, অগ্নি, সূর্য, বরুণ, উষা, রাত্রি প্রভৃতি দেবদেবীর স্তবস্তুতি রয়েছে। মূলত বেদের মন্ত্র উচ্চারণ করে দেবগণের উদ্দেশ্যে যাগযজ্ঞ করে অভীষ্ট লাভের প্রার্থনা করা হতো যে যুগে তাকেই বৈদিক যুগ বলা হয়।
বৈদিক যুগের ঋষিদের ধর্মীয় চেতনায় জাগতিক ও পারমার্থিক উভয়বিধ কল্যাণের উদ্দেশ্য ছিল। তাঁদের প্রার্থনায় দেখা যায়, জীবনে সমৃদ্ধি, জীবের প্রতি স্নেহ-প্রীতি এবং জগতের শান্তি কামনা। এই প্রার্থনাগুলোর মধ্য দিয়ে এক পরমশক্তি ঈশ্বরের নিকট প্রার্থনা করা হয়েছে। একেই ঈশ্বরবাদ বলা হয়।
বৈদিক যুগে ধর্মানুষ্ঠানের রূপ ছিল যজ্ঞক্রিয়া। যজ্ঞকর্মের অনুশীলন করে মানুষ অভীষ্ট কর্মফল লাভ করতে পারতেন। তবে যাগ-যজ্ঞের অনুশীলন করে আর্যগণ দুটি (শ্রী ও ধী) বস্তুর প্রতি প্রার্থনা - জানাতেন। শ্রী অর্থাৎ ধন-ধান্য, বল-বিক্রম, যশ ইত্যাদি পার্থিব কাম্যবস্তু। ধী হচ্ছে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা।
বৈদিক শিক্ষার কর্ম ও জ্ঞান দুই মতের সংযোগ স্থাপন করে সৃষ্টি হয় স্মৃতিশাস্ত্র। এখানে এসে জানা যায় মোক্ষলাভের জন্য কর্ম ও জ্ঞান উভয়েরই প্রয়োজন আছে। স্মৃতিশাস্ত্রে হিন্দুধর্ম ও সমাজ পরিচালনার বিধিবিধানের এক অপূর্ব সমন্বয় করা হয়েছে।
পৌরাণিক যুগে হিন্দুধর্মের চিন্তাজগতে ভক্তির প্রাধান্য লক্ষ করা যায়। বেদ ও উপনিষদেও ভক্তিভাবের ইঙ্গিত রয়েছে। তবে পৌরাণিক যুগে তা বিশেষ বৈশিষ্ট্য লাভ করে এবং ভক্তিকে অবলম্বন করে পরমতত্ত্বে উপনীত হওয়ার যাত্রাপথে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রকাশ ঘটে ও সনাতন ধর্মে এক রূপান্তর সংগঠিত হয়।
বিশ্বচরাচরে সর্বত্র শক্তির প্রকাশ। ব্রহ্ম বস্তুকে যখন সগুণ, সক্রিয় বলে ধারণা করা হয়, তখনই তার মধ্যে শক্তির চিন্তা এসে পড়ে। কেননা, শক্তির প্রকাশ হয় ক্রিয়াতে। যেমন- অগ্নি 'ও তার দাহিকা শক্তি। দাহিকা শক্তি ছাড়া অগ্নির কল্পনা অসম্ভব। তাই বলা হয়েছে, শক্তি ও শক্তিমান অভিন্ন।
'একং সদ বিপ্র বহুধা বদন্তি'- অর্থ এক ব্রহ্মকেই মনীষীরা বিভিন্ন নামে ও রূপে বর্ণনা করেছেন। কেননা, ব্রহ্ম বা ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়। অবতার ও দেব-দেবীগণ এক পরমেশ্বরেরই ভিন্ন ভিন্ন গুণ ও শক্তির প্রকাশ মাত্র। তিনিই জগতের নিধান-আধার ও আশ্রয়।
গীতায় ভক্তিবাদের প্রকাশ লক্ষ করা যায়। এখানে ভগবানের আহ্বান সম্পর্কে বলা হয়েছে সতত আমাকে স্মরণ করো, আমাতে মনোনিবেশ করো। আমার ভজনা করো, আমাতেই সমস্ত কর্ম সমর্পণ করো এবং একমাত্র আমারই স্মরণ লও ইত্যাদি। যা ভগবদ্ ভক্তির পথকে আরও দৃঢ় করে তোলে।
যুক্তিহীন বিচারেন ধর্মহানিঃ প্রজায়তে- অর্থাৎ যুক্তিহীন বিচারে ধর্মের হানি ঘটে। উনিশ শতকে বিজ্ঞানমনস্ক সুধীজন সনাতন কথা হিন্দুধর্মের প্রচলিত পূজা-পার্বণ, ধ্যান-ধারণা ইত্যাদি নিয়ে চিন্তা ভাবনা শুরু করেন। তাঁরা মনে করেন যুক্তিসংগত নির্দেশ ছাড়া প্রচলিত ধর্মীয় বিধি-বিধানগুলো সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।
