পূজা' শব্দের অর্থ প্রশংসা করা বা শ্রদ্ধা জানানো ।
পুরস্ শব্দের অর্থ সম্মুখে ।
'হিত' শব্দের অর্থ অবস্থান ।
পৌরোহিত্য করার জন্য সংস্কৃত ভাষাজ্ঞান ও শাস্ত্রজ্ঞান থাকা প্রয়োজন ।
একজন পুরোহিতের এগারোটি গুণ থাকা উচিত ।
পূজায় যিনি প্রধান ভূমিকা পালন করেন তাঁর নাম পুরোহিত ।
পুরোহিত পূজার সময় সকলের অগ্রভাগে অবস্থান করেন ।
যজমান পূজা দেওয়ার জন্য পুরোহিতকে আমন্ত্রণ করে আনেন ।
মনসাদেবীকে লৌকিক দেবতা বলা হয় ।
দেবতারা ঈশ্বরের গুণ ও শক্তির প্রকাশ ।
ঈশ্বরের দেবতা গুণ বা শক্তিকে কী বলে ।
পুরাণে বিষ্ণু দেবতাকে শঙ্খ-চক্র-গদা পদ্মধারীরূপে দেখা যায় ।
'একং সদ বিপ্রা বহুধা বদন্তি' ঋগ্বেদ গ্রন্থের শ্লোক ।
দেবকুলের রাজা ইন্দ্র ।
হিন্দুধর্মগ্রন্থের ওপর ভিত্তি করে দেবতাদেরকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে ।
বেদে যে সকল দেবতার কথা বলা হয়েছে তাদেরকে বৈদিক দেবতা বলা হয় ।
বেদে অগ্নি দেবতাকে যজ্ঞের পুরোহিত, দীপ্তিময়, দেবগণের আহ্বানকারী ও ঋত্মিক বলা হয়েছে ।
পৌরাণিক দেবতা বলতে পুরাণে বর্ণিত দেবতা ।
পারিবারিক সদস্যদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে যে পূজা করা হয় তাকে পারিবারিক পূজা বলে ।
পূর্ণচাপ' শব্দের অর্থ ধনুক ।
দুর্গা দেবীকে ত্রিনয়না বলা হয় ।
দেবী দুর্গার বাম চোখ নির্দেশ করে চন্দ্র ।
দেবী দুর্গার ডান চোখ নির্দেশ করে সূর্য ।
দেবী দুর্গার সকল অস্ত্র শক্তি ও গুণের প্রতীক ।
হিমালয় দেবী দুর্গাকে সিংহ দিলেন ।
সিংহ শক্তির প্রতীক ।
দুর্গা শব্দের অর্থ দুর্গতিনাশিনী ।
এ মহাবিশ্বের যাবতীয় দুঃখ-কষ্ট বিনাশকারী দেবী দুর্গা ।
মহিষাসুর দেবরাজ ইন্দ্র কাছ থেকে স্বর্গরাজ্য কেড়ে নিয়েছিল ।
দেবী দুর্গাকে মহিষমর্দিনী বলা হয় মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন বলে ।
দেবী দুর্গাকে দশভুজা বলা হয় তাঁর দশটি হাত আছে বলে ।
দেবী দুর্গার চোখ তিনটি ।
দেবী দুর্গার বাহন সিংহ ।
দুর্গা পূজায় চন্ডী পাঠ করা হয় ।
আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয় ।
দুর্গাপূজায় পদ্ম ফুলের রেণুর জলের প্রয়োজন হয় ।
বছরে দুইবার দুর্গোৎসবের প্রথা রয়েছে ।
দুর্গা ষষ্ঠীর-বোধন প্রথম দিন অনুষ্ঠান ।
আমরা নবপত্রিকা পূজার মাধ্যমে জীবনদায়ী বৃক্ষের পূজা করি ।
নবপত্রিকা মূলত নয়টি গাছের সমাহার ।
নবপত্রিকা প্রতিষ্ঠায় হলুদ গাছ দেবী দুর্গা দেবীকে নির্দেশ করে ।
শারদীয় পূজায় বোধন করা হয় সন্ধ্যা বা গোধূলিতে ।
বোধন কথার অর্থ ঘুম ভাঙানো ।
নবপত্রিকা প্রতিষ্ঠায় ধান গাছ লক্ষ্মী দেবীর নির্দেশক ।
সন্ধিপূজা তৃতীয় দিন হয় ।
নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য কুমারী পূজা করা হয় ।
অষ্টম-নবমী তিথিতে সন্ধি পূজা অনুষ্ঠিত হয় ।
কুমারী পূজা করা হয় অষ্টমী তিথিতে ।
সন্ধি পূজায় ১০৮টি মাটির প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত করা হয় ।
'হিন্দুদের দেব-দেবী' গ্রন্থের লেখক হংসনারায়ণ ভট্টাচার্য ।
কুমারী পূজা দেবী দুর্গা পূজা হিসেবে বিবেচিত ।
দশমীর দিনে দেবী দুর্গাকে বিসর্জন দিতে হয় ।
অন্যায়কে প্রতিহত করে ন্যায় প্রতিষ্ঠার দিন দশমীর দিন ।
কালী দেবীর মধ্যে কোমল ও কঠোর রূপ পরিলক্ষিত হয় ।
অসুর বিনাশে ভয়ঙ্করী দেবী কালী ।
ভক্তের কাছে দেবী কালী স্নেহময়ী জননী ।
দেবী কালী দেবীর অপর নাম চামুন্ডা ।
মহামারীর সময় কালী পূজা করা হয় ।
কালীপূজা হয় অমাবস্যা তিথিতে ।
দেবী অম্বিকার অপর রূপ কালী ।
কর্তৃকা শব্দের অর্থ কাটারি ।
দেবী কালীও দুর্গা মতো শক্তির দেবী ।
কালী শিবের শক্তিরূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন ।
দেবী কালীর কাছ থেকে আমরা সহজের কাছে কোমল হওয়ার শিক্ষা পাই ।
দেব সেনাপতি কার্ত্তিক ।
কুমার গুহ কার্তিক এর অন্য নাম ।
আদর্শ ও সুন্দর সন্তান কামনায় কার্ত্তিক দেবতার পূজা করা হয় ।
কার্তিক দেবের বাহন ময়ূর ।
নম্র ও বিনয়ী দেবতা কার্তিক ।
কার্ত্তিক দেবতাকে ষড়ানন বলা হয় ।
কার্তিকের দেহাবরণ তপ্ত স্বর্ণের মতো ।
আনন মানে মুখ ।
কার্ত্তিক পূজার মাধ্যমে দম্পতিরা সন্তানসন্ততি প্রার্থনা করে ।
'ঠাকুরাণি জাগরণী' নামে পরিচিত শীতলা দেবী ।
দেবী শীতলার পূজা করা হয় বর্ষা ঋতুতে ।
শীতলা দেবীর ডান হাতে সম্মর্জনী ধারনি থাকে ।
শীতলা লৌকিক দেবী ।
শীতলা দেবীর বাহন গর্দভ ।
শীতলা পূজা' হয় শ্রাবণ মাসে ।
রোগ প্রতিরোধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার দেবী হিসাবে পূজিত হন শীতলা ।
শীতলা পুরাণে গৃহীত হয়ে পৌরাণিক দেবীতে পরিণত হয়েছেন ।
শীতলা পূজা করা হয় বসন্ত ও চর্মরোগ থেকে রোগ থেকে পরিত্রাণের জন্য ।
সাধারণত শ্রাবণ মাসের শুক্লা সপ্তমী তিথিতে দেবী শীতলার পূজা করা হয় ।
পূজা শব্দের অর্থ প্রশংসা বা শ্রদ্ধা জানানো, যা পুষ্পকর্মের মধ্য দিয়ে অর্চনা বা উপাসনার মাধ্যমে করা হয়। হিন্দুধর্মে 'পূজা' শব্দটি বিশেষ অর্থে ব্যবহার করা হয়। ঈশ্বরের কোনো রূপকে সন্তুষ্ট করার জন্য ভক্তি সহকারে বিভিন্ন পবিত্র উপকরণের দ্বারা বিশেষ পদ্ধতিতে পূজা করা হয়। পূজা হচ্ছে দেবদেবীদের সান্নিধ্য লাভের প্রয়াস।
