‘A Daughter's Tale' শেখ হাসিনার জীবনী নিয়ে একটি প্রামাণ্য চলচ্চিত্র। এর পরিচালক পিপলু খান। ২০১৮ সালে এই প্রামাণ্য চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি যৌথভাবে প্রযোজনা করেছে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন এবং অ্যাপলবক্স ফিল্মস। চলচ্চিত্রে শেখ হাসিনাকে স্বভূমিকায় নামচরিত্রে এবং তার বোন শেখ রেহানাকে তার স্বভূমিকায় দেখা যায় ।
ক্র্যাক প্লাটুন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে ঢাকা শহরে গেরিলা আক্রমণ পরিচালনাকারী একদল তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত দল। যারা তৎকালীন সময় একটি কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। এই গেরিলা দলটি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ‘হিট এন্ড রান’ পদ্ধতিতে অসংখ্য আক্রমণ পরিচালনা করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মধ্যে ব্যাপক ত্রাসের সঞ্চার করেন।
ক্লোরো ফ্লোরো কার্বনকে সংক্ষেপে সিএফসি (CFC) বলা হয়। এতে রয়েছে কার্বন, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন ও ফ্লোরিন। ১৯২০ এর দশকে CFC আবিষ্কৃত হয়। এটি একটি গ্রিনহাউজ গ্যাস, যা ওজোনস্তরের সাথে বিক্রিয়া করে একে ফুটো করে দেয়
কম্পিউটার বিজ্ঞানের একটি নতুন টার্ম হলো Artificial Intelligence বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এখানে মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তাশক্তিকে কম্পিউটার দ্বারা অনুকৃত করার চেষ্টা হয়ে থাকে। অর্থাৎ মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কৃত্রিম উপায়ে প্রযুক্তি নির্ভর করে যন্ত্রের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলে।এর Pioneer ছিলেন জন ম্যাকার্থি, মার্ভিন মিনস্কি, হারবার্ট সিমন, অ্যালেন নিউয়েল প্রমুখ ।
নেলসন ম্যান্ডেলা ১৯১৮ সালের ৮ই জুলাই দক্ষিণ আফ্রিকার উমতাতার পার্শ্ববর্তী ত্রমভেজো নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছিল গাডলা হেনরী এবং মাতার নাম ছিল নোসেকেনি ফ্যানি। নেলসন ম্যান্ডেলার বাবা চারটি বিয়ে করেছিলেন এবং তিনি ছিলেন তাঁর বাবার তৃতীয় স্ত্রীর সন্তান। সেখানকার থেম্বু আদিবাসীদের রাজা তাঁর পিতাকে ত্রমভেজো গ্রামের প্রধান বানিয়েছিলেন।
১৯৫৫ সালে শ্বেতাঙ্গদের সমপরিমাণ সুযোগ-সুবিধার দাবিতে কৃষ্ণাঙ্গদের কর্তৃক বিল উত্থাপন করা হয়। এতে ১৯৫৬ সালে নেলসন ম্যান্ডেলাসহ মোট ১৫০ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করা হয়। চার বছর জেল খাটার পর সব অভিযোগই খারিজ করে দেওয়া হয়েছিল। জেল থেকে ছাড়া পাবার পর তিনি সংসারের দিকে কিছুটা মনোযোগ দেন এবং ১৮৬৮ সালে উইনি মডিকিজেলা নামের এক জনৈক মহিলাকে বিয়ে করে সংসার জীবন শুরু করেন।
১৯৯৩ সালে নেলসন ম্যান্ডেলা শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। আফ্রিকার মাঝে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন ও সফলতার কারণে শাস্তির জন্য তাকে এই পুরস্কার দেয়া হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী নেতা, সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার অগ্রদূত এই মহান গণতান্ত্রিক পুরোধা ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর ৯৫ বছর বয়সে জোহান্সবার্গে মৃত্যুবরণ করেন।
১. ১৯৯৩ সালে নেলসন ম্যান্ডেলা শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
২. ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশে আসেন।
৩. ১৯৯৪ সালে নেলসন ম্যান্ডেলা তাঁর আত্মজীবনী "লং ওয়াক টু ফ্রিডম" প্রকাশ করেন যদিও ১৯৯০ সালের পরে পুলিশের হাতে ধরা পরে কারাবাসের সময় কারাগারে থাকাকালে তিনি এটি রচনা করেছিলেন। পরবর্তীতে এর জন্য তাকে "অর্ডার অফ মেরিট” পদবীতে ভূষিত করা হয়।
৪. তিনি ১৯৬৪ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ২৭ বছর কারাবন্দি ছিলেন। এ সময় অধিকাংশ সময় রোবেন দ্বীপে ছিলেন।
৫. The 46664 একটি AIDS বিরোধী প্রচারণা। এর রহস্য হলো তিনি ৪৬৬ নং কয়েদি ছিলেন এবং সাল ছিল ১৯৬৪।)
৬. তার আত্মজীবনীমূলক ২টি গ্রন্থ:
a) A Long Walk to Freedom.