হরিচাঁদ ঠাকুর ১৮১২ খ্রিস্টাব্দে আবির্ভূত হয়ে হিন্দু সমাজে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষকে এক হরিনামে মেতে থাকার আহ্বান জানান। তাঁর এই ধর্মনীতি থেকেই মতুয়া ধর্মের উদ্ভব। এ ধর্মের মূলমন্ত্র হচ্ছে- ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে হরিনামে মেতে থাকা। হরিনামই জগতে কল্যাণ, শান্তি, সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ।
রাজা রামমোহন রায় লক্ষ করেন, বিভিন্ন দেব-দেবীর উপাসক হয়ে এক হিন্দু সমাজ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গোষ্ঠী চিন্তায় সংকীর্ণ হয়ে পড়ছে। সব | উপাস্যই যে এক ব্রহ্মের অংশ হিন্দু সম্প্রদায় তা ভুলতে বসেছে। তাই হিন্দু-ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি 'ব্রাহ্মসমাজ' প্রতিষ্ঠা করলেন। তিনি বললেন, ব্রহ্মই একমাত্র আরাধ্য।
শ্রীচৈতন্যদের প্রবর্তিত প্রেমভক্তির ধর্মটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রচার করার মানসে ১৯৬৬ সালের জুলাই মাসে নিউইয়র্ক শহরে শ্রীল এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ 'ইসকন' প্রতিষ্ঠা করেন। এর মাধ্যমে সমাজজীবন থেকে বিভিন্ন পাপকর্ম দূর করতে সচেষ্ট হন এবং জীবের মুক্তিলাভের অবলম্বন হরিনাম মাহাত্ম্য প্রচার করেন।
সৎসঙ্গের আদর্শ হচ্ছে- ধর্ম কোনো অলৌকিক ব্যাপার নয়; বরং বিজ্ঞানসিদ্ধ জীবনসূত্র। ভালোবাসাই মহামূল্য, যা দিয়ে শান্তি কেনা যায়। এ সংঘের ৫টি মূলনীতি হচ্ছে, যজন, যাজন, ইষ্টভৃতি, স্বস্ত্যয়নী ও সদাচার। আর এ সংঘের মূল স্তম্ভ হিসেবে শিক্ষা, কৃষি, শিল্প ও সুবিবাহ অনুশীলিত হচ্ছে।
অযাচক আশ্রম নামটির মধ্যেই এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট অর্থ যাজ্ঞা না করা এ সংগঠনের আদর্শ। স্বাবলম্বী হয়ে সমাজের কল্যাণ করা এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমবেত উপাসনায় চরিত্র গঠন, সমাজ সংস্কার, ব্রহ্মচর্য, স্বাবলম্বনের মাধ্যমে জগতের কল্যাণের নিযুক্ত থাকা।
হিন্দুধর্ম বিকাশের স্তরে স্বামী স্বরূপানন্দের অখন্ডমণ্ডলীর অবদান স্মরণীয়। তাঁর জীবনাদর্শ থেকে আমরা এ শিক্ষা পাই যে, সকলকে সমানভাবে ভালোবাসতে হবে। আমি ভালো মানুষ হবো এবং অপরকে ভালো হতে সহায়তা করব। সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে মোরা পরের তরে। এই ছিল তাঁর কল্যাণময় জীবন-ভাবনা।
বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী সাধনায় সিদ্ধিলাভ করার পরও লোকশিক্ষার জন্য সাধারণের মধ্যে নেমে এসেছিলেন। তিনি প্রচলিত অর্থে গুরুগিরি করেননি। নারায়ণগঞ্জের বারদীতে আশ্রম প্রতিষ্ঠা করে জনগণের সেবা করতে থাকেন। সততা, নিষ্ঠা, সংযম, সাম্য ও সেবা ছিল তাঁর নৈতিক আদর্শের মূলমন্ত্র।