'পূজা' শব্দের অর্থ প্রশংসা বা শ্রদ্ধা জানানো। দেব-দেবীদের। সন্তুষ্ট করার জন্য যে অনুষ্ঠানাদি করা হয়, তাকে পূজা বলে। ঈশ্বর বা দেব-দেবীকে সন্তুষ্ট করার জন্য ভক্তি সহকারে ফুল, দূর্বা, তুলসি পাতা, বিশ্বপত্র, চন্দন, আতপ চাল, ধূপ, দ্বীপ প্রভৃতি উপকরণ দিয়ে পূজা করা হয়। তাই বলা যায়, পূজা হচ্ছে বিভিন্ন উপকরণের সমষ্টি।
সাধারণ অর্থে পুরোহিত বলতে পূজা-অর্চনা কার্যাদি সম্পাদনকারীকে বোঝানো হয় এবং যিনি পূজার সময় সকলের অগ্রভাগে অবস্থান করেন। সাধারণভাবে যিনি পূজা-অর্চনার অনুষ্ঠান পরিচালনায় প্রধান ভূমিকা পালন করেন এবং পূজার সময় সকলের অগ্রভাগে থাকেন, তাঁকে পুরোহিত বলে।
পূজা-অর্চনার সময় যার নামে সংকল্প করে পূজা সম্পাদিত হয় সেই ব্যক্তিকে যজমান বলা হয়। যজমান পুরোহিতকে পূজা সম্পাদন করার জন্য আমন্ত্রণ করে আনেন। তবে যজমান পূজার কার্যবিধি নিজেও নিষ্পন্ন করতে পারেন। কিন্তু সাধারণ বিধি হচ্ছে পুরোহিতকে আমন্ত্রণ জানানো।
ব্রাহ্মণ বলতে যাঁদের ব্রহ্মবিদ্যা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান ও ধারণা আছে, এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়। অতীতে ব্রাহ্মণ বর্ণের বা সম্প্রদায়ের মানুষদের সংস্কৃত ভাষাজ্ঞান ও শাস্ত্রজ্ঞান থাকত। তাই তাঁরাই পৌরহিত্যে দক্ষ ছিলেন এবং ব্রাহ্মণরাই অধ্যয়ন, অধ্যাপনা, যজন-যাজন করতেন।
না, শুধমাত্র ব্রাহ্মণরাই পৌরহিত্যের অধিকারী নয়। সংস্কৃত ভাষা জ্ঞান ও শাস্ত্রে অভিজ্ঞ এবং ধর্মনিষ্ঠ যেকোনো বর্ণের ব্যক্তিই পৌরহিত্য করার যোগ্য। তবে অতীতে ব্রাহ্মণরাই শুধুমাত্র সংস্কৃত ও শাস্ত্রজ্ঞানের অধ্যয়ন, অধ্যাপনা, যজন-যাজন করতেন বলে পৌরহিত্য তাদেরই কার্য ছিল। কিন্তু একালে সংস্কৃত ভাষা ও শাস্ত্রজ্ঞান সকল বর্ণের মধ্যেই দেখা যায়। এজন্য পৌরহিত্যে যেকোনো বর্ণই সমান অধিকারী।
পুরোহিতের চারটি বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ-
১. সংস্কৃত ভাষা লেখা ও পড়ার মতো জ্ঞান ও দক্ষতা।
২. হিন্দুধর্ম সম্পর্কে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান।
৩. ধর্মশাস্ত্রে এবং শাস্ত্রীয় রীতিনীতি ও প্রথার ওপর অভিজ্ঞতা।
৪. শিষ্টাচারসম্পন্ন ও আদর্শ ব্যক্তিত্বের অধিকারী।
ঈশ্বর সীমাহীন গুণ ও ক্ষমতার অধিকারী। তিনি যখন নিজের কোনো গুণ বা ক্ষমতাকে কোনো বিশেষরূপে প্রকাশ করেন, তখন তাকে দেব-দেবী বলে। দেবতারা আলাদা গুণ বা শক্তির অধিকারী হলেও তারা ঈশ্বর নন। তারা ঈশ্বরের অংশ মাত্র। ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়। দেবতারা এক ঈশ্বরের বিভিন্ন গুণ বা শক্তির প্রকাশ।
'একং সদ্ বিপ্রা বহুধা বদন্তি'- এর অর্থ হলো- এক, অখন্ড ও চিরন্তন ব্রহ্মকে বিপ্রগণ ও জ্ঞানীরা বহুনামে বর্ণনা করেছেন। এই 'বিষয়টি দেবতাদের বর্ণনা সম্পর্কে ইঙ্গিত করে। কেননা দেবতারা এক, অখণ্ড ও চিরন্তন ব্রহ্ম বা ঈশ্বরেরই বিভিন্ন গুণ বা শক্তির প্রকাশমাত্র। দেবতারা আলাদা গুণ বা শক্তির অধিকারী হলেও ঈশ্বর নন। ঈশ্বর বা ব্রহ্ম এক ও অদ্বিতীয়।
দেবতারা এক ঈশ্বরের বিভিন্ন গুণ বা শক্তির প্রকাশমাত্র। তাই দেবতাদের পূজা করলে পরোক্ষভাবে ঈশ্বরেরই সন্তুষ্টি বিধান হয় এবং তিনি অভীষ্ট দান করেন। তাই মানুষ সুখ-শান্তিতে বসবাসের জন্য এবং দেবতাদের কৃপা লাভের জন্য তাদের পূজা করে থাকেন।
দেবতা, দেব বা দেবী শব্দ 'দিক্' ধাতু থেকে উৎপন্ন হয়েছে। দিব্ + অ = দেব। স্ত্রী লিঙ্গে দেবী বলা হয়। 'দিব' ধাতুর অর্থ হলো প্রকাশ পাওয়া। তাই বলা হয়েছে, যিনি প্রকাশ পান, যিনি ভাস্কর, তিনি দেবতা। দেব-দেবী ও দেবতা একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। যিনি দান করেন তিনি দেবতা। আবার যিনি নিজে প্রকাশ পেয়ে অন্যকে প্রকাশ করেন তিনিও দেবতা।
হিন্দুধর্মের আদি ধর্মগ্রন্থ বেদ। বেদের ওপর ভিত্তি করে 'পুরাণ' গ্রন্থসমূহ রচিত হয়েছে। পুরাণে বিভিন্ন দেব-দেবীদের কথা বর্ণনা করা হয়েছে এবং ধর্মগ্রন্থের উপর ভিত্তিতে দেবতাদের তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। যথা- ১) বৈদিক দেবতা, ২) পৌরাণিক দেবতা ও ৩) লৌকিক দেবতা।
বেদে যে সকল দেবতার কথা বলা হয়েছে তাঁদেরকে বৈদিক দেবতা বলা হয়। যেমন- অগ্নি, ইন্দ্র, মিত্র, রুদ্র, বরুণ, বায়ু, সোম প্রভৃতি। বৈদিক দেবী হিসেবে সরস্বতী, উষা, অদিতি, রাত্রির নাম উল্লেখ করা যায়। বৈদিক দেব-দেবীর কোনো বিগ্রহ ছিল না। তবে বৈদিক মন্ত্রে সকল দেবতার রূপ, গুণ ও ক্ষমতার বর্ণনা করা হয়েছে।
বৈদিক পূজা পদ্ধতি ছিল যোগ বা হোম ভিত্তিক। বৈদিক উপাসনা রীতিতে প্রতিমা পূজা ছিল না। তাই হোমানল বা অগ্নির মাধ্যমে বেদের মন্ত্র উচ্চারণ করে অন্যান্য দেবতাকে আহ্বান করে তাদের পূজা বা উপাসনা করা হতো। তাই অগ্নিকে বলা হয় দেবগণের আহ্বানকারী ঋত্বিক এবং তিনি যজ্ঞের পুরোহিত।
পুরাণে যে সকল দেবতার বর্ণনা করা হয়েছে, তাঁদের পৌরাণিক দেবতা বলা হয়। যেমন- ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, দুর্গা প্রভৃতি। পৌরাণিক যুগে বৈদিক দেবতাদের অনেকেরই রূপের পরিবর্তন ঘটেছে এবং অনেক নতুন দেবতার আবির্ভাব ঘটেছে। বেদে উল্লিখিত বিষ্ণুকে পুরাণে, দেয়া যায়, শঙ্খ-চক্র-গদা- পদ্মধারীরূপে। কিন্তু বেদে বিষ্ণুর আকৃতি ও প্রকৃতি মন্ত্রময় প্রাকৃতিক শক্তি মাত্র।