b) Conversation with myself.
Quotation: Education is the most powerful weapon which you can use to change the World.
“লং ওয়াক টু ফ্রিডম” বিশেষ বিশ্লেষণ
নেলসন ম্যান্ডেলার 'লং ওয়াক টু ফ্রিডম” একটি আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ। এটি তিনি ১৯৯০ সালের পরে পুলিশের হাতে ধরা পরে কারাবাসে থাকার সময় কারাগারে বসে রচনা করেছিলেন। পরবর্তীতে এর জন্য তাকে "অর্ডার অফ মেরিট” পদবীতে ভূষিত করা হয়। ১৯৯৪ সালে নেলসন ম্যান্ডেলা তাঁর আত্মজীবনী "লং ওয়াক টু ফ্রিডম” প্রকাশ করেন। নেলসন ম্যান্ডেলার লেখা আত্মজীবনী "লং ওয়াক টু ফ্রিডম” গ্রন্থের ১১৫ তম অধ্যায় হচ্ছে এ প্রবন্ধটি। এই বইয়ে তিনি তাঁর দীর্ঘ দিনের সংগ্রামী জীবনের সার্থকতার দিকটি তুলে ধরেন।
এখানে তিনি নিগ্রোদের স্বাধীনতা সম্পর্কে বলেছেন। তিনি বর্ণনা করেন প্রেসিডেন্ট হিসাবে তাঁর শপথগ্রহণ। তিনি শপথ নিয়েছিলেন যে, তিনি দীর্ঘস্থায়ী এই মানবিক বিপর্যস্ত ঘুণে ধরা সমাজকে নতুন করে গড়বেন। তিনি বলেন যে, দীর্ঘস্থায়ী এই বিপর্যয়ের অভিজ্ঞতা হতে এমন এক সমাজ জন্মগ্রহণ করবে যার জন্য সমগ্র মানবজাতি গর্ববোধ করবে। কিছুদিন পূর্বেও তাঁরা আইনের আশ্রয়ে থেকেও বঞ্চিত ছিলেন আর আজ তাঁরা সারা বিশ্বে সমাদ্রিত, জাতিসমূহের নিমন্ত্রাতা হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। তিনি ন্যায় বিচার, শাস্তি, মানবীয় মর্যাদা আর সকল অধিকার লাভের ব্যাপারে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি আরো বলেন যে, আজ তাঁরা রাজনৈতিক মুক্তি অর্জন করেছে। তাঁরা সবাই জনসাধারণকে দারিদ্র, বঞ্চনা, শোষণ, নিপীড়ন, নির্যাতন, অসমতা, নানাবিদ বৈষম্য হতে মুক্ত রাখার শপথ গ্রহণ করেছেন।
পরবর্তীতে তিনি দেখেন যে, শুধু তাঁর নয় বরং স্বজাতি ভাই-বোনদের স্বাধীনতায় কাটছাট আনা হচ্ছে। তিনি আফ্রিকার কংগ্রেসে যোগ দেন। ফলে তাঁর নিজের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা সর্ব সাধারণের আকাঙ্ক্ষায় পরিণত হয়। তিনি এটাও অনুধাবন করেন যে, যারা আসলে তাদের স্বাধীনতায় কাটছাট এনেছিল তারাও সুখী ছিল না। তারা সাধারণের ঘৃণার জেলখানায় বন্দি ছিলেন। মানসিক যন্ত্রণা তাদের কুঁড়েকুঁড়ে খাচ্ছিল। তিনি স্বাধীনতা পরবর্তী এসব সমস্যা উৎপাটনের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কারণ তিনি মনে করেন যে, কোন পর্বত আরোহণের পরই আরোহী জানতে পারে যে, তার জন্য আরো অনেক পর্বত আরোহণের জন্য অপো রয়েছে। অর্থাৎ স্বাধীনতা অর্জনের পর তা কিভাবে রক্ষা করতে হয় বা কিভাবে তা স্থায়ী করতে হয় এই নিয়ে প্রেসিডেন্টের হাতে অনেক দায়িত্ব এসে পরে। তাই তিনি মনে করেন যে, স্বাধীনতা অর্জন হয়েছে মানেই কাজ শেষ নয় তা টিকিয়ে রাখতে এবং বর্ণ বৈষম্যনীতি দ্বারা সৃষ্টতে হতে আরোগ্য লাভকরতে বেশ সময় লাগবে। স্বাধীনতাকে পূর্ণতা দান করতে হলে তাকে আরো দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হবে।