ঠাকুর রামকৃষ্ণের ভাবাদর্শগুলো প্রচারের জন্য বিবেকানন্দ কর্তৃক রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন প্রতিষ্ঠিত হয়, যা বিশ্বব্যাপী রামকৃষ্ণ ভাবান্দোলন বা বেদান্ত আন্দোলন পরিচালিত করে। যাতে বলা হয় 'বিবাদ নয়, সহায়তা: বিনাশ নয়, পরস্পরের ভাবগ্রহণ; মতবিরোধ নয়। - সমন্বয় ও শান্তি এ আদর্শটি বিশ্ব মানবতার ক্ষেত্রেও সমান ক্রিয়াশীল।
বেদ শব্দের অর্থ হচ্ছে জ্ঞান।
অগ্নিকে দাহিকা শক্তির অধিকারী বলা হয়।
বেদ হিন্দুদের আদি ধর্মগ্রন্থ।
হিন্দুধর্মের আদি ধর্মগ্রন্থের নাম হচ্ছে বেদ।
হিন্দুধর্মের অপর নাম সনাতন ধর্ম।
শ্রী হলো ধন-ধান্য, বল-বিক্রম, যশ ইত্যাদি পার্থিব কাম্য বন্ধু। আর ধী হলো জ্ঞান ও প্রজ্ঞা।
বৈদিক যুগে পরমশক্তি ঈশ্বরের নিকট জীবনের সমৃদ্ধি, জীবের প্রতি স্নেহ-প্রীতি এবং জগতের শন্তি কামনায় যে, প্রার্থনা তাকে ঈশ্বরবাদ বলে।
ব্রহ্মলাভের পথ সুগম করার উদ্দেশ্যে মহর্ষি বেদব্যাস 'ব্রহ্মসূত্র' গ্রন্থে সমন্বয় বিধানের যে চেষ্টা করেন তাকে বেদান্ত দর্শন বলে।
মোক্ষলাভের উপায় হিসেবে ঋষিগণ চারটি পথের নির্দেশ দিয়ে গেছেন।
বিশ্বচরাচরের সর্বত্র ঈশ্বরের লীলার প্রকাশ।
বৈদিক শিক্ষার কর্ম ও জ্ঞান এ দু মতের সংযোগ স্থাপন করে যে শাস্ত্রের সৃষ্টি হয় তাকে স্মৃতিশাস্ত্র বলে।
মতুয়া ধর্মের মূলমন্ত্র হচ্ছে ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে হরিনামে মেতে থাকা।
প্রভু জগদ্বন্ধু ভাগীরথী তীরে মুর্শিদাবাদ জেলায় ডাহাপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
ঠাকুর রামকৃষ্ণের ভাবাদর্শ প্রচারের উদ্দেশ্যে ১৮৮৭ সালে রামকৃষ্ণ মঠ প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৮৯৭ সালে স্বামী বিবেকানন্দ কর্তৃক রামকৃষ্ণ মিশন স্থাপিত হয়।
স্বামী বিবেকানন্দের বাণী হলো "বিবাদ নয়, সহায়তা, বিনাশ নয়, পরস্পরের ভাবগ্রহণ; মত বিরোধ নয়, সমন্বয় ও শান্তি।"
১৯৬৬ সালে জুলাই মাসে নিউইয়র্ক শহরে শ্রীল এ. সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ISKCON) প্রতিষ্ঠা করেন।
শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ১৯২৪ সালে পাবনা জেলার হিমাইতপুর গ্রামে আবির্ভূত হন।
শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র 'সৎসঙ্গ' নামে একটি ধর্মীয় সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
সৎসঙ্গের আদর্শ হলো ধর্ম কোনো অলৌকিক ব্যাপার নয় বরং বিজ্ঞানসিদ্ধ জীবনসূত্র।
সৎসঙ্গের পাঁচটি মূলনীতি হলো যজন, যাজন, ইস্টভূতি, স্বস্ত্যয়নী ও সদাচার।
সৎসঙ্গ চায় আদর্শ মানুষ, আদর্শ গৃহী, আদর্শ ধর্মযাজক।
অযাচক আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা হলেন শ্রী শ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংস।