বেদে ও পুরাণে যে সকল দেবতার কথা বলা হয়নি, কিন্তু ভক্তগণ তাঁদের পূজা করেন, তাঁদের বলা হয় লৌকিকা দেবতা। যেমন- মনসা, শীতলা, দক্ষিণ রায় প্রভৃতি। পরবর্তীকালে মনসা দেবীসহ আরও অনেক লৌকিক দেবতা পুরাণে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
সকল দেব-দেবীর পূজা একই সময় হয় না। কারণ অনেক দেব-দেবীর জন্য নির্দিষ্ট মাস, সময়, তিথি রয়েছে। যেমন- বিষ্ণু, শিব, লক্ষ্মীর পূজা প্রতিদিনই করা হয়। আবার ব্রহ্মা, কার্তিক, সরস্বতী প্রভৃতি দেব-দেবীর পূজা বিশেষ বিশেষ তিথিতে করা হয়।
সামাজিক অংশগ্রহণের ভিতিতে পূজা দুইভাবে করা হয়। পারিবারিক পূজা ও সর্বজনীন পূজা। পারিবারিক সদস্যদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে যে পূজা করা হয় তাকে পারিবারিক পূজা বলে। সমাজের সকল মানুষের অংশগ্রহণে যে পূজা করা হয়, তাকে সর্বজনীন পূজা বলে। মূলত সর্বজনীন পূজার মাধ্যমে উৎসবের সৃষ্টি হয়।
দেবীদুর্গা ঈশ্বরের শক্তির প্রতীক। তিনি আদ্যাশক্তি মহামায়া অর্থাৎ মহাজাগতিক শক্তি। তিনি জয়দুর্গা, জগদ্ধাত্রী, গন্ধেশ্বরী, বনদুর্গা, চন্ডী, নারায়ণী প্রভৃতি নামেও পূজিত হন। দুর্গম নামক এক পশুকে বধ করার কারণে তাঁর নাম হয় দুর্গা।
দেবী দুর্গা ঈশ্বরের শক্তির প্রতীক। তিনি অদ্যাশক্তি মহামায়া অর্থাৎ মহাজাগতিক শক্তি। তাঁর আরও অনেক নাম রয়েছে। তাঁর কয়েককটি নাম হলো জয়দুর্গা, জগদ্ধাত্রী, গন্ধেশ্বরী, বনদুর্গা, চন্ডী, নারায়ণী প্রভৃতি।
দুঃ– গম্ + অ = দুর্গ। যে স্থানে গমন করা অত্যন্ত দুর্বৃহ তাকে দুর্গ বলে। দুর্গ শব্দের সঙ্গে আ প্রত্যয় যোগ করে দুর্গা শব্দটি গঠন করা হয়েছে এবং স্ত্রীলিঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে। যিনি মহামায়া তিনি দুরধিগম্য- তাঁকে দুঃসাধ্য সাধনার দ্বারা পাওয়া যায়। তাই তিনি দুর্গা।
দেবী দুর্গা যেন ঘরের মেয়ে এ কথা বলার কারণ হলো তিনি শ্বশুর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি আসেন। ৬ষ্ঠী দিন দুর্গার আগমন ঘটে। মহালয়া, অমাবশ্যার পরে শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে পূজার আয়োজনের মাধ্যমে দুর্গাপূজা শুরু হয়। চারদিন থেকে তার ছেলেমেয়েকে নিয়ে কৈলাস ভবনে যাত্রা করেন।
একবার মহিষাসুর দেবরাজ ইন্দ্রের কাছ থেকে স্বর্গরাজ্য কেড়ে নিয়েছিলেন। তখন দেবতাদের সম্মিলিত তেজ থেকে আবির্ভূত হয়েছেন দেবী দুর্গা। তারপর তিনি মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন। এজন্য দেবী দুর্গাকে মহিষমর্দিনী বলা হয়।
দেবী দুর্গার দশটি ভুজ বা হাত রয়েছে এজন্য তাকে দশভুজা বলা হয়। তাঁর তিনটি চোখ রয়েছে, এজন্য তাঁকে ত্রিনয়না বলা হয়। তাঁর বাম চোখ চন্দ্র, ডান চোখ রয়েছে সূর্য এবং কেন্দ্রীয় বা কপালের উপর অবস্থিত চোখ-জ্ঞান বা অগ্নিকে নির্দেশ করে। তাঁর দশ হাতে দশটি অস্ত্র রয়েছে, যা শক্তির প্রতীক এবং শক্তিধর প্রাণী সিংহ তাঁর বাহন। দেবী দুর্গার গায়ের রং অতসী ফুলের যতো সোনালি হলুদ।
দেবী দুর্গার ডানদিকের পাঁচ হাতের অস্ত্রগুলো যথাক্রমে-ত্রিশূল, খড়গ, চক্র, বাণ ও শক্তি। বামদিকের পাঁচ হাতের অস্ত্রগুলো হলো- খেটক (ঢাল), পূর্ণচাপ (ধনুক), পাশ, অঙ্কুশ, ঘণ্টা, পরশু (কুঠার)। এ সকল অস্ত্র দেবী দুর্গার অসীম শক্তি ও গুণের প্রতীক।
প্রথম দিন : ষষ্ঠী- দুর্গার যষ্ঠী-বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাস;
দ্বিতীয় দিন : সপ্তমী- মহাসপ্তমী পূজা- নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপন, সপ্তম্যাদিকল্পারম্ভ, সপ্তমীবিহিত পূজা;
তৃতীয় দিন: অষ্টমী- মহাষ্টমী পূজা, কুমারী পূজা, সন্ধি পূজা;
চতুর্থ দিন: নবমী- নবমীবিহিত পূজা;
পঞ্চম দিন: দশমী- দশমী পূজা, বিসর্জন ও বিজয়া দশমী।
মহালয়া অমাবস্যার পরে শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে যষ্ঠী পূজার আয়োজনের মাধ্যমে দুর্গা পূজা শুরু হয়। সুষ্ঠুভাবে পূজা উদযাপন করার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করার সংকল্প করা হয়। সন্ধ্যাকালে বোধন, তারপর অধিবাস ও আমন্ত্রণ অনুষ্ঠিত হয়।
যষ্ঠীর পর আসে মহাসপ্তমী। এ তিথিতে অনুষ্ঠিত হয় সপ্তমীবিহিত পূজা। মন্ত্র উচ্চারণের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাসহ সকল প্রতিমার প্রাণপ্রতিষ্ঠা করা হয়। নানা উপকরণে ফুল, বেলপাতা, নৈবেদ্য, বস্ত্রাদি সাজিয়ে দেবীকে পূজা করা হয়। এ দিনের পূজায় নবপত্রিকা প্রতিষ্ঠা অন্যতম।
নবপত্রিকা মূলত নয়টি গাছের সমাহার। এগুলো হলো- কদলী (কনা), দাড়িম্ব (ডালিম), ধান্য (ধান), হরিদ্রা (হলুদ), মানক (মানকচু), কচু, বিশ্ব (বেল), অশোক এবং জয়ন্তী। একটি কলাগাছের সঙ্গে অন্য গাছের চারা বেঁধে দেওয়া হয়। তারপর একটি শাড়ি কাপড় পরানো হয়। নবপত্রিকার মধ্যে দেবী দুর্গা নয়টি ভিন্ন নামে অধিষ্ঠিত।
ও সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থসাধিকে।