উত্তরঃ
বিজয়গুপ্তর দেশ বরিশাল জেলার গৈলা ইউনিয়নের পদমনাগ গ্রাম। তিনি মনসামঙ্গল উপাখ্যান নিয়ে পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষ দিকে কাব্য রচনা করেন।
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কবি বিজয়গুপ্ত। তাঁর জন্মস্থান নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, ঐতিহাসিকরা মনে করেন তাঁর জন্ম অধুনা বরিশাল জেলার গৈলা ইউনিয়নের পদমনাগ গ্রামে। এটি একটি জনশ্রুতি যা তাঁর কাব্যেও ইঙ্গিত করা হয়েছে।
বিজয়গুপ্ত মূলত মনসামঙ্গল কাব্যের একজন প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত। তাঁর রচিত মনসামঙ্গল কাব্য 'পদ্মাপুরাণ' নামেও পরিচিত। এই কাব্যের মূল উপাখ্যান হলো দেবী মনসার মর্ত্যলোকে পূজা প্রচলন এবং চাঁদ সদাগরের সাথে তাঁর সংঘাত। তিনি মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেন পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষ দিকে (১৪৯৪ খ্রিষ্টাব্দে বা ১৪৮৪ শকাব্দে কাব্য রচনা সমাপ্ত হয় বলে কাব্যে উল্লেখ আছে)।
মনসামঙ্গল কাব্যধারার পঞ্চকবিদের মধ্যে বিজয়গুপ্ত অন্যতম এবং তাঁর কাব্য সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় ও বিস্তারিত বলে বিবেচিত হয়। এই কাব্য মধ্যযুগের বাংলার সমাজ ও ধর্মীয় জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে, যেখানে লৌকিক দেব-দেবী এবং ব্রাহ্মণ্যবাদী ধর্মের মধ্যে সংঘাত ও সমন্বয়ের চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে।
'চণ্ডীমঙ্গল কাব্য' মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মঙ্গলকাব্য ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় কাব্য। এর রচয়িতা কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। কাব্যটি আনুমানিক ষোড়শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে (১৫৪০-১৫৮০ খ্রিষ্টাব্দ) রচিত হয়েছিল।
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী তাঁর কাব্যে দেবী চণ্ডীর মাহাত্ম্য প্রচার করেছেন। এটি দুটি প্রধান খণ্ডে বিভক্ত: আখেটি খণ্ড (বুনো খণ্ড) এবং বণিক খণ্ড (শহুরে খণ্ড)। আখেটি খণ্ডে কালকেতু ও ফুল্লরার উপাখ্যান এবং বণিত খণ্ডে ধনপতি ও শ্রীমন্ত সওদাগরের উপাখ্যান বর্ণিত হয়েছে। এই কাব্যটি তৎকালীন গ্রামীণ বাংলার সমাজচিত্র, জনজীবন, অর্থনৈতিক অবস্থা এবং মানুষের বিশ্বাস ও সংস্কারের এক প্রামাণ্য দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়। এর ভাষাশৈলী, চরিত্রায়ণ এবং হাস্যরস কাব্যটিকে বিশেষ মর্যাদা দান করেছে।