অযাচক আশ্রমের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমবেত উপাসনায় চরিত্র গঠন, সমাজ সংস্কার, ব্রহ্মচর্য, স্বাবলম্বন ও জগতের কল্যাণের কাজে নিযুক্ত থাকা।
স্বামী স্বরূপানন্দ জনগণের সেবা করার জন্য 'ভারত সেবাশ্রম" নামে একটি সেবাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন।
বৈশিষ্ট্যগত কারণে হিন্দুধর্মকে একাধারে প্রাচীন এবং নবীন বলা হয়েছে। হিন্দুধর্মকে প্রাচীন বলার কারণ হলো এ ধর্ম তার সনাতন ঐতিহ্য বজায় রেখেছে। আর এ ধর্মকে নবীন 'বলার কারণ। হলো সনাতন ঐতিহ্য বজায় রেখেও এ ধর্ম যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলছে। মানবসভ্যতার ক্রমবিকাশের অনুষঙ্গী হিসেবে সনাতন ধর্মের চিন্তাচেতনায় নতুনত্বের সংযোজন ঘটার কারণেই হিন্দুধর্মকে একাধারে প্রাচীন এবং নবীন বলা হয়েছে।
বেদকে কেন্দ্র করে যে বিশাল সাহিত্যসন্ডার রচিত হয়েছে তাকে বৈদিক সাহিত্য বলে।
বেদ অর্থ জ্ঞান। বেদকে কেন্দ্র করে যে সাহিত্য তাকে বৈদিক সাহিত্য বলে। বৈদিক ধর্মগ্রন্থসমূহের রয়েছে চারটি ভাগ; সংহিতা, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক এবং উপনিষদ।
আর্যরা ভারতবর্ষে বহিরাগত সম্প্রদায়। তারা ভারতবর্ষে আগমনের সময় নিজস্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি সঙ্গে নিয়ে আসে। আর্যগণ সুপ্রাচীন সিন্ধুনদের তীরবর্তী অঞ্চলে বসবাস করতে থাকে। এসময় এদেশের প্রাচীন সভ্যতার সঙ্গে আর্যসভ্যতার সংঘর্ষ হয়। পরিণতিতে অনার্যসভ্যতার সাথে আর্যসভ্যতার একটা সমন্বয় ঘটে। ফলে হিন্দুধর্মচর্চার সাথে আর্যদের ধর্মবিশ্বাস মিলিত হয়ে একটা নতুন রূপ ধারণ করে। এভাবে আর্যসভ্যতা আর্যধর্ম নামে প্রাধান্য লাভ করে।
হিন্দুধর্মের অপর নাম সনাতন ধর্ম। বর্তমান বিশ্বে প্রচলিত ধর্মসমূহের মধ্যে সনাতন ধর্ম সবচেয়ে প্রাচীন। সুপ্রাচীন সিন্ধুনদের তীরে বসবাসকারী, আফগান ও পার্সিক, সম্প্রদায় সিন্ধু। শব্দটি হিন্দু বলে উচ্চারণ করত। অনেক গবেষকের মতে, সিন্ধু শব্দ থেকেই হিন্দু শব্দের উৎপত্তি। তাই সিন্ধুনদের তীরবর্তী ! লোকদের ধর্মকে প্রাচীন কালের লোকেরা হিন্দুধর্ম বলে আখ্যায়িত করে। ফলে সনাতন ধর্ম ক্রমে হিন্দুধর্ম নামে পরিচিতি লাভ করে।
বৈদিক শিক্ষার কর্ম ও জ্ঞান- এ দুই মতের সংযোগ স্থাপন করে সৃষ্টি হয় স্মৃতিশাস্ত্র। এ শাস্ত্রে মোক্ষলাভের জন্য কর্ম ও জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। তাছাড়া জীবনচর্চার পদ্ধতি হিসেবে ব্রহ্মচর্য, গার্হস্থ্য, বানপ্রস্থ ও সন্ন্যাস- এ চার আশ্রমের বর্ণনা করা হয়েছে। প্রথম দুই আশ্রমে কর্মযোগ এবং শেষের দুই আশ্রমে জ্ঞান যোগের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে এ গ্রন্থে। সর্বোপরি হিন্দু সমাজ পরিচালনার বিধিবিধানের এক অপূর্ব সমন্বয় হচ্ছে এ স্মৃতিশাস্ত্র।