শরণ্যে ত্র্যম্বক গৌরি নারায়নি নমোহস্তুতে। (শ্রীশ্রীচণ্ডী, ১১/১০/১১)
বাংলা অর্থ : হে দেবী সর্বমঙ্গলা, শিবা, সর্বার্থসাধিকা, শরণযোগ্যা, - গৌরি, ত্রিনয়না, নারায়ণি- তোমাকে নমস্কার।
দেবী দুর্গা বিভিন্নরূপে আবির্ভূত হয়ে আমাদের মঙ্গল নিশ্চিত। করেন বলে তিনি সর্বমঙ্গলা। তিনি শিবের শক্তি বলে শিবা। তিনি সকল প্রার্থনা পূরণ করেন, তাঁর অসাধ্য কিছুই নেই। তিনি শরণ্য। তিনি গৌরি। তাঁর কাছে শক্তি প্রার্থনা করে আমরাও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াব এবং নিজের ও সমাজের জন্য মঙ্গলজনক কাজ করব। দুর্গাপূজার প্রণাম মন্ত্র আমাদের এ শিক্ষাই প্রদান করে।
দুর্গাপূজার তৃতীয় দিন অষ্টমী তিথি হয়। শারদীয় দুর্গা উৎসবে অষ্টমী পূজা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পূজা। এ দিনে দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করে বিজয় লাভ করেছিলেন। এ পূজার দিনে ভক্তবৃন্দ সম্মিলিতভাবে অষ্টমীবিহিত পূজা করে দেবী দুর্গার কৃপা প্রার্থনা করেন। পূজার শেষে পূজারিগণ দেবীর উদ্দেশ্যে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করে।
অষ্টমীর দিন কুমারী পূজা করা হয়। কারণ নারীকে মাতৃরূপে ভাবনা হিন্দুধর্মীয় সাধন রীতিতে একটি পুরুত্বপূর্ণ দিক। কুমারী পূজায় নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে নারীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ সৃষ্টি করে। এভাবে পারিবারিক ও সমাজজীবনে প্রভূত কল্যাণ সাধিত হয়।
নবমী তিথিতে দেবী দুর্গার নবমীবিহিত পূজা করা হয়। অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধির সময় বিশেষভাবে সন্ধিপূজা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধি পূজায় ১০৮টি মাটির প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে দেবীর পূজা করা হয়। এসময় দেবী দুর্গাকে বিভিন্ন ধরনের উপকরণে ভোগ নিবেদন করা হয় এবং ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
দশমী তিথিতে পূজাবিধি অনুসারে দেবী দুর্গার দশমীবিহিত পূজা করা হয়। দশমীর দিনে হয় দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন। পূজার দশমীকে বলা হয় বিজয়া দশমী। দেবী দুর্গা চারদিন এ জগতে থেকে দশমীর দিন তাঁর ছেলে-মেয়েদের নিয়ে কৈলাশ ভবনে যাত্রা করেন। দুর্গা প্রতিমা নদী, পুকুর প্রভৃতি জলাশয়ে বিসর্জনের মাধ্যমে শারদীয় দুর্গা উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।
দশমী তিথিতে পূজাবিধি অনুসারে দেবী দুর্গার দশমীবিহিত পূজা করা হয়। দশমীর দিনে হয় দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন। পূজার দশমীকে বলা হয় বিজয়া দশমী। দেবী দুর্গা চারদিন এ জগতে থেকে দশমীর দিন তাঁর ছেলে-মেয়েদের নিয়ে কৈলাশ ভবনে যাত্রা করেন। দুর্গা প্রতিমা নদী, পুকুর প্রভৃতি জলাশয়ে বিসর্জনের মাধ্যমে শারদীয় দুর্গা উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।
১. মহিষাসুরকে বধ করার মধ্য দিয়ে বিজয় উৎসব পালিত হয়। সুতরাং বিজয়া দশমী অন্যায়কে প্রতিহত করে ন্যায় প্রতিষ্ঠার দিন।
২. দেবী দুর্গা দেবতাদের সম্মিলিত শক্তির প্রকাশ। তাই দুর্গাপূজা তথা বিজয়া দশমী ঐক্যের প্রতীক।
৩. বিজয়া দশমী পারিবারিক ও সামাজিক জীবন থেকে সকল প্রকার অশুভ শক্তিকে দূর করতে উদ্বুদ্ধ করে এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় প্রেরণা দান করে।
দুর্গাপূজার প্রভাবে অন্যায়-অবিচারকে প্রতিহত করার শক্তি জাগ্রত করে। সকলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে। দুর্গাপূজাকে অবলম্বন করে পত্র-পত্রিকায় পূজা সংখ্যা প্রকাশিত হয়। বিভিন্ন পূজা সংগঠন শারদীয় পূজার স্মরণিকা প্রকাশ করে। পূজামন্ডপ এবং প্রতিমায় নানা নান্দনিক রূপকল্পনার প্রতিফলন হয়। সার্বিকভাবে দুর্গাপূজা এক মিলন মহোৎসব এবং আনন্দ ও সৃষ্টিশীলতার অপূর্ব সম্মিলন।
আবহমানকাল থেকেই হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্বাপেক্ষা বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। এ উৎসব তাদের প্রাণ। শারদীয় দেবীর পূজা মানে দেবী দুর্গার আরাধনা। তিনি বিশ্বের আদি কারণ ঈশ্বরের শক্তির প্রকাশ বা রূপ। দুর্গাপূজা আমাদের আর্থসামাজিক, পারিবারিক ও নৈতিক জীবনের উন্নয়নে পুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দুর্গাপূজার সময়ে পারস্পরিক হিংসা ও বিদ্বেষ ভুলে সকল শ্রেণির মানুষের মধ্যে সৌহার্দবোধের সৃষ্টি হয়। একে অপরের বাড়িতে বেড়াতে যায়। সকলের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় হয়। নিজের মধ্যে সকল সুখ, দুঃখ, কষ্টের কথা ভুলে গিয়ে নতুন উদ্যমে নিজেদের মধ্যে সংহতি ও একাত্মতা বৃদ্ধি পায়। আর এভাবে মিলন মেলার মাধ্যমে ভক্তদের মধ্যে সাম্য, সৌহার্দ, প্রীতি ও মৈত্রীর বন্ধন অটুট হয়।
দেবী কালী দুর্গাদেবীর মতো শক্তির দেবী। তিনি অসুর বিনাশে ভয়ংকরী। পৃথিবীর সকল অন্যায় ও অত্যাচার দূর করার জন্য দেবী কালী অশুভ শক্তিকে বিনাশ করেন। দেবী কালী শিব ঠাকুরের সহধর্মিণী এবং বিশেষ শক্তি। তিনি কাল ও মৃত্যুর দেবীরূপে আত্মপ্রকাশ করার কারণে তাকে শ্মশান কালী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
দেবী কালী হলেন শক্তির দেবী। তিনি হলেন শিব ঠাকুরের বিশেষ শক্তি এবং সহধর্মিণী। তিনি অসুর বিনাশে ভয়ংকরী। তিনি অশুভ শক্তিকে ধ্বংস করে অন্যায়-অত্যাচার দূর করেন। তাকে শ্মশান কালী নামেও আখ্যায়িত করা হয়। এছাড়াও তার অনেক নাম রয়েছে। যথা- ভদ্রকালী, দক্ষিণাকালী, মা তারা, শ্যামা, মহাকালী প্রভৃতি।
দেবী কালী শিবের শক্তিরূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। মার্কন্ডেয় পুরাণে উল্লেখ আছে, তিনি বিভিন্নরূপে অসুরদের ধ্বংস করে স্বর্গের দেবতাদের রক্ষা করেন। ইন্দ্রসহ সকল দেবতা, শুম্ভ ও নিশুম্ভ নামক অসুরের হাত থেকে পরিত্রাণের জন্য দেবী অম্বিকার কাছে প্রার্থনা করেন। তখন দেবী অম্বিকা ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে দুই রূপে (অম্বিকা ও কালিকা বা কালীরূপে) প্রকাশিত হন। দেবী কালী শুন্ড ও নিশুন্ডের অনুচর চন্ড ও মুন্ডকে বধ করে চামুন্ডা নামে পরিচিত হন।
কালীপূজা সাধারণত অমাবস্যার রাতে অনুষ্ঠিত হয়। কালীপূজা দুর্গাপূজার পর কার্তিক-অগ্রাহয়ণ মাসের অমাবস্যা তিথিতে অনুষ্ঠিত হয়। পূজার দিন সন্ধ্যার সময় দীপাবলির আয়োজন করা হয়। যা দেয়ালী নামে পরিচিত। বিভিন্ন ধরনের মহামারির (বসন্ত, কলেরা রোগের প্রাদুর্ভাব, ঝড়, বন্যা, খরা প্রভৃতির) সময় রক্ষা কালী বা শ্যামা কালীর পূজা করা হয়।
দুর্গাপূজার মতো কালী পূজাও গৃহে বা মন্ডপে প্রতিমা নির্মাণ করে সম্পন্ন করা হয়। দেবীর চক্ষুদান ও প্রাণ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই কালী পূজা শুরু হয়। দেবী কালীকে ধ্যান, পূজা, আরতি ভোগ প্রভৃতি কর্ম সম্পন্ন করে সবশেষে প্রণাম করা হয়।
ও শবারূঢ়াং মহাভীমাং ঘোর-দংস্ট্রাবরপ্রদাম্।
হাস্যযুক্তাং ত্রিনেত্রাঞ্চ কপালকর্তৃকাকরাম।।
মুক্তকেশীং লোলজিহ্বাং পিবন্তীং রুধিরং মুহূঃ।
চতুর্বাহুযুতাং দেবীং বরাভয়করাং স্মরেৎ।।
সরলার্থ: দেবী কালী শবাবুঢ়া, ভীমা ভয়ংকরী, তিনি ত্রিনয়নী, ভয়ানক তাঁর দাঁত, লোল জিহ্বা তাঁর। তিনি মুক্তকেশী, হাতে নরকপাল ও কর্তৃকা (কাটারি)। অপর দুহাতে বর ও অভয় মুদ্রা, দেবী আবার হাস্যময়ী ।
১. দেবী কালী অন্যায় প্রতিরোধ করে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি তাঁর ভক্তদের কল্যাণে নিয়োজিত। তাঁর কাছ থেকে আমরা মঙ্গল সাধন করার শিক্ষা পাই। দেবী কালীর কাছে আমরা অন্যায়ের কাছে কঠোর, সহজের কাছে কোমল হওয়ার শিক্ষা পাই।
২. অন্যায়কারীর কাছে দেবী রাগী, ভয়ংকারী। ভক্তের কাছে স্নেহময়ী জননী।
দেবী কালী ক্ষমতা ও শক্তির আধার। তিনি একাধারে কঠোর, অপরদিকে মমতাময়ী মা। তিনি এ বিশ্বের সকল অশুভ শক্তি ধ্বংস করে সকলের মধ্যে মঙ্গলবার্তা ছড়িয়ে দিয়ে থাকেন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা দেবী কালীকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে পূজা করে থাকেন।। এ পূজার মাধ্যমে আমাদের আর্থসামাজিক, পারিবারিক ও নৈতিক। জীবনে অনেক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।
কার্তিক একজন পৌরাণিক দেবতা। তিনি শিব ও মাতা দুর্গার পুত্র। দেবতা কার্তিক অত্যন্ত সুন্দর, সুঠাম দেহ এবং অসীম শক্তির অধিকারী। তাঁর দেহবর্ণ তপ্ত স্বর্ণের মতো। যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে কার্তিকের হাতে তীর, ধনুক ও বল্লম দেখা যায়। তার বাহন সুদৃশ্য পাখি ময়ূর। তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অসুরের সঙ্গে যুদ্ধে জয়লাভ করেন। স্কন্দপুরাণ কার্তিককে নিয়ে রচনা করা হয়েছে।
পুরাণ অনুসারে, তারকাসুরকে বধ করার জন্য কার্তিকের জন্ম হয়েছিল। দেবতা কার্ত্তিক কেবল অত্যন্ত সুন্দরই নন, তিনি সুঠাম দেহ ও অসীম শক্তির অধিকারীও বটে। পুরাণ অনুসারে, তারকাসুরের আধিপত্য থেকে স্বর্গরাজ্য উদ্ধার করার জন্য স্বর্গের দেবতারা তাঁকে স্বর্গের সেনাপতিরূপে বরণ করেন।
কার্তিক মাসের সংক্রান্তিতে কার্ত্তিক পূজা করা হয়। কার্ত্তিক পূজার মাধ্যমে একটি বিশেষ প্রার্থনা বা কামনা করা হয়। বিশেষ করে দম্পতিরা কার্তিকের কাছে এই বিশেষ প্রার্থনাটি করে থাকেন। দম্পতিরা কার্তিকের পূজার মাধ্যমে সন্তান-সন্ততি প্রার্থনা করে থাকেন। কথিত আছে, দেবকী কার্তিকের ব্রত করে ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে পুত্ররূপে লাভ করেছিলেন।
ও কার্তিকেয়ং মহাভাগং ময়ুরোপরিসং স্থিতম।
তাপ্তকাঞ্চনবর্ণাভং শক্তিহস্তং বরপ্রদাম্।
দ্বিভুজং শত্রুহন্তারং নানালঙ্কারভূষিতম্।
প্রসন্নবদনং দেবং কুমারং পুত্রদায়কম্
সরলার্থ: কার্তিকদেব মহাভাগ, ময়ূরের উপর তিনি উপবিষ্ট। তপ্ত স্বর্ণের মতো উজ্জ্বল তাঁর বর্ন। তাঁর দুটি হাতে শক্তি নামক অস্ত্র। তিনি নানা অলঙ্কারে ভূষিত। তিনি শত্রু হত্যাকারী। প্রসন্ন হাস্যোজ্জ্বল তাঁর মুখ।
কার্তিক পূজার গুরুত্ব ও প্রভাব নিম্নরুপ-
১. কার্তিকের দেহাকৃতি অত্যন্ত সুন্দর, সুঠাম ও বলিষ্ঠ। একারণে কার্তিক পূজার মাধ্যমে দম্পতিরা সুন্দর, সুঠাম ও বলিষ্ঠ চেহারার সন্তানাদি প্রার্থনা করে থাকেন।.