'যুক্তিহীন বিচারেন ধর্মহানিঃ প্রজায়তে'-এর অর্থ হলো- যুক্তিহীন বিচারে ধর্মের হানি ঘটে। বিজ্ঞানমনস্ক, সুধীজন সনাতন ধর্মের প্রচলিত পূজা-পার্বণ, ধ্যানধারণা ইত্যাদি নিয়ে চিন্তাভাবনা করে এর সংস্কার করতে চান। এই সংস্কার যদি যুক্তিসংগত হয় তাহলে ধর্ম ও ধার্মিক উভয়েই উপকৃত হবে। যেমন- রাজা রামমোহন রায়ের ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা। অপরদিকে, যদি এই সংস্কার বা বিচার যুক্তিহীন হয় তাহলে ধর্মের হানি ঘটবে। তাই বলা হয়, "যুক্তিহীনবিচারেণ ধর্মহানিঃ প্রজায়তে"।
হরিচাঁদ ঠাকুরের ধর্মনীতি থেকে মতুয়া ধর্মের উদ্ভব হলো। হরিচাঁদ ঠাকুর ১৮১২ খ্রিস্টাব্দে আবির্ভূত হয়ে হিন্দু সমাজে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষকে এক হরিণামে মেতে থাকার আহ্বান জানান। এ ধর্মের মূলমন্ত্র হচ্ছে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে হরিণামে মেতে থাকা। হরিণামই জগতে কল্যাণ, শান্তি, সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠা করতে আবশ্যক ।
প্রভু জগদ্বন্ধুর চারটি বাণী হলো-
১. এটা প্রলয়কাল, নাম সংকীর্তনই সত্য। এ যুগে একমাত্র হরিনামই সৃষ্টি রক্ষার উপায়। ওগো, নামের যে বড় অভাব। কেবল হরিনাম কর, হরিনাম কর।
২. ভ্রষ্ট বুদ্ধি হয়ে পিতামাতার মনে কষ্ট দিতে নেই। যে সংসারে শান্তি পায় না, সে সংসার ত্যাগ করলেও শান্তি পায় না।
৩. বৃথা বাক্য ব্যয় দুর্ভাগ্য। পরচর্চা কর্ণে বা অন্তরে স্থান দিও না। পরচর্চা ত্যাগ কর। ঘরের দেয়ালে লিখে রেখ, পরচর্চা নিষেধ।
৪. মানুষ গুরুমন্ত্র দেয় কানে, জগদ্গুরু মন্ত্র দেয় প্রাণে।
পূর্ণব্রহ্ম শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর ১৮১২ খ্রিস্টাব্দে আবির্ভূত হয়ে হিন্দু সমাজে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষকে এক হরিণামে মেতে থাকার আহ্বান জানান। তাঁর এ ধর্মনীতি থেকেই মতুয়া ধর্মের উদ্ভব। এ ধর্মের মূলমন্ত্র হচ্ছে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে হরিণামে মেতে থাকা।
স্বামী প্রণবানন্দের সেবাদর্শ হিন্দু সমাজকে কল্যাণের পথে পরিচালিত করছে। ১৯২১ সালে তিনি দুর্ভিক্ষপীড়িত জনগণের সেবা করেন। তিনি অস্পৃশ্যতাকে দূর করে সমাজে ঐক্য প্রতিষ্ঠার কথা বলতেন। জনগণের সেবা করার জন্য তিনি 'ভারত সেবাশ্রম' নামে ।
Related Question
View Allভগবান স্বয়ং বা তাঁর কোনো দেব-দেবী মনুষ্যাদির মূর্তি ধারণ করে ভগবানের অপ্রাকৃত নিত্যধাম থেকে নেমে আসাকে অবতার বলা হয়। আর অবতার সম্পর্কে যে দার্শনিক চিন্তাভাবনা, তা অবতারবাদ নামে পরিচিত।
বেদ ও উপনিষদে বলা হয়েছে ব্রহ্ম বা ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়। ব্রহ্ম বা ঈশ্বর একাধিক নয়। এই যে এক ঈশ্বরে বিশ্বাস, তাকে একেশ্বরবাদ বলে। আবার অবতার ও দেব-দেবী একই ঈশ্বরের বিভিন্ন প্রকাশ, ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয় এ বিশ্বাসই একেশ্বরবাদ। সুতরাং একেশ্বরবাদ হিন্দুধর্মের একটি বিশ্বাস।