২. কার্তিক দেবতাদের সেনাপতি এবং অসীম শক্তিধর হওয়ার ফলে তাঁকে রক্ষাকর্তা হিসেবে পূজা করা হয়।
৩. তিনি সমাজের অন্যায় ও অবিচার' নির্মূলে অবিচল যোদ্ধা। আমাদের সকলেরই কার্তিকের মতো নম্র ও বিনয়ী এবং অন্যায়, অত্যাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া উচিত।
শীতলা লৌকিক দেবী। শীতলা পুরাণে গৃহীত হয়ে পৌরাণিক দেবীতে পরিণত হয়েছেন। সাধারণভাবে এ দেবী বসন্ত রোগের জ্বালা নিবারণ করে শীতল করেন বলে শীতলা নামে পরিচিত হয়েছেন। বসন্ত ও চর্মরোগ থেকে পরিত্রাণের উদ্দেশ্যে শীতলা পূজা করা হয়।
শীতলা লৌকিক দেবী। শীতলা পুরাণে গৃহীত হয়ে পৌরাণিক দেবীতে পরিণত হয়েছেন। সাধারণভাবে এ দেবী বসন্ত রোগের জ্বালা নিবারণ করে শীতল করেন বলে শীতলা নামে পরিচিত হয়েছেন। বসন্ত ও চর্মরোগ থেকে পরিত্রাণের উদ্দেশ্যে শীতলা পূজা করা হয়।
সাধারণত শ্রাবণ মাসের শুক্লা সপ্তমী তিথিতে দেবী শীতলার পূজা করা হয়। অন্যান্য পূজার মতোই তাঁর পূজাতেও পুরোহিতকে আমন্ত্রণ করা হয়। দেবী শীতলার পূজায় ঠান্ডা জাতীয় ফল যেমন-পেঁপে, নারিকেল, তরমুজ, কলা ও অন্যান্য মিষ্টি জাতীয় উপকরণ দেবীর উদ্দেশ্যে অর্পণ করা হয়। এ পূজায় সকল শ্রেণির ভক্ত অংশগ্রহণ করে থাকে।
ওঁ নমামি শীতলাং দেবীং রাসভঙ্ক্ষাৎ দিগম্বরীম্।
মার্জনীকলসোপেতাং সূর্ণালঙ্কৃতমস্তকাম্।
সরলার্থ:
গর্দভ বাহন মার্জনী (ঝাঁটা) ও কলস হস্তা শীতলা দেবীকে প্রণাম করি।
শীতলা পূজার গুরুত্ব অপরিসীম
১. দেবী শীতলাকে স্বাস্থ্যবিধি পালনের দেবী বলা হয়। শীতলা পূজার মাধ্যমে আমরাও স্বাস্থ্যবিধি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতন হয়ে থাকি।
২. শীতলা দেবী বসন্ত রোগ থেকে আমাদের মুক্ত করে শীতল করেন। আমরা বসন্ত রোগীদের সেবা করার শিক্ষা পাই শীতলা পূজার মাধ্যমে।
৩. শীতলা পূজার মাধ্যমে আমরা নিম বৃক্ষের গুরুত্ব বুঝতে পারি।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে বা দেব-দেবীর কাছে মাথা নত করার মাধ্যমে এবং তাদের সান্নিধ্য লাভের জন্য যে অনুষ্ঠানাদি করা হয় তাকে পূজা বলে।
পূজা শব্দের অর্থ প্রশংসা বা শ্রদ্ধা জানানো, যা পুষ্প কর্মের মধ্য দিয়ে অর্চনা বা উপাসনার মাধ্যমে করা হয়।
যার নামে সংকল্প করে পূজা করা হয় তাকে যজমান বলে।
পূজার সময় পুরোহিত সকলের অগ্রভাগে অবস্থান করেন ।
পুরোহিত শব্দটি 'সংস্কৃত' ভাষা থেকে এসেছে।
পূজার উদ্দেশ্য হলো সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে বা দেব-দেবীর কাছে মাথা নত করা এবং তাঁদের সান্নিধ্য লাভ করা।
পুরোহিত শব্দটি 'পুরস' (পুরঃ) এবং 'হিত' শব্দের সমন্বয়ে ।
সাধারণভাবে যিনি পূজা-অর্চনার অনুষ্ঠান পরিচালনায় প্রধান ভূমিকা পালন করেন এবং পূজার সময় সকলের অগ্রভাগে থাকেন, তাঁকে পুরোহিত বলে।
সাধারণত ব্রাহ্মণ বর্ণের লোকেরাই পৌরোহিত্য করেন।
পুরোহিত পারিবারিক ও সামাজিক পূজা-অর্চনাদি পরিচালনা করেন।
দেবতাদের পূজা করলে ঈশ্বর সন্তুষ্ট হন এবং অভীষ্ট দান করেন।
সাধারণ অর্থে পারিবারিক সদস্যদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে যে পূজা করা হয়, তাকে পারিবারিক পূজা বলে।
সমাজের সকল মানুষের অংশগ্রহণে যে পুজা করা হয়, তাকে সার্বজনীন পূজা বলে।
পূজার শেষে পূজারিগণ দেবীর উদ্দেশ্যে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করে।
বেদে ও পুরাণে যে সকল দেবতার কথা বলা হয়নি কিন্তু ভক্তগণ তাঁদের পূজা করেন তাঁদেরকে লৌকিক দেবতা বলা হয়।
বেদে যেসব দেবতার কথা বলা হয়েছে, তাদেরকে বৈদিক দেবতা বলা হয়।
পুরাণে যেসব দেবতার বর্ণনা করা হয়েছে, তাদের পৌরাণিক দেবতা বলা হয়। যেমন- ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, দুর্গা, সরস্বতী প্রভৃতি।
বেদের ওপর ভিত্তি করে 'পুরাণ' নামক গ্রন্থসমূহ রচিত হয়েছে।
ঈশ্বরের শক্তির প্রতীক হচ্ছে দেব-দেবী।
ঈশ্বর যখন নিজের কোনো গুণ বা ক্ষমতাকে বিশেষ আকারে বা রূপে প্রকাশ করেন তখন তাকে দেবদেবী বলে।
যিনি প্রকাশ পান, যিনি ভাম্বর তাকে বলা হয় দেবতা।
হিন্দুধর্মের আদি ধর্মগ্রন্থ হচ্ছে বেদ।
ঈশ্বরের গুণ বা শক্তির সাকার রূপকে বলা হয় দেবতা বা দেবদেবী।
যিনি দান করেন তিনি হলেন দেবতা।
যে স্থানে গমন করা অত্যন্ত দুরূহ তাকে দুর্গ বলে।
দেবী দুর্গা জয়দুর্গা, জগদ্বাত্রী, গন্ধেশ্বরী, বনদুর্গা, চন্ডী, নারায়ণী প্রভৃতি নামে পূজিত হন।
দুর্গতি নাশিনী দেবী দুর্গম নামক এক পশুকে বধ করায় তাকে দুর্গা বলা হয়।
দেবী দুর্গার দশটি ভুজ বা হাত থাকায় তাঁর নাম দশভুজা।
দেবী দুর্গার তিনটি চোখ থাকায় তাঁকে ত্রিনয়না বলে।
মহালয়া হলো দেবী দুর্গার আগমনী উৎসব।
আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে প্রতিমা স্থাপনের মাধ্যমে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হয়।
নবপত্রিকা মূলত নয়টি গাছের সমাহার।
নবপত্রিকার মধ্যদিয়ে আমরা আমাদের জীবনদায়ী বৃক্ষ ও দেবী দুর্গার পূজা করে থাকি।
দুর্গাপূজার দশমীকে বলা হয় বিজয়া দশমী।
অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধির সময় বিশেষভাবে সন্ধিপূজা অনুষ্ঠিত হয়।
সন্ধি পূজায় ১০৮টি মাটির প্রদীপ প্রজ্বলন করা হয়।
কালী দেবীর বাহন হচ্ছে শৃগাল।
দেবী কালী যেকোনো ধরনের দুর্যোগের সময় আমাদের মাঝে আবির্ভূত হন।
কার্তিক দেবের বাহন হচ্ছে ময়ূর।
কার্তিক ভগবান শিবের পুত্র এবং দেব সেনাপতি।
হিন্দুধর্মাবলম্বীরা দেবতা কার্তিককে রক্ষাকর্তা হিসেবে পূজা করেন।
দেবী শীতলার বাহন হচ্ছে গর্দভ।
শীতলা লৌকিক দেবী। শ্রাবণ মাসের শুক্লা সপ্তমী তিথিতে শীতলা দেবীর পূজা করা হয় ।
দেবী শীতলা গ্রাম বাংলায় ঠাকুরানি নামে পরিচিত।
জ্বালা নিবারণের দেবী হচ্ছেন শীতলা।
পূজায় যিনি প্রধান ভূমিকা পালন করেন, তার নাম পুরোহিত। পুরোহিত শব্দটি 'পুরস্' (পুরঃ) এবং 'হিত' শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। পুরস্ শব্দের অর্থ সম্মুখে এবং 'হিত' শব্দের অর্থ অবস্থান। অর্থাৎ পূজা-অর্চনার অনুষ্ঠান পরিচালনায় যিনি প্রধান ভূমিকা পালন করেন এবং পূজার সময় অগ্রভাগে থাকেন, তাঁকে পুরোহিত বলে। সাধারণত যজমান পূজা করে দেওয়ার জন্য পুরোহিতকে আমন্ত্রণ করে আনেন।
হিন্দুধর্মে পূজা বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়, যা ঈশ্বরের প্রতীক। ঈশ্বরকে বা তার কোনো রূপকে (দেব-দেবী) সন্তুষ্ট করার জন্য ভক্তিসহকারে ফুল, দূর্বা, তুলসী পাত্য প্রভৃতি উপকরণ দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে উপাসনা করা হয়। এ উপাসনাই হচ্ছে পূজা। এ পূজায় যখন জাতি-ধর্ম-বর্ণ মিলে সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় তখন সেটি সর্বজনীন পূজায় রূপ নেয়।
যজ্ঞের মাধ্যমে বৈদিক ঋষিরা দেব-দেবীর নিকটে যেতে পারতেন। বৈদিক ঋষিরা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কর্মকান্ডকে একটি বৃহৎ যজ্ঞ বলে মনে করতেন। তাই তাঁদের যজ্ঞকর্ম বিশ্বযজ্ঞের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। এ সময় যজ্ঞই ছিল প্রধান ধর্মকর্ম। এর মাধ্যমেই বৈদিক ঋষিরা দেব-দেবীর নিকটে যেতে পারতেন।
হিন্দুধর্মগ্রন্থ বেদ ও পুরাণে যেসব দেবতার কথা বলা হয়নি, কিন্তু ভক্তগণ তাঁদের পূজা করেন, তাঁদের লৌকিক দেবতা বলা হয়। যেমন- মনসা, শীতলা দক্ষিণ রায় প্রভৃতি। পরবর্তীকালে মনসা দেবীসহ আরও অনেক লৌকিক দেবতা পুরাণে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
'একং সদ্ বিপ্রা 'বহুধা বদন্তি।' অর্থাৎ এক, অখন্ড ও চিরন্তন ব্রহ্মাকে বিপ্রগণ ও জ্ঞানীরা বহুনামে বর্ণনা করেছেন।
ঈশ্বর সীমাহীন গুণ বা ক্ষমতার অধিকারী। তিনি যখন নিজের কোনো গুণ বা ক্ষমতাকে কোনো বিশেষ আকার বা রূপে প্রকাশ করেন তখন তাকে দেবতা বলে। তারা আলাদা গুণ বা শক্তির অধিকারী হলেও ঈশ্বর নয়। দেবতারা ঈশ্বরের গুণ বা শক্তির প্রকাশ ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়। তাই ঋগ্বেদে বলা হয়েছে 'একং সদ্ বিপ্রা বহুধা বদন্তি।'
ঈশ্বর সীমাহীন গুণ ও ক্ষমতার অধিকারী। তিনি যখন নিজের কোনো গুণ বা ক্ষমতাকে কোনো বিশেষ আকার বা রূপে প্রকাশ করেন, তখন তাঁকে দেবতা বলে। দেবতারা আলাদা গুণ বা শক্তির অধিকারী হলেও ঈশ্বর নন। ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়। দেবতারা এক ঈশ্বরের বিভিন্ন গুণ বা শক্তির প্রকাশ।
বৈদিক পূজাপদ্ধতি ছিল যজ্ঞ বা হোমভিত্তিক। বৈদিক উপাসনা রীতিতে প্রতিমা পূজা ছিল না। হোমানল বা অগ্নির মাধ্যমে বেদের মন্ত্র উচ্চারণ করে অন্যান্য দেবতাকে আহ্বান করা হতো। অগ্নিকে বলা হয়েছে-তিনি যজ্ঞের পুরোহিত, দীপ্তিময়, দেবগণের আহ্বানকারী ঋত্বিক। যজ্ঞের জন্য প্রজ্বলিত অগ্নিতে বিভিন্ন দেবতার জন্য ঘৃত, পিঠা, পায়েস, প্রভৃতি অর্পণ করা হতো। এ সময় যজ্ঞই ছিল প্রধান ধর্মকর্ম। যজ্ঞের মাধ্যমে বৈদিক ঋষিরা দেব-দেবীর সান্নিধ্য লাভ করতেন।
যে স্থানে গমন করা অত্যন্ত দুরূহ তাকে দুর্গ বলে। দুর্গ শব্দের সঙ্গে আ প্রত্যয় যোগ করে দুর্গা শব্দটি গঠন করা হয়েছে এবং স্ত্রী লিঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। যিনি মহামায়া তিনি দুরধিগম্যা। তাকে দুঃসাধ্য সাধনার দ্বারা পাওয়া যায়। তাই তিনি দুর্গা। তিনি ব্রহ্মের শক্তি বলেও দূরধিগম্য এবং সাধন সাপেক্ষ দেবী দুর্গাকে দুর্গতি নাশিনী বলা হয়। কারণ তিনি এ মহাবিশ্বের যাবতীয় দুঃখ-কষ্ট বিনাশ করেন।
দেবীদুর্গার তিনটি চোখ আছে বলে তাঁকে ত্রিনয়না বলা হয়। দেবী দুর্গা একজন পৌরাণিক দেবী। তার তিনটি চোখ রয়েছে। এজন্য তাকে ত্রিনয়না বলা হয়। তার বাম চোখ চন্দ্র, ডান চোখ সূর্য এবং কেন্দ্রীয় বা কপালের উপর অবস্থিত চোখ জ্ঞান বা অগ্নিকে নির্দেশ করে।
'বোধন' হলো শারদীয়া দুর্গাপূজার প্রারম্ভিক অনুষ্ঠান। আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের নবমী তিথিতে দেবীদুর্গার পূজারন্ডের প্রাক্কালে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী শরৎকাল দেবলোকের রাত্রি দক্ষিণায়নের অন্তর্গত। তাই এ সময় দেবপূজা করতে হলে, আগে দেবতার 'বোধন' (জাগরণ) করতে হয়। একাধিক পুরাণ ও অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থে উল্লিখিত হয়েছে যে, রাবণ বধের পূর্বে রাম, দেবীদুর্গার কাছে আশীর্বাদ প্রার্থনা করে বিশ্ববৃক্ষতলে বোধনপূর্বক দুর্গাপূজা করেছিলেন। এ থেকেই দুর্গাপূজায় বোধন প্রচলিত হয়ে আসছে।
দুর্গাপূজায় মহাসপ্তমী তিথিতে নবপত্রিকা প্রতিষ্ঠা অন্যতম একটি আচার।
নবপত্রিকা মূলত নয়টি গাছের সমাহার। এগুলো- কলা, দাড়িম্ব (ডালিম) ধান, হলুদ, মানচকু, বিলম্ব (বেল), অশোক এবং জয়ন্তী। একটি কলাগাছের সাথে অন্য গাছের চারা বেঁধে দেওয়া হয়। তারপর শাড়ি পরানো হয়। একে বলে কলাবৌ। নবপত্রিকার মাধ্যমে দেবী দুর্গা নয়টি ভিন্ন নামে অধিষ্ঠিত। মূলত নবপত্রিকা পূজার মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের জীবনদায়ী বৃক্ষকে পূজা করি। যার মধ্যে রয়েছে ঈশ্বরের শক্তি, দেবীর শক্তি। মূলত এর মাধ্যমে দেবী দুর্গারই পূজা হয়ে থাকে।
কুমারী পূজার মধ্য দিয়ে নারীকে সম্মান দেখানো হয়। দুর্গাপূজার সময় অষ্টমীর দিন কুমারী পূজা করা হয়। নারীকে মাতৃরূপে, ঈশ্বরীরূপে ভাবনা হিন্দুসাধনা-পূজার একটা বড় দিক। কুমারীর মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গারই পূজা করা হয়। এর মধ্য দিয়ে নারীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ সৃষ্টি হয়। এভাবে পারিবারিক ও সমাজজীবনে প্রভৃত কল্যাণ সাধিত হয়। তাই কুমারী পূজা নারীদেরকে যথার্থ সম্মানদানের শিক্ষা দেয়।