শংকর স্বামী স্বরূপানন্দের মতাদর্শের দ্বারা প্রভাবিত হয়। ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের চাঁদপুর শহরে শ্রীশ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংস বাংলাদেশের চাঁদপুর শহরে আবির্ভূত হন। তিনি 'অযাচক আশ্রম' এর প্রতিষ্ঠাতা। এ আশ্রমে অন্যের কাছ থেকে কোনো চাঁদা নেওয়া হয় না; এরা নিজেদের অর্থের সংস্থান নিজেরাই করেন। ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দের ১ জানুয়ারি স্বামী স্বরূপানন্দের আদর্শকে রূপদান করার লক্ষ্যে চরিত্র গঠন আন্দোলন শুরু হয়। এর মূল আবেদন, "আমি ভালো মানুষ হব এবং অপরকে ভালো হতে সহায়তা দিব।" শংকর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শেষে অযাচক আশ্রমের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সমাজের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করেন।
উদ্দীপকের আলোচিত মহাপুরুষ হচ্ছেন শ্রীশ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংস। তিনি ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের চাঁদপুর শহরে আবির্ভূত হন। তিনি 'অযাচক আশ্রম' এর প্রতিষ্ঠাতা। অযাচক আশ্রমের বৈশিষ্ট্য হল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমবেত উপাসনায় চরিত্র, গঠন, সমাজ সংস্কার, ব্রহ্মচর্য স্বাবলম্বন ও জগতের কল্যাণের কাজে নিযুক্ত থাকা। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে অর্থ যাচঞা না করা এ সংগঠনের আদর্শ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগিতায় ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দের ১ জানুয়ারি স্বামী স্বরূপানন্দের আদর্শকে রূপদান করার লক্ষ্যে চরিত্র গঠন আন্দোলন শুরু হয়। এর মূল আবেদন, "আমি ভালো মানুষ হব এবং অপরকে ভালো হতে সহায়তা দিব।" স্বামী স্বরূপানন্দের মতাদর্শ থেকে আমরা এ শিক্ষা পাই যে, সকলকে সমানভাবে ভালোবাসতে হবে। স্বামী স্বরূপানন্দ রচিত গ্রন্থাদি ও সংগীত সমাজের কল্যাণ সাধনে বিশেষ অবদান রাখতে সমর্থ হয়েছে।
কারও অনিষ্ট কামনা না করে সকলকে মন থেকে ভালোবাসাকেই অহিংসা বলে।
হরিচাঁদ ঠাকুরের ধর্মনীতি থেকে মতুয়া ধর্মের উদ্ভব হলো। হরিচাঁদ ঠাকুর ১৮১২ খ্রিষ্টাব্দে আবির্ভূত হয়ে হিন্দু সমাজে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষকে এক হরিণামে যেতে থাকার আহ্বান জানান। এ ধর্মের মূলমন্ত্র হচ্ছে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে হরিণামে মেতে থাকা। হরিণামই জগতে কল্যাণ, শান্তি, সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠা করতে আবশ্যক।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!