মেয়েকে মাতৃজ্ঞানে ভাবনার মধ্য দিয়ে যে পূজা করা হয়, তাকে বলা হয় কুমারী পূজা। অষ্টমী পূজার দিন করা হয় কুমারী পূজা। আমাদের দেশে কেবল রামকৃষ্ণ মঠে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। নারীকে মাতৃরূপে, ঈশ্বরীরূপে ভাবনা হিন্দুসাধনা-পূজার একটি বড় দিক। কুমারীর মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গারই পূজা করা হয়। কুমারী পূজায় নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে নারীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ সৃষ্টি হয়।
মেয়েকে মাতৃজ্ঞানের ভাবনার মধ্য দিয়ে কুমারী পূজা করা হয়। কুমারী পূজার মাধ্যমে একজন কুমারী কন্যাকে আদ্যাশক্তির প্রতীকরূপে পূজা করা হয়। শাস্ত্র অনুসারে কুমারী পূজার জন্য এক বছর থেকে ষোল বছরের বালিকাদের মনোনীত করা হয়। নারীকে মাতৃরূপে ভাবনা মহামায়ার শ্রেষ্ঠ উপাসনা। দুর্গাপূজার সময় মহাষ্টমী তিথিতে কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়।
দেবী কালী শিবের শক্তিরূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। হিন্দু পুরাণ অনুসারে কালী দেবীর নানা বর্ণনা আছে। মার্কন্ডেয় পুরাণে উল্লেখ আছে, তিনি বিভিন্ন রূপে অসুরদের ধ্বংস করে স্বর্গের দেবতাদের রক্ষা করেন। ইন্দ্রসহ সকল দেবতা, শুন্ড ও নিশুম্ভ নামক অসুরের হাত থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য দেবী অম্বিকার কাছে প্রার্থনা করেন। অম্বিকা ক্রোধে উন্মত্ত হলেন। তখন দুই ৰূপ হলো তার- অম্বিকা ও কালিকা বা কালী। শুন্ড ও নিশুন্ডের অনুচর চন্ড ও মুন্ডকে দেবী কালী বধ করেন। এ কারণে তার আর এক নাম হয় চামুন্ডা।
কার্তিক একজন পৌরাণিক দেবতা। তিনি ভগবান শিব ও মা দুর্গার পুত্র। তিনি অত্যন্ত সুন্দর, সুঠাম দেহ এবং অসীম ক্ষমতার অধিকারী। তার দেহ তপ্ত স্বর্ণের মতো। যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে কার্তিকের হাতে তির, ধনুক ও বল্লম দেখা যায়। তাঁর বাহন সুদৃশ্য পাখি ময়ূর। তিনি তারকাসুরকে বধ করেন এবং বলির পুত্র বানাসুরকেও পরাজিত করেন। তাঁর অন্য নাম স্কন্দ, মহাসেন, কুমার গুহ ইত্যাদি ।
শীতলা দেবীর পূজার দুটি গুরুত্ব হচ্ছে
১. শীতলা দেবী বসন্ত রোগ থেকে আমাদের মুক্ত করে শীতল করেন। এ কারণে তিনি সকলের কাছে সমাদৃত হয়েছেন।
২. দেবী শীতলাকে স্বাস্থ্যবিধি পালন বা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দেবী বলা হয়। শীতলা পূজার মাধ্যমে আমরা স্বাস্থ্যবিধি ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতন হয়ে থাকি।
Related Question
View Allঈশ্বর যখন নিজের কোনো গুণ বা ক্ষমতাকে বিশেষ আকারে বা রূপে প্রকাশ করেন, তখন তাঁকে দেবতা বলে।
হিন্দুধর্মগ্রন্থ বেদ ও পুরাণে যে সকল দেবতার কথা বলা হয় নি, কিন্তু ভক্তগণ তাঁদের পূজা করেন, তাঁদের লৌকিক দেবতা বলা হয়। যেমন- মনসা, শীতলা দক্ষিণ রায় প্রভৃতি। পরবর্তীকালে মনসা দেবীসহ আরও অনেক লৌকিক দেবতা পুরাণে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
অনুচ্ছেদে বর্ণিত গ্রামবাসীরা শীতলা দেবীর পূজার আয়োজন করে। কারণ একমাত্র শীতলা দেবীই বসন্ত ও কলেরা রোগের প্রাদুর্ভাব থেকে মুক্ত করেন।
গ্রামবাসীরা বসন্ত ও কলেরা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তারা সবাই একত্রিত হয়ে দেবী শীতলার পূজার আয়োজন করে এবং ভক্তিপূর্ণ মনে বিভিন্ন উপাচারে পুষ্পাঞ্জলি ও প্রণাম মন্ত্রের মধ্য দিয়ে পূজার কাজ সম্পন্ন করে। হিন্দুধর্মের অগাধ বিশ্বাস অনুযায়ী শীতলা দেবীর কৃপায় কলেরা ও বসন্ত রোগের প্রাদুর্ভাব থেকে মুক্তি লাভ করা যায়। এজন্য সকলে শীতলা দেবীর আরাধনায় মত্ত হয়। সাধারণত শ্রাবণ মাসের শুক্লা সপ্তমী তিথিতে শীতলা দেবীর পূজা করা হয়। পূজামন্দিরের নির্দিষ্ট স্থানে পুরোহিতের মাধ্যমে শীতলা পূজা করা হয়। শীতলা পূজা পদ্ধতিতে পূজার সময় ঠান্ডা জাতীয় ফলের প্রয়োজন হয়। পেঁপে, নারিকেল, তরমুজ, কলা ও অন্যান্য মিষ্টি জাতীয় উপকরণ দেবীর উদ্দেশ্যে সমর্পণ করা হয়। এ পূজায় সকল শ্রেণির ভক্তরা অংশগ্রহণ করে থাকে।
সাধারণত শীতলা দেবী বসন্ত রোগের জ্বালা নিবারণ করে শীতল করেন বলে শীতলা নামে পরিচিত। বসন্ত ও চর্মরোগ থেকে পরিত্রাণের উদ্দেশ্যেও শীতলা পূজা করা হয়। শীতলা পূজায় সকল শ্রেণির ভক্তরা অংশগ্রহণ করে থাকে। শীতলা দেবী বসন্ত রোগ থেকে মুক্ত করেন বলে তিনি সকলের কাছে সমাদৃত হয়েছেন। শীতলা পূজার মাধ্যমে আমরা স্বাস্থ্যবিধি ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতন থাকি। কাজেই শীতলা পূজার মধ্য দিয়ে আমরা সেবামূলক কাজ করার জন্য উদ্বুদ্ধ হই।
দেবী শীতলাকে স্বাস্থ্যবিধি পালন বা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দেবী বলা হয়। তিনি নিম পাতা বহন করেন। নিমবৃক্ষ রোগ প্রতিরোধকারী বলে আমরা নিমগাছ রোপণ করতে পারি। তাই রোগপ্রতিরোধকারী বলে আমাদের সামাজিক, পারিবারিক ও নৈতিক জীবনে শীতলা পূজার প্রভাব অনস্বীকার্য।
পুরাণে যে সকল দেবতার বর্ণনা করা হয়েছে, তাদের পৌরাণিক দেবতা বলে।
যজ্ঞের মাধ্যমে বৈদিক ঋষিরা দেব-দেবীর নিকটে যেতে পারতেন। বৈদিক ঋষিরা 'বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কর্মকাণ্ডকে একটি বৃহৎ যজ্ঞ বলে মনে করতেন। তাই তাঁদের যজ্ঞকর্ম বিশ্বযজ্ঞের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। এ সময় যজ্ঞই ছিল প্রধান ধর্মকর্ম। এর মাধ্যমেই বৈদিক ঋষিরা দেব-দেবীর নিকটে যেতে পারতেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!